১৪. অন্ধকার থেকে বেরিয়ে

চতুদর্শ পরিচ্ছেদ

০১.

 অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতেই মুখে গরম রোদ এসে পড়ল এবং তীব্র আলো চোখের বন্ধ পাতায় পড়তে চোখ ধাঁধিয়ে উঠল।

একটা চলার অনুভুতি পেলাম। বেশ কয়েক সেকেণ্ড পরে বুঝতে পারলাম আমি একটা গাড়িতে শুয়ে আছি এবং কেউ একজন খুব জোরে গাড়িটা চালাচ্ছে।

যন্ত্রণায় চিৎকার করতে ইচ্ছে হচ্ছিল। কারণ একটা যন্ত্রণা ঘাড় বেয়ে মাথার পিছন দিকে ও চোখে ঠেলে উঠতে চাইছে।

চুপ করে নিস্পন্দ হয়ে রইলাম এবং গাড়ীর দোলায় উঠানামা করতে লাগলাম। একটু আরাম বোধ করতেই চোখ খুলে চারপাশে চাইলাম।

আমার সেই ভাড়া করা বুইক গাড়ির পিছনের সীটে আমি শুয়ে আছি। একজন লোক আমার পাশে বসে, তার ইস্পাত রঙের ধুসর প্যান্টের পায়ের দিকটা যে আমাকে জোরে আঘাত করেছিল।

ফর্সা লোকটা গাড়ি চালাচ্ছিল। তার মাথায় হালকা রঙের জোকারের মত একটা টুপি যেটা নামিয়ে প্রায় নাকের উপর নিয়ে এসেছে।

চোখ দুটো অর্ধেক বন্ধ করে জানালার বাইরে চেয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম গাড়িটা কোন্ দিকে চলেছে।

আমরা পামসিটির এক প্রান্তের রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেছি। রবিবারের বিকেলে রাস্তা জনহীন।

মিনিট পাঁচেক পরে দেখতে পেলাম, পাম সিটি পেছনে ফেলে সমুদ্রতীরে যাওয়ার বড় রাস্তায় এলাম। আমি যে দিকটায় থাকতাম, ভাবলাম তারা হয়ত আমাকে আমার বাংলোতে রাখতে যাচ্ছে।

আমার হাত ও মনিবন্ধ ঢেকে রাখার জন্য একটা ছোট কম্বল হাঁটু পর্যন্ত রাখা হয়েছিল। আমার মনিবন্ধ দুটো আড়াআড়িভাবে রেখে আঠা লাগানো ফিতে দিয়ে বাঁধা ছিল। একটু আলগা করার জন্য চেষ্টা করতেই বুঝতে পারলাম এত জোরে লাগান আছে যে মনে হচ্ছে ক্রু দিয়ে আটকান।

কালো লোকটা বলল, মোড়ে ডান দিকে বাঁক নেবে লিউ। ওর বাড়ি হচ্ছে এখান থেকে ডানদিকে প্রায় তিনশো গজ দুরে, যে কোন লোকের বাস করার পক্ষে চমৎকার। এখানে থাকবার সুযোগ পেলে মন্দ হত না।

লিউ অর্থাৎ ফর্সা লোকটা বলল, ওকে বল না কেন উইলে তোমার নামে বাড়িটা লিখে যাবে। ওর তো বাড়িটার আর কোন প্রয়োজন হবে না।

আঃ, গুলি মার। আমার অতটা প্রয়োজন নেই।

 হঠাৎ মনে হল তারা কি উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করছে বুঝতে পারলাম না, কারণ গাড়িটা হঠাৎ গতি কমিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।

কালো লোকটা বলল, এখানে।

 লিউ বলল, ঠিক আছে ওকে নামিয়ে ফেলা যাক।

চোখ বন্ধ করে পড়ে রইলাম। হৃৎপিণ্ডটা পাঁজরায় জোরে ঘা দিতে লাগল।

কালো লোকটা গাড়ি থেকে বেরিয়ে বিপরীত দিকের দরজা খুলে আমাকে চেপে ধরে বার করে নিল।

মাটিতে নামিয়ে রাখা হলে লিউ বলল, তুমি কি খুব জোরে আঘাত করেছিলে নিক? এর এখন মাটির উপর হাঁটা উচিত।

ঠিক ভাবেই মেরেছি কয়েক মিনিটের মধ্যেই তো পৃথিবীর বাঁধন ছিঁড়বে।

দুজনে মিলে কখনও ঘাড়ে তুলে, কখনও বা পথ দিয়ে টানতে টানতে নিয়ে সিঁড়ির উপর ধাপে এনে ফেলল।

নিক বলল, ওর চাবি পেয়েছে?

হ্যাঁ, এই যে।

সদর দরজার তালা খুলে হলঘরের ভিতর দিয়ে আমাকে টানতে টাতে এনে আমারই ইজিচেয়ারে দুম করে ফেলল।

লিউ বলল, ওকি বেঁচে আছে তোমার ধারণা?

অভিজ্ঞ হাত আমার নাড়ি টিপে, বেশ ভালই আছে, মিনিট পাঁচেকের ভিতর জ্ঞান ফিরে আসবে, উঠে বসবে।

ওর ভাল হওয়া দরকার। গ্যালগানোর সঙ্গে কথা বলার আগে যদি লোকটা ফেঁসে যায় তবে গ্যালগানো ক্ষেপে যাবে।

শান্ত হও ভাই, ভালই আছে। কাউকে যখন ফাঁদে ফেলি, ঠিকভাবেই ফেলি। দেখ না, একটু পরেই কেমন নাচ নাচবে।

মৃদু কাতরিয়ে পাশ ফিরলাম।

দেখছ? ঘোর ভাবটা ক্রমশঃ কেটে যাচ্ছে, দড়ি দাও।

লিউ যখন ইজিচেয়ারের পায়ার সঙ্গে দড়িটা বাঁধছিল তখন চোখ খুলে তাকালাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে পিছনে সরে গেল।

চোখ চাইছে, আমার দিকে ঝুঁকে মুখের উপর হাত বুলাতে লাগল। বিশ্রাম নে স্যাঙাৎ। বড়কর্তা তোর সঙ্গে কথা বলতে চায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আসবে।

নিক অধীরভাবে বলল, চলে এস। এখান থেকে যাওয়া যাক। ভুলে যাচ্ছ আমাদের হেঁটে ফিরতে হবে?

লিউ গর্জন করে উঠল।

 ক্লড বদমাশটা একটা গাড়ি পাঠাল না কেন?

তাকেই প্রশ্ন করো।

বুকের উপর বাঁধা দড়িটা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে ঘোঁৎ ঘোঁৎ করতে করতে পিছনে ফেরে নিষ্ঠুর হাসি হেসে।

বিদায় স্যাঙাৎ বলে তারা হলঘরে ঢুকল এবং লাউঞ্জের দরজাটা অর্ধেক খুলে রাখল। সদর দরজা খুলে আবার বন্ধ করার শব্দ পেলাম।

বাংলোয় আবার নীরবতা। এমনকি দেয়াল ঘড়িটার টিক টিক শব্দ ও অস্বাভাবিক লাগছিল।

কয়েক মিনিট ধরে হাতের মনিবন্ধে লাগান আঠামাখা ফিতেটা খোলার বৃথা চেষ্টা করলাম কিন্তু ভোলা সম্ভব নয় দেখে চুপ করে শুয়ে রইলাম।

সেই সময় মনে পড়ল লুসিলিকে আমার বিছানায় বেঁধে রেখে গিয়েছিলাম। হয়ত সে বাঁধন খুলতে পেরেছে। এমনও হতে পারে সে হয়ত আমার বাঁধন খুলে দিতে পারে।

জোরে ডাকলাম, লুসিলি! লুসিলি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?

কিন্তু ঘড়ির টিক টিক শব্দ ও জানালার পর্দার পত পত শব্দ ছাড়া কিছু শুনতে পেলাম না।

 গলার স্বর সপ্তমে চড়িয়ে, লুসিলি তুমি কেমন আছ?

আবার চারিদিক নিস্তব্ধ।

লুসিলি!

দরজা খোলর মৃদু শব্দ পেলাম প্যাসেজের কোথাও, হয়ত আমার শোবার ঘরের দরজা খোলার শব্দ।

মাথাটা একটু তুলে দেখলাম আমার শোবার ঘরের দরজা।

তীক্ষস্বরে বললাম, কে ওখানে? লুসিলি তুমি?

ধীর কিন্তু ভারী পায়ের শব্দ প্যাসেজে এগিয়ে আসছে শুনলাম। ভয়ানক ভয় পেলাম, এত ভয় জীবনে পাইনি।

লুসিলি না। এত ভারী পায়ের শব্দ মেয়েদের হতে পারে না। একজন পুরুষ আমাদের শোবার ঘর থেকে এগিয়ে আসছে।

কে ওখানে? বুকটা ধড়ফড় করে ভয়ে।

ভারী পায়ের শব্দ ধীর গতিতে এগিয়ে লাউঞ্জের দরজার সামনে এসে থামল। দরজার ওপাশে দ্রুত নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পেলাম।

ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম, ভিতরে এস, যেই হও না কেন। ওখানে চোরের মত দাঁড়িয়ে কেন? ভিতরে এসে চেহারা দেখাও।

 দরজাটা আস্তে খুলতে লাগল। সম্পূর্ণ খুলে গেলে দেখলাম দূরজায় দাঁড়ান লোকটি বলিষ্ঠ ও দীর্ঘকায়। পরনে ঘননীল রঙের কোট, ধুসর ফ্ল্যানেলের প্যান্ট ও বাদামীরঙের জুতো। পকেটে হাত ঢুকিয়ে সে দাঁড়িয়ে আছে।

নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন রোজার আইকেন।

.

০২.

 আইকেন ঘরে এসে ঢুকলেন, তার ধীর কিন্তু সংযত মুখের ভঙ্গি দেখে একটু স্বস্তি পেলাম।

সঙ্গে সঙ্গে খেয়াল হল তিনি খুড়িয়ে হাঁটছেন না, স্বাভাবিক ভাবেই চলাফেরা করছেন। মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি প্লাজা গ্রিলের সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে পা ভেঙেছে।

সব যেন স্বপ্ন মনে হল। ইনিই আইকেন, তবুও মনে হল ইনি যেন আইকেন নন। উজ্জ্বল চোখ ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বে ভরা মুখ দেখে মনে হচ্ছিল এ অন্য আইকেন যাকে আমি চিনি না এবং যে কেবল আমাকে ভয় দেখায়। সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল।

তোমাকে মনে হচ্ছে ভীষণ ভয় দেখিয়েছি, স্কট।

আর কোন সন্দেহ রইল না ইনিই আইকেন।

কর্কশ কণ্ঠে বললাম, হ্যাঁ। বেশ ভালভাবেই ভয় দেখিয়েছেন। আপনার পা দেখছি খুব তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে গিয়েছে।

তিনি জ্বলজ্বল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ঐ ধরনের কোন কিছুই ঘটেনি। আমার স্ত্রীর সাথে তুমি যাতে পরিচিত হও তার জন্যই এই ব্যবস্থা করেছিলাম।

আমি কোন কথা বলতে পারলাম না, চুপ করে শুয়ে তার দিকে চেয়ে রইলাম।

তিনি এগিয়ে একটা চেয়ারে বসলেন।

ভারী সুন্দর তোমার বাংলো, স্কট। একটু নির্জন কিন্তু সুবিধা অনেক। অন্য মেয়েদের সঙ্গে প্রেম করে তুমিই কি তাদের স্বামীদের বোকা বানাবার চেষ্টা কর?

কোন দিনই একত্রে বেশিক্ষণ থাকিনি বা কোনদিনই তার শরীর স্পর্শ করিনি। অত্যন্ত দুঃখিত, হাত পা খুলে দিলে বেশ ভালভাবে গুছিয়ে বলতে পারব, অনেক কথাই বলার আছে।

লুসিনির জন্য দুশ্চিন্তা হচ্ছিল, সেকি পালাতে পেরেছে, নাকি এখনও বাংলোতে আছে? বিছানায় যদি বাঁধা থাকে তবে আইকেন নিশ্চয়ই জানেন, তিনি তো শোবার ঘর থেকেই বেরিয়ে এলেন।

আইকেন সোনার সিগারেট কেস থেকে একটা সিগারেট বার করে ধরালেন।

 ভাবছি যেমন আছ সেই ভাবেই তোমাকে রেখে যাব। যাইহোক ইতিমধ্যে কথা বলা যাক।

আমার মাথায় তখন এক অদ্ভুত চিন্তা, আমার শরীরটা ভাবতেই শক্ত হয়ে উঠল তার দিকে চাইলাম। আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য যে লোকটি আসবে লিউ জানিয়েছিল তিনি এবং ইনিই কি একই ব্যক্তি। যাকে আমি রোজার আইকেন নামে জানতাম, লিউ এবং তার সাকরেদরা তাকেই আর্ট গ্যালগানো নামে চেনে। চিন্তাটা অদ্ভুত হলেও যুক্তিপূর্ণ।

হ্যাঁ, তুমি ঠিকই ভেবেছ, আমি গ্যালগানো।

আড়াআড়ি ভাবে পায়ের উপর পা চাপিয়ে বসলেন।

 ইনটারন্যাশানাল থেকে আমি যা পাই তা দিয়ে আমি যেভাবে আড়ম্বরের সঙ্গে জীবন যাপন করি তা কি সম্ভব, স্কট? তিন বছর আগে লিটল ট্যাভার্ন ক্লাব কিনে নেওয়ার একটা সুযোগ আসে এবং আমি সেটা কিনে নিই। এই শহরে বড়লোকের বাস। সমাজের অপাঙক্তেয় ধনী লোকে গোটা শহর ভর্তি, তাদের করার মত কোন কাজ নেই। একজন আর একজনের বৌ নিয়ে পালিয়ে মদ খেয়ে বেড়ায়। আমি জানতাম এদের সুযোগ দিলে জুয়া খেলতে দ্বিধা করবে না। তাদের জন্য সে সুযোগ করে দিলাম।

গত তিন বছর ধরে লিটন ট্যাভার্নে জোর জুয়ার আড্ডা চলছে এবং আমার ভাগ্যও ফিরে গিয়েছে। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান। লিটল ট্যাভার্ন যে অঞ্চলে সেই অঞ্চলের দায়িত্বে ছিল ও ব্রায়ান। কোন জুয়ার আড্ডা সন্দেহ হলে রিপোর্ট করার কাজ ছিল তার। সে আবার পুলিশ কমিশনারের মাথার মনি, প্রথম দিকে একটা বোঝাপড়া থাকলেও পরে তার লোভ ক্রমশঃ বেড়ে চলল। আচ্ছা থেকে পাওয়া লাভের টাকা আমার কাছে আসার বদলে তার কাছে যেতে লাগল। দাবীর চোটে সে আমাকে উত্যক্ত করে তুলল। ব্ল্যাকমেলার হিসেবে সে ছিল প্রথম শ্রেণীর। পাঁচ ছয় মাস পরে দেখা গেল লিটল ট্যাভার্ন কেনার আগে আমার যা আয় ছিল বর্তমান আয় তার চেয়েও কম। তার লোভ এতই বেড়ে চলল যে অনেক সময় ইনটারন্যাশনালের মুনাফার টাকা থেকে তার দাবী মেটাতে হত। এ ব্যবস্থা বেশিদিন চলতে পারে না।

চারটে বাজল। বিকেলের পড়ন্ত রোদ জানলার খড়খড়িতে এসে পড়ল।

চুপ করে শুয়ে এমন একজন লোকের কথা শুনছিলাম যিনি আমার বড়সাহেব এবং দেশের বিজ্ঞাপন ব্যবসায়ের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। তার বিরাট আকৃতি। বলিষ্ঠ চেহারা এবং সুন্দর পোশাকে এখনও তাকে সুন্দর ও গম্ভীর দেখাচ্ছিল। আমার কাছে কিন্তু তার মূল্য এখন অনেক কম।

তিনি আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে আমার দিকে চেয়ে হাসলেন। ও ব্রায়ানের মত একজন ব্ল্যাকমেলারের মুখ বন্ধ করার একমাত্র পথ হচ্ছে তাকে হত্যা করা। পুলিশের একজন লোককে হত্যা করা বেশ বিপদের স্কট। সমস্ত পুলিশ বাহিনীর কাছে যেন একটা চ্যালেঞ্জ এবং তারা হত্যাকারীকে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করে। আমি মোটামুটি একটা প্ল্যান করেছিলাম, সমস্ত ঘটনাকে আমি বৃহৎ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম যে যদি একটা মানুষকে হত্যা করতেই হয় তবে তা থেকে রেহাই পাবার মত সব ব্যবস্থা আগে থেকেই করে রাখতে হবে।

ভয়ানক আর্থিক অসুবিধায় পড়েছিলাম। ইনটারন্যাশানাল থেকে ইতিমধ্যেই পনের হাজার ডলার সরিয়েছিলাম এবং সেটা খুব বেশিদিন চেপে রাখা সম্ভব হত না। এছাড়া সর্বত্র দেনা হয়ে গিয়েছিল। অবশ্য ও’ব্রায়ানের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেলে জুয়ার আড্ডার আয় থেকে এই দেনা শোধ করতে এক সপ্তাহের বেশি লাগবে না। ও’ব্রায়ানের পরে সেই পদে যে আসবে তার পক্ষে নাইট ক্লাবের রহস্য জানার আগেই আমি আজ্ঞা তুলে দিতে পারব। সুতরাং আমাকে তাড়াতাড়ি টাকা তুলতে হবে। ঠিক সেই সময় তোমার কথা মনে পড়ে। আগেই শুনেছিলাম তোমার কিছু টাকা জমা আছে। তোমার কাছে টাকাটা ঠকিয়ে নেওয়ার একটা প্ল্যান করে নিয়েছিলাম, স্কট। সেই জন্যই নিউইয়র্ক অফিসের অবতারণা এবং তুমিও ফাঁদে ধরা দিয়েছিলে।

লুসিলির কথা মনে পড়ল তার শান্ত কিন্তু ভয়ংকর কথাবার্তা শুনতে শুনতে। আইকেনের আসার আগে লুসিলি কি বাঁধন খুলে চলে গিয়েছে অথবা সে এখনও আমার শোবার ঘরে আছে–একথা জিজ্ঞাসা করতে সাহস হল না। ওর মুক্তি পাওয়ার সুযোগ কম।

তিনি বলে চললেন, যদি সবকিছু ভণ্ডুল হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বাঁচার একটা পথ করে রেখেছিলাম। কেবল মিসেস হেপল ও লুসিলি জানত। মিসেস হেপল অনেকদিন আমার সঙ্গে আছেন এবং তাকে বিশ্বাস করা যায়। লুসিলি…সম্পর্কে কিছু বলে নিই। সে ছিল লিটল ট্যাভার্নের একজন নর্তকী। যখন ক্লাবটা কিনে নিই তখন সতর্ক ছিলাম যাতে ক্লড ছাড়া অন্য কেউ জানতে না পারে আইকেন কে। সেখানে খদ্দের হিসেবে আমি যেতাম। মেয়েটার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি। জীবনে এটা এক বিরাট ভুল। সে সুন্দরী, যুবতী ও আমুদে। কিন্তু কোন মেয়ের যদি রূপ থাকে এবং মাথামোটা হয় তবে যে কেউ তাকে নিয়ে কিছুদিন পরে ক্লান্ত হয়ে পড়বে।

যাই হোক তার একটা গুণ ছিল তাকে যা করতে বলি সে তাই করত। তার মুখ ভাই রস একই ভাবে আমার কথায় ওঠাবসা করত। যখন লিটল ট্যাভার্ন কিনে নিই তখন সে সেখানে কাজ করত। এদের দুজনকে কি করতে হবে বুঝিয়ে বললাম, ও ব্রায়ান যদি এভাবে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে তবে লিটল ট্যাভার্ন উঠে যাবে। রসের চাকরি চলে যাবে এবং লুসিলি দেখবে এক গরীব লোকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। আমারই উপদেশমত লুসিলি তোমাকে গাড়ি চালাতে শেখানোর জন্য অনুরোধ করেছিল–ভাল উপদেশ আশা করি। কঠিন হাসিতে বলল, যখন প্রস্তুত হলাম তখন লুসিলিকে বললাম তোমাকে নিয়ে সমুদ্রের ধারে যেতে। ও ব্রায়ানকে বললাম সেখানে তার সঙ্গে দেখা করব। তার মাসিক প্রাপ্য পাওনা হয়েছিল। দুজনের সেখানে সাক্ষাৎ হল। আমি যখন তার সঙ্গে কথা বলছিলাম রস পিছন থেকে এসে মাথায় আঘাত করে তাকে অচৈতন্য করে ফেলে। ইতিমধ্যে লুসলি ও তুমি সেখানে এক নাটক করছিলে। কি ভাবে আচরণ করতে হবে লুসিলিকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম।

তুমি তার প্রতি আসক্ত হয়ে উঠবে এটার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। কারণ সেক্ষেত্রে তোমার মনে একটা অপরাধবোধ জাগবে। লুসিলি তোমার গাড়ি নিয়ে পালাবে সেটারও প্রয়োজন ছিল। পুরুষের মনস্তত্ব আমার ভালভাবেই জানা ছিল এবং জানতাম যে আমি যেভাবে চেয়েছিলাম তুমি সেভাবেই কাজ করে যাবে। লুসিলি গাড়িটা নিয়ে আমার কাছে আসে। দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সাজান খুব কঠিন নয়। ও ব্রায়ান রাস্তায় শুয়েছিল। তার উপর দিয়ে গাড়িটা চালিয়ে দিলাম। রাস্তার মাঝখানে তার মোটর সাইকেলটা রেখে খুব জোরে চালিয়ে সেটার উপর এসে পড়লাম। ভেঙ্গে একেবারে চুরমার হয়ে গেল। গাড়িটা লুসিলি ও রসের হাতে তুলে দিয়ে বললাম, তোমার বাংলোয় নিয়ে যেতে।

আপনি একটা ভুল করেছিলেন, সব হত্যাকারীই এ ধরনের ভুল করে। ও’ব্রায়ানকে পিছনের চাকায় চাপা দেন। আর তার মোটর সাইকেলটা গুঁড়িয়ে দেন সামনের চাকা দিয়ে। এ থেকেই। আমি বুঝতে পারি ব্যাপারটা গোলমেলে। যে ভাবে আপনি ঘটনাটা সাজিয়েছিলেন তাতে অ্যাকসিডেন্টে ও ব্রায়ানকে চাপা দেওয়া দেখান যেত না।

তিনি ভুরু কুঁচকিয়ে বললেন, তাতে কিছু এসে যায় না। এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য তুমি গাড়িটা মেরামত করে নিয়েছিলে। বুদ্ধিমানের মত তুমি গাড়ির নম্বরটা পালটিয়ে নিয়েছিলে। কিন্তু তোমাকে নম্বর প্লেট হাতে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে রস একটা ছবি তোলে। ছবিটা দেখে আমি বুঝতে পারি তোমাকে আমি যেভাবে ফাসাতে চেয়েছিলাম তুমি সেভাবেই ফেঁসেছ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের কথা যে তুমি চালাক হতে চেয়েছিলে। তার চেয়েও দুঃখের যে তুমি লেন মেয়েটার ঘরে গিয়েছিলে। এতে আমার পক্ষে জটিলতার সৃষ্টি হয়। জানতাম যে এই মেয়েটার হাত থেকে আমাকে মুক্তি পেতে হবে। কারণ ও ব্রায়ান ইতিমধ্যেই তাকে বলেছিল যে, সে আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চাইছে। ফলে তার পক্ষে ধারণা করে নেওয়া স্বাভাবিক যে ও’ব্রায়ানের মৃত্যু অ্যাকসিডেন্টে ঘটেনি।

আমার লোকেরা সবসময় তার ওপর নজর রাখত এবং সেটাও সে জানত। সে এবং নাটলে ভয় পেয়েছিল। তারা শহর থেকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল যেখানে আমার নাগাল যাবে না। কিন্তু তাদের পালিয়ে যাবার মত অর্থ ছিল না। সুতরাং তুমি যখন তাদের সামনে হাজির হলে, সে দেখল অর্থ সংগ্রহ করার এই সুযোগ। আমার লোকেরা বলল তুমি তার ঘরে ঢুকেছ। সেখানে যেতে একটু দেরি হয়েছিল, অবশ্য সে যে তোমাকে উল্টোপাল্টা কথা বলেছিল সেটা শুনতে পেয়েছিলাম। আমি ঘরের বাইরে অপেক্ষা করছিলাম, বেরিয়ে আসতেই তাকে হত্যা করি। নাটলের হদিশ প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম কিন্তু সৌভাগ্যবশত আমার একজন লোক এসে বলল যে তোমাকে এবং নাটলেকে ওয়াশিংটন হোটেলের একটা ঘরে সে দেখেছে। সোজা সেখানে গিয়ে তাকে গুলি মেরে হত্যা করি। রাতের কেরানীটারও দিন ঘনিয়ে এসেছিল। নাটলের ঘরে যাবার জন্য সে আমার কাছে একশ ডলার নেয়। বাইরে বেরিয়ে আসার সময় সেইজন্য তাকে হত্যা করি। তানইলে পরে সে আমাকে চিনে ফেলত। তার লাল মাংসল মুখে হাত বুলিয়ে আমার দিকে চেয়ে রইলেন।

একবার হত্যা করলে তখন সেটাকে চাপা দেওয়ার জন্য সহজেই আবার হত্যা করার প্রয়োজন হয়, স্কট। কিন্তু সমস্ত ঘটনা তাতে জটিল হয়ে পড়ে। একবার একজনকে হত্যা কর, পরে প্রথম হত্যারকারণ চাপা দেওয়ার জন্য আবার হত্যাকরতে হবে। আবার দ্বিতীয় হত্যাকে চাপা দেওয়ার জন্য হত্যা করতে হবে।

কর্কশ কণ্ঠে বললাম, আমার ধারণা আপনি মানসিক দিক থেকে সুস্থ নন। ও থেকে মুক্তি পাবার আশা করবেন না।

নিশ্চয়ই পাব। এই সময় আমি পা-ভাঙ্গা অবস্থায় বিছানায় শুয়ে থাকা ছিল বাঁচবার সহজ উপায়। কারও মনে সন্দেহই হবেনা যে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত। তাছাড়া অপরাধের সমস্ত দায়িত্ব তোমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেব। তোমার এখানে একটা টাইপরাইটার আছে। এতে আমি একটা অর্ধ সমাপ্ত ভাবে টাইপ করে রাখব যাতে তোমার অপরাধ স্বীকারের প্রথম দিকটা টাইপ করা থাকবে। এ থেকে পুলিশ বুঝতে পারবে যে, তুমি ও’ব্রায়ানকে অ্যাকসিডেন্টে চাপা দিয়ে মেরেছিলে এবং সুসিলি ও রস তোমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল। তোমাকে বলতে ভুলে গিয়েছি যখন আমার লোকেরা তোমাকে এখানে নিয়ে আসছিল তখন আমি কাকে তার বাংলোয় নিয়ে গিয়ে নাটলেকে যেবন্দুক দিয়ে হত্যা করেছিলাম সেই বন্দুক দিয়ে তার মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করেছি। প্রতিবন্ধক যারা, তাদের আমি পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিই, স্কট।

রসের ব্যাপারে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তার চেয়ে বেশি লুসিলিকে নিয়ে। তোমার সেই অপরাধ স্বীকার করা চিঠিটায় আবার ফিরে আসা যাক, স্কট। পুলিশের লোক চিঠি থেকে জানবে লেন ও তার এজেন্ট নাটলে তোমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল আর সেজন্য তুমি তাদের হত্যা করেছিলে। তুমি যে তাদের হত্যা করেছিলে পুলিশ তার যথেষ্ট প্রমাণ পাবে। আর তারা এও পড়বে যে তুমি রসের বাংলোয় গিয়ে তাকে হত্যা করে নিজের বাংলোয় ফিরে এসেছিলে। আসার সময় লুসিলিকে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে এনে তোমার নেকটাই তার গলায় বেঁধে শাসরোধ করে তাকে হত্যা কর।

অস্বস্তি ভরে বললাম, আপনি কি লুসিলিকে হত্যা করেছেন বলতে চান?

আইকেন বললেন, অবশ্যই। এ ধরনের সুযোগ হেলায় হারানো যায় না। যখন লুসিলিকে বিছানার সঙ্গে অসহায় অবস্থায় বাঁধা দেখতে পেলাম তখন মনে হল তার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায় হচ্ছে তোমার একটা রঙীন নেকটাই তার নরম নির্বোধ গলায় জড়িয়ে টান দেওয়া। খুব সহজ ব্যবস্থা, স্কট। রস ও লুসিলি দুজনের হাত থেকেই মুক্তি পেলাম। একজন ব্ল্যাকমেলারের হাত থেকে মুক্তি পেলাম যে আমার সর্বনাশ ডেকে এনেছিল। ভগবানের আশীর্বাদের মত হ্যাকেট একলক্ষ ডলার নিয়ে উপস্থিত হল, এখন তোমার টাকা প্রয়োজন নেই। আমি আবার ব্যবসা শুরু করতে পারব। এমন কি জুয়ার আড্ডা যদি চালু না রাখতে পারি তাহলে একলক্ষ ডলারও আমার প্রতিভা নিয়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করবো।

রেহাই পাচ্ছেন না আপনি, তার দিকে চেয়ে বললাম, অনেকেই জানে। ক্লড জানে তার সাকরেদ দুজনে জানে…

সেই কঠিন হাসি তার মুখে দেখা গেল।

আমার ভরাডুবি হলে তাদেরও হবে, এটা তারা জানে। এখন বাকী বিবেকের তাড়নায় তোমার নিজেই নিজের শিকার হওয়া স্কট। এখন আত্মহত্যা করা। এত খুন করার পর জীবন তোমার কাছে দুর্বিসহ হয়ে নিজের জীবনের ইতি টেনেছ, পুলিশের লোক শেষ পর্যন্ত জানবে।

পকেট থেকে চামড়ার দস্তানা বার করে আইকেন ডান হাত প্যান্টের পিছন পকেট থেকে ৪৫ পিস্তল বার করলেন।

এটা নাটলের পিস্তল তিনি বলে চললেন। এই পিস্তলে নাটল ও রসকে মারা হয়েছিল। এখন তোমাকে মারা হবে। আমি অত্যন্ত দুঃখিত, স্কট। চিরদিনের মত তোমাকে হারাব, তুমি অভিজ্ঞ ও দক্ষ, কিন্তু এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার আর কোন পথ নেই। আশ্বাস দিচ্ছি কষ্ট পাবে না। কানে গুলি করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ হারাবে।

আমি আঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। ধীরে ধীরে আমার দিকে আসতে দেখলাম, পিস্তলটা কাঁধে ঝোলান। এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠল।

 জীবনের এক চরম মুহূর্ত, যা ভুলতে পারব না।

আইকেন দরজার দিকে চাইলেন, তাঁকে বুড়ো আঙুলে দিয়ে পিতলের সেফটি টেনে ধরতে দেখলাম।

আইকেন সেখানে দাঁড়িয়ে কান খাড়া করে শুনতে লাগলেন।

ওরা জানতে পারবে আমি ভিতরে আছি, কর্কশ গলায় বললাম, গাড়িটাও বাইরে আছে।

 আমার দিকে চাইলেন, তার মুখ থেকে গর্জনের মত শব্দ বেরিয়ে এল।

একটা শব্দ করলে শেষ করে দেব, তিনি বললেন।

সদরে ঘণ্টা বেজে গেল।

আইকেন নিঃশব্দে হলের দিকে চেয়ে দেখলেন, তার পিঠ এখন আমার দিকে এবং ঘরের দরজার দিকে ফেরানো। ছোট দরজায় ছায়া দেখা গেল। দীর্ঘকায়, বলিষ্ঠ চেহারার লেফটেন্যান্ট ওয়েস্ট ঘরে ঢুকলেন। তার হাতে ৩৮ পিস্তল।

আমার দিকে না, আইকেনের দিকে তিনি চেয়ে ছিলেন।

পিস্তল উঁচু করে গর্জে উঠলেন, হাত তোল, আইকেন। পিস্তল ফেলে দাও।

আইকেনের দেহ কেঁপে উঠলো। ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি পিস্তল তুলে ধরলেন, ভয় ও রাগে তার মুখ বিকৃত হয়ে গেছে।

ওয়েস্ট তাকে গুলি করলেন।

আইকেনের পিস্তলও গর্জন করে উঠল কিন্তু তিনি মাটিতে ঢলে পড়ছেন, বুলেটটা কাঠের মেঝেয় গর্ত করে বেরিয়ে গেল। আইকেনের চোখে রক্তের চিহ্ন দেখা দিল। সশব্দে পড়লেন মেঝের ওপর। শেষবারের মত নড়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন। আর আঙুল থেকে পিস্তলটা ছিটকে গেল, ওয়েস্ট গভীর ভাবে পিস্তলটা তুলে নিলেন।

বাইরে শব্দ শোনা গেল। পুলিশের লোক বন্দুক হাতে ভিতরে এসে ঢুকল।

ঠিক আছে, ঠিক আছে, ওয়েস্ট বললেন। শেষ করে দিয়েছি।

পিছনের পকেটে পিস্তলটা রেখে, আমার দিকে এসে হেসে বললেন, ভীষণ ভয় পেয়েছেন নিশ্চয়?

তার দিকে চাইলাম, এত ভয় পেয়েছিলাম যে কথা বলার শক্তি ছিল না।

ওয়েস্ট যখন হাতের ফিতে খুলছিলেন, জো ফোলাস ছুটে ঘরে এসে ঢুকল। তার চোখ ও মুখ চকচক করছে।

এই যে, চেস! আমি উঠে বসে মনিবন্ধে হাত ঘষছিলাম, সেখানে সাড় ফিরিয়ে আনতে। এখন ঠিক আছ তো?

হ্যাঁ, বললাম। তুমি কি করছ?

আমিই পুলিশ ডাকি, সে বলল। আইকেনের মৃতদেহ দেখতে পেল। পিছন দিকে সরে এল। হায় ভগবান! মরে গিয়েছে?

দেখুন আপনারা দুজনে, ওয়েস্ট বললেন, বাইরে বেরিয়ে আসুন। টলতে টলতে যখন দাঁড়ালাম, ওয়েস্ট আমার কাঁধে টোকা মেরে বললেন, আপনাদের সঙ্গে কথা বলার আগে বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করুন, চিন্তা করবেন না। আইকেনের কথা শুনেছি, আপনার বিপদের কোন কারণ নেই? বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করুন।

আইকেন কি লুসিলিকে মেরে ফেলেছেন?

হ্যাঁ, ওয়েস্ট বললেন। লোকটা উন্মাদ হয়ে গিয়েছিল। এটা কি সত্যি লিটল ট্যাভার্নে তার জুয়ার আড্ডা ছিল?

কোটের ভাজে হাত রাখলাম। ক্যামেরাটা তখনও সেখানে ছিল। সেটা বার করে ওয়েস্টের হাতে দিলাম, এতে জুয়ার আড্ডার ছবি আছে। ইনক্যোয়ারার আমাকে ক্যামেরাটা দিয়েছিল।

মনে হচ্ছে বিকেলটা ব্যস্তভাবে কাটবে। বারান্দায় আমার জন্য অপেক্ষা করুন, টেলিফোনের দিকে গেল।

একজন পুলিশ জো এবং আমাকে ঠেলতে ঠেলতে বারান্দায় নিয়ে এল। আমরা বসসে বসতে, পুলিশ দুজন বিরক্ত হয়ে আমাদের দিকে চাইল।

ক্লাবের পিছন দরজা দিয়ে লোক দুজনকে বার করে আনতে দেখলাম, জো বলল। আমি তাদের অনুসরণ করি, ভাবলাম তুমি বিপদে পড়েছ। বাংলো পর্যন্ত তাদের অনুসরণ করি, কিন্তু একা তাদের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়। তখন পুলিশ ডাকতে যাই।

ধন্যবাদ জো, বলে চেয়ারে গিয়ে বসলাম। ভীষণ খারাপ লাগছিল।

কয়েক মিনিট যেতে জো বলল, মনে হচ্ছে আমরা দুজনে চাকরি হারাব।

 না, হারাব না। কোন একজনকে ইনটারন্যাশানাল চালাতে হবে, আমাদের এটা বিরাট সুযোগ জো।

তা বটে। আমি ভেবে দেখিনি, আইকেন নিশ্চয়ই উন্মাদ ছিল। আমার কিন্তু মনে হত ওর কোথাও একটা গণ্ডগোল আছে।

আইকেনের মুখের কথা তুমি শুনেছ?

সমস্তক্ষণ আমি বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলাম। সব সময় ভয় হচ্ছিল আমাকে দেখে ফেলবে। ঐ দৈত্যের মত লোকটা না থাকলে জানি না কি করতাম।

আমি নিজেও ঠিক একই কথা ভাবছিলাম, আমি বললাম।

তারপর আমরা কোন কথা বলিনি, আমরা বলেছিলাম, প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে লেফটেন্যান্ট ওয়েস্ট বারন্দায় এলেন।

ক্লড এবং সঙ্গী দুজন ধরা পড়েছে, তিনি বললেন। তার মুখ খুশিতে ভরে উঠল। দুই ওয়াগন ভর্তি শহরের গন্যমান্য লোককে ধরা হয়েছে, তাদের জেলে পাঠান হবে। আগামী কাল খবরের কাগজে ছাপা হবে। সেখানে ওয়েস্ট আমার দিকে চাইলেন। ঠিক আছে, সবকিছু আমাদের আবার খুঁটিয়ে দেখতে হবে। আমি এখনও সঠিক তথ্য জানি না। আপনাকে একবার থানায় আসতে হবে এবং আমরা সব কিছু লিখে নেব। যান, এখন কথা বলুন গে।

আবার কথা শুরু করলাম আমরা…..