০৬. ছেলেদের দেখেই বলে উঠলেন

এই যে, বেরিয়েছে, ছেলেদের দেখেই বলে উঠলেন মেরিচাচী। এই, ছিলি কোথায়? এত ডাকাডাকি করছি। একেক সময় ভাবি, ইয়ার্ডটা বানানোই হয়েছে বুঝি তোদের লুকোচুরি খেলার জন্যে। নে, কথা বল। ছেলেটাকে দেখিয়ে দিয়ে চলে গেলেন তিনি, অফিসে অনেক কাজ।

লম্বা একটা ছেলে, তিন গোয়েন্দার চেয়ে বয়েসে বড়, লম্বা কালো চুল। ধূসর স্যুট পরনে, বিদেশী ছাঁট, আমেরিকান নয়। হেসে হাত বাড়িয়ে দিল সে, আমি টনি পেদ্রো।

বিস্মিত হয়েছে, সে ভাবটা গোপন করে কিশোরও হাত বাড়াল। আমি কিশোর পাশা। ও রবিন মিলফোর্ড, আর ও মুসা আমান।

পরিচিত হয়ে খুশি হলাম, হাসল টনি। তোমাদের এক বন্ধু জানাল, তোমরা নাকি অদ্ভুত ক্যারেকটার।

টেরিয়ার ডয়েল।

অদ্ভুত ক্যারেকটার নয়, বলতে চেয়েছে আসলে আজব চিড়িয়া, বুঝল তিন গোয়েন্দা।

শুঁটকি পাঠিয়েছে তোমাকে? গুঙিয়ে উঠল রবিন।

বলল, তোমাদের মাথায় নাকি ছিট আছে, জবাবটা এড়িয়ে গিয়ে বলল টনি। আছে নাকি? শুনেছি, সব আমেরিকান ছেলের মাথায়ই ছিট কমবেশি থাকে।

ওই শুঁটকি ব্যাটাই খাঁটি আমেরিকান, জোরে হাত নাড়ল মুসা। আমরা কেউ নেই। কিশোর বাঙ্গালী, আমি আফ্রিকান, আর রবিন অর্ধেক আইরিশ। তুমি কি আমেরিকান নাকি?

না না, তাড়াতাড়ি বলল টনি, ইংল্যাণ্ড। ক্যামব্রিজ। মিস ভেরা পেদ্রো আমার দাদী, বাবার ফুফু। ওই যে, পেদ্রোজ এস্টেটের মালিক, নাম নিশ্চয় শুনেছ। কয়েক মাস আগে বাবা মারা যাওয়ার সময় দাদীর কথা বলেছে আমাকে। আগে তো জানতামই না। আমার দাদা, ভেরা-দাদীর ভাই নাকি ফ্রান্সে খুন হয়েছিল, আমার বাবা তখন মায়ের পেটে। কঠিন অসুখে মারা গেছে বাবা। যখন বুঝল বাঁচবে না, দাদীর কাছে চিঠি লিখল। দাদীই আমাকে তার কাছে নিয়ে এসেছে।

সারাক্ষণ হাসি লেগে আছে টনির মুখে, কথা বলার সময়ও। দ্রুত অনেক বেশি কথা বলে, ফলে কথার টান ঠিক বোঝা যায় না। কেউ কিছু বলার আগেই আবার লাগাম ছেড়ে দিল, হ্যাঁ, যে কথা বলতে এসেছি। পুরানো জঞ্জালে বোঝাই হয়ে আছে ভেরাদাদীর ভাড়ার। ওগুলো এবার পরিষ্কার করে ফেলতে চায়। ফেলেই দিতে চেয়েছিল। আমি বুদ্ধি দিলাম, ফেলে কি লাভ? পুরানো বাতিল মাল কেনার পাগলও আছে, তাদের কাছে বেচে দাও। কথাটা খুব মনে ধরল দাদীর, আমাকে খোঁজ নিতে বলল। কাউকে তো চিনি না এদিকে। দাদীর উকিলের কাছে তোমাদের কথা শুনলাম। রকি বীচেই থাকে উকিল সাহেব, তারই বন্ধুর ছেলে টেরিয়ার উয়েল। তাকে জিজ্ঞেস করলাম স্যালভিজ ইয়ার্ডটা কোথায়, দেখিয়ে দিতে পারবে কিনা। দেখিয়ে দিল বটে, কিন্তু ভেতরে আনতে পারলাম না কিছুতেই। বেশ অবাক হয়েছি।

কি যেন কাজে ওয়ার্কশপের বাইরে এসেছিলেন মেরিচাচী, পুরানো জঞ্জালে বোঝাই কথাটা তার কানে গেছে। বেড়ার এপাশে উঁকি দিলেন। কিশোর, কিসের কথা বলছে রে?।

পুরানো মাল, চাচী, বলে আবার টনির দিকে ফিরল কিশোর। হ্যাঁ, টনি, কখন দেখতে যাব?

এখন গেলেই তো ভাল হয়।

এক্ষুণি? বললেন মেরিচাচী। দুপুর তো হয়ে এল। ঠিক আছে, যা। খেয়ে যা। ফিরতে নিশ্চয় বিকেল হবে।

চাচা কই? জিজ্ঞেস করল কিশোর।

কি জানি, রোভারকে নিয়ে কোথায় গেল। বোধহয় মালটাল আনতে।

যাব কিসে? ছোট ট্রাকটা আছে?

আছে।

তাড়াতাড়ি খেয়ে নিল তিন গোয়েন্দা। অফিসে বসে রইল টনি।

ট্রাক বের করল বোরিস। চড়ল তিন কিশোর। টনি যাবে তার নিজের গাড়িতে।

গেটের বাইরে বেরিয়ে টেরিয়ারকে খুঁজল টনি, ধন্যবাদ দেয়ার জন্যে, কিন্তু কোথাও দেখা গেল না তাকে। নীল গাড়িটাও নেই। অবাকই হলো টনি।

মুচকি হাসল তিন গোয়েন্দা। শুঁটকির ব্যাপারটা কি বলো তো? মুসা বলল।

কি আর? জবাব দিল কিশোর। বরাবর যা করে, নাক গলাবে আমাদের কাজে। ওর কথা ভাবছি না, আমি ভাবছি টনির কথা। বেশি কাকতালীয় হয়ে গেল না? তোমরাও পুতুল পেলে, তার পরদিনই এসে হাজির হলো পেদ্রোদের নাতি, আমাদেরকে এস্টেটে নিয়ে যেতে চায়।

তাই তো? পুতুলটা আমাদের কাছে আছে ভাবছে না তো? রবিনের জিজ্ঞাসা।

ইয়াল্লা! বলল মুসা। এক পুতুল কয় দলে খুঁজছে?

ছিনতাই যে হয়েছে, টনি জানে এটা? বলল রবিন।

হয়তো জানে, কিশোর বলল। তাহলে এটাও জানে মেসেজটা আমাদের কাছে আছে। সেটাই হাতাতে চায় এখন।

তাই কি? দেখে কিন্তু খারাপ মনে হয় না।

খামোকাই হয়তো সন্দেহ করছি। তবে সতর্ক থাকতে হবে আমাদের।

একমত হলো রবিন আর মুসা।

রকি বীচ থেকে বেরিয়ে এসেছে ঝরঝরে ট্রাক, টনির স্পোর্টস কারকে অনুসরণ করে উঠে যাচ্ছে পাহাড়ী পথ ধরে।

আঁকাবাঁকা গিরিপথ শেষ করে এসে এস্টেটের পুরানো লোহার দরজার সামনে থামল দুটো গাড়ি।

পাল্লা খুলল টনি।

ভেতরে ঢুকল গাড়ি দুটো। খোয়া বিছানো আধ মাইল পথ পেরিয়ে এসে থামল বিরাট এক বাড়ির সামনে। স্প্যানিশ ধাঁচের বাড়ি, সাদা দেয়াল, লাল টালির ছাত। মস্ত বড় জানালাগুলোতে মোটা লোহার শিক, দোতলার কয়েকটা দরজার সামনে ঝোলা বারান্দা। দেয়ালের সাদা রঙ মলিন, জায়গায় জায়গায় ছাতলা পড়া, চিড়ও ধরেছে কোথাও কোথাও, অযত্ন আর অবহেলার ছাপ।

পথ দেখিয়ে তিন গোয়েন্দাকে বাড়ির পেছনে আরেকটা বাড়িতে নিয়ে এল টনি, ইটের দেয়াল, গোলাঘর। ভেতরে পুরানো জিনিসপত্র ঠাসা। ভাঙা আসবাবপত্র, গৃহস্থালীর সরঞ্জাম, পুরানো আমলের এমন অনেক জিনিস আছে, যেগুলোর নামও জানে না তিন গোয়েন্দা। ধুলোয় মাখামাখি। দেখে মনে হয়, গত পঞ্চাশ বছরে ওগুলোতে হাত দেয়নি কেউ।

দাদী তত সন্ন্যাসী, বলল টনি। এখানে কি আছে না আছে জানেই না হয়তো।

পুরানো মাল ভালই চেনে কিশোর, কোনটা বিক্রি হবে না হবে, তার চাচার চেয়ে ভাল বোঝে। বলল, আরিবা, এত পুরানো। এই যে, একটা চরকা। ওটা কি? ও, জাহাজের টেবিল, লেখার ডেস্ক।

পুরো এক ঘণ্টা জিনিসপত্র দেখল সে, তাকে সাহায্য করল রবিন আর মুসা। এতই মগ্ন, চাম্যাশ অ্যামিউলেটের কথা ভুলে গেছে, মনেই পড়ছে না কারও মাত্র আগের রাতে ভূত দেখা গেছে এ-বাড়ির কাছে।

টনির দিকে ফিরল অবশেষে কিশোর, হুঁ, দেখলাম। ভালই।

ঘরে, এসে বসো তাহলে, আমন্ত্রণ জানাল টনি। কিছু খাও। দাদীর সঙ্গেও কথা বলা যাবে। তার সঙ্গেই দামদর করো।

এটাই চাইছে তিন গোয়েন্দা, মিস ভেরা পেদ্রোর সঙ্গে কথা বলতে।

খুব ভাল হয় তাহলে, সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেল কিশোর। বোরিস, মালগুলোর লিস্ট করে নিন।

হো-কে (ওকে), সায় জানাল বোরিস।

ঠিক আছে, আপনি থাকুন, টনি বলল। বীয়ার পাঠিয়ে দিচ্ছি।

হো-কে। ভেরি গুড।

বিরাট বাড়ির বিশাল ড্রইংরুমে ছেলেদের নিয়ে এল টনি। ঠাণ্ডা ঘর। পুরানো আমলের আসবাবপত্র, গাঢ় রঙ। চাকরানীকে ডেকে লেমোনেড আর বিস্কুট আনার জন্যে বলল সে।

খাবারের ট্রে নিয়ে এল চাকরানী, তার পেছনে এলেন এক বৃদ্ধা। ক্ষীণ-দেহী, ধবধবে সাদা চুল। বয়েসের ভারে ঘোলাটে চোখের তারা, উজ্জ্বল হলো ছেলেদের দেখে।

আমি ভেরা প্রেদ্রো, পরিচয় দিলেন মহিলা। বুঝতে পারছি, টনির সঙ্গে তোমাদের বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। শুনলাম, স্যালভিজ ইয়ার্ড থেকে এসেছ। মাল পছন্দ হয়েছে?

হ্যাঁ, ম্যাডাম, মাথা নোয়াল কিশোর।

সব কিছু ছেড়েই দিয়েছিলাম, বললেন মহিলা। টনি এসে নতুন জীবন দিয়েছে আমাকে। বাঁচার আগ্রহ জাগিয়েছে।

টেবিলে লেমোনেড আর বিস্কুট সাজিয়ে রেখে চলে গেল কাজের মেয়েটা।

ছেলেদের হাতে হাতে খাবার তুলে দিলেন মিস ভেরা, মেহমানদের ভাল লাগছে তার, বোঝা যাচ্ছে। গতরাতে বুঝিয়েছে আমাকে টনি। খামোকা পুরানো মাল ভাঁড়ারে ফেলে রেখে লাভ কি? নষ্ট হচ্ছে। তার চেয়ে বেচে দিলে কিছু পয়সা আসবে।

সতর্ক হয়ে গেল তিন গোয়েন্দা। গত রাতে? বলল কিশোর।

হ্যাঁ, মাথা ঝাকালেন মহিলা। আমাদের নাকের সামনে দিয়ে চুরি হয়ে গেল একটা সোনার পুতুল। দুটো পুতুলের একটা। আমার পাগলা ভাইটার জিনিস, সেই যে বাড়ি থেকে পালাল, আর ফিরল না। ওগুলোই ছিল তার স্মৃতি, তা-ও একটা গেল চুরি হয়ে।

সব দোষ, ভাই, আমার, ছেলেদের শোনাল টনি, কি করে চুরি হয়েছে। বাবা জানত পুতুল দুটোর কথা, আমাকে বলেছে। লাইব্রেরিতে ড্রয়ারে খুঁজে পেয়েছি ওগুলো, নিচের দিকের একটা ড্রয়ারে। লাইব্রেরিতে দরজা খোলা রেখে বেরিয়েছিলাম, আবার ফিরে গিয়ে দেখি একটা পুতুল নেই।

কে নিয়েছে জানো না নিশ্চয়? ঘুরিয়ে প্রশ্ন করল কিশোর।

মিস্টার ডাংম্যান তো বলল একটা ছেলে নিয়েছে। দেখেছে নাকি।

হ্যাঁ, দেখেছি, শোনা গেল ভারি কণ্ঠ।

ফিরে চাইল ছেলেরা।

দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে লোকটা, চমত্তার স্বাস্থ্য, গায়ে উজ্জ্বল জ্যাকেট, পরনে হাফপ্যান্ট, লম্বা পায়ের শক্ত মাংসপেশী ফুলে রয়েছে। ধূসর চোখজোড়া চঞ্চল। লালচে চুল। রুক্ষ চেহারা, ঠোঁটের এক কোণে গভীর কাটা একটা দাগ, সারাক্ষণ বিকৃত হাসি ফুটিয়ে রেখেছে যেন বেচারার মুখে।

পরিচয় করিয়ে দিল টনি। জানাল, মিস্টার ডাংম্যান তার দাদীর বন্ধু।

ডাকাতির কথা তো শুনলে, ডাংম্যান বলল, বিস্তৃত হলো বিকৃত হাসি। কথার টান টনির টানের সঙ্গে ঠিক মেলে না। বোধহয় খাস লণ্ডন শহরের মানুষ। ছেলেদের কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বলে গেল, একটা ছেলেকে দেখলাম বাড়ির কাছ থেকে ছুটে পালাচ্ছে। তাড়া করলাম। গেটের কাছে গিয়ে হারিয়ে ফেললাম তাকে, আর খুঁজে পেলাম না। ছেলেটার সঙ্গে আরও এক-আধজন ছিল হয়তো। যা-ই হোক, গেল পুতুলটা, আর পাওয়া যাবে না।

আমরা চেষ্টা করে দেখতে পারি, কিশোর বলল। চোরাই মাল খুঁজে বের করার অভিজ্ঞতা আছে আমাদের।

অনেক জটিল রহস্যের সমাধান করেছি, মুসা জানাল।

হেসে উঠল ডাংম্যান। ডিটেকটিভ মনে হচ্ছে?

হ্যাঁ, স্যার, ডিটেকটিভই, বলে পকেট থেকে কার্ড বের করে দিল কিশোর।

পড়ল ডাংম্যান। আবার হাসল। যাক, আশা হচ্ছে। পাওয়া যেতে পারে পুতুল। মুসার দিকে ফিরল। তুমি যেন কি বললে? রহস্যের সমাধান?

অনেক করেছি। বিশ্বাস না হলে পুলিশ চীফ ইয়ান ফ্লেচারকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন।

তাই? আবার কার্ডটার দিকে তাকাল ডাংম্যান।

ঘরের কোণে চেয়ারে বসে আছে টনি, জিজ্ঞেস করল, আশ্চর্যবোধকগুলো কেন? তোমরা অদ্ভুত ছেলে, সেটা বোঝানোর জন্যে?

কড়া জবাব দিতে যাচ্ছিল মুসা, সেটা বুঝে তাড়াতাড়ি বলল কিশোর, ওগুলো আমাদের প্রতীকচিহ্ন। তাছাড়া নানা রকম আজব রহস্য যে সমাধান করি, সেটাও বোঝায় চিহ্নগুলো।

দারুণ, প্রশংসা না ব্যঙ্গ করল টনি, বোঝা গেল না। দাদী, ওদেরকে দাও না একটা সুযোগ?

কিন্তু টনি, দ্বিধা করছেন মহিলা, কোন বিপদে পড়ে যদি ওরা?

হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন, সুর মেলাল ডাংম্যান। বিপদে পড়তে পারে।

সতর্ক থাকব আমরা, ম্যাডাম, বলল কিশোর। তেমন বুঝলে মিস্টার ফ্লেচারকে গিয়ে ধরব সাহায্যের জন্যে। চোর কোন ছেলেছোকরা হয়ে থাকলে, আমাদের জন্যেই কাজটা উপযুক্ত হবে।

ঠিকই বলেছে ও দাদী, টনি বলল। তাছাড়া পুলিশ চীফের সঙ্গে খাতির আছে ওদের…

ঠিক আছে, নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না মিস পেদ্রো। তবে একটা কথা ঠিক, এত ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে পাত্তা পাব না আমরা।

হ্যাঁ, সায় দিয়ে বলল ডাংম্যান, পুলিশের অনেক জরুরী কাজ আছে। তারচে ওরাই খুঁজুক, তেমন বুঝলে গিয়ে পুলিশের কাছে বলবে। তবে সাবধানে থাকবে, কথা দিয়ে যেতে হবে।

তা থাকবে, বলে উঠল টনি। জানের মায়া কার না আছে? দাদী, একটা পুরস্কার ঘোষণা করলে কেমন হয়? বিপদ যেমন, তেমন খাটুনিও আছে কাজটায়?

নাতির দিকে চেয়ে হাসলেন মিস পেদ্রো। হ্যাঁ, তা মন্দ হয় না। ধরো, এই একশো ডলার?

কি বলো রাজি? গোয়েন্দাদের দিকে চেয়ে বলল টনি। এক কাজ করো, কাল লাঞ্চের সময় এখানে চলে এসো। কি ভাবে কি করা যায়, চারজনে বসে প্ল্যান করব?

লাঞ্চের সময় এসে কি করবে? তাড়াতাড়ি বলল ডাংম্যান। আমাদের খাবার কি পছন্দ হবে? আমি আর মিস পেদ্রো তত খাই নিরামিষ। তিন কিশোরের দিকে ফিরল। তোমরা হয়তো জানো না, ভেজিট্যারিয়ান লীগের প্রেসিডেন্ট আমি। রকি বীচে লীগটা আমিই শুরু করেছি, অনেক সাহায্য করছেন মিস পেদ্রো। একটা অনুষ্ঠানে তোমরা হাজির থাকতে পারো, লেকচার শুনবে। উপকার হবে। আজ বিকেলেই একটা আছে।

পারলে খুব খুশি হতাম, স্যার, বিনীত কণ্ঠে বলল, কিশোর। কিন্তু আজ অনেক কাজ। এই তো, মালপত্রগুলো নিয়ে যেতে হবে। দেরি করলে চাচী চিন্তা করবে। ম্যাডাম, জিনিসগুলোর দাম…

ও যা হোক কিছু একটা ধরে দিও তোমরা, দরাদরি করতে মহিলা নারাজ। জানাই তো আছে তোমাদের, কেমন মাল, কত দাম হতে পারে। আমাকে আর

এসবে টেনে না।

ঠিক আছে, যাই তাহলে, উঠল কিশোর। বোরিসকে গিয়ে সাহায্য করি। দুই সহকারীকে বলল, এসো।

মূর্তিটার কথা ভুলো না কিন্তু, বলল টনি।

হ্যাঁ, আর পুরস্কারের কথাটাও, হাসল ডাংম্যান।

বেরিয়ে এল তিন গোয়েন্দা।

গোলাঘরে মাল গোছাচ্ছে বোরিস।

ভেতরে ঢুকে দ্রুত চারপাশে একবার চেয়ে নিল কিশোর, বোরিস ছাড়া আর কেউ নেই। নিচু গলায় দুই বন্ধুকে বলল সে, ব্যাপারটা খেয়াল করেছ?

কী? অবাক হয়ে বলল মুসা।

আশ্চর্যবোধকের কথা জিজ্ঞেস করল টনি।

এতে অবাক হওয়ার কি আছে? অনেকেই তো করে।

অনেকের করা আর টনির করাটা আলাদা। আমাদের কার্ড দিইনি তাকে।

তাই তো! চোখ মিটমিট করল রবিন। কার্ডটা তো ছিল ডাংম্যানের হাতে।

তারমানে আগে থেকেই আমাদের কথা সব জানে টনি? ভুরু কুঁচকে গেছে মুসার।

মাথা ঝাঁকাল কিশোর। জানে। তারমানে, বেশ কিছু মিথ্যে বলেছে আমাদের কাছে। পুরানো মাল বিক্রি তার একটা বাহানা। সেজন্যে আমাদের খোঁজ করবে কেন? সোজা গিয়ে মেরিচাচীর কাছে বললেই চলত।

চুপ করে আছে অন্য দুজন।

হঠাৎ হাসি ফুটল কিশোরের মুখে।

হাসছ যে? জিজ্ঞেস করল মুসা।

লোকে যে কত রকমের নাম রাখে। ডাংম্যান! হাহ্হা! জানো, বাংলা করলে কি দাঁড়ায়?

কি?

গোবরমানব, অর্থটা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিল কিশোর। দুই সহকারীগোয়েন্দাও হেসে ফেলল।

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *