জার্নি টু দি সেন্টার অব দি আর্থ

জার্নি টু দি সেন্টার অব দি আর্থ - জুল ভার্ন

০১. রুনিক হরফের ভোজবাজি

০১. রুনিক হরফের ভোজবাজি জার্মেনির হামবুর্গে কনিগ স্ট্রাস স্ট্রিট নামে যে রাস্তাটা আছে, সেইখানে পুরোনো একটা ছোটো বাড়িতে থাকতেন অধ্যাপক লিডেনক। লিডেনব্রক আমার কাকা। কাকামণির কথা বলতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠতে চাইনে। রসায়ন, ভূতত্ত্ব আর ধাতুবিজ্ঞানে নিত্য-নতুন গবেষণা করে...

০২. বৈজ্ঞানিকের খেয়াল

০২. বৈজ্ঞানিকের খেয়াল বুকটা কেঁপে উঠলো। যে ভয় করছিলাম, শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো। তখন অবশ্য মিছিমিছি বেশি মাথা ঘামালাম না। কাকামণি তো একেবারে পাগল নন। ভাল-মন্দ বুঝবার শক্তি নিশ্চয়ই তাঁর আছে। পৃথিবীর অন্তঃপুরে ঘুরে বেড়ানো কি আর সম্ভব? তাই তখনকার মতো সব ভাবনা-চিন্তা ঝেড়ে...

০৩. আইসল্যাণ্ডে

০৩. আইসল্যাণ্ডে কোপেনহেগেন শহরটা দেখতে ভারি সুন্দর। রাজপ্রাসাদটা কী বড়ো! চারধারে তার পরিখা। পরিখার উপরে একটা সেতু। ষোলো শতকে তৈরি হয়েছিলো। আমরা কোপেনহেগেনে এসে পৌঁছেছিলাম বেলা দশটার সময়। স্টেশন। থেকে সমস্ত মালপত্র ফিনিক্স হোটেলে পাঠিয়ে দিলেন কাকামণি। তারপর আমায় নিয়ে...

০৪. যাত্রা হলো শুরু

০৪. যাত্রা হলো শুরু ঘুম ভাঙলো কাকামণির গলার শব্দে। তখন বেশ বেলা হয়ে গেছে। চোখেমুখে এসে পড়েছে সূর্যের সোনালি আলো। বিছানায় শুয়ে শুয়েই শুনতে পেলাম কাকামণি কার সঙ্গে যেন ঝড়ের মতো কথা বলে চলেছেন। কথা চলছিলো দিনেমার ভাষায়। যে-লোকটির সঙ্গে কথা হচ্ছিলো, তার চেহারা দৃষ্টি...

০৫. আইসল্যাণ্ডের সেই বৈজ্ঞানিক

০৫. আইসল্যাণ্ডের সেই বৈজ্ঞানিক তাড়াতাড়ি সামান্য কিছু গলাধঃকরণ করে সমুদ্র থেকে পাঁচ হাজার ফুট উপরে স্নেফেলের চুড়োয় পাথরের উপরে গা এলিয়ে দিলাম আমরা। সঙ্গে-সঙ্গেই চোখের পাতায় নেমে এলো একঝাঁক ঘুম। এমন গাঢ় ঘুম আমার অনেকদিন হয়নি। জেগে উঠে দেখি বেলা প্রায় দুপুর। দিগন্তের...

০৬. আর্‌ন্‌ সাক্‌ন্যুউজম্‌

০৬. আর্‌ন্‌ সাক্‌ন্যুউজম্‌ আর্‌ন্‌ সাক্‌ন্যুউজম্‌! বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে। রইলাম আমি। এবারে আর কাকামণির সিদ্ধান্তকে অহেতুক বলে উড়িয়ে দেয়া চলবে না। তার এতো কাণ্ড, এতো আয়োজন, এতো সমারোহকে নিছক পাগলামি বলে আর উড়িয়ে দেবার জো নেই। অসমসাহসী আবু...

০৭. পথের পাঁচালী

০৭. পথের পাঁচালী পাথরের খাঁজ-কাটা সিঁড়ি দিয়ে পাতালের দিকে নামতে লাগলাম আমরা। কেটারের পরিধি ক্রমশ বেড়ে গিয়েছে। শতিনেক ফুট হবে হয়তো খানিক নিচে। আর সেই নিচে আছে পাতাল-ছায়া অন্ধকার। গহরের যতটুকু দেখা গেল তাতেই মনে হলো, এর পাঁচিল সোজাসুজি নিচে নেমে গেছে। হয়তো অতি মণ রেখায়।...

০৮. পথের শেষ কোথায়, পথের শেষ?

০৮. পথের শেষ কোথায়, পথের শেষ? কাকামণির কথায় প্রতিবাদ করবার মতো অবস্থা তখন আমার না,–না দেহের, না মনের। শুধু একবার কতটুকু জল এখনো হাতে আছে দেখে নিলাম। তখন তিনদিনের উপযোগী জল ছিলো। কিন্তু কদিন যে লাগবে এই পথের শেষ দেখতে, তা কে জানে? সে-কথা আর ভাববার চেষ্টাও করলাম...

০৯. অন্য পথ

০৯. অন্য পথ সে যে কী কষ্ট, কী অসহ্য যন্ত্রণা, তা লিখে বোঝাতে পারি এমন ভাষা নেই আমার। কাকামণির কষ্ট সহ্য করবার ক্ষমতার কোনো তুলনা নেই। সঁতে দাঁত চেপে এগোতে লাগলেন তিনি। আর হাস? হাসের যে কোনো কষ্ট হচ্ছে এমন কোনো লক্ষণই চোখে পড়লো না। নীরবে চলতে লাগলো সে। শুধু পারলাম না...

১০. অজানার উজানে

১০. অজানার উজানে পরদিন ঘুম থেকে উঠেই আবার আমরা নিচে নামতে লাগলাম। এবার পথ সাপের মতো একেবেঁকে এগিয়ে গেছে। পায়ের তলায় কুলকুল শব্দ করে বয়ে চলেছে জলের স্রোত। হঠাৎ সামনে পড়লো প্রকাণ্ড বড়ো একটা গহ্বর। যেন পাতালের অন্ধকারে হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে। গহ্বরের মধ্য দিয়ে রাস্তা একরকম...

১১. অন্য পৃথিবীর সমুদ্র পাড়ি

১১. অন্য পৃথিবীর সমুদ্র পাড়ি তেইশে অগস্ট সকালবেলায় আমাদের ভেলা অজানা সমুদ্রে রওনা হলো। হান্‌স্ পাল তুলে দিয়ে হালের কাছে গিয়ে বসলো। অনুকূল হাওয়া আর স্রোতের টানে তরতর করে ভেলা এগিয়ে চললো। কাকামণি বললেন, যেখান থেকে আমাদের ভেলা ছাড়লো, সেই বন্দরটার একটা নাম দেয়া উচিত। কী...

১২. জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে

১২. জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আমাদের এই অবিস্মরণীয় ভ্রমণ যেদিন থেকে শুরু হয়েছে সেদিন থেকে অবাক হওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। কারণ, পাতালে প্রবেশ করবার পর থেকে এভোব আশ্চর্য ব্যাপার দেখে আসছি যে, ভেবেছিলাম আমাকে স্তম্ভিত করতে পারে এমন বোধহয় আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। কিন্তু যখন দেখলাম...

১৩. সেই পুরাতন পৃথিবী

১৩. সেই পুরাতন পৃথিবী জ্ঞান যখন ফিরলো তখন দেখতে পেলাম, হাস, এক হাতে আমাকে, অন্য হাতে কাকামণিকে ধরে রেখেছে, আর আমাদের সামনে পাহাড়টি সোজা নেমে গেছে নিচের দিকে। হা ধরে না রাখলে সেই উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে নিশ্চিতই মৃত্যু ঘটতো আমাদের। অবসন্ন গলায় হান্‌স্‌ কে জিজ্ঞেস...