অধ্যায় ১

রবার্ট ল্যাংডন খুব ধীরে ধীরে ঘুম থেকে জেগে উঠলো।

অন্ধকারে ফোন বাজছে ছোট্ট একটা অপরিচিত রিংয়ের শব্দ, যেনো বহু দূর থেকে ভেসে আসছে। সে বিছানার পাশে রাখা ল্যাম্পটার সুইচ হারে জ্বালিয়ে দিয়ে আড়চোখে চারপাশটা দেখে নিলো। একটা রেনেসা শোবার ঘর, ঘােড়শ সুইয়ের আমলের আসবাবপত্রে সাজানো, হাতে নক্সা করা দেয়াল আর সূক্ষ্ম কারুকার্য খচিত মেহগনি কাঠের বিছানা।

আরে, কোথায় আমি?

বিছানার পাশেই একটা বাথরোবের মনোগ্রামে লেখা : হোটেল রিজ প্যারিস।

আস্তে আস্তে ধোয়াটে ভাবটা কাটতে শুরু করলে ল্যাংডন রিসিভারটা তুলে নিলো। হ্যালো?

মঁসিয়ে ল্যাংডন? একটা পুরুষ কণ্ঠ বললো, আশা করি আপনার ঘুম ভাঙিনি আমি?

বিরক্ত হয়ে ল্যাংডন বিছানার পাশে রাখা ঘড়িটার দিকে তাকালো। রাত ১২টা বেজে ৩২ মিনিট। মাত্র এক ঘণ্টা হলো সে ঘুমিয়েছে, কিন্তু তার মনে হলো অনেকক্ষণ ধরে মরে পড়েছিলো।

আমি হোটেলের দ্বাররক্ষী বলছি, মঁসিয়ে। আপনাকে বিরক্ত করার জন্য ক্ষমা চাই, কিন্তু আপনার কাছে একজন অতিথি এসেছেন। তিনি চাপাচাপি করছেন, ব্যাপারটা নাকি খুব জরুরি।

ল্যাংডনের তখনও ঘুম ঘুম ভাবটা ছিলো। একজন অতিথি? বিছানার পাশে রাখা টেবিলের ওপরে অনেকগুলো কাগজ-পত্রের সাথে দোমড়ানো-মােচড়ানো একটা ফ্লাইয়ারের দিকে তার চোখ গেলো।

আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস
গর্বের সাথে উপস্থাপন করছে
রবার্ট ল্যাংডন-এর সাথে একটি সন্ধ্যা
প্রফেসর, ধর্মীয় প্রতীক বিদ্যা
হারভার্ড ইউনিভার্সিটি

ল্যাংডন একটা গভীর আর্তনাদ করলো। আজ রাতের বক্তৃতাটা–শাত্রের ক্যাথেড্রালে লুকানো পাথরের মধ্যে প্যাগান প্রতীকগুলোর ওপর একটা স্লাইড শো–বোধহয় কোন রক্ষণশীল শ্রোতাকে বিক্ষুব্ধ করেছে। তাদের মধ্যে কোন কোন ধর্মীয় পণ্ডিত তার পিছু পিছু বাড়ি পর্যন্ত এসে এ নিয়ে একচোট ঝগড়াও করে গেছে।

আমি দুঃখিত, ল্যাংডন বললো, আমি খুবই ক্লান্ত আর–

মেই, মঁসিয়ে, দ্বাররক্ষীটি একটু নিচু স্বরে খুব তাড়া দিয়ে বললো, তার কণ্ঠে জরুরি একটা ভাব আছে। আপনার অতিথি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

ল্যাংডনের খুব কমই সন্দেহ ছিলো। ধর্মীয় চিত্রকর্ম এবং কাল্ট প্রতীকের ওপর রচিত তার বইয়ের জন্য সে খুব অপ্রত্যাশিতভাবেই শিল্পজগতে একজন সেলিবৃটি হয়ে গেছে, আর গত বছরের ল্যাংডনের পরিচিতিটা শত সহস্রগুণ বেড়ে গেছে ভ্যাটিকানের সাথে বহুল আলোচিত একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়াতে। ব্যাপারটা মিডিয়াতে বেশ প্রচার পেয়েছিলো। তারপর থেকে, স্বঘােষিত ইতিহাসবিদ আর শিল্পবিশারদদের স্রোতধারা তার ঘরের দরজায় আছড়ে পড়তে শুরু করেছে বিরামহীনভাবে।

আপনি যদি একটু দয়া করেন, ল্যাংডন বললো, ভদ্র থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলো সে, আপনি কি তার নাম আর ফোন নাম্বারটা নিয়ে রাখতে পারবেন, তাকে বলবেন, আমি বুধবার প্যারিস ছাড়ার আগেই ফোন করে তার সাথে যোগাযোগ করবো। ধন্যবাদ, আপনাকে। দ্বাররক্ষী কোন কিছু বলার আগেই সে ফোনটা রেখে দিলো।

এবার উঠে বসে ল্যাংডন তার পাশে রাখা গেস্ট রিলেশনস হ্যান্ড বুকএর দিকে ভূরু তুলে তাকালো, সেটার কভারে লেখা আছে : আলো ঝলমলে শহরে ঘুমান শিশুদের মতো। প্যারিস রিজ-এ ঘুমান। ঘরের এক পাশে রাখা প্রমাণ সাইজের আয়নার দিকে ক্লান্তভাবে সে তাকালো। যে লোকটা আয়না থেকে তার দিকে চেয়ে আছে তাকে তার অচেনা মনে হলো এলোমেলো আর পরিশ্রান্ত।

তোমার একটু ছুটির দরকার, রবার্ট।

বিগত দশ বছর তার ওপর দিয়ে বেশ খাটুনি গেছে। কিন্তু সে আয়নার অবয়বটাকে সাধুবাদ দিতে নারাজ। তার তীক্ষ নীল চোখ জোড়া আজ রাতে ঘােলাটে আর কুয়াশাচ্ছন্ন দেখাচ্ছে। খোঁচা খোচা দাড়িতে শক্ত চোয়াল আর টোল পড়া গালটা ঢেকে গেছে। মাথার চুল ধূসর হয়ে যাচ্ছে, আর সেটা হালকা পাতলা কালো চুলকে গ্রাস করতে শুরু করেছে। যদিও তার নারী সহকর্মীরা এটাকে তার পাণ্ডিত্যের প্রকাশভঙ্গী হিসেবেই চিহ্নিত করে থাকে, তবে ল্যাংডন ভালো করেই জানে সত্যিকারে কারণটি।

বোস্টন ম্যাগাজিন যদি এখন আমাকে দেখতে পেতো। গত মাসে, ল্যাংডন সবচাইতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছিলো যখন বোস্টন ম্যাগাজিন শহরের সবচাইতে কৌতুহলোদ্দীপক ব্যক্তি হিসেবে টপ টেনের তালিকায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলো— একটা সন্দেহজনক সম্মানের ফলে সে তার হারভার্ডের সহকর্মীদের কাছ থেকে সীমাহীন টিটকারি আর টিপ্পনির শিকার হয়েছিলো। আজ রাতে, তার নিজ দেশ থেকে

তিন হাজার মাইল দূরে এই ব্যাপারটা এখানে এসে পৌঁছেছে। তার বক্তৃতার অনুষ্ঠানেও সেটা উঠে এসেছে। এখানেও সে এটার শিকার হলো।

ভদ্রমহিলা এবং ভদ্রমহোদয়গণ… উপস্থাপিকা প্যারিসের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাভিলিয়ন ডওফিন-এর হলভর্তি লোকজনের উপস্থিতিতে ঘােষণা দিলো, আজ রাতের আমাদের অতিথিকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কোন দরকার নেই। তিনি অসংখ্য বইয়ের লেখক। দ্য সিম্বোলজি অব সিক্রেট সেক্ট, দ্য আর্ট অব দি ইলুমিনাতি, দ্য লস্ট ল্যাংগুয়েজ অব ইডিওগ্রামস, আর আমি যখন কথা বলছি তখন তিনি লিখছেন দ্য রিলিজিয়াস আইকোনোলজির ওপর একটি বই। আপনাদের অনেকেই তার লেখা পাঠ্য বই হিসেবে শ্রেণী কক্ষে পড়েছেন।

উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ছাত্ররা সানন্দে মাথা নেড়ে সায় দিলো। আমার একটা পরিকল্পনা ছিলো, আজ রাতে তাকে তার অসাধারণ পেশাগত পরিচয়টা তুলে ধরে আপনাদের কাছে উপস্থাপন করবো, কিন্তু যেভাবেই হোক… মেয়েটা ল্যাংডনের দিকে সকৌতুক দৃষ্টিতে তাকালো। একজন শ্রোতা কিছুক্ষণ আগে আমার হাতে একটা জিনিস দিয়ে গেছে, বলা যায়… কৌতুহলোদ্দীপক একটি পরিচয়।

বোস্টন ম্যাগাজিনর একটা কপি তুলে ধরলো মেয়েটা।

ল্যাংডন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। এটা সে পেলো কোথেকে?

উপস্থাপিকা প্রবন্ধটির নির্বাচিত কিছু অংশ পড়ে শোনাতে লাগলো। ল্যাংডনের মনে হলো সে তার চেয়ারের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। ত্রিশ সেকেন্ড পরে, দর্শক-শ্রোতারা প্রবল করতালি দিতে শুরু করলো। মেয়েটার মধ্যে এই ব্যাপারটা শেষ করার কোন চিহ্নই দেখা গেলো না। আর গতবছর মি. ল্যাংডনের সাথে ভ্যাটিকানের ওরকম ভূমিকার ব্যাপারে জনসমক্ষে কোন কিছু বলতে অস্বীকার করার কারণেই আমাদের কৌতুহলোদ্দীক মিটারের পয়েন্টে তিনি জয়ী হয়েছেন। উপস্থাপিকা শ্রোতাদের কাছে জিজ্ঞেস করলো, আপনারা কি আরো কিছু শুনতে চান?

মেয়েটাকে কেউ থামাচ্ছে না কেন, সে আবার পড়তে শুরু করতেই ল্যাংডন আপন মনে বললো।

যদিও প্রফেসর ল্যাংডন এখানে পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণদের মতো কেতাদূরস্ত হ্যান্ডসাম নন, কিন্তু চল্লিশোর্ধ এই পণ্ডিত ব্যক্তির পাণ্ডিত্য নির্ঘাত আবেদন সৃষ্টি করে।

তার আকর্ষণীয় উপস্থিতি, নিচু স্বরের স্পষ্ট উচ্চারণের মাধুর্যময় কণ্ঠের কারণে আরো বাঙময় হয়ে ওঠে যা তার ছাত্রীরা বর্ণনা করে কানের চকোলেট হিসেবে। পুরো হলটা হাসিতে ফেটে পড়লো।

ল্যাংডন জোড় করে একটা কাষ্ঠ হাসি দিলো। সে জানতো এর পরে কী হবে হ্যারিস টুইড পরিহিত হ্যারিসন ফোর্ড জাতীয় কিছু হাস্যকর লাইন কারণ আজকের সন্ধ্যায় সে পরে আছে হ্যারিস টুইড আর বারবেরি টার্টেলনেক টাই। সে ঠিক করলো একটা কিছু করতেই হবে।

ধন্যবাদ তোমাকে, মনিকা, ল্যাংডন আগেভাগেই উঠে দাঁড়িয়ে পোডিয়ামে দাঁড়ানো মেয়েটার দিকে এগোতে এগোতে বললো, বোস্টন ম্যাগাজিন নিশ্চিত ভাবেই গল্প বানাবার রসদ পেয়ে গেলো। সে শ্রোতাদের দিকে ঘুরে বিব্রত হয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। আমি যদি খুঁজে পাই আপনাদের মধ্যে কে এই প্রবন্ধটি এখানে এনেছেন, তবে দূতাবাসে গিয়ে আমি তাকে তার দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবো।

শ্রোতারা সবাই হেসে উঠলো।

তো, শ্রোতারা, আপনারা সবাই জানেন, আজ এখানে এসেছি প্রতীক বা সিম্বলের ক্ষমতা কী, সেটা বলতে…

 

ল্যাংডনের হোটেলের ফোনটা নিরবতা ভেঙে আরেকবার বেজে উঠলো।

অবিশ্বাসে গোঙাতে গোঙাতে সে ফোনটা তুলে নিলো। হ্যাঁ? যা ভেবেছে তা-ই, আবারো সেই হোটেলের দ্বাররক্ষী।

মি. ল্যাংডন, আমি আবারো ক্ষমা চাচ্ছি। আমি আপনাকে ফোন করেছি এটা জানাতে যে, আপনার অতিথি আপনার কাছেই আসছে। আমার মনে হলো, এটা আপনাকে জানানো দরকার।

ল্যাংডন কথাটা শুনেই পুরোপুরি ঘুম ছেড়ে উঠে গেলো। আপনি আমার ঘরে একজন লোককে পাঠিয়ে দিয়েছেন?

আমি এজন্যে ক্ষমা চাইছি, মঁসিয়ে, কিন্তু এরকম একজন মানুষকে…থামানোর ক্ষমতা আমি রাখি না।

ঠিক করে বলুন তো, লোকটা আসলে কে?

কিন্তু ফোনের অপর প্রান্তে দ্বাররক্ষী ফোনটা ততক্ষণে রেখে দিয়েছে।

প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ল্যাংডনের দরজায় জোড়ে জোড়ে ধাক্কা দেবার শব্দ হলো।

কী করবে ঠিক ভেবে না পেয়ে ল্যাংডন বিছানা থেকে নেমে এলো, স্যালোয় কার্পেটে তার পা-দুটো ডুবে যাচ্ছে বলে মনে হলো। তড়িঘড়ি দরজার দিকে এগিয়ে গেলো সে। কে?

মি. ল্যাংডন? আপনার সাথে একটু কথা বলার দরকার। লোকটার ইংরেজি উচ্চারণ একটু অন্যরকম, খুব পরিষ্কার, কিন্তু কর্তত্বপূর্ণ। আমার নাম লেফটেনান্ট জেরোমে কোলেত। পুলিশ জুডিশিয়ারের ডিরেকশন সেন্ট্রেইল থেকে এসেছি।

ল্যাংডন একটু থেমে গেলো। জুডিশিয়াল পুলিশ? ডিসিপিজে হলো আমেরিকার এফবিআইর সমতুল্য।

সিকিউরিটি চেইনটা লাগিয়ে ল্যাংডন দরজাটা একটু ফাঁক করলো। যে চেহারাটা তার দিকে চেয়ে আছে সেটা হাল্কা-পাতলা এবং ভাবলেশহীন, লোকটা সাংঘাতিক রকমের মেহদীন, নীল রঙের অফিশিয়াল পোশাক পরে আছে।

ভেতরে আসতে পারি কি? লোকটা বললো।

ল্যাংডন একটু ইতস্তত করলো, আগন্তুক তাকে নিরীক্ষণ করতে থাকলে সে একটু দ্বিধাগ্রস্তও হলো। হয়েছে কি?

আমার ক্যাপ্টেনের একটু আপনার সাহায্যের দরকার, ব্যক্তিগত একটা ব্যাপারে।

এখন? ল্যাংডন স্বাভাবিক হলো। মধ্যরাত তো পেরিয়ে গেছে।

আজ রাতে লুভর মিউজিয়ামের কিউরেটরের সাথে আপনার সাক্ষাত করার কথা ছিলো, আমি কি ঠিক বলেছি?

হঠাৎ করেই ল্যাংডনের খুব অস্বস্তি হতে লাগলো। বক্তৃতার শেষে আজ রাতে তার সাথে কিউরেটর জ্যাক সনিয়ের একটা সাক্ষাতের কথা ছিলো, কিন্তু সনিয়ে আর সেই সাক্ষাতের জন্য আসেননি। হ্যাঁ, আপনি সেটা জানলেন কি করে?

আমরা আপনার নাম উনার দৈনিক পরিকল্পনার নোটবুকে পেয়েছি।

আমার বিশ্বাস, খারাপ কিছু ঘটেনি?

লোকটা একটা করুণ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দরজার ফাঁক দিয়ে পোলারয়েডে তোলা একটি ছবি তার দিকে বাড়িয়ে দিলো। ছবিটা দেখেই ল্যাংডনের পুরো শরীরটা কাটা দিয়ে উঠলো।

ছবিটা একঘণ্টা আগে ভােলা হয়েছে। লুভরের ভেতরেই।

অদ্ভুত এই ছবিটা দেখে ল্যাংডন আতৃকে উঠে রেগে গেলো। কে এরকম করলো!

আমরা আশা করছি এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আপনার সাহায্যের দরকার রয়েছে। বিশেষ করে প্রতীকবিদ্যার ওপরে আপনার জ্ঞান এবং উনার সাথে সাক্ষাতের পরিকল্পনার কথাটা যদি বিবেচনা করেন।

ল্যাংডন ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলো, এবার তার বিস্ময় কমে গিয়ে ভীতিতে রূপান্তরিত হলো। ছবিটা খুবই অদ্ভুত আর জঘন্য। ছবিটাতে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে যা তার কাছে একেবারেই অভাবনীয় বলে মনে হচ্ছে। এরকম দৃশ্য সে এর আগে একবারই দেখেছে, কিন্তু সেটা কাউকে বলে বোেঝাবার মতো নয়। একবছর আগে ল্যাংডন এ রকম একটি লাশের ছবি পেয়েছিলো আর তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য অনুরোধও করা হয়েছিলো। চব্বিশ ঘণ্টা পরে, সে ভ্যাটিকানের ভেতরে নিজের জীবনটা প্রায় খুইয়ে ফেলতে যাচ্ছিলো। এই ছবিটা একেবারেই অন্যরকম। তারপরেও দৃশ্যগত দিক থেকে কিছুটা মিলও রয়েছে বলে তার মনে হলো। লোকটা তার ঘড়িটা দেখে নিলো। আমার ক্যাপিতেন অপেক্ষা করছে, স্যার।

মনে হলো ল্যাংডন তার কথা শুনতেই পায়নি। তার চোখ ছবিটার দিকে, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে।

এখানের এই প্রতীকটা, তার শরীরটা যেরকম অদ্ভুতভাবে …

অবস্থানটা? লোকটা তাকে বললো।

ল্যাংডন মাথা নেড়ে সায় দিলো, লোকটার দিকে তাকাতেই তার কী রকম শীতল অনুভব হলো। আমি ভাবতেও পরছি না, কোন মানুষের সাথে কেউ এরকম করতে পারে।

লোকটা চোখ কুচকে বললো, আপনি বুঝতে পারছেন না, মি. ল্যাংডন। ছবিতে আপনি যা দেখছেন… সে একটু বিরতি দিলো। মঁসিয়ে সনিয়ে নিজেই এমনটি করেছেন।