পর্ব ১ : দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল

দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল
সাহসিকতার সাথে বদলে ফেলুন আপনার জীবন, কর্ম ও আত্মবিশ্বাস
মূল : মেল রবিন্স
অনুবাদ : আনিস কবির
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১৯

.

লেখকের কথা

এটা হলো দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল (৫ সেকেন্ড সময় বিধি) সংক্রান্ত সত্যি গল্প।

এটা কি, কেন কাজ করে এবং কেমন করে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময়ে সারা পৃথিবীর মানুষ তাদের জীবন বদলে দিতে এর ব্যবহার করে, আমরা সেটাই দেখব।

* এই বইতে বর্ণিত ঘটনাসমূহ বাস্তব হতে নেয়া।

* কারো নাম এখানে পরিবর্তন করা হয়নি।

* সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টসমূহ সত্যি। (উল্লেখ্য – অনুবাদ গ্রন্থে পোস্টসমূহ সরাসরি অন্তর্ভুক্তির বাইরে রাখা হলো)।

আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না বইটি আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে এবং এটা দেখতে যে, আপনার অন্তর্নিহিত শক্তিকে আপনি কেমন করে বন্ধনমুক্ত করছেন।

5…4…3…2.1… GO!

মেল রবিন্স

*

অনুবাদকের কথা

প্রাত্যহিক জীবনে আমরা প্রতিনিয়তঃ বিচিত্র মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করে থাকি কিংবা তার ভেতর দিয়ে আমাদের জীবনকে পরিচালিত করে থাকি। জীবনের এই নিয়তঃ পথচলায় আমরা পরিবর্তিত পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনাপূর্বক ক্রমাগত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এবং বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চূড়ান্ত নির্ধারণ করে থাকি। কিন্তু প্রাত্যহিক মানসিক অবস্থান কিংবা মনোবলের ঘাটতি থাকার কারণে যার বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই আমরা কার্যক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে প্রয়োগ করতে বিলম্ব করি বস্তুতঃ কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থ হই।

ছোট্ট একটি উদাহরণ দেয়া যাক। মনে করি প্রাত্যহিক নিয়মে আগামীকাল সকালে আমাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে যেতে হবে কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আমাকে একটি পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে দুটি সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। (এক) রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে এবং (দুই) পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমিয়ে খুব ভোরে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠে পড়তে হবে। কিন্তু ঘুমিয়ে পড়ার আগে অনেকগুলো বিষয় এসে আমার মাথায় চেপে বসলো। আমি চাইলাম কিছুক্ষণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটাতে এবং তারপর ইউটিউব-এ দুএকটি ভিডিও দেখতে এবং তারও পরে নতুন কোনো ই-মেইল-এর সন্ধানে ব্যক্তিগত ই-মেইল একাউন্টটি একটু খুলে দেখতে। নিজেকে এই বলে বোঝালাম যে, কাজগুলো করতে কীবা এমন সময় ব্যয় হবে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল যে, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করার পর তা থেকে আর বের হতে পারছি না। অতঃপর দুএকটি ইউটিউব ভিডিও দেখার চিন্তা করে একের পর এক ভিডিও দেখে চলেছি। এবং অবশেষে ব্যক্তিগত ই-মেইল একাউন্টটি যখন খুলে বসেছি, তখন রাত প্রায় শেষ হতে চলেছে। এখন আপনিই চিন্তা করে দেখুন আগামীকালকের ঘটনাপ্রবাহ কোনপথে ধাবিত হতে চলেছে। সঠিক সময়ে ঘুমাতে না যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সকালবেলা সঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠতে না পারা এবং তারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে একটি ব্যর্থ দিনের সূত্রপাত আর ধারাবাহিক ভোগান্তি! তাই নয় কি? এখন প্রশ্ন হলো– এটি কি ধরনের সমস্যা এবং এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায়ই বা কি?

সহজ ভাষায় এই সমস্যাটির নাম আলসেমি বা ঢিলেমি। যার প্রতিকার সম্পূর্ণতঃ ডাক্তারীশাস্ত্র কিংবা মনোবিজ্ঞানের আওতাধীন নয়। মেল রবিন্স ঠিক এই সমস্যাটিকে চিহ্নিত করে এর থেকে মুক্তির উপায় উদ্ভাবন করেছেন দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল-এ। যার মূল তত্ত্বটি হলো– আপনি যখনই একটি সিদ্ধান্ত সঠিক হিসেবে গ্রহণ করবেন, অতঃপর তা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে কোনোরকম ঢিলেমি করা চলবে না। ক্ষণ গণনা করুন ৫-৪-৩-২-১ এবং শুরু করে দিন। পশ্চিমা বিশ্বে যা কখনো ১০ থেকে, কখনোবা ৩ থেকে গণনা করা হয়। এটি হলো রকেট-এ করে মহাশূন্যযান উৎক্ষেপণ করার মতো একটি বিষয়। একবার উৎক্ষেপণ করার পর শুধুই সামনে ছুটে চলা। পেছনে ফেরার আর কোনো অবকাশ নেই।

পাঠক, আসুন ক্ষণ গণনা শুরু করি ৫-৪-৩-২-১ এবং আবিষ্কার করি আমাদের অন্তর্গত মহাশক্তির স্ফুরণ!

আনিস কবির
 ঢাকা, ২০১৯

*

উৎসর্গ

কন্যাসম তামান্না আফরিন সুপ্রভা

*

সূচিপত্র

প্রাত্যহিক মনোবল

পর্ব ১ : দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল (৫ সেকেন্ড সময় বিধি)

(১) আপনার জীবন বদলে দেয়া ৫ সেকেন্ড সময়

(২) কেমন করে রুটি আবিষ্কার করলাম

(৩) এর ব্যবহারের মাধ্যমে কি আশা করতে পারেন

(৪) কেন এই (বিধি) রুটি কাজ করে

পর্ব ২ : মনোবলের শক্তি

(৫) প্রাত্যহিক মনোবল

(৬) অপেক্ষা কিসের

(৭) নতুন অনুভব

(৮) কেমন করে শুরু করতে হবে

পর্ব ৩ : মনোবল বদলে দেবে আচরণ

(৯) স্বাস্থ্যের উন্নতি

(১০) উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি

(১১) দীর্ঘসূত্রতার সমাপ্তি

পর্ব ৪ : মনোবল বদলে দেবে চিন্তাধারা

(১২) দুশ্চিন্তা মুক্তি

(১৩) উদ্বেগের অবসান

(১৪) ভয়কে জয়

পর্ব ৫ : মনোবল বদলে দেয় সবকিছু

(১৫) সত্যিকারের আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি

(১৬) প্রবল ভালোলাগার পেছনে ছোটা

(১৭) সম্পর্কোন্নয়ন

আত্মশক্তি

*

আনিস কবির
জন্ম– মে, ১৯৭০ইং সালে

বাবা– প্রয়াত গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, মা– জহুরা বেগম। তিন ভাই-বোনের পরিবারে আনিস কবির দ্বিতীয়।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকা, বাংলাদেশ-এ। পড়াশোনা করেছেন বিভিন্ন বিষয়ে। বানিজ্য বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বাবার আগ্রহে চার্টার্ড একাউন্টেন্সি নিয়ে পড়া শুরু, তবে শেষ করা হয়নি। স্নাতোকোত্তর করেছেন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন এ। হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে তৃতীয় বারের মতো স্নাতোকোত্তর পর্ব শুরু করে মাঝপথে আবার ছেড়ে দেওয়া। উচ্চতর ডিপ্লোমা করেছেন আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনায়। এছাড়া সম্পন্ন করেছেন প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কোর্স।

এ পর্যন্ত কাজ করেছেন হিসাব, অর্থ, বিক্রয়, তথ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রশাসন, অফিস ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন বিভাগে। পড়াশোনা ও কাজের প্রয়োজনে অবস্থান করেছেন দেশ ও দেশের বাইরে। দেখেছেন বিচিত্র সমাজ ব্যবস্থা। পরিচিত হয়েছেন আরো বিচিত্র সব মানুষের সাথে। দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল আনিস কবির এর প্রকাশিত প্রথম অনুবাদগ্রন্থ।

*

মেল (মেলানি) রবিন্স
জন্ম– অক্টোবর, ১৯৬৮ইং সালে

মেল একজন আমেরিকান নারী টেলিভিশন ধারাভাষ্যকার, উপস্থাপক, লেখক এবং প্রেরণাদানকারী বক্তা। বড় হয়েছেন মিশিগান অঙ্গরাজ্যের উত্তর মুস্কাগান শহরে। ১৯৬৮ইং সাল থেকে ১৯৯০ইং সাল পর্যন্ত মেল ডাটর্মাউথ কলেজ-এ ইতিহাস, ছায়াছবি এবং নারী বিষয়ের উপর পড়াশোনা করেছেন। ১৯৯৪ইং সালে বস্টন কলেজ ল স্কুল থেকে তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।

১৯৯৬ইং সালে বিয়ে করেন ক্রিস্টোফার রবিন্স-কে, যিনি একজন উদ্যোক্তা, রেস্তোরাঁ মালিক এবং যোগ (ইয়োগা) শিক্ষক। বিবাহিত জীবনে তাদের তিন সন্তান– সয়্যার, কেন্ডাল এবং ওকলে।

২০১৪ইং সালে মেল তার অসাধারণ টেলিভিশন উপস্থাপনার জন্য গ্রাসি এওয়ার্ড এ ভুষিত হন। ২০১১ইং সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম বই– স্টপ সেয়িং ইউ আর ফাইন। ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০১৭ইং সালে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় বই– দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল। প্রকাশিত হওয়ার পর এর অডিও সংস্করণ-টি ছিল সর্বাধিক শ্রুত এবং ২০১৭ইং সালে আমাজন-এ ষষ্ঠ সর্বাধিক পঠিত বই।

*

প্রাত্যহিক মনোবল

মনোবল হলো এক প্রকার সক্ষমতা যা আমাদেরকে কঠিন, ভীতিকর অথবা অনিশ্চয়তাপূর্ণ কাজ করার শক্তি জোগায়।

মনোবল হলো জন্মগত বিষয়। এটা আমাদের সবার মাঝে বিদ্যমান। এবং এটা অপেক্ষা করে থাকে আপনার একে আবিষ্কার করবার আশায়।

এক মুহূর্তের মনোবল আপনার একটি দিন বদলে দিতে পারে। একটি দিন আপনার গোটা জীবনকে বদলে দিতে পারে। এবং একটি জীবন বদলে দিতে পারে গোটা পৃথিবী।

এটাই হলো মনোবলের প্রকৃত শক্তি, যা আপনাকে প্রকাশ করে। যা আপনার সর্বোৎকৃষ্ট সংস্করণ।

আবিষ্কার করুন আপনার মনোবল শক্তি যা আপনাকে আপনার সকল স্বপ্ন সত্যি করতে সাহায্য করবে, এবং যা বদলে দেবে সমস্ত পৃথিবী।

*

প্রথম পর্ব – দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল

(১) আপনার জীবন বদলে দেয়া ৫ সেকেন্ড সময়

আপনি কি এমন কাউকে খুঁজছেন যে আপনার জীবন বদলে দিতে পারে? তাহলে আয়নায় দেখুন।

আপনি এখানে এমন কিছু শিখতে চলেছেন যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এটা মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় যা আপনার জীবন বদলে দেবে। উদ্ভট শোনাচ্ছে, তাই নয় কি? মোটেও তা নয়। এটা বিজ্ঞান। আমি আপনাকে প্রমাণ করে দেব। একটি ৫ সেকেন্ড সময়ের সিদ্ধান্তে আপনি বদলে নেবেন আপনার জীবন। বস্তুতঃ এটাই একমাত্র উপায় যা আপনাকে বদলাতে পারে।

এটা হলো ফাইভ সেকেন্ড রুল (৫ সেকেন্ড সময় বিধি) সংক্রান্ত সত্যি গল্প। এটা কী, কেন এবং কেমন করে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময়ে এর ব্যবহারের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর মানুষ তাদের জীবন বদলে নিতে পারে, আমরা সেটাই দেখব। এটা শেখা অত্যন্ত সহজ কিন্তু এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। যে কোনো কিছুকে বদলে দেবার এটা হলো গোপন সূত্র।

তাৎক্ষণিকভাবে আপনি এর ব্যবহার শুরু করতে পারেন ঠিক যেই মুহূর্তে আপনি রুটি শিখে যাবেন। এটি প্রত্যহ আপনাকে আত্মবিশ্বাসের সাথে কাজ করতে, ভালোবাসতে এবং কথা বলতে সাহায্য করবে। একটিবার এর ব্যবহার করুন অতঃপর দেখুন সারাজীবন যখনই আপনার প্রয়োজন হবে, এটি আপনার কাজে লাগবে।

ফাইভ সেকেন্ড রুলটি আমি আমার জীবনের এমন একটি সময়ে প্রণয়ন করি যখন আমার চারদিকে সবকিছু ভেঙে পড়ছিল। সবকিছু বলতে আমি বোঝাতে চাইছি সবকিছুই। আমার বিবাহ, অর্থ, পেশা এবং আত্মমর্যাদা। সবকিছুই গর্তে পড়ে গিয়েছিল। আমার সমস্যাগুলো নিজের কাছে এত বড় মনে হতে লাগলো যে প্রতিদিন ভোরবেলা বিছানা থেকে উঠতে আমাকে নিজের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হতো। ঠিক এখান থেকেই শুরু। আমি আমার অভ্যাসগুলো এবং আলসেমির তালা ভাঙতে উদ্ভাবন করলাম দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল।

জীবনে প্রথমবার আমি যখন এই রুলটি প্রয়োগ করেছিলাম, এক মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল যেন বোকামি করছি। তখন কি আর আমি জানতাম যে উদ্ভাবন করে ফেলেছি এমন একটি শক্তিশালী আত্মবিনির্মাণ পদ্ধতি যা আমার জীবন, কর্ম এবং মানসিকতা সম্পূর্ণ বদলে দেবে?

দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল আমি যখন আবিষ্কার করলাম, আমি দেখতে পেলাম এর শক্তি অবিশ্বাস্য। আমি শুধু উঠেই দাঁড়ালাম না, বরং এটা আমার গোটা জীবনকে একটা ঝাঁকুনি দিল। আমি আমার টাকা-পয়সা, বিবাহ, পেশা, অভিভাবকত্বসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের জন্য আত্মবিশ্বাসের সহিত এই রুটি প্রয়োগ করেছিলাম। ব্যাংক থেকে চেক ফেরত আসাসহ আমার বিবাহের বিশ বর্ষপূর্তি উদ্যাপন নিয়ে পর্যন্ত আমাকে যুদ্ধ করতে হয়েছিল। নিজেকে দুঃশ্চিন্তামুক্ত করতে আমি আমার নিজহাতে গড়া দুটি ক্ষুদ্র ব্যবসা বিক্রি করে দিয়েছিলাম। অতঃপর আমি সি-এন-এন ও সাকসেস ম্যাগাজিন এর সহিত যুক্ত হই এবং বর্তমানে আমি সারা পৃথিবীতে পরিচিতি একজন সফল প্রেরণাদানকারী বক্তা। আমি এখন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। সুখী এবং মুক্ত। দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল ব্যতীত এর কোনো কিছুই আমার পক্ষে করা সম্ভবপর ছিল না।

দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল আমার সবকিছু বদলে দিয়েছিল এটা শেখানোর মাধ্যমে যে– কেমন করে বদলে যেতে হয়। এই রুলটি ব্যবহার করার মাধ্যমে আমি যে কোনো ছোট কাজ করার ব্যাপারে আমার পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অতিরিক্ত চিন্তা করার প্রবণতা ছাড়তে পেরেছিলাম। আত্ম তদারকি এবং অধিক উৎপাদনক্ষম হবার লক্ষ্যে আমি রুটি প্রয়োগ করি। এটা আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছিল যে, কেমন করে সন্দেহ করা বন্ধ করতে হয় এবং নিজের উপর, নিজের ধারণা ও সক্ষমতার উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হয়। এবং এই রুলটি অন্যের জন্য নয় বরং আমার নিজের জন্য, আমাকে অধিক উন্নত এবং সুখী মানুষ হতে ভেতর থেকে আমাকে শক্তি জুগিয়েছে।

দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল আপনার জন্য একইভাবে কার্যকর হতে পারে। আর তাই আমি এটি আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে উত্তেজনা বোধ করছি। পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে আপনি এই রুলটির পেছনের গল্প জানতে পারবেন। আপনি আবিষ্কার করবেন যে, কেমন করে আপনার প্রাত্যহিক মনোবল এবং একটি ৫ সেকেন্ড সময়ের সিদ্ধান্ত আপনার গোটা জীবনকে বদলে দিচ্ছে। অবশেষে আপনি জেনে যাবেন কেমন করে সর্বশেষ গবেষণালব্ধ কৌশলের সাহায্যে দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল ব্যবহার করে আপনি হতে পারেন অধিক স্বাস্থ্যবান, সুখী, উৎপাদনক্ষম এবং কার্যক্ষেত্রে সফল। এর ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি আরো জানতে পারবেন যে, কেমন করে দুঃশ্চিন্তামুক্ত হওয়া, উৎকণ্ঠা নিয়ন্ত্রণ, ভয়কে জয় এবং জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়।

এবং এটাই সব নয়। আপনি অসংখ্য প্রমাণ দেখতে পাবেন। এই রুলটি আপনাকে সঠিক সময়ে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে এটা যা করবে তা হলো– আপনার ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা, নেতা, সঙ্গীতশিল্পী, ক্রীড়াবিদ, অঙ্কন শিল্পী, এবং আপনার পরিবর্তিত প্রতিনিধিত্ব সমূহকে জাগিয়ে তুলবে।

প্রথম যখন আপনি রুলটি শিখবেন, আপনি আপনার লক্ষ্যে স্থির থাকার জন্য এর ব্যবহার শুরু করতে পারেন। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো নিজেকে সামনের দিকে ঠেলে দেওয়া যখন আপনি দেখবেন কোনো কাজ শুরু করার ব্যাপারে আপনার ভেতরে এক ধরনের অনীহা তৈরি হচ্ছে। অথবা আপনি হয়তো আপনার কর্মক্ষেত্রে আরো অধিক প্রভাবশালী হতে চাইছেন। ঠিক এভাবে মালযামে নামক এক ব্যক্তি প্রথমবার তার জীবনে এই রুলটি প্রয়োগ করেছিলেন যা তাকে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে পেশাগত লক্ষ্যস্থিরসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসার সাহস ও মনোবল জুগিয়েছিল। (এটা এমন কিছু যার ব্যাপারে আমাদের অনেকের ভেতর এক ধরনের ভয় কাজ করে)। ধন্যবাদ দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল। এটা সত্যিই অসাধারণ।

এই রুলটির আরেকটি অদ্বিতীয় ব্যাপার হলো– আমি হয়তো এটি উদ্ভাবন করেছি কিন্তু এটা শুধুই আমার গল্প নয়। এই বইটিতে আপনি পৃথিবীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের গল্প জানতে পারবেন যারা ছোট-বড় যে কোনোভাবে তাদের জীবনের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করার জন্য এই রুটি ব্যবহার করেছেন। তাদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা আপনাকে এটা বুঝতে সাহায্য করবে যে এই রুলটি ব্যবহারের ফলাফল কতটা ব্যাপক এবং ফলপ্রসূ।

আপনি নিজে অধিক উৎপাদনক্ষম হওয়ার জন্য রুলটি ব্যবহার করতে পারেন। লরা নামক একজন মহিলা রুলটি ব্যবহার করার পূর্বে তার প্রাত্যহিক কার্যতালিকা প্রস্তুত এবং তা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রতিনিয়তঃ নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতেন। এখন তার জীবনে আলসেমির আর কোনো জায়গা নেই– এখন শুধুই অ্যাকশন। লরা তার অর্থপ্রবাহ মাসিক চার হাজার ডলারে উন্নীত করেছেন, স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, চার হাজার ফুট পর্যন্ত পাহাড় ডিঙ্গানো শেষ করে এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন একটি ম্যারাথন দৌড়ে অংশগ্রহণ করার। এর সবই তিনি সম্পন্ন করেছেন দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল অনুসরণ করার মাধ্যমে।

আপনি আপনার নিরাপদ এলাকার বাইরে পা রাখতে এবং আরো অধিক যোগাযোগ স্থাপন করতে রুলটি ব্যবহার করতে পারেন। নিম্নে উল্লিখিত ব্যক্তিরা রুটি তাদের জীবনে প্রয়োগ করার মাধ্যমে সফলতা লাভ করেছেন ঠিক প্রথম যখন তারা রুলটি সম্পর্কে অবগত হন–

(১) কেইন– প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল কনফারেন্স-এর মুভারস অ্যান্ড শেকারস-এ অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে

(২) ম্যাথিও– সি-লেভেল নির্বাহীদের সৌজন্য কল করার মাধ্যমে উত্তর পাওয়ার ক্ষেত্রে।

(৩) এলান– পিজিএ ট্যুর ইভেন্ট-এ এক ডজনের উপর মানুষের সাক্ষাৎকার নেবার ক্ষেত্রে

আত্ম-তদারকি ও আপনার আবেগসমূহ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে এই রুলটি আপনি ব্যবহার করতে পারেন। জেনা নামক একজন মহিলা মা হিসেবে তার সন্তানদের সাথে রূঢ় আচরণ না করে বরং ধৈর্যশীল হওয়ার ক্ষেত্রে এই রুটি প্রয়োগ করেছিলাম। রুলটি তাকে মনোবল জুগিয়েছিল এবং অহেতুক ভাবনা চিন্তা বন্ধ রেখে ব্যবসার কাজে মনোনিবেশ করতে তাকে উৎসাহ জুগিয়েছিল।

পৃথিবীর নাম করা কিছু পণ্যের বিক্রয় নির্বাহীবৃন্দ তাদের ব্যবস্থাপনা, বিক্রয় কার্য, দলবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং উদ্বাবনী শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এই রুলটি ব্যবহার করছেন। যেমন ধরা যাক ইউ-এস-এর মি, ক্রিস্টাল, যার পুরো বিক্রয় প্রতিনিধি দলটি দ্য ফাইভ সেকেন্ড রু ব্যবহার করার মাধ্যমে তাদের নির্ধারিত এলাকার বিক্রয়সীমা অর্জনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্থান লাভ করেছিলেন। মি. ক্রিস্টাল-এর ভাষায় রুলটি শেখা খুবই সহজ এবং আত্মবিশ্বাস তৈরির ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক যা এই মুহূর্তে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবস্থাপকগণ তাদের কর্মীবাহিনীকে শিখিয়ে চলেছেন।

আপনি সেইসব লোকদের গল্প শুনে আরো উৎসাহিত হবেন যারা অহেতুক চিন্তা-ভাবনা ছেড়ে তাদের ধারণাসমূহ বাস্তবে প্রয়োগ করার মাধ্যমে নিজেদের মনোবল ফিরে পেয়েছিলেন। মার্ক নামক একজন যিনি শহরের বাচ্চাদের জন্য একটি অলাভজনক আইস হকি লীগ শুরু করার ক্ষেত্রে দশকব্যাপী চিন্তা-ভাবনা ছেড়ে শেষ পর্যন্ত তার ধারণাটিকে বাস্তবে রূপদান করতে পেরেছিলেন ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি ব্যবহার করার মাধ্যমে। তিনি এখন ক্যাম্প, ক্লিনিক এবং লীগ আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রাক্তন অলিম্পিয়ান ও ন্যাশনাল হকি লীগ অ্যালামনাই-এর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

আসক্তি ও বিষণ্ণতামুক্তির সংগ্রামেও দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল একটি শক্তিশালী যন্ত্র। বিল নামক এক ব্যক্তি রুটি সম্পর্কে জানতে পারেন যা তার কাছে ছিল– সঠিক সময়ে, সঠিক স্থানে একটি সঠিক তথ্য জানার মতো ব্যাপার। তিনি ক্ষণ গণনার এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করেছিলেন মদ্যপান ছেড়ে দেবার জন্য এবং এটি অসাধারণভাবে তার ক্ষেত্রে কাজ করেছিল। বিল একজন সম্পূর্ণ ভদ্র মানুষরূপে তার ৪০তম জন্মবার্ষিকীটি উদ্যাপন করেছিলেন।

এটা এমনকি আপনার জীবন রক্ষা করতে সক্ষম। সম্প্রতি আমার একজন সহকর্মী দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল সংক্রান্ত একটি মর্মস্পর্শী গল্প আমার সাথে শেয়ার করেছেন। স্বামী স্ত্রীতে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার পর সে গভীর বিষণ্ণতায় ডুবে গিয়েছিল। জেনে খারাপ লেগেছিল যে এ সময় সে আত্মহত্যা করার চিন্তা-ভাবনা পর্যন্ত করেছিল। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তৃতীয় কারো সাহায্য তাকে গ্রহণ করতে হবে। ৫-৪-৩ ২-১ ক্ষণ গণনার মাধ্যমে সে তার মনোবল ফিরে পেয়েছিল এবং তৎক্ষণাৎ নিজেকে রক্ষা করতে সাহায্য প্রার্থনা করেছিল, যা তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল।

দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিগত সাত বৎসরের অধিক সময় ধরে আমি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের প্রতিক্রিয়া জানতে চেষ্টা করছি এবং আমি এটা অনুভব করতে পারছি যে, আমরা প্রতিনিয়তঃ কঠিন, অনিশ্চিত এবং ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি। এমতাবস্থায় যা প্রয়োজন তা হলো আপনার মনোবল। আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবার মনোবল আপনি আবিষ্কার করতে পারেন ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি ব্যবহার করার মাধ্যমে।

কেমন করে একটি সহজ যন্ত্র শক্তিশালী উপায়ে বিভিন্নভাবে কাজ করে?

দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল হলো এমন কিছু যা একটি বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কার্যকর। আর তা হলো আপনি নিজে। আপনার আছে মহত্ত্ব। এমনকি আপনি যখন ভেঙে পড়েছেন, তখনও এটি আপনার ভেতরেই আছে। এই রুটি আপনাকে আপনার সেই মহত্ত্বের কথা শুনতে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে মনোবল জোগাবে।

রুলটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আমি লক্ষ্য করেছি যে, কোনো কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে আমি বছরব্যাপী চিন্তা-ভাবনা এবং অজুহাত খুঁজে বেড়িয়েছি। শুধুমাত্র কাজ শুরু করে দেবার মাধ্যমে আমি আমার অন্তর্গত শক্তিকে জাগাতে পেরেছিলাম এবং তাই হতে পেরেছি যা হতে চেয়েছিলাম। টেলিভিশনে, অনলাইনে এবং মঞ্চে আমি আমার সেই আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করতে পেরেছি। যা হলো সত্যিকারের আত্মবিশ্বাস। আমি নিজের ভেতর সত্যিকারের আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পেরেছিলাম নিজের অনুভূতিগুলোকে সম্মান প্রদর্শন করার মাধ্যমে যেন সেগুলো বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

সম্মান শব্দটি ব্যবহার করছি একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে। এটা আপনাকে রুলটি ব্যবহার করার সময় প্রয়োগ করতে হবে। নিজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে আপনি প্রকৃত অর্থে নিজের ধারণাগুলোকে বিজয়ী হতে সাহায্য করবেন। এবং প্রতিবার এর মাধ্যমে আপনি এক এক কদম তার কাছাকাছি যেতে থাকবেন যে রকম আপনি হতে চেয়েছেন।

আমি আমার নিজের ধারণাগুলোকে আত্মবিশ্বাসের সহিত শেয়ার করা, তার উপর কাজ করা এবং তাদের পেছনে ক্রমাগত ছুটে চলার মতো মনোবল সম্পন্ন ব্যক্তিত্বে নিজেকে পরিবর্তন করেছিলাম। আপনার ভেতরেও ঠিক এই রূপান্তরটি ঘটতে পারে যদি আপনি আপনার নিজের অনুভূতিগুলোকে সবসময় সম্মান দেখাতে পারেন এবং এই রুলটি ব্যবহারের মাধ্যমে তার উপর কাজ করতে পারেন।

মার্লো নামক একজন ভদ্রমহিলা এটা আবিষ্কার করেছিলেন যে, রুলটি ব্যবহার করার মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তন করা কতটা সহজ। এই রুটি শেখার কিছু দিনের মধ্যে মার্লো দুটি কোর্স সম্পন্ন করার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিন্তা করছিলেন এবং না করার বিভিন্ন অজুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। মার্লো বুঝতে পেরেছিলেন যে এটা একটি অসাধারণ ও উৎসাহব্যঞ্জক বিষয় যা করা খুবই সহজ যখন আপনি অহেতুক ভাবনা-চিন্তা বন্ধ করে নিজেকে শুধু একটু সামনে ঠেলে দেবেন।

সে ঠিকই বুঝতে পেরেছিল। যখনই আপনি নিজেকে সামনে এগিয়ে নিতে এই রুলটি ব্যবহার করবেন, আপনি দেখে আশ্চর্য হবেন যে একটি ৫ সেকেন্ড সময়ের সিদ্ধান্ত কি করে সবকিছু বদলে দিচ্ছে। আমি যেমন আমার জীবনে এই রুলটি অধিক থেকে অধিকতর ব্যবহার করেছি। আমি লক্ষ্য করছিলাম যে আমি দিনভর শুধু ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছি যা আমাকে পিছু টেনে ধরে রাখছে। এমতাবস্থায় আমি নিজেকে ৫ সেকেন্ড সময়ের জন্য সম্পূর্ণ চুপ করিয়েছি, অপেক্ষা করেছি এবং কোনো প্রকার ঝুঁকি নেয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি। আমার ভেতরে একটি বোধ কাজ করতো যা ঐ সকল সন্দেহ, দুঃশ্চিন্তা, অজুহাত অথবা ভয়কে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। সমস্যাটা ছিল আমি নিজেই এবং এর সমাধান নিহিত ছিল ৫ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে নিজেকে শুধু সামনের দিকে একটু ঠেলে দেওয়ার মধ্যে। নিজেকে বদলাবার এই গোপন সূত্রটি পুরোটা সময় ধরে আমার চোখের সামনেই ছিল।

২০০৫ সালে কেনইয়ন কলেজ-এর উদ্বোধনী বক্তৃতায় ডেভিড ফস্টার ওয়ালেস প্রদত্ত বক্তব্য কি আপনি শুনেছেন? না শুনে থাকলে ইউটিউবে খুঁজে দেখতে পারেন। যা শুনতে আপনার সর্বোচ্চ ২০ মিনিট সময় লাগতে পারে। কিন্তু এটা আপনার অনেক কাজে লাগবে। মি. ওয়ালেস এই কৌতুকটি বলে তার বক্তব্য শুরু করেছিলেন–

দুটি অপেক্ষাকৃত কম বয়সী মাছ পাশাপাশি সাঁতার কাটছিল এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল অপরদিক থেকে আসা একটি বয়স্ক মাছের সাথে সাক্ষাৎ করা। দেখা হওয়া মাত্র বয়স্ক মাছটি কম বয়সী মাছ দুটির দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল– ছেলেরা শুভ সকাল, তা পানি কেমন বুঝতে পারছো? অল্প বয়সী মাছ দুটি একটু দূরে সরে এসে একজন আরেক জনকে জিজ্ঞেস করলো– বুঝলাম না, পানি মানে কি?

আপনি ভিডিওটি দেখার এই পর্যায়ে দর্শকদের হাসির রোল শুনতে পাবেন। অতঃপর মি. ওয়ালেস মাছেদের এই গল্পের ব্যাখ্যায় বলেছেন– এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ ও আবশ্যিক বাস্তবতা যে, যা দেখা কঠিন, সেই সম্পর্কে কথা বলাও অত্যন্ত কঠিন।

আমার জন্য কঠিন বিষয় ছিল পরিবর্তনের প্রকৃতি দেখা এবং সেই সম্পর্কে কথা বলা। আমি অবাক হয়েছিলাম এটা দেখে যে, আমার পেশাগত উন্নতি, সম্পর্কের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য যা করা উচিত ছিল তা করতে আমার সমস্যা হচ্ছে। ফাইভ সেকেন্ড রুল আবিষ্কারের মাধ্যমে আমি কোটি টাকা মূল্যের জবাবটি জানতে পেরেছিলাম। জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসে মনোবল যা একটি ৫ সেকেন্ড সময়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে প্রতিদিনই আপনার প্রয়োজন।

একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবন থেকে আপনি একটি সিদ্ধান্তের দূরত্বে অবস্থান করছেন।

পরিবর্তন এবং প্রাত্যহিক মনোবল সম্পর্কে আমি যা শিখেছি তা এই বইটিতে আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চলেছি। আপনি যা শিখতে যাচ্ছেন তা অবশ্যই আপনার ভালো লাগবে বলে আমি মনে করি। এর সবচাইতে ভালো অংশটি হবে, যখন আপনি রুলটি ব্যবহার করতে শুরু করবেন এবং আপনার জন্য এটি কি ফলাফল বয়ে আনছে তা দেখতে শুরু করবেন। আপনি শুধু জেগেই উঠবেন না বরং আপনি নিজেকে এতদিন কতটা পেছনের দিকে ধরে রেখেছিলেন তাও বুঝতে পারবেন। আপনি আপনার অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করবেন।

বইটির গল্পগুলো আপনি যখন পড়বেন, আপনার মনে হবে দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি আপনি এর আগে নিজেও ব্যবহার করেছেন। আপনি যদি আপনার ফেলে আসা জীবনের দিকে ফিরে তাকান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্মরণ করেন তাহলে আমি আপনাকে নিশ্চিত করছি যে, আপনি দেখতে পাবেন আপনার সহজাত প্রবৃত্তি দ্বারা জীবন বদলে দেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত আপনি গ্রহন করেছিলেন। ৫ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে আপনি গ্রহণ করেছিলেন, আমি যাকে বলবো– হৃদয় উৎসরিত সিদ্ধান্ত। আপনি ভয়কে উপেক্ষা করে আপনার সাহস ও আত্মবিশ্বাসকে আপনার পক্ষে কথা বলার সুযোগ দিয়েছিলেন। খেয়াল করুন, ৫ সেকেন্ড সময়ের মনোবলটুকুই সব পার্থক্য তৈরি করে দেয়।

আপনি ক্যাথরিন-কে জিজ্ঞেস করতে পারেন। প্রথমবার যখন তিনি কোম্পানির নির্বাহী নেতৃত্বের অফসাইট থেকে রুলটি সম্পর্কে জানতে পারেন, তখনই তার উপলব্ধি হয় যে রুলটি ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি পূর্বেই নিয়েছিলেন। সেই সময়ে যা তিনি বুঝতে পারেননি। ১৯৯০ সালে তার বোন ট্রেসি মারা যায় এবং ক্যাথরিন তার পরিবারকে সাহায্য করতে বাড়ি ফিরে আসে। সেই সময় একটি ৫ সেকেন্ড সময়ের সিদ্ধান্ত কেবল তার নিজের জীবনই বদলে দেয়নি বরং তার সাথে আরো অনেকের জীবন বদলে দিয়েছিল। ক্যাথরিন তার মৃত বোনের ছোট দুটি বাচ্চা লালন-পালন করার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এটা দেখে আমার ভালো লেগেছিল যে, ক্যাথরিন তার এই সিদ্ধান্তটি আমার কাছে বর্ণনা করতে গিয়ে একে মস্তিষ্ক বহির্ভূত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন– কারণ আপনাকে এটা মনে রাখতে হবে যে, আপনি যখন কোনো কাজ করতে গিয়ে আপনার মনোবল শক্তির ব্যবহার করবেন, আপনার মস্তিষ্ক সেখানে কাজ করবে না। আপনি শুনতে পাবেন আপনার হৃদয় কথা বলছে। কেমন করে, সেটাই আপনাকে শেখাবে দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল। প্রশ্ন হলো– এটা কি আপনার ভেতরকার শক্তিকে আবিষ্কার করার কোনো উদ্যোগ নেবে? হ্যাঁ, নেবে। কিন্তু মার্লো ইতিপূর্বে এটাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিল– এটি খুবই বিস্ময়কর এবং অবিশ্বাস্য, কারণ আপনি যখন কোনো কিছু শুরু করে দেবেন তখন তা কত সহজ হয়েই না ধরা দেয়।

নিজের জীবনকে উন্নত করার জন্য কোনো কিছু করা সহজ, আপনি এটা করতে পারেন এবং আপনি এটা করতে চান। কারণ এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এটা হলো সেই কাজ যার দ্বারা আপনি নিজেকে ভালোবাসা ও বিশ্বাস করার মাধ্যমে আপনার জীবন, কর্ম এবং সম্পর্কগুলোর মধ্যকার জাদু ও আনন্দের বিচ্ছুরণ সম্পর্কে জানতে পারবেন। ফাইভ সেকেন্ড রুল্ল-টি ব্যবহার করার পর আপনার জীবনে কি কি পরিবর্তন ঘটবে তা জানতে আমি খুবই উগ্রীব। কিন্তু আমি এর গল্পটি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এই রুলটি ব্যবহারের সব উত্তেজনাপূর্ণ উপায়গুলো বর্ণনা করার পূর্বে আমি আপনাকে ২০০৯ সালে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই যেখান থেকে সবকিছুর শুরু।

মনোবল বলতে আমরা কি বুঝি?

* কোনো কিছু করার সক্ষমতা যা আপাতঃদৃষ্টিতে কঠিন বা ভয়ঙ্কর

* আপনার নিরাপদ এলাকার বাইরে পা রাখা

* আপনার ধারণাগুলো শেয়ার করা, কথা বলা অথবা প্রদর্শন করা

* আপনার বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ব্যাপারে দৃঢ় থাকা

* এবং একদিন… বিছানা ছেড়ে উঠে পড়া

*

(২) কেমন করে দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুটি আবিষ্কার করলাম

মনোবল অসম্ভাব্য জায়গায় দেখতে পাওয়া যায়।

— জে. আর. আর. টলকিন

এর শুরু ২০০৯ সালে। আমার বয়স তখন ছিল ৪১ বৎসর এবং আমি টাকা-পয়সা, কাজ এবং আমার বিবাহসংক্রান্ত কিছু বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পরপরই আমি এক ধরনের ভীতি অনুভব করতাম। আপনি কি কখনো এরকম অনুভব করেছেন? এটা খুব খারাপ অনুভূতি। ঘড়িতে অ্যালার্ম বাজছে অথচ আপনি বিছানা থেকে উঠে সামনের দিনটির মুখোমুখি হতে চাইছেন না। অথবা রাতের বেলা আপনি হয়তো আপনার সমস্ত সমস্যাগুলো মাথায় নিয়ে শুধু শুধু জেগে থাকছেন।

আমার অবস্থা ঠিক এরকমই ছিল। মাসকয়েক ধরে আমার সমস্যা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছিল যে আমি খুবই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম এবং ভোরবেলা বিছানা ছেড়ে প্রায় উঠতেই পারতাম না। ঘড়িতে যখন ভোর ৬টার অ্যালার্ম বাজতো, আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে সামনের দিনটির কথা, আমার ঘর, আমার নেতিবাচক ব্যাংক হিসাব এবং আমার স্বামী আমার উপর কতটুকু বিরক্ত এসব নিয়ে ভাবতে থাকতাম এবং একটা সময় আমি আবার ঘুমের ঘোরে তলিয়ে যেতাম। একবার নয়, এটা বারবার আমার সাথে ঘটে চলছিল।

শুরুতে এটাকে আমার খুব বড় কোনো সমস্যা মনে হতো না। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যখন এটাই একটা খারাপ অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেল তখন সারাদিনের জন্য আরো বড় একটি সমস্যা হয়ে দেখা দিল। শেষ পর্যন্ত আমি যখন বিছানা থেকে নেমে আসতাম, ইতিমধ্যে আমার বাচ্চারা তাদের স্কুলবাস মিস করেছে আর আমার নিজের কাছে মনে হচ্ছে জীবনটাই বুঝি ব্যর্থ। বেশিরভাগ দিনই আমি ক্লান্ত হয়ে পড়তাম, দেরি করতাম এবং নিজেকে বিধ্বস্ত মনে হতো। আমি জানিনা এটা কিভাবে শুরু হয়েছিল– শুধু মনে করতে পারি নিজেকে পরাজিত মনে হতো। আমার পেশাগত জীবন আক্ষরিক অর্থে গর্তে পড়ে গিয়েছিল। বিগত ১২ বৎসর যাবৎ আমি এতবার আমার পেশা বদল করেছি যে, আমার ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিসত্ত্বা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আইন বিষয়ে স্নাতক অর্জন করার পর আমি নিউইয়র্ক শহরে অপরাধীদের আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিরক্ষা সোসাইটির একজন পাবলিক ডিফেন্ডার হিসেবে আমার কর্মজীবন শুরু করেছিলাম।

এরপর আমার বর্তমান স্বামী ক্রীস-এর সাথে আমার দেখা হয়। আমরা বিয়ে করি এবং বোস্টন শহরে চলে আসি যাতে করে ক্রীস তার এম-বি-এ শুরু করতে পারে। বোস্টন শহরে একটি বড় ল ফার্মে আমি প্রতিদিন লম্বা সময় ধরে পাগলের মতো কাজ করতাম। নিজেকে সবসময় আমার দুর্দশাগ্রস্ত মনে হতো। আমার কন্যার জন্মের সময়ে একটি নতুন চাকরি খোঁজার জন্য আমি আমার প্রসূতিকালীন ছুটি ব্যবহার করেছিলাম এবং এটা ছিল বোস্টন শহরে আমার শুরুর দিককার দৃশ্যপট। আমি ঐ বছরগুলোতে বিভিন্ন কারিগরি কাজে সম্পৃক্ত ছিলাম। এটা ছিল মাজার অভিজ্ঞতা এবং এখান থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছিলাম বটে কিন্তু আমার কখনোই মনে হয়নি এটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য সঠিক ছিল।

আমি একজন প্রশিক্ষকের স্মরণাপন্ন হয়েছিলাম যে আমাকে জীবনে কি করা উচিৎ সেই সম্পর্কে একটি ধারণা দিয়েছিল। একজন প্রশিক্ষকের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে তাই হতে সহায়তা করেছিল যা আমি হতে চেয়েছিলাম। সুতরাং, আমি আরো অনেকের মতো কাজ করতে শুরু করি, বাড়ি ফেরার পর বাচ্চাদের দিকে নজর দিতে শুরু করি এবং রাতের বেলা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকি যাতে করে আমি আমার প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেটটি অর্জন করতে পারি। অবশেষে, আমি একটি প্রশিক্ষণ ব্যবসা চালু করি যা আমার খুব প্রিয় ছিল এবং সম্ভবত এখন পর্যন্ত আমি এই ব্যবসাটিই চালিয়ে যেতাম যদিনা মিডিয়া আমাকে ডেকে নিতো।

আমার মিডিয়া জগতে প্রবেশ ছিল একটু অদ্ভুত। ইন ম্যাগাজিন আমার প্রশিক্ষণ ব্যবসার উপর একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল যা সিএনবিসির একজন নির্বাহীর নজরে পড়ে এবং ফলশ্রুতিতে তিনি আমাকে ডাকেন। সেই একটি ডাকের সূত্র ধরে আরো অনেকের সাথে আমার সাক্ষাৎ ঘটে। বেশ কয়েক মাস চেষ্টার পর এবিসি রেডিওর সাথে একটি অনুষ্ঠান করার ব্যাপারে আমি চুক্তিবদ্ধ হই। অভিনব শোনাচ্ছে কি? কিন্তু এটা তা ছিল না। আমি খুবই বিস্মিত হয়েছিলাম এটা দেখে যে, এ ধরনের কর্মসূচি থেকে প্রায় কিছুই উপার্জন হতো না। রেডিও এমনকি আরো অনেক কম প্রদান করতো। বাস্তবে আমি নিউইয়র্ক শহরে তিনটি বাচ্চাকে নিয়ে গাড়ি চালাতাম, বন্ধুদের বাড়ির কাউচে ঘুমাতাম, ক্লায়েন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতাম, কি করে বাচ্চাদের দেখাশোনা করার মাঝখানে শূন্যতাগুলো পূরণ করা যায় তা বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে শিখে নিতে চেষ্টা করতাম এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতাম যাতে বিষয়গুলো আমার কাজে লাগে।

মিডিয়া জগতে বেশ কয়েক বছর এদিক-সেদিক করার পর আমি একটা বড় সুযোগ পেলাম। ফক্স টেলিভিশন-এ একটি রিয়েলিটি শো উপস্থাপনা করার জন্য আমি নির্বাচিত হলাম। একজন টেলিভিশন স্টার হওয়ার মাধ্যমে আমার সব আর্থিক সমস্যাগুলোর জাদুকরী সমাধানের ব্যাপারে আমার একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। যাই হোক, আমরা কয়েকটি পর্বের দৃশ্যধারণ করি যার শিরোনাম ছিল- কেউ একজনকে যেতে হবে এবং তারপর তা প্রদর্শন করার জন্য উপস্থাপন করি। একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমার মিডিয়া পেশা প্রায় শেষ হতে চলেছিল। আমি লক্ষ্য করেছিলাম যখন দৃশ্য ধারণ করার কাজ চলতো, তখনই শুধু আমার পারিশ্রমিক প্রদান করা হতো। নিজেকে আমার বেকার মনে হলো এবং মিডিয়াতে আবার একটি নতুন কাজ খোঁজা রুখতে আমি দশমাসের একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করলাম।

ইতিমধ্যে ক্রীস তার এম-বি-এ সম্পন্ন করে বোস্টন শহরে তার একজন প্রিয় বন্ধুকে সাথে নিয়ে একটি পিজা রেস্টুরেন্ট শুরু করলো যা প্রথমদিকে খুব ভালো চলেছিল। তাদের প্রথম ঠিকানাটি ছিল একটি বাড়ি এবং তাদের প্রতিষ্ঠানটি বোস্টন এলাকার একটি সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কৃতও হয়েছিল। সঙ্গে ছিল আরো কিছু আঞ্চলিক স্বীকৃতি এবং তাদের তৈরি পিজা ছিল সত্যিই অসাধারণ। শিগগিরই তারা তাদের দ্বিতীয় রেস্টুরেন্ট চালু করা, একটি বড় মুদি দোকান এবং পরবর্তী পর্যায়ে পাইকারি ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছিল। বাইরে থেকে দেখে মনে হতো তাদের ব্যবসা ফুলে-ফেঁপে উঠছে কিন্তু আর্থিক হিসাব বিবরণী দেখে বোঝা যাচ্ছিল প্রকৃত প্রস্তাবে ব্যবসার চাকা বন্ধ হতে শুরু করেছে। তারা তাদের ব্যবসা খুব দ্রুতগতিতে বাড়াচ্ছিল। দ্বিতীয় রেস্টুরেন্টটি চালু করার পর তা ঠিকমতো দাঁড়ালো না এবং পাইকারি ব্যবসাটি পরিচালনার জন্য আরো অধিক নগদ অর্থের প্রয়োজন পড়লো। অবস্থা খুব দ্রুত ভীতিকর পরিস্থিতির রূপ নিল।

আরো অনেক ব্যবসা মালিকদের মতো আমরাও আমাদের বাড়ির স্টক শেয়ার এবং ভবিষ্যতের সঞ্চয়গুলো রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলাম যা চোখের সামনে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছিল। আমাদের আর কোনো সঞ্চয় অবশিষ্ট ছিল না এবং বাড়ির স্টক শেয়ারের অংশটি আটকা পড়ে গিয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রীস-এর উপার্জন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঋণের বোঝা আমাদের বাড়িটিকে আঘাত করে বসলো।

আমার পেশাগত সমস্যা, ক্রীসের ব্যবসা নিয়ে সংগ্রাম, পাহাড়সম আর্থিক চাপ, অ্যাটর্নিদের কাছ থেকে ভীতিকর চিঠি এবং ক্রমাগত ব্যাংক থেকে চেক ফেরত আসতে লাগলো। এতো নিরলসভাবে পাওনাদারদের তাগাদা আসতে লাগলো যে আমরা আমাদের ফোনের সংযোগটি খুলে রাখতে বাধ্য হলাম। আমার বাবা যখন আমাকে মর্টগেজের কিস্তি পরিশোধ করার জন্য টাকা পাঠালো, আমি যুগপৎ কৃতজ্ঞতা ও লজ্জিতবোধ করলাম। আমরা চেষ্টা করছিলাম মানুষজনদের মাঝে উপস্থিত থাকার, কারণ আমাদের অনেক বন্ধু ও আত্মীয় পরিজন আমাদের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু এতে করে কেবল উল্টো চাপই সৃষ্টি হচ্ছিল। ক্রীস ও তার বন্ধু ব্যবসাটিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিল। আমি চেষ্টা করতাম নিজের মুখ বন্ধ রাখতে কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি বিব্রত, বিপর্যস্ত এবং ভীত হয়ে পড়েছিলাম। আমাদের আর্থিক সমস্যাগুলো আমাদের মাঝখানে দূরত্ব তৈরি করছিল। আমি তাকে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার জন্য এবং সে আমাকে মিডিয়া পেশার জন্য দায়ী করতে শুরু করলো। আমরা সত্যি বলতে কি, উভয় উভয়ের প্রতি দোষারোপ করে যাচ্ছিলাম।

আপনি চাইলে আপনার জীবন প্রকৃত অর্থে যতটা খারাপ একে তার চাইতে আরো অনেক বেশি খারাপ করে তুলতে পারেন। আমিও করেছিলাম। আমি অতিরিক্ত মদ্যপান শুরু করি। আমি আমার সেই সব বন্ধুদের ঈর্ষা করতে শুরু করি যাদের কোনো কাজ করতে হতো না। আমি বিদ্বেষপূর্ণ হয়ে উঠছিলাম এবং সহজেই কোনো বিষয়ের উপর রায় দিয়ে দিতাম। সমস্যাগুলো আমার কাছে এত বড় মনে হতে লাগলো যে নিজেকে আমি এই বলে বোঝালাম– এখানে আমার কিছুই করার নেই। অন্যদিকে মানুষজনদের মাঝখানে আমি এমন ভাব দেখাতে লাগলাম– যেন কিছুই হয়নি।

গোপনে আমি এটা দেখতে পাচ্ছিলাম যে, আয়নায় নিজেকে দেখা ও নিজেকে তুলে দাঁড় করানোর চাইতে নিজের জন্য দুঃখবোধ করা এবং ক্রীস ও তার ব্যবসা নিয়ে করা সংগ্রামকে দোষারোপ করাটা অনেক বেশি সহজ। আমার প্রকৃত অবস্থা বোঝানোর সর্বোত্তম উপায় ছিল এটা বলা যে– আমি আটকা পড়ে গেছি। মনে হচ্ছিলো নিজের জীবন ও সিদ্ধান্তগুলোর মাঝে আমি আটকা পড়ে গেছি। আমাদের আর্থিক সমস্যাগুলোর মাঝে আমি আটকা পড়ে গেছি। এবং আমার মনে হচ্ছিলো আমার সঙ্গে আমার হতাশাজনক সংগ্রামও আটকা পড়ে গেছে। আমি জানতাম সবকিছু ঠিক করার জন্য আমাকে কি করতে হবে কিংবা কি করা উচিত। কিন্তু জিনিসগুলো করার জন্য নিজেকে আমি ঠিক তৈরি করতে পারছিলাম না। বিষয়গুলো ছিল ছোট ছোট। যেমন– সময়মতো বিছানা ছেড়ে ওঠা, ক্রীস-এর প্রতি মনোযোগী হওয়া, বন্ধুদের সমর্থন আদায় করা, মদ্যপান কমিয়ে আনা এবং নিজের প্রতি আরো একটু বেশি যত্নবান হওয়া।

শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম করার ব্যাপারে আমার চিন্তা করা দরকার ছিল, কিন্তু আমি তা করতে পারছিলাম না। কথা বলার জন্য বন্ধুদের কল করা উচিত ছিল, কিন্তু আমি করিনি। আমি জানতাম যে মিডিয়া জগতের বাইরে একটি কাজের জন্য আমি যদি চেষ্টা করি তাহলে সেটা হয়তো আমাকে সাহায্য করবে, কিন্তু নিজেকে উৎসাহিত করতে আমি ব্যর্থ হই। আমি পুনরায় প্রশিক্ষণ ব্যবসায় ফিরে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলাম না কারণ নিজেকে আমার ব্যর্থ মানুষ মনে হচ্ছিলো। আমি জানতাম কি করা প্রয়োজন কিন্তু বাস্তবে তা করার জন্য নিজেকে আমি প্রস্তুত করতে পারছিলাম না। আর এটাই কোনো পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তোলে। কোনো কিছু পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে তাই করতে হবে যা আপনার কাছে মনে হবে কঠিন ও ভয়ঙ্কর। পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন মনোবল ও আত্মবিশ্বাস এবং আমি এই দুটির বাইরে চলে গিয়েছিলাম।

আমি চিন্তা ভাবনার পেছনে অনেক বেশি সময় ব্যয় করতাম। অধিক চিন্তা সবকিছু খারাপের দিকে নিয়ে যায়। আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম সে সম্পর্কে আমি যতই ভেবেছি ততই ভীত হয়েছি। আপনার মস্তিষ্ক ঠিক এই কাজটিই করবে যখন আপনি কোন সমস্যা নিয়ে অধিক চিন্তা-ভাবনা করবেন। এটা আপনার সমস্যাগুলোকে আরো বড় করে তুলবে। আমি যত বেশি চিন্তা করছিলাম ঠিক ততবেশি অনিশ্চিত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছিলাম, ততবেশি বিবশ অনুভব করছিলাম।

প্রতি রাতে প্রচুর মদ্যপান করে পাড় মাতাল হয়ে আমি বিছানায় যেতাম এবং চোখ বোজামাত্র একটি ভিন্ন জীবনের স্বপ্ন দেখতাম যেখানে আমার কোনো কাজ করার নেই এবং আমাদের সমস্যাগুলো জাদুমন্ত্রের মতো অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। এবং যে মুহূর্তে আমার ঘুম ভেঙে যেত, আমাকে মুখোমুখি হতে হতো কঠিন বাস্তবতার। মনে হতো যেন আমার জীবনটাই একটা দুঃস্বপ্ন।

এখানেই দেখা দিত ঘুমিয়ে পড় নামক বোতামটি যা প্রতিদিন ভোরে আমি দু-তিনবার কখনোবা চারবার পর্যন্ত টিপে দিতাম। ঘুমিয়ে পড় নামক বোতামটি টিপে দেবার পর এক মুহূর্তের জন্য মনে হতো সবকিছু আমার নিয়ন্ত্রণেই আছে। এটা ছিল নিজেকে উল্টোপাল্টা বলার মতো–

ঠিক আছে, জীবন তুমি জাহান্নামে যাও। আমি উঠছি না। আমি এখন আবার ঘুমুতে চলেছি। আবার সেখানে।

শেষ পর্যন্ত আমি যখন জেগে উঠি, ইতিমধ্যে ক্রীস রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেছে, বাচ্চারা স্কুলের পোশাক নিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় আছে এবং তাদের স্কুলবাস অনেক আগেই ছেড়ে চলে গেছে। বলতে গেলে সকালগুলো ছিল বিশৃঙ্খলাপূর্ণ যা আরো কিছুটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যেতো। আমি সবসময় দেরি করতাম। যেহেতু খুব দ্রুত আমাকে বের হতে হবে, তা করতে গিয়ে প্রতিনিয়তঃ আমি দুপুরের খাবার, আমার ব্যাগ, জিমব্যাগ এবং কর্মস্থলে প্রবেশের অনুমতিপত্র সঙ্গে নিতে ভুলে যেতাম। আমার নিজের কাছেই খুব লজ্জা লাগতো। মনে হতো নিজেকে আমি কোনো প্রান্তরেখার দিকে ঠেলে দিচ্ছি।

এই হলো বিষয়। সঠিকভাবে একটি দিন শুরু করতে কি কি করা প্রয়োজন তা আমার জানা ছিল। আমাকে ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হবে, নাশতা তৈরি করতে হবে এবং ঠিক সময়ে বাচ্চাদের স্কুলবাসে তুলে দিতে হবে। অতঃপর আমাকে একটি নতুন কাজের খোঁজ করতে হবে। এগুলো এভারেস্ট পর্বতে চড়ার মতো কোনো বড় ব্যাপার ছিল না। এটা ছিল সহজ বিষয়গুলোকে অকারণে জটিল করে তোলা। আমার কাছে এমন কোনো যুৎসই অজুহাত ছিল না যাতে করে আমি নিজেকে বোঝাতে পারি, ঠিক কি কারণে কাজগুলো আমি করতে পারছিলাম না। আমার আত্মবিশ্বাস সর্পিল গতি লাভ করেছিল। এটা (আমার আত্মবিশ্বাস) এমনকি সঠিক সময়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না। কেমন করে এটা তাহলে আমার ভেতরে বিশ্বাস তৈরি করবে যে আমার আর্থিক সমস্যাগুলো এবং ক্রীস-এর সাথে আমার বৈবাহিক সমস্যাগুলো আমি সমাধান করতে পারি?

আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন ছোট বিষয়গুলো কেমন করে এতটা কঠিন মনে হয়? অনেকের কাছ থেকে শুনে আমার এটা মনে হয়েছে যে, এই ব্যাপারে আমি একা নই। এই ছোট অথচ কঠিন বিষয়গুলোর তালিকা সারা পৃথিবীতে আশ্চর্যজনকভাবে একই। যেমন :

*মিটিং-এ কথা বলা

*ইতিবাচক থাকা

*সিদ্ধান্ত গ্রহণ

* নিজের জন্য সময় ব্যয় করা

* প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা

* হাত তোলা

* উঠে দাঁড়ানো

* নিজের প্রতি সন্দেহের অবসান

*আত্মোন্নয়ন

*ই-মেইলগুলো পাঠিয়ে দেওয়া

*নিজের পরিকল্পনায় স্থির থাকা

*ঘর থেকে বের হওয়া

*স্বেচ্ছাসেবী হওয়া

*পূণর্মিলনীতে যোগ দেওয়া

* কোনো প্রাক্তনকে সামাজিক মাধ্যমে ব্লক করা

*আকর্ষণীয় কারো সাথে কথা বলা

*আনন্দ উচ্ছ্বাসে যোগ দেওয়া

*নিজের কাজ প্রকাশ করা

*জিমনেসিয়াম যাওয়া

*আহারে সংযমী হওয়া

* “না” বলা

* সাহায্য প্রার্থনা করা

* নিজেকে পাহারা দেওয়া

*ভুল স্বীকার করা

*শোনা

আমার ক্ষেত্রে এমন হয়েছিল যে প্রতিরাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করছি– আগামীকালই আমি নিজেকে পরিবর্তন করবো। আমার প্রতিজ্ঞাগুলো এমন হতো যে–

আমি বদলে যাবো। ভোরে ঠিক সময়ে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়বো। আগামীকাল আমি ভালো ব্যবহার করব এবং একটু কঠিন চেষ্টা করবো। জিমনেসিয়াম যাবো। স্বামীর প্রতি দৃষ্টি দেবো। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাব। অতিরিক্ত মদ্যপান ছেড়ে দেবো। আগামীকাল আমি ভবিষ্যতের আমি হবো।

এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং আশা-পূর্ণ হৃদয় নিয়ে আমি ভোর ৬টায় আমার ঘড়ির অ্যালার্ম সেট করে ঘুমুতে যেতাম। এবং প্রাকৃতিক নিয়মে আবার সেই পুরনো চক্রে আমার দিন শুরু হতো। ভোরবেলা যখন আমার ঘড়ির অ্যালার্ম বেজে উঠতো, আমি ভবিষ্যতের আমাকে অনুভব করতাম না। বরং মনে হতো আমি সেই একই আছি যে কিনা আবার ঘুমিয়ে পড়তে চায়।

হ্যাঁ, আমি উঠে পড়ার কথা ভেবেছি এবং তারপর আবার দ্বিধান্বিত হয়েছি। একদিকে ঘড়ির অ্যালার্ম এবং অন্যদিকে ঘুমিয়ে পড় নামক বোতাম। নিজেকে এর বাইরে বের করে আনতে আমার মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় লেগেছিল। বিছানা থেকে আমার উঠতে না পারার কারণটি ছিল খুবই সহজ। আমি শুধু এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারছিলাম না। পরবর্তীতে আমি জানতে পেরেছিলাম, এটা ছিল গবেষকরা যাকে বলে থাকেন অভ্যাসের বৃত্তে আটকা পরা। ঘুমিয়ে পড় নামক বোতামটি ভোরবেলা আমি এতবার টিপেছি যে একটা সময় এটা আমার মস্তিষ্কে প্রাত্যহিক নিয়ম হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে গিয়েছিল।

অতঃপর, একরাতে সবকিছু বদলে যায়।

আমি যেই মাত্র টেলিভিশনটি বন্ধ করে বিছানায় যাওয়ার কথা ভাবছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে আমার দৃষ্টি টেলিভিশনের পর্দায় আটকে যায়। পর্দায় তখন রকেট-এ করে একটি মহাশূন্যযান উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল। আমি শেষ ৫ সেকেন্ড সময় গণনা শুনতে পেলাম ৫-৪-৩-২-১, অতঃপর আগুন ও ধোঁয়ায় টেলিভিশন পর্দাটি ভরে উঠলো এবং সঙ্গে সঙ্গে রকেট-টির উৎক্ষেপণ।

মনে মনে ভাবলাম ঠিক আছে, আগামীকাল ভোরে ঠিক এইভাবে আমি নিজেকে বিছানা থেকে তুলে দেব। একটি রকেট উৎক্ষেপণের মতো। আমি খুব দ্রুত কাজটি করব যাতে করে নিজের সঙ্গে কথা বলার সময় না পাওয়া যায়। এটা ছিল আমার একটি বোধ যা আমি সহজেই আবার বাতিল করে দিতে পারতাম। সৌভাগ্যক্রমে আমি দেইনি। আমি এর উপর কাজ করেছিলাম।

আসলে আমি আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে চেয়েছিলাম। আমি আমার বৈবাহিক সম্পর্কটি ধ্বংস হয়ে যাক তা দেখতে চাইনি কিংবা নিজেকে একজন খারাপ মা হিসেবেও দেখতে চাইনি। আমি আর্থিক নিরাপত্তা চেয়েছিলাম। আমি নিজেকে নিয়ে সুখী ও গর্ববোধ করতে চেয়েছিলাম।

পরিবর্তিত হওয়ার জন্য আমি বেপরোয়া ছিলাম। শুধু জানতাম না কেমন করে।

এটা আমার গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। বিছানা থেকে নিজেকে তুলে আনার এই প্রবৃত্তিটি ছিল আমার ভেতর থেকে কারো কথা বলা। এটা শোনা ছিল আমার প্রান্তিক পয়েন্ট। এবং এর নির্দেশনা অনুসরণ করা ছিল জীবন বদলে দেওয়ার মতো। আপনার শরীর ও মস্তিষ্ক আপনাকে উঠে দাঁড়াতে এবং মনোযোগ দিতে সংকেত পাঠাবে। কিছু সময়ের জন্য আপনার মনে হতে পারে আপনার এই বোধগুলো অর্থহীন, কিন্তু আপনি যখন এদের প্রতি সম্মান দেখাতে শুরু করবেন, দেখতে পাবেন আপনার জীবন বদলে যেতে শুরু করেছে।

এখানে আপনার প্রবৃত্তিগুলোর উপর কাজ করার চাইতে আরো বেশি কিছু রয়েছে যাকে বলা যায়– নিজের অন্তরকে বিশ্বাস করা। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যলয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, আপনার মস্তিষ্ক এবং প্রবৃত্তিগুলোর মাঝে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে যা অত্যন্ত ক্রীয়াশীল। আপনি যখন একটি লক্ষ্য স্থির করেন, আপনার মস্তিষ্ক একটি কার্যতালিকা প্রস্তুত করে। যখনই আপনি আপনার লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছুবেন, আপনার মস্তিষ্ক আপনার প্রবৃত্তিগুলোকে লক্ষ্য পূরণের জন্য তাগাদা দেবে।

ধরা যাক আপনি আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতিকল্পে একটি লক্ষ্যস্থির করেছেন। এখন আপনি যদি আপনার শোবার ঘরে পায়চারি করেন, তাতে করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আপনি যদি জিমনেসিয়াম-এর পথে হাঁটেন, তাহলে আপনি লক্ষ্যপূরণের কাছাকাছি যেতে শুরু করবেন। আপনি যখন জিমনেসিয়াম গিয়ে পৌঁছুবেন, আপনার মনে হতে থাকবে– ব্যায়াম শুরু করা উচিত। এটা হলো প্রবৃত্তি যা আপনাকে আপনার লক্ষ্য স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এটাকে আপনি অন্তর্গত জ্ঞানও বলতে পারেন এবং এর প্রতি মনোযোগী হওয়া জরুরি, আপনার প্রবৃত্তিটি ছোট কিংবা অর্থহীন যাই মনে হোক না কেন।

অবচেতনভাবে আমার মস্তিষ্ক টেলিভিশনে রকেট উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়াটির প্রতি মনোযোগী হতে আমাকে সংকেত দিচ্ছিল। নির্দিষ্ট সেই ৫ সেকেন্ড সময়ে আমার মস্তিষ্ক আমাকে কিছু পরিষ্কার দিক-নির্দেশনা দিয়েছিল–

মেল, রকেট উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়াটির প্রতি মনোযোগী হও। মেল, ধারণাটি আত্মস্থ কর এবং কাজ কর। থেমো না এবং চিন্তা করো না। এ ব্যাপারে নিজের সঙ্গে বেশি কথা বলতে যেয়ো না। মেল, আগামীকাল ভোরে ঠিক এভাবেই নিজেকে বিছানা থেকে তুলে দিও।

এটা হলো সেই একটি ব্যাপার যা আমি ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি ব্যবহারের মাধ্যমে শিখেছিলাম। যখন এটা আপনার লক্ষ্য, স্বপ্ন এবং জীবন বদলে দেবে, আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার অন্তর্গত জ্ঞান একটি প্রতিভা। আপনার লক্ষ্য সম্পর্কিত তাড়না, আকাঙ্ক্ষা এবং প্রবৃত্তিগুলো আপনাকে পথ দেখাবে। আপনাকে নিজের উপর বাজি ধরা শিখতে হবে। ইতিহাস প্রমাণ করে যে, আপনি যখন নিজের উপর যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্বাস রাখবেন এবং তার উপর কাজ করবেন, তখন আপনি বুঝতেও পারবেন না যে আপনার সর্বশ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণাটি কখন কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং তা আপনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কিছু উদ্ভাবন এভাবেই আবিষ্কৃত হয়েছিল। ১৮২৬ সালে জন ওয়াকার কাঠি দিয়ে রাসায়নিক মিশ্রিত একটি পাত্রে নাড়তে নাড়তে দেখতে পান কাঠিটির অগ্রভাগে আঠালো পদার্থের একটি দলা তৈরি হয়েছে এবং তা জ্বলজ্বল করছে। আর এখান থেকেই আবিষ্কৃত হয়েছিল ম্যাচবাতি/ম্যাচকাঠি। জন ওয়াকার তার প্রবৃত্তি অনুসরণ করে সফল হয়েছিলেন। ১৮৪১ সালে জর্জ দ্য মেন্ট্রাল ভেলক্রো আবিষ্কার করেছিলেন যখন তার নজরে আসে যে কতটা সহজে তার কুকুরের পশমের সাথে শামুকের খোল লেগে থাকে। ১৯৭৪ সালে আর্ট ফ্রাই তার পোস্ট ইট নোট-এর ধারণাটি পান, কারণ স্তবগ্রন্থের পৃষ্ঠায় রবিবার গির্জাসেবা শুরু হওয়া পর্যন্ত একটি বুকমার্ক রাখার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বুকমার্কটি সরিয়ে নেবার সময় যেন পৃষ্ঠাটির কোনো ক্ষতি না হয় তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল।

দেখা যাক কিভাবে জন্ম হয়েছিল ফ্রাপুচ্চিনিও। ১৯৯২ সালে সান্তা মনিকোতে অবস্থিত স্টারবাকস-এর ম্যানেজার লক্ষ্য করলেন, যখনি বাইরে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় তাদের বিক্রি পড়ে যায়। তার প্রবৃত্তি তাকে একটি হিমায়িত পানীয় তৈরি করতে বলছিল এবং তিনি তা অনুসরণ করেছিলেন। তিনি একটি ব্লেন্ডার চাইলেন, রেসিপি তৈরি করলেন এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট-কে একটি নমুনা পাঠালেন। পরের বছর তার দোকানে বিক্রি শুরু হলো ফাপুচ্চিনিও।

এটি যখন পরিবর্তন, লক্ষ্য ও স্বপ্নবিষয়ক কোনো কিছু হবে, আপনাকে তখন নিজের উপর বাজি ধরতে হবে। প্রবৃত্তিগুলোর কথা শোনা এবং তার উপর কাজ করার মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন করাই হবে নিজেকে নিয়ে বাজি ধরার শুরু। আমি কৃতজ্ঞতাবোধ করছি এই ভেবে যে নিজেকে বিছানা থেকে তুলে দাঁড় করাতে রকেট উৎক্ষেপণের ধারণাটিকে আমি গুরুত্ব দিয়েছিলাম যা আমার জীবনের সবকিছু বদলে দিয়েছিল। এবং তারপর যা ঘটেছিল–

পরদিন ভোর ৬টায় আমার ঘড়ির অ্যালার্ম বেজে ওঠার পর প্রথম যা আমি অনুভব করেছিলাম, তার নাম ভীতি। এটা হলো অন্ধকার, শীতল। বোস্টন-এর এক শীতের সকাল ছিল এটা এবং আমি উঠতে চাইছিলাম না। তৎক্ষণাৎ আমি রকেট উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করি এবং অনুভব করি– কী নির্বোধের মতোই না আমি ভাবছি। অতঃপর আমি যা করলাম, ইতিপূর্বে আমি তা কখনো করিনি। আমি আমার ভাবনাগুলোকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করলাম। আমি আর বেশি কিছু চিন্তা করিনি। তাই করেছিলাম ঠিক যা করা আমার প্রয়োজন ছিল।

ঘুমিয়ে পড় বোতামে চাপ দেওয়ার পরিবর্তে আমি উল্টো করে ক্ষণ গণনা শুরু করেছিলাম ৫-৪-৩-২-১

এবং তারপর আমি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়েছিলাম। এটাই ছিল সেই মুহূর্ত যখন আমি আবিষ্কার করি দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল।

যে মুহূর্তে আপনার কোনো প্রবৃত্তি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে চাইবে, আপনাকে ক্ষণ গণনা শুরু করতে হবে ৫-৪-৩-২-১

এবং আপনাকে শারীরিকভাবে সচল হতে হবে, তা না হলে আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে থামিয়ে দিতে পারে।

*

(৩) এর ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি কি আশা করতে পারেন?

মানুষ হিসেবে জন্ম নেয়াটা কোনো বিষয় নয়, মানুষ কি হতে চায় সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

জে. কে. রাওলিং

প্রথমদিন সকালে আমি যখন রুলটি ব্যবহার করেছিলাম, অন্যদের মতো আমিও দেখে অবাক হয়েছিলাম যে নির্বোধের মতো কিছু একটা কাজ করছে। উল্টো গণনা? ৫-৪-৩-২-১। সত্যি? আমি জানিনা কেন এটা কাজ করেছিল। শুধু জানি– করেছিল। সময় মতো বিছানা ছেড়ে উঠতে আমি মাসের পর মাস চেষ্টা চালিয়েছিলাম, কিন্তু হঠাৎ করে দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল খুব সহজেই আমার অভ্যাসটি বদলে দেয়।

পরবর্তী পর্যায়ে আমরা জানব যে, আপনি যখন উল্টো ক্ষণ গণনা করবেন তখন মানসিকভাবে আপনি আসলে আপনার গিয়ার পরিবর্তন করবেন। আপনি আপনার স্বাভাবিক চিন্তা-ভাবনা বন্ধ রেখে যা করে দেখাবেন তা হলো– মনোবিজ্ঞানের ভাষায় নিয়ন্ত্রিত দৃঢ়তা। এটা হলো নিজের মস্তিষ্ককে নতুন পথে চালিত করার কৌশল হিসেবে অজুহাতগুলোকে বিভ্রান্ত করা এবং মনোঃসংযোগ করা। যখনি আপনি চিন্তা করা বন্ধ রেখে শারীরিকভাবে সচল হবেন, আপনার মনস্তত্ত্ব পরিবর্তিত হয়ে একটি রেখায় এসে দাঁড়াবে।

এই বইটির গবেষণায় আমি আবিষ্কার করেছি যে রুলটি হলো (অভ্যাস সংক্রান্ত গবেষণার ভাষায়) একটি প্রারম্ভিক প্রক্রিয়া যা আপনার আচরণ পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে এবং প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স-কে সচল করবে।

প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স হলো আপনার মস্তিষ্কের সেই অংশ যা আপনি মনোঃসংযোগ, পরিবর্তন এবং ইচ্ছাকৃত কোনো কাজ সম্পন্ন করতে ব্যবহার করে থাকেন। আমি জানতাম প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স কি। কিন্তু খুব শীঘ্রই আমি মৌলিক নার্ভগ্ৰন্থি বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে– অভ্যাসচক্র, শক্তি সক্রিয়করণ, নমনীয় আচরণ, জ্ঞানীয় পক্ষপাত, অগ্রগতি নীতি এবং নিয়ন্ত্রণ অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম।

আমি পরদিন ভোরে রুলটি ব্যবহার করেছিলাম এবং এটা আবারো কাজ করেছিল। আমি ৫ সেকেন্ড সময়ের মুহূর্তগুলো দিনব্যাপী দেখতে শুরু করলাম, ঠিক যেমন ঘুম থেকে জেগে ওঠার ব্যাপারে আমার সংগ্রাম এবং দিনব্যাপী তার প্রতিক্রিয়াসমূহ দেখেছিলাম। নিজের মস্তিষ্ক আমাকে থামিয়ে দেয়ার পূর্বে আমার অজুহাতগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে এই রুলটি ৫ সেকেন্ডের চাইতেও কম সময় নিয়েছিল।

আপনি যখন রুলটি ব্যবহার করবেন, তখন দেখতে পাবেন যে– আপনার প্রাথমিক প্রবৃত্তি কাজ করা এবং মস্তিষ্ক আপনাকে থামিয়ে দেওয়ার মাঝখানে একটি জানালা রয়েছে। আমি দেখেছি ঐ ৫ সেকেন্ড সময়ের জানালাটি আমার সবকিছু বদলে দিয়েছিল। সমস্যাটি ছিল খুব স্পষ্ট। আর তা হলো আমি নিজে। ৫ সেকেন্ড সময় ধরে আমি আমার নিজেকেই পেছনে টেনে ধরে রাখতাম।

সুতরাং নিজের কাছে আমি একটি সাধারণ প্রতিজ্ঞা করলাম। আমি যদি দেখি নিজের ভালোর জন্য আমার কিছু করা উচিত, তাহলে রুলটি ব্যবহার করার মাধ্যমে নিজেকে আমি তা করতে সামনে ঠেলে দেব। আমার যাই মনে হোক না কেন। নিজের ওপর জোর খাটাতে আমি রুলটির ব্যবহার শুরু করেছিলাম শুধুমাত্র ভোরবেলা বিছানা ছেড়ে ওঠার জন্যই নয় বরং যাতে করে আমি জিমনেসিয়াম যেতে পারি, নতুন কাজ খোঁজা শুরু করতে পারি, মদ্যপান কমিয়ে আনতে পারি এবং একজন ভালো স্ত্রী ও মা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি।

প্রক্রিয়াগুলো ছিল :

• আমি যদি ব্যায়াম করতে খুব বেশি পরিশ্রান্ত অনুভব করি, তাহলে আমাকে যা করতে হবে–

৫-৪-৩-২-১ এবং দৌড়ের জন্য নিজেকে দরজার বাইরে ঠেলে দেওয়া।

• আমি যদি আমার গ্লাসে বেশি পরিমাণ পানীয় ঢেলে দিই যা পান করা উচিত নয়, তাহলে আমাকে যা করতে হবে–

৫-৪-৩-২-১ এবং হুইস্কির বোতলটি নামিয়ে দূরে সরে যাওয়া।

• নিজেকে যদি ক্রীস-এর প্রতি খুব বিদ্বেষপূর্ণ মনে হয়, তাহলে আমাকে যা করতে হবে–

৫-৪-৩-২-১ এবং নিজের স্বর সংশোধন করে আরো বিনয়ী হওয়া।

• নিজের ভেতরে আমার যদি খুব বেশি গড়িমসি ভাব চলে আসে, তাহলে আমাকে যা করতে হবে–

৫-৪-৩-২-১ এবং জীবন বৃত্তান্তের উপর কাজ শুরু করতে বসে যাওয়া।

আমি যা আবিষ্কার করেছিলাম তা ছিল শক্তিশালী। সহজ কর্মকাণ্ডে নিজেকে একটু ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে আস্থা ও উৎপাদনশীলতার মধ্যে একপ্রকার শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। জীবনকে আগে বাড়াতে, নিজেকে একটু সামনে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে আপনি যে মুহূর্তের সৃষ্টি করবেন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার যে অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন তা ভাষায় বর্ণনা করা একটু কঠিন। র‍্যাচেল যেমন সঠিক সময়ে উঠে পরার একটি সহজ পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে দেখেছিলেন অনেকগুলো ঘটনার সূত্রপাত, যেমন– নিজের ৩০ পাউন্ড ওজন কমা, প্রথম বাড়ি কেনা এবং তার বৈবাহিক সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন।

র‍্যাচেল পুনরুজ্জীবন শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন এবং দ্য ফাইভ সেকেন্ড রু ঠিক এই কাজটিই করে থাকে। রেবেকা নামক একজন ভদ্রমহিলার এই একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল। রুলটি ব্যবহার করে নিজেকে একটু সামনে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি মানসিক কারাগার ভেঙে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। পক্ষপাতদুষ্ট বিশ্লেষণ দ্বারা বন্দি থাকা আর নয়, রেবেকা তাঁর ৪৭ বৎসর বয়সে প্রথমবার অনুভব করেছিলেন যে– তিনি স্বাধীন।

১৯৫৪ সালে জুলিয়ান রোটর একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক ধারণা দিয়েছিলেন। এটিকে বলা হয়– নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। আপনি যতটা বিশ্বাস করবেন যে আপনার জীবন, কর্ম এবং ভবিষ্যৎ আপনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আপনি ততটাই সুখী এবং সফল হবেন। আপনার জীবনের নিয়ন্ত্রণ-অনুভূতি বৃদ্ধির একটি নিশ্চিত উপায় রয়েছে, আর তা হলো– কাজের প্রতি আপনার পক্ষপাত।

এটি একটি পৌরাণিক ঘটনা। আপনি যখন নিজেকে পরিবর্তন করার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু আপনার ধারণার মধ্যে জড়ো করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে আগ্রহ অথবা প্রেরণা অনুভব করতে হবে, ব্যাপারটা এমন নয়। এটা নিজেকে সোজাসুজি বলবার মুহূর্ত। আপনি প্রেরণা অনুভব করবেন না। সত্যি বলতে কি, আপনি কোনো কিছু করছেন বলেই অনুভব করবেন না। আপনাকে যেটা করতে হবে তা হলো– নিজের পশ্চাঙ্গ উঠিয়ে নিজেই নিজের পাছায় লাথি মারা। আমি যাকে বলি– ধাক্কার শক্তি।

ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি শক্তিশালী হওয়ার এটা একটা অন্যতম কারণ, কেননা এটা আপনাকে এমন এক ব্যক্তিত্বে রূপান্তর করবে যে কিনা পক্ষপাতমূলক কার্য দ্বারা পরিচালিত। আর আপনার যদি প্রতি পদক্ষেপে অতি চিন্তার ঝোঁক থেকে থাকে তাহলে আপনি দেখতে পাবেন– চিন্তাশক্তি বন্ধ করে দেওয়া এমনকি অচল করে দেওয়া উদ্যম ও আস্থার প্রকাশ। রুলটি ব্যবহার করে আপনার বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে আপনি নিজের ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা অর্জন করবেন।

জেনী শেষ পর্যন্ত তার স্বাস্থ্যের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যখনই ডিনারে কৌটাভর্তি রাভিওলি, ব্যাগভর্তি চিপস এবং প্রচুর সোডা গ্রহণ করবেন, তার ওজন বেড়ে যাবার নিশ্চিত অভিযোগ উঠবে। ৫-৪-৩-২-১ ক্ষণ গণনার মাধ্যমে তিনি তার ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে হতাশ করেছিলেন। জেনী রুলটি ব্যবহার করার মাধ্যমে নিজের পশ্চাৎদেশে লাথি মারতে সক্ষম হয়েছিলেন যা তার প্রয়োজন ছিল।

ডোনা প্রথম যখন আভেদা ইনস্টিটিউট কনফারেন্স-এ রুলটি সম্পর্কে জানতে পারেন, তার মনে হয়েছিল রুলটি সে ব্যবহার করে দেখবে কিন্তু এতে তার জীবন বদলে যাবে না। রুটি সম্পর্কে আমিও ঠিক এভাবেই ভেবেছিলাম– আমি হয়তো ঘুমিয়ে পড় অ্যালার্মটিকে পরাজিত করার একটি কৌশল হিসেবে এর ব্যবহার করছি। কিন্তু এটি ছিল আমার ভুল চিন্তা। ডোনারও তাই। এটা তার জীবন ও ব্যবসাসংক্রান্ত সবকিছুই বদলে দিয়েছিল। ডোনা বুঝতে পেরেছিল– আমরা শুধু আমাদের নিজেদেরকে পেছনে টেনে ধরে রাখি। এটা দেখা আশ্চর্যজনক যে, আমি কতটা ভয়ংকরভাবেই না নিজেকে ভয়ের কাছে জিম্মি করে রেখেছিলাম, আর আজ আমি কোথায় আছি। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামনের বছরগুলোতে আমি কোথায় থাকবো সেটাও দেখতে পাচ্ছি।

আপনি এই রুলটি যত বেশি ব্যবহার করবেন ততবেশি নিজের ভেতর মনোবল, আত্মবিশ্বাস, গর্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অনুভব করবেন। আমি প্রায়ই মানুষকে বলি– রুলটি ব্যবহারের একটি পরিণতি হলো এটি আপনাকে তাড়া করে ফিরবে। ভালো অর্থেই বলছি। এবং আমি ঠিকই বলছি। আপনি ডেরিল-কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। আপনি বুঝতে পারবেন ঘুমের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে আপনি হাঁটছেন। এটা কখনো সহজ, সাধারণ ও কার্যকর, কখনোবা সংক্রামক। ডেরিল যেমন বর্ণনা করেছেন– দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল আমাকে তাড়া করে ফিরছে, প্রত্যহ, ভালোভাবেই, আর তাই আমার জীবন সামনে এগিয়ে চলেছে।

রুলটি সম্পর্কে আমি প্রথম যাকে বলি সে হলো আমার স্বামী। ক্রীস আমার পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করেছিল, বিশেষ করে আমার জঘন্য আচরণের পরিবর্তন। মানসিকভাবে সে যে একটি গোপন অস্ত্র ব্যতীত জীবন-যাপন করছিল তাকে সেটা বোঝাতে আমার বিশেষ কোনো বেগ পেতে হয়নি।

ক্রীস রুলটি তার নিজের কিছু পরিবর্তনের জন্য আত্মস্থ করেছিল এবং ব্যবহার করেছিল। রুলটি ব্যবহার করার মাধ্যমে সে মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছিল, প্রতিদিন যোগ ব্যায়াম শুরু করেছিল এবং প্রত্যহ ভোরে শারীরিক ব্যায়াম করাও শুরু করে দিয়েছিল। ঋণদাতাদের তাগাদা ও দেউলিয়াত্বের চিঠি উপেক্ষা করার বদলে তাদের মুখোমুখি হতে আমরা ক্ষণ গণনা করেছিলাম ৫ ৪-৩-২-১। আমি আমার পুরনো প্রশিক্ষণ ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ করতে, যাতে করে আমার পুরনো প্রক্রিয়াটি সচল থাকে, নিজেকে ধাক্কা দিতে ক্ষণ গণনা করেছিলাম ৫-৪-৩-২-১। ফক্স টেলিভিশনের সাথে চুক্তিসংক্রান্ত সমস্যা থাকা সত্ত্বেও আমি রেডিওতে উপস্থাপনা করার চাকরি পেতে সাক্ষাৎকারের জন্য নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে ক্ষণ গণনা করেছিলাম ৫-৪-৩ ২-১। একসাথে আমরা আমাদের হিসাবরক্ষক ও আর্থিক উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করার মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ এবং নিজেদের খনন করা গর্তে মুখোমুখি হওয়ার বিরক্তিকর কাজ এবং ধীরে ধীরে তা থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বের হয়ে আসার মাধ্যমে জীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ক্ষণ গণনা করেছিলাম ৫-৪-৩-২-১।

ক্রীস, ভয়, অপরাধ ও অনিশ্চয়তার মাঝে নিজেকে একটু সামনে ঠেলে দেওয়ার জন্য তার ব্যবসায় রুলটি প্রয়োগ করেছিল। সে এবং তার পার্টনার কয়েক ডজন উপদেষ্টার সাথে মিলিত হয়েছিল, তাদের আর্থিক নকশাগুলো ভেঙে দিয়েছিল, পাইকারি ব্যবসাটি বন্ধ না করা পর্যন্ত দিনরাত খেটেছিল এবং তাদের খুচরো ব্যবসাটিকে বড় করেছিল নির্বাচিত কিছু শাখা বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে যাতে করে যত বেশি সম্ভব বিনিয়োদকারী ও পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করে দেওয়া যায়। ক্রীস এবং জোনাথন যা করেছিল তা ছিল সাহস, উদ্যম এবং প্রতিশ্রুতির সমন্বয় এবং যা ছিল সত্যিই অসাধারণ। তারা নিজেদের একটু একটু এবং আরো একটু করে সামনে ঠেলে দিয়েছিল।

আজ যখন ক্রীস রেস্টুরেন্ট ব্যবসার দিনগুলোর কথা মনে করে, কখনো কখনো তার মনে ব্যর্থতার অনুভূতি হয়। তবে যখনই সে নিজেকে নেতিবাচক চিন্তা শুরু করতে দেখে তখনই ৫-৪-৩-২-১ ক্ষণ গণনার মাধ্যমে সে তার নিজের মনকে ভিন্ন পথে চালিত করে এবং ভাবে তারা কি সৃষ্টি করেছিল– সাতটি রেস্টুরেন্ট, একটি অবিশ্বাস্য কর্মী সংস্কৃতি, কোটি টাকার রাজস্ব আয় এবং একটি অসাধারণ ব্র্যান্ড।

এটা কি সেইরকম সমাপ্তি ছিল যা সে কল্পনা করেছিল? না, ছিল না। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে সে ব্যবসা, অংশীদারিত্ব এবং তার নিজের সম্পর্কে যা শিখেছিল তা টাকা দিয়ে কেনার চাইতে অনেক বেশি মূল্যবান ছিল। আস্থার অনুভূতি ও গর্বের চাইতে অধিক শক্তিশালী আর কিছু নেই বিশেষ করে যখন আপনি ক্লান্তিকরভাবে সামনে এগিয়ে চলেছেন, জীবনের দ্বন্দ্বযুদ্ধে মুখোমুখি হচ্ছেন এবং উন্নতির আশায় নিজেকে পরিবর্তন করার জন্য একটু সামনে ঠেলে দিচ্ছেন। ক্ৰীস বলে যে– রুলটি আমাকে বিভিন্ন স্তরে সফলতা এবং ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা প্রদান করেছিল। অবশেষে এই সচেতনতা আমাকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক চিন্তাগুলো নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি জুগিয়েছিল।

আমরা যখন বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করি তখন প্রায়ই রুলটি চলে আসে। আপনিও সেটা দেখতে পাবেন। জেনিফার রুলটি সম্পর্কে জেনে তার সেবিকাকে তা জানিয়েছিলেন। তার (সেবিকার) প্রতিক্রিয়া কি ছিল?– আপনার কোনো ধারণা নেই দিনে কতবার এটা আমাকে ব্যবহার করতে হবে!

রুলটি যারা ব্যবহার করেছে তাদের ভেতরে শক্তিশালী কিছু একটা জ্বলে উঠতে দেখা গেছে। আমার এক বন্ধুর মাঝে দেখেছিলাম ডিভোর্স চাইবার মতো দুঃসাহস এবং অন্য এক বন্ধু অধিক ভ্রমণ করার প্রয়োজন পড়ে না এমন একটি কাজের জন্য তার পরামর্শ প্রদান করার চাকুরিটি ছেড়ে দিয়েছিল। একজন সহকর্মীকে দেখেছিলাম ৭৩ পাউন্ড ওজন কমাতে এবং আমার চাচা অনেকদিন ধরে যে ধূমপান ছেড়ে দেবার কথা ভাবছিল, শেষ পর্যন্ত ধূমপান ত্যাগ করতে পেরেছিল। ক্রীস-এর একজন বন্ধু মাইনি-তে (আমেরিকার একটি উত্তর-পূর্ব অঙ্গরাজ্য) ফিরে গিয়েছিল এবং চমৎকার একটি কাজ খুঁজে পেতে রুলটি ব্যবহার করেছিল।

দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল সবাইকে তাই দিয়েছিল যা দিয়েছিল আমাকে। একটি কাঠামো, মনোবল এবং কি করে নিজেকে পরিবর্তন করার জন্য ধাক্কা দিতে হয়, সেই পদ্ধতি।

২০১১ সালে টেডএক্স টক-এর সময় সর্বপ্রথম আমি সবার সাথে রুটি শেয়ার করি যার (আলোচনার) নাম ছিল কি করে নিজের ক্ষতি করা বন্ধ করা যায়। মজার ব্যাপার হলো, আলোচনাটি ছিল রেডিওতে আমার একজন নামকরা উপস্থাপিকা হওয়ার স্বপ্ন এবং মানুষকে তাদের কাঙ্ক্ষিত জীবন পেতে সাহায্য করার চেষ্টা বাস্তবায়নের একটি পদক্ষেপ মাত্র। বক্তৃতার একেবারে শেষ পর্যায়ে আমি রুলটি সম্পর্কে বলি এবং খুব সামান্যই ব্যাখ্যা করি। অনুষ্ঠানটি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ এটি অনলাইন-এ দেখেছিল এবং শুধু তাই নয়, এটা নিয়ে তারা লিখতে শুরু করল।

প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন মানুষের কথা শুনতে লাগলাম যারা রুলটি ব্যবহার করছিল। যেমন মার্ক। মার্ক তার কিছু পরিবর্তনের আশায় রুলটি ব্যবহার করেছিল। ৬ মাসের ভেতর– তার ব্যবসা দ্বিগুণ হয়েছিল, বাণিজ্যিক বিক্রয়ের উপর সে একটি বই লিখেছিল, তার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে যে কোনো সময়ের চাইতে বেশি ঘনিষ্ট হতে পেরেছিল এবং বিশ্বভ্রমণে বের হওয়ার পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছিল।

আনন্দের বিষয় এই যে, আজ পর্যন্ত ৮০টি দেশের এক লক্ষ বা তার চাইতে বেশি মানুষ আমাকে রুলটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন। আরো অধিক মানুষ যখন আমাকে আরো বেশি তথ্যের জন্য অনুরোধ এবং প্রশ্ন করে লিখতে শুরু করলো, আমি তখন আরো গভীর গবেষণা শুরু করলাম যাতে করে বিভিন্ন উপায়ে রুলটি ব্যাখ্যা করতে পারি এবং প্রমাণ করতে পারি কেন রুলটি এতটা কার্যকর। পেশায় আমি ছিলাম একজন আইনজীবী। আর তাই গবেষণার ব্যাপারে আমি ছিলাম কঠোর। আমি উদাহরণ, প্রমাণ এবং নির্দেশনা খুঁজে বের করেছিলাম যাতে করে জুরিদের সামনে দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল সংক্রান্ত আমার মামলাটি প্রমাণ করতে পারি।

এতে আমার প্রায় ৩ বৎসর লেগেছিল। আমি সবকিছু পড়ে দেখেছিলাম। পরিবর্তন, সুখ, অভ্যাস, অনুপ্রেরণা এবং মানুষের আচরণ সম্পর্কে আমি জানার চেষ্টা করেছি। সমাজবিজ্ঞান গবেষণা, সুখ গবেষণা, মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণার উপর আমি পড়াশোনা করেছি। আমি আমার গবেষণা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমি প্রত্যেকের কাছেই প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছিলাম যারা রুলটি ব্যবহার করেছিল। অতঃপর ফোন, স্কাইপে এবং গুগল চ্যাটের মাধ্যমে তাদের উত্তরগুলো জানার চেষ্টা করি এবং পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা বিভিন্ন মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছিল তাদের অভিজ্ঞতা সমূহ ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করে দেখি।

আমি যখন পরিবর্তনের মুহূর্তগুলো বিশ্লেষণ করছিলাম তখন সবার ভেতর উদ্ভট কিছুর উপস্থিতি উন্মোচন করেছিলাম। ঠিক যেমন আমরা কোনো কাজ করার পূর্বে কঠিন, ভীতি অথবা অনিশ্চিত বোধ করি এবং দ্বিধাগ্রস্ত হই। দ্বিধা হলো অনেকটা মৃত্যুকে চুম্বন করার মতো। আপনি হয়তো এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ পরিমাণ সময় দ্বিধা করতে পারেন কিন্তু এটা ওইটুকু সময়ই নেবে। ঐ এক মুহূর্তের দ্বিধা আপনার মানসিক প্রক্রিয়াকে অচল করে দেবার জন্য যথেষ্ট।

কখনো কি খেয়াল করেছেন আপনি কতটা দ্রুত ভয় এবং সন্দেহের কাছে। আপনার মাথা নত করছেন এবং কোনো কাজ করার ব্যাপারে নিজেকে চুপ করিয়ে রাখতে অজুহাত তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছেন। প্রতিদিন আমরা ক্ষুদ্র জাগতিক মুহূর্তগুলোতে নিজেদেরকে পেছনে টেনে ধরে রাখি এবং এর প্রভাব পড়ে সর্বত্র। আপনি যদি এই অভ্যাস ও দ্বিধাগুলো ভাঙতে পারেন তাহলে আপনি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার মতো মনোবল খুঁজে পাবেন, যা আশ্চর্যজনকভাবে অতি দ্রুত আপনার জীবনকে বদলে দেবে। কৃথ, যা রি ম্যাক্স কনভেনশন-এ রুলটি সম্পর্কে আবিষ্কার করেছিলেন।

ক্বীথ এর ভাষায়– আমি আপনাকে ২০১৫ সালে প্রথম জানতে পারি। আপনি আমাকে অবিশ্বাস্য কাজ করতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। আমার শুধু নিজের পদ্ধতি ছেড়ে বেরিয়ে আসার দরকার ছিল। আপনার রুলটি অনুসরণ করার মাধ্যমে মাত্র দেড় বৎসর সময়ে আমি তিনটি অফিস খুলতে এবং আরাকানসাস অঞ্চলে ৫০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি নিয়োগে সক্ষম হয়েছিলাম। কোনো দ্বিধা নয়, কোনো আলসেমি নয়। আমি শুধু কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলাম যা আমাকে আমার লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করেছিল। অনেক বড় কাজ হঠাৎ করেই আমার কাছে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে হতে লাগলো। কঠিন অংশটি ছিল– শুরু করা। আপনাকে ধন্যবাদ রুলটি শেয়ার করার জন্য এবং আমাদের সবচেয়ে উন্নত সংস্করণ হতে অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য।

খেয়াল করুন, এটা আমাদের জীবনের বড় কোনো পদক্ষেপ নয়। বরং ক্ষুদ্রতম। ৫ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে কাজটি শুরু না করে আপনি চিন্তা-ভাবনা করছেন এবং সেই ক্ষুদ্রতম বিষয়গুলোর উপর কাজ না করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। সময়ের সাথে সাথে সেই ছোট সিদ্ধান্তগুলো পিকৃত হতে থাকে। দ্বিধা, উদ্বেগ আর নিজেকে সন্দেহ করার এই ধরনটি আমরা খুব বেশি মাত্রায় পুনরাবৃত্তি করি যা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয় এবং একই সাথে মস্তিষ্কে গেঁথে যায়।

প্রকৃতপক্ষে দ্বিধা, যা আপনাকে পেছনে টেনে ধরে রাখে এবং অতি-চিন্তা যা আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, এগুলো কোনো ব্যাপার নয়। খারাপ অভ্যাসগুলো ছেড়ে দেওয়া বা প্রতিস্থাপন করার খুব সহজ ও প্রমাণিত পন্থা রয়েছে, আর তা হলো দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল। একবার যখন আপনি আপনার অভ্যাসচক্রটি পড়ে ফেলবেন, আপনার কার্যপ্রক্রিয়া শুরু করবেন, শক্তিকে সচল করবেন এবং আপনার সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করতে ভূমিকা পালন করবেন– আপনি আসলে দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল-টির বিশালত্বের প্রশংসা করবেন। আপনি যখন রুটি ব্যবহার করবেন, দেখতে পাবেন যে পরিবর্তন কেমন করে ৫ সেকেন্ডের সিদ্ধান্তগুলোকে কজা করছে এবং আপনি কত সহজেই না আপনার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছেন।

আপনি প্রতিবার যখনই রুলটি ব্যবহার করবেন, এটি কাজ করবে। কিন্তু আপনাকে এর ব্যবহার করতে হবে। এটি একটি হাতিয়ার। আপনি যদি এর ব্যবহার বন্ধ করে দেন, ভয় ও অনিশ্চয়তা ফিরে আসবে এবং আপনার সিদ্ধান্তগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। এমনটি যদি ঘটেই যায়, তাহলে পুনরায় রুলটির ব্যবহার শুরু করে দিন।

আপনি যখন সময়ের সাথে সাথে রুলটি ব্যবহার করবেন, নিজের ভেতরে একটি স্থানান্তরের অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন যা খুবই গভীর। একটি রূপান্তর দেখতে পাবেন যা আপনার আত্মবিশ্বাস ও অন্তর্গত শক্তির উপর প্রভাব ফেলবে। আপনি আপনার অজুহাত, অভ্যাস, অনুভূতি, অনিরাপত্তাবোধ এবং ভয়ের মুখোমুখি দাঁড়াবেন, যেগুলো আপনাকে বছরের পর বছর ধরে তাড়া করে ফিরেছে। আপনি দেখতে পাবেন প্রতিদিন আপনি নিজেকে কি পরিমাণ আবর্জনার মধ্যে ফেলেছেন এবং কিছু জিনিস পরিবর্তিত হওয়ার অপেক্ষায় কি পরিমাণ মূল্যবান সময়ের অপচয় করেছেন।

রুলটি ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনার সেই অপেক্ষার অবসান হবে। আপনি এটা দেখে সত্যিই বিস্মিত হবেন যে, রবিন নামে একজন ভদ্রমহিলা ৫ সেকেন্ড সময়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কি পরিমাণ আনন্দ ও স্বাধীনতা অনুভব করেছিলেন। স্বাধীনতা হলো ঠিক তাই যা রবিন রুলটি ব্যবহার করার মাধ্যমে অর্জন করেছিলেন। তার ভাষায়– সিদ্ধান্ত কার্যকর করার মাঝেই আছে স্বাধীনতা। পরিবর্তনের জন্য আমার আকাঙ্ক্ষা ও দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনেক বড় কিন্তু কখনো কখনো আত্মবিশ্বাস পিছিয়ে পড়ে। এটি যখন ঘটে, আমি যখন দ্বিধান্বিত হই– ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি ব্যবহার করি।

এবং আমিও ঠিক এটাই অর্জন করেছিলাম– জীবন বদলে দেয়া স্বাধীনতা। সাত বৎসর পূর্বে আমি যা ছিলাম…এখন তা নেই। এটি একটি ভালো জিনিস। জীবন ও পেশার প্রতিটি স্তরে একজন ভিন্ন আপনাকে প্রয়োজন। রুলটি ব্যবহার করার মাধ্যমে জীবনের পরবর্তী স্তরে আপনি সেই ব্যক্তিত্বে পরিণত হবেন ঠিক যা হওয়ার দরকার।

সুতরাং, আপনি কি একমত? আমরা কি রুলটির মূল ভিত্তিগুলো অনুসন্ধান করব যাতে করে আপনি এর ব্যবহার শুরু করতে পারেন?

*

(৪) কেন এই (বিধি) রুলটি কাজ করে

আপনি মনোবল অথবা স্বস্তি যে কোনোটি বেছে নিতে পারেন, কিন্তু দুটি একসাথে নয়।

– ব্রেনে ব্রাউন

বছরব্যাপী আমি ফাইভ সেকেন্ড রুলটি সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন পেয়েছি। রুলটি ব্যবহারে আপনার ভূমিকা বর্ণনা করতে চাই এই অসাধারণ হাতিয়ারটি সম্পর্কে আমাকে প্রায়ই করা কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মাধ্যমে।

ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি আসলে কি?

রুলটি একটি সাধারণ, গবেষণা সমর্থিত, কারো চিন্তাপদ্ধতি বুঝবার হাতিয়ার যা তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী পরিবর্তন সৃষ্টি করে। প্রসঙ্গক্রমে, এটা হলো কোন পদ্ধতি নামকরণের জন্য একটি অভিনব শব্দ যা আপনাকে বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনার মস্তিষ্ককে হারানোর অনুমোদন দেয়।

রুটি কেমন করে ব্যবহার করবেন?

রুলটি ব্যবহার করার নিয়ম খুব সহজ। যখনি আপনি অনুভব করবেন আপনার প্রবৃত্তি কোনো লক্ষ্য অথবা প্রতিশ্রুতি পূরণ অথবা আপনার অবশ্যই করা উচিত এমন কিছু করা থেকে বিরত রাখতে দ্বিধার সৃষ্টি করছে, রুটি ব্যবহার করুন।

পেছনের দিকে ক্ষণ গণনা শুরু করুন ৫-৪-৩-২-১। ক্ষণ গণনা আপনাকে আপনার লক্ষ্য অথবা প্রতিশ্রুতির উপর দৃষ্টি স্থির রাখতে এবং আপনার উদ্বেগ, চিন্তা-ভাবনা ও ভীতিগুলোকে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করবে। যখনি আপনি ১ এ পৌঁছে যাবেন, কাজ হয়ে যাবে। খুব সহজ, কিন্তু আমি আরো একবার এই জায়গাটি ব্যাখ্যা করতে চাই। যখনি দেখবেন আপনার কিছু করা উচিত অথচ আপনি অনিশ্চয়তা, ভয় বা আচ্ছন্নতা অনুভব করছেন, ৫-৪-৩-২ উল্টো গণনার মাধ্যমে আপনি নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়ে নিন, যা আপনার মনকে শান্ত করবে। অতঃপর, যখনি আপনি ১-এ পৌঁছে গিয়েছেন– সামনে এগিয়ে চলুন।

গণনা এবং সামনে চলা হলো প্রক্রিয়া। নিজেকে প্রক্রিয়া শেখানোর মাধ্যমে আপনি অসাধারণ পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারেন, যেসব ক্ষেত্রে সাধারণতঃ আপনি চিন্তা করতে করতে নিজেকে থামিয়ে দেন। উল্টো ক্ষণ গণনা কিছু কাজ সমান্তরালভাবে করে থাকে– এটি আপনার উদ্বেগগুলোকে বিভ্রান্ত করে, আপনার যা করা প্রয়োজন তার উপর দৃষ্টি রাখে, আপনাকে কাজ করতে পথ দেখায় এবং দ্বিধান্বিত হওয়ার অভ্যাসগুলো, অতিচিন্তা এবং নিজেকে পেছনে টেনে ধরে রাখার চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে।

আপনি যদি চিন্তা করে থাকেন উল্টো গণনার [৫-৪-৩২-১] পরিবর্তে সম্মুখ গণনায় [১-২-৩-৪-৫] কাজ হবে কিনা, তাহলে উত্তর হলো– না, হবে না। ট্রেন্ট-কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। ট্রেন্ট ঠিক যেমনটি আবিষ্কার করেছিলেন– আপনি যদি সম্মুখগণনা করেন তাহলে বিরতিহীন গণনা করে যেতে পারেন। কিন্তু যখন উল্টো গণনা করবেন, তখন ১-এ পৌঁছে যাবার পর আপনার আর গণনা করার কিছু থাকবে না। সুতরাং, এটা আপনাকে কাজ শুরু করতে বলবে।

এটাকে কেন ফাইভ সেকেন্ড রুল নামে ডাকা হয়?

আমি এই প্রশ্নটি অনেকবার পেয়েছি এবং আশা করি একটি যুতসই উত্তর দিতে পারব। আমি এটাকে দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল নামকরণ করেছিলাম কারণ প্রথম দিন ভোরে আমি যখন এর ব্যবহার করেছিলাম, আমার মাথায় ঠিক এই নামটিই এসেছিল এবং গেঁথে গিয়েছিল। মনে আছে, তার আগের রাতে আমি একটি রকেট উৎক্ষেপণ দৃশ্য দেখেছিলাম এবং চিন্তা করেছিলাম নিজেকে আমি এইভাবে একটি রকেট-এর মতো বিছানা থেকে উৎক্ষেপণ করবো। পরদিন ভোরে আমি উল্টো গণনা করেছিলাম ৫-৪-৩-২-১ কারণ নাসা তাদের মহাশূন্যযান উৎক্ষেপণ করার সময় ঠিক এই কাজটিই করে থাকে। ৫ থেকে গণনা করার বিশেষ কোন কারণ ছিল না। আমার শুধু মনে হয়েছিল নিজেকে আমার ঐটুকু সময় দেয়া উচিত।

আমি এটা জানতে পেরেছিলাম যে পৃথিবীতে আরো অনেকগুলো ফাইভ সেকেন্ড রুল আছে যেমন– ৫ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে মেঝের উপর খাবার খাওয়া, বাস্কেটবল খেলায় ৫ সেকেন্ড শর্ট ক্লক রুল, অ্যালেন ডিজেনারস তার টকশোতে যে খেলাটি খেলে থাকেন এবং একটি পার্শপথের উপরকার অংশ আপনার কুকুরটির হেঁটে যাবার জন্য খুব গরম কিনা তা পরীক্ষা করার ৫ সেকেন্ডের একটি খেলা।

আমি যদি আগেই জানতে পারতাম আমার রুলটি এরকম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাবে, তাহলে হয়তো কোনো মৌলিক নাম নির্বাচন করতাম। প্রকৃত প্রস্তাবে এইসব ৫ সেকেন্ড রুলগুলোর একটি সর্বস্বীকৃত ব্যাপার রয়েছে। সব ক্ষেত্রেই আপনাকে একটি ৫ সেকেন্ড সময়ের জানালা দিয়ে শারীরিকভাবে স্থানান্তরিত হতে হবে (মুভ করতে হবে)।

আমার রুলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শারীরিকভাবে নড়া বা মুভ করা কারণ আপনি যখন নড়বেন, আপনার শরীরবৃত্তীয় পরিবর্তন হবে এবং আপনার মন তা অনুসরণ করবে। সম্ভবত নামটি শুধু সংশ্লিষ্টই নয় বরং অনেক নিখুঁত, কারণ এটা জীবনের অন্যান্য ৫ সেকেন্ডের জানালাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং এটাই রুলটিকে অনেক বেশি পরিচিতি দিতে, বৈশ্বিক ও সত্য হিসেবে অনুভব করতে সাহায্য করে।

রুলটি শুনতে নাইকির ট্যাগলাইনের মতো –শুধু কাজটি করুন

শুধু কাজটি করুন এবং দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল-টির মধ্যকার পার্থক্যটি খুব সহজ। শুধু কাজটি করুন হলো একটি ধারণা– এটা হলো যা আপনাকে করতে হবে। দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল হলো একটি হাতিয়ার– এটা হলো কাজটি করতে আপনি নিজেকে কেমন করে তৈরি করেছেন। শুধু কাজটি করুন বিশ্বের সবচাইতে বিখ্যাত ট্যাগলাইন হওয়ার কারণ হলো এটা পৃথিবীর সব সংস্কৃতিকেই অনুরণিত করে। আপনি কি জানেন এই ট্যাগলাইনটিকে কে শক্তিশালী করে? সেটি হলো একটি শব্দ– শুধু।

শুধু কাজটি করুন স্বীকার করে যে, আমরা ভালো হতে, ভালো কিছু করতে এবং নিজেদেরকে একটু সামনে ঠেলে দিতে সংগ্রাম করছি। ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে আমরা সকলেই দ্বিধাবোধ করি এবং আমাদের অনুভূতিগুলোর সাথে লড়াই করি। শুধু শব্দটি আমাদের এই কথা বলে যে– আমরা একা নই, সকলের ভেতরই এই সমস্ত ছোট ছোট দ্বিধা রয়েছে।

এটা অনেকটা সেই মুহূর্ত– যখন কোনো চলমান খেলায় অংশগ্রহণ করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনি প্রশ্ন করা শুরু করেন অথবা যে মুহূর্তে আপনি চিন্তা করেন তৃতীয় প্রস্থ খ্যাতি অর্জন করার জন্য কাজ করবেন কিনা অথবা আপনি যখন প্রশ্ন করেন যে বৃষ্টির মধ্যে দৌড়ানোর জন্য দরজা খুলে বের হবেন। কিনা।

ট্যাগলাইনটি স্বীকার করে যে আপনার ভেতরে অজুহাত ও ভয় দুটিই রয়েছে এবং নাইকি আপনাকে এগুলোর চাইতে অনেক বড় হতে অনুপ্রাণিত করে। চলুন, এটা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। শুধু কাজটি করুন। আমি জানি আপনি ক্লান্ত– শুধু কাজটি করুন। আমি জানি আপনি ভীত– শুধু কাজটি করুন।

নাইকির ট্যাগলাইন আপনাকে সন্দেহের বাইরে যেতে এবং খেলায় অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করে থাকে। নাইকি জানে আপনার ভেতরে রয়েছে মহত্ত্ব এবং এটা আপনার অজুহাতের অন্য একটি দিক। এটা গভীরভাবে আমাদেরকে অনুরণিত করে কারণ আমাদের সকলেরই এমনকি একজন অলিম্পিক ক্রীড়াবিদেরও একটি ধাক্কার প্রয়োজন পড়ে। এখানেই দ্য ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি চলে আসে। এটি হলো আপনি নিজেকে কেমন করে ধাক্কা মারছেন যখন আপনাকে ধাক্কা মারার জন্য নেই কোনো প্রশিক্ষক, প্রতিদ্বন্দ্বী, অভিভাবক, সমর্থক বা দলের কোনো খেলোয়াড়। শুধু রুলটি ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি ক্ষণ গণনা করবেন ৫-৪-৩-২-১।

সবার জন্যই কি পাঁচ সেকেন্ড সময় সংক্রান্ত সুযোগের জানালা রয়েছে?

হ্যাঁ, পরিবর্তনের জন্য আপনার প্রবৃত্তি এবং আপনার মন সেই প্রবৃত্তিটিকে মেরে ফেলার মাঝখানে একটি জানালা রয়েছে। যখন সেকেন্ডের ভগ্নাংশ পরিমাণ সময়ের মধ্যে আপনার মস্তিষ্ক আপনার বিরুদ্ধে কাজ করতে শুরু করে, তখন কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হয় আপনার চিন্তা এবং অজুহাতগুলো পূর্ণোদ্যমে সচল হচ্ছে না এবং আপনাকে থামিয়ে দিতে পারছে না। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে ৫ সেকেন্ডের জানালাটি সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

ব্যক্তিগতভাবে আমি লক্ষ্য করেছি যে, যত দীর্ঘ সময় আমি আমার প্রাথমিক আবেগগুলো কাজ করা এবং শারীরিকভাবে সচল হওয়ার মধ্যে অবস্থান করি, আমার অজুহাতগুলো ততটাই উচ্চকিত হতে থাকে এবং নিজেকে সচল করা তখন আরো অনেক বেশী কঠিন হয়ে পড়ে। অ্যানজেলা যেমন খুঁজে পেয়েছিলেন যে, তার ভয় যখন গভীরতর পর্যায়ে ছিল তখন ৫ সেকেন্ড সময়ের সিদ্ধান্তগুলোই ৫০ সেকেন্ড এবং তারপর ৫০০ সেকেন্ডে পরিণত হয়েছিল। এখন তিনি রুলটির সঙ্গে এমন আচরণ করেন, যেমন তার চিন্তাশক্তি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে শূন্যের কোঠায় চলে আসলে তিনি করবেন।

জানালাটি খর্ব কিংবা দীর্ঘ করার জন্য এবং যাতে করে এটি আপনার জন্য কাজ করে তা নিশ্চিত করার জন্য আপনি রুলটিকে ব্যক্তিগত (পারসোনালাইজড) করুন।

ম্যাট, যে আমার ও আমার স্বামীর একজন ভালো বন্ধু, তার প্রথম শ্রমসাধ্য ও কর্দমাক্ত একটি দৌড়ের জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। সে নিউজার্সিতে বসবাস করত এবং ভয়ঙ্কর ঠাণ্ডা আবহাওয়ার মধ্যে সে আমার স্বামীকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিল। সে জানালাটি ৩ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে সংকুচিত করেছিল কারণ সে লক্ষ্য করেছিল কতটা দ্রুত তার মস্তিষ্ক তাকে থামিয়ে দিতে পারে। বার্তাটি ছিল :

তোমার বান্ধবী মেলকে বল যে ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি এখানে কাজ করছে। আমি এটাকে ৩ সেকেন্ডে নামিয়ে এনেছি। যখন আমি ৩ সেকেন্ড পরই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারছি তখন শুধু শুধু কেন জীবনের জটিলতাগুলোকে নিয়ে ভাবা। ৫ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে আমি অন্তত দুটি অজুহাত তৈরি করে ফেলতে পারি। আজ ভোরে আমি যখন উঠি, ভুলক্রমে থার্মোমিটারটি পরীক্ষা করেছিলাম যা আমার ২ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, কিন্তু ৩য় সেকেন্ডেই আমি জুতা পায়ে দিতে শুরু করে দিয়েছিলাম।

এভাবেই রুলটি আপনার মস্তিষ্কে কাজ করে থাকে। যত বেশি সময় ধরে আপনি কোন বিষয়ের উপর চিন্তা-ভাবনা করবেন, কাজটি করার ইচ্ছা আপনার ততটাই কমতে থাকবে। আমরা যেখানে রয়েছি ঠিক সেখানেই নিজেদেরকে স্থির রাখতে কি আশ্চর্যজনকভাবেই না নিজেদের আমরা বোকা বানাই। যত দ্রুত আপনার অনুভূতিটি সচল হতে থাকে, আপনি এটিকে যুক্তিযুক্ত করা থেকে ততটাই সরে যেতে থাকেন। আর তাই আপনাকে খুব দ্রুত মুভ করতে হবে– যাতে করে আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে ফাঁদে ফেলার আগেই আপনি অজুহাতমুক্ত হতে পারেন।

কিসের জন্য আমি রুটি ব্যবহার করব?

বছরব্যাপী আমি হাজার হাজার উদাহরণ শুনেছি– কেমন করে মানুষজন তাদের জীবন, সম্পর্ক, সুখ ও কাজের উন্নতির জন্য রুলটির ব্যবহার করছেন। কিন্তু প্রতিটি উদাহরণ তিনটি স্বতন্ত্র ধারার কোনো একটির মধ্যে পড়ে যায়।

আপনার আচরণ পরিবর্তন করার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন

নতুন অভ্যাস সৃষ্টির লক্ষ্যে নিজেকে একটু ধাক্কা দিতে আপনি রুলটি ব্যবহার করতে পারেন। ধ্বংসাত্মক অভ্যাস থেকে নিজেকে টেনে সরিয়ে আনতে, এবং আত্মতদারকি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ দক্ষতার প্রভুত্ব করতে রুলটি ব্যবহার করতে পারেন যাতে করে আপনি আপনার নিজের ও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অধিক আগ্রহী এবং কার্যকর হতে পারেন।

প্রাত্যহিক মনোবলের সহিত কাজ করার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন।

নতুন, ভীতিকর অথবা অনিশ্চিত কিছু করতে প্রয়োজনীয় মনোবল খুঁজে পেতে আপনি রুলটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার সন্দেহগুলোকে চুপ করিয়ে দিতে এবং আপনার ভালোলাগার পেছনে তাড়া করার জন্য নিজেকে সামনে ঠেলে দিতে, কার্যক্ষেত্রে নিজের ধারণাগুলো শেয়ার করতে, বিভিন্ন প্রকল্পে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে, আপনাকে প্রসারিত করতে, নিজের শিল্প সৃষ্টি করতে এবং একজন ভালো নেতা হতে আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে।

আপনার মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন

নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা এবং আপনাকে নিচে নামিয়ে দেয়া সীমাহীন দুঃশ্চিন্তার বাঁধ ভেঙে দিতে রুলটির ব্যবহার করতে পারেন। আপনি উদ্বিগ্ন হওয়ার অভ্যাস এবং যে কোনো ভীতি দূর করতে পারেন– যখন আপনি আপনার মনের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করবেন এবং নেতিবাচক বিষয়ের উপর মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে সেইসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করবেন যা আপনার জন্য আনন্দ বয়ে আনে। আর এটাই আমার মতে, রুলটি ব্যবহার করার শক্তিশালী উপায়।

কিছু জিনিস কেন এত সহজে কাজ করে?

রুলটি কাজ করার কারণ, এটি খুবই সহজ। আপনার মস্তিষ্কের কাছে আপনার কাজের স্পৃহাকে মেরে ফেলার সব ধরনের কৌশলগত উপায় রয়েছে। আমার কিছু প্রিয় গবেষক, অধ্যাপক ও চিন্তাবিদ বেশকিছু বেস্টসেলার বই লিখে এবং টেড টক আলোচনায় বিশদ ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন যে, কেমন করে আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের নিজের সাথে পক্ষপাত, পছন্দের বৈপরীত্য, মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও স্পটলাইট প্রভাব দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতা করে থাকে। এইসব মহান গবেষকরা আমাকে শিখিয়েছেন– যেই মুহূর্তে আপনি পরিবর্তিত হতে, অভ্যাসচক্র ভাঙতে অথবা কঠিন ও ভীতিকর কিছু করতে চাইবেন, আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে থামিয়ে দিতে কাজ শুরু করবে।

মূলতঃ মস্তিষ্ক আপনার চিন্তাপ্রবাহের মাঝেই আপনার সঙ্গে চালাকি করে থাকে। যে মুহূর্তে আপনি নিজের সঙ্গে এরকম চালাকি করতে দেখবেন, নিজেকে আপনি আপনার চিন্তা দ্বারা নিজেই আটকে ফেলুন। আপনার মস্তিষ্কের আছে আপনার সঙ্গে কাজের বাইরে কথা বলার অসংখ্য উপায়। আর এটাই এর পরিবর্তিত না হওয়ার স্নায়ুতাত্ত্বিক কারণ। অধ্যায় ১-এ আমি যেমন উল্লেখ করেছি, পরিবর্তনের জন্য আপনাকে তাই করতে হবে যা– অনিশ্চিত, ভীতিকর অথবা নতুন। আপনার বুদ্ধিমত্তা নকশা অনুযায়ী আপনাকে তা করতে দেবে না। আপনার মস্তিষ্ক যা করতে অনিশ্চিত, ভীতি অথবা নতুনত্ব অনুভব করে, তা করতে ভয় পায়। সুতরাং এটা আপনাকে ঐ সকল কাজ থেকে বিরত রাখতে আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্য যা করা দরকার তাই করবে। এটা আপনার হার্ডওয়্যারের অংশ। এই দ্বিধাগুলো সত্যিই খুব দ্রুত ঘটে থাকে, আর তাই একে পরাস্ত করতে হলে আপনাকে আরো দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

রুলটির উদ্দেশ্য সাধনের শক্তি এবং শক্তিশালী ও পরীক্ষিত কিছু মূলনীতির আধুনিক মনোবৈজ্ঞানিক উদাহরণ হলো– কাজের প্রতি পক্ষপাত, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণস্থল, আচরণগত নমনীয়তা, অগ্রগতি নীতি, শুরু করার প্রথা, অভ্যাসের স্বর্ণালী রীতি, বিশুদ্ধ গর্ব, ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ, যদি-তারপর পরিকল্পনা এবং শক্তি সক্রিয়করণ। এই বইটি জুড়ে আপনি এই মূলনীতিগুলোর বিষয়ে যতবেশি বিস্তারিত পড়বেন ততবেশি জানতে পারবেন, বিশেষ করে আপনার জীবনের সুনির্দিষ্ট এলাকায় কি করে রুটি ব্যবহার করতে হবে সেই সংক্রান্ত আলোচনা।

কি করে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে একটি রুল কাজ করে?

ফাইভ সেকেন্ড রুল-টি আসলে একটি ক্ষেত্রেই কাজ করে, আর তা হলো আপনি। প্রত্যেকবার ঠিক একই রকমভাবে দ্বিধান্বিত হওয়ার মাধ্যমে আপনি নিজেকে পরিবর্তিত হওয়া থেকে বিরত রাখেন। তারপর আপনি শুরু করেন অতিরিক্ত চিন্তা-ভাবনা এবং একটা সময় নিজেকে দেখতে পান মানসিক কারাগারে।

দ্বিধা করার মুহূর্তটি একটি ঘাতক। দ্বিধা আপনার মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টিকারী সংকেত পাঠায়। এটা একটা লাল পতাকা যা সংকেত দেয় কিছু একটা ভুল হচ্ছে এবং আপনার মস্তিষ্ক তখন স্ব-সুরক্ষা প্রক্রিয়ায় চলে যায়। আর এভাবেই আমরা ব্যর্থতার সাথে সংযুক্ত হয়ে যাই। এক মুহূর্ত এটা নিয়ে একটু ভাবুন।

আপনি সবসময় হয়তো দ্বিধা করেন না। উদাহরণস্বরূপ– সকালবেলা একটি কাপে কফি ঢালার সময় আপনি দ্বিধা করবেন না। আপনি আপনার প্যান্টটি পরার সময় দ্বিধা করবেন না। টেলিভিশন চালু করার সময়ও আপনি দ্বিধা করবেন না। আপনি আপনার প্রিয় বন্ধুকে ফোন করার সময় দ্বিধা করবেন না। আপনি চিন্তাই করবেন না। আপনার প্রবৃত্তি যখনই বলবে, আপনি ফোনটি হাতে নেবেন এবং কল করবেন। কিন্তু আপনি যখন একটি পণ্য বিক্রয়ের জন্য কল করতে বা ক্ষুদে বার্তা পাঠাতে যাবেন, আপনার মস্তিষ্ক চিন্তা করা শুরু করবে যে কিছু একটা অবশ্যই ভুল আছে। আপনি যত দীর্ঘ সময় ধরে এই বিক্রয় কলটি নিয়ে চিন্তা করবেন ততবেশি সম্ভাবনা থাকবে শেষ পর্যন্ত কলটি না করার। আমাদের মধ্যে অনেকেই বুঝতে পারেন না কতটা ঘনঘন আমরা দ্বিধাবোধ করি কারণ এটি আমরা প্রায়শঃই করি এবং একপর্যায়ে এটি আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। রুলটি ব্যবহার করার পর টিম যেভাবে এটা বর্ণনা করেছেন :

সত্যিই আমি মনে করি যে রুলটি শক্তিশালী, কারণ এটি আপনার চিন্তা-ভাবনাগুলোর উপর নজর রাখে যা প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমোদন দেয় এবং আপনাকে উপেক্ষার ওপরে ঔজ্জ্বল্য প্রদান করে থাকে। আমি যেমন বলতে থাকি যে– কি মুশকিল, আমি এটার মধ্যেই পড়ে আছি! সুতরাং, এটিকে শক্তিশালী বলাই যায় কারণ আপনি বলার পূর্বেই বুনন করা চিন্তাপদ্ধতি ভাঙতে এটি আপনাকে সাহায্য করবে যা আপনাকে কাজ করতে অনুমোদন দেবে (আমাকে সবসময় দিয়েছে) এবং নিরাপদে এগিয়ে যেতে বলবে। চিন্তার বিষয়, এখন আমি যা করছি তা করতে কি আমি ভয় পেয়েছিলাম? তবে এটা কখনোই এমন ছিলনা যে, কোনো কিছু আমি করেছি বা করিনি– তা পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিচ্ছিল।

কিন্তু শীঘ্রই আপনি শিখতে পারবেন যে, দ্বিধা করার মুহূর্তটি আপনি আপনার সুবিধার জন্যও ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিবার আপনি যখন নিজেকে দ্বিধান্বিত অবস্থায় দেখতে পাবেন তা আসলে একটি ধাক্কা দেবার মুহূর্ত। ৫ সেকেন্ডের জানালাটি খোলা আছে এবং নিজেকে সামনে ঠেলে দেওয়ার জন্য ৫-৪-৩-২-১ ক্ষণ গণনা করার এটাই সময় যা আপনাকে আপনার অজুহাতগুলোর চাইতে অনেক বড় করে তুলবে। ৫-৪-৩-২-১ ক্ষণ গণনাটি পরিবেশিত হতে পারে রুলটি এবং এর গুরুত্ববহনকারী একটি প্রাণবন্ত স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে।

রুটি কি আচরণের স্থায়ী পরিবর্তনও করতে পারে?

এই রুটি মুহূর্তের প্রতিরোধে আপনাকে আপনার মস্তিষ্কের পরিচালনা পদ্ধতিকে হারাতে সাহায্য করবে। কিন্তু আপনি কি জানেন এটি আর কি কি করতে পারে? সময়ের সাথে সাথে রুলটি পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে আপনি একসাথে সেই পদ্ধতিটি ধ্বংস করে দিতে পারেন। আমাদের বেশিরভাগই একটি জিনিস উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হই যে দুঃশ্চিন্তা, সন্দেহ এবং ভয়ের মতো চিন্তাধারাগুলো আসলে শুধুই অভ্যাস এবং আপনি এমনকি না বুঝেই এগুলো পুনরাবৃত্তি করে থাকেন। আপনি যদি নিজের সুখ ধ্বংস করতেই সবকিছু করে থাকেন যা করা আপনার অভ্যাস, তাহলে নিমোল্লিখিত অভ্যাসগুলো ভাঙতে আপনি সর্বশেষ গবেষণা অনুসরণ করতে পারেন—

অপেক্ষা

সন্দেহ

পেছনে আটকে থাকা

নীরব থাকা

অনিরাপত্তাবোধ

এড়িয়ে যাওয়া

দুঃশ্চিন্তা

অতিচিন্তা

অভ্যাসের স্বর্ণালী রীতি বলে একটি বিষয় রয়েছে এবং এটি খুব সহজ বিষয়। যে কোনো খারাপ অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য আপনাকে অবশ্যই আচরণের ধারাটি যা আপনি পুনরাবৃত্তি করে থাকেন তা প্রতিস্থাপন করতে হবে। অধ্যায় ৪-এ আমি এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব। আমি আপনাকে শেখাব কেমন করে দুঃশ্চিন্তা, আতঙ্ক এবং ভয়ের মতো মানসিক অভ্যাসগুলো সর্বশেষ গবেষণা ও ফাইভ সেকেন্ড রুলটির সমন্বয়ে দূর করা সম্ভব।

এই মুহূর্তে আপনার যা জানা প্রয়োজন তা হলো– ফাইভ সেকেন্ড রুটি এবং ৫-৪-৩-২-১ ক্ষণ গণনা যা আপনার নতুন আচরণ পদ্ধতি হয়ে যাবে। পেছনে টেনে ধরে রাখার পরিবর্তে নিজেকে সামনে ঠেলে দিতে আপনি ক্ষণ গণনা করবেন। এই গণনাকে গবেষকরা শুরুর আনুষ্ঠানিকতা নামেও ডেকে থাকেন। শুরুর আনুষ্ঠানিকতা আপনার খারাপ ধরনটির পরিবর্তে নতুন, ইতিবাচক ধারার সূত্রপাত ঘটাবে।

আপনি যদি রুলটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে আপনি আপনার মস্তিষ্ককে পুনর্বিন্যাস করতে সক্ষম হবেন। আপনি প্রথাগত দুঃশ্চিন্তা, দ্বিধা এবং ভয়ের পরিবর্তে নিজেকে নতুন আচরণধারা শেখাতে পারবেন। আপনি দেখতে পাবেন যে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনোবলের সহিত আপনি কাজ করে চলেছেন। সময়ের সাথে সাথে আপনি যতই সামনে এগিয়ে যাবেন, নিজের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করবেন– সত্যিকারের আত্মবিশ্বাস ও গর্ব। যখন আপনি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও ছোট ছোট অর্জনগুলোকে সম্মান প্রদর্শন করবেন, তখনই আসবে আপনার বিশুদ্ধ ধরন।

আপনি যদি মনে করে থাকেন, আপনার অভ্যাস, মানসিকতা ও ব্যক্তিত্বের মতো সবকিছুই পাথরে খোদাই করা থাকবে, তাহলে জানা প্রয়োজন– এগুলো খুবই নমনীয় বিষয়। আপনার জীবনের জন্য রুটির প্রয়োগ সত্যিই রোমাঞ্চকর। আপনি যখন ৫ সেকেন্ড সময়ের সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা শুরু করবেন, তখন একই সাথে আপনি আপনার সনাতন মানসিকতা ও অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন। ঐ ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলোই বড় পরিবর্তনের সঙ্গে যোগ হবে এবং আপনাকে দেখাতে সহায়তা করবে যে– আপনি কে, আপনি কি অনুভব করেন এবং আপনি কেমন জীবনযাপন করেন।

আপনার সিদ্ধান্ত বদলান– আপনার জীবন বদলে যাবে। আপনার সিদ্ধান্তগুলো এর চাইতে বড় আর কি পরিবর্তন করতে পারে? মনোবল।

আপনার যদি শুরু করার সাহস থেকে থাকে, তাহলে সফল হওয়ার মনোবলও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *