বামাচরণ ভট্টাচার্য

বামাচরণ ভট্টাচার্য। বারাসত-চব্বিশ পরগনা। রামকমল শিরোমণি। জন্মসূত্রে সঙ্গীতের কোন উত্তরাধিকার লাভ না করলেও স্বপ্রতিভায় যন্ত্রসঙ্গীতের এক ঐতিহ্য সৃষ্টি করেন। প্রথম জীবনে বংশের ধারা অনুযায়ী শাস্ত্রীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হন। ব্যাকরণ ও দর্শনশাস্ত্র পড়ে বেদ অধ্যয়নের জন্য কাশীতে যান। পরে ন্যায়শাস্ত্ৰে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। অল্পবয়স থেকে সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ থাকলেও শেখার তেমন সুযোগ পাননি। পরে যাজনিক বৃত্তির সূত্রে সেকালের কয়েকটি সঙ্গীতপ্ৰেমী ও সঙ্গীতজ্ঞ জমিদার পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ঘটে এবং তাদের কয়েকজনের সহায়তায় তিনি সুরবাহারবাদক মহম্মদ খাঁ, বীণকার ওয়ারিস খা, সেতার ও সুরবাহারের ওস্তাদ সাজাদ মহম্মদ, রবাবী বাসৎ খাঁ, ধ্রুপদী যদুভট্ট, খেয়াল-গায়ক আহম্মদ খাঁ, ঠুংরী-গায়ক ছন্নি খাঁ, হিঙ্গনজান বাঈ ও দিলজান বাঈ-এর কাছে শিক্ষার সুযোগ লাভ করেন। তাঁর শিক্ষা-গুরুদের মধ্যে মহম্মদ খাই প্ৰধান। তিনি নিজে সেতারযন্ত্র তৈরি করতে পারতেন। আসরে নিজের তৈরি সেতারই তিনি বাজাতেন। সঙ্গীত-জীবনকে তিনি কখনও অর্থকরী বৃত্তি করে তোলেন নি। তাঁর পুত্র ও শিষ্য জিতেন্দ্রনাথও সর্বভারতীয় সঙ্গীতক্ষেত্রে একজন প্রথম শ্রেণীর সুরবাহার ও সেতার-বাদক ছিলেন। জিতেন্দ্রনাথের পুত্ৰ লক্ষ্মণ অকালে মৃত্যুকবলিত হলেও প্রতিভাবান সেতারী-রূপে সুপরিচিত হয়েছিলেন এবং কৃতী শিষ্যমণ্ডলী গঠন করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *