২৪. সমুদ্রে স্নান

–হ্যালো, জেন্টলম্যান, সমুদ্রে স্নান করলেন?–মাদাম ভারসোয়া গেটের মুখে দাঁড়িয়ে।

–না, তবে জাস্ট সান-বাথ।

আর কোনো কথা না বলে বন্ড তার ঘরের দিকে চলে যায়।

মাদাম ভারসোয়া উন্মুখ হয়ে বন্ডের দিকে তাকিয়ে থাকে।

ঘরে ঢুকে বন্ড বিস্মিত। একী! তার জিনিসপত্র টিপটপ করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। যেখানে যেটা থাকা উচিত। এমনকি বেসিনে টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, শেভিং আইটেমস, সোপ, আফটার-বাথফ্র্যাগারান্স–যেখানে যা থাকা দরকার। বাথটবে পর্যন্ত জল ভর্তি। শাওয়ার খুলে দেখল বন্ড। না, ঠিকই আছে।

ভেসপারের ঘরের দরজা খুলে উঁকি মারতেই টেবিলের ওপর চোখে পড়ল একটা স্লিপিং পিলের ছোটো শিশি। তার মানে ভেসপার এখন মানসিক অস্থিরতায় আক্রান্ত।

–ভেসপার।–বন্ড ডাকে।

ভেসপার ঘুমিয়ে পড়েছিল। দারুণ দেখাচ্ছে যেন ওকে।

বন্ড আবার ডাকে–ভেসপার। ভেসপার।

ভেসপার উঠে বসে।

বন্ড বলে–আচ্ছা, তোমাকে এত কষ্ট করে আমার জিনিসপত্র কে গুছিয়ে দিতে বলেছে?

একটা হাই তুলে, স্কার্টটা ঠিক করে ভেসপার বলে আমি তোমার সর্বক্ষণের সঙ্গী। তোমার দেখাশোনার দায়িত্ব আমার। আর কিছু?

বন্ড মৃদু হেসে ঘাড় নাড়ে।

ভেসপার বলে–যাও, তাড়াতাড়ি স্নান করে এসো। আমার ভীষণ খিদে পেয়েছে। ঐ মেয়েটা মনে হয় আজ দারুণ সব রান্না করেছে। কিছুক্ষণ আগে আমি গন্ধ পাচ্ছিলাম।

এখন ওরা ডাইনিং টেবিলে। যদিও লাঞ্চের সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। এবং ওদের ডাইনিং টেবিল বাইরের লনে। ডাইনিং টেবিলের ওপর শ্যাম্পেনের দুটো বোতল। মেটে দিয়ে বানানো হয়েছে একটা কারি, মাখনে ভাজা রুটি, মাখনের কিউব, বরফের কিউব। আর রয়েসে সস, কিছু কাটা ফ্রুটস। মিনারেল ওয়াটার।

প্রথম মিনিট দুই ওরা যেভাবে খাবার গলাধঃকরণ করল; দেখে বোধ হবে, ওরা বোধহয় কয়েকদিন খায়নি।

বন্ড একবার দুটো গ্লাসে শ্যাম্পেন ঢালল। চুমুক দিয়ে বলল–কেমন লাগছে?

–ভালোই। তবে মনে হয় ভেসপার মি. জেমস বন্ডের ঠিক যোগ্য নয়।

–হঠাৎ এরকম মনে হওয়ার মানে?

শ্যাম্পেনের গ্লাসটা খালি করে ভেসপার বলে–না মানে, এই যে কাজের জন্য আমি সর্বক্ষণের সঙ্গী তোমার, সে কাজ ফুরিয়ে গেলে আমাদের রাস্তা আবার দুদিকে চলে যাবে। এই দেখনা। দীর্ঘকাল কেউ একসঙ্গে থেকেও একসময় তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে।

-তুমি কি আমার সঙ্গে…।

বন্ড থেমে যায়। না, মনের সব কথা কোনো সুন্দরী মহিলাকে সবসময় উচিত নয় বলা।

বন্ড শুধু বলে–ও. কে., ও. কে.। রিল্যাক্স। আগে তো পেটভরে খেয়ে নাও। পরে আমরা আমাদের কাজের বিষয় ও অন্যান্য সবকিছু নিয়ে ফ্রিলি আলোচনা করব।

বলে বন্ড ভেসপারের গ্লাসে আবার শ্যাম্পেন ঢেলে দেয়।

ওদের খাওয়া শেষ হয়। বয় এসে খাবারের প্লেট, বোতল সব তুলে নিয়ে যায়।

বন্ড বলে–চল, সমুদ্রের ধার থেকে ঘুরে আসি।

সমুদ্রের ধারে বসে, কিছুক্ষণ শুয়ে ওরা অনেকক্ষণ গল্প করল।

বন্ড শুয়ে শুয়ে সিগারেট টানছিল। ভেসপার বলে–কী ভাবছ?

সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে বন্ড বলে–ভাবছি বিগত কয়েকটা দিনের কথা। কীভাবে যে আমি বেঁচে ফিরলাম। সত্যি আশ্চর্য! এখনও কাজ বাকি আছে।

বন্ডের চুলে হাত বোলাতে বোলাতে ভেসপার বলে–কী কাজ? কোনটা?

–যথাসময়ে জানতে পারবে।–বলে বন্ড হাতঘড়ির দিকে তাকায়।

রাত আটটা।

খুব ভোরে ঘুম ভাঙল বন্ডের। সিগারেট ধরিয়ে জানলার সামনে দাঁড়াল। ভোরের সূর্যের রঙে সমুদ্রের এ এক অন্য রূপ। প্রকৃতির এ রূপকে বন্ড অগ্রাহ্য করতে পারল না।

ভেসপার এখনও ঘুমোচ্ছে। ওর সম্বন্ধে আজকেই একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাকে। থাক, ঘুমোক ভেসপার। ওর ওপর দিয়েও তো কম অত্যাচার হয়নি।

না, আর দেরি নয়। এরপর দেরি করলে প্রকৃতির এই রূপদর্শন থেকে সে বঞ্চিত হবে।

সুইমিং কমটা হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে বন্ড সমুদ্রের উদ্দেশে।

বন্ডের পা এখন সমুদ্রের জলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *