এলবিয়ন রাজকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, স্যার

এলবিয়ন রাজকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, স্যার (১৮৭১ – !) বরাহনগর-চব্বিশ পরগনা। সেবাব্রতী শশিপদ।। ইংল্যাণ্ডের ব্রিস্টল শহরে মিস কার্পেন্টারের গৃহে জন্ম। মাতা রাজকুমারী ভারতবর্ষীয় মহিলাদের মধ্যে প্রথম ইংল্যান্ড যান। এলবিয়ন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ সম্মানের সঙ্গে বি-এ, ১৮৯২ খ্রী. অক্সফোর্ড বেলিয়াল কলেজ থেকে এম.এ ও ১৮৯৫ খ্রী. সিভিল সার্ভিল পরীক্ষায় পাশ করে মাদ্রাজে অ্যাাসিস্ট্যান্ট কলেক্টর, ও পরে সাব-কলেক্টর পদে অধিষ্ঠিত হন। কর্মকুশলতার জন্য ‘Tiger in the Service’ নামে প্ৰসিদ্ধিলাভ করেছিলেন। ১৯০৭ খ্রী. থেকে ৭ বছর কোচিন রাজ্যের দেওয়ান ছিলেন। ‘কোচিন টেনান্সি বিল’ তারই চেষ্টায় পাশ হয়। কোচিনীদের শিক্ষার উন্নতিবিধান করেন। কোচিনে বিচার বিভাগ থেকে একজিকিউটিভ বিভাগকে স্বতন্ত্র রাখার রীতি ও পঞ্চায়েতের বিচার-নিষ্পত্তির বিধি প্রবর্তন তার অন্যতম কীর্তি। কোচিন থেকে ফিরে ১৫ মাস কাদাপার কলেক্টর-পদে ছিলেন। ১৯১৬ খ্রী. মহীশূর রাজদরবারের কার্যে নিযুক্ত হয়ে একজিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য হন। এই সূত্রে তিনি এ রাজ্যের বিভিন্ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত হয়ে প্ৰত্যেক বিভাগেরই সংস্কার ও উন্নতিবিধান করেন। কাবেরীর জলে কৃষিক্ষেত্রের সুষ্ঠা সেচব্যবস্থা এবং রাজ্যের পূর্তবিভাগের আমূল সংস্কার ও তার উন্নততর কার্যপ্ৰণালীর প্রবর্তন করে খ্যাতিলাভ করেন। রাজসাহায্য দান করে তিনি রাজ্যে চিনি ও দেশলাই-এর কারখানা, তুলার কাল ও অন্যান্য শ্রমশিল্পাগার স্থাপন করে রাজ্যের শ্ৰীবৃদ্ধি করেছিলেন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি ব্রিটিশ ভারতের অনুসরণে মহিশূর রাজ্যে প্রজাসাধারণের প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্বপূর্ণ শাসন প্রবর্তন (১৯২২)। ঐ বছর ‘দশারা’ দরবারে মহারাজা তাঁকে খিলাত সহ ‘রাজমন্ত্রী ধুরীণ’ এই প্রথম শ্রেণীর উপাধি দ্বারা সম্মানিত করেন। ১৯২৯ খ্রী. মহীশূরের দেওয়ানী পদ ত্যাগ করে কিছুদিন ইউরোপ ভ্ৰমণে যান। ফিরে এসে কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্ৰহণ করেন। ভারত সরকার তাকে সি.আই.ই., সি.এস.আই., এবং ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *