ক্যাসিনো রয়্যাল

ক্যাসিনো রয়্যাল - জেমস বন্ড - ইয়ান ফ্লেমিং - ভাষান্তর : উত্তম ঘোষ

০১. সারারাত ধরে জুয়া খেলা চলেছে

সারারাত ধরে জুয়া খেলা চলেছে এই ক্যাসিনোতে। এখন ভোর তিনটে। জেমস বন্ড এখন নিদারুণ ক্লান্ত। ক্লান্তি তার দেহে ও মনে, তাই পৃথিবীর সেরা ডিটেকটিভ হয়েও যার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, তার পক্ষেও এখন ভুলভ্রান্তি হবার উপক্রম। এই খেলাটার মধ্যেই এমনকিছু আছে, যা নেশা ধরিয়ে দেয়।...

০২. দুসপ্তাহ কেটে গেল

দুসপ্তাহ কেটে গেল। হঠাৎ, এম এর কাছে পৌঁছে গেল ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা দপ্তরের চিঠি। বিভাগীয় প্রধান লিখেছেন (বার্তার স্টাইলে)– …. টু এম ফ্রম দ্য চিফ অব দ্য ডিফেন্স মিনিস্ট্রি, ইংল্যান্ড, বিষয় : মঁসিয়ে ল্য শিফকে ধ্বংসের পরিকল্পনা। (ল্য শিফ দা নামবার, হের নামবার,...

০৩. রুশ বিরোধী বিষয়

এস-বিভাগ মূলত কাজ করে রুশ বিরোধী বিষয়গুলো নিয়ে। এর প্রধান-এর অফিস বাড়ি রিজেন্ট পার্কে। এখন প্রধান কাজ ল্য শিফ খতম! ফাইল হাতে সে এগিয়ে গেল হেড অফ এস এর কাছে। ১৯৪৪ সাল থেকে সে এই কাজ করছে। এখনও বেশি বয়েস হয়নি। এম-এর প্রাইভেট সেক্রেটারি মিস মানিপেনি সুন্দরী মহিলা। কিন্তু...

০৪. হোটেল বিছানায় শুয়ে

ঘুমের মধ্যে হোটেল স্‌প্লেনডিডের বিছানায় শুয়ে এসব কথা ভাবছিল বন্ড। রয়্যাল লেজোতে সে দুদিন আগে এসেছে। এখন লাঞ্চ টাইম। রেজিস্টারে সই করেছিল–জেমস বন্ড, পোর্ট মারিয়া, জ্যামাইকা। অর্থাৎ পরিচয় গোপন করে নি। এম-ও পরিচয় গোপন রাখতে বলে নি। শুধু বলেছিল— যখন তুমি খেলার...

০৫. বন্ড হোটেল থেকে বেরোল

বেলা বারোটা। বন্ড হোটেল থেকে বেরোল। মিষ্টি বাতাসে যেন ব্যালের মিউজিক। দিনের বেলা সূর্যের উজ্জ্বল আলো। রয়্যাল-লেজের প্রথমে ছিল রয়্যাল–জেলেদের গ্রাম। আর লেজো মানে জল। সেকথাটা পরে যুক্ত হয়েছে। এই গ্রামের পিছনে পাহাড়ের জলে হঠাৎ সালফার পাওয়া গিয়েছিল। ফলে লিভারের...

০৬. ফুটপাত ধবে হাঁটছিল বন্ড

তার কিছু আগে বাইরে ফুটপাত ধবে হাঁটছিল বন্ড। দুপাশে গাছের সারি। সূর্যের তাপ, তাই গাছের ছায়া ভালো লাগছিল। গাছতলায় দাঁড়ানো লোক দুটোর ভাব দেখলেই সন্দেহ জাগে! ওরা হোটেল স্‌প্লেনডিড এর মেইন গেট থেকে একশো গজ দূরে, ফিসফিস করে কথা বলছে। পরনে স্যুট, স্ট্র-হ্যাটে কালো ফিতে।...

০৭. জুয়া শেষ হতে ভোর

মনে হয়, জুয়া শেষ হতে ভোর হয়ে যাবে। বন্ড একজনকে ডেকে পাঠিয়েছিল। তার আসার কথা তিনটের সময়। খাবার পর সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে নিজের কাজের চিন্তায় ড়ুবেছিল বন্ড। দরজায় টোকা। লোকটি এসেছে, সুইডিশ। কিছুক্ষণ ম্যাসেজ করল সে, পা থেকে ঘাড় পর্যন্ত। ম্যাসেজের আরামে ঘুমিয়ে পড়ল বড়। এবার...

০৮. আবার সাবধানী পর্যবেক্ষণ

নিজের ঘরে এসে আবার সাবধানী পর্যবেক্ষণ সারল বন্ড। তারপরে যথারীতি শাওয়ারবাথ, এবং শয্যায় টান হয়ে শোওয়া। চিন্তার পর্দায় ছবি উঠছে—ম্যাথুস, লিটার আর মিস লিন্ড। কার কী ভূমিকা, সেটা বোঝা যাবে ঠিক সময়েই। এখন নটা কুড়ি। ল্য শিফের সঙ্গে লড়াই তো আরম্ভ হয়ে গেছে। পোশাক পরতে পরতে...

০৯. কথাবার্তা জমে উঠেছে

খাওয়া শেষ হয়নি। কথাবার্তা জমে উঠেছে। বন্ড বলল–আপনিই বলুন না গল্পটা। –বেশ। শুনুন, তৃতীয় বুলগেরিয়ানটা অ্যারেস্টেড হয়েছে। প্যারিসে পালাতে চাইছিল। পথে দুজন ইংরেজকে গাড়িতে তুলেছিল। সে একজন পুলিশকে মাথায় গুলি করে মেরেছে। অপরজন ওকে পাকড়াও করেছে। সে আত্মহত্যার...

১০. খেলা শুরু

খেলা শুরু। বন্ড উত্তেজিত। এই তো ল্য শিফের সঙ্গে বোঝাঁপড়া হতে চলেছে। এখন সে শুধু জুয়াড়ি–আর কিছু নয়। এর আগে হোটেল থেকে বেরিয়ে ওরা যখন কাসিনোতে এল, তখন ভালো সম্বর্ধনা পেল বন্ড। ভেসপার লিন্ডের সঙ্গে ফেলিক্স-লিটার এর আলাপ হল। লিটার চাইল ভেসপার লিন্ডকে রুলেতের আসরে...

১১. ল্য শিফের চোখের দৃষ্টি সাদা

ল্য শিফের চোখের দৃষ্টি সাদা। বন্ড তাকে সর্বক্ষণ লক্ষ করছিল। খোঁচা খোঁচা লালচে চুল। চওড়া ডিনার জ্যাকেট। এবার খেলায় বেশ রেষারেষি। সংখ্যাটা একটি, উত্তেজক ফিগার। কেউ আপশোশ করছে কেউ উল্লসিত, নানা কথাবার্তা চলছে। ড়ুপন্ট দম্পতি উৎসাহী। ল্য শিফের ডানপাশে লম্বা চেহারার লোকটার...

১২. এখন কী করণীয়

এখন কী করণীয়? রুটিন কাজ— হোটেলে ফেরা, শয্যাগ্রহণ, লন্ডনে ফোন, পরের দিন প্লেন ধরা। ট্যাক্সিতে রিজেন্ট পার্ক। সিঁড়ি দিয়ে উঠে এম-এর সামনে। কর্তাদের কৃত্রিম সান্ত্বনা বাক্য। অলরাইট! নেক্সট টাইম— নেক্সট টাইম আর আসবে না— সেটা ভালোই জানে বন্ড। উঠে দাঁড়িয়ে সে আশ্চর্য হয়ে দেখল...

১৩. ঘোষণা হল

ঘোষণা হল আবার জমা পড়েছে তিন কোটি কুড়ি লক্ষ। ল্য শিফ টেবিলে চাপড় মারল। বন্ড এখন আবার সতেজ। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে। অবশ্য শরীর এখনও ঘামে ভিজে আছে। দশ মিনিট বিরতি দেওয়া হয়েছিল। এখন রাত দুটো। একজন বলল–লালের ন’নম্বর জিতেছে। রোমহর্ষক স্তব্ধতা। তাস...

১৪. ছোটো নাইট ক্লাব

রোগা গোলান্তের ছোটো নাইট ক্লাব। ভেসপারকে ঢুকল বন্ড। শ্যাম্পেন খেতে খেতে গল্প চলল। নানা বিষয়–ম্যাথুস, লিটার, ল্য শিফের ভবিষ্যৎ–ইত্যাদি। জানা গেল, ওরা বডিগার্ড দুটোর ওপর নজর রাখছিল বটে। কিন্তু বন্ডের পেছনে চলে-আসা ছড়ি রিভলবারধারীকে লক্ষ করেনি আগেই। সে অবশ্য...

১৫. চিঠিটা জাল

বন্ডের কোনো সন্দেহ নেই যে, চিঠিটা জাল। আর দেরি না করে একলাফে নিজের গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিল বন্ড। গেটের বাইরে এসে বা দিকে যেতেই লাফিয়ে উঠল গাড়ি। হ্যাঁ, আন্দাজেই শত্রুর পিছু নিতে হবে। সি বিচের দিকে রাস্তাটা ধরা যাক। হেডলাইট জ্বেলে যেন এক বিরাট গুহার মধ্যে আধমাইল লম্বা...

১৬. বন্ড গাড়ি থামায়নি

বন্ড গাড়ি থামায়নি। হঠাৎ সামনের গাড়িটা কাছে এসে যাওয়ায় সে সজোরে ব্রেক কষল। কোনো লাভ হল না। ধাক্কাটা লাগলই। বন্ড ড্রাইভিং সিট থেকে ছিটকে পড়ে গেল। ওর গাড়ি এখন শূন্যে, হেডলাইট যেন আকাশের দিকে, এইবার আস্তে আস্তে উলটে গেল গাড়িটা। ঝোপের আড়াল থেকে দুই সঙ্গী সমেত ল্য শিফ...

১৭. এই ঘরটা বিরাট

এই ঘরটা বিরাট। ড্রয়িংরুম না ডাইনিং রুম কে জানে। সারা দেয়াল জুড়ে আয়না। রং ওঠা সোফা ঘরের মাঝখানে কোনো টেবিল নেই। শুধু একটা চৌকো কার্পেট। জানলার কাছে অদ্ভুত শেফের একটি চেয়ার। ভেলভেটের গদি। নীচু টেবিলে জলের বোতল আর দুটো গ্লাস। আর একটা গদিহীন বেতের চেয়ার আছে। ল্য শিফ...

১৮. চেতনাহীন হয়ে পড়েছিল প্রায় বন্ড

ক্রমাগত মারের ফলে চেতনাহীন হয়ে পড়েছিল প্রায় বন্ড। ল্য শিফের সব কথা তার কানে ঢুকছিল না। আচমকা এক বজ্রকঠিন স্বরে বন্ডের হুঁশ ফিরে এল। নুয়ে পড়া মাথা সোজা হল বন্ডের। সামনের দিকে তাকাল সে। কয়েক সেকেন্ড লাগল অস্পষ্ট দৃষ্টি কাটতে। বন্ড এবার পরিষ্কার দেখতে পেল ল্য শিফের মুখের...

১৯. ঘুমের মধ্যে স্বপ্নের প্রকৃতি

ঘুমের মধ্যে স্বপ্নের প্রকৃতি মানুষকে কখনো ঘুম পাড়িয়ে রাখে, আবার কখনো বা নিদ্রাভঙ্গ ঘটায়। আধোজাগরিত তন্দ্রার মধ্যেও ছন্দহীন স্বপ্ন একে একে চলে যায়। বন্ড এখন একটা শয্যায় শায়িত। কখনো গভীর ঘুমে, কখনো আচ্ছন্নের মতো। বুঝতে পারছে বন্ড, তার পাশে মাঝে মধ্যে কেউ এসে তাকে দেখে...

২০. ক্রমশ সুস্থ হচ্ছে বন্ড

ক্রমশ সুস্থ হচ্ছে বন্ড। এখন উঠে বসতে পারছে। কোমরের নীচটা ঢাকা। দেহের নীচের অংশে বেশ ব্যথা আছে। ম্যাথুস এসে বলল–এই তোমার চেক! বেশ কিছুদিন চারকোটি ফ্রাঁ নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি, কতখানি ঝুঁকি, তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ! চেকটা সই করে দাও, অ্যাকাউন্টে জমা করে দিই।...