1 of 2

২৮. রাহন (বন্ধক)

অধ্যায় : ২৮ রাহন (বন্ধক)

ধারা-৬৮৮

সংজ্ঞা (ক) ঋণ হিসাবে অগ্রিম প্রদত্ত বা প্রদেয় অর্থ অথবা কোন বর্তমান বা ভবিষ্যত দেনা পরিশোধ অথবা আর্থিক দায় সৃষ্টি করিতে পারে এইরূপ কোন কার্য সম্পাদনের নিশ্চয়তা বিধানের উদ্দেশ্যে কোন নির্দিষ্ট মালের স্বত্ব হস্তান্তরকে ‘গ্রহন” বলে।

(খ) হস্তান্তরকারীকে রাহনদাতা ও হস্তান্তর গ্রহীতাকে রাহনগ্রহীতা বলে।

ধারা—৬৮৯

রাহনের উপাদান। রাহনের উপাদান তিনটি— (১) রাহনের চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয় অর্থাৎ রাহনদাতা ও রাহনগ্রহীতা;

(২) চুক্তির বিষয় অর্থাৎ মাল এবং ঋণ;

(৩) প্রস্তাব প্রদান ও গ্রহণ অর্থাৎ একপক্ষ কর্তৃক প্রস্তাবদান ও অপর পক্ষ কর্তৃক সম্মতি জ্ঞাপন।

বিশ্লেষণ

রাহনদাতা যদি এই মর্মে কাহারও কাছে প্রস্তাব করে যে, আমার কাছে আপনার যে প্রাপ্য আছে তাহার বদলে আমি আমার স্বর্ণের হারটি আপনার কাছে রাহন রাখিতেছি এবং রাহনগ্রহীতা যদি ঐ প্রস্তাব মানিয়া লইয়া বলে যে, আমি এই প্রস্তাব গ্রহণ করিলাম তাহা হইলে রাহন চুক্তি সম্পাদিত হইবে। এইরূপ

৪১০

প্রস্তাব পেশ, প্রস্তাব গ্রহণ ও রাহনের মাল রাহনগ্রহীতার অধিকারে না আসা পর্যন্ত রাহন পূর্ণতা লাভ করিবে না।

ধারা-৬৯০

রাহন সম্পাদিত হইবার শর্তাবলী (ক) রাহনদাতা ও রাহনগ্রহীতাকে সুস্থ মস্তিষ্ক ও বুদ্ধিমান হইতে হইবে;

(খ) রাহনকৃত বস্তু বিক্রয়যোগ্য মাল হইতে হইবে, রাহন সম্পাদিত হইবার সময় বস্তুটির মূল্য থাকিতে হইবে এবং তাহা হস্তান্তরযোগ্য হইতে হইবে।

(গ) রাহনকৃত বস্তুটির উপর রাহনদাতার স্বত্ব থাকিতে হইবে।

বিশ্লেষণ

নিজের কাছে রাখা অপর কাহারও গচ্ছিত দ্রব্য রাহন রাখা যাইবে না। কারণ উক্ত মালের উপর রাহনদাতার কোন স্বত্ব নাই।

ধারা——৬৯১

রাহনের অন্তর্ভুক্ত মাল বিক্রয়ের সময় যেসব জিনিসের উল্লেখ না করিলেও তাহা বিক্রীত দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত হয় তদ্রূপ রাহন সম্পাদনের সময় সেই সমস্ত জিনিসের উল্লেখ না থাকিলে তাহা রাহনের মালের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

বিশ্লেষণ

কেহ যদি কোন দালান কাহারও কাছে রাহন রাখে তাহা হইলে সেই দালানের আঙ্গিনায় যাহা আছে অর্থাৎ গাছপালা, ফল এবং সেখানে রোপিত অন্যান্য উদ্ভিদরাজির কোন উল্লেখ না থাকিলেও তাহা রাহনের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

ধারা—৬৯২

রাহনের মালের পরিমাণ বৃদ্ধি রাহন সম্পাদিত হইবার পর রাহনদাতা রাহনের মালের পরিমাণ বাড়াইতে চাহিলে বাড়াইতে পারিবে।

৪১১

বিশ্লেষণ

ইমাম আবু হানীফা, মুহাম্মাদ ও আবু ইউসুফের মতে রাহন সম্পাদিত হইবার পর তাহার পরিমাণ বৃদ্ধি করা বৈধ। কেহ যদি কোন নির্দিষ্ট ঋণের বিপক্ষে একটি তরবারি রাহন রাখে এবং পরে উক্ত ঋণের বিপক্ষে রাহনের মালের পরিমাণ বাড়াইতে অর্থাৎ পূর্বোল্লেখিত তরবারির সহিত একটি ঘড়িও রাখিতে চাহে তবে তাহা বৈধ হইবে এবং তরবারি ও ঘড়ি উভয়টি উক্ত ঋণের বিপক্ষে রাহনের মাল বলিয়া গণ্য হইবে।৪

ধারা-৬৯৩

রাহনের মাল পরিবর্তন করা রাহনদাতা পূর্বে রাহন রাখা মালের পরিবর্তে অন্য কোন মাল রাহন। রাখিতে চাহিলে তাহা বৈধ হইবে।

বিশ্লেষণ

কেহ যদি তাহার তিনশত টাকা ঋণের পরিবর্তে একটি বেতারযন্ত্র রাহন রাখে এবং পরে একটি ঘড়ি বেতার যন্ত্রটির পরিবর্তে রাহন রাখিতে চাহে এবং রাহনগ্রহীতা বেতারযন্ত্রটি ফেরত দিয়া উক্ত ঋণের পরিবর্তে রাহন স্বরূপ ঘড়িটি গ্রহণ করে তাহা হইলে ঘড়িটি রাহনের মাল হিসাবে গণ্য হইবে।৪

ধারা—৬৯৪ একই রাহনের বিপরীতে আরও ঋণ গ্রহণ কোন ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ট ঋণের জন্য কোন মাল রাহন রাখিলে রাহন গ্রহীতার সম্মতি সাপেক্ষে উক্ত রাহনের বিপরীতে আরও ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবে।

বিশ্লেষণ

খ-এর কাছে ক দুই হাজার টাকা ঋণের নিশ্চয়তা স্বরূপ তিন হাজার টাকা মূল্যের একটি ঘড়ি রাহন রাখিল এবং রাহনকৃত উক্ত ঘড়ির বিপক্ষে পুনরায়

৪১২

খ-এর নিকট হইতে আরও এক হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করিল। এই ক্ষেত্রে ক কর্তৃক খ-এর নিকট হইতে দুইবারে ঋণ হিসাবে গৃহীত তিন হাজার টাকার জন্য ঘড়িটি রাহনের মাল হিসাবে গণ্য হইবে।

ধারা—৬৯৫

রাহনের মাল হইতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সম্পদ রাহনের মাল হইতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মালও রাহনকৃত মূল মালের সহিত যুক্ত হইয়া সবটাই বাহনদাতার মাল বলিয়া গণ্য হইবে।

বিশ্লেষণ

ক খ-এর নিকট হইতে গৃহীত এক হাজার টাকা ঋণের বিপক্ষে তাহার একটি গাভী খ-এর নিকট রাহন রাখিল। উক্ত গাভী হইতে বাছুর ও তাহার দুধের মূল্য রাহনের মাল বলিয়া গণ্য হইবে। রাহনগ্রহীতা তাহা ভোগ করিতে পারিবে না। ৬

ধারা—৬৯৬

রাহন বাতিল করিবার অধিকার (ক) রাহনগ্রহীতা এককভাবে রাহন বাতিল করিতে পারিবে। (খ) রাহনগ্রহীতার সম্মতি ছাড়া রাহনদাতা রাহন বাতিল করিতে পারিবে না।

(গ) রাহনদাতা ও রাহনগ্রহীতা একমত হইয়া রাহন বাতিল করিতে পারিবে। তবে রাহন বাতিল করিবার পর রাহনদাতা রাহনগ্রহীতার নিকট হইতে গৃহীত ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত রাহনগ্রহীতা নাহনের মাল ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তা স্বরূপ নিজের অধিকারে রাখিতে পারিবে।

ধারা—৬৯৭

যৌথ ঋণদাতাহাদের গৃহীত রাহন পরস্পর ব্যবসায়িক অংশীদার না হইয়াও দুইজন ঋণদাতা তাহাদের ঋণের নিশ্চয়তা স্বরূপ একই ঋণগ্রহীতার নিকট হইতে রাহন গ্রহণ করিলে

৪১৩

তাহা বৈধ হইবে এবং উক্ত রাহন একই সাথে দুইটি ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তা বিধান করিতেছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(খ) একই ঋণদাতা দুইজন ঋণগ্রহীতার নিকট হইতে তাহাদের ঋণের জন্য রাহন হিসাবে একটি মাল গ্রহণ করিলে তাহা বৈধ হইবে এবং রাহনের মালটি দুইজনের গোটা ঋণের জন্য রাহন বলিয়া বিবেচিত হইবে।

বিশ্লেষণ

ক ও খ প্রত্যেকে গ-কে পাঁচ হাজার টাকা করিয়া ঋণ প্রদান করিল এবং গ উক্ত ঋণের জন্য নিশ্চয়তা স্বরূপ একটি স্বর্ণের হার ক ও খ-এর কাছে রাহন রাখিল। এক্ষেত্রে গ কর্তৃক রাহন হিসাবে প্রদত্ত স্বর্ণের হারটি উভয় ঋণের জন্য রাহন বলিয়া গণ্য হইবে।

খ ও গ-এর প্রত্যেককে ক এক হাজার টাকা করিয়া ঋণ প্রদান করিল এবং সেই ঋণের জন্য খ ও গ একটি স্বর্ণ বলাকা আনিয়া ক-এর নিকট রাহন রাখিল। ক যদি এই রাহন গ্রহণ করে তবে রাহনকৃত স্বর্ণ বলাকাটি উভয় ঋণের জন্য রাহন বলিয়া গণ্য হইবে।

ধারা—৬৯৮

মাককূল আনহুর রাহন ‘মাকফুল আনহু’ কাফীল (ঋণের দায় গ্রহণকারী)-এর কাছে কোন মাল রাহন রাখিলে তাহা বৈধ বলিয়া গণ্য হইবে।

বিশ্লেষণ

‘কাফীল’ ‘মাকফুল আনহু’র যে ঋণের দায় গ্রহণ করিয়াছে তাহা আদায়ের নিশ্চয়তা স্বরূপ ‘মাকফুল আনহু’ কাফীলের কাছে কোন মাল রাহন রাখিলে তাহা আইনসিদ্ধ হইবে।

ধারা—৬৯৯ রাহনের মালের সংরক্ষণ ও আনুসঙ্গিক ব্যয় (ক) রাহনগ্রহীতা নিজে বা তাহার বিশ্বস্ত লোক, যেমন তাহার পরিবারের সদস্য, ব্যবসায়িক অংশীদার কিংবা তাহার নিয়োগকৃত লোক দ্বারা রাহনের

৪১৪

মাল সংরক্ষণ করিতে পারিবে।

(খ) রাহনগ্রহীতা তাহার বিশ্বস্ত লোক অর্থাৎ তাহার পরিবারের সদস্য, ব্যবসায়িক অংশীদার কিংবা তাহার নিয়োগকৃত লোক দ্বারা রাহনের মাল সংরক্ষণ না করিয়া অপর কাহারও দ্বারা সংরক্ষণ করিলে অথবা কাহারও নিকট গচ্ছিত রাখিলে এবং সেই ক্ষেত্রে তাহা বিনষ্ট হইয়া গেলে সে তাহার সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে।”

(গ) রাহনের মালের সংরক্ষণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়, যেমন বাড়ী ভাড়া ও সংরক্ষণকারীর পারিশ্রমিক, রাহন গ্রহীতা বহন করিবে।”

(ঘ) রাহনের মাল পশু হইলে তাহার খাদ্য ও রাখালের মজুরি” এবং তাহা কোন স্থাবর মাল হইলে তাহার সংরক্ষণ ও উপযোগিতা বৃদ্ধির ব্যয় রাহনদাতা বহন করিবে।

(ঙ) যেসব ব্যয় নির্বাহের দায়িত্ব রাহনগ্রহীতার উপর বর্তায়, রাহনদাতা স্বেচ্ছাপ্রণােদিত হইয়া যদি তাহা মিটাইয়া দেয়; কিংবা যেসব ব্যয় নির্বাহের দায়িত্ব রাহনদাতার উপর বর্তায়, রাহনগ্রহীতা স্বেচ্ছাপ্রণােদিত হইয়া যদি তাহা মিটাইয়া দেয় তবে তাহা দান হিসাবে গণ্য হইবে এবং পরে কখনো তাহা দাবি করা যাইবে না।

ধারা-৭০০

ধারকৃত বস্তু রাহন রাখা (ক) কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট হইতে কোন বস্তু ধার আনিয়া তাহার অনুমতিক্রমে রাহন রাখিলে উক্ত রাহন বৈধ হইবে। এই ধরনের রাহনকে “রাহন মুসতাআর’ বলা হয়।

(খ) মালের স্বত্বাধিকারী যদি মালটি নিঃশর্তভাবে ধার দিয়া থাকে তবে ধার গ্রহণকারী তাহা যেভাবে ইচ্ছা রাহন রাখিতে পারিবে।

(গ) মালের স্বত্বাধিকারী যদি মালটি শর্তাধীনে ধার দিয়া থাকে তবে ধার গ্রহণকারী কেবল আরোপিত শর্তানুযায়ীই মালটি রাহন রাখিতে পারিবে।

৪১৫

ধারা-৭০১

রাহনের মাল বিক্রয় করা (ক) রাহনদাতা যদি রাহন গ্রহীতার অনুমতি ছাড়াই রাহনের মাল বিক্রয় করিয়া দেয় তবে এই বিক্রয় রাহন গ্রহীতার অনুমতির জন্য স্থগিত থাকিবে অর্থাৎ রাহন গ্রহীতা অনুমতি প্রদান করিলে কিংবা রাহনদাতা ঋণ পরিশোধ করিলে বিক্রয় কার্যকর হইবে।

(খ) রাহনের চুক্তি সম্পাদনের সময় রাহন গ্রহীতা যদি এই মর্মে শর্ত আরোপ করে যে, চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর সে রাহনের মাল বিক্রয় করিয়া তাহার ঋণের অর্থ ওয়াসিল করিতে পারিবে, তবে তা সহীহ হইবে এবং চুক্তিতে উল্লেখিত মেয়াদশেষে সে তাহা বিক্রয় করিবার অধিকারী

হইবে।১২

বিশ্লেষণ

রাহনদাতা রাহন গ্রহীতার সম্মতি ছাড়া রাহনের মাল বিক্রয় করিলে বিক্রয় কার্যকর হইবে না এবং রাহন গ্রহীতা কর্তৃক রাহনের মালটি তাহার নিজের দখলে রাখার অধিকারও বাতিল হইবে না। এই ক্ষেত্রে রাহনদাতা যদি ঋণ পরিশোধ করিয়া দেয় তাহা হইলে বিক্রয় কার্যকর হইবে। অনুরূপভাবে রাহন গ্রহীতা যদি এই বিক্রয় অনুমোদন করে সেই ক্ষেত্রেও বিক্রয় সহীহ হইবে এবং বিক্রয়কৃত মালের পরিবর্তে তাহার মূল্য রাহন হিসাবে গণ্য হইবে। কিন্তু রাহন গ্রহীতা এই বিক্রয়ে সম্মতি প্রদান না করিলে ক্রেতা রাহনের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করিতে পারে।

রাহন গ্রহীতার অনুমতি ছাড়া রাহনদাতা রাহনের মাল বিক্রয় করিলে বিক্রয় স্থগিত থাকিবার কারণ হইলঃ বিক্রয়কৃত রাহনের মালের সহিত রাহন গ্রহীতার অধিকার সংশ্লিষ্ট আছে। রাহনদাতা তাহার এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করিতে পারে

। কিন্তু সে অনুমতি প্রদান করিলে বিক্রয়ের পথে যে প্রতিবন্ধকতা আছে তাহা অপসারিত হইয়া যায়। তাহার অনুমতিক্রমে এই বিক্রয় বৈধ বলিয়া গণ্য হইবে।

৪১৬

ধারা-৭০২

রাহনের মাল বিনষ্ট হওয়া। রাহন গ্রহীতার অধিকারে থাকা অবস্থায় যদি রাহনের মাল বিনষ্ট হইয়া যায় এবং উক্ত মালের মূল্য যদি ঋণের অর্থের সমান হয় তবে রাহন গ্রহীতা রাহনদাতার নিকট হইতে তাহার ঋণের টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করিয়া পাইয়াছে বলিয়া ধরা হইবে। এই ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের কেহই আর কোন দাবি উত্থাপন করিতে পারিবে না।

ধারা-৭০৩ মাল রাহনদাতার নিকট ফিরিয়া আসিলে রাহন গ্রহীতার সম্মতিক্রমে রাহনের মাল রাহনদাতার দখলে ফিরিয়া আসিলে রাহন চুক্তি বাতিল হইয়া যাইবে।

ধারা—৭০৪

রাহনের মাল পুনঃ রাহন রাখা (ক) রাহন গ্রহীতা যদি রাহনদাতার সম্মতি ছাড়াই রাহনের মাল অন্য কাহারও কাছে রাহন রাখে তাহা হইলে পূর্বে সম্পাদিত রাহন চুক্তিটি বাতিল হইয়া যাইবে এবং পরবর্তী রাহনটি “রাহন মুসতাআর’ হিসাবে গণ্য হইবে।

(খ) রাহনদাতা যুদি রাহন গ্রহীতার সম্মতিক্রমে রাহনের মাল তৃতীয় কোন ব্যক্তির কাছে রাহন রাখে তবে প্রথমে সম্পাদিত রাহন চুক্তিটি বাতিল হইয়া যাইবে এবং পরবর্তী রাহনটি কার্যকর হইবে।

ধারা—৭০৫

রাহনের মাল ধার দেওয়া (ক) রাহনদাতা ও রাহন গ্রহীতা একজন আরেকজনের অনুমতিক্রমে রাহনের মাল তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে ধার দিতে পারিবে এবং পরে তাহাদের উভয়েই এককভাবে আবার তাহা রাহনের মাল হিসাবে পূর্বাবস্থায় ফেরতও লইতে পারিবে।১৩

৪১৭

(খ) রাহন গ্রহীতা রাহনদাতাকে রাহনের মাল ধার দিতে পারিবে। এই ক্ষেত্রে রাহনদাতার মৃত্যু হইলে তাহার অন্য সকল পাওনাদারের তুলনায় রাহন গ্রহীতা পুনরায় উক্ত মাল লাভ করিতে অগ্রাধিকার পাইবে।

ধারা-৭০৬

রাহনদাতা নিরুদ্দেশ হইলে রাহনদাতা যদি দীর্ঘকালের জন্য নিরুদ্দেশ হয় এবং সে জীবিত না মৃত তাহা জানা না যায় সেই ক্ষেত্রে রাহন গ্রহীতা রাহনের মাল বিক্রয় করিয়া তাহার ঋণ পরিশোধের জন্য আদালতে আবেদন করিতে পারিবে।

তবে শর্ত থাকে যে, রাহনদাতার জীবিত থাকা বা মৃত হওয়ার বিষয়টি আদালত নির্ধারণ করিবে।

ধারা—৭০৭ মদ, মাদকদ্রব্য, শূকর, কুকুর ইত্যাদি রাহন রাখা মদ, মাদকদ্রব্য, শূকর, কুকুর বা অনুরূপ কোন হারাম বস্তু রাহন প্রদান বা গ্রহণ শরীআ আইনে কোন মুসলমানের জন্য বৈধ নহে, তবে অমুসলিমদের পরস্পরের মধ্যে তাহা বৈধ।

বিশ্লেষণ

মদ, মাদকদ্রব্য, শূকর, কুকুর বা অনুরূপ কোন হারাম বস্তু রাহন রাখা ও গ্রহণ করা কোন মুসলমানের জন্য জায়েয না হইবার কারণ এই যে, একজন মুসলমানের কাছে এইসব বস্তুর কোন উপযোগিতা বা মূল্য নাই। তাই এইসব হারাম বস্তু মাল নহে। যাহা মাল নহে তাহা কোন মুসলমান রাহন রাখিতে পারে

বা রাহনের মাল হিসাবে গ্রহণও করিতে পারে না। তবে অমুসলিমদের ধর্মে তাহা বৈধ হইলে তাহাদের পরস্পরের মধ্যে উহার ভিত্তিতে রাহন চুক্তি বৈধ গণ্য হইবে। যেমন খৃস্টান ও হিন্দুদের ধর্মে শূকর ও মদ বৈধ। অতএব তাহাদের ধর্মে ইহা মাল হিসাবে গণ্য।

৪৮

ধারা-৭০৮, সুলিম ও অমুসলিম পরস্পর রাহন রাখা মুসলিম ও অমুসলিম এবং নারী ও পুরুষ পরস্পরের নিকট কোন মাল করা বৈর

বিশ্লেষণ

এই ক্ষেত্রেও শর্ত একটিই। তাহা হইলঃ যে জিনিসটি বন্ধক রাখা হইবে। তা ইসলাখী শীলা অনুযায়ী মাল হইতে হইবে। মহানবী (স) তাহার লৌহবর্ম এক ইহুদী বণিকের নিকট বন্ধক রাখিয়া ধারে খাদ্যশস্য ক্রয় করিয়াছিলেন, যাহা তাহার মৃত্যুর সময় বন্ধক ছিল।

তথ্য নির্দেশিকা

১. কিতাবুল ফিকহ আল মাহলি আরবাআ, পৃষ্ঠা ৩২০। ২. লিয়া, ৪, চিবুর রহর। এ হিয়া, ৪র্থ, কিতাবুর রাহ্ন, পৃষ্ঠা ৫১১। ৪- হিদায়া, ৪র্থ, জিআৰুব বহন, পৃষ্ঠা ৫৪০। ৫. হিদায়া, ৪র্থ ও ৫০। ১৪ দিয়া, ৪র্থ, কিতাবুর রাহন পৃষ্ঠা ৫১১। 4- হিয়া, গুৱঁ, কিতাবুর রাহন, পৃষ্ঠা ৫১৯। ৮. বিদায়, ৪র্থ ও কিতাকুর রান পৃষ্ঠা ৫০৬। ৯ হিদায়া, ৪, বিস্তাকু নাহ, পৃষ্ঠা ৫০৬। ১০. হিদায়া, য়, কিতাবুর রাহন, পৃষ্ঠা ৫০৭। ১১. ক্লি, এ কিকাকুর বাহন, পৃষ্ঠা ৫০৭।

২. বিকাশ সুন্নাহ, তৃতীয় খণ্ড পৃষ্ঠা ১৬০, দারুল ফিকরিল আরাবী। ১৯. বিদায়া, ৪র্থ, কিতাবুর রাহন, পৃষ্ঠা ৫৩০।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *