০৯. কথাবার্তা জমে উঠেছে

খাওয়া শেষ হয়নি। কথাবার্তা জমে উঠেছে।

বন্ড বলল–আপনিই বলুন না গল্পটা।

–বেশ। শুনুন, তৃতীয় বুলগেরিয়ানটা অ্যারেস্টেড হয়েছে। প্যারিসে পালাতে চাইছিল। পথে দুজন ইংরেজকে গাড়িতে তুলেছিল। সে একজন পুলিশকে মাথায় গুলি করে মেরেছে। অপরজন ওকে পাকড়াও করেছে। সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল, পারেনি। পরে রুয়েনে নিয়ে গিয়ে ওর সব কথা পেট থেকে বের করা হল।

–কী কথা?

–ওদের দল ফ্রান্সে নানারকম স্যাবোটেজের কাজ করে। আরও দল আছে ওদের। আপনাকে খুন করার জন্য ওদের কুড়ি লাখ ফ্লা দেওয়া হবে ঠিক হয়েছিল।

–তারপর?

–হ্যাঁ, তারপরেই আসল কথা। এজেন্ট ওদের দুটো ক্যামেরা কেস দেয়— লাল-নীল রং–আপনি দেখেছেন সেগুলো। নীল কেসে স্মোক্ বোম, লাল কেসে আসল বোমা। ওদের প্ল্যান ছিল, বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া সৃষ্টি করে পালাবে। কিন্তু আসলে ওরা জানত না–দুটি কেসেই বিস্ফোরক বোমা আছে। লাল-নীলে তফাত নেই।

বন্ড চমৎকৃত– তারপর?

–আসলে বুলগেরিয়ানরা কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। আগে ধোঁয়া বোমা এবং পরে আসল বোমাটা ছুড়বে ভেবেছিল। কিন্তু ধোঁয়া বোমা বলে কিছু ছিল না। দুটোই ছিল বিস্ফোরক বোমা। সুতরাং দুজনেই খতম।

–তিন নম্বর লোকটা কী করল?

–সে যখন দেখল ধরা পড়ে গেছে, পুলিশ ওকে না-ফাটা লালরঙা বোমাটা দেখাল, তখন ও সবই বলে দেয়। তবে এখনও জেরা চলছে, তবে সে ল্য শিফের নাম শোনেনি।

বন্ড বলল–তাহলে আমাকে খুন করতে এসে খুনিরাই মারা গেল। মজা এই যে, নিজেরাই নিজেদের মারল। ম্যাথুস খুশি হবে, পাঁচজন শত্ৰু চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে খতম!…. যা হোক, এবার বলো, এই লাইনে তুমি কী করে এলে? কোনো বিভাগে করছ?

–আমি হেড অব এস-এর পি. এ.। যোগাযোগ রাখার কাজ!…. আচ্ছা, আপনি নাকি এসব কাজে কোনো মেয়েকে দেখালে রেগে যান?

বন্ড চুপ করে রইল।

লিন্ড জানাল, সে ম্যাথুসের সঙ্গে প্যারিসে কাজ করেছে। বলল— আপনাকে কিন্তু সবাই হিংসে করে।

–কারণ?

–কারণ, আপনি আমাদের হিরো।

বন্ড ভাবল, এই হচ্ছে ডবল জিরোর ইমেজ! খুন করার বাহাদুরি। আমি দুটো খুন করে এই পজিশন পেয়েছি–নিউইয়র্কে এক জাপানি জ্যোতিষী, আর স্টকহোমে এক নরোয়েজিয়ান ডবল এজেন্টকে।

বন্ড বলল—আমি এখানে এসেছি সম্পূর্ণ কাজের উদ্দেশ্যে। কাজের নানাদিক আছে, নানারকম সম্ভাব্য ফলাফল আছে।

সেসব বোঝাবার সময় দ্বিতীয় দফায় খাবার এল। বন্ডকে একটু কঠোর লোক বলেই মনে হচ্ছে তার। বস বলেছিল–বন্ড কাজ-পাগলা লোক। কাজেই প্রধান ওর কাছে, অন্য দিকে বেশি মন নেই। তবে সুন্দর চেহারা, ওকে দেখে অনেকেই ভালোবেসে ফেলবে। মনে রেখো, ওর হৃদয় বলে কিছু নেই।

লিন্ড তাই এই বন্ড-এর সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারটা চ্যালেঞ্জের মত নিয়েছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে বন্ডের গলার সুরে সে কিছুটা আহত।

বন্ড বলল–আসল কথা লাক! পক্ষে বা বিপক্ষে দুদিকেই ভাগ্য থাকা চাই। সংক্ষেপে প্ল্যানটা এই :

… আজ রাতে ল্য শিফ ইজিপ্সিয়ান সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ব্যাংক কিনে নিয়েছে। দাম দিয়েছে দশ লক্ষ ফ্রাঁ। ওর ক্যাপিটাল এখন কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র দুকোটি চল্লিশ লক্ষ। আমারও মূলধন প্রায় তাই। খুব সম্ভব দশজন খেলবে আজ।

.. টেবিলটাকে দুভাগে ভাগ করা হবে। বয্যালে বাকীরা প্লেয়ারদের সংখ্যা কম। ওদের জেতার সম্ভাবনা কম, কিন্তু একটা সুবিধে আছে। মাঝখানে ব্যাংকার বসে। একজন পার্টনার ডাক দেয়

বন্ড তাসখেলার বিশদ তাৎপর্য ও কায়দাগুলো বোঝাল। সঙ্গে ব্যাংকারের ভূমিকাও বুঝিয়ে দিল। কীভাবে ব্যাংকার দান ও টাকার পৰিমাণ ঘোষণা করবে, এক নম্বর টাকা ফেলবে, দু-নম্বর পাশ দেবে, সারা টেবিল ঘুরবে। দর্শকরাও অংশ নিতে পারে। অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু হয়, ক্রমশ টাকার অঙ্ক বাড়তে থাকে। দশ বা কুড়ি লাখের মাথায় বন্ড যোগ দেবে। সমান সমান টাকা দিয়ে খেলা শুরু হতে পারে।

এবার কফি এল।

কথাবার্তায় বন্ড এখন পুরো পেশাদার। পয়েন্ট পাওয়া, ব্যাংকারের তাস পাওয়া,নয় সংখ্যাটার গুরুত্ব, টেক্কা এক, কিন্তু ছবিওয়ালা তাসগুলোর দাম নেই–ইত্যাদি ইত্যাদি।

মিস লিন্ড সুবাধ্য ছাত্রীর মতো বোঝার চেষ্টা করছিল।

–যে নয়ের কাছে আসবে সেই জিতবে। ড্র হলে আবার খেলতে হবে।

বন্ড বলল–মনে রেখো, একদিক থেকে ব্যাংকাব সুবিধেজনক অবস্থায় থাকবে। তবে, প্রথমবারের আট আর নয় থেকে জিত। তাই দেখতে হবে আট আর নয় গুলো আমি যেন ওর থেকে বেশি পাই।

এত মারপ্যাচ মাথায় নিতে কিছুটা নার্ভাস লিন্ড। কিন্তু বুদ্ধিমতী সে, তাই অনেকটাই বুঝে ফেলেছে।

বন্ড অ্যাশট্রেতে সিগারেট গুঁজে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *