বুখারি হাদিস নং ৪৮০১-৪৮৭০

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০১ | 4801 | ٤۸۰۱

পরিচ্ছদঃ ২৪৯৯. শাদী বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে দাওয়াত গ্রহণ করা
৪৮০১। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি তোমাদেরকে শাদী অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়, তবে তা গ্রহণ কর। নাফে বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এর অভ্যাস ছিল, তিনি রোযাদার হলেও শাদী বা এ ধরণের দাওয়াত পেলে সে দাওয়াত রক্ষা করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০২ | 4802 | ٤۸۰۲

পরিচ্ছদঃ ২৫০০. বরযাত্রীদের সাথে মহিলা ও শিশুদের অংশগ্রহণ
৪৮০২। আবদুর রহমান ইব’নুল মুবারক (রহঃ) … আনাস ইব’ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সংখ্যক মহিলা এবং শিশুকে শাদীর অনুষ্ঠান শেষে ফিরে আসতে দেখলেন। তিনি আনন্দের সাথে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, আমি আল্লা’হর নামে বলছি, তোমরা সকল মানুষের চেয়ে আমার কাছে প্রিয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৩ | 4803 | ٤۸۰۳

পরিচ্ছদঃ ২৫০১. যদি কোন অনুষ্ঠানে দীনের খেলাফ বা অপছন্দনীয় কোন কিছু নজরে আসে, তাহলে ফিরে আসবে কি ? ইব’ন মাস ঊদ (রা) কোন এক বাড়ীতে (প্রাণীর) ছবি দেখে ফিরে এলেন। ইব’ন উমর (রা) আবু আইয়ুব (রা)-কে দাওয়াত করে বাড়িতে আনলেন। তিনি এসে ঘরের দেয়ালের পর্দায় ছবি দেখতে পেলেন। এরপর হযরত ইব’ন উম র (রা) এ ব্যাপারে বললেন, মহিলারা আমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। হযরত আবু আইয়ূব (রা) বললেন, আমি যাদের সম্পর্কে আশংকা করেছিলাম, আপনি তাদের মধ্যে হবেন না বলেই মনে করেছিলাম। আল্লাহ’র কসম, আমি আপনার ঘরে কোন খাদ্য গ্রহ ণ করব না । এরপর তিনি চলে গেলেন।
৪৮০৩। ইসমাঈল (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একটি বালিশ বা গদি কিনে এনেছিলাম, যার মধ্যে ছবি ছিল। যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ছবিটি দেখেলেন, তিনি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে গেলেন; ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি বুঝতে পারলাম যে, তাঁর চোখে এটা অত্যন্ত অপছন্দনীয় ব্যাপার। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং তাঁর রাসূলের কাছে ফিরে আসছি। আমি কী অন্যায় করেছি? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এই বালিশ কিসের জন্য? আমি বললাম, এটা আপনার জন্য খরিদ করে এনেছি, যাতে আপনি বসতে পারেন এবং হেলান দিতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ছবি নির্মাতাকে কিয়ামতের দিন শাস্তি প্রদান করা হবে এবং বলা হবে, যা তুমি সৃষ্টি করেছ তার প্রাণ দাও এবং তিনি আরও বলেন, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকে, সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৪ | 4804 | ٤۸۰٤

পরিচ্ছদঃ ২৫০২. নববধু কর্তৃক শাদী অনুষ্ঠনে খেদমত করা
৪৮০৪। সাঈদ ইবন আবূ মারয়াম (রহঃ) … সাহাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ উসায়দ আস’সাঈদী (রাঃ) তাঁর ওয়ালীমায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবিগণ কে দাওয়াত দিলেন, তখন তাঁর নববধু উম্মু উসায়দ ছাড়া আর কেউ উক্ত খাদ্য প্রস্তুত এবং পরিবেশন করেনি। তিনি একটি পাথরের পাত্রে সারা রাত পানির মধ্যে খেজুর ভিজিয়ে বাখেন। যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়া-দাওয়া শেষ করেন, তখন সেই তোহফা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পান করান।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৫ | 4805 | ٤۸۰۵

পরিচ্ছদঃ ২৫০৩. আন্-নাকী বা অন্যান্য শরবত বা পানীয়, যার মধ্যে মাদক তা নেই। এই রকম শরবত ওয়ালীমাতে পান করানো
৪৮০৫। ইয়াহ্ইয়া ইব’ন বুকায়র (রহঃ) … সাহ’ল ইব’ন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ উসায়দ আস’সাঈদী (রাঃ) তাঁর ওয়ালীমায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত দেন। তাঁর নববধু সেদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খাদ্য এবং পানীয় পরিবেশন করেন। সাহ’ল (রাঃ) বলেন, তোমরা কি জানো সেই নববধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি পান করিয়েছেলেন? তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একটি পানপাত্রে কিছু খেজুর সারা রাত ধরে ভিজিয়ে রেখেছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৬ | 4806 | ٤۸۰٦

পরিচ্ছদঃ ২৫০৪. নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার, আর এই সম্পর্কে নবী (সাঃ) বলেন, নারীরা পাঁজরের হাড়ের মত
৪৮০৬। আবদুল আযীয ইব’ন আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি তোমরা তাকে একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে লাভবান হতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভবান হতে হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৭ | 4807 | ٤۸۰۷

পরিচ্ছদঃ ২৫০৫. নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওসীয়ত
৪৮০৭। ইসহাক ইব’ন নসর (রহঃ) … আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন আপন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সে ভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থকবে। অতএব, তোমাদেরকে ওসীয়াত করা হল নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৮ | 4808 | ٤۸۰۸

পরিচ্ছদঃ ২৫০৫. নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার ওসীয়ত
৪৮০৮। নুআয়ম (রহঃ) … ইবন উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় আমাদের স্ত্রীদের সাথে কথা-বার্তা ও হাসি-ঠাট্টা থেকে দূরে থাকতাম এই ভয়ে যে, এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক করে কোন ওহী নাযিল হয়ে যায়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর আমরা তাদের সাথে অবাধে কথা-বার্তা ও হাসি-ঠাট্টা করতাম।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮০৯ | 4809 | ٤۸۰۹

পরিচ্ছদঃ ২৫০৬. আল্লাহ তা’আলা বলেন, তোমরা নিজ়েকে এবং তোমাদের পরিবারকে দোযখের আগুন থেকে বাঁচাও
৪৮০৯। আবূ নু’মান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইব’ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে। একজন শাসক সে তার অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের রক্ষক, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন স্ত্রী তার স্বামীর গৃহের রক্ষক, সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন গোলাম তার মনিবের সম্পদের রক্ষক, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব সাবধান, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮১০ | 4810 | ٤۸۱۰

পরিচ্ছদঃ ২৫০৭. পরিবার-পরিজনের সাথে উত্তম ব্যবহার
৪৮১০। সুলায়মান ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) ও আলী ইবনু হুজ্‌র (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ১১ জন মহিলা এক স্থানে একত্রিত হয়ে বসল এবং সকলে মিলে এই কথা উপর একমত হল যে, তারা নিজেদের স্বামীর ব্যাপারে কোন তথ্যই গোপন রাখবে না। প্রথম মহিলা বলল, আমার স্বামী অত্যন্ত হাল্‌কা-পাতলা দুর্বল উটের গোশতের ন্যায় যেন কোন পাহাড়ের চুড়ায় রাখা হয়েছে এবং সেখানে আরোহণ করা সহজ কাজ নয় এবং গোশতের মধ্যে এত চর্বিও নেই, যে কারনে সেখানে উঠার জন্য কেউ কষ্ট স্বীকার করবে। দ্বিতীয় মহিলা বলল, আমি আমার স্বামী সম্পর্কে কিছু বলবনা, কারন আমি ভয় করছি যে, তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে শেষ করা যাবে না। কেননা, যদি আমি তার সম্পর্কে বলতে যাই, তা হলে আমাকে তার সকল দুর্বলতা এবং মন্দ দিকগুলো সম্পর্কেও বলতে হবে।

তৃতীয় মহিলা বলল, আমার স্বামী একজন দীর্ঘদেহী ব্যাক্তি। আমি যদি তার বর্ণনা দেই (আর সে যদি তা শোনে) তাহলে সে আমাকে তালাক দিবে। আর যদি আমি কিছু না বলি, তাহল সে আমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখবে। অর্থাৎ তালাকও দেবে না, স্ত্রীর মতো ব্যবহারও করবে না। চতুর্থ মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে তিহামার রাতের মতো মাঝামাঝি- অতি গরমও না, অতি ঠাণ্ডাও না, আর আমি তাকে ভয়ও করি না, আবার তার প্রতি অসন্তুষ্টও নই। পঞ্চম মহিলা বলল, যখন আমার স্বামী ঘরে প্রবেশ করে, তখন চিতা বাঘের ন্যায় থাকে। যখন বাইরে যায় তখন সিংহের ন্যায় তার স্বভাব থাকে এবং ঘরের কোন কাজের ব্যাপারে কোন প্রশ্ন তোলে না।

ষষ্ঠ মহিলা বলল, আমার স্বামী যখন খেতে বসে, তখন সব খেয়ে ফেলে। যখন পান করে, তখন সব শেষ করে। যখন নিদ্রা যায়, তখন একাই চাঁদর বা কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকে। এমনকি হাত বের করেও আমার খবর নেয় না। সপ্তম মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে পথভ্রষ্ট অথবা দুর্বল মানসিকতা সম্পন্ন এবং চরম বোকা, সব রকমের দোষ তার আছে। সে তোমার মাথায় বা শরীরে অথবা উভয় স্থানে আঘাত করতে পারে। অষ্টম মহিলা বলল, আমার স্বামীর পরশ হচ্ছে খরগোশের মত এবং তার দেহের সুগন্ধ হচ্ছে যারনাব (এক প্রকার বনফুল-এর মত), নবম মহিলা বলল, আমার স্বামী হচ্ছে অতি উচ্চ অট্টালিকার মত এবং তার তরবারি ঝুলিয়ে রাখার জন্য সে চামড়ার লম্বা ফালি পরিধান করে (অর্থাৎ সে দানশীল ও সাহসী)। তার ছাইভস্ম প্রচুর পরিমাণের (অর্থাৎ প্রচুর মেহমান আছে এবং মেহমানদারীও হয়) এবং মানুষের জন্য তার গৃহ অবারিত। লোকজন তার সঙ্গে সহজেই পরামর্শ করতে পারে।

দশম মহিলা বলল, আমার স্বামীর নাম হল মালিক। মালিকের কি প্রশংসা আমি করব। যা প্রশংসা করব সে তার চেয়ে উর্ধ্বে। তার অনেক মঙ্গলময় উট আছে, তার অধিকাংশ উটকেই ঘরে রাখা হয় (অর্থাৎ মেহমানদের জবাই করে খাওয়ানোর জন্য) এবং অল্প সংখ্যক মাঠে চরার জন্য রাখা হয়। বাঁশির শব্দ শুনলেই উটগুলো বুঝতে পারে যে, তাদের মেহমানদের জন্য জবাই করা হবে।

একাদশতম মহিলা বলল, আমার স্বামী আবূ যার’আ। তার কথা আমি কি বলব। সে আমাকে এত বেশি গহনা দিয়েছে যে, আমার কান ভারী হয়ে গেছে, আমার বাজুতে মেদ জমেছে এবং আমি এত সন্তুষ্ট হয়েছি যে, আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি। সে আমাকে এনেছে অত্যন্ত গরিব পরিবার থেকে, যে পরিবার ছিল মাত্র কয়েকটি বকরীর মালিক। সে আমাকে অত্যন্ত ধনী পরিবারে নিয়ে আসে, যেখানে ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনি এবং উটের হাওদার আওয়াজ এবং শস্য মাড়াইয়ের খসখসানি শব্দ শোনা যায়। সে আমাকে ধন-সম্পদের মধ্যে রেখেছে। আমি যা কিছু বলতাম, সে বিদ্রূপ করত না এবং আমি নিদ্রা যেতাম এবং সকালে দেরী করে উঠতাম এবং যখন আমি পান করতাম, অত্যন্ত তৃপ্তি সহকারে পান করতাম। আর আবূ যার’আর আম্মার কথা কি বলব! তার পাত্র ছিল সর্বদা পরিপূর্ণ এবং তার ঘর ছিল প্রশস্ত। আবূ যার’আর পুত্রের কথা কি বলব! সেও খুব ভাল ছিল। তার শয্যা এত সংকীর্ণ ছিল যে, মনে হত যেন কোষবদ্ধ তরবারি অর্থাৎ সে অত্যন্ত হালকা পাতলা দেহের অধিকারী। তার খাদ্য হচ্ছে ছাগলের একখনা পা।

আর আবূ যার’আর কন্যা সম্পর্কে বলতে হয় যে, সে কতই না ভাল। সে বাপ-মায়ের সম্পূর্ণ বাধ্যগত সন্তান। সে অত্যন্ত সুস্বাস্থের অধিকারিণী, যে কারনে সতীনরা তাকে হিংসা করে। আবূ যার’আর কৃতদাসীরও অনেক গুন। সে আমাদের গোপন কথা কখনও প্রকাশ করত না, সে আমাদের সম্পদকে কমাত না এবং আমাদের বাসস্থানকে আবর্জনা দিয়ে ভরে রাখত না। সে মহিলা আরও বলল, একদিন দুধ দোহন করার সময় আবূ যার’আ বাইরে বেরিয়ে এমন একজন মহিলাকে দেখতে পেল, যার দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। ওরা মায়ের স্তন্য নিয়ে চিতা বাঘের মত খেলছিল (দুধ পান করছিল)। সে ঐ মহিলাকে দেখে আকৃষ্ট হল এবং আমাকে তালাক দিয়ে তাকে শাদী করল।

এরপর আমি এক সম্মানিত ব্যাক্তিকে শাদী করলাম , সে দ্রুতগামী অশ্বে আরোহণ করত এবং হাতে বর্শা রাখত। সে আমাকে অনেক সম্পদ দিয়েছে এবং প্রত্যেক প্রকারের গৃহপালিত জন্তু থেকে এক এক জোড়া আমাকে দিয়েছে এবং বলেছে, হে উম্মে আরযা! তুমি এ সম্পদ থেকে খাও, পরিধান কর এবং উপহার দাও। মহিলা আরও বলল, সে আমাকে যা কিছু দিয়েছে, তা আমু যার’আর একটি ক্ষুদ্র পাত্রও পুর্ন করতে পারবে না (অর্থাৎ আবূ যার’আর সম্পদের তুলনায় খুবই সামান্য ছিল)। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসুলূল্লাহ্‌ আমাকে বলেলেন, “আবূ যার’আ তার স্ত্রী উম্মে যার’আর প্রতি যেরূপ আমিও তোমার প্রতি তদ্রূপ (পার্থক্য এতটুকুই) আমি তোমাকে তালাক দেব না এবং তোমার সাথে উত্তম ব্যাবহার করব।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮১১ | 4811 | ٤۸۱۱

পরিচ্ছদঃ ২৫০৭. পরিবার-পরিজনের সাথে উত্তম ব্যবহার
৪৮১১। আবদুল্লাহ‌ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … উরওয়া, আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদিন হাবশীরা তাদের বর্শা নিয়ে খেলা করছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিয়ে পর্দা করে তার পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমি সেই খেলা দেখছিলাম। যতক্ষণ আমার ভাল লাগছিল ততক্ষণ আমি দেখছিলাম। এরপর আমি স্বেচ্ছায় সে স্থান ত্যাগ করলাম। সুতরাং তোমরা অনুমান করতে পারলে যে, অল্প বয়স্কা মেয়েরা কি পরিমাণ আমোদ-প্রমোদ পছন্দ করে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮১২ | 4812 | ٤۸۱۲

পরিচ্ছদঃ ২৫০৮. কোন ব্যক্তির নিজ কন্যাকে তার স্বামী সম্পর্কে উপদেশ দান করা
৪৮১২। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবদুল্লাহ‌ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বহুদিন ধরে উৎসুক ছিলাম যে, আমি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এর নিকটে জিজ্ঞেস করব, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিগণের মধ্যে কোন্ দু’জন সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করেছেনঃ “তোমরা দু’জন যদি আল্লাহর নিকট তওবা কর (তবে এটা উত্তম) কেননা, তোমাদের মন সঠিক পথ থেকে সরে গেছে।”

এরপর একবার তিনি [উমর (রাঃ)] হাজ্জের (হজ্জ) জন্য রওয়ানা হলেন এবং আমিও তাদের সঙ্গে হাজ্জে (হজ্জ) গেলাম। (ফিরে আসার পথে) তিনি ইস্তিঞ্জার জন্য রাস্তা থেকে সরে গেলেন। আমি পানি পূর্ণ পাত্র হাতে তাঁর সাথে গেলাম। তিনি ইস্তিঞ্জা করে ফিরে এলে আমি উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি তাঁর হাতে ঢেলে দিতে লাগলাম। তিনি যখন উযূ (ওজু/অজু/অযু) করছিলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আমিরুল মু’মিনীন! নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণের মধ্যে কোন দু’জন, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ “তোমরা দু’জন যদি আল্লাহর নিকট তওবা কর (তবে তোমাদের জন্য উত্তম) কেননা, তোমাদের মন সঠিক পথ থেকে সরে গেছে।”

জবাবে তিনি বললেন, হে ইবনু আব্বাস! আমি তোমার প্রশ্ন শুনে অবাক হচ্ছি। তাঁরা দু’জন তো আয়িশা (রাঃ) ও হাফসা (রাঃ)। এরপর উমর (রাঃ) এই ঘটনাটি বর্ণনা করলেন, “আমি এবং আমার একজন আনসারী প্রতিবেশী যিনি উমাইয়া ইবনু যায়দ গোত্রের লোক এবং তারা মদিনার উপকণ্ঠে বসবাস করত। আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে পালাক্রমে সাক্ষাত করতাম। সে একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে যেত, আমি আর একদিন যেতাম। যখন আমি যেতাম, ঐ দিন ওহী অবতীর্ণসহ যা ঘটত সবকিছুর খবর আমি তাকে দিতাম এবং সেও অনুরুপ খবর আমাকে দিত।

আমরা কুরাইশরা নিজেদের স্ত্রীগণের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে রেখেছিলাম। কিন্তু আমরা যখন আনসারদের মধ্যে এলাম, তখন দেখতে পেলাম, তাদের স্ত্রীগণ তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আছে এবং তাদের ওপর কর্তৃত্ব করে চলছে। সুতরাং আমাদের স্ত্রীরাও তাদের দেখাদেখি সেরূপ ব্যবহার করতে লাগল। একদিন আমি আমার স্ত্রীর প্রতি নারাজ হলাম এবং তাকে উচ্চস্বরে কিছু বললাম, সেও প্রতি-উত্তর দিল। আমার কাছে এরকম প্রতি-উত্তর দেয়াটা অপছন্দ হল। সে বলল, আমি আপনার কথার পাল্টা উত্তর দিচ্ছি এতে অবাক হচ্ছেন কেন? আল্লাহর কসম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিগণ তাঁর কথার মুখে মুখে পাল্টা উত্তর দিয়ে থাকেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার এক দিন এক রাত পর্যন্ত কথা না বলে কাটান।

[উমর (রাঃ) বলেন], এ কথা শুনে আমি ঘাবড়ে গেলাম এবং আমি বললাম, তাদের মধ্যে যারা এরূপ করেছে, তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এরপর আমি আমার কাপড় পরিধান করলাম এবং আমার কন্যা হাফসার ঘরে প্রবেশ করলাম এবং বললামঃ হাফ্‌সা! তোমাদের মধ্যে থেকে কারো প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী সারা দিন রাত পর্যন্ত অসন্তুষ্ট থাকেননি? সে উত্তর করল, হ্যাঁ। আমি বললাম, তুমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছ। তোমরা কি এ ব্যাপারে ভীত হচ্ছো না যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসন্তুষ্টির কারনে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়ে যাবেন? পরিণামে তোমরা ধ্বংসের মধ্যে পড়ে যাবে। সুতরাং তুমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অতিরিক্ত কোন জিনিস দাবি করবে না এবং তাঁর কথার প্রতি-উত্তর করবে না এবং তাঁর সাথে কথা বলা বন্ধ করবে না। তোমার যদি কোন কিছুর প্রয়োজন হয়, তবে আমার কাছে চেয়ে নেবে। আর তোমার সতীন তোমার চেয়ে অধিক রূপবতী এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধিক প্রিয় তা যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে। এখানে সতীন বলতে আয়িশা (রাঃ) কে বোঝানো হয়েছে।

উমর (রাঃ) আরও বলেন, এ সময় আমাদের মধ্যে এ কথা ছড়িয়ে পড়েছিল যে, গাস্‌সানের শাসনকর্তা আমাদের ওপর আক্রমণ চালাবার উদ্দেশ্যে তাদের ঘোড়াগুলোকে প্রস্তুত করেছে। আমার প্রতিবেশী আনসার তার পালার দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমত থেকে রাতে ফিরে এসে আমার দরজায় খুব জোরে করাঘাত করল এবং জিজ্ঞেস করল, আমি ঘরে আছি কিনা? আমি শঙ্কিত অবস্থায় বেরিয়ে এলাম। সে বলল, আজ একটা বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে। আমি বললাম, সেটা কি? গাস্‌সানিরা কি এসে গেছে? সে বলল, না, তার চেয়ে বড় ঘটনা এবং তা ভয়ংকর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীগণকে তালাক দিয়েছেন। আমি বললাম, হাফসা তো ধ্বংস হয়ে গেল, ব্যর্থ হল। আমি আগেই ধারনা করেছিলাম, খুব শীগগীরই এরকম একটা কিছু ঘটবে।

এরপর আমি পোশাক পরিধান করলাম এবং ফজরের সালাত (নামায/নামাজ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আদায় করলাম। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওপরের কামরায় (মাশরুবা) একাকী আরোহণ করলেন, আমি তখন হাফ্‌সার কাছে গেলাম এবং তাকে কাঁদতে দেখলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কাঁদছ কেন? আমি কি তোমাকে এ ব্যাপারে পূর্বেই সতর্ক করে দেইনি? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদের সকলকে তালাক দিয়েছেন? সে বলল, আমি জানিনা। তিনি ওখানে ওপরের কামরায় একাকী রয়েছেন। আমি সেখান থেকে বেরিয়ে এসে মিম্বরের কাছে বসলাম। সেখানে কিছু সংখ্যক লোক বসা ছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকেই কাঁদছিল। আমি তাদের কাছে কিছুক্ষন বসলাম, কিন্তু আমার অন্তর এ অবস্থা সহ্য করতে পারছিল না। সুতরাং যে ওপরের কামরায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবস্থান করছিলেন আমি সেই ওপরের কামরায় গেলাম এবং তাঁর হাবশী কালো খাদেমকে বললাম, তুমি কি উমরের জন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাওয়ার অনুমতি এনে দেবে?

খাদেমটি গেল এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কথা বলল। ফিরে এসে উত্তর করল, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আপনার কথা বলেছি; কিন্তু তিনি নিরুত্তর আছেন। তখন আমি ফিরে এলাম এবং যেখানে লোকজন বসা ছিল সেখানে বসলাম। কিন্তু এ অবস্থা আমার কাছে অসহ্য লাগছিল। তাই আবার এসে খাদেমকে বললাম! তুমি কি উমরের জন্য অনুমতি এনে দিবে? সে গেল এবং ফিরে এসে বলল, আমি তার কাছে আপনার কথা বলেছি; কিন্তু তিনি নিরুত্তর আছেন। সুতরাং আমি আবার ফিরে এসে মিম্বরের কাছে ঐ লোকজনের সাথে বসলাম। কিন্তু এ অবস্থা আমার কাছে অসহ্য লাগছিল। পুনরায় আমি খাদেমের কাছে গেলাম এবং বললাম, তুমি কি উমরের জন্য অনুমতি এনে দিবে? সে গেল এবং আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতে বলতে আসল, আমি আপনার কথা উল্লেখ করলাম; কিন্তু তিনি নিরুত্তর আছেন।

যখন আমি ফিরে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি, এমন সময় খাদেমটি আমাকে ডেকে বলল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। এরপর আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশ করে দেখলাম, তিনি খেজুরের চাটাইয়ের ওপর চাঁদরবিহীন অবস্থায় খেজুরের পাতা ভর্তি একটি বালিশে ভর দিয়ে শুয়ে আছেন। তাঁর শরীরে পরিষ্কার চাটাইয়ের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। আমি তাকে সালাম দিলাম এবং দাঁড়ানো অবস্থাতেই জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ‌! আপনি কি আপনার বিবিগণকে তালাক দিয়েছেন? তিনি আমার দিকে চোখ ফিরিয়ে বললেন, না (অর্থাৎ তালাক দেইনি)। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার। এরপর আলাপটা নমনীয় করার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে থেকেই বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যদি শোনেন তাহলে বলিঃ আমরা কুরাইশগণ, মহিলাদের ওপর আমাদের প্রতিপত্তি খাটাতাম; কিন্তু আমরা মদিনায় এসে দেখলাম, এখানকার পুরুষদের ওপর নারীদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিদ্যমান। এ কথা শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন।

তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আপনি আমার কথার দিকে একটু নজর দেন। আমি হাফ্‌সার কাছে গেলাম এবং আমি তাকে বললাম, তোমার সতীনের রূপবতী হওয়া ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় পাত্রী হওয়া তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে। এর দ্বারা আয়িশা (রাঃ) এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় মুচকি হাসলেন। আমি তাঁকে হাসতে দেখে বসে পড়লাম। এরপর আমি তাঁর ঘরের চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম, আল্লাহর কসম, শুধু মাত্র তিনটি চামড়া ছাড়া আমি আর তাঁর ঘরে উল্লেখযোগ্য কিছুই দেখতে পেলাম না। তারপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দোয়া করুন, আল্লাহ তা’আলা যাতে আপনার উম্মতদের সচ্ছলতা দান করেন। কেননা, পারস্য ও রোমানদের প্রাচুর্য দান করা হয়েছে এবং তাদের দুনিয়ার আরাম প্রচুর পরিমানে দান করা হয়েছে; অথচ তারা আল্লাহর ইবাদত করে না।

এ কথা শুনে হেলান দেয়া অবস্থা থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোজা হয়ে বসে বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কি এখন এই ধারনা পোষণ করছ? ওরা ঐ লোক, যারা উত্তম কাজের প্রতিদান এ দুনিয়ায় পাচ্ছে! আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। হাফ্‌সা (রাঃ) কর্তৃক আয়িশা (রাঃ) কে কথা ফাঁস করে দেয়ার কারনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঊনত্রিশ দিন তাঁর বিবিগণ থেকে আলাদা থাকেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আমি এক মাসের মধ্যে তাদের কাছে যাব না তাদের প্রতি গোস্বার কারণে। তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁকে মৃদু ভর্ৎসনা করেন। সুতরাং যখন ঊনত্রিশ দিন হয়ে গেল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম আয়িশা (রাঃ) এর কাছে গেলেন এবং তাঁকে দিয়েই শুরু করলেন।

আয়িশা (রাঃ) তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কসম করেছেন যে, এক মাসের মধ্যে আমাদের কাছে আসবেন না; কিন্তু এখন তো ঊনত্রিশ দিনেই এসে গেলেন। আমি প্রতিটি দিন এক এক করে হিসাব করে রেখেছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঊনত্রিশ দিনেও এক মাস হয়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ মাস ২৯ দিনের। আয়িশা (রাঃ) আরও বলেন, ঐ সময় আল্লাহ তা’আলা ইখতিয়ারের আয়াত নাযিল করেন* এবং তিনি তাঁর বিবিগণের মধ্যে আমাকে দিয়েই শুরু করেন এবং আমি তাকেই গ্রহন করি। এরপর তিনি অন্য বিবিগণের অভিমত চাইলেন। সকলেই তাই বলল, যা আয়িশা (রাঃ) বলেছিলেন।

* সূরা আহযাবের ২৮ নং আয়াত নাযিল হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮১৩ | 4813 | ٤۸۱۳

পরিচ্ছদঃ ২৫০৯. স্বামীর অনুমতিক্রমে স্ত্রীদের নফল রোযা রাখা
৪৮১৩। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোন স্ত্রী স্বামীর উপস্থিতিতে তাঁর অনুমতি ছাড়া নফল রোযা রাখবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮১৪ | 4814 | ٤۸۱٤

পরিচ্ছদঃ ২৫১০. যদি কোন মহিলা তার স্বামীর বিছানা বাদ দিয়ে আলাদা বিছানায় রাত কাটায়
৪৮১৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রাঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে তার সাথে একই বিছানায় শোয়ার জন্য ডাকে, আর তার স্ত্রী অস্বীকার করে, তবে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা ঐ মহিলার ওপর লা’নত বর্ষণ করতে থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮১৫ | 4815 | ٤۸۱۵

পরিচ্ছদঃ ২৫১০. যদি কোন মহিলা তার স্বামীর বিছানা বাদ দিয়ে আলাদা বিছানায় রাত কাটায়
৪৮১৫। মুহাম্মদ ইবনু আর’আরা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীর শয্যা ছেড়ে অন্যত্র রাত্রি যাপন করে এবং যতক্ষণ না সে তার স্বামীর শয্যায় ফিরে আসে, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার ওপর লা’নত বর্ষণ করতে থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮১৬ | 4816 | ٤۸۱٦

পরিচ্ছদঃ ২৫১১. স্বামীর অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে স্বামীগৃহে প্রবেশ করতে দেয়া উচিত নয়
৪৮১৬। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন স্বামী উপস্থিত থাকবে, তখন স্বামীর অনুমতি ছাড়া রোযা রাখবে না এবং স্বামীর অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে তার গৃহে প্রবেশ করতে দেবে না। যদি কোন স্ত্রী স্বামীর নির্দেশ ছাড়া তার সম্পদ থেকে খরচ করে, তাহলে স্বামী তার অর্ধেক সওয়াব পাবে। হাদীসটি সিয়াম অধ্যায়ে আবূয্‌ যানাদ মূসা থেকে, তিনি নিজ পিতা থেকে এবং তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮১৭ | 4817 | ٤۸۱۷

পরিচ্ছদঃ ২৫১১. স্বামীর অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে স্বামীগৃহে প্রবেশ করতে দেয়া উচিত নয়
৪৮১৭। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখতে পেলাম, যারা জান্নাতে প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশই গরীব-মিসকীন; অথচ ধনবানগণ আটকা পড়ে আছে। বিপরীতে জাহান্নামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি জাহান্নামের প্রবেশ দ্বারে দাঁড়ালাম এবং দেখলাম যে, অধিকাংশই নারী।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮১৮ | 4818 | ٤۸۱۸

পরিচ্ছদঃ ২৫১২. ‘আল-আশীর’ অর্থাৎ স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া । ‘আল-আশীর’ বলতে সাথী-সঙ্গী বা বন্ধুকে বোঝায় । এ শব্দ মু’আশারা থেকে গৃহীত । এ প্রসঙ্গে আবু সাঈদ (রা) রাসূলুল্লাহ্‌ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন
৪৮১৮। আবদুল্লাহ‌ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবদুল্লাহ‌ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় একদিন সুর্য গ্রহন আরম্ভ হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতুল খুসুফ বা সুর্যগ্রহনের সালাত (নামায/নামাজ) পড়লেন এবং লোকেরাও তার সাথে অংশগ্রহণ করল। তিনি এত দীর্ঘক্ষন কিয়াম করলেন, যাতে সূরা বাকারার সমপরিমাণ কুরআন পাঠ করা যায়। এরপর তিনি দীর্ঘক্ষন রুকূ করলেন এবং মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকলেন; এ প্রথম কিয়ামের চেয়ে কম সময় ছিল। তারপর কুরআন তিলাওয়াত করলেন, পুনরায় দীর্ঘক্ষন রুকূ করলেন। কিন্তু এবারের রুকূর পরিমাণ পুর্বের চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং সিজদায় গেলেন। এরপর তিনি কিয়াম করলেন, কিন্তু এবারের সময় ছিল পুর্বের কিয়ামের চেয়ে সল্পস্থায়ী। এরপর পুনরায় তিনি রুকূতে গেলেন, কিন্তু এবারের রুকূর সময় পূর্ববর্তী রুকূর সময়ের চেয়ে কম ছিল। এরপর পুনরায় তিনি দাঁড়ালেন। কিন্তু এবারে দাঁড়াবার সময় ছিল পুর্বের চেয়েও কম। এরপর রুকূতে গেলেন; এবারের রুকূর সময় পুর্ববর্তী রুকূর চেয়ে কম ছিল। তারপর সিজদায় গেলেন এবং সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করলেন। ততক্ষনে সুর্যগ্রহন শেষ হয়ে গেছে।

এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চন্দ্র এবং সুর্য এ দু’টি আল্লাহর নিদর্শনের অন্যতম। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে এদের গ্রহন হয় না। তাই তোমার যখন প্রথম গ্রহন দেখতে পাও, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর।

এরপর তাঁরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনাকে দেখতে পেলাম যে, আপনি কিছু নেয়ার জন্য হাত বাড়িয়েছেন, এরপর আবার আপনাকে দেখতে পেলাম যে, আপনি পিছনের দিকে সরে এলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি জান্নাত দেখতে পেলাম অথবা আমাকে জান্নাত দেখান হয়েছে এবং আমি সেখান থেকে আঙ্গুরের থোকা ছিঁড়ে আনার জন্য হাত বাড়ালাম এবং তা যদি আমি ধরতে পারতাম, তবে তোমরা তা থেকে পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত খেতে পারতে। এরপর আমি দোযখের আগুন দেখতে পেলাম। আমি এর পূর্বে কখনও এত ভয়াবহ দৃশ্য দেখিনি এবং আমি আরও দেখতে পেলাম যে, তার অধিকাংশ আদিবাসীই নারী।

লোকেরা জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এর কারন কি? তিনি বললেন, এটা তাদের অকৃতজ্ঞতার ফল স্বরূপ। লোকেরা বলল, তারা কি আল্লাহ তা’আলার সাথে নাফরমানী করে? তিনি বললেন, তারা তাদের স্বামীদের প্রতি অকৃতজ্ঞ এবং তাদের প্রতি যে অনুগ্রহ দেখানো হয়, তার জন্য তাদের শোকর নেই। তোমারা যদি সারা জীবন তাদের সাথে ভাল ব্যবহার কর; কিন্তু তারা যদি কখনও তোমার দ্বারা কষ্টদায়ক কোন ব্যবহার দেখতে পায়, তখন বলে বসে, আমি তোমার থেকে জীবনে কখনও ভাল ব্যবহার পেলাম না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮১৯ | 4819 | ٤۸۱۹

পরিচ্ছদঃ ২৫১২. ‘আল-আশীর’ অর্থাৎ স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া । ‘আল-আশীর’ বলতে সাথী-সঙ্গী বা বন্ধুকে বোঝায় । এ শব্দ মু’আশারা থেকে গৃহীত । এ প্রসঙ্গে আবু সাঈদ (রা) রাসূলুল্লাহ্‌ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন
৪৮১৯। উসমান ইবনু হায়সাম (রহঃ) … ইমরান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জান্নাতের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলাম, দেখলাম, অধিকাংশ বাসিন্দাই হচ্ছে গরীব এবং দোযখের দিকে তাকিয়ে দেখি তার অধিকাংশ অধিবাসী হচ্ছে নারী। আইউব এবং সালম বিন যরীর উক্ত হাদীসের সমর্থন ব্যক্ত করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮২০ | 4820 | ٤۸۲۰

পরিচ্ছদঃ ২৫১৩. তোমার স্ত্রীর তোমার ওপর অধিকার আছে । হযরত আবু হুযায়ফা (রা) এ প্রসঙ্গে নবী (সাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন
৪৮২০। মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … আবদুল্লাহ‌ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হে আবদুল্লাহ‌! আমাকে কি এ খবর প্রদান করা হয়নি যে, তুমি রাতভর ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাক এবং দিনভর সিয়াম পালন কর? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, তুমি এরূপ করো না, বরং সিয়ামও পালন কর, ইফতারও কর, রাত জেগে ইবাদত কর এবং নিদ্রাও যাও। তোমার শরীরেরও তোমার ওপর হক আছে; তোমার চোখেরও তোমার উপর হক আছে এবং তোমার স্ত্রীরও তোমার ওপর হক আছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮২১ | 4821 | ٤۸۲۱

পরিচ্ছদঃ ২৫১৪. স্ত্রী স্বামীগৃহের রক্ষক
৪৮২১। আবদান (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। আমীর রক্ষক, একজন ব্যাক্তি তার পরিবারের লোকদের রক্ষক, একজন নারী তার স্বামীর গৃহের ও সন্তানদের রক্ষক। এ ব্যাপারে তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক, আর তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অধীনস্ত লোকদের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮২২ | 4822 | ٤۸۲۲

পরিচ্ছদঃ ২৫১৫. পুরুষ মহিলাদের ওপর কর্তৃত্বকারী এবং দায়িত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ্‌ তা’আলা একে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন ….. নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ মহান ও শ্রেষ্ঠ
৪৮২২। খালিদ ইবনু মাখ্‌লাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করলেন যে, এক মাসের মধ্যে তিনি স্ত্রীদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করবেন না। তিনি নিজস্ব একটি উঁচু কামরায় অবস্থান কছিলেন। ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হলে তিনি সেখান থেকে নিচে নেমে এলেন। তাঁকে বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি শপথ করেছেন যে, এক মাসের মধ্যে কোন স্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবেন না। তিনি বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮২৩ | 4823 | ٤۸۲۳

পরিচ্ছদঃ ২৫১৬. নবী (সাঃ) এর আপন স্ত্রীদের সাথে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত এবং তাদের কক্ষের বাইরে অন্য কক্ষে অবস্থানের ঘটনা
৪৮২৩। আবূ আসিম (রহঃ) … উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ গ্রহন করলেন যে, এক মাসের মধ্যে তাঁর কতিপয় বিবির নিকট তিনি গমন করবেন না; কিন্তু যখন ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হল তখন তিনি সকালে কিংবা বিকালে তাঁদের কাছে গেলেন। কোন একজন তাঁকে বলেলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি শপথ করেছেন এক মাসের মধ্যে কোন বিবির কাছে যাবেন না। তিনি বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেরও হয়ে থাকে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮২৪ | 4824 | ٤۸۲٤

পরিচ্ছদঃ ২৫১৬. নবী (সাঃ) এর আপন স্ত্রীদের সাথে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত এবং তাদের কক্ষের বাইরে অন্য কক্ষে অবস্থানের ঘটনা
৪৮২৪। আলী ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদিন প্রত্যুষে দেখতে পেলাম নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিগণ কাঁদছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে পরিবারের লোকজনও রয়েছে। আমি মসজিদে গেলাম এবং সেখানকার অবস্থা ছিল জনাকীর্ণ। উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) সেখানে এলেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপরিস্থিত কক্ষে আরোহণ করলেন এবং সালাম করলেন, কিন্তু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন উত্তর দিলেন না। পুনরায় তিনি সালাম দিলেন; কিন্তু কেউ কোনরূপ সাড়া দিল না। আবার তিনি সালাম দিলেন; কিন্তু কেউ কোনরূপ জবাব দিল না। এরপর খাদেমকে ডাকলেন এবং তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি আপনার বিবিগণকে তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেন, না, কিন্তু আমি শপথ করেছি যে, তাদের কাছে এক মাস পর্যন্ত যাব না। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঊনত্রিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে তাঁর বিবিগণের কাছে গমন করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮২৫ | 4825 | ٤۸۲۵

পরিচ্ছদঃ ২৫১৭. স্ত্রীদের প্রহার করা নিন্দনীয় কাজ এবং আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেনঃ (প্রয়োজনে) তাদেরকে মৃদু প্রহার কর
৪৮২৫। মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবদুল্লাহ‌ ইবনু যাম’আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কেউ নিজ স্ত্রীদেরকে গোলামের মতো প্রহার করো না। কেননা, দিনের শেষে তার সাথে তো মিলিত হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮২৬ | 4826 | ٤۸۲٦

পরিচ্ছদঃ ২৫১৮. অবৈধ কাজে স্ত্রী স্বামীর অনুগত্য করবে না
৪৮২৬। খাল্লাদ ইবনু ইয়াহ্‌ইয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক আনসারী মহিলা তার মেয়েকে শাদী দিলেন। কিন্তু তার মাথার চুলগুলো উঠে যেতে লাগল। এরপর সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে এ ঘটনা বর্ণনা করে বলল, আমার স্বামী আমাকে বলেছে আমি যেন আমার মেয়ের মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করিয়ে দেই। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না তা করো না, কারন, আল্লাহ তা’আলা এ ধরনের মহিলাদের ওপর লা’নত বর্ষণ করে থাকেন, যারা মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮২৭ | 4827 | ٤۸۲۷

পরিচ্ছদঃ ২৫১৯. আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, কোন স্ত্রীলোক যখন তার স্বামীর পক্ষ থেকে অশোভন ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশংকা করে
৪৮২৭। ইবনু সালাম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, “যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীর পক্ষ থেকে নিষ্ঠুরতা বা উপেক্ষার আশংকা করে” এই আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, এ আয়াত হচ্ছে ঐ মহিলার সম্পর্কে, যার স্বামী তার স্ত্রীকে নিজের কাছে রাখতে চায় না; বরং তাকে তালাক দিয়ে অন্য কোন মহিলাকে শাদী করতে চায়। তখন তার স্ত্রী তাকে বলে, আমাকে রাখ এবং তালাক দিও না বরং অন্য মহিলাকে বিয়ে করে নাও এবং তুমি ইচ্ছা করলে আমাকে খোরপোষ না-ও দিতে পার আর আমকে শয্যাসঙ্গিনী না-ও করতে পার। আল্লাহ তা’আলার উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে, স্বামী-স্ত্রী যদি পারস্পরিক সন্ধি করে নেয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই এবং সন্ধি করা উত্তম।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮২৮ | 4828 | ٤۸۲۸

পরিচ্ছদঃ ২৫২০. আযল প্রসঙ্গে
৪৮২৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে আমরা ‘আযল’ করতাম।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮২৯ | 4829 | ٤۸۲۹

পরিচ্ছদঃ ২৫২০. আযল প্রসঙ্গে
৪৮২৯। আলী ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ‘আযল’ করতাম, তখন কুরআন নাযিল হত। অন্য সূত্র থেকেও জাবির (রাঃ) এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩০ | 4830 | ٤۸۳۰

পরিচ্ছদঃ ২৫২০. আযল প্রসঙ্গে
৪৮৩০। আবদুল্লাহ‌ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আসমা (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধকালীন সময় গনীমত হিসেবে কিছু দাসী পেয়েছিলাম। আমরা তাদের সাথে আযল করতাম। এরপর আমরা এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি উত্তরে বললেনঃ আরে! তোমার কি এমন কাজও করো? একই প্রশ্ন তিনি তিনবার করলেন এবং পরে বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত যে রূহ পয়দা হবার, তা অবশ্যই পয়দা হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩১ | 4831 | ٤۸۳۱

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. আত্মমর্যাদাবোধ । হযরত সা’দ ইব্‌ন উবাদা (রা) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব । নবী (সাঃ) তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ ? (আল্লাহ্‌র কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তাঁর চেয়েও অনেক বেশি এবং আল্লাহ্‌র আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক বেশি
৪৮৩১। আবূ নু’আয়ম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখনই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে যাওয়ার ইরাদা করতেন, তখনই বিবিগণের মধ্যে লটারি করতেন। এক সফরের সময় আয়িশা (রাঃ) এবং হাফসা (রাঃ) এর নাম লটারিতে ওঠে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অভ্যাস ছিল যখন রাত হত তখন আয়িশা (রাঃ) এর সাথে এক সওয়ারীতে আরোহণ করতেন এবং তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলতেন। একরাতে হাফসা (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) কে বললেন, আজ রাতে তুমি কি আমার উটে আরোহণ করবে এবং আমি তোমার উটে, যাতে করে আমি তোমাকে এবং তুমি আমাকে এক নতুন অবস্থায় দেখতে পাবে? আয়িশা (রাঃ) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আমি রাজি আছি।

সে হিসাবে আয়িশা (রাঃ) হাফসা (রাঃ) এর উটে এবং হাফসা (রাঃ) আয়িশা (রাঃ) এর উটে সওয়ার হলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রাঃ) এর নির্ধারিত উটের কাছে এলেন, যার ওপর হাফসা (রাঃ) বসা ছিলেন। তিনি সালাম করলেন এবং তাঁর পার্শ্বে বসে সফর করলেন। পথিমধ্যে এক স্থানে সবাই অবতরণ করলেন। . আয়িশা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত হলেন। যখন তাঁরা সকলেই অবতরণ করলেন তখন আয়িশা (রাঃ) নিজ পদযুগল ‘ইযখির’ নামক ঘাসের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য কোন সাপ বা বিচ্ছু পাঠিয়ে দাও, যাতে আমাকে দংশন করে। কেননা, আমি এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কিছু বলতে পারব না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩২ | 4832 | ٤۸۳۲

পরিচ্ছদঃ ২৫২২. যে স্ত্রী স্বামীকে নিজের পালার দিন সতীনকে দিয়ে দেয় এবং এটা কিভাবে ভাগ করতে হবে
৪৮৩২। মালিক ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সওদা বিনতে যাম’আ (রাঃ) তাঁর পালার রাতে আয়িশা (রাঃ) কে দান করেছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রাঃ) এর জন্য দু’দিন বরাদ্দ করেন একদিন আয়িশা (রাঃ) এর জন্য নির্দিষ্ট দিন এবং সওদা (রাঃ) এর দিন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩৩ | 4833 | ٤۸۳۳

পরিচ্ছদঃ ২৫২৪. যদি বিধবা বিবাহিতা স্ত্রী’র উপস্থিতিতে কুমারী মেয়ে শাদী করে
بَابُ الْعَدْلِ بَيْنَ النِّسَاءِ

وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ} إِلَى قَوْلِهِ: {وَاسِعًا حَكِيمًا

২৫২৩. অনুচ্ছেদঃ আপন স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফ করা। আল্লাহ্‌ বলেন, “স্ত্রীদের মধ্যে পুরাপুরি সুবিচার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা তোমাদের ক্ষমতার বাইরে ….. বস্তুত আল্লাহ্‌ বিশাল ক্ষমতার মালিক এবং মহাজ্ঞানী ”

৪৮৩৩। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত এই যে, যদি কেউ কুমারী মেয়ে শাদী করে, তবে তার সাথে সাত দিন-রাত্রি যাপন করতে হবে আর যদি কেউ কোন বিধবা মহিলাকে বিবাহ করে, তাহলে তার সাথে যেন তিন দিন অতিবাহিত করে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩৪ | 4834 | ٤۸۳٤

পরিচ্ছদঃ ২৫২৫. যদি কেউ কুমারী স্ত্রী থাকা অবস্থায় শাদী করে কোন বিধবাকে
৪৮৩৪। ইউসুফ ইবনুুে রাশিদ (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত হচ্ছে, যদি কেউ বিধবা স্ত্রী থাকা অবস্থায় কুমারী শাদী করে তবে সে যেন তার সঙ্গে সাত দিন অতিবাহিত করে এবং এরপর পালা অনুসারে এবং কেউ কোন বিধবাকে শাদী করে এবং তার ঘরে পূর্ব থেকেই কুমারী স্ত্রী থাকে তবে সে যেন তার সাথে তিন দিন কাটায় এবং তারপর পালাক্রমে। আবূ কিলাবা (রহঃ) বলেন, আমি ইচ্ছা করলে বলতে পারতাম যে, আনাস (রাঃ) এর হাদীস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। আবদুর রাযযাক বলেন, আমি ইচ্ছা করলে বলতে পারতাম যে, খালেদ এই হাদীস রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩৫ | 4835 | ٤۸۳۵

পরিচ্ছদঃ ২৫২৬. যে ব্যক্তি একই গোসলে একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়
৪৮৩৫। আবূল আলা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) … কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, . আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই রাতে সকল বিবির সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। ঐ সময় তাঁর সর্বমোট ন’জন বিবি ছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩৬ | 4836 | ٤۸۳٦

পরিচ্ছদঃ ২৫২৭. দিবাভাগে স্ত্রীদের নিকট গমন করা
৪৮৩৬। ফারাওয়া (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের সালাত (নামায/নামাজ) শেষ করতেন, তখন স্বীয় স্ত্রীদের মধ্যে থেকে যে কোন একজনের নিকট গমন করতেন। একদিন তিনি বিবি হাফসা (রাঃ) এর কাছে গেলেন এবং স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় কাটালেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩৭ | 4837 | ٤۸۳۷

পরিচ্ছদঃ ২৫২৮. কোন ব্যক্তি যদি অসুস্থতার সময় স্ত্রীদের অনুমতি নিয়ে এক স্ত্রীর কাছে সেবা-শুশ্রূষার জন্য থাকে এবং তাকে যদি সবাই অনুমতি দেয়
৪৮৩৭। ইসমাঈল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যে অসুখে ইন্তেকাল করেছিলেন, সেই অসুখের সময়ে জিজ্ঞেস করতেন, আগামীকাল আমার কার কাছে থাকার পালা? আগামীকাল আমার কার কাছে থাকার পালা? তিনি আয়িশা (রাঃ) এর পালার জন্য এরূপ বলতেন। সুতরাং উম্মাহাতুল মু’মিনীন তাঁকে যার ঘরে ইচ্ছা থাকার অনুমতি দিলেন এবং তিনি ওফাত পর্যন্ত আয়িশা (রাঃ)-এর ঘরেই অবস্থান করেন এবং সেখানে তাঁর স্বাভাবিক পালার দিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমার কাছে থাকার পালার দিনই আল্লাহ তাঁর প্রিয় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তাঁর নিজের কাছে নিয়ে গেলেন এ অবস্থায় যে, আমার বুক ও গলার মাঝখানে তাঁর বুক ও মাথা ছিল এবং তাঁর মুখের লালা আমার মুখের লালার সঙ্গে মিশেছিল। [১]

[১] আয়িশা (রাঃ) কাঁচা মিসওয়াক চিবিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিলেন এবং নিজ দন্ত দ্বারা চিবালেন, এমনি করে একজনের মুখের লালা অন্যের মুখে গেল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩৮ | 4838 | ٤۸۳۸

পরিচ্ছদঃ ২৫২৯. এক স্ত্রীকে অন্য স্ত্রীর চেয়ে বেশি ভালবাসা
৪৮৩৮। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) উমর (রাঃ) থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন যে, . উমর (রাঃ) হাফসা (রাঃ) এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, হে আমার কন্যা! তার আচরণ-ব্যবহার দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ো না, কারন সে তার সৌন্দর্য ও তার প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভালবাসার কারণে গর্ব অনুভব করে। এ কথার দ্বারা তিনি আয়িশা (রাঃ) কে বুঝিয়েছিলেন। তিনি আরও বললেন, আমি এ ঘটনা আল্লাহর রাসূলের কাছে বললাম। তিনি এ কথা শুনে মুচকি হাসলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৩৯ | 4839 | ٤۸۳۹

পরিচ্ছদঃ ২৫৩০. কোন নারী কর্তৃক কৃত্রিম সাজ-সজ্জা করা এবং সতীনের মুকাবিলায় আত্মগরিমা প্রকাশ করা নিষেধ
৪৮৩৯। সুলায়মান ইবনু হারব্‌ (রহঃ) এবং মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) … আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, কোন একজন মহিলা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার সতীন আছে। এখন তাঁকে রাগানোর জন্য যদি আমার স্বামী আমাকে যা দেয়নি তা বাড়িয়ে বলি, তাতে কি কোন দোষ আছে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যা তোমাকে দেয়া হয়নি, তা দেয়া হয়েছে বলা ঐরূপ প্রতারকের কাজ, যে প্রতারনার জন্য দু প্রস্থ মিথ্যার পোশাক পরল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪০ | 4840 | ٤۸٤۰

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. আত্মমর্যাদাবোধ । হযরত সা’দ ইব্‌ন উবাদা (রা) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব । নবী (সাঃ) তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ ? (আল্লাহ্‌র কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তাঁর চেয়েও অনেক বেশি এবং আল্লাহ্‌র আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক বেশি
৪৮৪০। উমর ইবনু হাফ্‌স (রহঃ) … আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাশীল কেউ নয় এবং এ কারণেই তিনি সকল অশ্লীল কাজ হারাম করেছেন আর (আল্লাহর) প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর অধিক প্রিয় কিছু নেই।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪১ | 4841 | ٤۸٤۱

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. আত্মমর্যাদাবোধ । হযরত সা’দ ইব্‌ন উবাদা (রা) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব । নবী (সাঃ) তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ ? (আল্লাহ্‌র কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তাঁর চেয়েও অনেক বেশি এবং আল্লাহ্‌র আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক বেশি
৪৮৪১। আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে উম্মতে মুহাম্মদী! আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ আর কারো নেই। তিনি তাঁর কোন বান্দা নর হোক কি নারী হোক তার ব্যভিচার তিনি দেখতে চান না। হে উম্মতে মুহাম্মদী! যা আমি জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তাহলে খুব কম হাসতে এবং বেশি বেশি কাঁদতে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪২ | 4842 | ٤۸٤۲

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. আত্মমর্যাদাবোধ । হযরত সা’দ ইব্‌ন উবাদা (রা) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব । নবী (সাঃ) তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ ? (আল্লাহ্‌র কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তাঁর চেয়েও অনেক বেশি এবং আল্লাহ্‌র আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক বেশি
৪৮৪২। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর চেয়ে বেশি আত্মমর্যাদাবোধ আর কারো নেই। ইয়াহ্‌ইয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু সালামা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে শুনেছেন যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুরূপ হাদীস বলতে শুনেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪৩ | 4843 | ٤۸٤۳

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. আত্মমর্যাদাবোধ । হযরত সা’দ ইব্‌ন উবাদা (রা) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব । নবী (সাঃ) তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ ? (আল্লাহ্‌র কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তাঁর চেয়েও অনেক বেশি এবং আল্লাহ্‌র আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক বেশি
৪৮৪৩। আবূ নুআয়ম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তা’আলার আত্মমর্যাদাবোধ আছে এবং আল্লাহর আত্মমর্যাদাবোধ এই যে, যেন কোন মু’মিন বান্দা হারাম কাজে লিপ্ত না হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪৪ | 4844 | ٤۸٤٤

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. আত্মমর্যাদাবোধ । হযরত সা’দ ইব্‌ন উবাদা (রা) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব । নবী (সাঃ) তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ ? (আল্লাহ্‌র কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তাঁর চেয়েও অনেক বেশি এবং আল্লাহ্‌র আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক বেশি
৪৮৪৪। মাহমুদ (রহঃ) … আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুবায়র (রাঃ) আমাকে শাদী করলেন, তখন তার কাছে কোন ধন-সম্পদ ছিল না, এমন কি কোন স্থাবর জমি-জমা, দাস-দাসীও ছিল না; শুধু মাত্র কুয়ো থেকে পানি উত্তোলনকারী একটি উট ও একটি ঘোড়া ছিল। আমি তাঁর উট ও ঘোড়া চড়াতাম, পানি পান করাতাম এবং পানি উত্তোলনকারী মশক ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতাম, আটা পিষতাম; কিন্তু ভাল রুটি তৈরি করতে পারতাম না। তাই আনসারী প্রতিবেশী মহিলারা আমার রুটি তৈরিতে সাহায্য করত। আর তাঁরা ছিল খুবই উত্তম নারী। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়রা (রাঃ) কে একখণ্ড জমি দিয়েছিলেন। আমি সেখান থেকে মাথায় করে খেজুরের আটি বহন করে আনতাম। ঐ জমির দূরত্ব ছিল প্রায় দু’মাইল। একদিন আমি মাথায় করে খেজুরের আটি বহন করে নিয়ে আসছিলাম। এমন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাত হল, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কয়েকজন আনসারও ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাক ডাকলেন এবং আমাকে তাঁর উটের পিঠে বসার জন্য তাঁর উটকে আখ্‌! আখ্‌! বললেন, যাতে উটটি বসে এবং আমি তাঁর পিঠে আরোহণ করতে পারি।

আমি পরপুরুষের সাথে একত্রে যাওয়াকে লজ্জাবোধ করতে লাগলাম এবং যুবায়র (রাঃ) এর আত্মসম্মানবোধ এর কথা আমার মনে পড়ল। কেননা, সে ছিল খুবই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যাক্তি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারলেন, আমি খুব লজ্জিত বোধ করছি। সুতরাং তিনি এগিয়ে চললেন। আমি যুবায়র (রাঃ) এর কাছে পৌঁছলাম এবং বললাম, আমি খেজুরের আটির বোঝা মাথায় নিয়ে আসার সময় পথিমধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমার দেখা হয় এবং তাঁর সাথে কিছু সংখ্যক সাহাবী ছিলেন। তিনি তাঁর উটকে হাঁটু গেড়ে বসালেন, যেন আমি তাতে সওয়ার হতে পারি। কিন্তু আমি তোমার আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে লজ্জা অনুভব করলাম। এ কথা শুনে যুবায়র (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! খেজুরের আটির বোঝা মাথায় বহন করা তাঁর সাথে উটে চড়ার চেয়ে আমার কাছে বেশি লজ্জাজনক। এরপর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর ঘোড়া দেখাশোনার জন্য আমাকে সাহায্যার্থে একজন খাদেম পাঠিয়ে দিলেন। এরপরই আমি যেন রেহাই পেলাম।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪৫ | 4845 | ٤۸٤۵

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. আত্মমর্যাদাবোধ । হযরত সা’দ ইব্‌ন উবাদা (রা) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব । নবী (সাঃ) তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ ? (আল্লাহ্‌র কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তাঁর চেয়েও অনেক বেশি এবং আল্লাহ্‌র আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক বেশি
৪৮৪৫। আলী ইবনু মাদানী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈকা বিবির কাছে ছিলেন। ঐ সময় উম্মুহাতুল মু’মিনীনের আর একজন একটি পাত্রে কিছু খাদ্য পাঠালেন। যে বিবির ঘরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবস্থান করছিলেন সে বিবির খাদেমের হাতে আঘাত করলেন। ফলে খাদ্যের পাত্রটি পড়ে ভেঙ্গে গেল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের ভাঙ্গা টুকরোগুলো কুড়িয়ে একত্রিত করলেন, তারপর খাদ্যগুলো কুড়িয়ে তাতে রাখলেন এবং বললেন, তোমাদের আম্মাজীর আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লেগেছে। তারপর তিনি খাদেমকে অপেক্ষা করতে বললেন এবং যে বিবির কাছে ছিলেন তাঁর কাছ থেকে একটি পাত্র নিয়ে যার পাত্র ভেঙ্গেছিল, তাকে পাঠাবার ব্যবস্থা করলেন এবং ভাঙ্গা পাত্রটি যে ভেঙ্গেছিল তার কাছেই রাখলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪৬ | 4846 | ٤۸٤٦

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. আত্মমর্যাদাবোধ । হযরত সা’দ ইব্‌ন উবাদা (রা) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব । নবী (সাঃ) তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ ? (আল্লাহ্‌র কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তাঁর চেয়েও অনেক বেশি এবং আল্লাহ্‌র আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক বেশি
৪৮৪৬। মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জান্নাতে প্রবেশ করে একটি প্রাসাদ দেখতে পেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার প্রাসাদ? তাঁরা (ফেরশতাগণ) বললেন, এই প্রাসাদটি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এর। আমি তার মধ্যে প্রবেশ করতে চাইলাম; কিন্তু [তিনি সেখানে উপস্থিত উমর (রাঃ) এর উদ্দেশ্যে বললেন] তোমার আত্মমর্যাদাবোধ আমাকে সেখানে প্রবেশে বাধা দিল। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) বললেন, ইয়া নাবী আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনার ক্ষেত্রেও আমি (উমর) আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করব?

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪৭ | 4847 | ٤۸٤۷

পরিচ্ছদঃ ২৫৩১. আত্মমর্যাদাবোধ । হযরত সা’দ ইব্‌ন উবাদা (রা) বললেন, আমি যদি অন্য কোন পুরুষকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখতে পাই; তাহলে আমি তাকে তরবারির ধারালো দিক দিয়ে আঘাত করব অর্থাৎ হত্যা করব । নবী (সাঃ) তাঁর সাহাবিগণকে বললেন, তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ ? (আল্লাহ্‌র কসম!) আমার আত্মমর্যাদাবোধ তাঁর চেয়েও অনেক বেশি এবং আল্লাহ্‌র আত্মমর্যাদাবোধ আমার চেয়েও অনেক বেশি
৪৮৪৭। আবদান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসা ছিলাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি একদিন ঘুমন্ত অবস্থায় জান্নাতের একটি প্রাসাদের পার্শ্বে একজন মহিলাকে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে দেখলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই প্রাসা’দটি কার? আমাকে বলা হল, এটা উমর (রাঃ) এর। তখন আমি উমরের আত্মমর্যাদার কথা স্মরণ করে পিছনে ফিরে চলে এলাম। এ কথা শুনে উমর (রাঃ) সেই মজলিসেই কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার সাথেও কি আমি আত্মসম্মানবোধ বজায় রাখব?

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪৮ | 4848 | ٤۸٤۸

পরিচ্ছদঃ ২৫৩২. মহিলাদের বিরোধিতা এবং তাদের ক্রোধ
৪৮৪৮। উবায়দ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, “আমি জানি কখন তুমি আমার প্রতি খুশি থাক এবং কখন রাগান্বিত হও।” আমি বললাম, কি করে আপনি তা বুঝতে সক্ষম হন? তিনি বললেন, তুমি প্রসন্ন থাকলে বল, না মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রব-এর কসম! কিন্তু তুমি আমার প্রতি নারাজ থাকলে বল, না! ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর রব এর কসম! শুনে আমি বললাম, আপনি ঠিকই বলেছেন। আল্লাহর্‌ কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে ক্ষেত্রে শুধু আপনার নাম মুবারক উচ্চারন করা থেকেই বিরত থাকি।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৪৯ | 4849 | ٤۸٤۹

পরিচ্ছদঃ ২৫৩২. মহিলাদের বিরোধিতা এবং তাদের ক্রোধ
৪৮৪৯। আহমদ ইবনু রাজা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিগণের মধ্যে থেকে খাদীজা (রাঃ) এর চেয়ে অন্য কোন বিবির প্রতি বেশি ঈর্ষা-পোষণ করিনি। কারন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় তাঁর কথা স্মরণ করতেন এবং তাঁর প্রশংসা করতেন। তাছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওহীর মাধ্যমে তাঁকে [খাদিজা (রাঃ)] কে জান্নাতের মধ্যে একটি মতির প্রাসাদের সুসংবাদ দেবার জন্য জ্ঞাত করানো হয়েছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫০ | 4850 | ٤۸۵۰

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৩. কন্যার মধ্যে ঈর্ষা সৃষ্টি হওয়া থেকে বাধা প্রদান এবং ইনসাফমূলক কথা
৪৮৫০। কুতায়বা (রহঃ) … মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বরে বসে বলতে শুনেছি যে, বনি হিশাম ইবনু মুগীরা, আলী ইবনু আবূ তালিবের কাছে তাদের মেয়ে শাদী দেবার জন্য আমার কাছে অনুমতি চেয়েছে; কিন্তু আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, আমি অনুমতি দেব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আলী ইবনু আবূ তালিব আমার কন্যাকে তালাক দেয় এবং এর পরেই সে তাদের মেয়েকে শাদী করতে পারে। কেননা, ফাতেমা হচ্ছে আমার কলিজার টুকরা এবং সে যা ঘৃণা করে, আমিও তা ঘৃণা করি এবং তাকে যা কষ্ট দেয়, তা আমাকেও কষ্ট দেয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫১ | 4851 | ٤۸۵۱

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৪. পুরুষের সংখ্যা কম হবে এবং নারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে । আবু মূসা (রা) নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (এমন একটা সময় আসবে যখন) একজন পুরুষ দেখতে পাবে, তাঁর পেছনে চল্লিশজন নারী অনুসরণ করছে আশ্রয়ের জন্য । কেননা, তখন পুরুষের সংখ্যা অনেক কমে যাবে আর নারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে
৪৮৫১। হাফ্‌স ইবনু উমরুল হাওদী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাদের কাছে একখানি হাদীস বর্ণনা করব, যা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শুনেছি এবং আমি ছাড়া আর কেউ সে হাদীস বলতে পারবে না। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের আলামতের মধ্যে রয়েছে ইল্‌ম উঠে যাবে, অজ্ঞতা বেড়ে যাবে, ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে, মদ্য পানের মাত্রা বেড়ে যাবে, পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে এবং নারীদের সংখ্যা এত অধিক হারে বেড়ে যাবে যে, একজন পুরুষকে পঞ্চাশজন নারীর দেখাশোনা করতে হবে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫২ | 4852 | ٤۸۵۲

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৫. ‘মাহ্‌রাম’ অর্থাৎ যার সাথে শাদী হারাম সে ব্যতীত অন্য কোন পুরুষের সাথে কোন নারী নির্জনে দেখা করবে না এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোন নারীর কাছে কোন পুরুষ গমন (হারাম)
৪৮৫২। কুতুয়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাক। জনৈক আনসার জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দেবরদের ব্যাপারে কি নির্দেশ? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর তো মৃত্যুতুল্য।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫৩ | 4853 | ٤۸۵۳

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৫. ‘মাহ্‌রাম’ অর্থাৎ যার সাথে শাদী হারাম সে ব্যতীত অন্য কোন পুরুষের সাথে কোন নারী নির্জনে দেখা করবে না এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোন নারীর কাছে কোন পুরুষ গমন (হারাম)
৪৮৫৩। আলী ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাহ্‌রমের উপস্থিতি ব্যতীত কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে সাক্ষাত করবে না। এক ব্যাক্তি উঠে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার স্ত্রী হাজ্জ (হজ্জ) করার জন্য বেরিয়ে গেছে এবং অমুক অমুক জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য আমার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফিরে যাও এবং স্বীয় স্ত্রীর সাথে হাজ্জ (হজ্জ) সমাপন কর।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫৪ | 4854 | ٤۸۵٤

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৬. লোকজনের উপস্থিতিতে স্ত্রীলকের সাথে পুরুষের কথা বলা বৈধ
৪৮৫৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক আনসারী মহিলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে এলে, তিনি তাকে ডেকে এক পার্শ্বে নিয়ে বললেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! তোমার আমার কাছে সকল লোকের চেয়ে অধিক প্রিয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫৫ | 4855 | ٤۸۵۵

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৭. যে পুরুষ মহিলার মত সাজ-গোজ করে, তার সাথে কোন নারীর চলাফেরা নিষেধ
৪৮৫৫। উসমান ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে থাকাকালে সেখানে একজন মেয়েলী ভাবাপন্ন পুরুষ ছিল। ঐ মেয়েলী পুরুষটি উম্মে সালামার ভাই আবদুল্লাহ‌ ইবনু আবূ উমাইয়াকে বলল, যদি আগামীকাল আপনাদেরকে আল্লাহ তায়েফ বিজয় দান করেন, তবে আমি আপনাকে গায়লানের মেয়েকে গ্রহন করারা পরামর্শ দিচ্ছি। কেননা, সে এত মেদবহুল যে, সে সম্মুখ দিকে আগমন করলে তার পেটের চামড়ায় চার ভাঁজ পড়ে আর পিছু ফিরে যাওয়ার সময় আট ভাঁজ পড়ে। একথা শোনার পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এ মেয়েলী পুরুষ হিজড়া) সে যেন কখনো তোমাদের কাছে আর না আসে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫৬ | 4856 | ٤۸۵٦

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৮. হাব্‌শী বা অনুরূপ লোকদের প্রতি মহিলাদের সন্দেহজনক না হলে দৃষ্টি দেয়া যায়
৪৮৫৬। ইসহাক ইবনু ইববাহীম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন হাবশীদের খেলা দেখছিলাম। তারা মসজিদের আঙ্গিনায় খেলা খেলছিল। আমি খেলা দেখে বিরক্ত না হওয়া পর্যন্ত দেখছিলাম। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাঁদর দিয়ে আমাকে আড়াল করে রেখেছিলেন। তোমরা অনুমান কর যে, অল্পবয়স্কা মেয়েরা খেলাধূলা দেখতে কি পরিমাণ আগ্রহী।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫৭ | 4857 | ٤۸۵۷

পরিচ্ছদঃ ২৫৩৯. প্রয়োজনে মহিলাদের ঘরের বাইরে যাওয়া
৪৮৫৭। ফারাওয়া ইবনু আবূল মাগ্‌রা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে উম্মাহাতুল মু’মিনীন সওদা বিনত জামাআ (রাঃ) কোন কারণে বাইরে গেলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে দেখে চিনে ফেললেন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! হে সওদা (রাঃ) তুমি নিজেকে আমাদের কাছ থেকে লুকাতে পারনি। এতে তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে গেলেন এবং উক্ত ঘটনা তাঁর কাছে বললেন। তিনি তখন আমার ঘরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন এবং তাঁর হাতে গোশ্‌তপূর্ণ একখানা হাড় ছিল। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে ওহী নাযিল হল। যখন ওহী নাযিল হওয়া শেষ হল, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তা’আলা প্রয়োজনে তোমাদের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫৮ | 4858 | ٤۸۵۸

পরিচ্ছদঃ ২৫৪০. মসজিদে অথবা অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য মহিলাদের স্বামীর অনুমতি গ্রহন
৪৮৫৮। আলী ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রহঃ) … সালিমের পিতা [ইবনু উমর (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি তোমাদের কারো স্ত্রী মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চায়, তাহলে তাকে নিষেধ করো না।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৫৯ | 4859 | ٤۸۵۹

পরিচ্ছদঃ ২৫৪১. যে সমস্ত মহিলার সাথে দুধ পান করার কারণে দুধ সম্পর্কীয় আত্মীয়তা হয়েছে তাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য গমন করা এবং তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করা যায়
৪৮৫৯। আবদুল্লাহ‌ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দুধ সম্পর্কের চাচা এলেন এবং আমার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন; কিন্তু আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুমতি নেয়া ছাড়া প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসার পর তাঁকে আমি জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি হচ্ছেন তোমার চাচা। সুতরাং তাকে ভিতরে আসার অনুমতি দাও। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে মহিলা দুধ পান করিয়েছেন; কিন্তু কোন পুরুষ আমাকে দুধ পান করায়নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমার চাচা, সুতরাং তাকে তোমার কাছে আসার অনুমতি দাও। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এই ঘটনা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর। তিনি আরও বলেন, জন্মসূত্রে যারা হারাম, দুধ সম্পর্কের কারনেও তাঁরা হারাম।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬০ | 4860 | ٤۸٦۰

পরিচ্ছদঃ ২৫৪২. এক মহিলা আর এক মহিলার সঙ্গে দেখা করে তার বর্ণনা যেন নিজের স্বামীর কাছে না দেয়
৪৮৬০। মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী যেন অন্য কোন নারীর সঙ্গে সাক্ষাত করে তার বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে (স্বামী) তাকে (ঐ নারীকে) দেখতে পাচ্ছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬১ | 4861 | ٤۸٦۱

পরিচ্ছদঃ ২৫৪২. এক মহিলা আর এক মহিলার সঙ্গে দেখা করে তার বর্ণনা যেন নিজের স্বামীর কাছে না দেয়
৪৮৬১। উমর ইবনু হাফ্‌সা ইবনু গিয়াস (রহঃ) … আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারী যেন অন্য কোন নারীর সঙ্গে সাক্ষাত করে তার বর্ণনা নিজ স্বামীর নিকট এমনভাবে না দেয়, যেন সে তাকে দেখতে পাচ্ছে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬২ | 4862 | ٤۸٦۲

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৩. কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, নিশ্চয়ই আজ রাতে আমি আমার সকল স্ত্রীর সাথে মিলিত হব
৪৮৬২ মাহমুদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর পুত্র সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) একদা বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আজ রাতে আমি আমার একশত বিবির সঙ্গে মিলিত হব এবং তাদের প্রত্যেকেই একটি করে পুত্র সন্তান প্রসব করবে, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এ কথা শুনে একজন ফেরেশতা বলেছিলেন, আপনি ‘ইন্‌শাআল্লাহ’ বলুন; কিন্তু তিনি একথা ভুলক্রমে বলেননি। এরপর তিনি তার বিবিগণের সঙ্গে মিলিত হলেন; কিন্তু তাদের কেউ কোন সন্তান প্রসব করল না। শুধুমাত্র একজন বিবি একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) ‘ইন্‌শাআল্লাহ’ বলতেন, তাহলে আল্লাহ তাঁর আশা পূর্ণ করতেন। আর সেটাই ছিল তাঁর প্রয়োজন মেটানোর জন্য উত্তম।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬৩ | 4863 | ٤۸٦۳

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৪. যদি কোন লোক দূরে থাকে অথবা পরিবার থেকে অনেকদিন অনুপস্থিত থাকে, তাহলে বাড়ি আসার পর সঙ্গে সঙ্গেই রাতে ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়, যাতে করে সে এমন কিছু পায় যা তাকে আপন পরিবার সম্পর্কে সন্দিহান করে তোলে, অথবা তাদের কোন ত্রুটি আবিষ্কার করে ।
৪৮৬৩। আদম … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে এসে রাতে ঘরে প্রবেশ করা অপছন্দ করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬৪ | 4864 | ٤۸٦٤

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৪. যদি কোন লোক দূরে থাকে অথবা পরিবার থেকে অনেকদিন অনুপস্থিত থাকে, তাহলে বাড়ি আসার পর সঙ্গে সঙ্গেই রাতে ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়, যাতে করে সে এমন কিছু পায় যা তাকে আপন পরিবার সম্পর্কে সন্দিহান করে তোলে, অথবা তাদের কোন ত্রুটি আবিষ্কার করে ।
৪৮৬৪। মুহাম্মাদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকে রাতে আকস্মিকভাবে তার ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬৫ | 4865 | ٤۸٦۵

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৫. সন্তান কামনা করা
৪৮৬৫। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক যুদ্ধে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। যখন আমরা ফিরে আসছিলাম, আমি আমার মন্থর গতি উটের পিঠে ত্বরা করতে লাগলাম। তখন আমার পিছনে একজন আরোহী এসে মিলিত হলেন। তাকিয়ে দেখলাম যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বললেন, তোমার এ ব্যস্ততার কারন কি? আমি বললাম, আমি সদ্য শাদী করেছি। তিনি বললেন, কুমারী, না পূর্ব-বিবাহিতা বিয়ে করেছ? আমি বললাম, পূর্ব-বিবাহিতা। তিনি বললেন, কুমারী করলে না কেন? তুমি তার সাথে আমোদ-প্রমোদ করতে, আর সেও তোমার সাথে আমোদ-প্রমোদ করত। (রাবী) বলেন, আমরা মদিনায় পৌঁছেনিজ নিজ বাড়িতে যাইতে চাইলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা অপেক্ষা কর- পরে রাতে অর্থাৎ এশা নাগাদ ঘরে যাবে, যাতে এলোকেশী নারী তার চুল আঁচড়িয়ে নিতে পারে এবং প্রবাসী স্বামীর স্ত্রী ক্ষুর ব্যবহার করতে পারে। (রাবী) বলেন, আমাকে এক নির্ভরযোগ্য ব্যাক্তি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে এও বলেছেন যে, হে জাবির। বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দাও, বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দাও। (কোন রাবী বলেন) অর্থাৎ সন্তান কামনা কর, সন্তান কামনা কর।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬৬ | 4866 | ٤۸٦٦

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৫. সন্তান কামনা করা
৪৮৬৬। মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সফর থেকে রাতে প্রত্যাবর্তন করে গৃহে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না স্বামীর অবিদ্যমান স্ত্রী ক্ষুর ব্যবহার করতে পারে এবং রুক্ষকেশী স্ত্রী চিরুনী করে নিতে পারে। (রাবী), বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমার কর্তব্য সন্তান কামনা করা, সন্তান কামনা করা। উবায়দুল্লাহ্‌ (রহঃ) ওয়াহাব (রহঃ) থেকে জাবির (রাঃ) এর সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ‘সন্তান অন্বেষণ’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬৭ | 4867 | ٤۸٦۷

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৬. স্বামীর অবিদ্যমান স্ত্রী ক্ষুর ব্যবহার করবে এবং রুক্ষকেশী নারী (মাথায়) চিরুনি করে নেবে
৪৮৬৭। ইয়াকুব ইবনু ইব্‌রাহীম (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। যুদ্ধ শেষে প্রত্যাবর্তনকালে যখন আমরা মদিনার নিকটবর্তী হলাম, আমি আমার মন্থর গতি সম্পন্ন উটের পিছে ত্বরা করতে লাগলাম। একটু পরেই জনৈক আরোহী আমার পিছনে এসে মিলিত হলেন এবং তাঁর লাঠি দ্বারা আমার উটকে খোঁচা দিলেন। এতে আমার উটটি সর্বোৎকৃষ্ট উটের ন্যায় চলতে লাগল। মুখ ফিরিয়ে দেখলাম যে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সদ্য বিয়ে করেছি। তিনি বললেন, বিয়ে করেছ? আমি বললাম, জি-হ্যাঁ। তিনি বললেন, কুমারী না বিধবা? আমি বললাম, বরং বিধবা। তিনি বললেন, কুমারী করলে না কেন? তুমি তার সাথে আমোদ-প্রমোদ করতে, আর সেও তোমার সাথে আমোদ-প্রমোদ করত। রাবী বলেন, এরপর আমরা যখন মদিনায় উপস্থিত হয়ে (নিজ নিজ গৃহে) প্রবেশে উদ্যত হলাম, তখন তিনি বললেন, আস, সকলে রাতের অর্থাৎ সন্ধ্যায় প্রবেশ করবে, যাতে এলোকেশী নারী চিরুনি করে নিতে পারে এবং স্বামী অবিদ্যমান স্ত্রী ক্ষুর ব্যবহার করে নিতে পারে।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬৮ | 4868 | ٤۸٦۸

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৭. “তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, আপন নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, যৌন কামনা রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কারও নিকট তাদের আভরন প্রকাশ না করে ।” (২৪ : ৩১)
৪৮৬৮। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হাযিম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্ষতস্থানে কি ঔষধ লাগানো হয়েছিল, এ নিয়ে লোকদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হল। পরে তারা সাহল ইবনু সা’দ সাঈদীকে জিজ্ঞেস করল, যিনি মদিনার অবশিষ্ট নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবিগণের সর্বশেষ ছিলেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ কোন ব্যাক্তি অবশিষ্ট নেই। ফাতেমা (রাঃ) তাঁর মুখমণ্ডল হতে রক্ত ধৌত করছিলেন আর আলী (রাঃ) ঢালে করে পানি আনছিলেন। পরে একটি চাটাই পুড়ে, তা ক্ষতস্থানে চতুর্দিকে লাগিয়ে দেয়া হল।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৬৯ | 4869 | ٤۸٦۹

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৮. যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি
৪৮৬৯। আহ্‌মদ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আবদুর রহমান ইবনু আবিস থেকে বর্ণিত যে, আমি জনৈক ব্যাক্তিকে ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছি যে, আপনি আযহা বা ফিতরের কোন ঈদে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে উপস্থিত ছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তবে তাঁর সাথে আমার এত ঘনিষ্ঠতা না থাকলে সল্প বয়সের দরুন আমি তাঁর সাথে উপস্থিত হতে পারতাম না। তিনি (আরও) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন, এরপর খুতবা দিলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) আযান ও ইকামতের কথা উল্লেখ করেননি। এরপর তিনি মহিলাদের কাছে এলেন এবং তাদেরকে ওয়াজ ও নসীহত করলেন ও তাদেরকে সা’দকা করার আদেশ দিলেন। (রাবী বলেন,) আমি দেখলাম, তারা তাদের কর্ণ ও কণ্ঠের দিকে হাত প্রসারণ করে (গয়নাগুলো) বিলালের কাছে অর্পণ করছে। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও বিলাল (রাঃ) গৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৪৮৭০ | 4870 | ٤۸۷۰

পরিচ্ছদঃ ২৫৪৯. কোন ব্যক্তির তার সাথীকে এ কথা বলা যে, তোমরা কি গত রাতে সহবাস করেছ ? এবং ধমক দেয়া কালে কোন ব্যক্তি তার কন্যার কোমরে আঘাত করা
৪৮৭০। আবদুল্লাহ‌ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমাকে ভর্ৎসনা করলেন এবং আমার কোমরে তাঁর হাত দ্বারা আঘাত করতে লাগলেন। আমার ঊরুর ওপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মস্তক থাকায় আমি নড়াচড়া করতে পারিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.