১৩. ঘোষণা হল

ঘোষণা হল আবার জমা পড়েছে তিন কোটি কুড়ি লক্ষ।

ল্য শিফ টেবিলে চাপড় মারল।

বন্ড এখন আবার সতেজ। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে। অবশ্য শরীর এখনও ঘামে ভিজে আছে।

দশ মিনিট বিরতি দেওয়া হয়েছিল।

এখন রাত দুটো।

একজন বলল–লালের ন’নম্বর জিতেছে।

রোমহর্ষক স্তব্ধতা। তাস টানাটানি, উলটে দেখা চলছে।

এখন টেবিলে বন্ডের তাস : দুটির গোলাপি পিঠ–আরেকটা হরতনের নয়। দুই বিবি সবুজ কাপড়ে ঢাকা। ব্যাংকারের নাক বেয়ে ঘাম ঝরছে। ল্য শিফের মুখে ধূর্ত হাসি। সবাই ধরে নিয়েছে বন্ডের অবশ্য পরাজয়।

কুপিনের কাঠের হাতা এগিয়ে দিল।

তাস উলটে দিল বন্ড–আঃ, দুই লালবিবি হাসছে।

ল্য শিফ চেয়ারে এলিয়ে পড়েছে। মনে হবে কেউ যেন ওর বুকে ছুরি মেরেছে।

ক্রুপিয়ের হাঁক দিল–এক কোটি জমা পড়েছে।

বন্ড সিগারেট ধরিয়ে দেখল পাশে একটা গোলাম। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। চোঁ চোঁ করে এক গেলাস উড়িয়ে দিল সে।

ডাকাতির পাহাড় জমে উঠেছে।

পরের দান নয় উঠতেই ল্য শিফ উঠে পড়ল। বন্ডও উঠে দাঁড়াল। অজস্র ধন্যবাদ বর্ষিত হচ্ছে। ক্যাসিনোর ডাইরেক্টরদের পক্ষ থেকে তার নিমন্ত্রণ এল। টেবিলে এবার নোটের পাহাড়।

মোট সাতকোটি ফ্রাঁ!!

ফেলিক্সের টাকা বন্ড ক্যাশে নিল, বাকি প্রায় চার কোটি চেকে। ডাইরেক্টররা বললেন–কাল সন্ধেবেলা আসছেন তো!

বন্ড হ্যাঁ বা না, কিছুই পরিষ্কার বলল না।

নিভৃতে আসার পর লিটার বলল–তোমার কান্ড দেখে আমরা তাজ্জব। পরে অবশ্য বুঝেছি। রিভলবারধারী ছড়ি ফেলে পালিয়েছে। এই দেখ ওর বুলেট! যাক সব ভালো যার শেষ ভালো। ল্য শিফকে মারাত্মক শিক্ষা দিয়েছ তুমি!

বন্ড হেসে বলল–আসলে তোমার দেওয়া খামের জয়। দুঃসময়ে প্রকৃত বন্ধুর কাজ করেছ। এর প্রতিদান দেব নিশ্চয়ই!

ভেসপার লিন্ডকে বন্ড বলল–চলো, নাইট ক্লাবে। একটু শ্যাম্পেন খেলে ভালো লাগবে।

–চলুন, টাকাটা রেখে আসুন। আমি একটু ফ্রেশ হয়ে নিই।

ওরা দুজন এরপর বেরিয়ে পড়ল। বাইরে জ্যোৎস্না।

বন্ডের ঘর ঠিকঠাক আছে।

বাথরুমে গিয়ে মুখে জলের ঝাঁপটা দিয়ে কুলকুচো কবল বন্ড। হ্যাঁ, ভল্ট খেতে গিয়ে মাথার পেছনে একটু চোট লেগেছে। ডান কাঁধেও।

একদিনে দুবার মরণের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সোজা কথা নয়।

রাতেও এক আক্রমণ অপেক্ষা করছে।

নাকি ল্য শিফ পালিয়েছে, জাহাজে পাড়ি দিয়েছে অন্যকোথা। স্মার্শ তো ওকে ছাড়বে না।

দরজায় তালা লাগিয়ে এবার বাইরে এল সে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *