বিনিময়

‘তোমার শরীরে এত ধুলোবালি কেন?’
আমাকে হামেশা প্রশ্ন করেন পাড়ার পাঁচজন
চোখে মুখে নানা মুদ্রা ফুটিয়ে। নীরব
থাকি, উত্তরের
ঝাঁপি ঢেকে রাখি। যদি বলি,
বহু দীর্ঘ পথ, বহু আঁধিঝড় আমার শরীরে
রেখেছে স্বাক্ষর, তবে তারা
কী করে নেবেন মেনে আমার বয়ান?
‘তোমার দু’পায়ে এত রক্তবিন্দু কেন?’
তাদের এ প্রশ্ন আমি নিশ্চুপ এড়িয়ে যাবো দূর
নক্ষত্রের দিকে
তাকিয়ে, আমার কষ্টচিহ্নগুলি থাক
উত্তরের নিঃসীম ওপারে। লোকগুলি
নির্বিকার হেঁটে চলে যায় এরই মধ্যে,
কিন্তু দু’জনের চোখে সহানুভূতির আর্দ্র
জন্মীলন দেখে মনে কৃতজ্ঞতা অশ্রুকণা হয়।

‘তোমার শরীরে এত পোড়া দাগ কেন?’
লোকদের প্রশ্ন ফের মৌমাছির মতো ওড়ে আমার চৌদিকে।
‘অগ্নিকুণ্ডে নিজেকে পুড়িয়ে এইসব
দাগ আমি অর্জন করেছি;
সহজে বলতে পারতাম। অথচ অদ্যমহীন
শীতল ঔদাস্যে লোকদের কাছে থেকে
বিবৃতি আড়ালে রাখলাম।

এ জীর্ণ শরীরময় ধুলোবালি, গাঢ় রক্তচিহ্ন
আর পোড়া দাগের বদলে
পেয়েছি নিজের মধ্যে কত লতাগুল্মোর চকিত জাগরণ,
ঝর্ণাধারা, বনদোয়েলের শিস, নক্ষত্রের গান-
এও-তো সঙ্কোচে
প্রিতিবেশীদের সত্যি পারিনি জানাতে।