গুহাবাসী

গুহাবাসী

-চলে যাবে? সময় হয়েছে বুঝি?
–সময় হয়নি, তাই চলে যাওয়া ভালো
–এসো না এখনো এই গুহার ভিতরে খুঁজি
পড়ে আছে কিনা কোনো স্মৃতিশূন্য আলো
—অথবা দু’জনে চলো বাইরে যাই?
–আমার এ নির্বাসন দণ্ড আজ শেষ হবে?
–ওসব হেঁয়ালি আমি বুঝি না, তোমাকে সবার মধ্যে চাই
–বহুদিন জনোরণ্যে কাটিয়েছি, উৎসবে-পরবে
পিঁপড়ের মতো আমি খুঁটে খুঁটে জমিয়েছি সুখ উপভোগ
একদিন স্বচ্ছ এক হ্রদে অকস্মাৎ দেখি কার দীর্ঘ ছায়া, খুব কাছে
এদিকে ওদিকে চাই, কেউ নেই, তবে কি আমারই মনোরোগ?
বস্তৃত সৃষ্টির মধ্যে কাল-ঋণী ছায়া পড়ে আছে।
অন্ধকারে ছায়া নেই, তাই গুহার আঁধারে
–আমাকে ডেকেছো কেন এই অবেলায়?
–ভেবেছি-হয়তো ভুল, নারীর সুষমা বুঝি পারে,
ভেঙে দিতে সমস্ত বিস্মৃতি, যদি স্পর্শের খেলায়
মুহূর্ত বিমূর্ত হয়, যদি চোখ
–তবে তাই হোক, তবে তাই হোক
ভুল ভাঙা শুরু হতে দেরি করা ঠিক নয়
বিশেষত অন্ধকারে
–অন্ধকারে রক্ত হয়ে ফুটে ওঠে অনেক করবী
শৈশবের সব দুঃখ যো-রকম ফিরে পেতে চাই বারে বারে
তুমিও দুঃখেরই মতো, বড়ো প্রিয়, এই ওষ্ঠ বুক—
ওসব জানি না, দুঃখ কিংবা ছায়াটায়া এখন থাকুক
ভুল ভাঙবার মতো এমন মধুর খেলা আর নেই
গুহার ভিতরে তাই শুরু হোক!