অশ্বিনীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় (২৪-১০-১৮৬৬ — ৮-৫-১৯৪৫) কলিকাতা। মহেশচন্দ্ৰ। শিক্ষা সেন্ট জেভিয়ার্স, ডভটন ও ফ্রীচার্চ কলেজে। ১৮৮৬ খ্রী. বিলাত যাত্রা করেন। ইণ্ডিয়া ক্লাবের সভায় তৎকালীন ইংলণ্ডের মন্ত্রী লর্ড নৰ্থবুকের সঙ্গে পরিচয় হয়। বিলাতেই সুরেন্দ্রনাথের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় ঘটে। ১৮৯১ খ্ৰী. ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফেরেন। কলিকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায় শুরু করেই বিশেষ করে ফৌজদারী মকদ্দমায় খ্যাতিমান হন। রাজনীতিতে অংশগ্রহন করে তৎকালীণ নেতাদের কার্যক্রমে বীতশ্রদ্ধ হয়ে ‘ইণ্ডিয়ান মিরর’ পত্রিকায় পরপর কয়েকটি চিঠিতে তাঁদের সমালোচনা করেন। রাজনীতি ক্ষেত্রে তাঁর পরিচয় বাঙলার শ্রমিক আন্দোলনের জন্মদাতারূপে। প্রথমেই কলিকাতা থেকে বজবজ পর্যন্ত সমস্ত চটকলের শ্রমিকদের নিয়ে পঞ্চাশ হাজার সদস্যবিশিষ্ট ‘মিল ইউনিয়ন’ সৃষ্টি করেন। মাসে দুতিনবার মিল অঞ্চলে শ্রমিকদের কাছে সমাজতন্ত্রের মূলনীতি ব্যাখ্যা করে বক্তৃতা দিতেন। সরকারী ছাপাখানায় ধর্মঘট উপলক্ষে ‘প্ৰিণ্টার্স ইউনিয়ন’ গড়ে তোলেন। সঙ্গী ছিলেন রাজা সুবোধ মল্লিক ও ব্যারিস্টার অ্যাথানেসিয়াস অপূর্ব ঘোষ। রয়্যাল ইণ্ডিয়ান মেরিন ডক ধর্মঘটেও নেতৃত্ব করেন। এই দুই ধর্মঘটের প্রয়োজনে কলিকাতা শহরে শোভাযাত্রা করে দ্বারে দ্বারে অর্থ-সংগ্রহের পরিকল্পনাও তার। ই আই রেলের আসানসোল ধর্মঘটেও নেতৃত্ব দেবার জন্য প্রেরিত হন। ব্যারিস্টার মি, র্যামফিল্ডের সঙ্গে তোলেন। বাঙলার বিখ্যাত অনুশীলন সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-সভাপতি এবং একুশ বছর কলিকাতা কর্পোরেশনের সদস্য ছিলেন। পুরনো আইনে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্য মনোনীত হন। সিআইটিট্রাইবুনালের সদস্য এবং পৈতৃক গ্রাম আড়বন্দী ইউনিয়ন বোর্ডের (নদীয়া) সদস্য ছিলেন ছ’বছর। কর্পোরেশন প্রতিনিধিদের ক্লাবের স্রষ্টা। সারাজীবন ইংরেজ রাজপুরুষগণের সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে তার বহু ইংরেজ বন্ধু ছিলেন। ১৯৩১ খ্রী. তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর গ্ৰহণ করেন।

Share This