1 of 2

১.০৭ মুক্তকেশীর ছোট দুই ছেলে

মুক্তকেশীর ছোট দুই ছেলে যে রোজগারী হয়ে উঠেছে তা নয়, প্রভাস তো এখনো পড়ুয়া ছেলে, ল পড়ছে, আর প্রকাশ পাড়ার সখের থিয়েটারে হিরোইনের। পাকা পোস্টটা পেয়ে সুখে মহলা দিচ্ছে।

তবু মেয়ের বিয়ের পর ছেলেদের বিয়ের চিন্তায় আর বিলম্ব করলেন না মুক্তকেশী। মেয়ের বিয়ের জন্যই আটকে ছিলেন এযাবৎ। আর থাকেন? দুই ছেলের বিয়ের জন্যেই তোড়জোড় লাগান।

খবরটা শুনে উমাশশীর কাছে সেই কথাটা বলে বসলো সুবৰ্ণলতা। যে কথার জন্যে খণ্ডপ্ৰলয় ঘটে গেল।

তা সুবৰ্ণলতার জীবনটা নিরীক্ষণ করে দেখলে আগাগোড়াই তো শুধু ওই খণ্ডপ্রলয়। সুবৰ্ণলতা একটা কিছু বেফাঁস কথা বলে বসে, আর সংসারে। তুমুল কাণ্ড ঘটে।

মনে হয় এবার বুঝি একটা কিছু করে বসবে সুবৰ্ণলতা! কিন্তু নাঃ, আবার দেখা যায় সুবৰ্ণলতার তার দীর্ঘ সুন্দর দেহটা নিয়ে সংসারে চরে বেড়াচ্ছে, কাজ করছে, কর্তব্য করছে।

বোঝা যায় না। সুবৰ্ণলতা এই সেদিন গভীর রাতে বিনিদ্র চোখে মৃত্যুর যত রকম উপায় আছে তা নিয়ে ভেবেছে। বোঝা যায় না। সব সময় মরতে ইচ্ছে হয় ওর। কিন্তু কেন?

চিত্ৰগুপ্ত বুঝতে পারে নি, বুঝতে পারে নি। সুবৰ্ণলতার বিধাতাপুরুষ। হয়তো বা সুবৰ্ণলতা নিজেও পারে না।

বুঝতে পারে না নিজেই সে সোধে দুঃখু ডেকে আনে। নইলে কী দরকার ছিল সুবর্ণর বড় জায়ের কাছে শাশুড়ীর বুদ্ধির ব্যাখ্যা করবার? বলে বসবার দরকারটা কী ছিল, মার যেমন বুদ্ধি! ছোট ঠাকুরপোর আবার বিয়ে! গোপ কামিয়ে কামিয়ে মেয়ে সেজে সেজেই যার জীবন যাচ্ছে! দিতে হয় তো একটা বেটা ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া উচিত ওর!

বলা বাহুল্য, কথাটা চাউর হতে দেরি হল না। তিন বছরে টেপু। মহোৎসাহে বলে বেড়াতে লাগল, মেজ খুড়িমা বলেছে, ছোট কাকা তো মেয়েমানুষ, বেটাছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে হবে ছোটকাকার!

বলা বাহুল্য, প্ৰলয় ঘটতেও দেরি হয় নি।

গোঁফ-কামানো মেয়েলী-গলা প্ৰকাশচন্দ্ৰ বীর্য-বিক্রমে লাফাইঝাঁপাই করতে থাকে মেয়েমানুষের আস্পর্ধার বিরুদ্ধে। বিদ্বান বিচক্ষণ প্রভাস চিবিয়ে চিবিয়ে বলতে থাকে, উদ্দেশ্য আলাদা। আরও বৌ আসে বাড়িতে এটা ইচ্ছে নয়। নিজের যথেচ্ছাচারটা চলবে না ভেবে বাধ দিচ্ছেন। মনে হয়, মেজদার উচিত ওঁকে নিয়ে আলাদা বাস করা। নচেৎ ওঁর দৃষ্টান্তে নতুন যে বৌরা আসবে, তাদেরও মাথা বেঠিক হয়ে যাবে।

শুধু সুবোধই কথাটা শুনে হা হা করে হেসে উঠেছিল, বাড়ির মধ্যে মেজবৌমারই দেখছি একটু বুদ্ধিসুদ্ধি আছে। মা যে পেকার জন্যেও এক্ষুণি কনে খুঁজছেন, আমি তো ভাবতেই পারি নি!

তা সুবোধের অবশ্য সাতখুন মাপ। কারণ প্ৰবোধ আজকাল প্রচুর কাঁচা পয়সা রোজগার করলেও, এখনো গৃহকর্তা হিসেবে সমগ্র সংসারের ভাত-কাপড়ের দায়টা সুবোধই টেনে চলেছে। নিজের সারি সারি ছেলেমেয়েতে ঘর ভরে উঠলেও এদিকে কার্পণ্য করে না সে।

ভগবানও মুখ তুলেছেন, বড়বাবু হয়েছে সে।

তবে বাড়িতে মুক্তকেশীই বড়বাবুর বড়সাহেব সব। সুবোধের কথা ধর্তব্য করলেন না, ছেলেদের বিয়ে তিনি দিলেন। নগদ নিলেন, তত্ত্ব ঘরে তুললেন, এক কুটুমের নিন্দেয় শতমুখ এবং আর এক কুটুমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন।

ওটাই মুক্তকেশীর রাজনীতি।

প্রথম থেকেই বিভেদ সৃষ্টি করে রাখা ভাল। নইলে জায়ে জায়ে একদল হলে পৃষ্ঠবল বাড়বে না! শাশুড়ীকে কি তাহলে গ্রাহ্য করবে?

তা মুক্তকেশীর নীতি কার্যকরী হয় বৈকি। নতুন বৌয়েরা আসার পর থেকেই সংসারের বায়ূমণ্ডলে উত্তাপের সঞ্চার হতে দেখা যায়। মুক্তকেশী সেই উত্তাপের সুযোগে একজনকে সুয়ো করে নেবার চেষ্টা করেন।

উকিল ছেলের বৌ-ই। ইদানীং সুয়ো হয়েছে। তাকে তোয়াজ করে চলেছেন মুক্তকেশী প্ৰায় নির্লজের মত।

কারণ?

কারণ পায়ের তলায় একটু শক্ত মাটির আশ্রয় খুঁজছেন মুক্তকেশী, যে মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়তে পারেন।

প্ৰতিপক্ষ?

আর কে?

দুৰ্দান্ত দুবিনীত মেজবৌ।

তার চোখের কোণে যেন চাপা আগুনের গানগনানি, তার ঠোঁটের কোণায় যেন ঔদ্ধত্যের ঝিলিক।

মুক্তকেশীর কাজে প্রতিবাদ করে বসে সে যখন-তখন।

তার উপর আবার বরটা তার উপায়ী হয়ে উঠেছে উত্তরোত্তর।

ওকে দাবাতে হলে শক্ত মাটিতে পা রাখতে হয়। অলিখিত আইনে সব ভাইরাই উকিল ভাইকে নিজেদের থেকে উচ্চাসনে বসিয়ে সমীহর চোখে দেখে আসছে, কাজেই সেই খুঁটিটাই ধরা ভাল।

মুক্তকেশী। তাই রাতদিন সেজবৌ গিরিবালার শরীর কাহিল দেখেন, আর খেটে খেটে আধমরা হতে দেখেন তাকে। আর তার গুণের তুলনা দেখতে পান না। সে যে বড়মানুষের মেয়ে হয়েও দেমাকী নয়, এটাই কি সোজা পাওয়া নাকি?

প্রকাশের বৌ বিন্দু বড়মানুযের মেয়ে নয়, নিতান্তই নিরুপায়ের ঘরের মেয়ে। মুক্তকেশী রাতদিন তাকে তার সেজ জার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে বলেন।

মুক্তকেশীর এই রাজনীতির লীলার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে দিন, বিয়ে চলেছে প্রকৃতির লীলা। মেয়েতে বৌতে মিলে কোন না বছরের বারতিনেক আঁতুড়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে!

সুবৰ্ণলতা?

তা সুবৰ্ণলতাও সে দলে আছে বৈকি। প্রকৃতি তো ছেড়ে কথা কইবার মেয়ে নয়। আর প্ৰবোধচন্দ্রও কিছু আর ছেড়ে কথা কইবার ছেলে নয়।

যে স্ত্রীলোক অতুিড়ে যেতে ভয় পায়, সে স্ত্রীলোককে অসতী ছাড়া আর কিছু বলতে রাজী নয় প্ৰবোধ। মা হতে অরাজী? তার মানে রূপ-যৌবন ঝরে যাবার ভয়? তার মানে পরপুরুষ আর ফিরে চাইবে না। এই আশঙ্কা, এই তো? বুঝি সব। ওসব বিবিয়ানা রাখা!

বিবিয়ানা রাখতে হয়। অতএব।

কত আর বুঝবে সুবৰ্ণলতা?

কত খণ্ড প্ৰলয় ঘটবে?

কত কেলেঙ্কারী করবে?

বাড়িতে তো আর এখন শুধু গুরুজনই নেই, লঘুজনও রয়েছে যে। লজ্জা তো তাদের সামনেই। তা ছাড়া সমপৰ্যায়রা?

তারা যদি টের পায় সম্পূর্ণ ইচ্ছার বিরুদ্ধে আতুড়ে ঢুকতে হচ্ছে সুবৰ্ণলতাকে, আর কি মানবে তাকে? হয়তো আহা! ই করে বসবে।

ওই আহার চাইতে অনেক ভাল ঈর্ষা।

তা ঈর্ষা তারা করে বৈকি।

এতকাল বিয়ে হয়েছে সুবৰ্ণলতার, তবু তার বর তাকে চক্ষে হারা হয়, তবু একদণ্ড ঘরে না দেখলেই রসাতল করে, রান্নাঘরে গেলেই বার বার ছেলেপুলেকে জিজ্ঞেস করে, এই, তোদের মা কই?

এর চাইতে ঈর্ষার বস্তু আর কি আছে?

আজীবন সবাই সুবৰ্ণকে ঈর্ষাই করেছে।

আর বাইরের লোক বলেছে, এমন মানুষ হয় না।

এ কথা মুক্তকেশীর সংসারের বাইরের সবাই চিরকাল বলেছে।

আর র সংসার বলেছে, এমনটি আর দেখলাম না! কোটি কোটি নমস্কার!

সেই দূর অতীতে সুবর্ণলতার যেদিন গলায় আঁচল পাকিয়ে মরতে বসে হারানো গহনার হদিস করে দিয়েছিল, সেইদিনই বোধ করি গলা খুলে বলার শুরু।

মুক্তকেশী মেয়ের গায়ে গহনা পরিয়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন বৈকি? তবু বলেছিলেন, কোটি কোটি নমস্কার মা, কোটি কোটি নমস্কার!

উমাশশীও বলেছিল, নমস্কার করছি বাবা!

সুবৰ্ণলতার দেওররা বলেছিল, নমস্কার! কোটি কোটি নমস্কার!

শুধু সুশীলা বলেছিল, কেলেঙ্কারিটা তোরাই করলি! যতদূর নয় ততদূর লোক হাসালো তো পেবোটা, অথচ কেলেঙ্কারী ছড়ালো বৌয়ের!

আর সুশীলার বর কেদারনাথ বলেছিলেন–। তা তাদের কথার মূল্য কি? তারা তো মুক্তকেশীর সংসারের বাইরের লোকই। যাদের শুনিয়ে শুনিয়ে মুক্তকেশী বলতেন।–

যার সঙ্গে ঘর করি নি,
সে-ই বড় ঘরাণী,
যার হাতে খাইনি,
সে-ই বড় রাধুনী।

তা সেই কেদারনাথ শুধু সেদিনই নয়, অনেক সময় অনেক দিনই বলতেন, মানুষটাকে তোমরা চিনলে না! বলতেন, এমন মেয়ে সচরাচর হয় না গো! তবে আমার শাশুড়ী ঠাকরুণ আর তাঁর সুযোগ্য পুত্র শিব গড়ার মাটিতে বাঁেদর গড়বার পণ করে বসেছেন এই দুঃখ!

কেদারনাথের সঙ্গে কথা কইবার অনুমতি ছিল সুবৰ্ণলতার। অর্থাৎ সুবৰ্ণলতাই ওটা চালু করে নিয়েছিল। উমাশশী কখনো ননদাইয়ের সঙ্গে কথা বলবার প্রয়োজন অনুভব করে নি। ঘোমটা দিয়ে ভাত জল এগিয়ে দিয়েছে এই পর্যন্ত।

সুবৰ্ণলতাই প্রথম বলেছিল, বড় ঠাকুরজামাইয়ের সঙ্গে কথা কইলে দোষ কি মা? আমি তো ওঁর মেয়ের বয়েসী!

কথাটা মিথ্যা নয়।

কেদারনাথের বয়েস হয়েছে।

সুশীলা তার দ্বিতীয় পক্ষ।

আগের পক্ষের যে মেয়েটি আছে, বয়সে সে সুবৰ্ণলতার চাইতে বড় বৈ ছোট হবে না। সুশীলা যখন বেশি দিনের জন্যে বাপের বাড়ি আসতো, সতীনঝিকে নিয়ে আসতো।

এখন আর আসে না। শ্বশুরবাড়ি চলে গেছে মেয়ে।

সে যাক, সুবৰ্ণলতা যে কেদারনাথের মেয়ের বয়সী তাতে ভুল নেই।

তাই এত সাহস সুবৰ্ণলতার।

তবু মুক্তকেশী প্ৰস্তাবটা প্ৰসন্ন-চিত্তে গ্ৰহণ করবেন। এমন আশা করা যায় না। বললেন। হঠাৎ কথা কইবার দরকারই বা কি এত পড়লো?

উনি সর্বদা ডাক দেন, কই গো বড় গিনি, কই গো মেজ গিন্নী বলে, পান-তামাক চান, বোবার মত শুধু এগিয়ে দিই, লজ্জা করে!

মুক্তকেশী বোজার মুখে বলেন, কি জানি মা, তোমাদের যুগের লজ্জার রীতি-নীতি কি! যাতে লজ্জা, তাতে তোমাদের লজ্জা নেই, যেটা সভ্যতা-ভাব্যতা তাতেই হল লজ্জা! গুরুজনের সঙ্গে কথা কি কইলেই হয়? মান রাখতে না পারলে?

সুবৰ্ণ হেসে ফেলে বলে, মানই বা রাখতে না পারবো কেন মা? মান্যের মানুষ—

মুক্তকেশী একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বলেন, সে শাস্তর যে তোমার পাঠশালায় আছে, তা তো জানি না মা! গুরুজনকে হেঁট করাই তো তোমার প্রিকিতি!

সুবৰ্ণলতা বলেছিল, বড় ঠাকুরজামাইকে হেঁট করতে চাইবে, এমন খারাপ কেউ আছে নাকি জগতে?

সেই বড় ঠাকুরজামাইটি মুক্তকেশীর নিজের জামাই, তাকে প্রাধান্য না দিলে চলে না। তাই অনেক তর্কাতর্কির পর নিমরাজী হয়েছিলেন মুক্তকেশী।

নিজেও তো তিনি কতকাল জামাইয়ের সঙ্গে কথা কইতেন না, ঘোমটা দিতেন। কিন্তু জামাইয়ের প্রাণ-জুড়ানো ব্যবহারে ধীরে ধীরে সেটা ত্যাগ করেছেন।

তাই বলে বৌ?

আর ওই দজাল বৌ?

এমনিতেই যে স্বামীর মাথায় পা দিয়ে হাঁটে! এর ওপর আবার পরপুরুষের সঙ্গে মুখ তুলে কথা

সেই কথাই বলেছিলেন, ঠাকুরজামাইয়ের সঙ্গে কথা কয়ে কি চতুর্বর্গ লাভ হবে তুমি জানো মা। তবে এও বলি, জানো তো পেবো এসব পছন্দ করে না!

সুবৰ্ণ আরক্ত মুখে বলে, কেউ যদি পাগল হয়, তার তালেই চলতে হবে?

পাগল যে কে, সে হিসেবেই বা করছে কে বাছা! মুক্তকেশী বোজার গলায় বলেন, কথা কইবে কও, হ্যাঁ হ্যাঁ করো না গুচ্ছির। তোমার তো মাত্ৰাজ্ঞান নেই! এই যে পেকার সঙ্গে হিট হট করে কথা কইচ, মান কি রাখছো তার?

মান!

প্ৰকাশের!

শখের থিয়েটারে মেয়ে সাজা সেই ছেলেটারও মানহানির প্রশ্ন!! সুবৰ্ণলতার মুখেচোখে একটা হাসির আভাস খেলে গিয়েছিল। তবু কৌতুকের গলা সম্বরণ করে বলেছিল, মানের হানি কি করেছি মা, বিয়ের কথায় একটু হন্তারক হয়েছিলাম, তা সে আক্ষেপ তো তার মিটেছে বাপু!

মুক্তকেশী সগর্বে বলেন, মিটবে না তো কি তোমাদের হাততোলায় রেখে দেব ওকে?

তা সেই গর্বের মুহূর্তে সুবৰ্ণলতা বলে উঠেছিল, সে যাক, তাহলে বাপু কথা কইব বড় ঠাকুরজামাইয়ের সঙ্গে—

তাতে যদি তোমার চারখানা হাত-পা বেরোয় তা কোরো!

এই অসতর্ক উক্তিটুকুই অনুমতি বলে ধরে নিয়েছিল সুবৰ্ণলতা।

কিন্তু সত্যিই তো, কী চারখানা হাত বেরুবে সুবর্ণের বুড়ো ভদ্রলোকটার সঙ্গে কথা কয়ে?

কে জানে সে কথা!

তবে এইটি হলো, বাড়ির পরবর্তী আরও দুটো বৌ এ সুযোগটার সদ্ব্যবহার করলো। মুক্তকেশী বললেন, হবেই তো! কথাতেই আছে, আগ ন্যাংলা যেদিকে যায়, পাছ ন্যাংলা সেদিকে ধায়া! মেজবৌ একেলে হাওয়া ঢোকালো বাড়িতে!

মেজবৌয়ের এ বদনাম উঠতে বসতে। মেজবৌ বাড়িতে খবরের কাগজ আসার পত্তন করেছে, মেজবৌ বাড়িতেও গায়ে সেমিজ দেওয়ার পত্তন করেছে, মেজবৌ আঁতুড়ঘরে ফর্সা বিছানা-কাপড়ের প্রথা প্রবর্তন করেছে। মেজবৌ মেয়েঞ্জলোকে সুদ্ধ ধরে ধরে পড়তে বসার শাসননীতি প্রয়োগ করেছে। এমন আরো অনেক কিছুই করেছে মেজবৌ।

ধিকৃত হয়েছে, লাঞ্ছিত হয়েছে, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে জর্জরিত হয়েছে, তবু জেদ ছাড়ে নি। শেষ পর্যন্ত করে ছেড়েছে।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *