ঋগ্বেদ ০৮।০২৬

ঋগ্বেদ ০৮।০২৬
ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ৮ম মণ্ডল সূক্ত ২৬
অশ্বিদ্বয় দেবতা; কেবল ২০ হইতে পাঁচটি ঋকের বায়ু দেবতা। অঙ্গিরাগোত্রোৎপন্ন ব্যশ্বের পুত্র বৈরশ্ব, অথবা বিশ্বমনা ঋষি।

১। হে অভিলাষপ্রদ, বর্ষণশীল, ধনবিশিষ্ট অশ্বিদ্বয়! তোমাদের বল কেহ হিংসা করিতে পারে না, স্তোতাগণের মধ্যে তোমাদের একত্র শীঘ্র গমনার্থ রথ আহ্বান করিতেছি।

২। হে নাসত্য অভিলাষপ্রদ, ধনবিশিষ্ট অশ্বিদ্বয়! তোমরা সুষামরাজার উদ্দেশে মহাধন দানার্থ যেরূপ আসিতে, সেইরূপ রক্ষার সহিত আগমন কর। হে বরুণ! তুমি এই কথা বল।

৩। হে অন্নযুক্ত, ধনবান, বহু অভিলাষী অশ্বিদ্বয়! অদ্য রাত্রি প্রভাত হইলে, আমরা তোমাদিগকে হব্যদ্বারা আহ্বান করিব।

৪। হে নেতা অশ্বিদ্বয়! সর্বাপেক্ষা বহনশীল তোমাদের প্রসিদ্ধ রথ আগমন করুক, তোমরা শীঘ্র স্তুতিকারীকে ঐশ্বর্য্য প্রদানার্থ তাঁহার স্তোম সকল দর্শন কর।

৫। হে অভিলাষপ্রদ, ধনবিশিষ্ট অশ্বিদ্বয়! কুটিল কৰ্ম্মকারী শত্ৰুগণ সম্মুখে আছে জানিও, তোমরা রুদ্র, তোমরা দ্বেষকারী শত্রুগণকে ক্লেশ প্রদান কর।

৬। হে সকলের দর্শনীয় যজ্ঞসম্পাদক, উন্মাদকর কান্তিবিশিষ্ট জলপতি অশ্বিদ্বয়! তোমরা শীঘ্রগামী রথে অনবরত সমস্ত যজ্ঞাভিমুখে আগমন কর।

৭। হে অশ্বিদ্বয়! বিশ্বপোষক ধনের সহিত আমাদের যজ্ঞে আগমন কর, তোমরা মঘবা, সুবীর এবং অপরাভবণীয়।

৮। হে ইন্দ্র ও নাসত্যদ্বয়! তোমরা সেব্যমান হইয়া আমার যজ্ঞে অদ্য দেবগণের সহিত আগমন কর।

৯। আপনাদিগের জন্য ধনদান লাভ করিতে ইচ্ছা করিয়া আমরা ব্যশ্বের ন্যায় তোমাদিগকে আহ্বান করিতেছি। হে মেধাবিদ্বয়! অনুগ্রহ করিয়া এইখানে আগমন কর।

১০। হে ঋষি! অশ্বিদ্বয়কে স্তব কর, তোমার আহ্বান বহুবার শ্রবণ করতঃ অশ্বিদ্বয় যেন নিকটবৰ্ত্তী শত্ৰুগণকে এবং পণিগণকে হিংসা করেন।

১১। হে নেতাদ্বয়! বৈয়শ্বের আহ্বান শ্রবণ কর, আমার আহ্বান অবগত হও। বরুণ, মিত্র ও অর্য্যমা সর্বদা মিলিত।

১২। হে স্তুতিযোগ্য, অভিলাষপ্রদ অশ্বিদ্বয়! তোমরা স্তোতৃগণকে যাহা প্রদান কর ও উহাদের জন্য যাহা আনয়ন কর, তাহা প্রত্যহ আমাকে প্রদান।

১৩। বধূ যেমন বস্ত্ৰে আবৃতা(১), সেইরূপ যে ব্যক্তি যজ্ঞদ্বারা আবৃত হয়, তাহার পরিচর্য্যা করতঃ অশ্বিদ্বয় তাহার মঙ্গল করেন।

১৪। হে অশ্বিদ্বয়! আমি অত্যন্ত ব্যাপ্ত ও নেতাগণের পানযোগ্য সোম দান করিতে জানি। আমাকে লাভ করিতে ইচ্ছা করিয়া তোমরা আমার গৃহে আগমন কর।

১৫। হে অভিলাষপ্রদ, ধনযুক্ত অশ্বিদ্বয়! নেতাগণের পানযোগ্য সোমের উদ্দেশে আমাদের গৃহে আগমন কর, তোমরা স্তুতি বাক্যদ্বারা সৰ্ব্বদ্রোহী শর যেমন সেইরূপ যজ্ঞ সমাপ্তি করিয়া দাও।

১৬। হে সকলের নেতা অশ্বিদ্বয়! স্তোত্রসমূহের মধ্যে স্তোম তোমাদিগের নিকট গমন করত তোমাদিগকে আহ্বান করুক ও তোমাদের প্রীতিকর হউক।

১৭। হে অশ্বিদ্বয়! যদি স্বৰ্গে, বা এই অর্ণবে প্রমত্ত হও, যদি বা তোমাদের প্রতি অভিলাষবান যজমানের গৃহে প্রমত্ত হও, তাঁহা হইলে হে অমরদ্বয়! আমাদের এই স্তোত্র শ্রবণ কর।

১৮। নদীগণের মধ্যে শ্বেতয়াবরী নামে(২) সুবৰ্ণ পথবিশিষ্ট সিন্ধু স্তুতিদ্বারা অধিক পরিমাণে তোমার নিকট গমন করে।

১৯। হে সুন্দর গমনবিশিষ্ট অশ্বিদ্বয়! সুন্দর কীৰ্ত্তিবিশিষ্ট এবং শ্বেতবর্ণা ও পুষ্টিকরী শ্বেতরাবরী নদীকে প্রবাহিত কর।

২০। হে বায়ু! তুমি রথ বহনসমর্থ অশ্বদ্বয়কে যোজিত কর। হে বাসপ্রদ! পোষণীয় অশ্বদ্বয়কে যজ্ঞে মিশ্রিত কর। হে বায়ু পরে আমাদের মদকর সোম পান কর এবং সবনত্রয়ে আগমন কর।

২১। হে যজ্ঞপতি, ত্বষ্টার জামাতা অদ্ভুত বায়ু! তোমার পালন যেন লাভ করিতে পারি।

২২। আমরা ত্বষ্টার জামাতা সমর্থ বায়ুর নিকট ধন যাচঞা করি, সোম অভিষব করত মনুষ্যগণ ধনবান হয়।

২৩। হে বায়ু তুমি স্বর্গের মঙ্গল লইয়া যাও, তুমি অশ্ববিশিষ্ট রথ চালাও, তুমি মহান, বিস্তীর্ণ পার্শ্বদ্বয়যুক্ত অশ্বকে আপন রথে যোজিত কর।

২৪। হে বায়ু! তুমি অত্যন্ত সুন্দর রূপাবশিষ্ট, তোমার সর্বাঙ্গ মহিমায় ব্যাপ্ত, যজমানের গৃহে তোমাকে সোমাভিষব প্রস্তরের ন্যায় আহ্বান করিতেছি।

২৫। হে বায়ুদেব! তুমি দেবগণের মধ্যে প্রধান, তুমি মনে মনে হৃষ্ট হইয়া আমাদের অন্ন জল ও কর্ম প্রদান কর।

———-

(১) লজ্জাশীলা বধূ বস্ত্রদ্বারা শরীর আবৃত করিতেন।

(২) বিশ্বমনা ঋষি শ্বেতায়বরী নদীর তীরে যজ্ঞ করিয়াছিলেন। সায়ণ।