বুখারি হাদিস নং ৫৩৬৭-৫৪০০

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৬৭ | 5367 | ۵۳٦۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৩০. মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ বল, আল্লাহ্‌ স্বীয় বান্দাদিগের জন্য যে সব শোভার বস্তু সৃষ্টি করেছেন তা নিষেধ করেছেন কে? নবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা খাও, পান কর, পরিধান কর এবং দান কর, তবে অপচয় ও অহংকার পরিহার করো। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যা ইচ্ছা খাও, যা ইচ্ছা পরিধান কর, যতক্ষন না দু’টো জিনিস তোমাকে বিভ্রান্ত করে- অপব্যয় ও অহংকার।
৫৩৬৭। ইসমাঈল (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ সে ব্যাক্তির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, যে অহংকারের সাথে তার (পরিধেয়) পোশাক টেনে চলে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৬৮ | 5368 | ۵۳٦۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৩১. যে ব্যক্তি বিনা অহংকারে তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলে
৫৩৬৮। আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) … সালিম তাঁর পিতা (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি অহংকারের সাথে নিজের পোশাক ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ তার প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না কিয়ামতের দিন। তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার লুঙ্গির এক পাশ ঝুলে থাকে যদি আমি তাতে গিরা না দেই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও যারা অহংকার করে এরূপ করে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৬৯ | 5369 | ۵۳٦۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৩১. যে ব্যক্তি বিনা অহংকারে তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলে
৫৩৬৯। মুহাম্মাদ (রহঃ) … আবূ বাকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছিলাম, এমন সময় সূর্যগ্রহন আরম্ভ হয়। তখন তিনি ব্যস্ত হয়ে দাঁড়ালেন এবং কাপড় টেনে টেনে মসজিদে নিয়ে পৌছলেন। লোকজন জমায়েত হল। তিনি দু’ রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। তখন সূর্য উজ্জল হয়ে গেল। এরপর আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন, যখন তোমরা এতে কোন কিছু হতে দেখ, তখন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে দু’আ করতে থাকবে, যতক্ষন না তা উজ্জল হয়ে যায়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৭০ | 5370 | ۵۳۷۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৩২. কাপড়ের মধ্যে জড়িয়ে থাকা
৫৩৭০। ইসহাক (রহঃ) … আবূ জুহায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিলাল (রাঃ) কে দেখলাম, তিনি একটি বর্শা নিয়ে এসেছেন এবং তা মাটিতে পুঁতে দিলেন। তারপর সালাত (নামায/নামাজ)-এর ইকামত দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম, একটি জুব্বার দুটি চাদরের মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে বের হয়ে আসলেন এবং বর্শার দিকে ফিরে দু’ রাকআত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন। আর মানুষ ও পশুকে দেখলাম, তারা তার সামনে দিয়ে এবং বর্শার পিছন দিয়ে গমন করছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৭১ | 5371 | ۵۳۷۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৩. টাখনুর নীচে যা থাকবে তা যাবে জাহান্নামে যাবে
৫৩৭১। আদম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইযারের যে পরিমান টাখনুর নীচে যাবে, সে পরিমান জাহান্নামে যাবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৭২ | 5372 | ۵۳۷۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৪. যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে কাপড় ঝুলিয়ে পরে
৫৩৭২। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ কিয়ামতের দিন সে ব্যাক্তির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না, যে ব্যাক্তি অহংকারবশে ইযার ঝুলিয়ে পরে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৭৩ | 5373 | ۵۳۷۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৪. যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে কাপড় ঝুলিয়ে পরে
৫৩৭৩। আদম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অথবা আবূল কাসিম বলেছেনঃ এক ব্যাক্তি চিত্তাকর্ষক জোড়া কাপড় পরে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে পথ চলছিল; হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেন। কিয়ামত পর্যন্ত সে এভাবে ধ্বসে যেতে থাকবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৭৪ | 5374 | ۵۳۷٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৪. যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে কাপড় ঝুলিয়ে পরে
৫৩৭৪। সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ব্যাক্তি তার লুঙ্গি পায়ের গৌড়ালীর নীচে ঝুলিয়ে পথ চলছিল। এমন সময় তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেওয়া হয়। কিয়ামত পর্যন্ত সে মাটির নীচে ধ্বসে যেতে থাকবে। ইউনুস, যুহরী থেকে এ হাদীস অনুরূপ বর্ণনা করেছেন কিন্তু শুআয়ব একে মারফূ হিসাবে যুহরী থেকে বর্ণনা করেন নি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৭৫ | 5375 | ۵۳۷۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৪. যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে কাপড় ঝুলিয়ে পরে
৫৩৭৫। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … জাবীর ইবনু যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমরের সাথে তার ঘরের দরজায় ছিলাম, তখন তিনি বলেন, আমি আবূ হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অনুরূপ বলতে শুনেছেন।
(পূর্বের হাদিসের অনুরূপ)

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৭৬ | 5376 | ۵۳۷٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৪. যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে কাপড় ঝুলিয়ে পরে
৫৩৭৬। মাতার ইবনু ফাযল (রহঃ) … শুবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মাহারিব ইবনু দিসারের সাথে অশ্ব পৃষ্ঠে থাকা অবস্থায় সাক্ষাত করলাম। তখন তিনি বিচারালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন, আমি তাকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বললেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি অহংকার বশে কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, তার দিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাকাবেন না। আমি বললামঃ আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) কি ইযাবের উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি ইযার বা কামিস কোনটই নির্দিষ্ট করে বলেন নি।

জাবালা ইবনু সুহায়ম, যায়েদ ইবনু আসলাম ও যায়েদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমরের সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন আর লায়স, মূসা ইবনু উকবাও ‘উমর ইবনু মুহাম্মদ নাফি (রহঃ) এর সুত্রে বর্ণনা করেছেন এবং কুদামা ইবনু মূসা সালিম (রহঃ) এর সুত্রে ইবনু উমর (রাঃ) থেকে এবং তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে جَرَّ ثَوْبَهُ বর্ণনা করেছেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৭৭ | 5377 | ۵۳۷۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৫. ঝালরযুক্ত ইযার। যুহরী, আবু বকর ইবন মুহাম্মাদ, হামযা ইবন আবু উসায়দ ও মুয়াবিয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন জা’ফর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা ঝালরযুক্ত পোশাক পরিধান করেছেন
৫৩৭৭। আবূল ইয়ামন (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ববেন, একদা রিফাআ কুরাযির স্ত্রী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলো। এ সময় আমি উপবিষ্ট ছিলাম এবং আবূ বকর (রাঃ) তার কাছে ছিলেন। স্ত্রীলোকটি বললঃ হে আল্লার রাসূল! আমি রিফাআর অধীনে (বিবাহ বন্ধনে) ছিলাম। তিনি আমাকে তালাক দেন এবং তালাক চুড়ান্তভাবে (তিন তালাক) দেন এরপর আমি আব্দুর রহমান ইবনু যুবায়েরকে বিবাহ করি কিন্তু আল্লাহর কসম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তার সাথে কাপড়ের ঝালরের ন্যায় ছাড়া কিছুই নেই। এ কথা বলার সময় স্ত্রীলোকটি তার চাদরের আচল ধরে দেখায়।

খালিদ ইবনু সাইদ যাকে (ভিতরে যাওয়ার) অনুমতি দেওয়া হয় নাই, দরজার কাছে থেকে স্ত্রীলোকটির কথা শুনেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন খালিদ বললঃ হে আবূ বকুর! এ মহিলাটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে জোরে জোরে সে কথা বলছে, তা শুনে কেন আপনি তাকে বাঁধা দিচ্ছেন না? আল্লাহর কসম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীলোকটিকে বললেনঃ মনে হয় তুমি রিফাআর কাছে ফিরে যেতে যাও। তা হয় না, সে তোমার মধু আস্বাদন করবে এবং তুমি তার মধু আস্বাদন করবে। পরবর্তী সময় থেকে এটা বিধানে পরিনত হয়ে যায়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৭৮ | 5378 | ۵۳۷۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৬. চাদর পরিধান করা। আনাস (রাঃ) বলেনঃ এক বেদুঈন নবী (সাঃ) এর চাদর টেনে ধরেছেন
৫৩৭৮। আবদান (রহঃ) … হুসায়ন ইবনু আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাঁদর আনতে বললেন। তিনি তা পরিধান করেন, এরপর হেঁটে চললেন। আমি ও যায়েদ ইবনু হারিসা তার পিছনে চললাম। শেষে তিনি একটি ঘরের কাছে আসেন, যে ঘরে হামযা (রাঃ) ছিলেন। তিনি অনুমতি চাইলেন তারা তাদের অনুমতি দিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৭৯ | 5379 | ۵۳۷۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৭. জামা পরিধান করা। মহান আল্লাহর বানীঃ ইউসুফ (আঃ) এর ঘটনাঃ তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও আর তা আমার পিতার মুখমন্ডলে রাখ, তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন
৫৩৭৯। কুতায়বা (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! মুহরিম ব্যাক্তি কি কাপড় পরিধান করবে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুহরিম জামা, পায়জামা, টুপি এবং মোজা পরবে না। তবে যদি সে জুতা সংগ্রহ করতে না পারে তা হবে টাখনুর নীচে পর্যন্ত (মোজা) পরতে পারবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮০ | 5380 | ۵۳۸۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৭. জামা পরিধান করা। মহান আল্লাহর বানীঃ ইউসুফ (আঃ) এর ঘটনাঃ তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও আর তা আমার পিতার মুখমন্ডলে রাখ, তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন
৫৩৮০। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উবাইকে কবরে রাখার পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে এলেন। তার লাশ কবর থেকে উঠাবার নির্দেশ দিলেন। তখন লাশ কবর থেকে উঠান হল এবং তার দু’ হাটুর উপর রাখা হলো। তিনি তার উপর থুথু দিলেন এবং তাকে নিজের জামা পরিয়ে দিলেন। আল্লাহই ভাল জানেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮১ | 5381 | ۵۳۸۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৭. জামা পরিধান করা। মহান আল্লাহর বানীঃ ইউসুফ (আঃ) এর ঘটনাঃ তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও আর তা আমার পিতার মুখমন্ডলে রাখ, তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন
৫৩৮১। সাদাকা (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা যায়, তখন তার ছেলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসে। সে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার জামাটি আমাকে দিন। আমি এ দিয়ে তাকে করর দিব। আর তার জানালার সালাত (নামায/নামাজ) আপনি আদায় করবেন এবং তার জন্য ইস্তিগফার করবেন। তিনি নিজের জামাটি তাকে দিয়ে দেন এবং বলেন যে, তুমি (কাফন পরানোর কাজ) সেরে ফেলে আমাকে সংবাদ দিবে। তারপর তিনি (কাফন পরানোর কাজ সেরে তাকে সংবাদ দিলেন) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে এলেন।

উমর (রাঃ) তাকে টেনে ধরে বললেনঃ আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের (জানাযার) সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি এ আয়াতটি পড়লেনঃ তুমি ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর একই কথা। তুমি সত্তরবার ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ ওদের কখনই ক্ষমা করবেন না তখন নাযিল হয়ঃ ওদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও ওদের জন্য জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করবে না। এরপর থেকে তাদের জানাযার সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা বর্জন করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮২ | 5382 | ۵۳۸۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৮. মাথা বের করার জন্য জামা ও অন্য পোশাকের বুকের অংশ ফাক রাখা
৫৩৮২। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কৃপণ ও দানশীল ব্যাক্তিকে এমন দু’ ব্যাক্তির সাথে তুলনা করেন যাদের পরিধানে লোহার দুটি বর্ম আছে। তাদের দুটি হাতই বুক ও ঘাড় পর্যন্ত পৌছে আছে। দানশীল ব্যাক্তি যখন দান করে তখন তার বর্মটি এমন ভাবে প্রশস্ত হয় যে তার পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এবং (শরীরের চেয়ে লম্বা হওয়ার জন্য চলার সময়) পদ চিহৃ মুছে ফেলে। আর কৃপণ লোকটি যখন দান করতে ইচ্ছে করে তখন তার বর্মটি শক্ত হয়ে যায় ও এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিলে থাকে এবং প্রতিটি অংশ স্ব-স্ব স্থানে থেকে যায়।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমি দেখলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আঙ্গুল এভাবে বুকের দিক দিয়ে খোলা অংশের মধ্যে রেখে বলতে দেখেছি। তুমি যদি তা দেখতে তাহলে দেখতে) যে তিনি তা প্রশস্ত করতে চাইলেন কিন্ত তা প্রশস্ত হল না। ইবনু তাউস তার পিতা থেকে এবং আবূ যিনাদ, আরাজ থেকে অনুরূপ ভাবে جُبَّتَيْنِ বর্ণনা করেন। আর জাফর আরাজ এর সূত্রে جُبَّتَانِ বর্ণনা করেছেন। হানযালা (রহঃ) বলেনঃ আমি তাউসকে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে جُبَّتَانِ বলতে শুনেছি।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮৩ | 5383 | ۵۳۸۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৩৯. যিনি সফরে সংকীর্ণ আস্তিন বিশিষ্ট জোব্বা পরিধান করেন
৫৩৮৩। কায়স ইবনু হাফস (রহঃ) … মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন (তাবুক যুদ্ধের সময়) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে যান এবং তারপর ফিরে আসেন। আমি তার নিকট পানি নিয়ে পৌছি। তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেন। তখন তার পরিধানে শাম দেশীয় (সিরিয়ার) জোব্বা ছিল। তিনি কুলী করেন, নাক পরিষ্কার করেন এবং তার মুখমন্ডল ধৌত করেন। এরপর তিনি আস্তিন থেকে দু’ হাত বের করতে থাকেন, কিন্তু আস্তিন দুটি ছিল সংকীর্ণ, তাই তিনি হাত দু’খানি জামার নীচ দিয়ে বের করে উভয় হাত ধৌত করেন। এরপর মাথা মাসেহ করেন এবং মোজার উপর মাসেহ করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮৪ | 5384 | ۵۳۸٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৪০. যুদ্ধের সময় পশমী জামা পরিধান করা
৫৩৮৪। আবূ নুআইম (রহঃ) … মুগীরা ইবনু শু’বা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমি (তাবুক) সফরে এক রাত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার সাথে পানি আছে কি? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বাহন থেকে নামলেন এবং হেঁটে যেতে লাগলেন। তিনি এতদূর গেলেন যে, রাতের আধারে আমার থেকে অদৃশ্য হবে পড়লেন। তারপর তিনি ফিরে এলেন। আমি পাত্র থেকে তার (উযূ (ওজু/অজু/অযু)র) পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি মুখমণ্ডল ও দু’হাত ধৌত করলেন। তার পরিধানে ছিল পশমের জামা। তিনি তা থেকে হাত বের করতে পারলেন না, তাই জামার নীচ দিয়ে বের করলেন এবং দু’হাত ধৌত করলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজা দুটি খুলতে ইচ্ছা করলাম। তিনি বললেনঃ ছেড়ে দাও। কেননা, আমি পবিত্র অবস্থায় তা পরিধান করেছি। তারপর তিনি মোজাদ্বয়ের উপর মাসেহ করেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮৫ | 5385 | ۵۳۸۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৪১. কাবা ও রেশমী ফাররূজ, আর তাকেও এক প্রকার কাবাই বলা হয়, যে জামার পিচনের দিকে ফাঁক থাকে
৫৩৮৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকটি কাবা বণ্টন করেন, কিন্তু মাখরামাকে কিছুই দিলেন না। মাখরামা বললোঃ হে আমার প্রিয় পুত্র চল আমার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে। আমি তার সঙ্গে গেলাম। তিনি বললেনঃ ভিতরে যাও এবং আমার জন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আবেদন জানাও। মিসওয়ার বলেনঃ আমি তার (পিতার) জন্য আবেদন করলে তিনি মাখরামার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসেন। তখন তার পরিধানে রেশমী কাবা ছিল। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটি আমি গোপন করে রেখেছিলাম। মিসওয়ার বলেন এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং বললেন মাখরামা এবার রাযী (খুশী) আছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮৬ | 5386 | ۵۳۸٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৪১. কাবা ও রেশমী ফাররূজ, আর তাকেও এক প্রকার কাবাই বলা হয়, যে জামার পিচনের দিকে ফাঁক থাকে
৫৩৮৬। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি রেশমী কাবা হাদিয়া দেওয়া হয়। তিনি তা পরিধান করেন এবং তা পরে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করেন। সালাত (নামায/নামাজ) শেষে তিনি তা খুব জোরে টেনে খুলে ফেললেন, যেন এটি তিনি অপছন্দ করছেন। এরপর বললেন মুত্তাকীদের জন্য এটা শোভনীয় নয়। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ, লায়স থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অন্যেরা বলেছেন ‘ফাররুজ হারীর’ হলো রেশমী কাপড়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮৭ | 5387 | ۵۳۸۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৪২. টুপি। মুসাদ্দাদ (র) আমাকে বলেছেন যে, মু‘তামার বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি আনাস (রাঃ) এর (মাথার) উপর হলুদ রেশমী টুপি দেখেছেন।
৫৩৮৭। ইসমাঈল (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যাক্তি বললোঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! মুহরিম লোক কি কি পোশাক পরবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা (ইহরাম অবস্থায়) জামা, পাগড়ী, পা-জামা। টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যে ব্যাক্তির জুতা নেই, সে কেবল মোজা পরতে পারবে কিন্তু উভয় মোজা টাখনুর নীচ থেকে কেটে ফেলবে। আর যা’ফরান ও ওয়ারস রং যাতে লেগেছে, এমন কাপড় পরবে না।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮৮ | 5388 | ۵۳۸۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৩. পায়জামা
৫৩৮৮। আবূ নুআয়ম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোকের ইযার (লুঙ্গি) নেই, সে যেন পায়জামা; আর যার জুতা নেই। সে যেন মোজা পরে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৮৯ | 5389 | ۵۳۸۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৩. পায়জামা
৫৩৮৯। মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাকি, তখন কি পোশাক পরার জন্য আমাদের নির্দেশ দেন? তিনি বললেনঃ (তখন তোমরা জামা, পায়জামা, পাগড়ী টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যার জুতা নেই সে টাখনুর নীচ পর্যন্ত মোজা পরবে। আর তোমরা সে ধরনের কোন কাপড়ই পরবে না যাতে যাফরান বা ওয়ারস রং লাগান হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৯০ | 5390 | ۵۳۹۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৪. পাগড়ী
৫৩৯০। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … সালিমের পিতা (আবদুল্লাহ ইবনু উমর) (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুহরিম ব্যাক্তি জামা পাগড়ী, পায়জামা ও টুপি পরতে পরবে না। যাফরান ও ওয়ারস দ্বারা রং করা কাপড়ও নয় এবং মোজাও নয়। তবে সে ব্যাক্তির জন্য (এ নিষেধ) নয়, যার জুতা নেই। যদি সে জুতা না পায় তাহলে উভয় মোজার টাখনুর নীচে থেকে কেটে নেবে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৯১ | 5391 | ۵۳۹۱

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৫. চাদর বা অন্য কিছু দ্বারা মাথা ও মুখের অধিকাংশ অঙ্গ ঢেকে রাখা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, নাবী (সাঃ) একদা বাইরে আসলেন, তখন তাঁর (মাথার) উপর রুমাল ছিল । আনাস (রাঃ) নাবী (সাঃ) নিজ মাথা চাদরের এক পাশ দ্বারা বেঁধে রেখেছিলেন ।
৫৩৯১। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক মুসলিম হাবশায় হিজরত করেন। এ সময় আবূ বকর (রাঃ) হিজরত করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি গ্রহন করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি একটু অপেক্ষা কর; কেননা, মনে হয় আমাকেও (হিজরতের) আদেশ দেওয়া হবে। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক আপনিও কি এ আশা পোষন করেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আবূ বকর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গ লাভের আশায় নিজেকে সংবরন করে রাখেন এবং তার মালিকানাধীন দুটি সাওয়ারীকে চার মাস যাবত সামূর বৃক্ষের পাতা ভাক্ষন করান।

উরওয়া (রহঃ) বর্ণনা করেন, আয়িশা বলেছেন যে, একদিন ঠিক দুপরের সময় আমরা আমাদের ঘরে আসে। এ সময় এক ব্যাক্তি আবূ বকর (রাঃ) কে বলল, এই যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখমণ্ডল ঢেকে এগিয়ে আসছেন। এমন সময় তিনি এসেছেন, যে সময় তিনি সাধারণত আমাদের কাছে আসেন না। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আমার মা-বাপ তার উপর কুরবান হোক, আল্লাহর কসম! এমন সময় তিনি একটি বড় কাজ নিয়েই এসে থাকবেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পড়লেন। তিনি অনুমতি চাইলেন তাকে অনুমতি দেওয়া হলো। তিনি প্রবেশ করলেন। প্রবেশের সময় আবূ বকর (রাঃ) কে বললেনঃ তোমার কাছে যারা আছে তাদের সরিয়ে দাও। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক ইয়া রাসুলাল্লাহ! এরা তো আপনারই পরিবারের লোক।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকে হিজরতের অনূমিত দেওয়া হয়েছে। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ তাহলে আমি কি আপনার সঙ্গী হবো ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমার এদুটি সাওয়ারীর একটি গ্রহণ করুন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুল্যের বিনিময়ে (নিতে রাযী আছি) আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ তাঁদের উভয়ের জন্য সফরের আসবাবপত্র প্রস্তুত করলাম এবং সফরকালের নাস্তা তৈরী করে একটি চামড়ার থলের মধ্যে রাখলাম।

আবূ বকর (রাঃ)-এর কন্যা আসমা তার উড়নার এক অংশ ছিড়ে থলের মুখ বেঁধে দিল। এ কারণে তাকে যাতুন নিতাক (উড়না ওয়ালী) নামে ডাকা হাতা। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বকর (রাঃ) সাওর নামক পর্বত গুহায় পৌছেন। তথায় তিন রাত অতিবাহিত করেন। আবূ বকর (রাঃ) এর পুত্র আবদুল্লাহ তাদের সঙ্গে রাত্রি যাপন করতেন। তিনি ছিলেন সুচতুর বুদ্ধিমান যুবক। তিনি তাদের কাছ থেকে রাতের শেষ ভাগে চলে আসতেন এবং ভোর বেলা কুরাইশদের সাথে মিশে যেতেন, যেন তাদের মধ্যেই তিনি রাত্রি যাপন করেছেন। তিনি কারও থেকে ষড়যস্ত্র মূলক কোন কিছু শুনলে তা মনে রাখতেন এবং রাতের আধার ছড়িয়ে পড়লে দিনের সব খবর নিয়ে তিনি তাদের দু’জনের কাছে পৌছে দিতেন।

আবূ বকর (রাঃ) এর দাস আমির ইবনু ফুহায়রা তাদের আশপাশে দুধওয়ালা বকরী চরিয়ে বেড়াতেন! রাতের এক ঘণ্টা অতিবাহিত হলে সে তাদের নিকট ছাগল নিয়ে যেত (দুধ পান করাবার জনো)। তারা দুজনে (আমি ও আবদুল্লাহ) সে গুহায়ই রাত কাটাতেন। ভোরে অন্ধকার থাকতেই আমির ইবনু ফুহায়রা ছাগল নিয়ে চলে আসতেন। ঐ তিন রাতের প্রতি রাতেই তিনি এরূপ করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৯২ | 5392 | ۵۳۹۲

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৬. লৌহ শিরস্ত্রাণ
৫৩৯২। আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তার মাথার সেই লৌহ শিরস্রাণ ছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৯৩ | 5393 | ۵۳۹۳

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৭. ডোরাওয়ালা চাদর, কারুকার্যময় ইয়ামনী চাদর ও চাদরের আঁচলের বিবরণ। খাব্বাব (রাঃ) বলেন, আমরা নাবী (সাঃ) এর নিকট অভিযোগ করেছিলাম, তখন তিনি ডোরাওয়ালা চাদরে হেলান দিয়ে বসেছিলেন
৫৩৯৩। ইসমাঈল ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে চলছিলাম। এ সময় তার পরিধানে চওড়া পাড় বিশিষ্ট একটি নাজরানী ডোরাদার চাঁদর ছিল। একজন বেদুইন তার কাছে এলো। সে তার চাদর ধরে খুব জোরে টান দিল। এমন কি আমি দেখতে পেলাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ পড়ে গেছে। তারপর সে বললঃ হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট আল্লাহ্‌র যে সম্পদ আছে তা থেকে আমাকে কিছু দিতে বলুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে ফিরে তাকিয়ে হাসলেন এবং তাকে কিছু দান করার নির্দেশ দিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৯৪ | 5394 | ۵۳۹٤

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৭. ডোরাওয়ালা চাদর, কারুকার্যময় ইয়ামনী চাদর ও চাদরের আঁচলের বিবরণ। খাব্বাব (রাঃ) বলেন, আমরা নাবী (সাঃ) এর নিকট অভিযোগ করেছিলাম, তখন তিনি ডোরাওয়ালা চাদরে হেলান দিয়ে বসেছিলেন
৫৩৯৪। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন স্ত্রী লোক একটি বুরদা নিয়ে এলো। সাহল (রাঃ) বললেনঃ তোমরা জানো বুরদা কী? একজন উত্তর দিল হ্যাঁ, বুরদা হলো এমন চাঁদর যার পাড় কারুকার্যময়। স্ত্রী লোকটি বললোঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ আমি এটি আমার নিজের হাতে বুনেছি আপনাকে পরিধান করাবার জন্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহন করলেন। তখন তার এর প্রয়োজনও ছিল। এরপর তিনি আমাদের কাছে বেরিয়ে আসলেন। তখন সে চাদরটি ইযার হিসেবে তাঁর পরিধানে ছিল। দলের এক ব্যাক্তি হাত দিয়ে চাঁদরটি স্পর্শ করল এবং বললঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে এটি পরতে দিন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে বসলেন, যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছে ছিলো, তারপরে উঠে গেলেন এবং চাঁদরটি ভাজ করে এ ব্যাক্তির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। উপস্থিত লোকেরা বললোঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এটি চেয়ে তুমি ভাল করনি। তুমি তো জানো যে, কোন প্রার্থীকে তিনি ব্যথিত করেন না। লোকটি বললোঃ আল্লাহর কসম! আমি কেবল এজন্যই চেয়েছি যে, যেদিন আমার মৃত্যু হবে, সে দিন যেন এ চাদরটি আমার কাফন হয়। সাহল (রাঃ) বলেনঃ এটি তার কাফনই হয়েছিল।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৯৫ | 5395 | ۵۳۹۵

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৭. ডোরাওয়ালা চাদর, কারুকার্যময় ইয়ামনী চাদর ও চাদরের আঁচলের বিবরণ। খাব্বাব (রাঃ) বলেন, আমরা নাবী (সাঃ) এর নিকট অভিযোগ করেছিলাম, তখন তিনি ডোরাওয়ালা চাদরে হেলান দিয়ে বসেছিলেন
৫৩৯৫। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাযারের একটি দল (বিনা হিসাবে) জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন তাদের মুখমণ্ডল চাঁদের ন্যায় হবে। উককাশা ইবনু মিহসান তার পরিহিত রঙ্গিন ডোরাযুক্ত চাদর উপরে তুলে ধরে বলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর নিকট আমার জন্য দু আ করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি দু আ করলেনঃ ইয়া আল্লাহ! একে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তারপর আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যাক্তি দাড়িয়ে বললঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ উককাশা তোমার অগ্রবর্তী হয়েছে।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৯৬ | 5396 | ۵۳۹٦

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৭. ডোরাওয়ালা চাদর, কারুকার্যময় ইয়ামনী চাদর ও চাদরের আঁচলের বিবরণ। খাব্বাব (রাঃ) বলেন, আমরা নাবী (সাঃ) এর নিকট অভিযোগ করেছিলাম, তখন তিনি ডোরাওয়ালা চাদরে হেলান দিয়ে বসেছিলেন
৫৩৯৬। আমর ইবনু আসিম (রহঃ) … কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ কোন জাতীয় কাপড় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বেশী প্রিয় ছিল? তিনি বললেনঃ হিবারা-ইয়ামনী চাদর।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৯৭ | 5397 | ۵۳۹۷

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৭. ডোরাওয়ালা চাদর, কারুকার্যময় ইয়ামনী চাদর ও চাদরের আঁচলের বিবরণ। খাব্বাব (রাঃ) বলেন, আমরা নাবী (সাঃ) এর নিকট অভিযোগ করেছিলাম, তখন তিনি ডোরাওয়ালা চাদরে হেলান দিয়ে বসেছিলেন
৫৩৯৭। আবদুল্লাহ ইবনু আবূল আসওয়াদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিবারা ইয়ামনী চাঁদর পরিধান করতে বেশী পছন্দ করতেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৯৮ | 5398 | ۵۳۹۸

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৭. ডোরাওয়ালা চাদর, কারুকার্যময় ইয়ামনী চাদর ও চাদরের আঁচলের বিবরণ। খাব্বাব (রাঃ) বলেন, আমরা নাবী (সাঃ) এর নিকট অভিযোগ করেছিলাম, তখন তিনি ডোরাওয়ালা চাদরে হেলান দিয়ে বসেছিলেন
৫৩৯৮। আবূল ইয়ামান (রহঃ) … নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পত্নী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন তখন ইয়ামনী চাঁদর দ্বারা তাঁকে ঢেকে রাখা হয়।

হাদিস নম্বরঃ ৫৩৯৯ | 5399 | ۵۳۹۹

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৮. কম্বল ও কারুকার্যপূর্ণ চাদর পরিধান করা
৫৩৯৯। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আয়িশা ও আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত তখন তিনি তার কারুকার্যময় চাঁদর দ্বারা মুখমণ্ডল ঢেকে রাখেন। যখন তার শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসতো তখন তার মুখ থেকে সরিয়ে নিতেন। এমতাবস্থায় তিনি বলতেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নাবীদের কবরসমূহকে মসজিদ বানিয়েছে। তাদের কর্মের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করছিলেন।

হাদিস নম্বরঃ ৫৪০০ | 5400 | ۵٤۰۰

পরিচ্ছদঃ ২৩৪৮. কম্বল ও কারুকার্যপূর্ণ চাদর পরিধান করা
৫৪০০। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ বুরদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আয়িশা (রাঃ) একবার একথানি কম্বল ও মোটা ইযার নিয়ে আমাদের কাছে আসেন এবং তিনি বললেনঃ এ দুটি পরিহিত অবস্থায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রুহ করয করা হয়।

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *