৩১. স্বামীর গুণ ও দোষ

৩১. স্বামীর গুণ ও দোষ

আপনার স্বামীর সম্বন্ধে অন্যরা যে ধারণা পোষণ করেন, তা অনেক ক্ষেত্রেই আপনার স্বামীর প্রতি আপনারই ধারণা প্রতিফলন হতে পারে। একটি ঘটনার কথা আমি বলছি। কোনো-একটা জিনিসের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় আমি একজন ডিলারকে ফোন করি। সেই সময় ভদ্রলোক দোকানে ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী টেলিফোনে তাঁর হয়ে কথা বলছিলেন। তিনি জানান যে, তাঁর স্বামী এই সব ব্যাপারে একজন বিশেষজ্ঞ। আমার ইচ্ছা হলে তিনি আমার ঘর দেখে আসার ব্যবস্থা করে দেবেন। ভদ্রলোক সত্যিই একজন বিশেষজ্ঞ মানুষ। আমার একটা ধারণা জন্মায়, তার অভিজ্ঞতার কোনো সীমা নেই। তার প্রতি আমার যে বিশ্বাস জন্মায় তা নিঃসন্দেহে তার স্ত্রীর জন্যই। এসব উদাহরণ থেকে এটা পরিষ্কার প্রমাণিত হয় যে, এমন কোনো ব্যক্তি বা মহল নেই যা এসব ক্ষেত্রে কোনো স্ত্রীকে হারাতে পারে। যে কোনো একজন মানুষের সত্যিকার গুণগত খ্যাতি বা পরিচিতি বহুক্ষেত্রেই তাঁদের স্ত্রীদের উপর নির্ভরশীল।

মানবচরিত্রের একটি বৈশিষ্ট্য হল এই যে, একজন লোককে আমরা যেভাবে উপস্থিত করি, চরিত্রারোপ করতে চাই, একান্ত অজ্ঞাতসারে তিনি সেই চরিত্রেরই অধিকারী হয়ে পড়েন।

বিভিন্ন পেশার মানুষের স্ত্রীদের লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তারা স্বামীদের সম্পর্কে অনুকূল ধারণা প্রদান করতে অভ্যস্ত। যেমন-প্রস্তাবিত কোনো অনুষ্ঠানে যোগদান করতে অক্ষমতা জানাতে গেলে তাদের স্ত্রীদের কথা হল, তাদের নিশ্চয়ই পার্টিতে যোগ দিতে ইচ্ছে করে কিন্তু তারা তা পারেন না। যেহেতু তাদের স্বামীরা তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজের মধ্যে ডুবে থাকেন। এক্ষেত্রে যদি তার স্ত্রী কোনো সময় স্বামীর কবিত্বের কথা প্রচার করেও থাকেন তাতে দোষাবহ কিছু থাকে না। অবশ্য স্ত্রী যদি সাধারণ ভদ্রতা আর রুচিবোধের সীমা অতিক্রম না করেন।

বিখ্যাত লোকেরা জানেন যে উঁচুদরের কোনো মানুষের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে, এই কথাটি উপযুক্ত কৌশলের সঙ্গে প্রকাশ করতে জানে এমন একজন মহিলাকে স্ত্রী হিসাবে পাওয়া জীবনে কত মূল্যবান ও অপরিহার্য।

শিকাগো শহরে জুনিয়র অ্যাসোসিয়েশন অব কমার্সের এক সভায় মি. কুশম্যান বিজেল বলেন যে, স্ত্রীদের তুচ্ছ করা বা তাদের কাজের অবমূল্যায়ন করা অনুচিত। মনে রাখবেন, আপনাদের স্ত্রীরাই শ্রেষ্ঠ বিক্রেতা বা সেলসম্যান হতে পারেন, যদি না তারা আতিশয্যের আশ্রয় নেন। তিনি আপনার পক্ষে যা সম্ভব নয় সেই রকম মধুরতা মিশিয়ে আপনার গুণকীর্তন করতে পারেন। স্ত্রীর পক্ষে সবকিছুই সম্ভব।

স্বামীর গুণের দিকগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা ছাড়াও তিনি স্বামীর দোষ-ত্রুটিগুলো লঘু করে দেখাতে পারেন। আসলে প্রকৃতপক্ষে আমরা কেউই ত্রুটিমুক্ত নই। স্ত্রীরও কিছু ভুল-ত্রুটি থাকে-কিন্তু সে ত্রুটি ঘরের বা সাংসারিক জীবনেই আবদ্ধ থাকে কিন্তু একজন পুরুষের ভুল ত্রুটি তার জীবন সাফল্যের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।

অনেক বিদূষী স্ত্রীই স্বামীর শিক্ষাগত অথবা প্রশিক্ষণগত ত্রুটি দূর করতে পারেন। পৃথিবীর অনেক মহান ব্যক্তিই যারা নিজের ভাগ্য গড়ে তুলতে পেরেছেন, তাদের বিঘ্ন সঙ্কুল জীবনকে স্ত্রীরাই সহজ সরল মসৃণ করে তুলেছেন।

কোনো কোনো মানুষ আছেন যারা অত্যন্ত বিনম্র। আপনার স্বামী যদি ওই ধরনের লোকদের একজন হয়ে থাকেন, তা হলে তাকে সাহায্য করতে পারেন। সেটা কীভাবে করবেন তার জন্য কয়েকটা পদ্ধতির উল্লেখ করছি :

১। অতীতে আপনার স্বামী যে যে বিষয় সাফল্য অর্জন করেছেন তাকে সেগুলো স্মরণ করিয়ে দিন।

২। যখনই সম্ভব নানা বিষয়ে মতামত জিজাসা করে তার আত্মপ্রকাশের সুযোগ দিন।

৩। এমন বন্ধু-বান্ধব লাভ করার চেষ্টা করুন-যারা তাকে প্রশংসা করবেন আর উৎসাহ দেবেন।

আপনার স্বামীর পরিচয় তার প্রকৃতি জানার সঠিক মাপকাঠি নাও হতে পারে। তা সত্ত্বেও তার বাহ্যিক আচরণের উপর নির্ভর করেই লোকে তার সম্পর্কে অভিমান পোষণ করবে।

ত্রিশ, একত্রিশ পাঠের সূত্র : স্বামীকে যেভাবে জনপ্রিয় করা যায় :

১। তাঁকে প্রিয় করে তুলুন-তার প্রতিভার প্রচার ঘটান। তার শ্রেষ্ঠ দিকটি উন্মোচন করুন।

২। আপনি একজন দক্ষ সাংবাদিক হয়ে উঠুন। তার দোষ প্রায় অদৃশ্য করে তাঁর সমস্ত গুণকে দৃষ্টিগ্রাহ্য করে তুলুন।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *