১৭. মধ্য জীবনের সঙ্কট, ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে

১৭. মধ্য জীবনের সঙ্কট, ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে

১. নিজের সমস্যা অন্যকে বলতে না পারলে কি প্রাণ জুড়োয়! আমরা ফুলের কোমল পাপড়ি। চাই গন্ধ বিলাতে। নিজেদের সমস্যা সবসময় নিজের থাকে না। সঁইসাঁই সীমানা অতিক্রম করে ওরা পৌঁছায় অন্যের সীমানায়। নাগরিক বিশ্বাস ও সংস্কার, সমস্যা ছাড়িয়ে যায় সবরকম সামাজিক বাধ্যবাধকতা। রুচি। আমরা সামাজিক প্রাণী। মানুষকে ঘিরে সৃষ্ট হয় সমাজ আর সভ্যতা। আর মানুষের জন্যে, মানুষকে দিয়ে এবং তার শত্রুও মানুষ। মানুষ একে অপরকে মানিয়ে নিতে পারে না। আবার ছাড়া, চলতেও পারে না। সুখে দুঃখে মন্দে ভালোয় দুধে ভাতে আমাদের একে অন্যের প্রয়োজন হয়। দুটো কথা বলার জন্যে কাউকে চাই। শ্বাসের গন্ধ পেতে-চাই। জানাতে বেঁচে আছি, আমি একা নই। নিঃসঙ্গও নই। আমাদের মানুষ চাই। সে অর্থে নিঃসঙ্গ সন্ন্যাসী, বা নির্ঘাত ব্রহ্মচারী–ওরা মৃত। ওরা নিশ্চিত জীবন্ত। ওরা শ্মশানাচারে অভ্যস্ত। আর আমরা গৃহী। কথায় বলে জীবনটাই ক্রাইসিস। বয়স যত এগিয়ে যায়, সমস্যা তত বড় হয়। আর সবরকমের সমস্যা মানুষকে চারিদিক থেকে ঘিরে ধরতে থাকে। তার কারণ আমরা সামাজিক প্রাণী। সমাজে বাঁচতে হলে সমাজের নিয়ম পালন করতে হয়। এবং এই নিয়মের মধ্যে লুকিয়ে থাকে বাধা-ধরা প্রচুর সমস্যা। ক’জন মানুষ আর সন্ন্যাসীর ধর্মাচারের সৌভাগ্যে মহিমান্বিত হতে পারে যেখানে গৃহ নেই! আমাদের পরিচয় ঘটে তথাকথিত সংসারের সঙ্গে। জন্ম-মৃত্যুর মতো সত্যের সঙ্গে। এখানে ছে দাম্পত্য সন্তান সমাজ কতকিছু! এক সময় সঘন আনন্দ। কখনো দুঃখের সাইক্লোন। তবে সুখের চেয়ে দুঃখই অধিক অনুভূত হয় তার কারণ সংসার করতে করতে যেতে হয় বহু বিরহ বিচ্ছেদ রোগ শোক মৃত্যু দারিদ্র্য অপূর্ণতার মধ্য দিয়ে। সুতরাং সুখ যদিও আসে বা, সে এলেও তা তাৎক্ষণিক। এবং তা যৎসামান্য সময়ের জন্যে। সুখ যেন পাখির মতো ডালে বসতে না বসতে উসখুস্। আপন ডানা মেলে ফুরুৎ। উড়াল আর দুঃখ যেন বিষময় ভারি পাথর অনড়, অটল। বিবাহের কথাই ধরা যাক। এই ঐশ্বর্য মানবজীবনের একটি দারুণ যাচিত সুখের সময়। অথচ বিবাহের উল্লাসটা কত ক্ষীণ! কি ভীষণ সামাজিক! দু’দশ দিনের উৎসব। বছর না যেতেই দায়িত্ব কর্তব্য সংসারের চাপ এসে ঘাড়ে চাপে যখন, শুরু হয় মা মাসিদের পুরোনো অভিযোগ, কলহ। দাম্পত্যে, বাস্তবের অত্যাচারে সুখ গিয়ে ওঠে মাচায় মগডালে। তবে বিবাহ না করে শুধু প্রেমের মধ্যে যদি সম্পর্কটা সীমাবদ্ধ থাকে, তবে সমস্যা নেই। সমস্যা নেই কারণ শুধু প্রেমের সম্পর্ক হলে তাতে দায়িত্ব নেই। এত লুকোছাপি এত সতর্কতা আর ভয়! আর এতসব সঙ্কট বুকে পুষে, বাহ্যিক উল্লাস এবং স্বেচ্ছায় এই দুঃখ ধারণ।

মানুষের সমস্যাগুলো কোনওরকমেই অন্তত দশ হাজার রকমের কম নয়। তার মধ্যে মৃত্যু, রোগ-শোক, দারিদ্র্য, বিচ্ছেদ ইত্যাদি প্রাচীন ও পরিচিত সমস্যা। এবং প্রতিটি সংসারেই এদের অবশ্যম্ভাবী আনাগোনা থাকে। এসব সমস্যায় মানুষ মানুষের জন্যে এগিয়ে আসে। এসব সমস্যায় মুখ ফুটে বলা যায়। চিৎকার করে কাদাও যায়। তবে যে কথা বলা যায় না বা বলা সহজও নয় তাহলে মানুষের ব্যক্তিগত বা একান্ত জীবনের সঙ্কট, যা লজ্জার। যা হলো গিয়ে আসল সমস্যা। এর সবটুকু লিঙ্গজনিত। মধ্যরাতের সঙ্কট। হৃদয় ও অনুভূতিসমেত যা রচিত হতে পারে নারী ও পুরুষের মিলনে, শয্যায়। দোহের একান্ত যৌনজীবন। তার দেবতা। তার মনমানসিকতা। যেখানে শুধু দু’জন নারী-পুরুষই জানে তাদের ব্যর্থতা কিংবা সার্থকতার সংবাদ। কিন্তু তার কাঙ্ক্ষিত স্বর্গেও কখনো কখনো দেখা দেয় অমোঘ সঙ্কট। নৃশংসতা। বিজলীর যৌনজীবনের তাপিত সমস্যা। সর্বনাশের চাষাবাদ। এবং এই সমস্যাগুলোই পরবর্তীকালে ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অসুস্থতার মূল হয়ে দাঁড়ায়। দুঃসংবাদ যে, আজও পর্যন্ত সতীদাহ–মানসিকতার সমাজে যৌন সমস্যা নিয়ে কথা বলা অশ্লীল। কাম, রতি, লিঙ্গ, যৌনতা বিষয়ক এসব সমস্যাগুলো যদিও মানুষের জীবনের অঙ্গ, কিন্তু ভুক্তভোগীরা এ সমস্যাগুলো বুকেই পুষে থাকতে হচ্ছে, কারণ যৌনজীবন যে একটি সুন্দর শিল্পও এই বোধ আমাদের নেই। বরং একে ঘিরে আছে শ্লীলতার চেয়েও অশ্লীলতা। তুচ্ছ তাচ্ছিল্য। একথা অবশ্যই বাস্তব যে, যৌনজীবন ব্যক্তির অন্যান্য সুখের মতোই বিনোদন, যা মানুষের বার্ধক্য ঠেকায়, মানুষকে উজ্জীবিত করে। তবে সমাজে এই সত্যের লজ্জা, লজ্জা, যা নিষিদ্ধ। ছিঃ…। বা ছি ছিক্কারে ভরা। অবৈধ প্রণয় হলে হবে তার কঠোর শাস্তি। কখনো দোররা, কখনো মৃত্যুদণ্ড। কেউ কেউ একঘরে। কেউ আমৃত্যু ছেনাল অপবাদ বয়ে বেড়ায়।

ওরা বলে অশ্লীল। ছেনাল। পুরুষ এবং নারী দেহের মিলনের সুখ সত্যই কি ছেনালি বা না? হোক সে ঘরে না হয় চৌকাঠের বাইরে। ক্ষণিক কিন্তু অফুরন্ত যার ঝরনাধারা, উজ্জীবিত করে যায় মন প্রাণ দেহ কল্পনা সব সবকিছু। যা মানুষের মস্তিষ্ক কোষে দেয় তাড়না। বাঁচার জন্যে যা একান্ত প্রয়োজন। তা কি করে ছেনাল? বিছানায় রতি সুখের অনুভূতি বিত্ত দিয়ে মাপা যায় না। এই সুখ প্রকৃতির গভীর থেকে ওঠে আসা। মানব দেহের গভীর, যেখানে সমুদ্র আছে। যে সমুদ্রে মুক্তো আছে। এখানে সবাই সমান। হোক বস্তিবাসী বা প্রাসাদবাসী। মাস্টার বা স্লেইভ। রানী বা গৃহহীন। এবং এখানে সমস্যা হলেই সকলেরই হবে সমূহ গণ্ডগোল। সব উল্টে-পাল্টে যায়। রাজত্ব, রাতের ঘুম, সব যায়।

বিজ্ঞান অনুযায়ী যৌনজীবনে বহুরকমের সমস্যা হয়। হতেই পারে। এবং এই সমস্যার জানলা খুলে দিলে কেন যে এখানে অশ্লীলতা কাজ করবে তা আমার জানা নয়। কেনই-বা তা নিষিদ্ধ জানা নয়! পিন আপ, কেন? কোন হিসেবে। তার কিছুই আমার জানা নয়। কারণ আমি বুঝি যে প্রক্রিয়া ছাড়া সন্তান সৃষ্টি হয় না, সেই প্রক্রিয়ার কোনও কিছুই নিষিদ্ধ, লজ্জা বা অশ্লীল হতে পারে না। সন্তান সৃষ্টির পূর্বশর্ত দোহের যোনি আর লিঙ্গের, স্নায়ুভিত্তিক সুখ ও পেষণের শারীরিক আনন্দ। ”ক্ষণিক তবে সুদূর প্রভাবিত।” পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই তাদের বাবা ও মায়ের কামের চিহ্ন শরীরে বয়ে বেড়ায়। অর্থাৎ জন ডো বা রাইসু সেই ব্যক্তি যার বাবা এবং মা লিঙ্গ আর যোনিতে মিলে তাকে সৃষ্টি করেছে। এমন স্বর্গীয়, এমন সত্য, তা কি করে অশ্লীল?

যেখানে সমস্যা এত গভীর, নিত্যদিনের, এত সর্বজনীন, এতই মানবিক সেখানে লুকোবার কী আছে? যৌনজীবনের বিবিধ সমস্যার মধ্যে কেউ নপুংসক, কেউ বিকারগ্রস্ত, কেউ সমকামী আবার কেউ উভকামী, কেউ বিপত্নীক, কেউ কেউ আজীবন অবিবাহিত, যাদের মুক্ত বিহঙ্গের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কারো সঙ্গী বা সঙ্গিনী দীর্ঘ বছর ধরে দূরে দূরে। এখন কারো মধ্যে যৌবন, কেউ বার্ধক্যে। সমস্যা অন্তহীন সব বয়সেই সব জীবনেই। বার্ধক্যেও যা মরে যায় না। কম বেশি থাকেই। নিভু নিভু বাতির মতো। তবে মধ্য বয়সের নারী উত্তাল তার মেনোপজের আগে আগে। আর ষাটের শুরুতে পুরুষ উত্তাল তার শিথিল শরীর ও বীর্যে ঘাটতি পড়ার আগে।

বয়স হরমোন ব্যক্তিত্ব এবং রুচির প্রভাবে পরিবর্তন হয় সময়ের দু’হাত ধরে। অতৃপ্ততা নাকি অনিচ্ছা! দাম্পত্য বাদ দিয়ে পরকীয়া। শীতল শিথিল অথবা অসুস্থ লিঙ্গ বা যোনি। অভ্যস্ত শরীর। অগণিত জানা-অজানা কারণে ব্যক্তির যৌনজীবন হতে পারে দুস্থ। এবং এই দুস্থতা প্রভাবিত করতে পারে জীবনের অন্যান্য অনেক কিছু। এমন কি বিবাহ। সমস্যা থেকে বিচ্ছেদ। সুতরাং এই সমস্যা ফেলনা নয়। অশ্লীলও নয়।

মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো যা এত গভীর তা আর রাখঢাক নয়। হোক তা বসার ঘরে, সিনেমা দেখতে দেখতে পরিবারের সবাই মিলে অন্যান্য যে-কোনও আলোচনার মতো।

.

২. ব্যর্থ যৌনজীবনের সদস্য সংখ্যা কত? দুস্থ যৌনজীবন! বার্ধক্যে বিপত্নীক যারা! মধ্য বয়সে হরমোনের তাণ্ডবে দিশেহারা যারা। বিকারগ্রস্ত কিংবা অকেজো যৌনাঙ্গ। দাম্পত্যে অরুচি বা অভ্যস্ত ছেড়ে, অনভ্যস্ত শরীরের প্রতি তীব্র আকর্ষণ।

বিকার বা দুস্থ বা নিঃসঙ্গ বা বদলে যাওয়া যৌনজীবনের রাক্ষুসীতরঙ্গ একটি সুস্থ জীবনকে সম্পূর্ণ অকেজো করে দিতে পারে। বাইরে থেকে বোঝা যাবে না। কিন্তু তার অন্তরে যে অন্ধকার তাকে ক্রমাগত গ্রাস করে চলেছে, বিছানায় তার এই দুস্থতা? সে। খবর ক’জন রাখে!

একজন বিধবা বা বিপত্নীকের স্নায়ু যন্ত্রণা, কে জানে! এক নপুংশকের স্নায়ুযুদ্ধ কে বোঝে! অসমমনা দাম্পত্যে মনের আদান-প্রদানের শূন্য সাদা খাতা কে খুলে দেখে! কে বোঝে এর নিরন্তর দুঃখ বহতা! ভগ্ন হৃদয়! ভীষণ ভারি! ক’জন জানে, জানতে চায়, যে, মন না হলে জোর করে প্রেম হয় না। প্রেম, যা না হলে শরীর জাগে না! ফোটে না বসন্ত শরীর যেভাবে ফোঁটা উচিত! না বলুক মুখে, কিন্তু যুদ্ধ, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কার নেই! নিজের হলে কিছু না। সমস্যা, অন্যের বেলায়। সংসারে সুখীদের সদস্য সংখ্যা কত?

নিজের তৃপ্তি-অতৃপ্তির কথা কি মুখ ফুটে এত বলা যায়। কখনো কখনো যায়। যায়। তবে একসঙ্গে হলে যায়। নিশ্চিত যায়। কারণ অনেকের সমস্যা তখন নিজের মনে হয়। নিজেরটা অন্যের। সমস্যাগুলো সার্বিকভাবে আলোচনার গ্রহণযোগ্যতা পায়। সহজ-সরল-সুন্দর পানীয় যেমন।

আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যা, অন্তহীন। শুধু কি বুক? মুখ ও ফোটে যদি ফোঁটানো যায়। ফুটতে দেয়া যায়। আমাদের মূল সমস্যা যে আমরা, শ্লীলতায় অন্ধাবদ্ধ হয়ে গেছি। শ্লীলতা গ্রাস করেছে আমাদের মানবিকতা। বোধ। বলতে না পারার যন্ত্রণায় দগ্ধ হওয়া। শ্লীলতায় আবদ্ধ আমরা, অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামাজিক। সামাজিক ধর্মবোধ। যা অমানবিক ধর্মান্ধতা। অবিচার।

আজ প্রয়োজন আমাদের এই জটিল জীবনকে, সমাজের বাধ্যবাধকতার ওপর আর না জড়িয়ে একে বিজ্ঞান ও শিল্পসম্মত হিসেবে আখ্যায়িত করে তুলে একে মানবিক রূপ দেয়া। আর কিছু না হোক, কিছুই না থাক শুধু বলতে পারার মধ্যে যে প্রশান্তিটুকু তা ক্ষুদ্র সূক্ষ্ম হলেও মনের চাপা নর্দমায় নিশ্চিত কিছু মুক্ত বাতাস এনে দিতে পারে। এক টুকরো রুদ্ধশ্বাস থেকে মুক্তি! আহা! আহ! এই কি! সে প্রশান্তি! সে বোঝে সেই বোঝে, এই নিরাময়।

.

৩. যৌনজীবনে ব্যাঘাত ঘটলে কিংবা সমস্যা হলে মানুষ ক্রমশ উত্তাল হয়ে যায়। বিবেচকেরা বিবেচনাহীন হয়। বয়স্করা, শিশু হতে থাকে। সমস্যা হলে কিশোর, বয়স্ক হয়। পিতৃ এবং মাতৃত্ব তুচ্ছ হয় বা বুঝ অবুঝ হয়। কতরকমের বিকল্প খুঁজে নেয় বিপত্নীক বৃদ্ধ বা যারা যৌবনে বিধবা। বা মধ্য বয়সে পরকীয়ায় আক্রান্ত রমণী। আবার কেউ কেউ নীরবে ভুলে যেতে থাকে।

আমার মার মুখে শোনা। সব বারো বছর বয়সের নিচে বা ওপরে, বিদ্যাসাগরের যে-কোনও বিধবা পিসিরা, অন্তত বারোবার গর্ভপাত ঘটাতেন। কেন এরকম হয়? কত উদাহরণ? পাশে জলজ্যান্ত রূপসী বৌ রেখে হিরু প্রতিদিন যেত কুৎসিত শেলীর কাছে। ওরা মাগ ভাতারে। বিপত্নীক ফারুক ভাই শুধু গার্লফ্রেন্ড খুঁজে বেড়ান আর একে ওকে বিরক্ত করে। ছেলেদের হাতে মার খাওয়ার আগেই চুপে চুপে কাজ সেরে ফেলে বিপত্নীক চর্চা, কাজের মেয়ে রোকেয়ার সঙ্গে। রোকেয়া, মেয়ের বয়সী। ফিরোজ, ঘরে বৌ রেখে হস্তমৈথুনে অধিক তৃপ্ত। শামীমও। রিতাও। কালামের মায়ের বয়সী নারী না হলে রোচে না। শিল্পী, রুবেলের মধ্যে আজীবন রবীন্দ্রনাথ দেখলো। আর শেতুলী দেখলো, কবি নজরুল। সত্য হলো না তাই –ভগ্নহৃদয়ে ফিরে গেল। প্রবাসী রুমার আর আনস্মার্ট বঙ্গপুরুষ ভালো লাগে না। বিধ্বস্ত যৌনজীবনের সেলিমা, মাঝ বয়সে এসে প্রথম আবিষ্কার করলো, সে বাইসেক্সয়াল। সলিল ইচ্ছা করেই ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায়, গাউছিয়া মার্কেটে মেয়েদর স্তন আর যোনি পিষতে। প্রদীপ, কামনা করে সন্তানসমেত কিশোরীকে। সাইফুল চায় একসঙ্গে একাধিক শরীর। সেজন্যে সে অনেক টাকা খরচা করে। তার আনন্দ, শৃঙ্গারের দৃশ্য। রচনার চাই একসঙ্গে একাধিক পুরুষ। বৃদ্ধ বয়সেও চার্লি সেক্সের চেয়েও সেক্সের দৃশ্য উপভোগ করে। চার্লির ঘরে ব্লু ফিল্মে ঠাসা। পর্নো ম্যাগাজিন। প্রতি সপ্তাহে ন্যুডবার। আর সমীর সারাদিন বাসে চড়ে বেড়ায়। মেয়েদের স্তন পিষতে পিষতে সে সিট বদলায়। আর ইচ্ছে করে ভিড়ের মধ্যে বাদুর ঝুলতে ঝুলতে লিঙ্গটা ঠেকিয়ে রাখে ভদ্রমহিলার অকুস্থলের সই সই। এরিক গার্সিয়ার প্লাস্টিকের নারী না হলে হয় না। মানেকার, প্লাস্টিক পুরুষ। মুনির চাচা তার ষাটের শুরুতে দারুণ উত্তাল। সে ওরাল ছাড়া কিছু বুঝতে চায় না। নাম্বার ৬৯’ তার নেশা। মিসেস সেন তার ষাটের শুরুতেও উত্তাল। তিনি শুষ্কতার কারণে বিদেশ-দেশে ভালো ভালো দামি ক্রিম, পিচ্ছিল, আনিয়ে রাখেন। একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে কাম, হস্ত মৈথুন, বেশ্যাবাড়ি, সত্ত্বেও সালামতের যথেষ্ট হলো না।

এর কোনটা বিকার বা অশ্লীল জানা নেই। তবে সমস্যাগুলো নিঃসন্দেহে সামাজিক। এবং সামাজিক সাপেক্ষে, অসামাজিক(!) হলেও যা, –মানবিক।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *