২৩. বন্ড ও ভেসপারের ঘরের মাঝখানে বাথরুম

বন্ড ও ভেসপারের ঘরের মাঝখানে বাথরুম। ভেসপারের ঘর ডবল বেড রুম। ভেসপারের ঘরের বাইরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বন্ড, ভেসপার এবং প্রোপ্রাইটর। প্রোপ্রাইটর পরে আসবে জানিয়ে চলে যায়।

প্রোপ্রাইটর চোখের বাইরে চলে গেলে দরজায় গায়ে হেলান দেওয়া বন্ড এবার ভেসপারের দিকে তাকায়।

ভেসপারও তার দৃষ্টি বন্ডের দৃষ্টির সাথে আটকে নেয়।

বন্ড ভেসপারের সারা শরীরটার দিকে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে নেয়। ভেসপারের উদ্ধত বুকের দিকে বন্ডের দৃষ্টি কয়েক সেকেন্ডের জন্য আটকে যায়। তাবপর সে সোজা হয়ে দাড়িয়ে ভেসপারকে কাছে টেনে নিয়ে প্রথমে দুই গালে চুমু দেয়। এরপর–

বন্ড একহাতে দরজাটা বন্ধ করে অন্য হাতে ভেসপারকে টেনে নিয়ে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে।

চুম্বন-প্রদান নতুন করে শুরু হল। বন্ড ভেসপারের নিম্ন ওষ্ঠটি এবার নিজের দুই ওষ্ঠের মধ্যে রাখে। ভেসপারও বন্ডকে প্রবল কামনায় জড়িয়ে ধবে।

ওরা দুজনে আলিঙ্গনাবদ্ধ। বন্ড বলে–আজকে আমাদের সুখ, আনন্দে ডুবে যাবার এক স্বর্গীয় স্থান পেয়েছি। ডারলিং, মাই সুইট ডারলিং–

কামনাতাড়িত ভেসপারের চোখ জ্বলছে।

বন্ড এবার আরও জোরে ভেসপারের দেহটা দুই বাহু দিয়ে নিজের শরীরের সাথে চেপে ধরে। আবার চুম্বন দিতে দিতে বন্ড এবার তার মুখ ধীরে ধীরে নীচের দিকে নামাতে থাকে। বুকের স্তনযুগলের মাঝে এখন বন্ডের মুখ। বন্ড বাঁ হাত দিয়ে ভেসপারের জামার চেনটা টেনে দেয়।

ভেসপার এখন স্মার্ট, সপ্রতিভ। বন্ডের ভালোবাসার উত্তর দিতে তার এখন কোনো জড়তা নেই। সে-ও এবার বন্ডকে দাঁড় করিয়ে তার টাই, জামার বোম খুলে দিচ্ছে। এবং

ভেসপার নিজের জামাটা খুলে ফেলে। বন্ডকে নিয়ে বিছানার দিকে এগিয়ে যায়। বন্ডের মাথাটা ধরে তার দম্ভভরা দুই স্তনের মধ্যে চেপে ধরে। ভেসপারের পরনে শুধু রঙিন ব্রেসিয়ার।

আস্তে আস্তে সে বন্ডকে নিয়ে বিছানায় চলে আসে। কিন্তু–

বুকে মুখ ঘর্ষণরত বন্ড আচমকাই ভেসপারকে ছেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। তারপর ভেসপারের দিকে তাকিয়ে বলে–সরি ডারলিং। এখনই না–

ভেসপারের মুখটা শুকিয়ে যায়। কেন? বুঝতে পারে না সে।

ওরা উভয়ই উভয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু প্রত্যেকের শরীরের মধ্যে বয়ে চলেছে দেহজ কামনার নীরব ঝড়।

বন্ড ঝুঁকে পড়ে ভেসপারের ঠোটে, বুকে ঘনঘন চুম্বন এঁকে দিল। ৩বিপর একটা লম্বা শ্বাস ফেলে কী যেন খুঁজতে লাগল।

–কী খুজছ?

–আমার ব্যাগটা। এর মধ্যে আমার সিগারেট আছে।

ভেসপার উঠে বন্ডকে নিজের ব্যাগ থেকে একটা সিগারেট দিল। তারপর নিজেও নিল। লাইটাব জ্বেলে সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করল।

ঘরের জানলাটা খুলে ভেসপার বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। একটা হাত তুলে জানলার বিটের ওপর বাখে, অন্য হাতে সিগারেট টেনে চলেছে সে।

ভেসপারের পরনে এখন শুধু ব্রা আর প্যান্টি। কোমরের খাজ পিছন থেকে আরও চিত্তাকর্ষক মনকে মাতাল করে তোলে।

সিগারেট টানতে টানতে বন্ড বিছানায় গিয়ে বসে। এক দৃষ্টিতে ভেসপারকে সে লক্ষ করতে থাকে। ভেসপারও সেটা বুঝতে পারে। না বোঝার কিছু নেই।

বন্ডের মুখে জ্বলন্ত সিগারেট, প্রায় শেষ হয়ে আসছে। উত্তেজনায় ঘন ঘন টান দিচ্ছে সে। বন্ড টাই, জামা সব খুলে ফেলে। উঠে দাঁড়ায়। দুপা এগিয়ে আসে। সিগারেটটা ঘরে রাখা অ্যাশ ট্রেতে গোঁজে। তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় ভেসপারের দিকে।

পিঠের ওপর ব্রেসিয়াবের স্ক্রিপে হাত রাখে। এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে ভেসপারকে। সবল হাতেব আলিঙ্গনে ভেসপারের যৌবনপুষ্ট দেহটা সামান্য কেঁপে ওঠে। ঠোঁট থেকে সিগারেটটা পড়ে যায়। বন্ড তার ঠোঁট রাখে ভেসপারের নগ্ন কোমল কাঁধে। ব্রেসিয়ারের হুক খুলে দেয়। তারপর–

না। এবার নিজেকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিল ভেসপার। বন্ডকে অবাক করে দিয়ে সে এক ঝটকায় ব্রেসিয়ারটা খুলে ফেলে দিল। পাগলের মতো বলে উঠল–কাম অন, কাম অন ডারলিং!

মুগ্ধ বিস্ময়ে বন্ড তাকিয়ে রইল ভেসপারের দিকে। ভেসপারের চোখ নয়, যেন তার গর্বোদ্ধত স্তনদ্বয় তাকে সুখক্রীড়ায় নীরব আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। ভেসপার বন্ডের একটা হাত তুলে তার নিজের বুকের ওপর রাখে।

একী! বন্ড কাঁপছে। দুর্দম, কঠিন জেমস বন্ডের হাত কাঁপছে কেন? কপালে ঘাম ফুটে উঠছে। চরম আবেগে ভেসপার জড়িয়ে ধরে বন্ডকে। বন্ডের নগ্ন বক্ষে এখন ভেসপারের শরীরের এক পরম সুখসম্পদ গভীরভাবে ঘসে চলেছে। বন্ডও এখন পাগল হয়ে গেছে।

ভেসপার বলে–বিছানায় চল। এখানে নয়।

বন্ড ওর দুই স্তনের মাঝে মুখ বেখে বলে–এখন নয় ডার্লিং। আমি তো তোমার সঙ্গেই আছি।

বন্ডের দুই হাত ভেসপারের কাঁধে। ভেসপার ওর এক হাত বন্ডের এক হাতের ওপর রেখে অন্য হাতের আঙুল দিয়ে বন্ডের বুকে আলপনা আঁকতে আঁকতে বলে–বেশ, তুমি যা বলবে। এক কাজ করো। তুমি তোমার ঘরে যাও। আমি ততক্ষণ স্নান সেরে আসি। তারপর তুমি।

ভেসপারের ঘর থেকে বেরোতে গিয়েও দরজার কাছে এসে বন্ড আবার ঘুরে দাঁড়াল। ভেসপার ততক্ষণে গায়ে তার জামাটা দিয়ে জড়িয়ে নিয়েছে। বন্ড ডাকল–ভেসপার, ডারলিং–

ভেসপার ঘাড়টা সামান্য ঘোরাল। বন্ড দেখল, ভেসপারের চোখ দুটো ভিজে উঠেছে। বন্ড এগিয়ে গিয়ে ওকে আবার গভীরভাবে চুমু খেল। কোনো কথা বলল না কেউ। তারপর দরজা খুলে চলে এল নিজের ঘরে।

বন্ড এখন নিজের ঘরের বিছানায় টান টান হয়ে শুয়ে আছে। সে ভাবছে, এখন কি সে সমুদ্রস্নানে যাবে, নাকি ভেসপারের কাছে? ভেসপার যে তাকে এখনই সব দিতে চেয়েছিল। ভেসপারের সারা দেহ কামনার আগুনে ভীষণভাবে জ্বলছিল। কিন্তু বন্ড কেন জানিনা ভীষণ টায়ার্ড ফিল করছে। তার কাছে তো ভেসপার সহজলভ্য হয়ে উঠেছিল। তবে?

–চল। ঘরে যাওয়া যাক।–বন্ড ভেসপারকে বলে।

ভেসপার বন্ডের দিকে এক ঝলক দেখে নিয়ে মুখটা ফিরিয়ে নেয়।

বন্ড তা বুঝতে পারে। বলে–ভেসপার, এখন অভিমান করে থেকো না। চল, ঘরে গিয়ে আমরা বসে কফি খাব।–বন্ড ওর একটা হাত ধরে।

কফি খেতে খেতে ঘরে বসে জানলা দিয়ে ওরা রহস্যময়ী সমুদ্রের ক্রীড়াশৈলী দেখছিল।

কফিতে চুমুক দিয়ে বন্ড বলে–একটা ব্যাপার লক্ষ করেছ ভেসপার?

–কী?

–ওই যে সমুদ্র; এত গর্জন, এত আস্ফালন–দেখো, শেষ পর্যন্ত এক জায়গায় এসে তাকে মাটির সাথে মিশে যেতে হচ্ছে। সত্যি, ভাবতেও বেশ লাগে।

ভেসপার হেসে ওঠে। তারপর চেয়ারের পিছনে এসে বন্ডের দুই কাঁধে হাত রেখে সে বলে–রিয়েলি! তুমি যেন কবি হয়ে উঠছ।

বন্ড সিগারেট ধরায়। তারপর চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে জানলার কাছে দাঁড়ায়।

সমুদ্রের দৃশ্য। সমুদ্রের ওপর মুক্ত নীল আকাশের নীচে সামুদ্রিক পাখির দল তাদের ডানা মেলে আনন্দে মাতোয়ারা যেন। সমুদ্রের ধ্বনির সাথে পাখিদের কলতান মিশে অন্য এক সংগীতের সৃষ্টি করেছে।

ভেসপার বলে–আমি চললাম নিজের ঘরে। যাই, স্নানটা সেরে নিই।

বন্ডের দৃষ্টি ধরে রেখেছে সমুদ্র ও নীলাকাশ। হাতে সিগারেটটা পুড়ে চলেছে।

—কী হল? কী ভাবছ?

চমকে ওঠে যেন বন্ড। ঘাড় ঘুরিয়ে ভেসপারের দিকে তাকাতেই তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়–ভাবছি, সমুদ্রের সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলা করে আসি।

–হোয়াট? খেলা করবে মানে?

–মানে… ঘুরে দাঁড়িয়ে সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বন্ড হেসে বলে বুঝতে পারলে না। চল, আমরা দুজনে স্নান করে আসি।

ভেসপার বলে না তুমি যাও। আমার এখন সমুদ্রস্নানের মুড নেই। আমি বাথরুমেই স্নান করে ফ্রেশ হয়ে নিয়ে রেস্ট নেব কিছুক্ষণ।

–ও. কে.। অ্যাজ ইউ লাইক।

ভেসপার নিজের ঘরে চলে যায়।

বন্ড অ্যাশট্রেতে সিগারেটটা খুঁজে স্যুটকেসটা খুলে সুইমিং কমটা পরে তার ওপর একটা গাউনমতো চাপিয়ে বেরিয়ে পড়ে ঘর থেকে।

সি-বিচের ওপর দিয়ে বন্ড হেঁটে চলেছে। চারদিক তাকিয়ে দেখল ভালোভাবে–না, ওর দৃষ্টিতে কোনো সমুদ্র দর্শনার্থী বা স্নানার্থীকে চোখে পড়ছে না। কোমরে হাত দেয় বন্ড বেখেয়ালে। না, মনে হয়, ছোটো যন্ত্রটির কোনো প্রয়োজন নেই এখানে।

আবার হাঁটতে শুরু করে বন্ড। সমুদ্রের ঢেউ এসে তার হাঁটু পর্যন্ত ভিজিয়ে দিয়ে চলে যায়। জল পিছন দিকে সরে যাবার সময় মনে হচ্ছে যেন, পা বোধহয় বালির মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। মন্দ লাগছে না।

বন্ড এখন সি-বিচের ওপর শুয়ে। পাশে গাউনটা রাখা আছে।

ভেসপারের কথা হঠাৎ মনে আসে তার আরও নানা চিন্তার মধ্যে। বন্ড ভাবে–ভেসপার আসলে কী চায়? ওব ইচ্ছেটা কী? যদিও এসব প্রোফেশনে ভেসপাররা কোনোদিনই পার্মানেন্ট নয়। যদিও সে যথেষ্ট বুদ্ধি ধরে, অন্যের সুখ-দুঃখের প্রতিও তার দৃষ্টি আছে। সে যাই হোক না, বন্ড তার কাছে প্রয়োজন ছাড়া খোলামেলা হবে না। তাতে বন্ডেরই অনেক সময় সুবিধে হবে।

প্রায় মিনিট দশেক পর বন্ড চোখ মেলল। সূর্যের তেজ কমতে শুরু করেছে। কিন্তু সমুদ্রের গর্জন অব্যাহত। দাঁড়িয়ে এক সুব, আর সমুদ্রের কোলে শুয়ে অন্য এক রিদ কানে বাজে।

উঠে বসে বন্ড। নাঃ, আর স্নান করবে না সে এখানে। বরং, হোটেলে ফিরে গিয়েই স্নানটা করা যাবে। ভেসপার নিশ্চয়ই এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে।

হোটেলের দিকে হাঁটা শুরু করে বন্ড। গাউনটা হাতে নিয়ে নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *