আনন্দ

আমার বাসার সামনের অনাথ শিশুনিকেতনের
দেয়ালে সেঁটে-থাকা ঝলমলে রোদ দেখে
আজ কী যে ভালো লাগে আমার। আনন্দ
আমাকে জড়িয়ে ধরে আন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো। অথচ এই যে
এখন খুশির ঢেউ আমাকে
ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে, তার কোনও বিশেষ কারণ রয়েছে
বললে, ভুল বলা হবে। এই মুহূর্তে
আমার সবচেয়ে প্রিয় বইগুলো দিয়ে দিতে পারি
কোনও প্রকৃত পুস্তক প্রেমিককে,
এখন আমি নির্দ্বিধায় আলিঙ্গন করতে পারি
যে-কোনও কুষ্ঠরোগীকে,
এই মুহূর্তে নিষ্ঠুরতম শক্রকেও ক্ষমা করা
অসম্ভব নয় আমার পক্ষে, একজন ঘাতকের সঙ্গে
এক টেবিলে বসে আহার করতেও কুণ্ঠিত হবো না।
আজ যখম ভ্রমণ করছি আনন্দ-ভেলায়, এখন আমি
মৃত্যুচিন্তায় কাতর নই, অদূর ভবিষ্যতে
বাংলাদেশের তিন-চতুর্থাংশ জলছলছল পাতালে নিমগ্ন হবে ভেবে
বিষাদে মেঘাচ্ছন্ন নয় আমার মন। আহ্‌, কী ঐন্দ্রজালিক
ক্ষমতা এই আনন্দের; ক্ষণিকের জন্যে হলেও মুছে ফেলে
শোকের ছায়া, বিচ্ছেদের বেদনা।

আজ হঠাৎ জানতে পারলাম পীড়া তোমাকে শয্যাগত
করেছে, আগুনের হল্কায় যেন
পুড়ে যাচ্ছে তোমার শরীর। মুহূর্তে আমার আনন্দের দীপ
নিভে গেল অশুভের ফুৎকারে। বিষাদ শ্রাবণের মেঘ হয়ে
ছেয়ে ফেলল আমার চেতনাকে; আনন্দ নিমেষে
গুলিবিদ্ধ পাখির মতো নিষ্পন্দ পড়ে রইল ধুলোয়।
২৭.১০.৯৮