ক্রিসমাস ট্রি যার স্মৃতির প্রতীক

কেন যে অনেকদিন থেকে মাঝে-মধ্যে আচমকা
গোধূলি বেলায় চোখে ভেসে ওঠে অতিদূরে
কালের বিচারদৃশ্য আর
আলখাল্লা-পরা এক বিবাগী পুরুষ।

কী এমন অপরাধ ছিল তার? বস্তুত কিছুই
নয়, শুধু তিনি তার বিশ্বাসের কথামালা পথের কিনারে
দাঁড়িয়ে আগ্রহী কিছু শ্রোতাকে কখনো
কখনো প্রগাঢ় কণ্ঠস্বরে শোনাতেন। উপস্থিত
শ্রোতারা শুনতো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে। আলখাল্লা-পরা
সেই বক্তা ধীর, স্থির অনন্য যেশাস।

ঈর্ষান্বিত, ভীষণ চক্রান্তকারী পুরোহিতদের
দু’চোখের বালি তিনি। ওরা তাকে পৃথিবীর রৌদ্র-ছায়া থেকে
চিরতরে সরিয়ে দেয়ার ক্রূর বাসনায় পাইলেট নামে
খ্যাত এক রোমান কর্তার দোরে ধর্না দেয়। ওদের নালিশে
প্রথমে দেয় না কান পাইলেট । পরে বন্দী যেশাসকে
হঠাৎ জিগ্যেস করে, “বলো দেখি সত্য বলে কাকে?”

হই হল্লা তীব্র হ’লে যেশাস জবাব না দিতেই তাকে ক্রুশবিদ্ধ
করার হুকুম দিয়ে পাইলেট মৃদু হেসে সাত তাড়াতাড়ি
চলে গেলো অন্যত্র কোথাও। যেশাসকে
ক্রুশে ওরা বিদ্ধ করে জালিম পেরেকে। পৈশাচিক হৈ-হল্লায়
মত্ত, হীন পুরোহিতদের সাধ মেটে। যন্ত্রণায়, যন্ত্রণায়
ভুগে শেষে প্রাণ ত্যাগ করলেন যীশুখৃষ্ট। এখনতো তার স্মৃতি ঘিরে
ক্রিসমাস ট্রির জ্বলজ্বলে দীপ জ্বলে সারা রাত
নিবেদিত ভক্তদের ঘর। মহান সে পুরুষের মৃত্যু নেই!
১৯-১২-২০০৩