০১. দুই সুড়ঙ্গের ঢাকনা তুলে

এই যে, কিশোর, দুই সুড়ঙ্গের ঢাকনা তুলে উঁকি দিয়েই বলল মুসা আমান, জানন, কার সঙ্গে দেখা হয়েছে?

মুসার পেছনে হেডকোয়ার্টারে ঢুকল রবিন মিলফোর্ড।

হেডকোয়ার্টার মানে পুরানো বাতিল একটা ট্রেলার-মোবাইল হোম, পাশা স্যালভিজ ইয়ার্ডের পাহাড় প্রমাণ লোহালকড়ের জঞ্জালের তলায় চাপা পড়েছে অনেক দিন আগে, বাইরে থেকে দেখা যায় না। ভেতরে ঢোকার জন্যে কয়েকটা গোপন পথ বানিয়ে নিয়েছে তিন গোয়েন্দা, তারই একটা দুই সুড়ঙ্গ।

জানি, বলল ডেস্কের ওপাশে সুইডেল চেয়ারে বসা কিশোর পাশা, মেরিচাচী। আজ ভোর ছটায় উঠে নাস্তা খাইয়ে জোর করে রাশেদ চাচাকে পাঠিয়েছে একটা গ্যারেজে, পেপারে বিজ্ঞাপন দিয়েছে ওখানে নাকি অনেক পুরানো মাল বিক্রি হবে, জিনিসপত্রের লিস্ট দেখে খুব পছন্দ হয়েছে চাচীর।

ঘড়ির দিকে তাকাল সে। সোয়া একটা বাজে। এতক্ষণে নিশ্চয় এসে পড়েছে চাচা। ট্রাক বোঝাই করে মালপত্র নিয়ে এসেছে। বোরিস আর রোভার একা পারছে না, নামানোর জন্যে আমাদেরকেও দরকার। তাই ওয়ার্কশপে খুঁজতে এসেছে চাচী, আসার সময় তাকেই দেখে এসেছ।

হলো না, হাসল রবিন। ভুল করলে মিস্টার শার্লক হোমস, চেয়ারে বসতে বসতে বলল সে। কিশোর পাশাও ভুল করে তাহলে।

চাচী নয়, কিশোর, চাচী নয়, মুখ টিপে হাসল মুসা। অনুমান করো তো, আর কে হতে পারে?

উঁ-হুঁ, পারছি না, অবাক হয়েছে যেন কিশোর। তোমরাই বলো।

ধীরে বন্ধু, ধীরে, খুব মজা পাচ্ছে সহকারী গোয়েন্দা, এত তাড়াহুড়ো কেন? এসেছি, দু-দণ্ড বসি, জিরাই, তারপর বলব। এখন কেমন লাগছে? কোন রহস্য যখন বুঝি না, আমাদের ধাধায় রেখে খুব তো মজা পাও। এখন?

না ভাই, আর থাকতে পারছি না, আগ্রহে সামনে ঝুকে এল কিশোর। বলো না, বলেই ফেলো।

তাহলে ভবিষ্যতে আর ভোগাবে না তো আমাদের?

না।

রবিনের দিকে তাকাল মুসা। কিরবিন, বলব?

মাথা কাত করল রবিন। কিশোরের হাবভাব সন্দিহান করে তুলছে তাকে। এভাবে আগ্রহ প্রকাশ করবে কিশোর পাশা?…নাহ ঠিক মানাচ্ছে না স্বভাবের, সঙ্গে…

সকালে বাজারে গিয়েছিলাম, বলার জন্যে উদগ্রীব হয়ে আছে মুসা, এতক্ষণ চেপে রাখতে তারই কষ্ট হয়েছে। দেখা হয়ে গেল জিনার সঙ্গে।

জিনা? ঝট করে সোজা হলো কিশোর।

আরে হ্যাঁ, জিনা। আমাদের জরজিনা পারকার।

তাই নাকি? আমি তো জানতাম নিউ মেসিকোয় ছুটি কাটাচ্ছে ও, চাচার র‍্যাঞ্চে। তার মা-বাবা গেছেন জাপানে, সেখানে এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে যোগ দেবেন মিস্টার পারকার।

তুমি জানতে? কই বলোনি তো।

জিজ্ঞেস তো করোনি। যাকগে, কোথায় এখন জিনা?

পারকার হাউসে, জবাব দিল রবিন। মুসার কাছে শুনলাম, কিছু জিনিসপত্র নিতে এসেছে, শুছিয়ে নিচ্ছে হয়তো।

জ্বী না, জনাবেরা। আমি এখানে,পর্দা সরিয়ে ল্যাবরেটরি থেকে বেরিয়ে এল জিনা। পরনে রঙচটা জিনসের প্যান্ট, গায়ে ধবধবে সাদা সিল্কের ওয়েস্টান শার্ট,

যেন এই মাত্র নামল ঘোড়ার পিঠ থেকে।

হাঁ হয়ে গেল মুসা আর রবিন।

মিটিমিটি হাসছে কিশোর।

তু-তুমি! তোতলাচ্ছে মুসা কিশোরের দিকে চেয়ে। আমাদের বোকা…দুত্তোর! নিজের ওপর রেগে গেল সে। ভেবেছিল কিশোরকে জব্দ করবে, উল্টে তাদের দুজনকেই এমন চমকে দিল গোয়েন্দাপ্রধান। হতাশ চোখে রবিনের দিকে তাকাল মুসা।

তুমি বাড়ি যাওনি? মবিন জিজ্ঞেস করল জিনাকে।

না, বাজার থেকে সোজা চলে এসেছি। এই তো, আমিও ঢুকলাম, তোমরাও ঢুকলে।

তবে না বলেছিলে, বাড়ি যাবে? ক্ষোভ ঢেকে রাখতে পারল না মুসা, যেন সব দোষ জিনার।

বলেছিলাম, কিন্তু যাইনি। ইচ্ছে করেই যাওনি, আমাদের জব্দ করার জন্যে।

আরে, কি মুশকিল? আমি জানি নাকি, তুমি এসে এরকম করবে কিশোরের সঙ্গে। এতই যদি ঠকানোর ইচ্ছে ছিল, আগে বললে না কেন আমাকে?

আরে দূর, রাখো তো, ধমক দিয়ে দুজনকে থামাল রবিন। কি ছেলেমানুষী করছ? মুসা, তখনই বলেছিলাম, এসবের দরকার নেই, পারবে না কিশোরের সঙ্গে। ও সব সময় এক ধাপ এগিয়ে থাকে।

খামোকা লজ্জা দিচ্ছ, রবিন, বাধা দিল কিশোর। এটাতে আমার কোন মত ছিল না, নিতান্ত ভাগ্যক্রমেই ঘটে গেছে, জিনা তোমাদের আগে জল এসেছে যাকগে, জিনা, বসো। তা কি মনে করে?

এমনি। চাচার কাজ ছিল রকি বীচে। জিজ্ঞেস করল আসব নাকি? ভাবলাম, তোমাদের সঙ্গে দেখা করে যাই। তাছাড়া কয়েকটা জিনিস রয়েছে বাড়িতে, নিয়ে যাব।

কবে যাচ্ছ? আজই?

আগামীকাল।

ভালই কাটছে তাহলে ছুটি।

দারুণ, মাথা ঝাঁকি দিল জিনা, মুখের ওপর এসে পড়ল এক গোছা রোদেপোড়া তামাটে চুল, সরালো। যা একখান কেস পেয়েছি না। উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বড় বড় তামাটে দুটো চোখের তারা।

কেস? মুসার রাগ পানি।

হ্যাঁ, ওপরে নিচে মাথা দোলাল জিনা। চাচার চোখে ধূলো দেয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু আমি তা হতে দেব না।

কেন বোকা নাকি তোমার চাচা?

তুমি যে কি বলো, মুসা, চাচা বোেকা হবে কেন? আমার বাপের ফুফাত ভাই কোয়েনটিন উইলসনকে বোকা বলে কার সাধ্য? স্টক মার্কেটে অনেক টাকা কামিয়েছে, নিউ মেকসিকোয় র‍্যাঞ্চ আর জায়গা কিনে এখন ক্রিস্টমাস গাছের ব্যবসা ফেঁদেছে। এমনিতে খুব চালাক। কিন্তু মানুষের ব্যাপারে একেবারে দিল-দরিয়া, সবাইকেই বিশ্বাস করে, সেজন্যে ঠকেও মাঝে-মধ্যে, তা-ও শিক্ষা হয় না।

তুমি তাহলে মানুষ চেনো কলতে চাও, হাসল মুসা।

সবাইকে চিনি বলাটা ঠিক হবে না, রাগল না জিনা, কিন্তু মুসার খেচাটা ফিরিয়ে দিল, তবে হদ্দ বোকা, আর হারামী লোক দেখলেই চিনতে পারি। কিশোরের দিকে ফিরল। চাচা যে জায়গাটা কিনেছে, সেটা আগে মাইনিং কোম্পানির ছিল। একটা খনি এখনও আছে, নাম ডেথ ট্যাপ মাইন।

মৃত্যুখনি, বিড়বিড় করুল কিশোর।, আরিাব, সাংঘাতিক নাম তো,চোখ বড় বড় করল মুসা। তা কি পাওয়া যায় এই খনিতে? ডাইনোসরের হাড়?

রূপা, মুসার কথা গায়ে মাখল না জিনা। খনিটা এখন মৃত। রূপাও ফুরিয়েছে। ওরকম নাম দেয়ার কারণ, এক মহিলা ওটাতে পড়ে মরেছিল। টুইন লেকসে খনির আশেপাশে এখনও নাকি মাঝে-সাঝে ওই মহিলার ভূত দেখা যায়। আমি এর একটা বর্ণও বিশ্বাস করি না। তবে শয়তানের ছোঁয়া আছে ওখানে। খনি আর তার আশপাশের অনেক জায়গা কিনে নিয়েছে এক ব্যাটা। রোদে পোড়া গালের চামড়ায় রক্ত জমল তার। কিছু একটা কুকাজ করছে হারামীটা, বদমতলব আছে। আরও মজা কি জানো, ব্যাটা জমেছেও টুইন লেকসে।

সেটা কি অপরাধ নাকি? অবাক হলো রবিন।

না। তবে কেউ জন্মের পর পরই যদি কোনও জায়গা ছেড়ে চলে গিয়ে কোটিপতি হয়ে ফিরে আসে, অনেক জায়গা কিনে বসবাস শুরু করে আর ভাব দেখায়, আহা আমার মাতৃভূমি, আমি তোমায় কত ভালবাসি।তাহলে গা জ্বলে? আস্ত ভণ্ড! লোকটা ব্যাটল সাপের চেয়েও বদ। খনির মুখ আবার খুলেছে সে। লোহার গ্রিল দিয়ে বন্ধ করা ছিল, সে খুলেছে, তারপর খনির মুখে পাহারায় রেখেছে এক বাঘা কুকুর। ওই মরা খনিতে কি পাহারা দেয়? ঝকঝকে নতুন জিনস আর শক্ত হ্যাট পরে ঘুরে বেড়ায় ব্যাটা, একেবারেই বেমানান। মেয়েদের মত নখের যত্ন করে আবার। বলল, ব্যাটাছেলের এই ন্যাকামি সহ্য হয়? চুপ করল জিনা। ছেলেরা কেউ কিছু বলছে না দেখে আবার মুখ খুলল, খনির ধারে-কাছে ঘেঁষতে দেয় না কাউকে। ব্যাপার সুবিধে ঠেকছে না আমার। চাচার ঠিক নাকের সামনে কিছু একটা করছে সে। চাচা বুঝতে পারছে না বটে, কিন্তু আমি সন শয়তানী বের করেই ছাড়ব।

আল্লাহ তোমার সহায় হোন, শান্তকণ্ঠে বলল মুসা।

মুসার ছাল ছাড়ানোর জন্যে মুখ খুলতে যাচ্ছিল জিনা, এই সময় স্পীকারে ডাক শোনা গেল, জিনা?

উঠে গিয়ে ট্রেলারের ছাতে বসানো পেরিস্কোপ সর্বদর্শন-এ চোখ রাখল রবিন। একজন লোক, সাদা চুল, বড় গোঁফ। মেরিচাচীও সঙ্গে আছেন।

আমার চাচা, উঠে দাঁড়াল জিনা। বলে এসেছিলাম আমি এখানে থাকব। তোমরা দেখা করবে চাচার সঙ্গে? খুব ভাল মানুষ, আমি খুব পছন্দ করি।

উঠল কিশোর।

বেরিয়ে এল ওরা চারজনেই।

এই যে, দেখেই বলে উঠলেন মেরিচাচী। গর্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে শেয়াললো। এত চেষ্টা করলাম, গর্তটার মুখ খুজে পেলাম না আজক।

চাচী, কেমন আছেন? জিজ্ঞেস করল জিনা।

ভাল। তুমি কেমন?

শুধু মাথা কাত করে বোঝাল জিনা, ভালই আছে।

এগিয়ে এলেন মিস্টার উইলসন, একে একে হাত মেলালেন তিন কিশোরের সঙ্গে। আন্তরিক হাসিতে উদ্ভাসিত মুখ।

তোমরাই তাহলে তিন গোয়েন্দা। তোমাদের প্রশংসা এত করেছে জিনা…

দর, কই এত বললাম, লজ্জা পেয়েছে জিনা, অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল।

পকেট থেকে কার্ড বের করে বাড়িয়ে ধরল কিশোর। আমাদের কার্ড। যদি কখনও দরকার লাগে…

কার্ডটা পড়লেন উইলসন। ভুরু কোঁচকালেন, আশ্চর্যবোধকগুলো কেন?

আমাদের মনোগ্রাম, গভীর মুখে জবাব দিল কিশোর। সব রকম আজব রহস্যের কিনারা করতে আমরা প্রস্তুত, এটা তারই সঙ্কেত।

হুঁ, হাসলেন তিনি। রহস্য সমাধান করতে তোমাদের দরকার কখনও পড়বে না… তবে হ্যাঁ, অন্য একটা কাজে সাহায্য করতে পারো। মালির কাজ করেছ কখনও?

তা বোধহয় করেনি, হেসে বলল জিনা। তবে ইয়ার্ডে জোগালীর কাজ প্রায়ই করে। গুনেছি, তার জন্যে টাকাও নেয় আবার।

তাই নাকি? তাহলে তো খুব ভাল। তোমরা গাছ ছাঁটতে পারবে?

গাছ? রবিন বলল।

ক্রিস্টমাস গাছ, বললেন উইলসন। হেঁটে হেঁটে ডাল পাতা ঠিক রাখতে হয়, নইলে বড়দিনের সময় মাপমত থাকে না, বেয়াড়া রকম ছড়িয়ে যায় এদিক ওদিক। টুইন লেকসে লোক পাচ্ছি না। এখন তো তোমাদের ছুটি, চলো না কাল আমাদের সঙ্গে। দুই হপ্তায় অনেক উপকার হবে আমার।

চাচীর দিকে তাকাল কিশোর নীরবে।

ইঙ্গিতটা বুঝলেন উইলসন। মেরিচাচীকে বললেন, কোন অসুবিধে হবে না ওদের, মিসেস পাশ। অনেক ঘর খালি আছে আমার, খাওয়া-দাওয়ার কোন অসুবিধে নেই। কিশোরকে যাওয়ার অনুমতি দিন আপনি, মুসা আর রবিনের মায়ের সঙ্গে আমি নাহয় কথা বলবো।

আমি বললেও রাজি হবে, ভাবলেন মেরিচাচী। কিন্তু কথা সেটা না। ইয়ার্ডেও অনেক কাজ। ভাবছিলাম, জঞ্জাল অনেক জমেছে, ওদের স্কুল যখন ছুটি, সাফ করে ফেলত পারত।

চাল, এগিয়ে গিয়ে চাচীর দুই কাঁধে হাত রাখল কিশোর, তোমার কাজ পরেও করে দিতে পারব আমরা। মেকসিকোয় যাওয়ার শখ আমার অনেকদিনের, সুযোগ পাইনি। আঙ্কেল এত করে বলছেন,

চাচী, মানা করবেন না, প্লীজ, জিনাও কিশোরের সঙ্গে সুর মেলাল। ওদের খাওয়ার দিকে আমি খেয়াল রাখব, নিজে…

ঠিক আছে, আর অমত করলেন না মেরিচাচী।

কিশোরের দিকে চেয়ে চোখ টিপল জিনা, মুখে রহস্যময় হাসি।

হঠাৎ বুঝে ফেলল কিশোর, ফাদে ফেলেছে ওদেরকে জিনা। বেশ কায়দা করে রাজি করিয়ে নিয়েছে। গাছকাটা না ছাই, আসলে জিনার ইচ্ছে, একবার তিন গোয়েন্দাকে নিউ মেসিকোয় নিয়ে গিয়ে ফেলতে পারলে হয়, হারামী লোকটার রহস্য সমাধানে সাহায্য না করে যাবে কোথায়?

নিজের ওপর রেগে গেল কিশোর, এত সহজে ধরা দিল বলে। কিন্তু এখন আর পিছিয়ে আসার উপায় নেই, মেরিচাচীকে রাজী করাতে সে নিজেই চাপাচাপি করছে। তবে অখুশি হওয়ারও কোন কারণ নেই, রহস্যের পূজারী সে, রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে, তাছাড়া রয়েছে নতুন দেশ দেখার উন্মাদনা।

চাচী, হাসিতে ঝকঝকে সাদা দাঁত বেরিয়ে পড়েছে মুসার, মাকে আগে আপনি ফোন করে দিন, তারপর আমি গিয়ে বলব।

যাই লাইব্রেরিতে গিয়ে ছটি নিয়ে আসি, রবিন বলল। চাচী, আমার মাকেও বলবেন। বাবাও মনে হয় বাসায় আছে এখন। সাইকেলের দিকে দৌড় দিল সে।

সেদিকে চেয়ে হাসলেন চাচী।

হ্যাঁ, মিসেস পাশা, বললেন উইলসন, কিছু ভাববেন না। বেশি খাটাব না ছেলেদের

মোটেও ভাবি না আমি, হেসে বললেন মেরিচাচী, আদৌ খাটাতে পারেন কিনা দেখেন। কি ভাবে যে ফাঁকি দেবে, টেরই পাবেন না। আপনার কি মনে হয়, গাছ কাটার জন্যে ওদের এত উৎসাহ? মোটেও না। মস্ত কোন ঘাপলা আছে কোথাও, জিনার দিকে তাকালেন তিনি।

চট করে অন্য দিকে চোখ ফিরিয়ে নিল জিনা।

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *