1 of 2

৩৭. মসজিদে নববী নির্মাণ এবং আবু আইউবের গৃহে অবস্থানকাল

মসজিদে নববী নির্মাণ এবং আবু আইউবের গৃহে অবস্থানকাল

আবু আইউব আনসারী (রা)–এর গৃহে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর অবস্থানের মেয়াদ সম্পর্কে মতভেদ দেখা যায়। ওয়াকিদী বলেন, সাত মাস; আর অন্যরা বলেন, এক মাসেরও কম সময়। আল্লাহই ভাল জানেন।

ইমাম বুখারী ইসহাক ইবন মানসূর। সূত্রে আনাস ইবন মালিক (র)-এর বরাতে বলেন :

রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করে মদীনার উচু এলাকায় বনু আমর ইবন আওফ গোত্রে অবতরণ করেন। তিনি সেখানে ১৪ রাত্রি অবস্থান করেন। তারপর বনু নাজ্জারের কাছে খবর

প্রেরণ করলে তারা কোষাবদ্ধ তরবারি সহ উপস্থিত হয়। রাবী আনাস (রা) বলেন? আমি যেন রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে সওয়াবীর উপর দেখতে পাচ্ছি। আর হযরত আবু বকর (রা) তাঁর পেছনে সওয়ার আর বনু নাজ্জারের সরদাররা তাঁর আশপাশে। শেষ পর্যন্ত তিনি আবু আইউবের গৃহ প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যেখানে সময় হতে সেখানেই নামায আদায় করে নিতেন। তিনি বকরী রাখার স্থানেও নামায আদায় করতেন। রাবী বলেন, এরপর তিনি (সা) মসজিদ নির্মাণ করার নির্দেশ দেন। বনু নাজ্জারের নিকট পয়গাম প্রেরণ করলে তারা হাযির হন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, : হে বনু নাজ্জার। তোমরা আমাকে এ বাগানের মূল্য নির্ণয় করে দাও। তারা বললেন, : না, আল্লাহর কসম, আমরা আল্লাহর নিকট ছাড়া কারো নিকট থেকে এর মূল্য গ্রহণ করবো না। রাবী বলেন, সেখানে কি ছিল আমি তোমাদেরকে বলছি। সেখানে ছিল মুশরিকদের কবর। সেখানে ছিল ধ্বংসাবশেষ এবং খেজুর বাগান। রাসূলুল্লাহ্ (সা) নির্দেশে কবরগুলো নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়, ধ্বংসাবশেষকে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হয়। আর খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হয়। রাবী বলেন, খেজুর গাছগুলো সাবিবদ্ধ করে কিবলার দিকে রাখা হয় এবং দরজার চৌকাঠ দু’টি করা হয় পাথর দিয়ে। বর্ণনাকারী বলেন, পাথর বহনকালে তাঁরা সকলে সমস্বরে সুর করে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। আর তাদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলছিলেন :

اللهم انه لا خير الاخير الاخرة–فانصر الانتصار المهاجرة ، “হে আল্লাহ! আখিরাতের মঙ্গল ছাড়া কোন মঙ্গল নেই, সুতরাং তুমি সাহায্য কর আনসার আর মুহাজিরগণকে ৷”

ইমাম বুখারী অন্য কয়েক স্থানেও হাদীছটি বর্ণনা করেন এবং ইমাম মুসলিম আবু আবদুস সামাদ ও আবদুল ওয়ারিছ ইবন সাঈদ সূত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারীর বর্ণনায় ইতোপূর্বে যুহরী সূত্রে উরওয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মসজিদের স্থানটি ছিল খেজুর শুকাবার খলা। দু’জন ইয়াতীম ছিল স্থানটির মালিক, যারা ছিল আসআদি ইবন যুরারার প্রতিপালনাধীন আর সে ইয়াতীমদ্বয়ের নাম ছিল সাহল এবং সুহায়ল। রাসূলুল্লাহ (সা) তাদের নিকট মূল্য জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা)। আমরা মূল্য গ্রহণ করবো না, বরং জায়গাটি আপনাকে “হিবা’ করবো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ এভাবে হিবা বা দান হিসাবে স্থানটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে ক্রয় করে নিয়ে তথায় মসজিদ নির্মাণ করান। রাবী বলেন, সকলের সঙ্গে মাটি বহনকালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবৃত্তি করেন :

هذا الحمال لا حمال خیبر * هذا ابر ر بنا و اطهر “এ বোঝা খায়বারের বোঝা নয়, হে রব, এটা অনেক পূত, অনেক পবিত্র।”

রাসূলুল্লাহ্ (সা) আরো বলেন :

لا هم ان الاجر اجر الأخرة * فارحم الانصار والمهاجره،

8–

“হে আল্লাহ! আখিরাতের পুরস্কারইতো প্রকৃত পুরস্কার। তাই তুমি রহম কর আনসার আর মুহাজিরগণকে ৷”

মূসা ইবন উকবা উল্লেখ করেন যে, আসআদি ইবন যুরোরা ইয়াতীমদ্বয়কে উক্ত স্থানের পরিবর্তে বিয়াযা’ অঞ্চলে একটা খেজুর বাগান দান করেন। তিনি একথাও উল্লেখ করেন যে, কারো কারো মতে রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের নিকট থেকে স্থানটি ক্রয় করে নেন।

আমি অর্থাৎ (গ্রন্থকার) বলি, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক উল্লেখ করেন যে, খেজুর শুকাবার খলাটি ছিল দু’জন ইয়াতীম বালকের, যারা মুআয ইবন আফরার তত্ত্বাবধানে ছিল এবং তারা ছিল আমার-এর পুত্র সাহল এবং সুহায়ল। আল্লাহই ভাল জানেন।

ইমাম বায়হাকী আবু বকর ইবন আবুদদুনাইয়া সূত্রে হাসান-এর বরাতে বলেন, : রাসূলুল্লাহ (সা) মসজিদ নির্মাণ কার্য শুরু করলে সাহাবীগণ এ কাজে তাকে সহায়তা করেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা)-ও তাদের সঙ্গে ইট-পাথর বহন করছিলেন; এমনকি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর বক্ষ মুবারক ধূলা-মলিন হয়ে যায়। তখন তিনি বলেন, : তোমরা এটাকে মূসা (আ:)-এর ছাপরার মত বানিয়ে দাও। তখন আমি হাসানকে জিজ্ঞেস করলাম, মূসা (আ:)-এর ছাপরা কি জিনিস? তিনি বললেন, উঠলে ছাদের নাগাল পাওয়া যায়। এ বর্ণনাটি মুরসাল পর্যায়ের। বায়হাকী (র) হাম্মাদ ইবন সালামা সূত্রে উবাদার বরাতে বর্ণনা করেন যে, আনসারগণ কিছু অর্থ সংগ্রহ করে তা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বললেন :

ইয়া রাসূলাল্লাহ! (এ টাকা দিয়ে) মসজিদ নির্মাণ করুন এবং তা সুশোভিত করুন। আমরা আর কতকাল এ ছাপরার তলে নামায আদায় করবো? তখন আল্লাহর নবী (সা) বললেন, :

আমরা ভাই মূসার প্রতি আমার কোন অভক্তি নেই। মূসা (আ:)-এর ছাপরার ছাপড়া। এ। সূত্রে হাদীছটি গরীব পর্যায়ের। আবু দাউদ (র) মুহাম্মদ ইবন হাতিম সূত্রে….. ইবন উমর (রা)

-এর বরাতে বলেন :

“রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আমলে মসজিদে নববীর খুঁটি ছিল। খেজুর গাছের কাণ্ডের আর তার উপরিভাগ অর্থাৎ ছাদ ছিল। খেজুর পাতার। আবু বকর (রা)-এর খিলাফত কালে তা নষ্ট হয়ে গেলে খেজুরের কাণ্ড আর ডাল-পাতা দিয়ে তা পুনর্নিমাণ করা হয়। উছমান (রা)-এর খিলাফতকালে তা নষ্ট হয়ে গেলে তা ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়। আদ্যাবধি অর্থাৎ গ্রন্থকারের জীবদ্দশা পর্যন্ত তা বহাল আছে। গ্রন্থকার বলেন, এ বর্ণনাটিও গরীব।

ইমাম আবু দাউদ মুজাহিদ ইবন মূসা সূত্রে ইবন উমর-এর বরাতে বর্ণনা করেন : ইবন উমর (রা) বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আমলে মসজিদে নববী ছিল ইট দ্বারা নির্মিত আর তার ছাদ ছিল খেজুর পাতার এবং তাঁর খুঁটি ছিল খেজুর কাঠের। আবু বকর (রা) তাতে কোন সংযোজন করেননি। উমর (রা) তাতে সংযোজন করেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যুগের ইট আর খেজুর পাতার ভিতের উপর সংযোজন করেন এবং কাঠের খুঁটি ব্যবহার করেন। হযরত উছমান (রা) তা পরিবর্তন করে তাতে অনেক সংযোজন করেন। তিনি

নকশা করা পাথর দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করে তাতে চুনকাম করান এবং ছাদ নির্মাণ করান সেগুন কাঠ দিয়ে। ইমাম বুখারী আলী ইবন সূত্রে ইয়াকুব ইবন ইবরাহীমের বরাতে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলি যে, হযরত উছমান ইবন আফফান (রা) যে মসজিদে নববীতে সংযোজন করেছেন তা করেছেন তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিম্নোক্ত বাণীর আলোকে :

من بنى لله مسجدا ولو كمفحص قطاة بنى الله له بيتا فى الجنة “যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করে— তা মুরগীর কুটির পরিমাণ হলেও— আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ঘর বানাবেন।” তখন যেসব সাহাবা বর্তমান ছিলেন, তারা হযরত উছমানের সঙ্গে একমত হয়েছেন এবং পরবতী কালেও তারা এটাকে পরিবর্তন করেননি। এ থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করে আলিমগণ বলেছেন যে, এ সংযোজনের বিধান সমস্ত মসজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এসব মসজিদে নামায আদায়ে ছাওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং এসব মসজিদের উদ্দেশ্যে গমন করা যাবে। দামিশক এর জামি’ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ওয়ালীদ ইবন আবদুল মালিকের শাসনামলে মসজিদে নববীতে সংস্কার-সংযোজন করা হয়। খলীফা। ওয়ালীদের নির্দেশে মদীনায় খলীফার প্রতিনিধি উমর ইবন আবদুল আযীয এ সংস্কার-সংযোজন কর্ম সাধন করেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর হুজরাকে মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করেন এ সম্পর্কে যথাসময়ে আলোচনা করা হবে। পরবর্তীকালে এতে আরো অনেক সংস্কার-সংযোজন করা হয়েছে এবং কিবলার দিক থেকেও সংযোজন করা হয়েছে, যার ফলে রওযা এবং মিম্বর সামনের সফের পরে চলে যায়। যেমন অধুনা দৃষ্টিগোচর হয় (অর্থাৎ লেখকের জীবদ্দশা পর্যন্ত)।

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন : মসজিদ এবং বাসস্থান নির্মাণ পর্যন্ত রাসূল (রা) হযরত আবু আইউবের গৃহে অবস্থান করেন এবং নির্মাণ কাজে রাসূলুল্লাহ্ (সা) নিজে অংশগ্রহণ করেন। মুসলমানদেরকে কাজে উদ্ধৃদ্ধ করার জন্য। রাসূলের পদাংক অনুসরণ করে মুহাজির এবং আনসারগণ এ নির্মাণ কার্যে যোগদান করেন। এ প্রসঙ্গে জনৈক মুসলিম কবি বলেন :

لكن قعدنا و البنى يعمل * لذالك منا العمل المضلل

বিভ্রান্তিকর।” নির্মাণ কাজ চলাকালে মুসলমানরা সমবেত কণ্ঠে আবৃত্তি করেন :

لا عيش الا عيش الاخرة * اللهم ارحم الانصار والمهاجره “পরীকালের সুখই পরম সুখ–অন্য কিছু নয়। হে আল্লাহ! রহম কর তুমি আনসার আর মুহাজিরগণকে।” তখন রাসূলুল্লাহ (সা)-ও বলেন :

لاعیش الا عیش الاخرة * اللهم ار حم المهاجرین والانصار “পরীকালের সুখই পরম সুখ, অন্য কিছু নয়। হে আল্লাহ! রহম কর। মুহাজির আর আনসারে। ইবন ইসহাক বলেন, ইট-মাটি বহন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে হযরত আম্মার ইবন ইয়াসির রাসূল (সা)-এর দরবারে হাযির হয়ে আরয করেন :

ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা আমাকে মেরে ফেললো। তারা নিজেরা যে বােঝা বহন করে না, তেমন বোঝা আমার ঘাড়ে চাপায়। উন্মু সালামা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে দেখেছি তার ঘাড় পর্যন্ত প্ৰলম্বিত চুল থেকে ধুলাবালি ঝাড়তে আর তার চুল ছিল কোঁকড়ানো। এসময় তিনি বলছিলেন :

ইবন সুমাইয়ার জন্য আফসোস! তারা তোমাকে হত্যর করছে (বলিছ), তারা তোমাকে হত্যা করবে না, বরং তোমাকে হত্যা করবে এক বিদ্রোহী দল।” এ সনদে হাদীছটি মুনকাতি, এমনকি তা বিচ্ছিন্ন সনদ অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক এবং উম্মু সালামার মধ্যস্থলে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। অবশ্য ইমাম মুসলিম (র) তাঁর সহীহ গ্রন্থে উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের কথা ভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করেছেন। উম্মু সালামা সূত্রে তাঁর বর্ণিত হাদীছে তিনি বলেন :

রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন : একটা বিদ্রোহী দল আম্মারকে হত্যা করবে। ইমাম মুসলিম অপর এক সূত্রে উন্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত হাদীছে বলেন :

রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন : হে ইবন সুমাইয়া! তোমার জন্য আফসোস! একটা বিদ্রোহী দল তোমাকে হত্যা করবে। আবদুর রাযযাক মামার সূত্রে উন্মু সালামা থেকে বর্ণনা করেন :

উন্মু সালামা (রা) বলেন : রাসূলুল্লাহ (সা) এবং তার সাহাবীগণ যখন মসজিদ নির্মাণ করছিলেন, তখন প্রত্যেকে একটা ইট বহন করছিলেন; কিন্তু আম্মার বহন করছিলেন দুটি করে ইট। একটা তার নিজের, অপরটা নবী (সা)-এর পক্ষ থেকে। তখন নবী করীম (সাঃ) আম্মারের পৃষ্ঠদেশে হাত বুলিয়ে বলেন :

ابن سمية للناس اجر و لك اجران و آخر زاد لك شربة من لبن و تقتلك الفئة

الباغية–হে ইবন সুমাইয়া! লোকদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিদান আর তোমার জন্য রয়েছে দু’টি। আর তোমার শেষ খাবার হবে দুধ; একটা বিদ্রোহী দল তোমাকে হত্যা করবে।” এ বর্ণনার

সনদ বুখারী-মুসলিমের শর্তনুযায়ী বিশুদ্ধ।

বায়হাকী প্রমুখ একদল রাবী থেকে খালিদ হামযা সূত্রে আবু সাঈদ খুদরীর বরাতে বলেন : আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেছেন : মসজিদে নববীর নির্মাণ কার্যে আমরা একটি একটি করে

ইট বহন করছিলাম আর আম্মার বহন করছিল দু’টি দু’টি করে। নবী করীম (রা) এটা দেখে

তার দেহ থেকে মাটি ঝাড়তে ঝাড়তে বলছিলেন :

দুঃখ আম্মারের জন্য, একটা বিদ্রোহী দল তাকে হত্যা করবে। সে ওদেরকে জানাতের দিকে ডাকবে। আর তারা আম্মারকে ডাকবে জাহান্নামের দিকে। রাবী বলেন, আম্মার বলছিলেন : আমি ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। মুসাদাদ সূত্রে খালিদ আল-হামযার বরাতে

ইমাম বুখারীও হাদীছটি বর্ণনা করেন। ভিন্ন সনদেও তিনি হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ অংশটি উল্লেখ করেননি : বঁ_AU,। বা ৭.৭। এ।|৭৯৭

ইমাম বায়হাকী বলেন যে, ইমাম বুখারী এ অংশটি উল্লেখ না করার কারণ এই যে, ইমাম মুসলিম আবু নাযারা সূত্রে আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন :

তিনি বলেন, যিনি আমার চেয়ে উত্তম, তিনি আমাকে খবর দিয়েছেন যে, খন্দক খনন কালে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আম্মারকে লক্ষ্য করে বলেছেন : এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা) আম্মারের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলছিলেন : ইবন সুমাইয়ার বিপদ! একটা বিদ্রোহী দল তাকে হত্যা করবে। ইমাম মুসলিম। শু’বা সূত্রে আবু সাঈদ থেকে হাদীছটি বর্ণনা করেন। তাঁর বর্ণনায় আছে :

তিনি বলেন, যিনি আমার চেয়ে উত্তম, তিনি আমাকে জানান— আর তিনি হলেন আবু কাতাদা খন্দক খননকালে রাসূলুল্লাহ (সা) আম্মার ইবন ইয়াসিরকে বলেন, হে ইবন সুমাইয়া! দুঃখ তোমার জন্য, একটি বিদ্রোহী দল তোমাকে হত্যা করবে।

আবু দাউদ তায়ালিসী উহায়ব সূত্রে আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করে বলেন, : রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন খন্দক খনন করছিলেন, তখন লোকেরা একটা একটা ইট বহন করছিলেন আর আম্মার ব্যথায় কাতর অবস্থায়ও দু’। দু’টি ইট বহন করছিলেন। আবু সাঈদ বলেন, আমার কোন কোন বন্ধু আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর মাথা থেকে মাটি ঝাড়তে ঝাড়তে বলছিলেন, ইবন সুমাইয়্যা! দুঃখ তোমার জন্য, একটা বিদ্রোহী দল তোমাকে হত্যা করবে। বায়হাকী বলেন, তিনি নিজে যা শুনেছেন আর সঙ্গীর নিকট থেকে যা শুনেছেন উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। হতে পারে খন্দক খননের কথা উল্লেখ করাটা রাবীর ভ্ৰম। তারা উভয়ে বা তাদের একজন মসজিদ নির্মাণকালে এবং অন্যজন খন্দক খননকালে তাকে একথা বলেছেন। আল্লাহই ভাল জানেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলি, খন্দক খননকালে ইট বহন অর্থহীন। বাহ্যত এটা লিপিকারের বিভ্ৰম। আল্লাহই ভাল জানেন।

এ হাদীছটি নবুওয়াতের অন্যতম প্ৰমাণ। এতে নবী (সা) আগাম জানান যে, একটা বিদ্রোহী দল আম্মারকে হত্যা করবে। সিফফঁীনের ঘটনায় শামবাসীরা তাঁকে হত্যা করে। আর এ ঘটনায় আম্মার ছিলেন আলী (রা) ও ইরাকীদের সঙ্গে। যথাস্থানে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। হযরত আলী (রা) ছিলেন। হযরত মুআবিয়ার চেয়ে বেশী হকদার। মুআবিয়ার সঙ্গীদেরকে বিদ্রোহী বলায় তাদেরকে কাফির আখ্যা দেয়া অপরিহার্য হয় না। যেমনটি শিয়া প্রমুখ বাতিল ফিরকা প্রয়াস পেয়ে থাকে। প্রকৃত প্রস্তাবে তারা বিদ্রোহী হলেও যুদ্ধের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাঁরা ছিলেন মুজতাহিদ। সকল মুজতাহিদ যথার্থ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন না। ইজতিহাদে যিনি ঠিক করেন তার জন্য রয়েছে দুটি বিনিময় আর যিনি ভুল করেন তার জন্য রয়েছে একটা পুরস্কার। পরবর্তীকালে এ হাদীছের সঙ্গে যারা একথা যোগ

করেছে :

لا انالها الله شفا عتى يوم القيامة “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে যেন আমার শাফাআতের অংশীদার না করেন। এ

সংযোজনের মাধ্যমে সে রাসূলের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে। কারণ, রাসূলুল্লাহ এমন কথা বলেননি, প্রামাণ্য সূত্রে তাঁর নিকট থেকে এমন কথা বর্ণিত নেই। আল্লাহই ভাল জানেন।।

আম্মার তারা এবং তার সঙ্গীরা সিরিয়াবাসীদেরকে ডাকছিলেন সৌহার্দ-সম্প্রীতি ও ঐক্যের দিকে; আর সিরিয়াবাসীরা কে বেশী হকদার সে কথাবাদ দিয়ে কর্তৃত্ব কবজ করতে চেয়েছিল। তারা এটাও চেয়েছিল যে, লোকেরা নানা দলে বিভক্ত হোক আর প্রত্যেক দলের মাথায় থাকুক। একজন ইমাম। এটা চালিত করে অনৈক্য আর উম্মতের মতভেদের দিকে।

একথা স্বীকার না করলেও এটাই ছিল তাদের মাযহাবের অপরিহার্য পরিণতি আর তাদের গৃহীত নীতির ফলাফল। আল্লাহই ভাল জানেন।

আমরা যখন সিফফীন-এর ঘটনায় পৌঁছব, তখন এ বিষয়টা বিস্তারিত আলোচনা করা হবে আল্লাহর ইচ্ছা ও তার তাওফীকে। এখানে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মসজিদে নববীর নির্মাণ কাহিনী। তার প্রতিষ্ঠাতার উপর হাযারো দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

হাফিয বায়হাকী দালাইলুন নবুওয়াত গ্রন্থে হাফিযী আবু আবদুল্লাহ সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর আযাদকৃত গোলাম সাক্ষীনার বরাতে বর্ণনা করেন :

তিনি বলেনঃ হযরত আবু বকর (রা) একখানা পাথর এনে তা স্থাপন করলেন, এরপর হযরত উমর (রা) একখানা পাথর এনে স্থাপন করলেন। এরপর হযরত উছমান (রা) একখানা পাথর এনে তা স্থাপন করলে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, : আমার পরে এরাই হবে কর্তৃত্বের অধিকারী।

হাফিয বায়হাকী ইয়াহইয়া ইবন আব্দুল হামীদ হিম্মানী সূত্রে সাক্ষীনার বরাতে বর্ণনা

করেন। &।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মসজিদে নববী নির্মাণকালে একটা প্রস্তর স্থাপন করে বলেনঃ এবার আবু বকর আমার পাথরের পাশে তার পাথর স্থাপন করুক, এরপর আবু বকরের পাথরের পাশে উমর তার পাথর স্থাপন করুক, এরপর উমরের পাথরের পাশে উছমান তার পাথর স্থাপন করুক। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন :

هؤلاء الخلفاء من بعدى

“আমার পরে এরাই খলীফা হবেন।” এই সনদে হাদীছটি নিতান্তই গরীব পর্যায়ের। ইমাম আহমদ আবুন নাযার সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর আযাদকৃত গোলাম সাফৗনার বরাতে যে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন, তা-ই পরিচিত। তাতে সাফঁীনা বলেন :

“আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-কে বলতে শুনেছি : খিলাফত থাকবে ত্ৰিশ বছর, তারপর হবে রাজতন্ত্র। তারপর সাক্ষীনা বলেন, : আবু বকরের খিলাফত শুমার কর— দু’বছর, উমরের খিলাফত শুমার কর দশ বছর, উছমানের খিলাফত শুমার কর–বার বছর, আলীর খিলাফত

শুমার কর ছয় বছর। হাদীসের এ শব্দগুলো আহমদ (র) বর্ণিত। আবু দাউদ, ইমাম তিরমিয়ী ও নাসাঈ সাঈদ ইবন জামহান সূত্রে ও হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিয়ী হাদীছটিকে ‘হাসান’ বলে মন্তব্য করে বলেন, এ সূত্র ছাড়া হাদীছটি আমাদের জানা নেই। আর তিরমিয়ীর ভাষায় :

الخلافة بعد ی ثلاثون سنة ثم یکون ملکا عضوضسا

“আমার পর খিলাফত থাকবে ত্ৰিশ বছর, এরপর হবে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র।” তিনি হাদীছের অবশিষ্টাংশও উল্লেখ করেছেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি, মসজিদে নববী প্রথম যখন নির্মাণ করা হয়, তখন তাতে খুতবা দানের জন্য মিম্বর ছিল না; বরং রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর ‘মুসাল্লার নিকট দেয়ালে একটা খুঁটির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। পরে তাঁর খুতবার জন্য মিম্বর তৈয়ার করা হলে তিনি সেদিকে অগ্রসর হলে খুঁটিটি দশ মাসের গর্ভবতী উস্ত্রীর মত অঝোরে ক্ৰন্দন করা শুরু করে। কারণ, খুঁটিটি নিকট থেকে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর খুতবা শ্রবণ করতো। যথাস্থানে রাসূলের মিম্বর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। খুঁটিটি ক্ৰন্দন করতে লাগলে রাসূলুল্লাহ (সা) তার নিকটে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে সান্তুনা দেন। যেমন ক্ৰন্দনরত শিশুকে সান্তুনা দান করলে সে চুপ হয়ে যায়। এ বিষয়ে পরে সাহল ইবন সাআদ সাইদী, জাবির, আবদুল্লাহ ইবন উমর, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস, আনাস ইবন মালিক ও উন্মু সালামা (রা) সূত্রে বর্ণিত হাদীছে। উল্লেখ করা হবে। আনাস ইবন মালিক সূত্রে এ হাদীছটি বর্ণনা করার পর হযরত হাসান বসরী কি চমৎকার মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন?

يامعشر المسلمين! الخشبة تحن الى رسول الله صلى الله عليه وسلم

شوقيسا اليه ، او ليس الرجسال الذين يرجسون لقاءه الحق ان يشتا

قوا اليه ؟ “হে মুসলিম সমাজ! রাসূলে করীম (সা)-এর ভালবাসায় আপুত হয়ে কাষ্ঠ পর্যন্ত ক্ৰন্দন

করছে। যারা রাসূলের দীদার প্রত্যাশী, তারা কি রাসূলে পাকের প্রেমে আপুত হওয়ার অধিকতর হকদার নয়?

মসজিদে নববীর ফখীলত

ইমাম আহমদ (র) ইয়াহইয়া ইবন উনায়স সূত্রে তাঁর পিতার বরাতে হাদীছ বর্ণনা করে

বলেন :

দু’ ব্যক্তির মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, এক ব্যক্তি বনু খাদরার, অপর ব্যক্তি বনু আমর ইবন আওফের। তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদ কোনটি তা নিয়ে তাদের মধ্যে এ বিরোধ দেখা দেয়। খুদরী ব্যক্তিটি বলেন, : তা হলো রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মসজিদ (অর্থাৎ মসজিদে নববী)। পক্ষান্তরে বনু আমরের লোকটি বলেন, তা হচ্ছে কুবার মসজিদ। উভয়ে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট আগমন করে এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন :

مسجد قباء

“তা হল এ মসজিদ (অর্থাৎ মসজিদে নববী)। তিনি আরো বলেন, : এতে অনেক কল্যাণ

রয়েছে। অর্থাৎ মসজিদে কুবায়।” তিরমিয়ী কুতীয়বা সূত্রে হাদীছটি বর্ণনা করে তাকে হাসানসহীহ হাদীছ বলে মন্তব্য করেন।

আহমদ (র) ইসহাক ইবন ইয়াহইয়া সূত্রে, তিরমিয়ী ও নাসাঈ উভয়ে কুতীয়বা সূত্রে আবু সাঈদ থেকে তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, :

তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ বিষয়ে দু’ব্যক্তি বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। এরপর পূর্ব বর্ণিত হাদীছটি উল্লেখ করেন।

সহীহ মুসলিম শরীফে আবু সালামা সূত্রে বর্ণিত হাদীছে বলা হযেছে যে, তিনি এ সম্পর্কে আবদুর রহমান ইবন আবু সাঈদকে জিজ্ঞাসা করলেন :

তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ সম্পর্কে তুমি তোমার পিতার কাছে কী শুনেছ? আমার পিতা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আগমন করে এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি হাতে কঙ্কর তুলে নিয়ে তা নিক্ষেপ করে বললেন, : তা হলো তোমাদের এ মসজিদ।

ইমাম আহমদ (র) ওয়াকী সূত্রে সাহল ইবন সাআদ থেকে বর্ণনা করে বলেন :

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যুগে তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ বিষয়ে দু’ব্যক্তি বিরোধে প্রবৃত্ত হয়। তাদের একজন বললেনঃ তা হলো রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মসজিদ (মসজিদে নববী অপর ব্যক্তি বললো তা হলো মসজিদে কুবা। উভয়ে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট গিয়ে এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, : তা হলো আমার এ মসজিদ (মসজিদে নববী)। ইমাম আহমদ (র) আবু নুআয়ম সূত্রে উবাই ইবন কাআব থেকে বর্ণনা করে বলেন :

المسجد الذى أسيس على التقوى مستجذى هذا–

“তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ হলো আমার এই মসজিদ (মসজিদে নববী)।” বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত এসব হাদীছ দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মসজিদে তাকওয়া হলো মসজিদে নববী। হযরত উমর (রা) তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবন উমর, যায়দ ইবন ছাবিত এবং হযরত সাঈদ ইবন মুসায়্যাব এ মত পোষণ করেন। আর ইবন জারীর (তাবারী) এ মতই গ্রহণ করেন। অন্যরা বলেন, মসজিদে কুবা সংক্রান্ত আয়াত নাযিল এবং এসব হাদীছের মধ্যে কোন বিরোধ নেই, সে কথা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, এ মসজিদ মানে মসজিদে নববী এ সব গুণ–বৈশিষ্ট্যের সবচেয়ে বেশী উপযুক্ত। তন্মধ্যে একটা এই যে, এ মসজিদ হলো সে তিনটি মসজিদের অন্যতম, যে সম্পর্কে বুখারী এবং মুসলিম শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে :

عن ابی هر یرة رضی الله عنه قالی قالی رسول الله صبلی الله علیه و سلم لا تشد الرحال الا الى ثلاثة مساجد مسجدى هذا والمسجد الحرام ومسجد بيت

المقدس – “এ তিন মসজিদ ভিন্ন অপর কোন মসজিদের দিকে সফর করা যাবে না : (১) আমার এ মসজিদ (মসজিদে নববী), (২) মােসজিদুল হারাম ও (৩) বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদ।

সহীহ মুসলিমে আবু সাঈদ সূত্ৰেও নবী করীম (সা) থেকে অনুরূপ বৰ্ণিত আছে। বুখারী শরীফে এবং মুসলিম শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে : ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:؛ صلوة فى مسجدى هذا خير من

ألف صلوة فيما سنسو ام الا المسجد الحرام–“রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, : আমার এ মসজিদে এক নামায অন্য মসজিদে হাযার নামাযের চাইতে উত্তম; তবে মাসজিদুল হারাম ব্যতীত।” মুসনাদে আহমদে হাসান সনদে আরো একটি সুন্দর অতিরিক্ত সংযোজন আছে। আর তা এই : J_-_। এ1J১, ৩L_° কারণ, এটা অনেক

মর্যাদাপূর্ণ। বুখারী এবং মুসলিম শরীফে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান সূত্রে হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে?

قالی قالی رسول الله صلی السله علیه و سلم ما بسین بیتی و منبری روضة من

ریاضی الجنة ، و منبری علی حوضی

“আমার গৃহ আর আমার মিম্বরের মধ্যস্থলে রয়েছে জান্নাতের অন্যতম বাগান আর আমার মিম্বর হবে। আমার হাওয্যের উপর।” এ মসজিদ (মসজিদে নববী)-এর ফয়ীলত বিষয়ে অনেক অনেক হাদীছ রয়েছে। “কিতাবুল আহকাম আল-কাবীর’-এর মানসিক অধ্যায়ে সে সব হাদীছ আমরা উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ। তার প্রতিই আমাদের আস্থা আর তার উপরই আমাদের ভরসা। মহান আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি নেই, কোন ক্ষমতা নেই।

পক্ষান্তরে ইমাম মালিক (র) এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীরা এ মত পোষণ করেন যে, মদীনার মসজিদ মাসজিদুল হারাম থেকে শ্রেষ্ঠ। কারণ, তা নির্মাণ করেছেন। হযরত ইবরাহীম (আ:) আর এটা নির্মাণ করেছেন, হযরত মুহাম্মদ (সা)। আর এটা জানা কথা যে, হযরত মুহাম্মদ (সা) হযরত ইবরাহীম (আ:)-এর তুলনায় শ্রেষ্ঠ। অপরদিকে জামহুর ইমাম ও বিদগ্ধ আলিমগণ এর বিপরীত মত পোষণ করেন এবং তারা স্থির করেছেন যে, মােসজিদুল হারাম শ্রেষ্ঠ ও ফষীলতপূর্ণ। কারণ, তা এমন এক নগরীতে অবস্থিত, যাকে আল্লাহ হারাম তথা মর্যাদাপূর্ণ করেছেন–যেদিন আসমান-যমীন পয়দা করেছেন সেদিনই। ইবরাহীম খলীলুল্লাহ এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ খাতামুল মুরসালীনও তার মর্যাদা বহাল রেখেছেন। তাই তাতে এমন সব গুণ–বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটেছে, যা অন্য কোন মসজিদের নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্যত্র করা হবে।

९० യെ—

অনুচ্ছেদ

রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মসজিদ শরীফে মানে মসজিদে নববীর আশপাশে তার এবং তার পরিবারবর্গের বসবাসের জন্য হুজরা নির্মাণ করা হয়। এসব বাসস্থান ছিল ছোট ছোট। এগুলো ছিল মসজিদের আঙিনায়। হাসান বাসরী (র) বলেন— আর তখন তিনি ছিলেন ছোট শিশু মাতা খায়রার সঙ্গে। আর খায়রা ছিলেন উন্মু সালামার আযাদকৃত দাসী। আমি নবী (সা)-এর হুজরার ছাদ হাত দিয়ে নাগাল পেতাম। আমি বলি : হাসান বসরী ছিলেন মোটাসোটা দীর্ঘ দেহধারী ব্যক্তি। আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।

আর সুহায়লী ‘রওষুল উনুফি’ গ্রন্থে বলেন, : নবী করীম (সা)-এর বাসস্থান ছিল খেজুর পাতার নির্মিত, তার উপর ছিল মাটি। আর মাটির উপরে স্থানে স্থানে প্রস্তর জড়ানো ছিল। আর এসব বাসগৃহের ছাদ পুরোটাই ছিল খেজুর পাতার। হাসান বসরীর উক্তি ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব হুজরার সঙ্গে ‘আরআর” কাঠের সঙ্গে শক্তভাবে পাথর। জড়ানো ছিল। তিনি বলেন, ইমাম বুখারী প্রণীত “তারীখ’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর হুজরার দরজায় নখ দ্বারা টোকা দেওয়া যেতো। এতে বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর দরজায় নাড়া দেয়ার মত কড়া ছিল না। সুহায়লী আরো বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সহধর্মিণীদের ইনতিকালের পর রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর সমস্ত হুজরা মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলা হয়। ওয়াকিদী, ইবন জারীর (তাবারী) প্রমুখ বলেন :

আবদুল্লাহ ইবন আরীকত দুয়ালী মক্কায় ফিরে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) এবং আবু বকর (রা) তার সঙ্গে যায়দ ইবন হারিছ এবং আবু রাফিকেও যেতে দেন। যাতে করে এরা তাদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে আসতে পারেন। আর এরা দু’জনই ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর আযাদকৃত গোলাম। সঙ্গে দু’টি বাহন ছাড়া তাদেরকে পাঁচশত দিরহামও দেওয়া হয় কুদায়দা বাজার থেকে উট কেনার জন্য। তারা যান এবং নবী (সা)-এর দু’জন কন্যা— ফাতিমা আর উন্মু কুলছুম এবং নবী (সা)-এর দু’জন সহধর্মিণী— হযরত সাওদা আর হযরত আইশা (রা)-কে মদীনায় নিয়ে আসেন। এদের সঙ্গে ছিলেন। হযরত আইশার মাতা উন্মু রূমান এবং নবী (সা)-এর পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ এবং আবু বকর (রা)-এর পুত্র আবদুল্লাহসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবর্গ। পথে হযরত আইশ এবং তার মাতা উন্মু রূমানকে নিয়ে উটনী পলায়ন করলে উন্মু রূমান বলতে শুরু করেন হায় নববধূ ও তার দুই কন্যা! হযরত আইশা (রা) বলেনঃ এসময় আমি একজনকে বলতে শুনি লাগাম ঢিলা করে দাও। আমি লাগাম ঢিলা করে দিলে আল্লাহর হুকুমে উটটি থেমে যায় এবং আল্লাহ আমাদেরকে হিফাযত করেন। সকলেই এগিয়ে যায় এবং ডান দিকে সুনহ নামক স্থানে অবস্থান করে। আটমাস পর শাওয়াল মাসে হযরত আইশা (রা)-এর সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর মিলন ঘটে। এ সম্পর্কে পরে আলোচনা করা হবে। এদের সঙ্গে আগমন করেন যুবােয়র ইবন আওআম-এর স্ত্রী আসমা বিনত আবু বকর (রা)। তিনি ছিলেন পূর্ণ অন্তঃসত্ত্বা, গর্ভে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন যুবায়র। এ সনের ঘটনাবলীর শেষ পর্যায়ে উপযুক্ত স্থানে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

অনুচ্ছেদ

মদীনার জুরে মুহাজিরদের আক্রান্ত হওয়া প্রসঙ্গে ইমাম বুখারী (র) আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহাব সূত্রে হযরত আইশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন :

তিনি বলেছেন : রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করলে হযরত আবু বকর (রা) ও হযরত বিলাল (রা) জুরে আক্রান্ত হন। তিনি বলেন, আমি তাদের দু’জনের নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করি : আকবাজােন আপনার কেমন লাগছে? বিলাল! আপনি যেমন বোধ করছেন? তিনি বলেন : হযরত আবু বকর (রা) জুরে আক্রান্ত হলে বলতেন :

“প্রতিটি ব্যক্তি তার পরিজনের মধ্যে সকালে শয্যা ত্যাগ করে; আর মৃত্যু তো তার জুতার ফিতার চিয়েও নিকটবতী।”

আর বিলালের জুর সেরে গেলে ঘাড় সোজা করে বলতেন :

الا لیت شعری هل ابین لیلة * بواد و حولی اذ حز و جلیلی

“হায়! আমি যদি রাত্রি যাপন করতে পারতাম (মক্কার) উপত্যকায় আর চারদিকে থাকতো ইযখির ও জলীল ঘাসের সমারোহ।”

و هل اردن یوما هسیاه مجنهٔو هلی یبدون لی شامة و طفيل

কোন দিন তারা যদি পান করতে পারতো মাজান্না কুয়ার পানি। যদি প্ৰকাশ পেতো আমার জন্য শামা ও তাফীল (পর্বত)!

হযরত আইশা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর খিদমতে হাযির হয়ে তাঁকে অবহিত করলে তিনি বললেন :

صاعها و مدها وانتقل حماها فاجعلها بالجحفة

“হে আল্লাহ! মক্কার মতো মদীনাকেও আমাদের জন্য প্রিয় (ভূমি) কর বা তার চেয়েও

বেশী এবং মদীনাকে আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর নিবাসে পরিণত কর এবং মদীনার সা” ও মুদ-এ

(দু’টি পরিমাপ বিশেষ— অর্থাৎ মাপে-ওযনে মানে পণ্য ও কেনাবেচায়) আমাদেরকে বরকত দাও। আর মদীনার জুরকে স্থানান্তর কর জুহাফা অঞ্চলে।”

ইমাম মুসলিম হযরত আবু বকর (রা) সূত্রে হিশামের বরাতে সংক্ষেপে হাদীছটি বর্ণনা করেন। বুখারীর বর্ণনায় আবু উসামা সূত্রে. আইশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বিলালের কবিতার পর অতিরিক্ত যোগ করা হয় :

হে আল্লাহ! ওতবা ইবন রাবীআ, শায়াবা ইবন রাবীআ, উমাইয়া ইবন খালফ— এদের উপর তুমি লা’নত বর্ষণ কর, যেমন তারা আমাদেরকে মহামারী আক্রান্ত জনপদে ঠেলে দিয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেন :

হে আল্লাহ! মদীনা ভূমিকে আমাদের নিকট প্রিয় কর মক্কার মতো বা তার চেয়েও বেশী। হে আল্লাহ! মদীনার সা’ আর মুদ-এ আমাদেরকে বরকত দান কর। মদীনাকে আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর জনপদে পরিণত কর এবং মদীনায় মহামারী জুহফা অঞ্চলে স্থানান্তর কর। হযরত আইশা (রা) বলেন, আমরা যখন মদীনায় আগমন করি, তখন তা ছিল আল্লাহর দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় মহামারীগ্রস্ত অঞ্চল। তখন বাতাহান অঞ্চলে পানি সরবরাহ ছিল খুবই কম অর্থাৎ পানি ছিল দুৰ্গন্ধযুক্ত।

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক সূত্রে যিয়াদ….. হযরত আইশার বরাতে বর্ণনা করেন :

হযরত আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মদীনা আগমন করেন, তখন মদীনা ছিল আল্লাহর দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় মহামারী পীড়িত জনপদ।। ফলে রাসূলের সাহাবীগণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হন এবং আল্লাহ তাঁর নবী থেকে এসব ব্যাধি-বিপদকে দূরে বাখেন। হযরত আইশা (রা) বলেন, (হযরত আবু বকর (রা) এবং) আমির ইবন ফুহায়রা ও বিলাল এরা দু’জনেই ছিলেন। হযরত আবু বকর (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম— এরা সকলে এক গৃহে বাস করতেন। সেখানে তারা জুরে আক্রান্ত হন। আমি তাদের কাছে যাই শুশ্রুষা করার জন্য আর এটা ছিল পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার আগের ঘটনা। আর জুরের প্রকোপে তাদের এমন অবস্থা হয়েছিল, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। আমি আবু বকর (রা)-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, আব্বা, আপনার কেমন লাগছে? তিনি বললেন, :–

“সকলেই স্বজনের মধ্যে সকাল করে, আর মৃত্যু তো জুতার ফিতারও কাছে।” হযরত আইশা (রা) বলেন, আল্লাহর কসম, আমার পিতা কি যে বলছেন তা তিনি জানতেন না। আইশা (রা) বলেন, এরপর আমি আমির ইবন ফুহায়রার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আমির! কেমন লাগছে? তিনি বললেন, :

لقد وجدت السموت قبل ذوقه لا ان الجبان حتفه مسن فوقه মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করার আগেই আমি মৃত্যু-যাতনা ভোগ করছি। আর ভীরুদের মৃত্যু তো আসে তার উপর থেকে।

کلی امر آمجاهد بطوقه * کالثور یح می جلده بر وقته প্রতিটি ব্যক্তি চেষ্টা-সাধনা করে তার হিম্মত অনুযায়ী। যেমন ষাড় নিজেকে প্রতিরোধ করে তার শিং দ্বারা।

তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম, তিনি কি বলছেন তা তিনি নিজেই জানেন না। আইশা (রা) বলেন, জুর হলে বিলাল ঘরের আঙ্গিনায় শুয়ে থাকতেন। তখন তিনি ঘােড় উচু

করে বললেন :

الا لیت شعری هل ابین لیلة * بفخ و حوالی اذخر و جلیلی যদি জানতাম যে, ফাখ’ নামক স্থানে আমি রাত্রি যাপন করবো, আর আমার আশপাশে থাকবে ইযখির ও জলীল ঘাস।

وهل اردن يوما مياه مجنة * وهل يبدون اللى شسامة وطفيل আমি কি কখনো পান করবো মাজান্না কুয়ার পানি? আমার সামনে কি প্ৰকাশ পাবে শামা ও তাষকীল পর্বত!

হযরত আইশা (রা) বলেন, আমি তাদের মুখ থেকে যা কিছু শুনতে পেয়েছি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট তা ব্যক্ত করে বললাম, জুরের ঘোরে তারা প্ৰলাপ বকছেন এবং কি যে বলছেন, তার মাথামুণ্ড কিছুই তাঁরা বুঝতে পারছে না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ

و صاعها و انتقل و بیاء ها اسمی مسهایعة

ইয়া আল্লাহ! মদীনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে মক্কার মতো বা তার চেয়েও বেশী। মদীনার ‘মুদ” আর সা”-এ আমাদেরকে বরকত দাও আর মদীনার মহামারীকে স্থানান্তর কর মাহীআ তথা জুহাফা অঞ্চলে।

ইমাম আহমদ ইউনুস সূত্রে আইশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন :

হযরত আইশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করলে হযরত আবু বকর (রা) তাঁর আযাদকৃত গোলাম আমির ইবন ফুহায়রা এবং বিলাল অসুস্থ হলেন। তাদের পরিচর্য আর সেবার জন্য আইশা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ্ (সা) অনুমতি দেন। তিনি আবু বকর (রা)-কে বললেন, : কেমন লাগছে আপনার কাছে? তিনি বললেন, :

کل امرا مصباح فی اهله * و الموت ادنی من شر الک نعله সকলেই স্বজনদের মধ্যে ভোরে (জাগ্রত হয়ে) উঠে। আর মৃত্যু তো জুতার ফিতার চেয়েও নিকটতর। আমিরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, :

انی و جدات الموت قبلی ذوفه * ان الجبان حتفه من فوقه মৃত্যুর স্বাদের পূর্বেই আমি মৃত্যু পেয়েছি। কাপুরুষের মৃত্যু আসে। উপর থেকে (অকস্মাৎ)। আর বিলালকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন! :

یا لیت شعری هل ابیهاتن لیلة * بفخ و حوالی اذخر و جلیل

হায়, আমি যদি ‘ফাখ” অঞ্চলে রাত্রি যাপন করতে পারতাম, আর আমার আশপাশে থাকতো ইযখির আর জলীল ঘাসের সমারোহ।

হযরত আইশা রাসূলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট আগমন করে তাকে তা জানান। রাসূলুল্লাহ্ (সা) উপরের দিকে তাকিয়ে বললেন :

হে আল্লাহ! মদীনাকে আমাদের জন্য প্রিয় কর। যেমন প্রিয় করেছিলে মক্কাকে বা তার চেয়েও বেশী! হে আল্লাহ! মদীনার সা” আর মুদ-এ আমাদেরকে বরকত দান কর। আর মদীনার মহামারী মাহীআ অঞ্চলে স্থানান্তর করা। আর তাদের ধারণায় মাহীআ হলো জুহফা অঞ্চল। ইমাম নাসাঈ কুতীয়বা সূত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বায়হাকী হাফিয আবু আবদুল্লাহ সূত্রে আইশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন।

হযরত আইশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন মদীনায় পদার্পণ করেন, তখন মদীনা ছিল আল্লাহর দুনিয়ায় সর্বাধিক মহামারী পীড়িত অঞ্চল। আর বাতাহান উপত্যকার পানি ছিল দূষিত ও দুৰ্গন্ধময়। হিশাম বলেন, জাহিলী যুগে মদীনার মহামারী ছিল সর্বজন বিদিত। তখন সে আমলে নিয়ম ছিল যে, কোন উপত্যকায় মহামারী ছড়িয়ে পড়লে তথায় আগত ব্যক্তিকে গাধার মতো চীৎকার করতে বলা হতো। এমনটি করলে সে উপত্যকার মহামারী সে লোকের কোন ক্ষতি করত না বলে তাদের ধারণা ছিল। জনৈক কবি মদীনায় আগমন করে এ কবিতাটি

রচনা করেন :

لعمری لنتسن عبرت من جیفة الردی * نهیق الحمار اننتی لجزوع আমার জীবনের শপথ, বিনাশ (আর মৃত্যুর) আশংকায় যদি আমি গাধার মতো চীৎকার করি, তবে তো আমি নিতান্তই বিলাপকারী ও প্ৰলাপকারী সাব্যস্ত হবো।

ইমাম বুখারী মূসা ইবন উকবা সূত্রে, তিনি সালিম থেকে, সালিম তদীয় পিতার বরাতে নবী করীম (সা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন :

رأيت كأن امرأة سوداء تاثرة الرأس خرجت من المدينة حتى قامت

بمهایعة–وهی الجحفة“আমি (স্বপ্নে) দেখলাম যে, জনৈকা কৃষ্ণাঙ্গিণী নারী যার মাথার চুল উষ্ণখুষ্ক মদীনা থেকে বের হয়ে মাহীআয় অবস্থান নিয়েছে। আমি এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলাম যে, মদীনার মহামারী মাহীআয় স্থানান্তরিত হয়েছে। আর মাহীআ হচ্ছে জুহাফা। এ হল বুখারী (র)-এর শব্দমালা।

মুসলিম হাদীছটি বর্ণনা করেননি। তিরমিয়ী হাদীছটি বর্ণনা করে তাকে সহীহ বলে মত প্ৰকাশ করেছেন। নাসাঈ ও ইবন মাজা মূসা ইবন উকবা সূত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেন।

হাম্মাদ ইবন যায়দ হিশাম ইবন উরওয়া সূত্রে আইশা (রা)-এর বরাতে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। আইশা (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন মদীনায় পদার্পণ করেন, তখন মদীনা ছিল মহামারীগ্রস্ত। তিনি দীর্ঘ হাদীছটি উল্লেখ করেন। হিশাম বলেন, : জুহফায় জন্ম নেয়া শিশু বালিগা হওয়ার পূর্বেই জুরে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতো। বায়হাকী দালাইলুন নবুওয়াত গ্রন্থে হাদীছটি উল্লেখ করেছেন। ইউনুস। ইসহাক সূত্রে বলেন, : রাসূলুল্লাহ (সা) যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন মদীনা ছিল মহামারীতে আক্রান্ত। সেখানে রাসূলের সাহাবীগণ রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, যার ফলে তারা নিতান্ত দুর্বল হয়ে পড়েন। আল্লাহ তা’আলা এ

থেকে তার নবীকে হিফাযত করেন। বুখারী ও মুসলিমে ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, : রাসূলুল্লাহ্ (সা) এবং তাঁর সাহাবীগণ উমরাতুল কাযার বছরে মক্কায় পৌঁছলে মুশরিকরা বলেঃ তোমাদের নিকট এক প্রতিনিধি দল আগমন করছে। ইয়াছরিবের জ্বর-ব্যাধি যাদেরকে দুর্বল করে তুলেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) সাহাবীগণ রমল করার নির্দেশ দেন অর্থাৎ

আসওয়াদের মধ্যস্থলে যেন ধীরে-সুস্থে হাঁটেন। এবং অন্যান্য চক্করে তিনি তাদেরকে রমল করতে বারণ করেছেন কেবল তাদের প্রতি করুণা বশে।

আমি (গ্রন্থকার) বলি উমরাতুল কাযা সংঘটিত হয় সপ্তম হিজরীর যিলকাদ মাসে আর মদীনার মহামারী স্থানান্তরের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (সা) দু’আ হয়তো পরে করেছেন, অথবা মহামারী হলেও তার লক্ষণ আর প্রতিক্রিয়া তখনো সামান্য হলেও অবশিষ্ট ছিল। অথবা তারা যে জ্বরে ভুগেছেন, তার লক্ষণ তখনো পরিস্ফুট ছিল। আল্লাহই ভাল জানেন।

ইবন শিহাব যুহরী আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে বর্ণনা করেছেন :

রাসূলুল্লাহ্ (সা) এবং তাঁর সাহাবীগণ মদীনা আগমন করে জুরে আক্রান্ত হন। মদীনার এই জুরে আক্রান্ত হয়ে রোগ-ব্যাধিতে তাঁরা দুর্বল হয়ে পড়েন। অবশ্য আল্লাহ এ থেকে তাঁর নবীকে হিফাযত করেন। তাঁরা এতই দুর্বল ও ক্ষীণ হয়ে পড়েন যে, না বসে তারা নামায আদায় করতে পারতেন না। রাবী বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বের হলেন আর সাহাবীগণ এ ভাবে (বসে বসে) নামায আদায় করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, : জেনে রাখবে, বসে বসে নামায আদায়ে দাঁড়িয়ে নামায আদায়ের তুলনায় অর্ধেক সওয়াব পাওয়া যায়। এরপর মুসলমানরা রোগ-ব্যাধি আর দুর্বলতা সত্ত্বেও জোর করে দাঁড়িয়ে নামায আদায়ের চেষ্টা করেন কেবল সওয়াব লাভের আশায়।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *