০৮. ওষুধের ওস্তাদ

ওষুধের ওস্তাদ  

ওইদিকে তাকাও।

কোনদিকে?

লম্বা লাল চুল ছেলেটার পরের ছেলেটা।

চশমা পরা?

ওর মুখটা দেখতে পাচ্ছ কি?

ওর কপালের দাগটা দেখেছ কি?

হ্যারি পরের দিন ডরমিটরি থেকে বের হলেই চারদিকে এ রকম ফিসফিস, গুঞ্জন। ক্লাসরুমের বাইরেও লোকজন পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে উঁচু হয়ে ওকে দেখে বা হ্যারি যখন করিডোরে হেঁটে যায় তখন লোকেরা ওকে ভাল করে দেখার জন্য দ্বিতীয়বার ফিরে আসে। এসব হ্যারির ভালো লাগে না। হ্যারি লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে চায়।

হোগার্টসে একশ চল্লিশটা সিঁড়ি আছে–কোনটা চওড়া, কোনটা খাড়া, কোনটা সরু, কোনটা অস্থায়ী কাঠের। কিছু সিঁড়ি শুক্রবার দিন অন্য স্থানে নিয়ে যায়। কিছু সিঁড়ি আর মাঝপথে মাঝামাঝি গিয়ে শেষ হয়েছে। মনে রাখা প্রয়োজন এগুলো পার হতে হবে লাফ দিয়ে। কিছু দরোজা আছে নম্রভাবে কথা না বললে বা যথাস্থানে হালকাভাবে টোকা না দিলে খুলবে না। কিছু স্থান দরোজার মত মনে হয়, কিন্তু আসলে দরোজা নয়–শক্ত দেয়াল। এখানে কোন কিছু মনে রাখা কঠিন, কোন কিছু স্থির নয়, সব সময় স্থানের পরিবর্তন ঘটছে। মানুষের প্রতিকৃতিগুলোরও পরিবর্তন ঘটছে, এক ফ্রেমের ছবি থেকে অন্য ছবির ফ্রেমে চলে যাচ্ছে। হ্যারির ধারণা তা হলে নিশ্চয়ই অস্ত্রাগারে রাখা কোটগুলোও নিশ্চয়ই হেঁটে বেড়ায়।

ভূতেরাও কোন রকম সাহায্য করে না। কেউ কোন দরোজা খুলে কোথাও যাবে, হঠাৎ করে অপরদিক থেকে ভূতেরা সেই দরোজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে চমকে দেয়। এদের মধ্যে মুণ্ডুহীন নিক ব্যতিক্রম, খুশি মনে পথ দেখিয়ে দেয়। কিন্তু পিভস তার চিরাচরিত অভ্যাস মত আড়ালে থেকে কিছু ফেলে তার উপস্থিতি জাহির করে, কেউ যদি ক্লাসে যেতে দেরি করে ফেলে তাকে দুটো তালাবদ্ধ দরজা ও গোলমেলে সিঁড়ি পার হতে যেটুকু সময় লাগে তার চেয়ে বেশি দেরি করিয়ে দেবে ক্লাসে যেতে। সে কারো মাথায় ওয়েস্ট পেপার বাস্কেট ফেলবে, পায়ের তলা থেকে কম্বল টেনে নেবে, চক ছুঁড়ে মারবে, চমকে দেয়ার জন্য দেখা না দিয়ে কারো পেছনে এসে দাঁড়াবে, পেছন থেকে নাক চেপে ধরে বলবে, কেমন লাগছে এখন।

পিভসের চেয়ে আরো বেশি খারাপ হলো কেয়ারটেকার আরগুস ফিলচ। প্রথম দিন সকালে হ্যারি ও রন ওর ধারে–কাছে না গিয়ে ভিন্ন পথে গেল। তারা দুর্ভাগ্যক্রমে ভুল করে তৃতীয় তলার নিষিদ্ধ করিডোরের প্রবেশ পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ফিলচের বিশ্বাসই হয়নি যে ওরা পদ্ধ হারিয়ে ওই পথে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সে ভাবল ওরা ইচ্ছে করেই এটা করছে এবং এখানে তাদের আটকে রাখার ভয় দেখাল।

প্রফেসর কুইরেল সে সময় যদি ওই পথ দিয়ে না যেতেন তা হলে নিশ্চয়ই তাদের ফিলচের হাতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো।

ফিলচের একটা বিড়াল ছিল। বিড়ালটার নাম মিসেস নরিস। ধূলো রঙের গোঁফধারী বিড়ালটা ছিল অনেকটা মনিব ফিচের মত। বিড়ালটা যেন এখানকার নিয়মরক্ষক। একটু এদিক–ওদিক হলেই বিড়ালটা ফিলচকে ডেকে আনে। যারা ভুল করে তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হয়। সকলে তাকে এত ঘৃণা করে যে সুযোগ পেলেই নরিসকে লাথি লাগায়।

বুধবার মাঝ রাতে দুরবী এর সাহায্যে নানা গ্রহ–নক্ষত্রের আসা–যাওয়া দেখানো হলো। অধ্যাপক স্পাউট সপ্তাহে তিনবার অদ্ভুত সব উদ্ভিদের কিভাবে যত্ন নিতে হয় তা পড়াতেন।

সবচে বিরক্তিকর ক্লাস ছিল জাদুর ইতিহাস। এটাই একমাত্র ক্লাস যা নিতেন এক ভূত–শিক্ষক। বৃদ্ধ প্রফেসর বিনস শিক্ষকদের স্টাফ রুমের ফায়ার স্পেস-এর সামনে অনেক সময় ঘুমিয়ে পড়তেন আবার পরদিন সকালে তার শরীরটা সেখানে রেখেই ক্লাস নিতে চলে যেতেন।

অধ্যাপক ফ্লিটউহক ছিলেন বশীকরণ বিদ্যার শিক্ষক। তিনি ক্লাসে অদ্ভুত অদ্ভুত বিষয় নিয়ে মনোমুগ্ধকর গল্প শোনাতেন। আকারে ছোটখাটো, একগাদা বই এর ওপর দাঁড়িয়ে তাকে টেবিল থেকে উঁচু হতে হতো। হাজিরা খাতায় হ্যারির নাম ডাকতে গিয়ে অদ্ভুত শব্দ করে নিজেই হাওয়ায় মিলিয়ে যেতেন তিনি।

অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল একটু অন্য ধরনের। মেজাজ কড়া হলেও তিনি মানুষ হিসেবে ভালো। ছাত্ররা তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। তিনি বলেন যে শরীর বদল অথবা অন্যরূপ ধারণ করা সবচে জটিল জাদুবিদ্যা।

তিনি আরও বলতেন, আমার ক্লাসে কোন উল্টা–পাল্টা করবে না। করলে অদৃশ্য হয়ে যাবে। আর ফিরে আসতে পারবে না।

একটু পরে তিনি তার টেবিলটাকে বাচ্চা শূকরে রূপান্তরিত করলেন। কিছুক্ষণ পর আবার তা টেবিল হয়ে গেল। সকল আসবাবপত্রই মাঝে মাঝে একদল পণ্ড হয়ে যায়। একদিন ছাত্রদের দেশলাই দিয়ে বলা হল–কাঠিকে সূচ বানাও। একমাত্র হারমিওন গ্রেঞ্জারই সফল হয়। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল ওদের দেখালেন কিভাবে কাঠিটি ধাতব পদার্থে পরিণত হলো এবং সূচালো হলো।

যে ক্লাসটা তাদের সবচে ভালো লাগতো সেটা ছিল কালো জাদু টোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। মাঝে মাঝে হাসি–ঠাট্টা হয়। সারা ক্লাসে রসুনের গন্ধ। রোমানিয়া থেকে রক্তচোষা এসেছে এবং তার পাগড়ির ভেতর থেকে এই গন্ধ আসে। পাগড়ির ভেতরের রসুন নাকি অধ্যাপক কুইরেলকে নানা রকম বিপদ–আপদ থেকে রক্ষা করে। তাকে এই পাগড়িটা দিয়েছে আফ্রিকার কোন এক রাজপুত্র।

হ্যারি এই ভেবে আশ্বস্ত যে সে পড়াশোনায় খুব একটা পেছনে পড়ে নেই। মাগল পরিবার থেকেও অনেক ছেলে এখানে এসেছে। তারই মত। ডাইনি জাদুকর সম্পর্কে তাদের অনেকেরই সামান্যতম ধারণা নেই। এমন কি রনের মাথাতেও অনেক কিছু আসে না।

শুক্রবার দিনটা কারি ও রনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওইদিন তারা সঠিক পথে গ্রেট হলে এসে নাশতা করত।

পিরিজে চিনি ঢালতে ঢালতে হ্যারি রনকে জিজ্ঞেস করল–আজ আমাদের কি কাজ?

স্লিদারিনদের সাথে দ্বিগুণ ওষুধের উপাদান মেশানো রন বলল। গেইপ ছিলেন স্লিদারিন হাউজের প্রধান। সবাই বলে তিনি নাকি তাদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেন। আমরা দেখবো এটা সত্যি কিনা।

অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল যদি আমাদের পক্ষে থাকতেন। হ্যারি বলল। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল ছিলেন গ্রিফিল্ডর হাউজের প্রধান। তা সত্ত্বেও তিনি ছাত্রদের গাদাগাদা হোমটাস্ক দিতে কার্পণ্য করতেন না।

ডাক আসার সময় একশ পেঁচাকে গ্রেট হলে প্রবেশ করতে দেখে সে হতভম্ব হয়ে পড়েছিল। তারা তাদের মালিকদের খুঁজে নিয়ে চিঠি বিলি করলো। কিছু কিছু পারসেল ছিল।

হেডউইগ এ পর্যন্ত হ্যারির জন্য কোন চিঠি আনেনি। হেডউইগ খুবই অলস। তবে চিঠি আসলে সে নিশ্চয়ই নিয়ে আসবে। তার কাজ একটিই, সেটা হলো ঘুমোবার আগে তার কানের লতি ছুঁয়ে আদর করা ও শুভরাত্রি বলে পেঁচাঁদের থাকার জায়গায় যাওয়া।

অবাক কাণ্ড। আজ সকালে হেডউইগ হ্যারির জন্য একটা চিঠি টেবিলে রাখল। হ্যারি বিস্মিত হয়ে ধীরে ধীরে চিঠিটা খুলে পড়তে থাকে। চিঠিতে লেখা আছে–

প্রিয় হ্যারি,
আমি জানি, তুমি প্রতি শুক্রবার বিকেলে বাইরে যাও। তুমি কি বিকেল তিনটায় আমার সাথে এক কাপ চা পান করতে আসতে পারো? আমি জানতে চাই ডর্মিটরিতে তোমার প্রথম সপ্তাহ কেমন কাটল? অপর পৃষ্ঠায় জবাব লিখে হেডউইগ মারফত পাঠিয়ে দিও।
ইতি
হ্যাগ্রিড

হ্যারি রনের কাছ থেকে পালকের কলম নিয়ে লিখল–হ্যাঁ, নিশ্চয়ই দেখা হবে। সে চিঠিটি হেডউইগের কাছে দিল। হেডউইগ চিঠি নিয়ে শো করে উড়ে চলে গেল।

হ্যারিও হ্যাগ্রিডের সাথে দেখা করার জন্য উৎসুক ছিল। কারণ ওষুধ তৈরির উপকরণের ক্লাস হ্যারির সবচে বিরক্তিকর মনে হত। কোর্সের প্রথম দিকেই হ্যারি বুঝতে পেরেছিল যে, স্নেইপ তাকে অপছন্দ করেন না শুধু, মৃণাও করেন।

ওষুধ ডোজের ক্লাসগুলো হতো নিচে বন্দিশালার মত একটা কক্ষে। এই কক্ষটা অনেক বেশি ঠাণ্ডা ছিল। শেইপ হাজিরা খাতা নিয়ে নাম ডেকে ক্লাস শুরু করতেন। তিনি জারি পটারের নাম এভাবে ডাকলেন–হ্যারি পটার… আমাদের নতুন বিখ্যাত ব্যক্তি।

হ্যারির অপ্রস্তুত অবস্থা দেখে ম্যালফয় ক্রেব ও গয়েল খুব আনন্দ পেত। নামডাকা শেষ হলে স্নেইপ ক্লাসের দিকে তাকালেন।

তার চোখও হ্যাগ্রিডের চোখের মত কালো। কিন্তু সে চোখে হ্যাগ্রিডের চোখের উষ্ণতা নেই। তার চোখ দুটি শীতল ও শূন্য। তার চোখ দেখলে গভীর সুড়ঙ্গের কথা মনে পড়ে। স্নেইপের ক্লাস ছিল বেশ চিত্তাকর্ষক। ছাত্ররা মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনত। এজন্য ক্লাসে কোন গোলমালও হত না। তিনি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তার ক্লাসকে প্রাণবন্ত রাখতে পারতেন।

হ্যারি পটারকে স্নেইপ হঠাৎ করে প্রশ্ন করে বসলেন–আচ্ছা হ্যারি বল তো–আমরা যদি অ্যাসফোডেল পাউডারের রুটের সাথে তিক্ত গুল্মরস মিশিয়ে দিই তাহলে আমরা কী পাব?

হ্যারি বলল–আমি ঠিক বলতে পারব না। স্নেইপ হ্যারিকে কটাক্ষ করে বললেন–তু, তু–খ্যাতিই সবকিছু নয়।

হারমিওন হাত তুললেও তিনি সেদিকে নজর দিলেন না।

স্নেইপ এবার বললেন–আরেকবার চেষ্টা করে দেখা যাক। আমি যদি বলি আমাকে একটা বিজোয়ার দেখাও তাহলে তুমি কি করবে? হারমিওন হাত তুলল। বিজোয়ার সম্পর্কে হ্যারির বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।

হ্যারি জবাব দিল–আমি জানি না স্যার।

ম্যালফয়, ক্রেব ও গয়েল হাসল। হ্যারি নিশ্চিত ম্যালফয়, ক্রেব বা গয়েল–ওদের কারোরই ওই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই।

স্নেইপ মন্তব্য করলেন–পটার আমার মনে হয়, তুমি ক্লাসে আসার আগে বই খুলে দেখনি।

হ্যারি স্নেইপের চোখের দিকে তাকাল। তারপর মনে মনে বলল ডার্সলি পরিবারের সাথে থাকার সময়ও আমি বইপত্র দেখেছি। অধ্যাপক স্নেইপ কি মনে করেন যে One Thousand Magical Herbs and Fungi–র সবকিছুই আমার মুখস্থ থাকবে।

হারমিওন আবার হাত তুললেও স্নেইপ সেদিকে মনোযোগ দিলেন না।

এভাবে আরো প্রশ্ন করে স্নেইপ হ্যারিকে বিব্রত করলেন। অবশেষে অধ্যাপক স্নেইপের ক্লাস শেষ হল। হ্যারি পটারের মন এমনিতেই ভালো ছিল না, কারণ সেসনের প্রথম সপ্তাহেই গ্রিফিল্ডর হাউজের দু নম্বর কাটা গেল। আর হ্যারি গ্রিফিল্ডর হাউজের সদস্য। পাঁচটা বাজার তিন মিনিট আগে তারা গ্রিডের ঘরের দিকে রওনা হলো। নিষিদ্ধ বনের পাশে একটা কাঠের বাড়ি ছিল। দেখতে কুঁড়েঘরের মত। সেটাই হ্যাগ্রিডের আবাসস্থল।

তারা যখন দরোজায় করাঘাত করল তখন ভেতর থেকে ঘেউ ঘেউ শব্দ শোনা গেল। একটু পর শোনা গেল হ্যাগ্রিডের কণ্ঠস্বর ব্যাক ক্যাগে, ব্যাক।

দরোজার ফাঁক দিয়ে হ্যাগ্রিডের বিরাটকায় চুলভর্তি মুখ দেখা গেল। দরজা খুলতে খুলতে হ্যারি ও রনকে দেখে হ্যাগ্রিড বলল–দাঁড়াও।

হ্যাগ্রিড একটা বিরাট কালো বোর হাউন্ড কুকুরের শিকল ধরে রেখে ওদের ভেতরে ঢুকতে বললেন।

ভেতরে একটামাত্র ঘর। এক কোণায় বিছানা। আমার কেতলিতে পানি ফুটে ধোয়া বেরুচ্ছে। কুকুরটার নাম ফ্যাংগ।

কুকুরটাকে ছেড়ে দিয়ে হ্যাগ্রিড হ্যারি ও রনকে বললেন–আরাম করে বসো। ফ্যাংগকে যত হিংস্র মনে হয় আসলে সে তত হিংস্র নয়।

হ্যারি হ্যাগ্রিডের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল-এই হচ্ছে রন।

হ্যাগ্রিড তখন সেদ্ধ পানি একটা বড় টি-পটে-ঢালছিলেন এবং প্লেটে রক কেক সাজাচ্ছিলেন।

রক কেকে কামড় দিতে গিয়ে তাদের অবস্থা কাহিল। তবে হ্যারি আর রন এমন ভাব দেখাল যে তারা বেশ মজা করে রক কেক খাচ্ছে। তারা তাদের লেখাপড়া সম্পর্কে হ্যাগ্রিডকে জালাল। ফ্যাংগ হ্যারির হাটুর ওপর যাথা রেখে হ্যারির কাপড় শুকতে লাগল।

কথা প্রসঙ্গে ফিলচের কথা আসলো। হ্যারিরাই আসলে তার বিষয়ে কথাটা বলল। হ্যাগ্রিড ফিলচকে বোকা বৃদ্ধ বলায় হ্যারি আর রন উডয়েই খুশি হলো।

ফিলচের বিড়াল নরিস সম্পর্কে হাহ্যাগ্রিড বললেন–আমার কুকুর ফ্যাংগের সাথে তার পরিচয় করিয়ে দেব। শুধু তোমাদের কেন ওর বিড়ালটা আমাকেও অনুসরণ করে। ফিলচ–ই তাকে এই কাজে লাগিয়েছে।

হ্যারি হ্যাগ্রিডকে জানাল যে অধ্যাপক স্নেইপ তাকে ঘৃণা করেন। রন বলল–দুঃখ করে লাভ নেই। অধ্যাপক স্নেইপ কাউকেই পছন্দ করেন না।

বাজে কথা। হ্যাগ্রিড মন্তব্য করেন সে তোমাকে ঘৃণা করবে কেন?

হ্যারির কাছে মনে হলো হ্যাগ্রিড তার কথায় গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

রনের দিকে তাকিয়ে হ্যাগ্রিন্ড বললেন–তোমার ভাই চার্লি কেমন আছে। তাকে আমার খুব ভালো লাগে।

এরপর হ্যাগ্রিড রনের সাথে তাদের পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে আলাপ করলেন। হ্যারির টেবিল থাকা ডেইলি প্রফেট পত্রিকার একটা কাটিং চোখে পড়ল :

গ্রিংগটস–সর্বশেষ বার্তা

গ্রিংগটসে ডাকাতির বিষয়টি নিয়ে ৩১শে জুলাই থেকে তদন্ত চলছে। মনে করা হচ্ছে এটি কালো জাদুকর ও ডাইনিদের কাজ।
গ্রিংগটসের গবলিনরা দাবি করছে সেখান থেকে কিছুই খোয়া যায়নি। ভল্টগুলো এইদিনই খালি করা হয়েছিল।
কিন্তু সেখানে কি ছিল এ ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারব না। তোমাদের মঙ্গলের জন্য এ ব্যাপারে নাক না গলানোই ভালো–গবলিনদের একজন মুখপাত্র জানান।

হ্যারির মনে পড়ল–ট্রেনে তাকে রন বলেছিল যে গ্রিংগটসে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু কোন তারিখে হয়েছিল-এটা সে উল্লেখ করতে পারেনি। হ্যাগ্রিডকে হ্যারি বলল যেদিন গ্রিংগটসে ডাকাতি হয় সেদিনটা ছিল আমার জন্মদিন। আমরা যখন সেখানে ছিলাম হয়ত তখনই ঘটনাটা ঘটে। হ্যাগ্রিড বললেন–হ্যারি তুমি ঠিকই বলেছ। এই বলে হ্যাগ্রিড আরেকটা রক কেক হ্যারির দিকে বাড়িয়ে দিলেন।

হ্যারি পত্রিকার কাটিংটা আরেকবার পড়ল। ভল্টটা ওইদিনই খালি করা হয়েছিল যেদিন গ্রিগেটস থেকে হ্যারির জন্য টাকা তোলা হয়। হ্যারি আর রন যখন রাতের খাবার জন্য দুর্গে আসছিল তখন তাদের পকেট ছিল হ্যাগ্রিডের দেওয়া বক কেকে ভর্তি। তারা হ্যাগ্রিডকে না বলতে পারেনি।

হ্যারির মনে হলো এতদিনে লেখাপড়ায় যতটুকু এগুনো দরকার ছিল ততটুকু সে পারেনি। তার এটাও মনে হলো সেই সম্পর্কে হ্যাগ্রিড অনেক কিছু জানেন কিন্তু তাকে কিছু বলেননি।

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *