রাতের তৃতীয় প্রহরে

স্বপ্ন দেখি, রাতে তৃতীয় প্রহরে জানলার কাছে দাঁড়িয়ে
অমাবস্যার দিকে তাকিয়ে রয়েছি
সেই কবে থেকে। আমি কি
ঘুটঘুটে অন্ধকারের বুকে উজ্জ্বল
কিছু দেখার প্রত্যাশায় এতক্ষণ প্রতীক্ষাকে অনড়
রাখার চেষ্টা কায়েম রেখেছি? কেন আমি খামোকা
বারবার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি জানলার বাইরে,
বুঝতে পারছি না কিছুতে।

ক্ষণে ক্ষণে ভেঙে যাচ্ছি, আবার
গড়ে উঠছি কোন্‌ ভাস্করের অসামান্য শৈল্পিক
প্রয়াসে? আজকের এই একাকিত্ব আমাকে
খুবলে খাচ্ছে শকুনের ভঙ্গিতে।

জানলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে শরীর
অদূরে রাখা চেয়ারে
স্থাপন করে মন এলিয়ে দিই খানিক
ভাবনায় স্রোতে। স্রোতবাহী এক হাঙর
আমাকে বেধড়ক কামড়াতে থাকে। হঠাৎ
বন্ধ দরজায় ধাক্কা অবিরাম, বেয়াড়া।
দোর খুলতেই দেখি, ক’জন ডাকাবুকো লোক আমার
দিকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে
দাঁড়ানো। কেন যে ওরা কারো সাতে পাঁচে নেই এমন
একজনের প্রায় নিঃস্ব, বিনম্র, বিনীত বাসায় হানা দিয়েছে-
ভেবে পাওয়া ভার। ‘চল শালা আমাদের সাথে’ ওদের
কর্কশ কণ্ঠস্বর গর্জে ওঠে, নিরুপায় আমি মেনে নিই সেই হুকুম।
বিরান এক এলাকায় হুট করে নিয়ে গিয়ে সেসব
জাঁহাবাজ, অস্ত্রবাজ গুলির
বৃষ্টিতে আমাকে আপাদমস্তক ভাসায় ভীষণ এবং
নিমেষে আমি মৃত্যুর কবলে পড়ে যাই। রক্তাক্ত
আমার লাশ কাঁটা-ঝোপে আন্ধারে
পড়ে থাকে; পরে পশুর খাদ্য হয়ে রূপান্তরিত কঙ্কালে।

শেয়াল, কুকুর আমার ভ্যাবাচ্যাকা করোটিকে শুঁকে অথবা
চেটে-চুটে ফেলে যায় ঝোপঝাড়ে। হঠাৎ
জেগে উঠি নিজের কৃপণ কামরায় এক গা’
ঘেমে-চেতনাকে দুঃস্বপ্ন ক্রমাগত করতে থাকে আঘাত।
৯-৪-২০০৩