১১. দ্য সর্টিং হ্যাটস নিউ সং

১১. দ্য সর্টিং হ্যাটস নিউ সং

হ্যারি কাউকে বলতে চায় না ওর মতো লুনাও একই অলীক কিছু দেখেছে। তবে এ ব্যাপারে রন তো পাত্তাই দেয়নি, তাই ও ঘোড়া সম্বন্ধে আর কিছু না বলে ক্যারেজের ভেতরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল। তাহলেও হ্যারির সামনে চলন্ত ঘোড়র কালো ছায়ার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল।

জিনি বললো–তোমরা সবাই গ্রাবলি প্ল্যাঙ্ককে দেখেছ? মহিলা এখানে কি করতে এসেছে? হ্যাগ্রিড নিশ্চয়ই স্কুল ছেড়ে দেয়নি–ছাড়তে পারে কি?

লুনা বললো–ছেড়ে চলে গেলে সত্যি খুশি হব, খুব উঁচু দরের শিক্ষক নন হ্যাগ্রিড, তাই না?

রন, হ্যারি, জিনি রেগে গিয়ে বললো, হ্যাঁ, ভাল শিক্ষক।

হ্যারি হারমিওনের দিকে তাকাল। ও গলা পরিষ্কার করে সঙ্গে সঙ্গে বললো তার মত শিক্ষক হয় না।

লুনা বললো, র‍্যাভেনক্ল হাউজে আমরা ওকে জোকার ছাড়া আর কিছু মনে করি না।

রন ঝংকার দিয়ে বললো–তোমার সেন্স অব হিউমার অতি নিচু স্তরের, রাবিশ!

লুনার মুখ দেখে মনে হয় না রনের রূঢ় কথা বলাতে একটুও ক্ষুব্ধ হয়েছে। উপরন্তু ও রনের মুখের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে রইল যে, টেলিভিশনে দারুণ একটা প্রোগ্রাম দেখছে।

সব ক্যারেজের সঙ্গে ওদের ক্যারেজও ঘরঘর খরখর করে হেলে দুলে ক্যাসেলের দিকে এগিয়ে চলল। ওরা যখন দুধারে ডানামেলা দীর্ঘ পাথরের পিলার পার হয়ে স্কুল মাঠের কাছে পৌঁছল, হ্যারি হেঁট হয়ে দেখবার চেষ্টা করল নিষিদ্ধ বাগানের পাশে হ্যাগ্রিডের কেবিনে বাতি জ্বলছে কি না। দেখল চতুর্দিকে ঘুটঘুঁটে অন্ধকার।

কিন্তু অন্ধকার আকাশের নিচে হোগার্টস ক্যাসেলের একটা ঘরে দপদপ করে বাতি জ্বলছে।

ক্যারেজগুলো পাথরের সিঁড়ির সামনে দাঁড়াল। সিঁড়ি দিয়ে উঠেই ভেতরে যাবার ওক কাঠের দরজা। হ্যারি সকলের আগে লাফ দিয়ে ক্যারেজ থেকে নামল। ও আবার জঙ্গলের ভেতর ছোট কেবিনে বাতি জ্বলছে কি না দেখল। না, হ্যাগ্রিডের কেবিনে বাতি জ্বলছে না। ঘরে যেন কোনও জীবন্ত প্রাণী বাস করে না। নিঝুম অন্ধকার হয়ে রয়েছে।

হ্যারি এর আগে এমন একটা কিছু দেখেছিল যা রনের চোখে পড়েনি। কিন্তু সেটা আয়নায়, একটা প্রতিবিম্ব। এমন এক জিনিস, যা একশ বন্য পশুদের চেয়েও বেশি শক্তিশালী, এক ঝটকায় সব কটা ক্যারেজ ভেঙ্গে চূর্ণ করতে পারে। লুনার কথা যদি বিশ্বাস করতে হয় সেখানে অনেক অদৃশ্য জম্ভজানোয়ার আছে। তা নাহলে সহসা হ্যারি কেন দেখতে পেয়েছিল, রন পায়নি?

রন বললো–আরে তুমি ভেতরে যাবে না?

হ্যাঁ। হ্যারি সব ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ক্যাসেলের ভেতরে ঢোকার জন্য পাথরের সিঁড়িতে পা রাখল।

এনট্রেন্স হলের দুধারে উজ্জ্বল মশালের আলোয় করিডোরটা গমগম করছে। পাথরের মেঝে দিয়ে দল বেঁধে গ্রেট হলের দিকে যাবার সময় ছাত্রদের পদশব্দের প্রতিধ্বনি–আরেকটু এগিয়ে ডানদিকে ঘুরলেই গ্রেট হলে ঢোকার ওক কাঠের দুটো দরজা। গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত হয় স্টার্ট অব টার্ম ফিস্ট (টার্ম শুরুর ভোজ)।

গ্রেট হলে চারটে সারিতে লম্বা হাউজ টেবিল। তারকাবিহীন কাল রং-এর সিলিং, অনেকটা আকাশের মত বড় জানালা দিয়ে তাকালে দেখতে পাওয়া যাবে টেবিলের ওপর মোমবাতি স্ট্যান্ডে মোমবাতি জ্বলছে। মনে হয় ঘোট ঘোট রূপালী রং-এর ভূতেরা হলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মোমবাতির আলো পড়েছে ছাত্রদের মুখে। ওরা খুশি-উত্তেজনার সঙ্গে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কথা বলছে। গরমের ছুটি কেমনভাবে কাটাল তারই প্রশ্ন, চারটে হাউজের ছেলেমেয়েরা উচ্চস্বরে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। কে কেমন চুলের স্টাইল করেছে তার দিকেও লক্ষ্য, পোশাক আশাক তো নিশ্চয়ই। আবার হ্যারি লক্ষ্য করল ছাত্ররা ওর দিকে তাকিয়ে ফিস ফিস করে কিছু বলাবলি করছে, আলাদা আলাদাভাবে। ও যেন কিছুই শোনেনি বা লক্ষ্য করেনি এমনি এক মুখোভাব করে সকলের সঙ্গে হাসতে হাসতে শুভেচ্ছা বিনিময় করল।

সুনা, র‍্যাভেনক্ল টেবিল থেকে সরে গেল। ডিগ্রি গ্রিফিল্ডরের দিকে গেলেই ফোর্থ ইয়ারের ছাত্ররা ওকে ডাকল, জোর করে ওদের সঙ্গে বসাল। গ্রিফিন্ডর হাউজ ঘোস্ট এর কাছাকাছি পার্বতী প্যাটেল, ল্যাভেন্ডার ব্রাউন, হ্যারি, রন, হারমিওন আর নেভিল একটা জায়গা পেল। পার্বতী প্যাটেল আর ল্যাভেন্ডার ব্রাউন হ্যারিকে দেখে লাফিয়ে উঠে সম্ভাষণ জানাল। হ্যারির ওদের মুখ দেখে মনে হল ওরা খুব সম্ভব একটু আগেই ওর সম্বন্ধে কিছু আলোচনা করছিল। ওদের কথাবার্তা শোনার থেকে ওর আরও অনেক জরুরী জিনিস নিয়ে চিন্তা করার আছে। স্টুডেন্ট হেডসের স্টাফ টেবিলে বসে ঘরের শেষ প্রান্তে দেয়ালের দিকে তাকাল।

কই ওখানে তো ও নেই।

রন আর হারমিওন অনাবশ্যক স্টাফ টেবিল ঘুরে ঘুরে দেখল। হ্যাগ্রিডকে সেখানে দেখা যাবে না, সম্ভব নয়।

রন খুবই উদ্বেগের সঙ্গে বললো–আমাদের কিছুতেই ছেড়ে যেতে পারেন না।

হ্যারি বললো–অবশ্যই না।

হারমিওন বললো–তোমার কী মনে হয় তিনি অসুস্থ… বা…।

–না, হ্যারি সঙ্গে সঙ্গে বললো।

–তাহলে কোথায়?

সামান্য সময় সকলেই নীরব। হ্যারি নিম্নস্বরে বললো যেনো পার্বতী ল্যাভেন্ডর শুনতে না পায়–এমনও হতে পারে ছুটি শেষ করে ফেরেননি। তোমরা তো তার কাজ জান, গরমের ছুটিতে ডাম্বলডোরের জন্য কাজ করতে হয়।

রন বললো–হতে পারে, হতে পারে তুমি যা বলছ। হারমিওন তখনও ঠোঁট কামড়ে স্টাফ টেবিলটা ঘুরেফিরে দেখতে লাগলো। মনের মধ্যে আশা–হ্যাগ্রিডের অনুপস্থিতির যদি সম্যক কারণ খুঁজে পায়।

বরাবর হ্যারির দৃষ্টি হারমিওনের সঙ্গে। ওরা দেখতে পেল প্রফেসর ডাম্বলডোর লম্বা স্টাফ টেবিলের মাঝে সোনালী রং-এর উঁচু পিঠওয়ালা চেয়ারে বসে রয়েছেন। পরনে তার গভীর কাল-বেগুনি রং-এর আলখিল্লায় রূপালী তারকাখচিত। শেষপ্রান্ত মাটিতে পড়ে লুটোচ্ছে। মাথায় ম্যাচিং হ্যাট। পাশে যে মহিলা বসে রয়েছেন তার কানে কানে কিছু বলছেন। মহিলা সামনে তাকালেন। হ্যারি ভাবল, তিনি হয়ত এক সম্মানীয় অতিথি। তার মাথায় ইঁদুরের লোমের রং এর মত বাদামী চুল। সেই চুল অদ্ভুত এক গোলাপী এলিসব্যান্ডে বেঁধে রেখেছেন। আলখেল্লার ওপর পরে আছেন ফোলা ফোলা গোলাপী কার্ডিগান। কার্ডিগানের আবরণে তার বড় আলখিল্লাটা দেখা যাচ্ছে। তিনি সামনে রাখা পাত্র থেকে কিছু চুমুক দিলেন। হ্যারি তাকে চিনতে পারায় ধাক্কা খেল। মুখটা তার ফ্যাকাশে ফোলা ফোলা কোলা ব্যাঙের মত। এক জোড়া থলির মত চোখ ঝুলে রয়েছে।

সেই আমব্রিজ মহিলা।

–কে? হারমিওন বললো।

-ওতো আমার শুনানির সময় ছিলেন ফাজের লোক।

 রন মুচকি মুচকি হেসে বললো–কার্ডিগানটা দারুণ!

হারমিওন ভুরু কুঁচকে হ্যারির কথা পুনরাবৃত্ত করল–ও ফাজের লোক, কী করতে ওখানে এসেছে?

–জানি না।

হারমিওন আবার স্টাফ টেবিলটা খুঁটিয়ে দেখলো, চোখ দুটো কুঁচকে গেল। বিড়বিড় করে বললো–না, কখনই না।

হ্যারি ঠিক বুঝতে পারে না হারমিওন কি বলতে চাইছে। কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করল না। ওর চোখ তখন প্রফেসর গ্রাবলি প্ল্যাঙ্কের ওপর। সবেমাত্র এসে স্টাফ টেবিলের পেছনে দাঁড়িয়েছেন। টেবিলের শেষ প্রান্তে হ্যাগ্রিডের জন্য নির্দিষ্ট চেয়ারে প্ল্যাঙ্ক বসে পড়লেন। কয়েক সেকেন্ড পর এনট্রেন্স হলের দরজা খুলে, প্রথম বর্ষের ভীতু ভীতু মুখের ছেলেরা হলে ঢুকল। তাদের সঙ্গে করে এনেছেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল। ওর হাতে বসার জন্য ছোট একটা টেবিল (স্টুল)। স্টুলের ওপর পুরনো যুগের একটা জাদুকরের হ্যাট রাখা। জরাজীর্ণ অবস্থা সেই হ্যাঁটের।

হলের গুন গুন শব্দ বন্ধ হয়ে গেল। প্রথম বর্ষের ছাত্ররা লাইন করে অন্যদের মুখোমুখি দাঁড়াল। হ্যারি দেখল ওদের মাঝে ছোট একটি ছেলে দাঁড়িয়ে ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপছে। হ্যারির মনে পড়ে গেল ওর অতীত কথা। কত অজানা চিন্ত -ভাবনা ওকে গ্রাস করে ফেলেছিল প্রথম দিন। অজানা এক পরীক্ষা স্থির করেছিল, কোন হাউজে ওর স্থান নির্ধারিত হবে।

সমস্ত স্কুলের ছাত্ররা রুদ্ধ নিশ্বাসে অপেক্ষা করতে লাগল। তারপর হ্যাঁটের চারধারটা একটি মুখের মত হাঁ হয়ে গেলে শর্টিং হ্যাট গান গাইতে লাগল।

বহু বছর আগে আমি যখন নতুন
 এবং হোগার্টস সবেমাত্র শুরু হয়েছিল
আমাদের মহান স্কুলের প্রতিষ্ঠাতারা
ভেবেছিলেন কখনও তারা বিচ্ছিন্ন হবেন না
একই উদ্দেশ্যে একযোগে থাকবেন,
তাদের ছিল একই মনের আকুলতা,
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাদুবিদ্যালয় তৈরি করে
বিদ্যা ছড়িয়ে দেবেন নবাগতদের
 আমরা সবাই এক হয়ে শেখাব।
 চার বন্ধু ঠিক করল
এমন স্বপ্ন তারা দেখেনি সেদিন
একদিন হয়ত তারা বিভক্ত হবে,
এমন বন্ধু কি কোথায় ছিল।
স্লিদারিন আর গ্রিফিন্ডরের মত?
 যদি না হতো দ্বিতীয় দুজন
হাফলপাফ আর র‍্যাভেনক্ল?
তো কেমন করে সে স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল?
কেমন করে সেই বন্ধুত্বের পতন হল?
কেন না, আমি সেখানে ছিলাম, বলতে পারি
সেই দুঃখবেদনা ভরা কাহিনী।
বলেছিল স্নিদারিন, শিক্ষা দেব তাদের
যাদের পূর্ব পুরুষরা পবিত্র-অনাবিল।
র‍্যাভেন ক্ল বলেছিল, শিক্ষা দেব তাদের যাদের
বুদ্ধিমত্তা সন্দেহাতীত।
 গ্রিফিন্ডর বলেছিল, শিক্ষা দেব তাদের
যারা সাহসিকতার জন্য প্রসিদ্ধ।
হাফলপাফ বলেছিল, আমি সবাইকে শিক্ষা দেব
 সকলকে একই দৃষ্টিতে দেখব।
বিভিন্ন মতভেদ ছোটখাট বিবাদে পরিণত হল।
যখন সেই বিবাদ সামনে এসে দাঁড়ালো,
চার প্রতিষ্ঠাতা, প্রত্যেকে তাদের হাউজে
যাদের পারলে তাদের নিয়ে গেল
যেমন, স্নিদারিন নিয়ে গেল শুদ্ধ রক্তের জাদুকরদের,
ধূর্তদের যারা ওরই মত,
এবং তীক্ষ্ম বুদ্ধি সম্পন্ন মন যাদের
র‍্যাভেনক্ল তাদের শিক্ষা দিল।
অসম সাহসী ও বীরেরা
চলে গেল সাহসী গ্রিফিন্ডারের কাছে
ভাল মানুষ হাফলপাফ, বাকি রইল যারা
তাদের নিলেন। যা তার জ্ঞান তাই শেখাল।
তাহলেও চার হাউজের প্রতিষ্ঠাতাদের
বন্ধুত্ব রইল অটুট ও সত্যের ভিত্তিতে,
তো হোগার্টসে ঐক্যতানে কাজ চলল
সুখের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর,
তারপর আমাদের মধ্যে হল মতানৈক্য
আমাদের দোষত্রুটি ইন্ধন জোগাতে লাগলো।
 চারটে হাউজ শক্ত পিলার দিয়ে
 ধরে রেখেছিল আমাদের স্কুল,
হুমড়ি খেয়ে পড়ল একে অন্যের ওপর,
আর বিবাদ হয়ে গেল শিক্ষার মূলমন্ত্র,
তারপর মনে হল মৃত্যুর পথে চলেছে স্কুল,
নিত্য কলহ, বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর অমিল।
তারপর একদিন প্রত্যুষে
বৃদ্ধ স্নিদারিন পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল,
 যদিও কলহ হলো অদৃশ্য
 কিন্তু সে আমাদের গভীর এক
 দুঃখ সাগরে নিমজ্জিত করল
কোনোদিন বাকি সেই তিন
এক হতে পারল না,
তাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।
এখন তোমাদের সামনে শর্টিং হ্যাট রয়েছে
তোমরা সকলেই জান পদ্ধতি
আমি এসেছি তোমাদের চারটি দলে
ভাগ করে দিতে।
কিন্তু এবছরে হবে আর একটু নতুনও,
শোন সকলে মন দিয়ে আমার গান:
 দুঃখজনক হলেও আমাকে ভাগ করতে হবে
যদিও মনে করি সেটা দুঃখজনক অন্যায়,
আমাকে তো আমার কর্তব্য পালন করতে হবে
প্রতিবছরই তাই করতে হবে।
তবু আমার মনে হয় এই বিভাজনে
আমার মনের ভয় দূর হবে না,
ওহ! বিপদটা জান, চিহ্ন পড়,
সতর্কের ইতিহাস বলছে,
আমাদের হোগার্টস আজ বড় এক বিপদের সম্মুখীন
বাইরে রয়েছে, মারাত্মক শত্রু
আমাদের এখন এখানে সকলের এক হতে হবে
আমি আগেই বলেছি, আর সতর্ক করে দিয়েছি
এস শর্টিং শুরু করি।

নতুন ছাত্রদের হোগার্টসের চারটি ছাত্রাবাসে বিভক্ত করা হল: গ্রিফিন্ডর, হাফলপাফ, র‍্যাভেনক্ল, আর স্লিদারিন।

প্রফেসর ম্যাকগোনাগল প্রথম বর্ষের ছাত্রদের নাম পড়তে বললেন।

ভয়ানক আকৃতির ছেলেটা (হ্যারি ওকে আগেই দেখেছে) এগিয়ে এসে মাথায় হ্যাটটা লাগিয়ে জোরে জোরে নাম পড়তে শুরু করল। হ্যারি হাসল। ভাগ্যিস ওর কান দুটো বেশ বড় তা না হলে হ্যাটটা ঝুলে পড়ত মুখের ওপর।

গ্রিফিন্ডর।

হ্যারি গ্রিফিন্ডর হাউজের (ছাত্রাবাস) ছেলেদের সঙ্গে হাততালি দিল। ইউয়ান অ্যারেকম্বি তাদের টেবিলের কাছে গিয়ে বসে পড়ল। ওর মুখ দেখে মনে হল ও যেন হলের মেঝের গর্তে ঢুকে গেল, আর যেন কেউ ওকে দেখতে পায় না। শেষ নাম জেলার রোজ। ও গেছে হাফপাফে। প্রফেসর ম্যাকগোনাল হ্যাট আর স্টুল নিয়ে চলে গেলে প্রফেসর ডাম্বলডোর উঠে দাঁড়ালেন।

ডাম্বলডোরের ওপর হ্যারির একটু অপছন্দের ভাব থাকলেও তাকে সকলের সামনে দাঁড়াতে দেখে উমা একটু প্রশমিত হল। হ্যাগ্রিডের অভাব আর ওইসব ড্রেগনিশ ঘোড়া দেখা হ্যারির মনে হতে লাগল, ওর হোগার্টসে ফিরে আসা অনেক অপ্রত্যাশিত বিস্ময়কর, অনেকটা প্রফেসর ম্যাকগোনালের পরিচিত গানের মতো।

হেডমাস্টার ডাম্বলডোর দাঁড়ালেন। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ, এবার ভোজের পালা।

ডাম্বলডোর শুরু করলেন, স্বাগত নতুন ছাত্রদল।

দুহাত তার প্রসারিত ও মুখে সুমিষ্ট হাসি। আবার হর্ষধ্বনির শেষে বললেন স্বাগত সব বন্ধুদের। পুরনো বন্ধুদেরও। বক্তৃতার একটা বিশেষ সময় থাকে কিন্তু টেবিলের ওপর এত সুখাদ্য দেখে আর তার ঘ্রাণ নিয়ে আর কথা বলতে বা শুনতে কে চায়? এস সবাই এক সাথে শুরু করি। ডাম্বলডোরের লম্বা দাড়ি প্লেটে ঠেকেছে, তাই ঝুলে পড়া দাড়ি জড়িয়ে নিলেন।

হলভর্তি ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপকরা সশব্দে হেসে উঠে সামনের প্লেটে হাত বাড়াল। পাঁচটা লম্বা টেবিল ভরে গেছে, নানারকমের সুখাদ্যে।

রন প্লেট টেনে নিয়ে বললো, দারুণ। সামনে রাখা চপ দেখে লোভ সংবরণ করতে পারে না। প্লেটে একগাদা চপ প্রথমেই তুলে নিল।

হারমিওন হেডলেস নিক (ভূত)কে বললো, শরটিং-এর আগে তুমি কি বলছিলে? হ্যাট গিভিং-এর সতর্কতা?

নিক বললো, ও হ্যাঁ। রনের কাছ থেকে কেটে পড়ার একটা সুযোগ পেল। রন তখন রোস্ট আলু রাক্ষসদের মতো গোগ্রাসে খাচ্ছিল।

 হ্যাঁ শুনেছি নিকের কয়েকটি সতর্কবাণী। যখনই ও স্কুলের কোনও বিপদের আঁচ পায় তখনই ও সতর্ক করে। মুখ ভর্তি খাবার, কথাই বলতে পারছে না রন।

নিক ভেবে বললো–ক্ষমা করবে কী বললে তুমি?

রন মুখের ভেতরের খাবারগুলো খোৎ করে গিলে ফেলল। বললো–আমি কেমন করে জানব হ্যাট থেকে স্কুলের বিপদ হবে?

নিয়ারলি হেডলেস নিক বললো–আমার কোনও ধারণা নেই। অবশ্য ওটা ডাম্বলডোরের অফিসে আছে। যা কিছু হচ্ছে ওখানেই হচ্ছে।

তার মানে সব ছাত্রাবাসের ছাত্রছাত্রী এক হতে হবে? শক্ত হবে না, বন্ধু হবে? রন স্লিদারিন হাউজের টেবিলে ম্যালফয়কে বসে থাকতে দেখে বললো।

নিক তিরস্কার সূচক গলায় বললো–ওইরকম মনোভাব নয়, যাকে বলে শান্তি পূর্ণ সহঅবস্থান। এটাই চাবিকাঠি। আমরা ভূতেরা কিন্তু আলাদা হাউজের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যাই। গ্রিফির এবং স্লিদারিনের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও আমি কিছুতেই ব্লাডি বেরনের সঙ্গে কোনও তর্কাতর্কি করব না, স্বপ্নেও না।

রন বললো, কারণ তুমি ওকে ভয় পাও।

নিয়ারলি হেডলেস নিক ভীষণ উত্তেজিত হয়ে বললো–ভয় পাই? আমি আশা করি, স্যার নিকোলাস দ্যা মিমসী হরপিংটন জীবনে কখনও কোনোদিন ভীতু হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়নি। আমার শরীরে মহান মানুষের রক্ত বইছে।

–কী রক্ত? রন প্রশ্ন করল–আশা করি এখন সেটা নেই। নিয়ারলি হেডলেস নিক বললো, ওটা কথার কথা। ওর অর্ধেক কাটা গলার ওপর মুণ্ডুটা থর থর করে বিরক্তিতে কাঁপতে লাগল। আরও বললো–আমি কী শব্দ ব্যবহার করব বা না করব তা আমার এখতিয়ার, খেতে পাওয়া, পান করার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেও। আমি জানি এখানের ছাত্ররা আমার মৃত্যুকে ঠাট্টা-তামাশা করে, আমি হলপ করে বলছি।

হারমিওন রনের দিকে রাগত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো–নিক কিন্তু তোমাকে কোনও ঠাট্টা বিদ্রূপ করেনি।

অতি দুঃখের ব্যাপার রন তখনও কথা বলতে পারছে না। যা পাচ্ছে খেয়ে চলেছে। অনেক কষ্টে বলতে পারল নোড ইজ্জম সেন্টাপ স্কিউ।

নিক কিন্তু মেনে নেয় না রন দুঃখিত হয়েছে। নিক ভাসতে ভাসতে অন্য এক টেবিলে চলে গেল।

হারমিওন বললো–বাচালে রন।

অনেক কষ্টে মুখের খাবার কোনওরকমে গিলে গিলে পেটে চালান করে রন বললো–আমাকে তো একটাও প্রশ্ন করার সুযোগ দিলো না–তাই না?

ভুলে যাও দেখি, হারমিওন বিরক্ত হয়ে বললো।

তারপর ওরা দুজনে চুপ করে চটপট খাওয়া সেরে নিল। খাবার সময় হারমিওন খুব একটা কথা বললো না।

হ্যারি কারও কথার মধ্যে নিজেকে জড়াতে চাইল না। প্রতিটি খাবার ধীরে ধীরে খেয়ে শেষ করল।

স্কুলের নতুন-পুরাতন সব ছাত্ররা খাওয়া শেষ করে হল ছেড়ে যে যার ঘরে যাবার জন্য প্রস্তুত। তখন ডাম্বলডোর উঠে দাঁড়ালেন। টুকটাক যারা কথা বলছিল তারা তৎক্ষণাৎ চুপ করে গেল। হ্যারির ঘুমে দুচোখ জড়িয়ে আসছে (ও ভাবতে লাগল শোবার ঘরে ওর খাট আর নরম উষ্ণ শয্যা)।

এখন আমরা যা ভাল ভাল খেয়েছি তা হজম করছি। আমি এখন তোমাদের নতুন বছরের পড়াশুনা ইত্যাদি সম্বন্ধে কিছু বলতে চাই। ডাম্বলডোর ছাত্রদের দিকে তাকিয়ে বললেন, প্রথম বছরের ছাত্রদের আমাদের যে নিষিদ্ধ ফরেস্ট আছে সেখানে প্রবেশ নিষেধ। পুরনো ছাত্ররাও আশা করি নিয়মটা জান (হ্যারি, রন, হারমিওন পরস্পরের দিকে তাকাল)।

মি. ফিলচ (হোগার্টসের কেয়ারটেকার), আমাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে অন্তত চারশ এবং ষাট সেকেন্ড বার তোমাদের বলতে যে, করিডোরে জাদু সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা আছে তোমরা মি. ফিলচের অফিসের দরজায় দেখে নিও।

–আমাদের মধ্যে আরও দুজন নতুন অধ্যাপক এসেছেন। প্রফেসর গ্রাবলি প্ল্যাঙ্ক, ম্যাজিক্যাল ক্রিচারস শেখাবেন। আর ডাক আর্টস প্রতিরোধ শিক্ষা দেবেন প্রফেসর আমব্রিজ, তাদের স্বাগতম জানাই।

সকলেই খুশি হলো। হ্যারি, রন, হারমিওন খুশি হয়েছে মনে হলো না। ডাম্বলডোর বললেন না কতদিন গ্রাবলী প্ল্যাঙ্ক শিক্ষকতা করবেন।

ডাম্বলডোর আরও বললেন, ট্রাই আউটস-এর জন্য হাউজ কিডিচ টিমের খেলা শুরু হবে।

ডাম্বলডোর ভাষণ বন্ধ করে প্রফেসর আমব্রিজের দিকে জিজ্ঞাসুনেত্রে তাকালেন। আমব্রিজ খুবই বেঁটে খাট মহিলা, সকলে বুঝতে পারে নাঃডাম্বলডোর হঠাৎ কেন কথা বলা বন্ধ করলেন। কিন্তু প্রফেসর আমব্রিজ গলাটা পরিষ্কার করে শব্দ করল হেম হেম। সকলেই বুঝতে পারল আমব্রিজ কিছু বলতে চান।

ডাম্বলডোর সামান্য আশ্চর্য হয়ে আমব্রিজের দিকে তাকালেন। ডাম্বলডোরও চান আমব্রিজ কিছু বলুন। প্রফেসর প্রাউটের দুচোখের ভুরু ঢেকে আছে বড় বড় মাথার চুলে। প্রফেসর ম্যাগোনাগল-এর মুখটা খুবই চুপসে গেছে। হ্যারি আগে কখনও এমন দেখেনি। ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই বোকা বোকা ভাবে হাসতে লাগল, এই মহিলা অবশ্য জানে না হোগার্টস-এর কাজ কি পদ্ধতিতে চলে।

প্রফেসর আমব্রিজ বোকা বোকা মুখে কাষ্ঠ হাসি হেসে বললেন–আপনার স্বাগত ভাষণের জন্য ধন্যবাদ।  

ওর গলার স্বর উচ্চ আর ছেলে মানুষের মতো। হ্যারির একটুও পছন্দ হয় না আমব্রিজকে। কেন তা নিজেই জানে না। তবে এটুকু জানে, ওকে ও এক তিলও দেখতে পারে না। সবই অপছন্দের, ওর ফুলোফুলো গোলাপী কার্ডিগান, বোকার মত গলা। আবার আমব্রিজ গলা পরিষ্কার করলেন (হেম হেম) তারপর বলতে লাগলেন।

হোগার্টসে আমার ফিরে আসা সত্যই খুবই আনন্দের। তা আমি অবশ্যই স্বীকার করি। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের হাসি হাসি মুখ আমার দিকে আছে, খুব ভাল লাগছে! আমব্রিজ হাসলেন। হাসার সময় ওর ছোট ছোট তীক্ষ্ম দাঁতগুলো বেরিয়ে এল।

হ্যারি অবশ্য একজনকেও হাসতে দেখল না। বস্তুত ওরা সবাই অবাক হয়ে গেছে আমব্রিজের কথা শুনে। ওরা কী পাঁচ বছরের ছেলেমেয়ে!

–আমি তোমাদের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য খুবই আগ্রহী, আশা করি তোমরা সবাই আমার প্রিয় বন্ধু হবে!

ছেলেমেয়েরা পরস্পরের মুখের দিকে তাকাল। কেউ কেউ আবার তাদের হাসি থামাতে পারল না।

আবার প্রফেসর আমব্রিজ গলা খাকাড়ি দিলেন। বলতে শুরু করার আগে কণ্ঠস্বরে জড়তা থাকল না একঘেয়ে বক্তৃতা শুরু হয়ে গেল তার।

–ম্যাজিক মন্ত্রণালয় মনে করে শিক্ষাক্ষেত্রে যাদুবিদ্যা জাদুকর ও ডাকিনি (জাদুকরী)দের খুবই প্রয়োজনীয়তা আছে। তোমরা যে প্রতিভা নিয়ে জন্মেছে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে, যদি না তোমরা সেগুলো সযত্নে লালন-পালন করো। তার জন্য সুচিন্তিত ইনস্ট্রাকশনের প্রয়োজন। অতীতের জাদু শিক্ষা আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেবার প্রচুর আবশ্যকতা আছে। তা না হলে সেগুলো বিলুপ্ত হবে। সেইসব ট্রেজার যা আমাদের পূর্ব পুরুষ জাদুকররা ছেড়ে গেছেন, তা আমাদের রক্ষা করা প্রয়োজন আছে। আমরা যারা এই মহান জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিতে এসেছি তাদেরও সচেতন হতে হবে।

বক্তৃতা দিতে দিতে আমব্রিজ সহকর্মীদের দিকে তাকিয়ে তারিফের আশা করছিলেন; কিন্তু কেউ তারিফ করল না।

হ্যারির কোন সন্দেহ রইল না প্রফেসর ম্যাকগোনাগল ও প্রফেসর স্প্রাউটও আমব্রিজের বক্তৃতা সমর্থন করলেন না। আমব্রিজ বলে চললেন, হোগার্টসের প্রতিটি শিক্ষক-শিক্ষিকা নতুন বছরে মনের মধ্যে একগাদা আশা নিয়ে আসেন। নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা উন্নত করার আশা, কিন্তু দুঃখের বিষয় সেগুলো কি করছি, কি করব এই ভাবনার মধ্যে লুপ্ত হয়ে যায়। এসব মনোভাব আমাদের বর্জন করা একান্ত প্রয়োজন। বাস্তবে রূপান্তরিত না করলে সেই চিন্তাভাবনা অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। ঐতিহ্য ও নতুনের প্রবর্তনের মধ্যে সমতা রক্ষা আমাদের কর্তব্য।

হ্যারির মনে হল ওর একাগ্রতা একটু একটু করে উধাও হচ্ছে। যেন ওর মস্তি ক কখনও জাগ্রত কখনও সুপ্ত হচ্ছে। ডাম্বলডোরের বক্তৃতার সময় যে নিশ্ৰুপতা ছিল আমব্রিজের সারগর্ভ বক্তৃতায় সেই নিশ্ৰুপতা লুপ্ত। সব ছেলেমেয়েরা তার বক্তৃতা উপেক্ষা করে নিজেদের মধ্যে ফিস ফিস করে কথাবার্তা শুরু করল। নীরবতা আর রইল না। গুঞ্জন চলল হলে। হ্যারি দেখল র‍্যাভেন টেবিলে ছেলেমেয়েরা জটলা করছে তার মধ্যে চো-চ্যাং বেশ প্রাণবন্ত হয়ে কথা বলছে। চো-চ্যাং-এর কিছু দূরে লুনা কুইবলার ম্যাগাজিনটা পড়ছে। ওদিকে হাফলপাফ গ্রুপের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এরনি ম্যাকমিলন প্রফেসর আমব্রিজের বক্তৃতা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে চলেছে। তবে হ্যারির মনে হল ও চুপ করে বক্তৃতা শোনার ভান করছে। আসলে ও বুকে আঁটা প্রিফেক্ট ব্যাজটা সকলকে দেখাতে চায়।

প্রফেসর আমব্রিজকে দেখে মনে হয় ছাত্রছাত্রীরা যে তার বক্তৃতা শুনছে না। সেটা ঠিক বুঝতে পারছেন না। হ্যারির মনে হল হলের মধ্যে মারামারি শুরু হলে ভাল হয় তাহলে আমব্রিজ বাধ্য হয়ে তার বক্তৃতা বা ভাষণ থামাবেন। তবে স্কুলের শিক্ষকদের দেখে মনে হল, তারা মনোযোগ দিয়ে সহকর্মীর কথা শুনছে। আর হারমিওন তার প্রতিটি কথা গিলছে। তবে ওর মুখের ভাব দেখে মনে হয় না আমব্রিজের কথা ও সমর্থন করছে।

কারণ কিছু পরিবর্তন ভালোর দিকেই যাবে। আর কিছু নিজে থেকে আসবে সময়ের পরিবর্তনে। তখন সেই পরিবর্তন বোঝা যাবে ভাল না মন্দ? বিচার করতে হবে। ইতিমধ্যে কিছু পুরনো অভ্যাস চালু রাখতেই হবে–প্রয়োজনের তাগিদে। বাকিগুলো যা সেকেলে, গতানুগতিক, অবশ্যই সেগুলো বর্জন করতে হবে। আসুন আমরা এগিয়ে যাই, প্রত্যাশিত যুগের দিকে কার্যোপযোগী মূল্য বিচারের দিকে, কি রক্ষা করতে হবে বা করতে হবে না তা সঠিক বিচার করতে। হেঁটে ফেলতে হবে অদরকারী সবকিছু।

আমব্রিজ ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লে ডাম্বলডোর করতালি দিলেন। অনেকেই তার সঙ্গে করতালি দিল। হ্যারি লক্ষ্য করল কেউ কেউ যেন বাধ্য হয়ে একটু আধো আধোভাবে হাতের সঙ্গে হাত ঠেকাল।

কিছু কিছু ছাত্রছাত্রী অবশ্য হাততালি দিল; কিন্তু অনেকেই জানে না আমব্রিজের সারগর্ভ বক্তৃতা কখন শেষ হয়েছে। খুব বেশি তো দুএকটি লাইন শুনেছে তারা।

ডাম্বলডোর আবার উঠে দাঁড়ালেন।

–অশেষ ধন্যবাদ প্রফেসর আমব্রিজ, সত্যই শিক্ষাদায়ক। মাথা অবনত করলেন।

এখন, আমি বলছিলাম কিডি প্রতিযোগীদের পরীক্ষা শুরু হবে। হারমিওন খুব চাপা গলায় বললো–অবশ্যই খুব উদ্দীপক বক্তৃতা ছিল। রন বললো–তোমার ভাল লেগেছে কি লাগেনি তাতে বললে না?

–আমাকে জীবনে প্রথম এরকম একঘেয়ে অবান্তর বক্তৃতা শুনতে হল। আমি পার্সির সঙ্গে বড় হয়ে উঠেছি।

–আমি বলেছি উদ্দীপক, আনন্দদায়ক নয়, হারমিওন বললো–একগাদা বড় বড় কথা।

–সত্যি? তোমার কথা একগাদা কেকের মত শোনাল; হ্যারি আশ্চর্য হয়ে বললো।

হারমিওন বললো–কেকের মধ্যে কিছু লুকোন তথ্য আছে।

রন বললো, ছিল নাকি?

–প্রগতির বুলি আওড়ান আর সত্যিকারের প্রগতি এক কথা নয়। তাই কাজ চাই বুলি নয়।

~ অভ্যাস করার যা কিছু আছে তা নিষিদ্ধ করতে হবে। –বুঝলাম না তার মানে কী, রন একটু অধৈর্য হয়ে বললো।

–বলছি মানেটা; হারমিওন ওর ঝকঝকে দাঁত বার করে হাসল। এর একটিই মানে–মন্ত্রণালয়, হোগার্টস-এর ব্যাপারে নাক গলাচ্ছে।

হলের ছাত্রছাত্রীরা হল ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আসার সময় তেমন শব্দ হয়নি। এখন যেন একটু বেশি, চতুর্দিকে হাসি-ঠাট্টা, পদ শব্দ। ডাম্বলডোর প্রথম পর্ব সমাপ্তির ঘোষণা করলেন, কারণ সকলেই হল ছেড়ে যেতে চায়।

রনের ওপর ভার পড়েছে প্রথমবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের গাইড করা।

একদল নতুনেরা লাজুক লাজুক ভাবে গ্রিফির ও হাফলপাফের টেবিলের মাঝখান দিয়ে রনের সঙ্গে বাইরে যাবার দরজার দিকে চলল। ওদের বয়স খুব একটা বেশি নয়। হ্যারি যখন প্রথম হোগার্টসে এসেছিল তখন ওর বয়স খুব একটা কম ছিল না। ও বাচ্চাদের দেখে হাসল। সোনালী চুলওয়ালা একটি ছেলে ইউয়ান অ্যাবারক্রমবিকে কানে কানে কিছু বললো। ইউয়ান ঐ ছেলেটির মতো ভীতমুখে হ্যারির মুখের দিকে তাকাল।

রন ও হারমিওন প্রিফেক্ট, ওদের যেসব দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সেখানে হ্যারির ভূমিকা নেই। হ্যারি এবার ওদের কাছ থেকে বিদায় নিল। পরে দেখা হবে।

একাই ও গ্রেট হল থেকে চলে গেল।

ওর দিকে তাকিয়ে চারদিকে ফিস ফিস, গুনগুন ও কান দেয় না। ওকে এখন ঘরে গিয়ে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়তে হবে। খুবই ক্লান্ত ও। মনের মধ্যে হ্যাগ্রিডের জন্য চিন্তা!

এনট্রেন্স হল ছেড়ে তাড়াতাড়ি পাথরের সিঁড়ির ধাপ দিয়ে নেমে কংক্রিটের সরু পথ ধরে দোতলায় উঠার দরজার মুখে দাঁড়াল। পেছনে পড়ে রইল অনেক বন্ধুবান্ধব, নবাগত ছাত্রের দল।

ওপরে উঠার সিঁড়িটা সম্পূর্ণ ফাঁকা নয়। সকলেই ওর দিকে তাকাচ্ছে। দুমাস আগের একটা ঘটনা ওর চোখের সামনে ভেসে উঠল। একটি সতীর্থের মৃতদেহ ও বুকে চেপে ধরে রেখেছে, ভোল্ডেমর্টকে পুনরায় ফিরে আসতে দেখেছে। গতবারে, কবরস্থানে দাঁড়িয়ে ভয়ানক ঘটনাটা সমবেত বন্ধুবান্ধব ও সতীর্থদের কাছে বিবৃতি দেয়ার তেমন পরিবেশ বা সময় পায়নি।

হ্যারি গ্রিফিন্ডর কমনরুমে যাবার জন্য করিডোরের শেষে পৌঁছল। দরজার সামনে মোটাসোটা এক মহিলার পোর্ট্রেট। তখন ওর মনে হল, নতুন পাসওয়ার্ড তো ও জানে না।

সেই পোর্ট্রেটের সামনে দাঁড়িয়ে কি করবে ভাবছে। মহিলা তার গোলাপী সার্টিনের পোশাকের ভঁজ ঠিক করতে করতে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে গম্ভীর মুখে হ্যারির দিকে তাকালেন।

–পাসওয়ার্ড নেই তো ঢুকতে পারবে না, মহিলা অবশ্য নরম সুরে বললেন।

–হ্যারি আমি জানি। কে যেন পেছন থেকে বললো–ও দেখল নেভিল একরকম দৌড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে ওর কাছে আসছে।

বলত কী, আন্দাজ কর, নেভিল ট্রেনে দেখান সেই শুকিয়ে যাওয়া ক্যাকটাসের চারাটা ওর সামনে দোলাতে দোলাতে মিমবুলাস মিমব্লিটোনিয়ার চারাটা দেখাল।

–নির্ভূল, পোট্রটের মোটা মহিলা বললো।

পোর্ট্রেটটার দরজা হাট হয়ে খুলে গেল। দেয়ালে একটি গোল বড় গর্ত। পেছনে অন্ধকার করিডর। গা ছমছমে সিঁড়ি যেটা চেপে ও ওপরে উঠেছে।

গ্রিফিন্ডর কমনরুম আগের মতই আনন্দদায়ক। ছিমছাম গোলাকৃতি উঁচু ঘর। আসবাবপত্র বেশির ভাগই জরাজীর্ণ, অতীতের স্মৃতি বহনকারী। ঘরের এককোনে ফায়ার প্লেস। তার সামনে বসে দু-চার জন তাদের ঠান্ডা হাত সেঁকছে। একটু পর তারা তাদের ডরমেটরিতে চলে যাবে। ঘরের অন্যধারে দেখল ফ্রেড আর জর্জ উইসলি দেয়ালের নোটিশ বোর্ডে একটা নোটিশ পিন দিয়ে আটকাচ্ছে। হ্যারির জর্জের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছে নেই। নেভিলের সঙ্গে ওদের ডরমেটরির দিকে যেতে যেতে শুধু ওদের দিকে হাত তুলল।

ডিন থমাস, সিমাস ফিন্নিগান প্রথমেই ডরমেটরিতে পৌঁছে গেছে। ওরা বিছানার পাশে পোস্টারস আর ব্লো-আপ ফটো দিয়ে দেয়াল ঢাকতে ব্যস্ত। হ্যারিকে ঘরে ঢুকতে দেখে ওদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে গেল। হ্যারির মনে হল খুব সম্ভব ওরা ওকে নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিল।

হ্যারি ওর ট্রাঙ্কটা খুলতে খুলতে বললো–হাই। ও একজোড়া ওয়েস্টহ্যাম রং এর পাজামা হাতে নিয়ে ডিনকে বললো–ছুটি কেমন কাটল?

কেমনভাবে কাটল ওদের বলতে গেলে রাত কাবার হয়ে যাবে। তাই বললো–এই একরকম। তোমার?

ডিন বললো, মন্দ নয়। সিমাসের চেয়ে ভাল। ও এই মাত্র আমাকে সেই গল্প শোনাচ্ছিল।

নেভিল ওর হাতের মিমবুলাস মিমব্লিটোনিয়া ওর খাটের সংলগ্ন ক্যাবিনেটের ওপর যত্নের সঙ্গে রাখতে রাখতে বললো–কেন? কি হয়েছিল?

সিমাস তখন দেখছিল কেনমেয়ার কেসট্রেলস কিডিচ টিমের ফটো ঠিকমত দেয়ালে সাঁটা হয়েছে কি না। তাই ওর প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিল না। পিছন ফিরেই বললো–আমার মা আসতে দিতে চাইছিল না।

হ্যারি পাজামাটা পরতে পরতে বললো, কী বললে?

–মা হোগার্ট-এ আসতে দিতে চাইছিল না।

হ্যারি জানে সিমাসের মা একজন ডাকিনি (জাদুকরী)। ঠিক বুঝতে পারে না, আসতে না দেবার সঠিক কারণ। কেন? তাই যদি হবে তাহলে ডার্সলেইশ পর্যন্ত সে এসেছিলেন কেন?

সিমাস পা-জামার বোতাম আঁটা শেষ করে, ভেবে বললো–কারণটা বোধহয়… তুমি।

হ্যারি কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে বললো–তার মানে?

ওর হার্টের গতি বেড়ে গেলো, অদ্ভুত ভাসা ভাসাভাবে ওকে কেউ যেন গ্রাস করতে আসছে।

সিমাস হ্যারির দৃষ্টির বাইরে থেকে বললো–একা তুমি নও, ডাম্বলডোর।

হ্যারি বললো–তোমার মা বিশ্বাস করেন ডেইলি প্রফেটের স্টোরি? বিশ্বাস করেন ডাম্বলডোর একজন মূর্খ বৃদ্ধ?

সিমাস এবার হ্যারির মুখের দিকে তাকাল।

–হ্যা ওইরকম গোছের একটা কিছু।

হ্যারি কোনও জবাব দিল না। ওয়ান্ডটা টেবিলে রেখে ধীরে-সুস্থে পাজামাটা পরে, ছাড়া পোশাকগুলো রাগে গনগন করতে করতে ট্রাঙ্কে রেখে দিল। যারা ওর সম্বন্ধে সবসময় কিছু বলছে, ভাবছে তাদের ও সহ্য করতে পারছে না। ওরা যদি কেউ জানত, কেউ যদি ওর মত অবস্থায় পড়তো, ক্ষীণতম ধারণা থাকতো। মূর্খ মিসেস ফিন্নিগেনের, কি ঘটছে, না ঘটছে সে সম্বন্ধে কোনও ধারণাই নেই। হ্যারি অতি ক্ষুব্ধ হয়ে ভাবল।

ও নিজের বিছানায় বসে পর্দাটা টেনে দেবার আগে সিমাস বললো–তুমি ভাল করেই জান, সেই রাতে কি হয়েছিল। যখন সেড্রিক ডিগরির সঙ্গে,

কথা বলতে বলতে সিমাস শুধু নার্ভাস নয় উৎসুকও হয়। ডিন তখন ওর ট্রাঙ্কে ঝুঁকে পড়ে স্লিপার খোঁজ করছিল তখন ও সব শুনছে। হ্যারি লক্ষ্য করেছে ও খুব মন দিয়েই সব শুনছে।

হ্যারি মুখ বেঁকিয়ে বললো–আমাকে কেন প্রশ্ন করছ? তোমার মার মত প্রতিদিন ডেইলিপ্রফেট পড় না কেন? তোমার সব প্রশ্নের জবাব পাবে।

সিমাস বললো–আমার মা সম্বন্ধে এসব কথা বলবে না, তাকে জড়াবে না।

হ্যারি বললো, যারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে তাদের তো সমুচিত জবাব দিতে হবেই।

–আমার সঙ্গে উদ্ধত হয়ে কথা বলবে না বলেদিলাম।

–আমার যা খুশি তাই বলব। ও রেগে গেছে, ম্যাজিক ওয়ার্ল্ডটা ক্যাবিনেটের ওপর থেকে তুলে নিয়ে বললো। তোমার যদি আমার সঙ্গে এই ডরমেটরিতে থাকতে অসুবিধা মনে হয়, তাহলে ম্যাকগোনাগলের কাছে গিয়ে অন্যত্র থাকার অনুরোধ করতে পার। তোমার মার চিন্তা নিয়ে আমাকে বিরক্ত করবে না, এসব বন্ধ কর।

–পটার, আবার বলছি মাকে টেনে আনবে না, সিমাস বললো।

–আরে এত গোলমাল কিসের? রন দরজার গোড়া থেকে দেখল হ্যারি ওর হাতের দন্ডটা সিমাসের দিকে তাক করেছে। সিমাস ওর সামনে ঘুষি তুলেছে।

সিমাস বললো–ওর এত বড় সাহস আমার মা তুলে কথা বলে।

রন বললো–কী বললে? হ্যারি অমন কথা বলতেই পারে না। আমরা তোমার মাকে দেখেছি, কথা বলেছি, তিনি খুবই ভাল মানুষ।

হ্যারি উচ্চস্বরে বললো–সেটা ওই ডেইলি প্রফেট আমার বিরুদ্ধে যা লেখে তাই বিশ্বাস করার আগের কথা।

–ওহ! রন বললো–ওহ বুঝতে পেরেছি।

–হ্যারির দিকে বিষদৃষ্টি দিয়ে সিমাস বললো–তুমি কিছুই জানো না। ও ঠিক বলেছে, আমি ওর সঙ্গে একঘরে থাকতে চাই না। ও পাগল।

–রনের কথাটা শুনে কান লাল হয়ে গেল, বিপদের ইঙ্গিত!

–সিমাস, আজেবাজে কথা বলবে না।

–আমি? আমি আজেবাজে কথা বলছি? সিমাস বিবর্ণ মুখে আরও জোরে বললো–ইউ-নো-হু সম্বন্ধেও যেসব বলেছে তুমি বিশ্বাস কর ও সত্যি কথা বলছে?

–হ্যা অবশ্যই করি, রন রেগে গিয়ে বললো। সিমাস নিদারুণ বিরক্তিতে বললো–তাহলে তুমিও পাগল। রন নিজের বুকে একটা আঙ্গুল ঠেকিয়ে বললো, তাই? বেশ! তোমার অতি দুর্ভাগ্য বন্ধু, আমিও এক প্রিফেক্ট! ডিটেনশন থেকে মুক্তি পেতে চাও তো বকবকানি বন্ধ কর!

সিমাস রনের মুখের দিকে তাকালো, যেন ওর মনের মধ্যে যা ঘটছে তা ব্যক্ত করলো, যার উপযুক্ত দাম হল কয়েদ। ও তীব্র চিৎকার করে বিছানার ওপর দাঁড়াল পাগলের মত জানালার পর্দাগুলো এমনভাবে টান দিল যে সেগুলো বিছানায় পড়ে মেঝেতে গড়াগড়ি দিতে লাগল।

রন প্রথমে সিমাস তারপর ডিন আর নেভিলের দিকে তাকালো। ও ঝাঁঝিয়ে বললো–তোমাদের কারও বাবা-মার হ্যারিকে নিয়ে কোনও সমস্যা আছে?

ডিন বললো–বন্ধু আমার বাবা-মা মাগল। ওরা হোগার্টসের কোনও মৃত্যুর খবর পায়নি, কারণ আমি এত বোকা নই যে খবরটা তাদের দেব।

সিমাস ওর দিকে তীব্রভাবে তাকিয়ে বললো তুমি আমার মাকে চেন না। ঠিক খবর ঠিক সময়ে বের করে নেন। তোমার বাবা-মা তো ডেইলি প্রফেট পড়েন না। ওরা জানেন না আমাদের হেডমাস্টার ওয়াইজেনগেমট অ্যান্ড দ্য ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব উইজার্ডস থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, কারণ তিনি তার সমর্থক হারাচ্ছেন।

নেভিল বললো, আমার ঠাকুরমা বলেন–সব বাজে কথা। ডাম্বলডোর নয় ডেইল প্রফেট পা হড়কাচ্ছে। তিনি ডেইলি প্রফেট-এ চাদা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা হ্যারির কথা বিশ্বাস করি। কথাটা শেষ করে নেভিল বিছানার চাঁদরটা গলা পর্যন্ত ঢেকে সিমাসের মুখের দিকে প্যাচার মত তাকাল। আমার ঠাকুরমা বলেন, ইউ-নো-হু একদিন না একদিন ফিরে আসবে। ডাম্বলডোর যদিও বলেন, ও ফিরে এসেছে, ও ফিরে এসেছে।

হ্যারির নেভিলের কথা শুনে ওর ওপর খুব আস্থা হল। কেউ আগে বলেনি। সিমাস ওর ম্যাজিক ওয়ান্ড বার করে লন্ডভন্ড ঘর বিছানা জানালার পর্দা ইত্যাদি যথাযথ ঠিক করে নিল। পাশ ফিরে শুল ডিন। নেভিলের আর কিছু বলার নেই তাই ও ওর ক্যাকটাসের দিকে তাকিয়ে রইল।

হ্যারি মাথার তলায় বালিশ দিয়ে শুয়ে রইল। রন ওর পাশের বিছানায়। সিমাসের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে ওর মন খুবই খারাপ। সিমাসকে ও সবসময় খুবই পছন্দ করে।

ডাম্বলডোর ওরই মত সারা গরমের ছুটি অস্বস্তিতে কাটিয়েছেন? প্রথমত ওয়াইজেনগমট, দ্বিতীয়ত ইন্টারন্যাশনালার কনফেডারেশন অব উইজার্ডস এর কারণে। হ্যারির ওপর রাগ হতে পারে, তার জন্য তিনি বেশ কয়েকমাস হ্যারির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। ডাম্বলডোর হ্যারির কথা বিশ্বাস না করলে কেন ও স্কুলের সবাইকে ঘটনাটা বলবেন, তারপর সমগ্র জাদুকর সম্প্রদায়কে।

হ্যারিকে কেউ মিথ্যাবাদী বললে ডাম্বলডোরকেও বলতে হয়। তা না হলে ডাম্বলডোরকে প্রতারণা করা হয়।

সবশেষে সকলেই জানতে পারবে আমরা মিথ্যা বলছি না বা মিথ্যার পথ ধরে চলছি না, হ্যারি অতি দুঃখ ভরা মনে কথাগুলো ভাবতে লাগল। রন শোবার আগে ডরমেটরির শেষ মোমবাতিটা নিভিয়ে দিয়েছে। হ্যারি ভাবল, ওকে সিমাসের মতো আরও কতগুলো আক্রমণ প্রতিহত করতে হবে।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *