খদ্দর

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন প্ৰাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সদস্য। একবার বঙ্গীয় প্ৰাদেশিক কমিটির অফিসে কংগ্রেসের এক বিরাট সভা বসে। সেই সভায় হাজির আনিলবরণ রায়, শরৎচন্দ্ৰ বসু প্রমুখ। কংগ্ৰেসকমীরা মনে করতেন। চরকা কাঠা ও খন্দর পরা প্রত্যেক কংগ্রেস কর্মীর অবশ্য কর্তব্য। অনিলবরণ রায় খুব মোটা আর খাটো বহরের আর লম্বাতেও ছোট এমন খদ্দরের কাপড় পরতেন। এই পোশাক তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দিত। তাঁর কাপড়ের বহর উঠে থাকত হাঁটুর ওপরে। অনেকেই তাঁর পোশাক নকল করতেন। অধিকাংশ কংগ্রেসকামী হুবহু তার মত না হলেও খুব মোটা খন্দরের কাপড় পরতেন।

তবে এর বিপরীত ছিলেন শরৎচন্দ্ৰ বসু। তিনি মিহি খন্দরের ধুতি ও পাঞ্জাবি পরতেন। ব্যবহার করতেন সৌখিন মিহি চাদর। শরৎচন্দ্ৰ বসু ছিলেন সুপুরুষ। লম্বা চওড়া দশাসই পুরুষ মানুষ। তার ধুতির বহর লুটিয়ে পড়ত পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত। তেমনই লম্বা কুল ছিল পাঞ্জাবির। মুগার পাড় থাকত চাদরে। সেই সভায় আনিলবরণ রায় ও শরৎচন্দ্ৰ বসু পাশাপাসি বসে। এমন সময় এক কংগ্রেস কমী শরৎচন্দ্ৰ বসুকে রসিকতা করে বললেন, আপনার এই মিহি খদ্দরটি কোথায় তৈরী হয়েছে?

প্রশ্ন শুনে শরৎচন্দ্ৰ বসু মুখ গম্ভীর করে বললেন, এটা ভাগলপুরে তৈরী।

সভায় আগত সকলে বুঝলেন পরিস্থিতি অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে। অগ্ৰীতিকর ঘটনা ঘটতে চলেছে দেখে সভায় উপস্থিত সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলে উঠলেন, আমাদের এখানে সবরকমই আছে। একটু বৈচিত্র থাকলে মন্দ কি? আনিলবরণ রায় মহাশয় হচ্ছে, খদ্দরের মাদার টিংচার, অন্যদিকে শরৎচন্দ্ৰ বসু মহাশয় হচ্ছেন টু হানড্রেড ডাইলুশেন।

শরৎচন্দ্রের কথা শুনে সভায় উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীরা না হেসে পারলেন না। অগ্ৰীতিকর পরিস্থিতির হাত থেকে সভা রক্ষণ পেল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শরৎচন্দ্ৰ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করতেন। তাঁর ওষুধের গুণে কংগ্রেসের সভা পণ্ড হওয়ার হাত থেকে এ যাত্রায় বেঁচে গেল।

Share This