৪. ভুতুড়ে নারী

ভুতুড়ে নারী

আয়ারল্যাণ্ডের লিমেরিকের একসময়কার আর্চডিকন ভেন, জে.এ. হেইডেন তার এই অভিজ্ঞতাটি বর্ণনা করেন। ১৮৭০ সালে তিনি ছিলেন অজপাড়াগাঁয়ের এক গির্জা চ্যাপেল রাসেলের যাজক। ঘটনাটা তখনকারই।

শরতের এক বৃষ্টিঝরা দিন। লাগামহীনভাবে, বেশ বড় বড় ফোটায় বৃষ্টি পড়ছে। সকাল কি রাত এটাও বোঝা মুশকিল। দিনটা বিষণ্ণ, মেঘলা। তারপর আবার বেশ কিছু সময় পড়ালেখা করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন হেইডেন। ঠিক করলেন এই বৃষ্টির মধ্যেই হেঁটে আধ মাইল টাক দূরের গির্জায় যাবেন। ওখানে আধ ঘণ্টা হারমোনিয়াম বাজিয়ে ফিরে এসে চা খাবেন।

বর্ষাতি গায়ে চাপিয়ে, গির্জার চাবিটা পকেটে ফেলে, হাঁটা শুরু করলেন। গির্জার চৌহদ্দিতে পৌঁছে মূল প্রবেশ পথটা ধরে হাঁটতে লাগলেন। দু-পাশেই সমাধি, পাথরের সমাধি ফলক। এদিকে হালকা বৃষ্টি ট্যাপ ট্যাপ শব্দ তুলছে গাছের পাতায় পড়ে। , একসময় গির্জার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলেন। কিন্তু চাবিটা তালায় ঢুকানোর আগেই কী একটা অস্বস্তি পেয়ে বসল তাঁকে। ওখানেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে কেবলমাত্র অতিক্রম করে আসা পথটার দিকে তাকালেন। বিস্মিত হয়ে আবিষ্কার করলেন রাস্তাটার পাশের একটা নিচু সমাধি ফলকের ওপর তার দিকে পিছন ফিরে বসে আছে একজন মহিলা। তার পরনে কালো ভেলভেটের একটা জ্যাকেট। মাথার কালো চুলের বোঝা আংশিক ঢেকে আছে যে জিনিসটা দিয়ে সেটাকে একটা পাগড়ির মতই লাগল তাঁর কাছে। ওটাও কালো ভেলভেটের তৈরি। পাগড়িটার ডান পাশে তুষার-সাদা পালকের গোছা। বেশ কিছুটা সময় গভীর মনোেযোগের সঙ্গে নারীটির অবয়বের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপরই মনে হলো মহিলাটির মনোেযোগ আকর্ষণ করা দরকার। আর তা করার জন্য শব্দ করে চাবি ঢুকালেন তালার ভিতর। তারপরই শব্দ করে হঠাৎ খুললেন দরজাটা। তার এই কৌশল কাজ দিয়েছে কিনা দেখার জন্য ঘুরেই দেখলেন মহিলাটি অদৃশ্য হয়েছে। দৌড়ে যেখানটায় বসে ছিল মহিলাটি সেখানে গেলেন, দশ গজের বেশি হবে না গির্জার প্রবেশদ্বার থেকে ওটার দূরত্ব। সমাধিফলক এবং এর আশপাশের জায়গা ভালমত খুঁজলেন। কিন্তু ওখানে একজন মানুষ বসেছিল একটু আগে, এর এমনকী কোনো চিহ্নও পেলেন না। এই ঘটনাটি আজীবন এক রহস্যই থেকে যায় যাজক হেইডেনের কাছে। কারণ পরে এমন কোনো তথ্য পাননি যা দিয়ে এর কূল-কিনারা করতে পারেন।

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *