জুতো বনাম কোট

স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় একবার ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর কামরায় চেপে মধুপুর থেকে কলকাতায় ফিরছিলেন। সেই কামরায় ছিলেন এক সাহেব। কোনও নেটিভ সেই কামরায় বসে যাত্রা করেন—এটা সাহেবের পছন্দ ছিল না, তা তিনি হাবে ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন।

কিন্তু স্যার আশুতোষও বাংলার বাঘ। তিনিও ছেড়ে দেবার পাত্র নন। দুবার বড় হাই তুলে কোন কিছু গ্রাহ্য না করে জুতো জোড়া খুলে তিনি নিজের বার্থে শুয়ে নাক ডেকে ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন ঘুম ভাঙল দেখলেন তার জুতো জোড়া নেই! তিনি বুঝলেন এটা কার কাজ। সাহেব তখন ঘুমোচ্ছিলেন। দেরি না করে আশুতোষ তখন হুক থেকে সাহেবের কোটটি খুলে জানলা দিয়ে বাইরে ফেলে দিলেন। কিছু পরে ঘুম ভাঙল সাহেবের। দেখলেন, কোটটি নেই।

কোথায় গেল আমার কোট? সাহেব রেগে জিগ্যেস করলেন আশুতোষকে। আশুতোষ নম্রভাবে হাসতে হাসতে বললেন, মশাই, তার আগে আমি জানতে চাই আমার জুতো কোথায়?

সাহেব বললেন, ওহে নেটিভ, তোমার জুতো বাইরে হাওয়া খেতে গেছে! আশুতোষ তৎক্ষনাৎ হেসে উত্তর দিলেন, তোমার কোট আমার জুতো খুঁজে আনতে গেছে, বুঝলে সাহেব?

এক নেটিভ বাঙালির এহেন স্পর্ধা দেখে অবাক হয়ে গেলেন লালমুখো সাহেব। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কখনও কাউকে ভয় করতেন না। তিনি নিজে বাঙালি বলে গর্ব অনুভব করতেন। লাল মুখো ইংরেজ সাহেবদের তিনি দুচোখে সহ্য করতে পারতেন না। বরং ইংরেজরাই তাকে সমীহ করে চলতেন।

No tags for this post.