০১. জীবনের ধ্রুবতারা

হানিমুন

০১.

আমার জীবনের ধ্রুবতারা মার্গারেট। একেবারে অসম্ভব আমার ওকে ছাড়া নিজেকে কল্পনা করা। আমি মরে যেতে পারি ওর জন্য অকাতরে। সম্পূর্ণ নিঃশেষ করে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারি একটু একটু করে। কারোরই অস্তিত্ব নেই এই মুহূর্তে আমার কাছে মার্গারেট ছাড়া। নেই কোনো কিছুরই। আমি জানি না অন্যায় কাকে বলে। আমি আরো হাজারবার সেই অপরাধ করতে রাজি, মার্গারেটকে ভালবাসাটা যদি আমার অন্যায় কিংবা অপরাধ হয়। বিন্দুমাত্র পাপবোধ নেই আমার মধ্যে। পাগল হয়ে যাই আমি অষ্টাদশী মার্গারেট যখন তার ছিপছিপে যৌন আবেদনময়ী শরীর নিয়ে আমার কাছে আসে। আমি রাজি আছি পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত যেতে যদি ওকে কাছে পাই। ওর সামান্য একটু স্পর্শ পাই, এমনকীনরকে যেতেও দ্বিধা নেই আমার। আমার মার্গারেট আমার একান্ত ভাবেই আমার। অন্য কোনো নারী যে আমার জীবনে আগে আসেনি সেটা কিন্তু ঠিক কথা নয়। আমার সমস্ত সত্ত্বা অধিকার করে নিয়েছে। মার্গারেট আমার জীবনের প্রথম মেয়ে। আমি এমন ভাবে নিজেকে কারো কাছে উৎসর্গ করিনি। ওরই মতো ও। ওর নিজের মত। আমি থামাতে পারি না আমার সংযম যখন ও ওর সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার ফরসা শরীরটা নিয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। তখন জোয়ার ওঠে আমার রক্তের মধ্যে। নিমেষের মধ্যে ভেঙ্গে যায় তখন আমার সমস্ত সংযমের বাঁধ। আদিমতম জীব হয়ে উঠি তখন আমি।

পিটার আমার নাম। বিখ্যাত এক বছর উনিশশো সতেয়োয় আমি জন্মেছিলাম। বছরটা ছিল রুশ বিপ্লবের। বিট্রিশনাগরিক ছিলেন আমার বাবা। মার্কিনীরক্ত ছিল তার শরীরে। ভারতীয় ছিলেন আমার মা। তিনি ছিলেন বোম্বাই-এর এক অভিজাত পরিবারের মেয়ে। হোটেল ব্যবসা ছিল বাবার লন্ডন শহরে। পরে তিনি ভারতে যান এবং সেখানে বোম্বাইতে একটি হোটেল খোলেন। সোজাসুজি বলা চলে, ভাগ্য ফেরানোর জন্যই তিনি লন্ডন থেকে সুদুর বোম্বে যান। তিনি হোটেল খোলেন বোম্বাইয়ের ইন্ডিয়া গেটের কাছে। সেখানে রাখেন একজন কর্মচারী। প্রায়ই তাকে করতে হত লন্ডন আর বোম্বাই। আমার মা আত্মহত্যা করেন যখন আমার ঠিক দশ বছর বয়স। আমি আজও জানতে পারিনি তিনি যে কেন আত্মহত্যা করেন। মামার বাড়ি বোম্বেতে আমি ছিলাম মা মারা যাবার সময়। মা ছবি হয়ে দেওয়ালে ঝুলছিল যখন আমি ট্রাঙ্ককলে খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছালাম। তার দেহে হঠাৎ আগুন লেগে গিয়েছিল এটা আমি বাবার কাছে শুনলাম। অন্যরকম বক্তব্য ছিল কিন্তু আমার ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীদের। বাবার সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি নিজেই গায়ে আগুন ধরান এটা আমি শুনেছিলাম আমার প্রতিবেশীদের কাছে। বাবা নিজেই মার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন এটা ছিল কারো কারো বক্তব্য। মায়ের আলমারী থেকে মায়ের লেখা একটা চিঠি আমি পেয়েছিলাম অবশ্য পরে। আমার কাছে তাতেই পরিষ্কার হয়ে যায় আত্মহত্যার ব্যাপারটা। তিনি অবশ্য লেখেননি যে কেন তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। আমার হৃদয়টা বেদনায় ভরে ওঠে মাকে মনে পড়লেই। আমাকে তিনি খুবই ভালবাসতেন। মা মারা যাবার পর বাবা দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় মহিলাকে এনে রেখেছিলেন নিজের কাছে। মহিলাটি যে বাবার প্রেমিকা তা আমি একদিন আবিষ্কার করেছিলাম। রীতিমতো যৌন সম্পর্ক ছিল ওর সঙ্গে বাবার। একদিন স্কুল থেকে ফিরে এসে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। তারপর দরজার একটি ছোটো ফুটো দিয়ে চোখ লাগালাম কৌতূহলবশতঃ। দেখলাম বাবা উন্মত্তের মতো চুম্বন করছেন সেই মহিলাকে। এক চিলতে পোশাক নেই দুজনের কারো শরীরেই। আমাকে খুবই ভালবাসতেন সেই মহিলা। ওকে ভালই লাগত আমার। এলিজাবেথ নাম ছিল ওঁর। এলিজা বলে ওকে ডাকতেন বাবা। আমি ডাকতাম ওকে মা বলেই। মোটামুটি শিক্ষিতা ছিলেন তিনি। মায়ের রূপের প্রশংসা করতেন তিনি মায়ের ছবি দেখে। যদিও তিনি ব্রিটিশ তবু তার একটা শ্রদ্ধা ছিল ভারত সম্বন্ধে। তিনি সুযোগ পেলে ভারতে যাবেন একথা তিনি প্রায়ই বলতেন। একজন কর্মচারী দেখতেন বোম্বেতে বাবার হোটেলটা। হোটেলটা সক্স গিয়ে দেখাশুনা করবেন এটাই ছিল তার ইচ্ছা। কিন্তু আর হয়ে ওঠেনি সেটা।

নিয়মিত স্কুলে যেতাম আমি। বলা যেতে পারে, যে আমি পড়াশুনাতেও ভালই ছিলাম। আমি স্কুলে পড়তে পড়তেই শেষ করে ফেলেছিলাম শেক্সপিয়ারের সব বই। আমি গোগ্রাসে গিলতাম কীটস, শেলী প্রভৃতির লেখাও। স্কুল থেকে খুব বেশী দূরে ছিল না আমাদের ফ্ল্যাট। যাওয়া আসা করতাম নিজেই। চোদ্দ বছর বয়সে হঠাৎ একদিন ঘুম ভেঙে গেল আমার ভোররাতে। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার পাজামা ভিজে গেছে। আমি ভয় পেয়ে গেলাম, তবে কি প্রস্রাব করে ফেলেছি ঘুমের ঘোরে। কিন্তু দুধের মত সাদা আঠালো পদার্থ আমি হাত দিয়ে দেখলাম। এটা তো প্রস্রাব নয়। ঘটনাটা আমি সম্মাকে বলতে গেলাম, কারণ কিছুই লুকোতাম না আমি ওঁর কাছে। তিনি আমার সব কথা শুনলেন তার পর আমার গাল টিপে বললেন, পিটার, বড়ো হয়ে গেছ এখন তুমি।

পরে আমি এ ব্যাপারে আমার এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, কারণ আমি কিছুই বুঝতে পারি নি, সে আমাকে জিজ্ঞেস করল। তোর কোন মেয়েকে ভাল লাগে?

কেন, কই না তো।

বছর তিনেকের বড় ছিল আমার চেয়ে বন্ধুটি। এক ক্লাস উঁচুতে পড়ত সে। সে হেসে বলল, একটা মেয়ের সঙ্গে প্রেম কর, সবই বুঝতে পারবি।

করেছিস তুই।

হেসে বলল বন্ধুটি, বান্ধবী একটা আছে আমার। সেরকম কিন্তু কেউ নেই আমার। ভারতে এই সময় চলে গেলেন আমার বাবা। থেকে গেলাম আমি আমার সৎ মায়ের কাছে।

আমার আর কোনো কাজ ছিল না স্কুলে যাওয়া আসা ছাড়া। সমুদ্রের ধারে বেড়াতে যেতাম। মাঝে মাঝে। ঘুরে বেড়াতাম একাই। একটাই শব্দ আমার কানে ভেসে উঠত বার বার তুই প্রেম কর কারোর সঙ্গে।

একটা দৃশ্য ভেসে উঠত ঠিক তখনই আমার চোখের সামনে। আমার বাবা চুমু খাচ্ছেন আমার সৎমাকে জড়িয়ে। এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিত আমার শরীরে। একদিন স্নান করতে বাথরুমে গিয়ে হস্তমৈথুন করলাম। বন্ধুদের কাছে এর আগে শুনেছিলাম আমি ব্যাপারটা। সেই প্রথম আমার জীবনে, এক ধরনের ঘন পদার্থ। এক আশ্চর্য সুখের অনুভূতি আমার সমস্ত শরীর জুড়েই। সৎমাকে বললাম না। তিন বছর এই একই ভাবে কাটল।

একটি মেয়ের সঙ্গ প্রয়োজন বলে আমার মনে হতে লাগল। সুপ্রসন্ন বলতে হবেআমার ভাগ্য। সৎমায়ের ভাই সঙ্গে একদিন একটি অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এলেন। চল্লিশের কোঠায় সআয়ের এই ভাইয়ের বয়স। আমার সমবয়সী মেয়েটির বয়স পনেরো। ক্যাথরিন তার নাম। খুব কাছ থেকে এই প্রথম আমি একটা মেয়েকে দেখলাম। আমরা পরস্পরকে দেখলাম। বলা বাহুল্য ক্যাথরিনের প্রেমে পড়লাম আমি। আমার সারা হৃদয় আনন্দ এবং আবেগে ভরপুর হয়ে উঠল। আমি ছটফট করতে লাগলাম ভেতর ভেতর এক গোপন কামনায়। ভালই আলাপ হল আমার ক্যাথরিনের সঙ্গে। সম্মা চুপ করে রইলেন যদিও তার চোখে পড়েছিল ব্যাপারটা। তিনি আমাকে কিছু বললেন না। চেহারাটা একটু ভারী ক্যাথরিনের। ফরসা শরীরে দুটো নীলচে চোখ এবং বাদামী ছোট্ট চুলে ওকে অপূর্ব লাগল। তার কথাবার্তা খুবই মিষ্টি। আমরা সবসময়ই গল্প করতাম আমাদের আলাপের পর থেকে। দুজনে আমরা আমাদের ঘর ছাড়া পার্ক কিংবা সমুদ্রের উপকূলে চলে যেতাম। ওর সুডৌল স্তন যা ফ্রকের ভিতর দিয়ে ফুটে উঠেছে এবং ওর দুটি গভীর চোখ পাগল করে দিত আমাকে। ক্যাথরিন খুব ভালো গান জানত। একদিন আমাকে শোনালো। সে প্রশংসা করত ভারতবর্ষের। সে অবশ্য কিছুই জানতো না ভারত সম্পর্কে। একদিন আমাকে জিজ্ঞেস করল, রাজা মহারাজা এবং যাদুকরেরা ওখানে থাকেন। রাজ পরিবারের কি মেয়ে ছিলেন তোমার মা?

রাজ পরিবারের নয় কিন্তু অভিজাত পরিবারের। –একটু থামলাম এবং তারপর বললাম, ভারতে যাব আমি বড় হলে, ওখানে আমাদের হোটেল আছে। ওখানে যাওয়ার ইচ্ছা আমার ডাক্তার হওয়ার পর, কি ভাল হবে তো?

হ্যাঁ ভালো হবে।

ক্যাথরিন ঘাড় নাড়লো। একটি বালির ঢিবির আড়ালে আমরা বসেছিলাম সমুদ্রের ধারে। ক্যাথরিনের দিকে একইভাবে তাকাতে আমার দু চোখের ভাষা বুঝতে পারল ক্যাথরিন। চোখদুটো নামিয়ে নিল ও লজ্জায় লাল হয়ে। আমার কোলে সজোরে টেনে নিয়ে চুমু খেলাম আমি ওকে। পরপর পাঁচটা, ওরনরম আঙুরের মত ঠোঁট এমনকী গাল এবং কপাল সবেতেই। ঝড় বয়ে যাচ্ছিল সমুদ্রের ওপর দিয়ে। বসা গেল না বেশীক্ষণ। দুজনে ফিরে এলাম আমরা। আমার দিকে আর তাকাতে পারছিল না ক্যাথরিন। তার দিন দুয়েক পরে আমার সম্মা এবং ভাই কিছু কেনাকাটা করতে গেছেন। বাড়িতে ক্যাথরিন এবং আমি একা।

দুজনে শোবার ঘরে গেলাম। বিছানায় বসেছিল ক্যাথরিন। একটা পাতলা ফ্রক পরেছে আজ সে। পোশাকটি ছিল সাদা রঙের। ওর দুটো নরম স্তন তার ভিতর দিয়ে দেখা যাচ্ছিল পরিষ্কার। রক্ত গরম হয়ে উঠলো আমার শরীরে। আমি পুড়ে যাচ্ছিলাম কামনার আগুনে। ক্যাথরিনের একটা হাত ধরলাম এবং তারপর বললাম, তুমি কি রাগ করেছে?

ক্যাথরিন নাতো বলে মিষ্টি হাসল।

একটা চুমু খাব তোমাকে।

 খিল খিল করে হেসে উঠে সে আমার মাথাটাকে দুহাত দিয়ে নিজেই ওর মুখের কাছে নিয়ে এল। নিজেকে রাখতে না পেরে ওকে পাগলের মত চুমু খেতে লাগলাম। তারপর ওকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ফ্রকটা খুলে দিলাম এবং পরনের প্যান্টিটাও খুলে দিলাম। আমার সামনে শুয়ে আছে নগ্ন ক্যাথরিন। আমি সবে নিজেকে উন্মুক্ত করে ওর ওপর শুয়েছি, ঠিক সেই সময় দরজায় শব্দ পেলাম। দুজনেই ভয়ে সারা হয়ে পোশাক পরে নিলাম। বারান্দায় চলে গেল ক্যাথরিন পেছনের দরজা দিয়ে। দরজা খুললাম আমি দুরু দুরু বুকে। আমি দরজা খুলে আগত অতিথিকে দেখার পর আমার ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল এবং তারপর ক্যাথরিনকে চীৎকার করে ডেকে বললাম, দেখে যাও কে এসেছে।

ঘরের মধ্যে এসে ঢুকল ক্যাথরিন দৌড়ে। ইতিমধ্যে ঘরে ঢুকে আমাদের বকতে আরম্ভ করে দিয়েছে আমাদের অতিথি। সে আমাদের প্রিয় পোষা পানিয়েল কুকুর। থাপ্পড় মারলাম ওর গায়ে এবং বলে উঠলাম, তুই শেষপর্যন্ত বদমাইসি করলি টম, ল্যাজ নাড়তে লাগল টম আদর পেয়ে।

আমাদের সেই সুযোগ এসেছিল শেষ মিলনের। ক্যাথরিন চলে গেল এর ঠিক দুদিন পরেই। যাবার দিন যখন একান্তে একবার দেখা হয়েছিল তখন আমি রীতিমতো গম্ভীর হলেও ওর দুচোখে ছিল জল। কে জানে আমি আর আমার প্রেমিকাকে দেখতে পাবো কিনা। আবার কবে আসবে, ওর হাত ধরে জিজ্ঞেস করলাম।

বলতে পারছি না, তবে আমাদের বাড়িতে তুমি যেও।

সারা মুখ ওর চুমুতে ভরিয়ে দিলাম আমি পরম আবেগে। আমার কাছে নিস্তব্ধ মনে হয়েছিল সেই রোদ ঝলমলে সকালটাও। থেমে গেছে তখন দূরে সমুদ্রের গর্জন। ওকে চেপে ধরেছিলাম আমি সজোরে। মুখটা ওর দুটো বুকের মাঝখানে রেখে বলেছিলাম, কিভাবে থাকবো আমি তোমাকে ছাড়া।

কেঁদে বলে উঠল ক্যাথরিন, আমিও তো পারব না পিটার, ওর দেহের সমস্ত সম্পদ যা কিছু লুকোনো আমি আলতো করে ছুঁয়ে দিলাম। আমাকে বারবার বলছিল ক্যাথরিন যে আমাকে ছাড়া ও থাকতে পারবে না।

ক্যাথরিন চলে গেল বেলা দুটো নাগাদ ওর বাবার সঙ্গে। ও আরেকজনকে বিয়ে করেছে পরে শুনলাম। ক্যাথরিনের সঙ্গে আমার আর দেখা না হওয়ার ফলে নিঃসঙ্গ হয়ে গেলাম। নিজেকে পড়াশুনার মধ্যে ডুবোনো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না তখন আমার।

.

০২.

 লেখাপড়া এরপর শেষ করলাম এবং তারপর যখন ভালভাবে আমি তাকালাম বাস্তব পৃথিবীর দিকে তখন আমি পাশ করে গেছি ডাক্তারি। ক্যাথরিনের কথা আমার মাঝে মাঝে মনে পড়ে। সেই মেয়ে অন্য একজনকে কি করে বিয়ে করতে পারে যে মেয়ে যাবার সময় আমায় কত কথা বলে যায়। সাময়িক উচ্ছ্বাস আর আবেগ কি সমস্ত ব্যাপারটাই তাহলে। তাহলে কি ব্যাখ্যা সত্যিকারের প্রেমের? ইতিমধ্যেই আমার বাবার হোটেলের পাশে আমি চেম্বার করেছি। রোগীও হচ্ছে এবং বেশ পশারও জমে গেছে। আমি হার্ট স্পেশালিস্ট, তাই বেশির ভাগ রোগীই হার্টের। এই মহিলাও সেই হার্টেরই রোগী। আপনার সমস্যা কি আমাকে বলুন, তাকে জিজ্ঞেস করলাম পরীক্ষা করবার সময়। সুন্দরী রোগিনী কটাক্ষ হেনে বললো, একটু কাজ করলেই হাঁপিয়ে উঠি এবং আমার বুক ধড়ফড় করে সবসময়। ওর বুক পিঠ স্টেথিসকোপ দিয়ে দেখে প্রেশার মাপলাম। সবই ঠিক। হেসে ওষুধের প্রেসক্রিপশান লিখে দিলাম এবং বললাম, আপনার কিছুই হয়নি, আপনি ভাল করে খাওয়া দাওয়া করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। মহিলাটির নাম সোফিয়া এবং তিনি মাঝারী উচ্চতার। তার নীল চোখ দিয়ে উপচে পড়ছে কামনা। ভারী স্তন দুটি তার চেহারা চেয়ে। তার বাবা পেশায় অধ্যাপক। সোফিয়া চলে গেল সেদিন। আবার কিছুদিন পরে এল। পরীক্ষা করে বুঝলামমনে হয় ওরসমস্যাটা বুকে। তার দুচোখে ইঙ্গিত বহন করছে যে সে আমার প্রেমে পড়েছে। তাকে বললাম, আপনার আর না এলেও চলবে সোফিয়া, কোনো অসুখ নেই আপনার।

আপনি ডাক্তার না ছাই, আপনার কোনো অসুখ ধরার ক্ষমতা নেই সোফিয়া কথাটা বলল কপট বিরক্তির সঙ্গে।

আমি তোমার বাড়ি একদিন যাব, কারণ আমি তোমার অসুখ ধরতে পেরেছি, আমি হেসে বলে উঠলাম।

সোফিয়া উৎফুল্ল হয়ে উঠল, কবে যাবেন আমাদের বাড়ি।

সোফিয়ার চমৎকার সাজানো গোছানো বাড়িতে আমি গিয়েছিলাম। ওর অধ্যাপক বাবা মিঃ জিওফ ডেক্সটার খুবই চমৎকার এবং ইংরাজী সাহিত্যে পণ্ডিত ব্যক্তি। ওঁর অসাধারণ দখল পৃথিবীর বিভিন্ন সাহিত্যে। অধ্যাপককে বেশ ভালই লাগল। ওর স্ত্রী বছর দুয়েক আগে মারা গেছেন। সোফিয়াই এখন একমাত্র অবলম্বন। জমে গেল আমাদের আলাপ এবং আমি ওকে কথা প্রসঙ্গে বললাম, ভারতীয় মহিলা ছিলেন আমার মা।

তিনি শুনে অবাক হলেন এবং আনন্দিত দুটোই। তিনি বললেন, ভারতকে খুবই শ্রদ্ধা করি আমি। আমার একবার যাবারও ইচ্ছা আছে যদি পারি।

সোফিয়ার সঙ্গে বেশি দিন প্রেম করলাম না আমি এটাই বলা বাহুল্য। ব্যর্থ প্রেমের সেই বেদনাদায়ক স্মৃতির কথা মনে পড়ে গেল। বিয়ে করে ফেললাম সোফিয়াকে মাস দুয়েক পরেই। একেবারে সংসার জীবন যাপন করব সেটাই মনে মনে ভাবলাম। আমার মনে অমন এক রঙিন স্বপ্ন যা আমি দুচোখে দেখছি। বেশ ভালভাবেই কাটল বিবাহিত জীবনের প্রথম মাসকটি। একটা সমস্যা দেখা দিল তারপর থেকেই। আর পাঁচটা স্থির মেয়ের মত নয় সোফিয়া। ওর ভেতরে সবসময় কিরকম যেন একটা অস্থিরতা। তৃপ্তি যেন নেই কোনো কিছুতেই। সোফিয়া একেবারে সেই রকম যা বোঝায় দেহ সর্বস্ব নারী বলতে। কোনো চেষ্টাই ওর মধ্যে নেই যা দিয়ে আমাকে ও বুঝতে পারবে। সবচেয়ে ব্যস্ততম পেশা ডাক্তারি পেশা হলেও আমি কিন্তু ওকে বেশ সময় দিতাম। রাতের বেলা একদিন সবে খাওয়া দাওয়া শেষ করেছি এবং তারপর বারান্দার চেয়ারে। বসে আছি, ঠিক সেই সময় ও একটি নাইট গাউন পরে আমার কাছে এসে দাঁড়ালো৷ দুটো পরিপূর্ণ নিটোল স্তন প্রকট হয়ে উঠেছে তার গাউনের ভিতর দিয়ে। তুমি আমাকে আর আগের মত ভালবাসো না, সে আমার একটা কাঁধে হাত রেখে বলে উঠল।

আমি অবশ্য এর আগেও শুনেছি ওর এই ধরনের ছেলেমানুষি এবং অপরিণত কথাবার্তা। যখন তখন ওকে নিয়ে বিছানায় যাওয়াই হচ্ছে ওর ভালবাসার অর্থ। বাইরে স্বাভাবিক কিন্তু ভেতরে রেগে গিয়ে বললাম, আমাকে বলতো আমি শুনি, কিভাবে ভালবাসতে হবে।

ও রেগে গেল কথাটা শুনে, কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না ওর রাগের কারণ। আমার সামনে এসে দাঁড়াল নিজের নাইটিটা একটানে খুলে ফেলে দিয়ে। বাঘিনীর মতো চোখ দুটো জ্বলছিল এবং বলে উঠল, তোমার কি পছন্দ হচ্ছে না আমার শরীরটা।

আমি বললাম, চল শোবে চল, সোফিয়া কি হচ্ছে। বিছানায় নিয়ে গিয়ে ওকে শুইয়ে দিলাম টানতে টানতে কিন্তু আমার সমস্ত পোশাক ও খুলে দিয়েছেততক্ষণে নগ্নআমি একেবারে। বুঝলাম ওর চোখের ভাষাতেই যে ও কি চায়। মোটেই ইচ্ছা করছিল না, আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম। ও নিজের বুকের উপর আমার একটা হাত রেখে উন্মাদের মত ক্রমাগত চুমু খেতে লাগল। ওর শরীরের দাবী কিন্তু আমি মেটাতে পারলাম না। এটাই ছিল সবচেয়ে দুঃখের বিষয়। আমি অবসন্ন হয়ে পড়লাম ও তৃপ্তি পাবার আগেই। ও সহানুভূতি জানানো দূরে থাক, আমার অসহায় অবস্থাতে রেগে ফুঁসে উঠে বলল, আমার ভালো মন্দ বোঝার কোনো ক্ষমতা নেই তোমার। কারণ তুমি নিজে একটা জানোয়ার।

আমি চুপচাপ শুয়ে রইলাম গম্ভীর হয়ে। আমার তখন কিছু বলার মত মনের অবস্থা নেই। ও দুহাতে আমার চুলের মুঠি চেপে ধরল এবং তারপর বলল, নপুংশক, তুমি কেন আমাকে বিয়ে করেছিলে।

নিজেকে আর সংযত রাখতে না পেরে ওর গালে একটা সজোরে চড় কষিয়ে বলে উঠলাম, বুঝিনি তোমাকে তখন এবং সেটাই আমার একটা মস্ত ভুল, আমি কথাটা বললাম দাঁত চেপে।

ওর সঙ্গে আমার কথা বন্ধ হল তারপর থেকে। কথা বলতাম না প্রয়োজন ছাড়া এবং কেউ কাউকে ছুঁতাম না পাশাপাশি শুলেও। আমি ভেতর ভেতর অসহায় বোধ করতাম যদিও আমি একজন ডাক্তার। আমি ওকে কাছে ডাকলে যদি তৃপ্তি দিতে পারি সেই ভয়ে এবং কিছুটা ঘৃণাতেও আমি ওকে দূরে সরিয়ে রাখতাম। ক্রমশঃ সোফিয়াও অন্যরকম হতে লাগল। ওকে আমি একদিন বললাম, অনেকদিন কোথাও যাওনি, একদিন যাও, বাবার কাছে ঘুরে এস।

সোফিয়া প্রতিবাদ না করে জিনিষপত্র গোছগাছ করে বাবার কাছে চলে গেল। ওর একটি চিঠি পেলাম মাসখানেক পরে। ও ডিভোর্স চায় তাতে লেখা ছিল। ও ভালবাসে ওর চেয়ে বয়সে পাঁচ বছরের ছোটো ওর বাবার এক ছাত্রকে। এবং তাকেই ও বিয়ে করবে।

আমি স্থির হয়ে রইলাম চিঠিখানা পড়ার পরে। ভেবেছিলাম ও ফিরে আসার পরে ওর সঙ্গে একটা মীমাংসা করে নেব। এটা আমার একটা কর্তব্য স্বামী হিসাবে। আমার মন থেকে এক নিমেষেই সব কিছু শেষ হয়ে গেল এই চিঠিটা পড়ার পরেই। ভাবতেই পারি নি সোফিয়া শেষ পর্যন্ত এতদূর এগিয়েছে। আমার কিছু করার ছিল না তখন কারণ তার উগ্র যৌন ক্ষিদেই তাকে এ ধরনের স্বৈরিণীকরে তুলেছে। চিঠি পাঠিয়ে দিলাম বিবাহ বিচ্ছেদে সম্মতি জানিয়ে। সোফিয়ার মাও সোফিয়ার জন্মের পর অন্য এক পুরুষের সঙ্গে চলে গিয়েছিল এটা পরে অধ্যাপক বাবার কাছে শুনেছিলাম। উত্তরাধিকার সূত্রে সেই রক্তই সোফিয়া বহন করে চলেছে।

আবার নিঃসঙ্গ লাগল সোফিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর। আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিল প্রচণ্ড একটা মানসিক অস্থিরতা। বিবাহিত জীবনে স্ত্রীর কাছে সুখী হব এটা ভেবেছিলাম আমি যেহেতু যৌবনের প্রারম্ভে প্রথম প্রেমে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু তাও হল না এবং আবার ব্যর্থ হলাম। আমার ওপর বুঝি ঈশ্বরের অভিশাপ আছে। লন্ডনে আর থাকবে না এটাই ঠিক করলাম। তখন বুঝি লজ্জার শেষ থাকবে না যদি কোনোদিন সোফিয়ার মুখোমুখি হয়ে যাই। ক্যাথরিনের কথা মনে এল এবং ভাবলাম কি বলবো ওকে যদি হঠাৎই ওর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। ও আমাকে চিনতে কি পারবে। আমি তীব্র একাকীত্বে ছটফট করতে লাগলাম। আমার জীবন চলল এইভাবেই, নিজের চেম্বারে যাওয়া সকালে, তারপর দুপুরে খাওয়াদাওয়া এবং বিশ্রাম করে, বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোগী দেখা। এক মাঝবয়সী পরিচারিককা জোনিসকে নিয়োগ করেছিলাম, সে ছিল খুবই সরল এবং খুবই ভাল ছিল তার রান্নার হাতটি। এক ধরনের মাতৃত্বের স্বাদ পেতাম ওর মধ্যে, এটা আমি বলতে পারি। আমি একজন পুরুষ মানুষ এটা যতই হোক। একটা শারীরিক চাহিদা আছে আমার। আমি প্রেম বা বিয়ে করব এ দুটোর কোনোটাই ভাবতে পারতাম না। প্রেম এবং বিবাহিত জীবন সবই ব্যর্থ। আমার মত দুঃখী পুরুষ খুব কমই আছে।

একটা পানশালায় মদ খেতে খেতে হঠাৎ একদিন আলাপ হল মেরিলিনের সঙ্গে। এই হোটেলেরই একজন বেশ্যা মেরিলিন। সে মোটেইনমনীয় নয় যদিও খুবই সুন্দরী। কেবল ছলাকলা দেখিয়ে পুরুষমানুষকে গ্রাস করে ফেলার মতলব সারাক্ষণই। একটি ছোট্ট ঘর যা ছিল হোটেলের একপ্রান্তে সেখানে নিয়ে গেল সে আমাকে। তখন রীতিমতো উত্তেজিত আমি। ঘরে একটি দামী খাট এবং ড্রেসিং টেবিল। মেরিলিন আমাকে জড়িয়ে ধরতেই আমি চুমু খেতে লাগলাম ওকে উন্মাদের মত। আমরা দুজনে পৌঁছে গেলাম উত্তেজনার চরমে। মেরিলিন ছটফট করছে এটা আমি বুঝতে পারলাম উত্তেজনার চরম সীমায় পৌঁছে গিয়ে। ওর এবং আমার দুজনেরই মুখে গোঙানি কারণ কেউই সহ্য করতে পারছিলাম না। আমি ওর প্রাপ্য অর্থ মিটিয়ে দিলাম মিলন শেষ হবার পরে। ও ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে আমায় জিজ্ঞেস করল, পিটার আবার তুমি কবে আসবে?

এই প্রথম আমি আনন্দ পেয়েছি এবং ওকেও আমি আনন্দ দিতে পেরেছি এবং আমি যে অক্ষম নই তাও বুঝতে পারছি। আমি শারীরিকভাবে রীতিমতো সুস্থ এবং যৌনগ্রন্থিগুলি এখনও তাহলে অকেজো হয় নি আমার। আমি দেহ মনে সম্পূর্ণ সুস্থ হলেও এক ধরনের মানসিক ভয় থেকেই আমি সুখী করতে পারিনি সোফিয়াকে।

বাড়িতে ফিরে এসে চেয়ারে বসা মাত্রই এক ধরনের অবসাদ নেমে এল আমার সারাটা শরীর ঘিরে। বোধ করলাম একটি বিষণ্ণতা। আমার শারীরিক আকাঙ্খা মেটাতে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী নয়, প্রেমিকা নয় একটি বেশ্যার কাছে। দুনিয়াতে বুঝি বা খুব কমই আছে আমার মত হতভাগ্য পুরুষ। ভাল লাগছিলনা লন্ডনে, তাই ভাবছিলাম কিছুদিনের জন্য কাটিয়ে আসি কোনো জায়গাতে। নিউইয়র্কে সোজা চলে এসে একটি হোটেলে এসে উঠলাম। নানা ধরনের চিন্তাভাবনা মাথায় জট পাকিয়ে আসে ছোট ছিমছাম ঘরটায় এসে শুলে। আমি মোটেই সুখী হতে পারলাম না সাংসারিক জীবনে। আমি ছুটে বেরিয়েছি চিরকালটাই ভালবাসার খোঁজে। আমি পাইনি ভালবাসা এবং একজন নারীকে আমি চিনতে পারি নি ডাক্তার এবং বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করবার পরেও। একজন নির্বোধ মহিলাকে শেষপর্যন্ত বিয়ে করেছি শিক্ষিত হয়েও। পারিনি তাকে যাচাই করতে। অক্ষমতা এটাই কারণ যদি নির্বাচনে ভুল করি তাহলে কিরকম বিপর্যয় নেমে আসে মানুষের জীবনে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ আমিই।

এই সময়টা বেশ গরম নিউইয়র্কে। রাস্তায় লোকজনের যাতায়াত কিছুটা কম ছিল তখন। আমার কাছে খুব একটা খারাপ লাগলো না প্রাকৃতিক পরিবেশ। এক ডাক্তার বন্ধু ছিল আমার। তার নাম ছিল মাইক। আমার অসহায় অবস্থার কথা আমি জানালাম মাইককে। মন দিয়ে সবকিছু শুনল মাইক এবং তারপর বলল, পিটার, তুমি এখানেই থাক এবং একটা চেম্বার খুলে বসে যাও এখানে। কথাটা আমার মনে ধরাতে ভাবলাম তাই করব, এখন কিছুদিন ভেবে বরং একটা সিদ্ধান্ত নেব।

আমি কিছুদিন ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াতে লাগলাম নিউইয়র্কের বিভিন্ন রাস্তায়। রোগী দেখা শুরু করলাম শেষ পর্যন্ত ওখানেই চেম্বার করে। আমি একেবারে কাজের মধ্যে ডুবে গেলাম এবং তার মধ্যে কোনদিক দিয়ে যে দশ বছর কেটে গেল তা খেয়ালই করলাম না। সুন্দরী মহিলাদের মুখ দেখলেই আমার ক্যথরিনের কথা কিংবা সোফিয়ার কথা মনে পড়ে যেত এবং এক ধরনের বিষাদ নেমে আসত তখন আমার সারা শরীর জুড়েই। একজন কর্মচারী রেখেছিলাম লন্ডনের হোটেলে। হোটেল ব্যবসা আমার দুটো জায়গা বোম্বে এবং লন্ডনে মোটামুটি ভালই চলছিল। বোম্বেতে গেলে কেমন হয়, হঠাৎ একবার আমার মনে হল। বোম্বেতে সেই ছেলেবেলার পর আর যাওয়া হয়নি। ওদিককার সঙ্গে সব সম্পর্ক অবশ্য শেষ হয়ে গিয়েছে মা মারা যাবার পর। কারণ মায়ের মা তার কয়েক বছরের মধ্যে মারা গিয়েছিলেন এবং আরো আগে মায়ের বাবা। মা ছাড়া এক ভাইও তার ছিল। কলকাতায় চলে গিয়ে সেই ভদ্রলোক আইনের ব্যবসা করেন বোম্বের পাঠ চুকিয়ে। যদিও তার ঠিকানা জানি না। বোম্বেতে গেলে প্রথমেই একটা ফ্ল্যাটের দরকার হবে। কারণ আমার কর্মচারীরা হোটেলেই থাকে। আর দেরীকরলাম না, সোজা ভারতে পৌঁছালাম প্যান আমেরিককান বিমানে। আমার কাছে স্বপ্নের দেশ ছিল ভারতবর্ষ। আমার কর্মচারী যেন কাছাকাছি ভাল একটি হোটেল ঘর বুক করে রেখে দেয়, তা আমি আগেই খবর দিয়ে রেখেছিলাম। আমি সেখানে গিয়ে উঠলাম কারণ সে আগেই সব ব্যবস্থা করে রেখেছিল। ভারতীয় খ্রীস্টান ছিল। কর্মচারীটা। ভদ্রলোককে বললাম আমি, একটা ফ্ল্যাট দরকার আমার এখানে, আপনি ব্যবস্থা করুন, কোনোক্ৰমে থাকতে পারলেই আমার চলবে, তার মধ্যে আমি বরং কিছুদিন দিল্লী ঘুরে আসি। দিল্লীতে সোজা চলে এলাম ওকে সব দায়িত্ব দিয়েই। সেখান থেকে তাজমহল দেখতে আগ্রায়। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর স্মৃতি হিসাবে রয়েছে সেখানে এক বিশাল প্রাসাদ। পাশাপাশি রয়েছে স্বামী এবং স্ত্রীর কবর। সেই প্রাচীন আর মহান নিদর্শনের দিকে আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম। আমার মাথা নত হয়ে এল সম্রাটের প্রতি প্রেমে শ্রদ্ধায়। এরকম প্রেম এলো না কেন আমার জীবনে। ভালবাসা দিয়ে আমি কেন সুখী করতে পারলাম না স্ত্রীকে। এক ধরনের গভীর বিষাদ আমার সমস্ত শরীরে নেমে এল তাজমহল দেখতে দেখতে। বোম্বেতে আবার ফিরে এলাম। বোম্বের উপকণ্ঠ বান্দ্রায় আমার জন্য আমার এক কর্মচারী বাড়ি দেখে রেখেছে। এক বিধবা ভদ্রমহিলা তার ভাইঝিকে নিয়ে ঐ বাড়িতে থাকে। তার আর কেউ নেই। মিসেস হ্যারিয়েট মুর ভদ্রমহিলার নাম। মার্গারেট ওর অষ্টাদশী ভাইঝির নাম।

.

০৩.

 মিসেস হ্যারিয়েট মুরের বাড়িতে আমার কর্মচারীই আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন। বান্দ্রার এদিককার বাড়িগুলো বেশ সাজানো গোছানো এবং সৌখিন। এদিকটায় বেশিরভাগ ধনী লোকেরা বাস করে কর্মচারীরা জানালো। ছোটখাট ছিমছাম বাড়ি দুধের মত সাদা রঙের। কুকুরের চিৎকার শোনা গেল ভেতরে বেল টিপতেই। একজোড়া চটির শব্দ সঙ্গে সঙ্গে শোনা গেল। যিনি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন তিনি মাঝবয়সী এক ভদ্রমহিলা, চল্লিশের কাছাকাছি তার বয়স। রুপোলী ঝিলিক তার চুলের এদিক ওদিক। সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে আছে সেই চিহ্ন যৌবনে তিনি যে অত্যধিক সুন্দরী ছিলেন। তার স্তন দুটো বিশেষ করে কারণ, আমি খুব কমই দেখেছি এমন নিটোল স্তন। আমাকে একবার দেখলেন ভদ্রমহিলা, তারপর মৃদু হেসে আমার কর্মচারীকে বললেন, ডাঃ পিটার ব্রাউন তাহলে আপনিই।

নমস্কার করলাম আমি মৃদু হেসে এবং তারপর বললাম, হ্যাঁ, তবে আমি ডাক্তার নই, আমি মিস্টার।

ভদ্রমহিলা হেসে বললেন, আমি দুঃখিত, তারপর বললেন, আসুন ওপরে, আমার নাম হ্যারিয়েট মুর।

আমি কর্মচারীকে চলে যেতে বলার পর ভদ্রলোক চলে গেলেন। তিনি পরেছিলেন সাদার উপর গোলাপীনক্সাওয়ালা একটি স্কার্ট। দোতলায় ওর বসার ঘরে তিনি আমাকে নিয়ে বসালেন। একটা চেয়ারে বসে ঘরের সর্বত্র একটি রুচির ছাপ দেখলাম। একটি সুদৃশ আলমারী রয়েছে বড় খাট ছাড়াও, প্রভু যীশুর ছবি দেয়ালে এবং তার সঙ্গে টাঙানো আরেকটি মিষ্টি মেয়ের ছবি। সোফায় বসলেন মিসেসমুর। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন আপনাকে নিচের ঘরটা দেব, সেইটাই খালি আছে, আপনার পছন্দ হবে তো আমাদের বাড়িটা। ঘাড় নাড়লাম আমি এবং ঠিক করলাম আপাতত এখানেই থাকবে। কোনো অসুবিধা হবে না আপনার। এটা বোম্বের অভিজাত এলাকা এবং এখানে সবরকমই সুবিধা হবে, বললেন মিসেস মুর।

হঠাৎ পুরনো কথা মনে পড়ল আমার। ডাক্তার হয়ে ভারতে যাব একথা আমি ক্যথরিনকে বলেছিলাম। নিজেকে নিয়োগ করেছিলাম ওখানকার মানুষের সেবায়। মনে মনে ভাবলাম, লন্ডন এবং এখানকার ছোট্ট হোটেল বিক্রি করে দিয়ে একটা চেম্বার খুলবো। মিসেস মুরকে জানালাম এই পরিকল্পনার কথাটা। তিনি আনন্দিত হয়ে বলে উঠলেন, আপনার পেছনে আমি আছি এবং এটা খুব ভাল কথা। তিনি এরপর দেখিয়ে দিলেন আমার ঘরটা।

নিজের অতীতের কথা মিসেস মুর শোনালেন রাতে খেতে বসে। তিনি বলে উঠলেন, আমার স্বামী প্রথম হেনরী মুর। তিনি আমাকে ছেড়ে চলে যান বিয়ের বছর দুয়েকের মধ্যে। কোনো সন্তান নেই তার। আমি জানি না ইংল্যান্ডে তিনি এখন কোথায় আছেন। ভারতে আমি ওর সঙ্গেই এসেছিলাম।

আপনার ঘরের টাঙানো রয়েছে যে মেয়ের ছবিটি ওটি কার?

মিসেস মুর হেসে জবাব দিলেন, ও আমার ভাইঝি, বলতে পারেন বড়ই দুর্ভাগা।

জিজ্ঞেস করলাম কেন?

দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন মুর, এখানকার এক মহিলাকে বিয়ে করেছিল আমার ভাই, ওঁদেরই মেয়ে মার্গারেট। ওর বাবা মা দুজনেই মারা যান ট্রেন অ্যাক্সিডেন্টে ওর যখন দুবছর বয়স ঠিক তখন। ও আমার কাছেই মানুষ সেই থেকে।

এখন ও কোথায় আছে?

মিসেস মুর বললেন, ও স্কুল থেকে গেছে এক্সকারসানে, পনের দিন পর ফিরবে এবং ও থাকে পাশের ঘরটায়।

মন আমার বারবার অতীতে ফিরে যাচ্ছিল এই ছবিটাকে দেখার পরই। আমার ক্যাথরিনের কথা মনে পড়ছিল। আমার প্রথম প্রেমিকাই নতুন করে আমার কাছে হাজির হয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছিল। ছটফট করতে লাগল আমার ভেতরটা ওকে দেখার জন্য। এই প্রথম টের পেলাম আমার ভেতরকার অস্থিরতা। বাগানে গেলাম খাওয়া দাওয়ার পর। আমার চারদিকে গাছপালা এবং মাথার উপর ছাদ। আমার জীবনে এর আগে এমন রোমান্টিক পরিবেশ দেখিনি।

মিঃ ব্রাউন কি ভাবছেন–মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন মিসেস মুর।

পরিবেশ খুব সুন্দর, খুব ভাল লাগছে, আর কিছু নয়।

মিসেস মুর হাসলেন এবং আমি তাকিয়ে দেখলাম ওঁর দিকে। রহস্যের আভাস দুচোখে। মিসেস মুরের দুচোখে বয়স ভেদ করে আবার কি আসতে চাইছে রমণীর চিরক্ত পিপাসা।

একটা কথা জিজ্ঞেস করব মিসেস মুর–ওকে জিজ্ঞেস করলাম।

কি বলুন।

 মিঃ মুরের পর আপনার কাছে আর কোন পুরুষ আসেনি–আমি বলে উঠলাম।

তিনি কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে তারপর বললেন, একটি প্রয়োজনের অছিলায় মিঃ মুর হঠাৎ ইংল্যান্ড চলে গিয়েছিলেন। ওর একটি চিঠি পাই তার কিছুদিন পরেই। এখানে আর ফিরবেন না, এই বলে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন। বিয়ে করেছেন ওখানে তিনি একজনকে। বোঝাতে পারব না আমি কি আঘাত যে ওতে পেয়েছিলাম। তিনি একটু থেমে আবার বললেন, আমি সবাইকে বলেছি যে তিনি মারা গেছেন একটি কঠিন অসুখে। আমাকে সবাই বিধবা বলে জানে সেই থেকেই। ভারতের একটি সংস্কার হল, যে এখানে বিধবাদের আলাদাভাবে জীবন যাপন করতে হয়। এই সংস্কার নেই আমাদের ওখানে। নিজেকে আমার বেশ নিঃসঙ্গ লাগত। তখন এই বাচ্চা মেয়ে মার্গারেট ছিল আমার একমাত্র অবলম্বন। মিমি ছিল ওর ডাক নাম। ওকে ভরাট করার চেষ্টা করছি আমার জীবনের ফাঁকগুলি দিয়ে। ওকে নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই কারণ পড়াশুনোয় খুব ভাল মেয়ে মিমি।

সামান্য একটু থেমে মিসেস মুর দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আমি একভাবে তাকিয়ে ছিলাম বাগানের গাছপালাগুলোর দিকে। আমার কানে এল মিসেস মুরের কণ্ঠস্বর, বছর বাইশ–তেইশ বয়স তখন আমার। খুব ভেঙে পড়েছি তখন স্বামীকে হারিয়ে। একজনের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়। ঠিক সেই সময়েই। পঞ্চাশের কাছাকাছি তার বয়স। তিনি ওকালতি করেন বোম্বের হাইকোর্টে। মনে প্রাণে ভারতীয়। দীর্ঘদিন মেলামেশা করলেন তিনি আমার সঙ্গে। বলা যায় আমি ওর প্রেমে পড়ে গেলাম যদিও ওর আমার মধ্যে বয়সের একটা পার্থক্য রয়েছে। ওকে বিয়ের প্রস্তাব দিলামও একসময়। বিধবা বিয়েতে রাজি নন এটা তিনি জানিয়েছিলেন চিঠিতে, কেন জানি না। কারণ আমি যে বিধবা তা আমি ওঁকে জানিয়েছিলাম। তিনি কলকাতায় চলে গেছেন এটা আমি পরে শুনেছিলাম। আর খবর পাইনি কোনো, মিঃ ব্রাউন আমার ভাগ্য সত্যিই খারাপ।

মিসেস মুরের গলা ধরে এল এবং জল চিক্ চিক্ করতে লাগল তার দুচোখের কোণে। মিসেস মুর, এই বলে আমি তার পিঠে একটা হাত রাখলাম।

তিনি মৃদু হাসলেন এবং চোখের জল মুছে বলে উঠলেন, আপনাকে বিব্রত করে ফেলেছি ডাঃ ব্রাউন এবং এজন্য আমি খুবই দুঃখিত।

না না, সেরকম কিছু নয়। চলুন আপনার মেয়ের ঘরে যাই।

 তিনি মার্গারেটের ঘরের দিকে এগোলেন আমাকে নিয়ে। খুব ছিমছাম ধরনের ছোটো ঘর, সেখানে রয়েছে একটি ছোটো খাট। ওর বাবা এবং মার একটি ছবি রয়েছে দেওয়ালে টাঙানো। আর একটি ছবি পড়াশুনোর টেবিলে রাখা রয়েছে। মার্গারেটের এখনকার তোলা ছবি, তাকিয়ে রইলাম একভাবে মার্গারেটের ছবির দিকে। এই নারী যেন অনন্তকাল ধরে আমার পরিচিত একথা আমার মনে হল। বারবার এই ছবিটার মধ্য দিয়ে ক্যাথরিন আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। রহস্যে ঘেরা সৌন্দর্যময় মিষ্টি মুখের সেই ছবিটি আমার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে। মিসেস মুর বললেন, ভারী দুরন্ত স্বভাবের মেয়ে মার্গারেট। আমি যখন যা বলব ঠিক উল্টো করবে।

কিছু না বলে আমি হাসলাম। আবার বললেন মিসেস মুর, পড়াশুনোয় খুব ভাল তবে মিমি। আপনি বুঝতে পারবেন ওর সঙ্গে আলাপ করে। জ্বালিয়ে মারবে আপনাকে।

আমি মৃদু হেসে বললাম, তা জ্বালাক না। তখন ক্রমশঃ বেড়ে উঠছে আমার মনের গোপন ইচ্ছা। জ্বলতেই তো চাই আমি। আমার রক্তে আমি একটি তীব্র উন্মাদনা বোধ করলাম আবার যৌবনের প্রান্তসীমায় এসে। আমি আবার মিসেস মুরের দিকে তাকালাম। কি ছিল কি জানে আমার দুচোখের মধ্যে। মিসেস মুর এবার মুখটা নামিয়ে নিলেন।

.

০৪.

কেটে গেছে এর মধ্যে নটা দিন। এখানে ভালই কাটছে মোটামুটি। মিসেস মুরের কোনোরকম আপত্তি নেই ওর নীচের তলার বৈঠকখানায় আমি যদি আমার চেম্বার করি। মিসেস মুরকে নিয়ে দশদিনের মাথায় একটু ঘুরে এলাম। আমাকে বারবার উন্মনা করে দিচ্ছিল গাড়িতে মিসেস মুরের স্পর্শ। এখনও মিসেস মুরের সর্বাঙ্গে যথেষ্ট যৌবন। ওর দিকে তাকালাম আমি গাড়ির মধ্যে ওর একটা হাত আমার হাতের উপর নিয়ে। মৃদু মৃদু হাসলেন মিসেস মুর, কিন্তু তিনি হাত সরিয়ে নিলেন না। সন্ধ্যে হয়ে গেছে তখন যখন বাইরে কিছু কেনাকাটা করে ঘরে ফিরলাম। বিশ্রাম নিচ্ছিলাম আমি তখন আমার ঘরে বসে। আমার ঘরে মিসেস মুর এলেন ঘণ্টাখানেক পরে। আমি শুয়েছিলাম, তাই তিনি আমার পাশে বসলেন বিছানার উপরে। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন মিসেস মুর, ডাঃ ব্রাউন আপনি নিশ্চয় এখন খুব ক্লান্ত বোধ করছেন।

না না। আমার রীতিমতো অভ্যাস আছে ঘোরাফেরা করা, মিসেস আপনি চিন্তিত হবেন না অত।

আমার একটা হাত ধরলেন মিসেস মুর। তারপর বললেন, আমি খুব খুশী হব আপনি আমাকে যদি হ্যারিয়েট বলে ডাকেন, আপনি আমার বন্ধু, এই কথা তিনি একটু থেমে আবার বললেন।

আমি হেসে বললাম, ঠিক আছে আমরা তাহলে পরস্পরের বন্ধু।

এবার তুমিতে নামলাম আপনি থেকে। পিটার বলেই তুমি আমাকে ডেকো হ্যারিয়েট, আমি একথা বলে উঠলাম।

হাসল হ্যারিয়েট। বেশ সুন্দর লাগে ওকে হাসলে। সৌন্দর্যময়ী এবং ব্যক্তিত্বময়ী হ্যারিয়েট। একটা হাত রাখলো আমার কপালে হারিয়েট। নিজেকে আমি সংযত রাখলাম কোনোক্ৰমে। যদিও আমার রক্তে দোলা লাগল। হ্যারিয়েট নিজে থেকে আমাকে এরপর চুমু খেল ঘণ্টা দুয়েক পরে। তারপর বলে উঠল, এখন খেয়ে নেওয়া যাক চল।

বারান্দায় গিয়ে আমরা দেখলাম যে সামান্য মেঘ জমেছে আকাশে এবং হাওয়ার বেগ কম। খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম দুজনে একসঙ্গেই। যে যার নিজস্ব ঘরে তারপর চলে গেলাম। মৃদু হাসলো হ্যারিয়েট এবং আমাকে একটা চুমু খেল যাবার সময়। কিন্তু আর না দাঁড়িয়ে ওপরে উঠে গেল সোজা সিঁড়ি বেয়ে। তাকিয়ে রইলাম ওর যাওয়ার দিকে এবং দেখলাম যে ওঁর হাঁটার ছন্দ বেশ সুন্দর। আমি ওঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম যতক্ষণ না ও মিলিয়ে যায়। বারবার শিহরণ লাগছিল আমার রক্তে। নারী সঙ্গ আমি একেবারেই পাইনি গত কয়েক বছর। বেশ্যাদের সঙ্গে অবশ্য রাত কাটিয়েছি মাঝে মাঝে নিউইয়র্কে, খুবই সাময়িক অবশ্য সেই ব্যাপারটা। একটি তীব্র অবসাদ নেমে আসত তারপরেই আমার সারাটা শরীর জুড়ে। প্রেমিকা ক্যাথরিন এবং স্ত্রী সোফিয়ার কথা মনে পড়ত অসহায় তখন আমি। একটি ভীষণ অস্থিরতা বোধ করতাম তখন। একসময়ে না ঘুমিয়ে কাটিয়েছি দিনের পর দিন। অস্বাভাবিক ব্যবহার করেছি আমি আমার বন্ধু এবং পরিচিত জনের সঙ্গে মাঝে মাঝে। আমার মাথায় কোনোরকম গোলমাল হয়েছে একথাই তারা ভাবত। তারা আবার বিভ্রান্ত হয়ে পড়ত রীতিমতো স্বাভাবিক ব্যবহার করাতে। বুঝতে পারতোনা তারা আমাকে। একদিন আমার বন্ধু মাইক নিউইয়র্কে থাকার সময় বলল, তুমি একজন সাইক্রিয়াট্রিস্টকে দেখাও পিটার, তোমার মধ্যে একটা গোলমাল হয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে।

আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম মাইককে, আমার মধ্যে কোন অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এটা তোমার মনে হল কেন?

মাইক জবাব দিল, ভীষণ অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছো তুমি আজকাল প্রায়ই, আবার বললো একটু থেমে, অনেক কমে গেছে তোমার স্মরণ শক্তি আজকাল, ভালো কথা বলছি আমি তোমাকে। তোমাকে ভাল পরামর্শ দেওয়াটা আমার কর্তব্য তোমার বন্ধু হিসাবে, এটা আমি মনে করি।

দেখি, সবই বুঝলাম তোমার কথাটা।

এক মানসিক রোগের ডাক্তারকে দেখিয়েছিলাম মাইকের কথামতো কিছুদিনের জন্য। আমাকে কিছুদিনের মধ্যেই ভদ্রলোক সারিয়ে দেন, এটা আমার খুবই সৌভাগ্য বলতে হবে। আমার পেশার পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর হত ব্যাপারটা যদি বেড়ে যেত। নিজেকে পুরোদমে আমি এরপর ডুবিয়ে দিয়েছিলাম ডাক্তারীতে। ডাক্তারীতে এরপর ডুবে যাবার পর আমি নারীদের ভীষণভাবে এড়িয়ে চলতাম। একশো হাত দূরে রাখতাম আমি বেশ্যাদের। মিসেস হ্যারিয়েট মুর, সেই মহিলা যার সঙ্গে আমার দীর্ঘকাল পরে ঘনিষ্ঠতা হল। রমণী হ্যারিয়েট স্বামী পরিত্যক্তা প্রেমে রীতিমতোব্যর্থ। আমার সঙ্গে হ্যারিয়েটের মিল এটা বলা বাহুল্য। আমিতো স্ত্রী পরিত্যক্ত এবং প্রেমে ব্যর্থ একটি হতভাগ্য পুরুষ। আমার বিছানায় ছটফট করে কাটলো সারা রাত, কারণ আমার ঘুম আসছিল না কিছুতেই। হ্যারিয়েট আমার কাছে আসবে এটা আমি আশা করছিলাম প্রতিমুহূর্তে এবং একটি উন্মাদনা যেন রয়েছে আমার রক্তে। আমার আশা পূর্ণ হল না কিন্তু এইভাবেই আমার সারাটা রাত কেটে গেল। কে জানেহ্যারিয়েট তবে কি দ্বিধাগ্রস্ত! ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ভোররাতে এবং ঘুম ভাঙল ঠিক বেলানটায়। চারদিক ঝলমল করছে রোদে। আমি উঠেবসলাম হ্যারিয়েটের ডাকে। হ্যারিয়েট চায়ের প্লেট এবং সঙ্গে কিছু খাবার নিয়ে টেবিলের উপর রাখল। পিটার তুমি তো ঘুমোও না এত বেলা অবধি, তবে কি তোমার শরীর খারাপ হ্যারিয়েট হেসে বলল।

শরীর ঠিক আছে, এই বলে হেসে বাথরুমে ঢুকলাম। টেবিলে মুখ টুখ ধুয়ে বসে চায়ে চুমুক দিলাম। আমার কপালে হাত রাখলো হ্যারিয়েট। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, আমি, আরে কোনো চিন্তার কারণ নেই, আমি ঠিক আছি।

চা শেষ করলাম, এই মুহূর্তে বেশ জোরে সাগরের হাওয়া বইছিল, আমার মনের ভেতর তীব্র ঝড় বয়ে দিচ্ছিল তীব্র বেগের সেই হাওয়া। আমি জিজ্ঞেস করলাম হ্যারিয়েটকে, দিন তিনেক বাদেই ফিরছে মার্গারেট।

হ্যাঁ, চায়ে চুমুক দিয়ে হ্যারিয়েট বলল, তবে তোমাকে ও শান্তিতে থাকতে দেবে না কারণ ও খুবই চঞ্চল।

সজোরে হেসে উঠেআমি হারিয়েটের দিকে তাকালাম ভালভাবে। ওর রঙীন গাউনের ভিতর দিয়ে আমাকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করছিল সাদা রঙের সেই মোহময়ীবুকজোড়া, বেশ আকর্ষণীয় বলা যায় হ্যারিয়েটের দেহের গঠন এবং সেই কারণেই ক্রমশঃ গরম হয়ে উঠছিল শরীরের রক্ত। রীতিমতো ঝাঁ ঝাঁ করছিল কান দুটো। আমি বুঝি একেবারে উন্মাদ হয়ে যাব একথা আমার খালি মনে হচ্ছিল। তবু সংযত রাখার চেষ্টা করলাম নিজেকে যথাযথ। হ্যারিয়েট নিজে থেকেই এগিয়ে আসুক এটাই আমি চাইছিলাম। এর জন্যে ক্ষতি নেই আমাকে অপেক্ষা করতে হলেও। কিন্তু ও যদি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তাহলে কি হবে? আমি তো শিউরে উঠলাম ব্যাপারটা ভাবতে গিয়ে। সত্যিই অসম্ভব আমার পক্ষে হ্যারিয়েটকে বিয়ে করা।

মার্গারেট আসার আগের দিন রাত্রে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমরা ঘরে শুয়ে আছি। বাইরে অন্ধকার কারণ রাত তখন এগারোটা। একটানীলচে রঙের মৃদু আলো জ্বলছে ঘরের মধ্যে। একটা সিগারেট খাচ্ছিলাম বিছানায় আধশোওয়া হয়ে। প্রচণ্ড অস্থিরতা মনের মধ্যে কারণ কাল মার্গারেট আসবে। আমাকে কিভাবে নেবে তা কে জানে। মিমি, মিমি, আমি উচ্চারণ করছিলাম এই নামটা খালি মনের মধ্যে। হ্যারিয়েট ঠিক সেই মুহূর্তে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। সেই স্বচ্ছ সাদা রঙের গাউন পরনে। মুখের দিকে তাকালাম ওঁর। আমার পাশে এসে বসল হ্যারিয়েট। কি ভাবছে পিটার, সে বলে উঠল আমার একটা হাত ধরে।

তোমার কথাই ভাবছি হ্যারিয়েট। আমি বলে উঠলাম মৃদু হাসি দিয়ে।

হ্যারিয়েট সজোরে হেসে উঠে বলল, আমার সৌভাগ্য, ওর স্তন দুটো দুলে উঠল ওর হাসির দোলায়। আমি সেদিকে তাকিয়ে নিজেকে আর সংযত রাখতে পারছিলাম না। ওকে নিজের কোলে টেনে নিলাম ওর একটা হাত ধরে। ওর ঠোঁটে, গালে, সর্বাঙ্গে পাগলের মত চুমু খেতে লাগলাম। দোলা লেগেছে হারিয়েটের রক্তে। ফিসফিস করে বলে উঠলো পিটার আমি আর পারছি না, আমাকে তুমি ছিঁড়ে খুঁড়ে শেষ করে দাও।

আমার হাতের স্পর্শে সজাগ হয়ে উঠেছে ওর নরম বুক। আজ ফেটে পড়তে চাইছে বহুদিনের জমানোকামনা। ঘরের এক কোণে ওর গাউনটা খুলে ফেলে দিলাম। ঘরের মধ্যে জ্বলছে মৃদুনীলচে আলো এবং বিন্দুমাত্র পোশাক নেই তখন আমার শরীরেও। অন্ধকার বাইরেটা এবং তার মধ্যে জানলার পর্দাগুলো বাতাসে উড়ছিল, ক্রমশঃ বাড়ছিল যেন হাওয়ার বেগ। আমরা ডুবে যাচ্ছিলাম স্বর্গীয় সেই পরম সুখের গভীরে একটু একটু করে। জানি না কখন যে উন্মাদনা শেষ করে ক্লান্ত দেহে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঠিক ভোর পাঁচটায় ঘুম ভেঙে দেখি হ্যারিয়েট নেই। টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখলাম একটা ছোট্টকাগজ রয়েছে পেপার ওয়েট চাপা দেওয়া। খুলে দেখি তাতে লেখা রয়েছে, তোমাকে আমি আমার সারা জীবনের সঙ্গী হিসাবে পেতে চাই পিটার, তুমি আমার সব কিছু, আমাকে তুমি বিয়ে করবে তো?

মাথাটা গরম হয়ে গেল চিঠিটা পড়েই। ওটাকে মুড়ে দলা পাকিয়ে ফেলে দিলাম আমি জানালা দিয়ে। অসম্ভব, একথা আমি নিজের মনেই বিড় বিড় করে বললাম। মার্গারেটের মুখ তখন আমার চোখের সামনে ভেসে উঠল।

.

০৫.

 ঠিক দুপুর বারোটার সময় নিজেকে বাগানের একটি চেয়ারের মধ্যে বসে.খবরের কাগজের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। আমার কাছে বেশ ভালই লেগে গেছে বোম্বেশহরটা। এখনকার স্বাধীন ভারতবর্ষ ঘুরে দেখার ইচ্ছা আছে। এ দেশের কাছে সারা পৃথিবীর অনেক প্রত্যাশা। আমাকে মুগ্ধ করেছে এর প্রাচীন দর্শন, ঐতিহ্যময় সংস্কৃতি। এ দেশের কতত বিরাট এবং পুরনো সভ্যতা। এই ভারতবর্ষ মহান। .আমি মোটেই ভারত বিদ্বেষী নই, বিশলিং কিংবা আর অন্য পাঁচটা ইংরেজের মত। ডাক্তারীকরব আমি এখানেই। বাকী জীবনটা আমি কাটিয়ে দেবো এখানকার জনসাধারণের সেবাতেই। আমি হারিয়েটের চিঠির উত্তর দিইনি। বারকয়েক দেখা হয়েছে ওঁর সঙ্গে। আমার চিঠি পড়েছে, একবার জিজ্ঞেস করেছিল।

হু, সংক্ষেপে জবাব দিলাম আমি ঘাড় নেড়ে।

মার্গারেটকে আমি দেখিনি আজ পর্যন্ত, ও আসছে আজই একটা মেয়ে আঠারো বছরের। তবু বুক ধুকপুক করছিল আমার ওরই জন্য। আমি যেন অনন্তকাল ধরে চিনি মার্গারেটকে। আমার কাছে একটা পবিত্র সত্ত্বা যেন মিমি। আমি কি ওর প্রেমে পড়ে গেলাম, এটা আমি ওকে না দেখেই ভাবলাম। একবার চেষ্টা করলাম খবরের কাগজটা মন দিয়ে পড়বার। মন বসছিল না যেন কিছুতেই। বারবার ঝাপসা হয়ে আসছিল চোখের সামনের অক্ষরগুলো। একটা গাড়ীর শব্দে আমার চমক ভাঙলো হঠাৎ। ভেতর থেকে একটা মেয়ে নামল এটা দেখলাম। রঙ খুব ফর্সা নয় এবং ছিপছিপে মাঝারী উচ্চতার চেহারা। একটু বাদামী ভাব। আমার কাছে হ্যারিয়েট ওকে নিয়ে এলো। মার্গারেট আমার সামনে এসে দাঁড়াল। আমার কাছে এখন রক্ত মাংসের নারী মার্গারেট, যে ছিল এতদিনের ছবি। ওর কাছে আমার পরিচয় দিল হ্যারিয়েট। হেসে উঠল মার্গারেট খিলখিল করে। তারপর নমস্কার করলো আমাকে। দুষ্টুমির ঝিলিক ওর চোখ দুটোয়। আমি ক্ৰমশঃ তলিয়ে যেতে লাগলাম ওর সেই কালো আর টানা চোখের গভীরে। মিমি, তুই গল্প কর মিঃ ব্রাউনের সঙ্গে, আমি খাবার নিয়ে আসি, হ্যারিয়েট বলে উঠল।

চলে গেল হ্যারিয়েট। পিটার তোমার রেহাই নেই, সে যাবার সময় বললো মৃদু হেসে।

আমি হেসে উঠে জিজ্ঞেস করলাম ওকে, কি ধরনের বই পড়তে ভাল লাগে তোমার?

মার্গারেট প্রস্তুত ছিল না ঠিক এই ধরনের প্রশ্নের জন্য। সে ঘাবড়ে গেল প্রথমটা এবং তারপর হেসে উঠল খিলখিল করে। সে বলে উঠল, আমি সবধরনের বই পড়ি। আমি প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে। সবকিছু পড়া ভালই তো, তাই না।

হেসে উঠল তারপর খিল খিল করে এবং বলে উঠল, কি বলে ডাকব আমি তোমাকে। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে ওর রহস্যময় চোখে সমুদ্রের গভীরতা। ওর নিটোল বুক দুটো ওঠানামা করছিল হাসির চোটে। একে না হলে আমার চলবে না, এটাই আমি ভাবতে লাগলাম। আমি অপেক্ষা করছি যেন জন্মজন্মান্তর ধরে এই নারীর জন্যেই, নরকে যেতে কোনো ভয় নেই আমার এই জন্যে। বললাম, তোমার মায়ের বন্ধু আমি, পিটার বলে ডাকে তোমার মা আমায়, তোমারও বন্ধু হতে চাই আমি, তুমি কি বল।

তোমাকে তাহলে আমিও পিটার বলে ডাকব সে থামিয়ে দিয়ে বলল। হেসে উঠল আবার ও এই কথা বলে। আমার শরীরের ভেতর রক্তের দোলা বাড়ছিল। খাবার পরিবেশন করতে লাগল হ্যারিয়েট। মার্গারেটের দিকে তাকাচ্ছিলাম আমিবারবার। আমার কৈশোর বয়সের কথা মনে পড়ে গেল ওকে দেখামাত্রই। ক্যাথরিনের কথা মনে পড়ছিল এবং মোচড় দিয়ে উঠছিল আমার বুকের ভেতরটা। আবার সেই যৌবনের প্রারম্ভে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছিল। আমার দিকে তাকিয়ে মার্গারেট বলল, তাজমহল দেখতে নিয়ে যাবে আমাকে?

আমি বললাম, যাব নিশ্চয়ই, বাইরে নিজেকে সংযত রাখলাম যদিও ভেতরে ভেতরে ছটফট করছিলাম। সেই যৌবনের প্রারম্ভে মাঝে মাঝে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছিল। হ্যারিয়েটকে মা বলে ডাকে মার্গারেট পিসীমার বদলে। বললো, সবাই তাজমহল দেখে আসি চলো মা।

মিমি এখন খেয়ে নাও ঠিক আছে যাওয়া যাবে। ওর মাথায় হাত দিয়ে একথা বললো হ্যারিয়েট। খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ছিলাম এবং মাঝে মাঝে আমি তাকাচ্ছিলাম মার্গারেটের দিকে। সামান্য মেঘ জমেছে আকাশে এবং কিছুটা রৌদ্র মান হয়েছে। বৃষ্টি হয় মাঝে মাঝে গরমকালের এই সময়টা। এখন হ্যারিয়েট নেই, তাই পায়ের গোড়ালিতে হাত রেখে একটু ঝুঁকে বললো মার্গারেট। আবার কি কামড়ালো আমায়।

আমি চেয়ার থেকে উঠে গেলাম মার্গারেটের চীৎকারে এবং ওর গোড়ালিতে হাত দিয়ে দেখতে লাগলাম। চুপচাপ বসেছিল মার্গারেট কিন্তু আমার ছাড়তে ইচ্ছা করছিল না ওর পাটা। হাত বুলোতে লাগলাম বেশ খানিকক্ষণ ধরে, বলে উঠলাম এখন কমেছে মার্গারেট।

খিলখিল করে হেসে বলল মার্গারেট, কিছুতো আমাকে কামড়ায়নি। দুষ্টমীর ঝিলিক ওর দুচোখে। আমি এবার ওর একটা হাত ধরে বললাম, কি হচ্ছে, বদমাইসী।

আমার পেটের কাছে টেনে আনলাম ওঁর মাথাটা এই কথা বলেই। এক হাতে ওর চিবুকটা তুলে নিয়ে মুখটাকে তুলে ধরলাম, আমার দিকে তাকিয়ে হাসছিল ও। আমি এর আগে কোনো নারীর এমন মিষ্টি হাসি দেখিনি। ওর গালে টোল পড়ে হাসলে। আমি দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে পারি এই জন্য এবং হাঁটতে পারি এর জন্য হাজার মাইল। আমি টিপে দিলাম ওর গালটা এবং ওর জিভের সঙ্গে ঠেকালাম নিজের জিভটা বের করে। নিজেকে তার আগেই ছাড়িয়ে নিয়ে আমার কাছ থেকে দৌড় লাগাল মার্গারেট। হ্যারিয়েট ঠিক সেই মুহূর্তে এসে হেসে বলে উঠল, পিটার ও তোমাকে খুব বিরক্ত করছে না।

–না না, আমার খুব ভাল লাগছে ওর ছটফটে স্বভাবটা, কারণ আমি সহ্য করতে পারি না কোনো গোমড়া মুখে মেয়েকে।

হ্যারিয়েট মৃদু হেসে বলল, ওর মন এখনও সেই বারো তেরো বছরে রয়েছে যদিও বয়স ওর আঠারো পেরিয়ে গেছে। ও কিন্তু এখনও এতটুকু গম্ভীর হতে শেখেনি।

ও গম্ভীর হলেই বরঞ্চ বুড়িয়ে যাবে। মৃদু হাসলো হ্যারিয়েট। বলে উঠল, তুমি বুড়োটে মেয়েদের একেবারেই পছন্দ কর না। কিন্তু ওদিকেই তো এগিয়ে চলছে তোমার বয়সটা।

হ্যারিয়েট, বয়স হলেও আমি এখনও রীতিমতো যুবক, আমি হ্যারিয়েটের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলে উঠলাম।

হ্যারিয়েট রহস্য মাখানো হাসি হেসে বলল, আমি তো সেই পরিচয় পেয়েছিলাম সেদিন রাতেই। চোখের দিকে তাকালাম হ্যারিয়েটের এবং দেখলাম সেই চোখে ভালগার ইঙ্গিত। আতঙ্কে শিউরে উঠলাম আমি ভেতর ভেতর। আমি ভাবতেই পারছি না হ্যারিয়েটকে বিয়ে করার ব্যাপারটা। মার্গারেট, আমার মিমি, আমার ছোটো মিমি এখন রয়েছে আমার সমস্ত মন জুড়ে। ও অষ্টাদশী। আমি সারা জীবন থাকতে চাই ওর ওই নরম নিটোল বুকের মাঝখানে মাথা দিয়ে।

হঠাৎ আমার একটা হাতের উপর হাত রেখে হ্যারিয়েট বলে উঠল, পিটার কি ভাবলে তুমি আমাদের ব্যাপারটা।

শিউরে উঠলাম আমি এবং ভাবলাম ঠিক এই মুহূর্তে ওঁকে চটিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এ বাড়ির পাট তাহলে চুকিয়ে ফেলতে হবে আমাকে। আমার পক্ষে সেটা একটা আত্মহত্যার সামিল হবে। আমার কাছ থেকে তাহলে সারা জীবনের মত হারিয়ে যাবে মার্গারেট। আমি সেটা কিছুতেই পারবনা সহ্য করতে। তাই বললাম, আমি ভেবেছি তোমাকে বিয়ে করার ব্যাপারটা। আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে এই যা যে একটু দেরী হবে। ঠিক এই মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না। হ্যারিয়েটের দুচোখে উদ্বেগ ফুটে উঠল এবং সে বলে উঠল, পিটার কিন্তু এর কারণ কি?

এখানে আসলে আমি একটু গুছিয়ে বসতে চাই। চেম্বার খোলার ইচ্ছা আছে আমার। রোগী দেখব খুব কম পয়সায়। এমন কি বিনা পয়সাতেও, আমি শ্রদ্ধা করি ভারতকে। এখানকার মানুষ জনেদের কাজে লাগলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব আমি আমার ছেলেবেলায় মাকে কথাটা বলতে, শুনে খুব খুশী হয়েছিলেন মা।

হ্যারিয়েট বলে উঠল, ঠিক আছে, এই বলার পর একটি দীর্ঘশ্বাস বেরোলো তার বুক থেকে। অনেকক্ষণ চুপচাপ আমি এবং হ্যারিয়েট বসে থাকার পর এক সময় দেখলাম মার্গারেট গম্ভীর মুখে আমাদের দিকে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে।

.

০৬.

 এরপর দিন দশেক কেটে গেছে। মার্গারেট একটু যেন আমাকে এড়িয়ে চলছিল। সেদিন রাত আটটার সময় নিজের ঘরেই বসেছিলাম আমি। বই পড়ছিলাম একটি চেয়ারে বসে। এটির বিষয় হচ্ছে নরনারীর যৌন জীবন। রাত দশটার আগে ডিনার হয় না.তাই ডিনারে বসতে আজ এখনও অনেক দেরী। হ্যারিয়েট রান্নাঘরে রীতিমতো ব্যস্ত। এক কাপ চা দিয়ে গেছেহ্যারিয়েট ঘণ্টাখানেক আগে। আমি চাইনি কিন্তু ও নিজে থেকেই চুমু দিয়েছিল, কিন্তু তাতে আমি আপত্তি করি নি। কিন্তু ওকে পাল্টা টেনে ধরে চুমু আমি খাই নি। কি করছে নিজের ঘরে মার্গারেট কে জানে। ভেজানো ছিল আমার ঘরের দরজাটা। আমার সমস্ত মন উন্মুখ হয়ে রইল হঠাৎ সিঁড়িতে একটা পায়ের শব্দ পেয়ে। দরজা খুলে হঠাৎ ঘরে ঢুকলো মার্গারেট। আমার বুকটা ছ্যাৎকরে উঠল ওকে দেখা মাত্রই। খুব আস্তে আস্তে এগিয়ে এসে আমার পেছনে থেমে গেল ও। একটা রঙীন পাতলা ফ্রক ওর গায়ে। ওর কোমল স্তন দুটো ভালভাবেই দেখা যাচ্ছে পাতলা ফ্রকের ভিতর দিয়ে। আমার চোখে পড়ল ওর সবুজ রঙের প্যান্টিটা। ক্রমশঃ বেড়ে যাচ্ছিল আমার বুকের স্পন্দন। বই পড়তে লাগলাম তবু আমি নিজেকে যথাযথ সংযত রেখে। একটা অধ্যায় রয়েছেনরনারীর যৌনমিলনের উপর। আমার কাছে এগিয়ে এসে মার্গারেট একেবারে আমার কাঁধে হাত রাখলো। ওর কুণ্ঠা আমি বুঝতে পারলাম। আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না ওর হাতের স্পর্শ পেয়ে। কোমরটা জড়িয়ে ধরলাম ওর একটা হাত দিয়ে। বই পড়তে লাগলাম সেই অবস্থাতেই। ও সরে গেল না। কী বই পড়ছে, ও জিজ্ঞেস করলো।

আমি সংক্ষেপে জবাব দিলাম, বিজ্ঞানের বই। এবারে ও একটু ঝুঁকে পড়ল। আমার শরীরে ঠেকলো ওর স্তনটা একবার। ওর কোমর থেকে আমার হাতটা আর একটু নীচে নেমে গেছে। দেখি বলে ও একটু ঝুঁকল।

কিছুক্ষণ দেখল এই বলে এবং তারপর আবার দাঁড়িয়ে পড়ল। সে বলে উঠল, কি অসভ্য বই। একটা ফোটো ওর চোখে পড়েছে যা ছিল নরনারীর মিলনের ওপর। চেপে ধরে আছি ওকে আমি। প্রচণ্ড উত্তেজনা তখন ভেতরে। আমি ওকে টেনে নিয়ে কোলের ওপর বসালাম যখন ও নিজেকে সরিয়ে নেবার চেষ্টা করল। তারপর ওকে জড়িয়ে ধরে, মৃদু হাসলাম, কেন, কোথায়, দেখলে অসভ্য ব্যাপারটা?

মার্গারেট হেসে বলল, বইতেই তো রয়েছে, টেবিলের একধারে আমি রেখে দিলাম বইটাকে মুড়ে। একটি নরনারীর মিলনের ছবি রয়েছে মলাটে। প্রাচীন ভারতীয় ভাস্কর্য থেকে নেওয়া হয়েছে ছবিটি। গঠন শৈলী খুবই অপূর্ব এবং এমন শিল্পসম্মত কাজ সত্যিই খুব কম দেখা যায়। বেশ খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল মার্গারেট ছবিটার দিকে। হাত দিয়েই আছি আমি ওর কোমরে। ওর শরীর ক্রমশঃ গরম হয়ে উঠছে এটা আমি বুঝতে পারলাম। আমার কোলে বসালাম ওকে আমি আলতো করে টেনে নিয়ে। তুমি কি পড়বে বইটা, আমি বললাম এই কথাটা।

ছেলেমানুষী ভঙ্গী নিয়ে ও ঘাড়টা নেড়ে বলে উঠল, হ্যাঁ।

ঠিক আছে, আমি ওর পিঠে হাত বুলোতে বুলোতে বললাম, যদি তুমি পড়াশুনা ভাল করে কর তাহলে আমি তোমাকে দেবো।

আমি কোনোরকমে সংযত রাখতে পারছিলাম না নিজেকে। চুমুতে অস্থির করে তুলব বলে ভাবছিলাম। হ্যারিয়েট যেকোনো মুহূর্তে এসে পড়তে পারে বলে সাহস হচ্ছিল না। আমার ঠোঁটের সামনে টেনে আনলাম ওর চোয়ালটা একহাতে ধরে, একটা চুমু খেলাম তারপর গভীর ভাবে। তখন বিদ্যুতের শিহরণ বয়ে যাচ্ছিল আমার শরীরে। মার্গারেট আমার কোল থেকে ছিটকে উঠে দাঁড়ালো আমি আর একটা চুমু খাবার আগেই। বিষয় ওর চোখ দুটো। ঠোঁটটা একবার মুছলো হাতের পিছন দিয়ে। ঘর থেকে বেরিয়ে গেল তারপর একছুটে। আমি বসে রইলাম হতভম্ব হয়ে। কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছিল না আমার ব্যাপারটা। আমি বেশ ঘাবড়ে গেছি মার্গারেটের অদ্ভুত আচরণে। বলবেনা তো ও হ্যারিয়েটকে। উল্টে রাখলাম বইটা এবং হ্যারিয়েট ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলো তার মিনিট পাঁচেক বাদেই। সে এসে বসলো আমার সামনের চেয়ারটায়। তোমাকে একটু আগে মিমি বিরক্ত করছিল না, সে একথা বললে মৃদু হেসে।

একবার ঢোক গিললাম আমি। না তো, তারপর কোনোক্ৰমে বললাম।

হ্যারিয়েট বলে উঠল, কিছুতেই ও আজকাল পড়াশুনা করতে চায় না। বড্ড বদমাশ হয়ে গেছে।

টেবিলের ওপর বইটা হাতে নিয়ে ও দেখতে আরম্ভ করলো পাতা উল্টে। কিন্তু খানিকক্ষণ বাদে বলল, তোমাকে ও আর মানবে না, ওকে তুমি বেশি আদর দিও না।

আমি ঘামছিলাম এতক্ষণ। ঘামটা শুকোচ্ছে বলে এবার মনে হল। পাখাটা ঘুরছিল যে মাথার উপর তা আমি এতক্ষণ টের পাইনি। এবার টের পেয়ে নিশ্চিন্ত হলাম। ওর মাকে তাহলে বলেনি ব্যাপারটা মার্গারেট। আমার সামনে এসে দাঁড়াল হ্যারিয়েট। কাঁধে রাখলো তার দুটি হাত। আমাকে উত্তেজিত করে গেছে মার্গারেট আগেই। এখনো কাটেনি তার রেশ। ঘরের দরজায় আমি উঠে গিয়ে খিল লাগিয়ে দিলাম। হ্যারিয়েটের গাউনটা খুলে চেয়ারের মাথায় রেখে দিলাম ওকে একটা চুমু খেয়ে। হ্যারিয়েটকে পাথরের মূর্তির মত লাগছিল সম্পূর্ণ নগ্ন শরীরে। বিছানাতে নিয়ে গেলাম আমি ওকে সোজা কোলে করে এবং তারপর নিভিয়ে দিলাম আলোটা।

দিন সাতেক কেটে গেছে তারপর। সমুদ্র উপকূলে বেরিয়ে এলাম একদিন হ্যারিয়েট, আমি। আর মার্গারেট। ভাল করে কথা বলছে না ইদানীং আমার সঙ্গে। বাগানে বসেছিলাম এবং তখন সবে বিকেল হয়েছে। একটি টেবিলে পত্রিকা পড়েছিল তখন আমার সামনে। পত্রিকাটা আমার নয়। ওটা একটি মেয়েদের পত্রিকা এবং হ্যারিয়েট ওটা নিয়মিত পড়ে। পত্রিকাটি উল্টে পাল্টে দেখে আমি রেখে দিয়েছি। এর মধ্যে আমি পড়ে ফেলেছি একটি বিখ্যাত লেখিকার গল্প। প্রথমে অশ্লীল মনে হলেও পড়ে দেখলাম যে ভদ্রমহিলা ঠিকমতো লিখতে পারেন নি এবং কাহিনীটা অশ্লীল নয়। কাহিনীটা সংক্ষেপে বলা হল যে, বিপ্লবী দল যাতে রয়েছে তিনজন সশস্ত্র বিপ্লবী তারা লুকিয়ে আছে গোপন একটা ডেরায়। ওদের খোঁজে চারিদিকে তোলপাড় করছে পুলিশ। একজন নারী এবং দুজন পুরুষ রয়েছে ওদের মধ্যে। মেয়েটি ঐ দুজনের মধ্যে একজনকে ভালবাসলেও দেহ দিলো আরেকজনকে। এটাই ছিল কাহিনীর বিষয়বস্তু। পত্রিকার পাতাগুলি কিন্তু হাওয়ায় উড়ছিল। হ্যারিয়েট চা দিয়ে গেছে একটু আগে। চায়ে চুমুক দিচ্ছিলাম আস্তে আস্তে। হঠাৎ দেখলাম মার্গারেট একটা বই হাতে নিয়ে এগিয়ে আসছে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। চা খেয়ে যাচ্ছিলাম আমি ওকে না দেখার ভান করে। আমাকে বললো মার্গারেট, ঐ রকম বই তুমি পড়ো কেন সবসময়?

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিরকম বই।

কোনো জবাব দিল না মার্গারেট, সে শুধু একবার তাকালো টেবিলের পত্রিকার উপর। ও কি বলতে চাইছে তা আমি বুঝতে পারলাম। আমি তাই হেসে বললাম, ওটা আমার নয়, ওটা তোমার মায়ের।

চেয়ারে বসে পড়লো মার্গারেট। তুমি মায়ের সঙ্গে মিশবে না, একথা হঠাৎ সে বলে উঠল অসন্তুটি ভঙ্গীতে।

মার্গারেট বলেটা কী? আমিতো শুনে রীতিমতো অবাক। বলে উঠলাম, ছিঃ ওসব কথা বলতে নেই মায়ের সম্পর্কে।

এবার রেগে গিয়ে মার্গারেট আমার কোলে ছুঁড়ে মারল ওরবইটা। তারপর বলে উঠল ঝাঁঝিয়ে, তুমি তাই করবে যা আমি বলছি।

এই বলে ও আর না দাঁড়িয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকে গেল ছুটে। স্থির হয়ে আমি তাকিয়ে রইলাম ওর দিকে। ও চলে যাবার পর আমি কোল থেকে বইটা নিলাম এবং ওপরটা দেখলাম। এটা একটি কমিসের বই। পোষা কুকুরটা ছাড়া পেয়ে আমার পায়ের কাছে এসে ল্যাজ নাড়তে আরম্ভ করে দিয়েছে। হ্যারিয়েট আমার সামনে এসে বসল কিছুক্ষণ পরে। মুখটা ওর খুবই গম্ভীর। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মেঘের আনাগোনা। কি হলো হ্যারিয়েট, জিজ্ঞেস করলাম আমি।

হ্যারিয়েট বলে উঠল বিরক্তি মাখা স্বরে, পিটার আর বলো না, কি বলবো তোমায়, মিমি যে কি কথার অবাধ্য, লীতে ওর স্কার্ট দুটো দিয়ে আসতে বললাম, এতই একগুঁয়ে যে কিছুতেই গেল না। বলে কি, তুমি গল্প করবে আর আমি যাবো, তাই আমি ভাবছি কি যে, আমি ওকে বোর্ডিং এ পাঠিয়ে দেবো।

কেঁপে উঠলাম আমি, এ হতেই পারে না। আমার কাছে সমস্ত কিছু অন্ধকার হয়ে যাবে যদি মার্গারেট আমার চোখের সামনে না থাকে। কিছুতেই আমি বাঁচবো না।

.

০৭.

 সকাল দশটা, সেদিন হ্যারিয়েট বাড়িতে ছিল না। কোনো দরকারে গেছে হয়তো। যাবার সময় বলে গেছে ফিরতে ঘণ্টা দুয়েক দেরী হবে। আমি বই পড়ছিলাম আমার ঘরে বসে। রেডিওতে খবর হচ্ছিল, কিন্তু আমি আসলে পড়ছিলামও না এবং শুনছিলামও না। আমি মার্গারেটের জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলাম। ওকখন আসে তা প্রতি মুহূর্তেই আশাকরে ছিলাম। দরজাটা ভেজানো রয়েছে। হঠাৎ সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শুনে আমার বুকটা কেঁপেউঠল। আমার কাছেই আসছে কি তবে আমার প্রেমিকা। বসে রইলাম আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে এবং দরজার সামনে এসে থেমে গেল পায়ের শব্দ। মিনিটখানেক কাটার পর আমার দরজাটা একটু একটু করে খুলে ঘরে ঢুকলো মার্গারেট। আবার ভেজিয়ে দিলো দরজাটা ঠিক তেমন ভাবেই। একেবারে আমার সামনে এগিয়ে এসে দাঁড়ালো, হাসিমুখে। আমি ওর একটা হাত ধরাতে, খানিকটা এগিয়ে এলো ও। তোমার মা কোথায়, আমি জিজ্ঞেস করলাম।

ব্যাঙ্কে ও জবাব দিল।

ব্যাঙ্কে গেছে, সেকি? তবে যে বললো আজ কার বাড়ি যাবে। মার্গারেট আমার প্রশ্নের জবাবে বলল, হ্যাঁ ব্যাংকের পাশেই এরিনা আন্টির বাড়ি যাবে।

 বেশ দেরি হবে তো তাহলে।

মার্গারেট জবাব দিল, হ্যাঁ ব্যাংকে আজ তো একটু ভিড় হবে, তাই দেরী তো হবেই।

মার্গারেটকে কাছে টেনে নিয়েছি কথা বলতে বলতেই। ওর গায়ে একটা রঙীন পাতলা ফ্রক। ভেতরে কিছু নেই বলেই আমার চোখে পরিষ্কার ধরা দিচ্ছিল ওর দেহের অনুপম সৌন্দর্য। আমি ওকে জড়িয়ে ধরতে ও আর বাধা দিল না। ওর ঘন ঘন নিঃশ্বাস পড়ছিল এবং আমার সমস্ত চেতনা অসাড় হয়ে গিয়ে আমি তখন আর আমাতে ছিলাম না। একটার পর একটা বিস্ফোরণ ঘটছে মাথার উপর। মার্গারেট তুমি রাগ করেছে, আমি বলে উঠলাম অস্ফুটে।

বিড় বিড় করে ও বলে উঠল, কই নাতো। আমি চুমু খেতে লাগলাম ওর নরম আঙুরের মত ঠোঁটে, পাগলের মতো। আমার সোনামনি মিমি, একথা আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছিল, আজ আর থাকবেনাবুঝি কোনোবাধাই। ওর ফ্রকের উপর দিয়ে শুনে আমার হাত চলে যাচ্ছে বারবার। বারবার ও সেই সঙ্গে অস্ফুট শব্দ করছিল। ওর পুরো ফ্রকটাই খুলে দিয়ে একসময় আমি হাত দিলাম ওর উরু সন্ধিতে। আমি একেবারে উন্মাদ হয়ে গেলাম ওর লোমহীন উরুতে হাত বোলাতে বোলাতে। ওর পাখির মত নরম দেহটাকে তুলে নিয়ে বিছানায় গেলাম এবং আমার শরীর তখন উত্তেজনায় কাঁপছিল। দরজার বেলটা ঠিক তখনই বেজে উঠল যেই মাত্র আমি ওর পরম গোপন সম্পদের সঙ্গে আমার নিজের সংযোগ ঘটিয়েছি আমার সমস্ত উত্তেজনা শেষ ঠিক তখনই। ফ্রক পরে নিয়েছে মার্গারেট। আমি ওকে ওর নিজের ঘরে চলে যেতে বললাম এবং তারপর এগিয়ে গেলাম বাড়ির সদর দরজার দিকে। এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য, হ্যারিয়েট দাঁড়িয়ে আছে এক ভদ্রলোকের কাঁধে হাত দিয়ে। মুখ যন্ত্রণায় নীল এবং ব্যান্ডেজ রয়েছে পায়ে। আমার ঘরের বিছানাতেই শুইয়ে দিল ভদ্রলোক ওকে নিয়ে গিয়ে। কিভাবে ঘটলো, আমি জিজ্ঞেস করলাম। রাস্তায় প্রচণ্ড জোরে একটা সাইকেল ওকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। জবাব দিলেন ভদ্রলোক।

যন্ত্রণায় ছটফট করছিল হ্যারিয়েট এবং সামান্য লাল হয়ে গেছে ব্যান্ডেজটা। আমার ঘরে এসে হাজির মার্গারেট, মুখটা একেবারে শুকিয়ে গেছে। কাঁদতে আরম্ভ করে দিলো। ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম আমি, সে কোথায় গেল, যার সাইকেল?

স্নান হাসলেন ভদ্রলোক। আমি সেই লোক ভদ্রলোক বললেন, দোষ ওনার ছিল না দোষ আমারই, রাস্তার একপাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন উনি এবং পেছন থেকে আমি ওকে ধাক্কা মারি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। কাছেই একটা ডাক্তারখানা ছিল এটাই আমার ভাগ্য ভাল।

চুপচাপ রইলাম কারণ আমার আর কিছুই বলার ছিলনা। নিজের ঠিকানা কিছুক্ষণ পর আমাকে দিলেন ভদ্রলোক এবং বললেন, আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন প্রয়োজন হলে, অবশ্য আবার আমি আসবো।

ভদ্রলোক চলে গেলেন এবং আমি হ্যারিয়েটের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম ওর কাছে বসে। মার্গারেট বসে রইলো পায়ের কাছে চুপচাপ। হ্যারিয়েট একসময় ঘুমিয়ে পড়লো যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে। আমাদের বাধ্য হয়ে সেদিন হোটেলেই খেতে হল।

হোটেলে খেয়ে ঘরে ফিরে এলাম আমি আর মার্গারেট। আমি হারিয়েটের ঘরে থাকলাম সেদিন সারা বিকালটাই। বারবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছি ওর। ঘুমিয়ে পড়ল ও একসময়। একটু স্বস্তির ভাব লক্ষ্য করলাম আমার মধ্যে কারণ আমার তেমন একটা দুঃখ হচ্ছিল না। আমার। মনে খুব একটা দাগ কাটেনি হ্যারিয়েটের দুর্ঘটনা এবং তার ফলে নিজেই আশ্চর্য হলাম। রাত দশটায় চুপিচুপি গিয়ে হাজির হলাম মার্গারেটের ঘরে। দরজা ভেজানো ছিল এবং বিষয় মুখে বিছানায় শুয়েছিল মার্গারেট। আমাকে দেখেও ওঠার কোনোরকম লক্ষণ দেখলাম না ওর। আমি হাত রাখলাম ওর মাথায়। বললাম, তোমার ভয়ের কিছু নেই, কারণ তোমার মা শিগগির সেরে যাবে।

ওর মন খুব ভেঙে পড়েছে, ও যেমন ছিল তেমনই রইল। আমি হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম ওর মাথায়। আমার মধ্যে ভেতরে একটা চাপা ভালগা কাজ করে যাচ্ছে, যদিও বাইরে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমি আমার পরমপ্রিয়া মার্গারেটকে একবার কাছে পেতে চাইহ্যারিয়েটের অসুস্থতার সুযোগে। তোমার মায়ের পায়ে সামান্য লেগেছে, তো তার জন্য অত ভেঙে পড়ছে কেন মিমি, তেমন কিছু হয়নি, দেখবে উনি সেরে উঠবেন সপ্তাহখানেকের মধ্যেই।

মার্গারেট এতক্ষণ পাশ ফিরলেও এবার চিৎ হলো। আমি বসে আছি ওর পাশের বিছানায়। ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে হ্যারিয়েটকে তাই ওর ঘুম ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। ও আমার দিকে তাকিয়ে, জিজ্ঞেস করলো এখনও কি ঘুমোচ্ছ মা।

ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে ওকে, তাই ওর ঘুম ভাঙবে না কাল সকালের আগে–আমি তাকালাম ওর দুচোখের দিকে। ওর অপূর্ব দেহটা দেখা যাচ্ছিল পাতলা ফ্রকের নীচে।

হাজার হাজার পোকা যেন নেচে বেড়াচ্ছে আমার মাথার মধ্যে। ওর গালে হাত বুলোতে লাগলাম আমি। ওকে পাগলের মত চুমু খেতে আরম্ভ করলাম ওর ওপর শুয়ে পড়ে। ছটফট করতে লাগল মার্গারেটের শরীরটা। আমাকে সম্পূর্ণ ভাবে গ্রহণ করেছে ও। ঘরের দরজাটা খিল দিয়ে এলাম আমি একবার উঠে গিয়ে। জ্বালিয়ে দিলাম নীল আলোটা। দুচোখে মার্গারেটের তখন ঘোর আসছে। আবার আমি এসে ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। মাঝে মাঝে ও আমার পিঠটা খামচে ধরছিল আমার অসহ্য চুমুতে অস্থির হয়ে গিয়ে। আমার কাছে এই মুহূর্তে ও একজন পরিপূর্ণ নারী। ও আমার স্বপ্নের নায়িকা। আমি হাজার হাজার মাইল হাঁটতে রাজি এই মার্গারেটের জন্যেই। খুলে দিয়েছি ওর ফ্রকটা। কোনো পোশাক ছিলনা আমার শরীরেও হাত রাখলাম আমি ওর উরুসন্ধিতে। ও আমাকে জড়িয়ে ধরে ছটফট করছিল একটা অসহ্য সুখের অনুভূতিতে। ওর মুখ থেকে বেরোচ্ছিল একটা অস্ফুট শব্দ। আমি মিলিত হলাম এই প্রথম মার্গারেটের সঙ্গে। আমরা ভেসে বেড়াতে লাগলাম একটি তীব্র স্বর্গীয় সুখে। আমাদের কাছে এখন কোন কিছুরই অস্তিত্ব নেই। আমি আর আমার স্বপ্ন নায়িকা মার্গারেট এখন একা এই পৃথিবীতে। পরস্পরকে আমরা নিঃশেষ করে দিলাম তীব্র আনন্দের শিখরে ওঠার চরম মুহূর্তে।

ওর পাশে ক্লান্ত শরীরে শুয়ে রইলাম প্রায় ঘণ্টাখানেক। হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম ওর চুলে আমি। আমাদের বয়সের যে একটা বিরাট ফারাক আছে তা আমার মনে হচ্ছিল না। আমাকে বিয়ে করতে চায় ওর মা স্বয়ং হ্যারিয়েট। মার্গারেট এক সময় ঘুমিয়ে পড়লো ক্লান্ত শরীরে। ওকে একটা চুমু খেলাম আমি এবং তারপর ফ্রকটা ওর ওপর চাপা দিয়ে দিলাম। তারপর পোশাক পরে নিজের ঘরে চলে এলাম। রাত তখন বারোটা। হ্যারিয়েটের ঘরে উঁকি মারলাম আসবার পথে সিঁড়ি দিয়ে নামতে। ও ঘুমোচ্ছে অকাতরে। আমার ঘরে চলে এলাম আমি পা টিপে টিপে। বিছানাতে শুয়ে পড়লাম। আমি আজ নতুন ভাবে আবিষ্কার করেছিমার্গারেটের দেহের প্রতিটি সম্পদ। একটা কুকুর যেন চীৎকার করে উঠলো কোথা থেকে। এ বাড়ির কুকুরটা ঘুমোচ্ছ। একটা বেড়ালের কান্না ভেসে এল দূর থেকে। আমার ভেতরে ন্যায় অন্যায় কোনো কিছুরই বোধ নেই এই মুহূর্তে। মার্গারেটকে ছাড়া আমি থাকতে পারবোনা আমি শুধু একথাই ভাবছিলাম। হ্যারিয়েট আমার সামনে একটি বাধা। হ্যারিয়েটের কাছে ধরা পড়ে যেতে হবে একদিন এরকম ভাবে চললে। কি হবে তখন। খেয়াল নেই একথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি। আমার পরের দিন সকালে নটা নাগাদ ঘুম ভাঙলো।

.

০৮.

 মাসখানেক কেটে গেছে এরপর। সবটাই প্রায় সেরে গেছে হারিয়েটের পা। এখন সামান্য একটু খুড়িয়ে হাঁটে। ওটাও কমে যাবে কিছুদিনের মধ্যে বলে মনে হচ্ছে। একটা অন্য উপসর্গ দেখা দিয়েছে ওর মধ্যে যে ও মাঝেমাঝেই ভীষণ অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। ভালভাবে কিছু গুছিয়ে বলতে পারে না তখন। ভীষণ অমনোযোগী হয়ে পড়ে এমনকি কথাবার্তা শোনার পরেও। দিন কয়েকের মধ্যে ব্যাপারটা সেরে ওঠে অবশ্য। এটা বেশি দিন থাকে না। হ্যারিয়েট স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে এবং পড়াশুনায় মন দিয়েছে মার্গারেটও। পাশ করতেই হবে স্কুলের শেষ পরীক্ষায় এবং ও আরো সুন্দরী হয়েছে আমার চোখে।

আমার প্রিয়ার সঙ্গে আর একদিন মাত্র আমি চরমভাবে মিলিত হতে পেরেছিলাম। তেমন একটিও সুযোগ পাইনি অবশ্য হ্যারিয়েট সুস্থ হবার পর। হ্যারিয়েট একদিন দুপুরে আমাকে যৌন মিলনের প্রস্তাব দিল আহত অবস্থা থেকে সেরে ওঠার ঠিক কুড়িদিনের মাথায়। ঠিক প্রস্তুত ছিলাম না আমি অবশ্য ব্যাপারটার জন্য। হ্যারিয়েটকে দুঃখ দিতে চাইনি তাই অগত্যাই আমি মিলিত হলাম ওর সঙ্গে। ব্যাপারটা যান্ত্রিকভাবেই শেষ হল এবং এর ফলে আমি কোনো সুখ পেলাম না। গম্ভীর হয়ে গেছে হ্যারিয়েট এবং ওর যৌন ক্ষিদে আরো যেন বেড়ে গেছে। আমার নিম্নাঙ্গে ও খেলা করে একটা যেন তীব্র সুখ পায়। তাই মাঝে মাঝে ওর হাত সেখানে চলে যায়।

আমি বেশ মানিয়ে নিয়েছি এই বোম্বের জীবনটা। বেশ সাজানো গোছানো এবং ব্যক্তিত্বপূর্ণ এই শহরটি। আমি ভারতবর্ষের লোকেদের অতিথিবৎসল গুণ দেখে খুবই খুশী। নিমন্ত্রণ রাখতে গিয়েছিলাম হ্যারিয়েটের এক বান্ধবী মারাঠী পরিবারে। পরিবারে রয়েছে জনাতিনেক ছেলে মেয়ে এবং স্বামী স্ত্রী। আমার মনেই হচ্ছিল না যে আমি বিদেশী ওরা আমার সঙ্গে এতই প্রাণ খুলে গল্প করছিল। আমার খুব ভাল লেগেছিল ব্যাপারটা। আমি মাঝে মাঝেই দেখাশুনা করতে যাই আমার নিজের হোটেলটা। আমি চেম্বার করিনি এখানে। ব্যাপারটা নিয়ে এগোতে আমার সম্ভব হচ্ছিল না। আমার কর্মচারী ভালই চালাচ্ছে আমার হোটেলটা। সে তার স্ত্রী এবং পুত্র নিয়ে হোটলের একটি ঘরেই কাটায়। এছাড়া জনা তিনেক রাঁধুনি এবং চাকরও থাকে হোটেলের আরেকটা ঘরে। আমি ব্যাপারটা অপছন্দ করি.তাই আমার থাকার কোনো প্রশ্নই উঠে না। হোটেলটা বড় করার আমার কোনো ইচ্ছা নেই এই মুহূর্তে। আমি এই হোটেলের ঠিকানাতেই পাই লন্ডনের হোটলের টাকা পয়সা। আমার নির্দেশ সেরকম ভাবেই ওদেরকে দেওয়া আছে। তখন সকাল নটা, একটা চেয়ারেই বসেছিলাম আমি আমার ঘরে এবং চারদিকে তখন রোদ ঝলমল করছে।

একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে এই বোম্বে শহরটার। হ্যারিয়েট এবং আমি চেয়ারে বসেছিলাম মুখোমুখি এবং একসঙ্গে চুমুক দিচ্ছিলাম কফিতে।

হ্যারিয়েট আমাকে হঠাৎ বলে উঠল। তুমি ঠিক করলে চেম্বারটা কবে করবে?

 আমি এখনো এ বিষয়ে কিছু ভাবিনি। আমি বললাম নিস্পৃহ ভাবেই।

কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো হ্যারিয়েট।

কেমন যেন হচ্ছে মিমি দিনকে দিন, ভালো করে কথা বলে না আমার সঙ্গে। আমি নাকি ওর ভাল চাইতে পারি না কারণ আমি ওর পিসি, মা নই, একদিন আমাকে বলেই বসল।

আমি কি বলব ভেবে না পেয়ে মৃদু হাসলাম, বললাম, ও এমনিতেই একটু ছটফটে বাচ্চা মেয়ে। কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।

হ্যারিয়েট বললো, আমার এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে আমি ওকে পাঠিয়ে দেব ভাবছি ওর পরীক্ষা হয়ে গেলেই, অন্তত মাস তিনেকের জন্য।

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আত্মীয়া, কি সম্পর্কের?

 আমার মায়ের খুড়তুতো বোন, আমার এক দূরসম্পর্কীয়া মাসি। সে এখন থাকে কলকাতায়। হ্যারিয়েটের এই কথা শুনে আমি মনে মনে উতলা হয়ে উঠলাম।

আমার পক্ষে অসম্ভব এতদিন আমার স্বপ্নের নায়িকাকে ছেড়ে কাটানো। আমি হাঁপিয়ে উঠি ওকে না দেখতে পেলেই। আমিবললাম, কি দরকার তার, আমি একটু বুঝিয়ে বললেই ও এমনিতেই জল হয়ে যাবে। আমি ওকে কোথাও নিয়ে যাব বরং তার চেয়ে। আমি কিছুদিনের জন্য বেরিয়ে আসব কিন্তু তুমি যাবে কি করে?

যাবার কোনো উপায় হ্যরিয়েটের নেই। সে বোম্বের শহরতলীতে চাকরী পেয়েছেসদ্য একটি স্কুল মাস্টারীর, চাকরীস্থল বোম্বের শহরতলীতে এবং সেটি ঘণ্টাখানেকের রাস্তা এখান থেকে। কাজে যোগ দেবে ও দিন সাতেক পর থেকেই। আমার যাবার কোনো প্রশ্নই ওঠে না, হ্যারিয়েট বলে উঠল।

আমাদের বিয়েটা এবার সেরে ফেলি এস, হঠাৎ ও একথা বলল সামান্য থেমে।

আমি ঘাবড়ে গেলাম প্রথমে প্রশ্নটা আচমকা হওয়াতে। হ্যারিয়েট কি ধরতে পেরেছে আমার আর মার্গারেটের সম্পর্কটা, আমি একথা মনে মনে ভাবলাম তাই বলে উঠলাম, আমার চেম্বারটা খুলে আগে পোর না জমালে কি হবে।

কিছু বললো না হ্যারিয়েট। ও শুধু গম্ভীর হয়ে গেল। আমি বাইরে তাকিয়েছিলাম জানলা দিয়ে। একটা ফুলের গাছ ছিল সামনে। ফুল হয়নি এতে শুধু কুঁড়ি হয়েছে। মাঝে মাঝে ভেসে আসা গাড়ির শব্দ। হ্যারিয়েট কখন যে আমার সামনে থেকে উঠে গেছে সেটা আমার খেয়ালই নেই।

একটা ঘটনা ঘটল ঠিক এক সপ্তাহ খানেক পরেই। হ্যারিয়েট নিজেই সেদিন আমার ঘরটা পরিষ্কার করেছে দুপুরের দিকে নিজে হাতে। আমার সামনে এসে দাঁড়ালো সে মার্গারেট স্কুলে চলে যাবার খানিকক্ষণ পর। ওর হাতে একটি বই এবং তখন ওর চোখ জ্বলছে রাগে। ও সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ছিঃ ছিঃ এত নীচ, তুমি, আমি তোমাকে অবশ্য অনেক আগেই সন্দেহ করেছিলাম শেষ পর্যন্ত তুমি কিনা নজর দিয়ে বসলে ঐ বাচ্চা মেয়েটার উপর।

ওর একটা হাত আমি ধরতে গেলে ও আমাকে ছিটকে সরিয়ে দিল। আমাকে ছোঁয়ার অধিকার তুমি হারিয়েছ, তুমি আমাকে ছুঁয়ো না, ও সামনে দাঁড়িয়েই বলল এ কথা।

অবাক আমি। হ্যারিয়েটের তো জানার কথা নয় আমাদের সম্পর্কের কথা। আমি তখন শান্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, বলতে কি ব্যাপারটা?

কিছুনা বলে হ্যারিয়েট বইয়ের ভেতর থেকে একটি খাম আমার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বলল, দেখ, তোমার কীর্তির নমুনা দেখ।

এবার আমি ব্যাপারটা বুঝলাম। সমুদ্রের ধারে আমার ক্যামেরায় আমি মার্গারেটের বেশ কয়েকটি ছবি তুলেছিলাম এবং ও সেগুলি পেয়েছে ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে। বেশ কয়েকটা ছবি তুলেছি আমি সমুদ্রে মান করা অবস্থায় এবং এর মধ্যে রয়েছে ব্রা এবং প্যান্টি পরা কিছু ছবি। হ্যারিয়েট ক্ষেপে আগুন হয়ে গেছে বোঝা যাচ্ছে এই ছবিগুলি দেখে, সত্যি বিপদ আমার শিরে। একথা ভেবে আমি ঢোক গিললাম। ওর হাতে না পড়লেই ভাল হত ছবিগুলি, কিছু করার নেই তাতে। এতেই তুমি রেগে যাচ্ছ, এই সামান্য ব্যাপারে।

হ্যারিয়েট কঠিন স্বরে বলল, এতে আমার রেগে যাওয়াটা কি স্বাভাবিক নয়?

আমি এরপর শান্ত স্বরে বললাম, তোমাকে বলতে আমি ভুলে গেছি যে, একজন মোটামুটি বিখ্যাত চিত্র পরিচালক শুটিং করতে আসছে এখানে। আমি ভাবছি তার কাছে এই ছবিগুলি পাঠাব কারণ আমার বন্ধু যদি একটা রোল দেয় মার্গারেটকে।

হ্যারিয়েট কিছুটা নরম হয়ে বলল, কিন্তু ও কথা তুমি তো আগে বলনি আমাকে।

আমি বললাম, ক্ষমা করো আমাকে, অন্য কিছু ভেবনা তুমি প্লীজ, আসলে ব্যাপারটা তোমাকে বলতে আমি একেবারেই ভুলে গেছি। চল ঘরে চল।

ওর ঘরে নিয়ে গেলাম হ্যারিয়েটকে ওর কাধ ধরেই। ওকে এরপর বিছানায় শুইয়ে দিলাম এবং তারপর বললাম, হ্যারিয়েট আমি তোমাকেই ভালবাসি।

চোখে জল এসে গেছে হারিয়েটের। তাই ওকে একটা চুমু খেলাম আলতো করে এবং বলে উঠলাম, মিমি তোমার মত আমারও মেয়ে; তোমারই মত আমি ভাল চাই ওর। আবার বললাম একটু থেমে, ও একজন নামী ফিল্ম স্টার হবে, ও আমাদের গর্ব, ওর নাম হবে, টাকা হবে, সেটা কি তুমি চাও না।

হ্যারিয়েট আমার মাথায়, গালে, ঠোঁটে এবং কপালে সব জায়গাতেই চুমু খেতে লাগল এবং আমি তখন বুঝলাম যে আমার অভিনয়কে আমি সার্থক করতে পেরেছি হ্যারিয়েটকে শান্ত করে। কতদিন চালিয়ে যেতে হবে এই মিথ্যা অভিনয় কারণ আমি হ্যারিয়েটকে একবিন্দু ভালবাসি না। মার্গারেটই আমার ধ্যানজ্ঞান। ও ছাড়া আমি কারো কথা চিন্তা করতে পারি না কারণ ও আমার জীবনের ধ্রুবতারা, ওকে ছাড়া আমি এক সেকেন্ডও থাকতে পারবো না। এই মুহূর্তে হ্যারিয়েটকে চটানো আমার পক্ষে অসম্ভব কারণ মার্গারেটকে পাবার জন্যই আমাকে অভিনয় চালিয়ে যেতে হচ্ছে। হ্যারিয়েটকে চটালে মার্গারেটকে আমি চিরকালের মত হারাব এবং আমার চোখের সামনে থেকে বরাবরের মত অদৃশ্য হয়ে যাবে আমার প্রেমিকা। আমি চিন্তাতেই আনতে পারছি না ব্যাপারটা। আমাকে জড়িয়ে ধরছিল হ্যারিয়েট। আমি ওর একমাত্র অবলম্বন বলে মনে হচ্ছিল। হঠাৎ সে বলে উঠল, আজ রাতে আমি তোমার ঘরে আসব পিটার?

কেঁপে উঠলাম আমি, কারণ আমার চোখের সামনে তখন একমাত্র মার্গারেটের মুখটাই ভাসছে। আমার হারিয়েটের সঙ্গে মিলিত হবার সময়ও মনে হয় আমি মার্গারেটের সঙ্গে মিলিত হয়েছি। মৃদু হেসে বললাম, ঠিক আছে, এসো।

আমি যদি মিমিকে নিয়ে দিল্লী যাই, তোমার তাতে কি আপত্তি আছে হ্যারিয়েট। আবার একটু থেমে আমি বললাম।

হ্যারিয়েট বলে উঠল, কেন?

ওর প্রশ্নের জবাবে আমি বললাম, ও যে আমার বন্ধু যে ছবিটা করবে তা হবে প্রধানতঃ ভারতবর্ষের পটভূমিকায়। প্রেমের ছবি তাই আগ্রার তাজমহলে শুটিং হবে। মার্গারেটকে নিয়ে একবার ওর কাছে যাব বলে ভাবছিলাম। মিমি তো রীতিমতো সুন্দরী তাই ওকে নিশ্চয় একটা রোল দেবে।

হ্যারিয়েট কপট রাগে বলল, তুমি তো আমায় বলছো না, আমি বুঝি সুন্দরী নই।

আমি বললাম, তুমিও সুন্দরী কিন্তু যেহেতু ওরাকমবয়েসী ভারতীয় মেয়ে চাইছেতাই মিমিই উপযুক্ত হবে কারণ মিমিকে ভারতীয়ই বলা যায়।

হ্যারিয়েট জবাব দিল, বুঝলাম। বেশ কিছুক্ষণ কাটলো আমার একটা হাত ওর একটা হাতের উপর রেখে। হঠাৎ দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি মার্গারেট স্থির দৃষ্টিতে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। কে জানে কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ডাকলাম, মিমি।

ততক্ষণে হ্যারিয়েট দরজার দিকে তাকাতেই ওরমার্গারেটের সঙ্গে চোখাচোখি হল। হ্যারিয়েট ঠিক সেই মুহূর্তেই ওকে বিষণ্ণ স্বরে বলল, বাইরে দাঁড়িয়ে কেন মিমি, ভেতরে আয়।

ভেতরে ঢুকে মার্গারেট সোজা একভাবে দাঁড়িয়ে হারিয়েটকে বলল, আমার খিদে পেয়েছে সেটা কি তুমি ভুলে গেছ, অথচ এখানে রয়েছ।

আমার কিছুই বলার নেই বলে আমি নিস্পলক দর্শক হয়ে রইলাম। মেয়েদের পারস্পরিক লড়াইয়ে নীরব দর্শক হওয়া ছাড়া প্রকাশ্যে যাবার কোনো উপায় নেই। বেরিয়ে গেল ওরা দুজন এবং যাবার সময় এমনভাবে আমার দিকে মার্গারেট তাকালো যার অর্থ হতে পারে অনেক রকম।

.

০৯.

 মার্গারেটের পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে, তাই সে এখন রয়েছে শুধুই ফলের অপেক্ষায়। যদিও এ ব্যাপারে তার খুব একটা চিন্তা নেই। মাঝখানে আরো একবার হ্যারিয়েট মানসিক রোগে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। মনমরা হয়ে থাকতো সবসময়। কান্নাকাটি করত এবং মার্গারেটকে একেবারেই সহ্য করতে পারতো না। স্থানীয় একজন বিখ্যাত মানসিক রোগের চিকিৎসককে দেখালাম বেশ কিছুদিন ধরে। মোটামুটি ভাবে সেরে উঠে এখন রান্নাবান্না এবং কাজে যাওয়া ঠিকঠাকই করছে। পুরোপুরি কাটেনি ওর এই বিষাদ রোগটা। রোগটা অবশ্য খুব জটিল বলে ডাক্তার বলেছে। আবার দেখা দিতে পারে যে কোনো সময় এবং আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠাটা অস্বাভাবিক নয়। ওর মানসিক ভারসাম্য ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বারবার। মনের মধ্যে এক বিচিত্র সন্দেহ এবংঅবিরাম দ্বন্দ্বের ফলই এই রোগের মূল কারণ বলে ডাক্তারের কাছে জেনেছি। ওর মানসিক বিশ্বাসটা একান্ত জরুরী যদি ও সুস্থ হয়ে উঠতে চায়। আমি অবশ্য দৈহিক রোগের চিকিৎসক, আমার কারবার অবশ্য মন নিয়ে নয়। আমি এই সব বিষয়ে একরকম অসহায় এবং আমার অনেকটা সময় কেটে যায় হারিয়েটের পেছনে। মাঝবয়সী মহিলা একজন রাঁধুনী রাখা হয়েছে। কারণ হ্যারিয়টের এখন বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। কিছুদিন বোষের নানা জায়গাতে বেড়িয়ে এলাম ওদের নিয়ে। ব্যাপারটা যেন কিছুতেই না বুঝতে পারে হ্যারিয়েট, এটাই আমার এখন একমাত্র লক্ষ্য বিশেষ করে। মার্গারেটকে তাহলে আমি হারিয়ে ফেলব চিরকালের মত। এখন মাঝে মাঝেই হ্যারিয়েট জোর দিয়ে ওঠে দুটো কথার উপর। এক, যতদূর সম্ভব বিয়ে করতে হবে তাকে এবং দুই মার্গারেট ভালভাবে পড়াশুনা করবে ওকে একটা বোর্ডিং এ পাঠিয়ে দিলে। এবং সেখানেই ও থাকবে। হ্যারিয়েট এসব কথা কেন বলছে তা আমি বুঝতে পারছিলাম পরিষ্কার। এ দুটো প্রচেষ্টাকেই বাধা দেওয়া এখন আমার একমাত্র কাজ।

মার্গারেটকে ওর কাছ থেকে বের করে নিয়ে যেতে হবে, এবার আমি সেই পরিকল্পনাটাই করলাম কিছুটা পরিবর্তন অবশ্য লক্ষ্যকরছিআমি মার্গারেটের ব্যবহারেও। একবারের জন্য এলেও সে বেশিক্ষণ আমার ঘরে থাকতে চায় না। সন্ধ্যাবেলায় মনের ভেতর রীতিমতো অস্থিরতা নিয়ে আমি ঘরে বসে আছি। এখানে এসেছিলাম একটা উদ্দেশ্য নিয়ে কিন্তু এখন চলেছিনিজেকে ভাগ্যের হাতে সঁপে দিয়ে। মানুষের ভাগ্য আর যোগাযোগ সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে বাধা, তাই একটু এদিক ওদিক হবার জো নেই। আমার নিজেকে এই মুহূর্তে ভাগ্যের হাতের ক্রীড়নক বলে মনে হচ্ছে। হ্যারিয়েটকে আপাতত শান্ত করার জন্য ওর দুটো প্রস্তাবই মেনে নিয়েছি। মাস তিনেক অপেক্ষা করতে বলেছি বিয়ের জন্য এবং আরো বলেছি তার মধ্যে মার্গারেটকে বোর্ডিং–এ পাঠিয়ে দিয়ে তবে বিয়েটা করব। যদিও জানি এ দুটোই অবাস্তব। বোর্ডিং–এ যাবে না মার্গারেট এবং বিয়েও করবো না হ্যারিয়েটকে। আমি এখান থেকে বরঞ্চ ওকে নিয়ে অন্য কোথাও সরে যাব। কাউবে টের পেতে দিইনি আমি এ সমস্ত ঘুণাক্ষরেও। চেয়ারে বসেছিলাম চুপচাপ, চোখ দুটি বুজে। টের পাইনি, মার্গারেট কখন এসে দাঁড়িয়েছিল চুপিচুপি। মার্গারেট খিল খিল করে হাসছে, আমি আমার কপালে একটা চুমু পড়তে দেখেই বুঝলাম। আমি পাগল হয়ে যাই ও এরকম ভাবে হাসলে এব তখন আমার আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকেনা নিজের ওপরে। আমি ওর হাত ধরতে যেতে ও খানিকট দূরে সরে গেল। চোখ বুজে ভাবছিলে কি, ও তারপর ওখান থেকেই বলল।

আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, আমি এখন যার কথা ভাবছি সে হচ্ছে তুমি।

মার্গারেট রেগে উঠল কপট রাগে এবং বলল, কথাটা মোটেই ঠিক নয়, তুমি মিথ্যুক, তুমি নিশ্চয় ভাবছিলে অন্য কারোর কথা।

ওর ইঙ্গিত বুঝতে আমার কিছুই অসুবিধে হল না যদিও পরিষ্কার করে কিছু বলল না।

মার্গারেট বিশ্বাস কর, আমি তোমার কথাই চিন্তা করছিলাম, আমি আবার বলে উঠলাম

বিছানার উপর আমার কাছ থেকে বেশ কিছুটা দূরে মার্গারেট উঠে বসল। ঠিক দরজার সামনে বসল যাতে আমি ধরতে গেলে পালাতে পারে।

মার্গারেট আবার জিজ্ঞেস করল, দিল্লী নিয়ে যাবে বলে যে তুমি আমায় বলেছিলে কি হল তার?

একটু অপেক্ষা কর, আগে তোমার মায়ের অনুমতিটা নিই, তারপর নিশ্চয়ই যাব, আমি বললাম।

দুচোখে রহস্যের ঝিলিক নিয়ে সে নিজের চুল টানতে থাকল এবং বলতে লাগল, কিন্তু মার কাছে যদি অনুমতি না পাই।

চিন্তা করো না, মা নিশ্চয় অনুমতি দেবে, খিলখিল করে হেসে উঠল ও, ওর হাসি আমাকে পাগল করে দেয় এবং আমি তা সহ্য করতে পারি না। স্কার্টের নিচের দিকটা কিছুটা উঠে গেছে এবং আমি দেখতে পাচ্ছি ওর ফর্সা উরু দুটো এবং সেটিই আমার শরীর গরম করে দিচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে হারিয়ে এসে পড়তে পারে, তাই কিছুই করার ছিল না। মার্গারেট হাসি থামিয়ে আবার বলল, আমাকে নিয়ে যাবে কোথায় দিল্লীতে? ।

জবাব দিলাম, কনট প্লেস নামক একটি হোটেলে আমরা উঠব এবং সেখান থেকে যাব আগ্রা। আমাদের শুটিং হবে তাজমহলের সামনে।

মার্গারেট জিজ্ঞেস করল, কোন ভূমিকায় আমি অভিনয় করব?

তুমি অভিনয় করবে একজন ভারতীয় কিশোরীর ভূমিকায়।

আমি জানি এসব কথাই বানানো, যদিও বলেছিলাম এসব কিন্তু জানতাম যেবাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব নেই। ওকে নিয়ে যাবার প্রস্তুতি এটা। আবার বললাম, এটি দারুণ কাহিনী, এই মেয়ে প্রেমে পড়বে মাঝবয়সী ছেলে এবং তার বাবা। বাবা আত্মহত্যা করবে শেষ পর্যন্ত এবং পুলিশ সেই চিঠির সূত্র ধরে দুজনকেই গ্রেপ্তার করবে। পূর্বপুরুষের ব্যাভিচারের ফলে তখন কাল রোগে পেয়েছে মেয়েটাকে, মেয়েটা নিজেই সমুদ্রের কাছে সঁপে দেবে শেষ পর্যন্ত নিজেকে কাহিনী এটাই।

ছেলেটার কি রোগ হয়েছিল, মার্গারেট শুনে তারপর জিজ্ঞাসা করল।

আমি বললাম সিফিলিস।

 রোগটা কি খুব খারাপ রোগ? মার্গারেট জিজ্ঞাসা করল আবার।

 মার্গারেট আবার জিজ্ঞাসা করল, ব্যাভিচার কথাটার অর্থ কি?

ও কি জানে না সত্যিই, না এর পেছনে কিছু উদ্দেশ্য আছে, এই কথার কি জবাব দেব তার আমি ভেবে পেলাম না।

ব্যাভিচারী তাকেই বলে যে পুরুষ অনেক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করে, আমি কিছুক্ষণ ভেবে বললাম।

ও আবার হেসে বলল, তুমি যেমন।

সামান্য বালিকার মত ওকে মনে না হয়ে এই মুহূর্তে ওকে আমার একজন পরিপূর্ণ নারী বলে মনে হচ্ছিল। সব ছলাকলার বিদ্যেই জানা নারীদের। যে কোন পুরুষের পক্ষেই নারী যে রহস্যময়ী তা জানা অসম্ভব। তোমার কেন আমাকে ব্যাভিচারী মনে হল, জিজ্ঞেস করলাম।

 খিল খিল করে নিষ্পপের মত পবিত্র হাসি হেসে উঠল মার্গারেট। সে বলল, তোমার ডায়েরীটা পড়ে আমি দুজনের নাম প্রথমে দেখেছি এবং এখন আরো।

মার্গারেট থেমে গিয়ে মুখ টিপে হাসতে লাগল। থেমে গেলে কেন, আমি বলে উঠলাম, কি ব্যাপার।

চুপ করে গেল আবার মার্গারেট। আমি তখন আবার বলে উঠলাম, বলল।

নিশ্চুপ হয়ে রইল সে। অন্যের ডায়েরী তোমার না বলে পড়া উচিত হয়নি মিমি, আমি ধমকের সুরে বললাম।

মার্গারেট আদুরে ভঙ্গীতে কপট রাগে ঠোঁটটা ফুলিয়ে বলে উঠল, তুমি সবসময় উচিত অনুচিত মেনে চল, আমি যা করেছি তা বেশ করেছি। আমি ওকে এরপর মৃদু হেসে ধরতে গেলাম এবং সেই মুহূর্তে ভয় পেয়ে গেল সে এবং হরিণীর মত বিছানা থেকে নেমে একেবারে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে পালিয়ে গেল। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম ঠিক দরজার সামনে। আমার চোখের সামনে থেকে ঠিক যে মুহূর্তে চলে গেল মার্গারেট, হ্যারিয়েট পরক্ষণেই সিঁড়ি বেয়ে বিরক্ত মুখে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, খুব বিরক্ত করছিল বুঝি মিমি তোমাকে।

আমি হেসে বললাম, না ওর ছটফট করাটা একটা অভ্যাস, কিন্তু ও আমাকে কোনোরকম বিরক্ত করেনি।

 আমি আর পারছি না ওকে নিয়ে, ও বড্ড অসহ্য করছে। ও আর একদম আমার কথা শুনছে না।

হ্যারিয়েটকে বোঝালাম, সব ঠিক হয়ে যাবে, ওর মন খুব সাদাসিধে যদিও ও একটু ছটফটে এবং এর জন্য চিন্তার কোনো কারণ নেই।

হ্যারিয়েটকে ঘরে নিয়ে এসে মুখোমুখি চেয়ারে বসলাম দুজনে। আমি আসল কথাটা পাড়লাম এটা ওটা খানিকক্ষণ বলার পরে। বললাম, আমার সেই বন্ধু এখন দিল্লীতে এসেছে এবং আমি ভাবছি ওর ওখানে নিয়ে যাব মিমিকে।

হ্যারিয়েট জিজ্ঞেস করলো, সে দিল্লীতে কোথায় এসেছে। জবাবে বললাম, কনট প্লেসের একটা বড় হোটেল।

একটু হাসলাম, তারপর বললাম, মিমিকে অবশ্য নিতে পারে এবং যেহেতু আমার চেনা শোনা আছে তাই আমি বলতে পারি কথাটা। এই বলে হ্যারিয়েটের চোখের দিকে তাকালাম এবং তারপর আবার বললাম, তুমিও যেতে পার, অবশ্য যদি তুমি যেতে চাও।

অনকেক্ষণ চুপচাপ থাকার পর হ্যারিয়েট এরপর ওলটাতে লাগল একটি ম্যাগাজিনের পাতা। তারপর বলে উঠল, স্কুলের পরীক্ষা আছে তাই কামাই করা যাবে না বলে আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তোমরাই বরঞ্চ ঘুরে এস ওখানে। হ্যারিয়েট বলে উঠল সামান্য থেমে। মিমি তো দিল্লী দেখেনি তাই বেড়ানোও হবে এবং তার সঙ্গে কাজও হবে।

তুমি কিছু মনে করো না, আমি ওর হাতে হাত রেখে বললাম।

মনে আবার কি করবো।

অনুমতি দিচ্ছ তো তাহলে যেতে?

হ্যারিয়েট মৃদু হেসে প্রশ্নের জবাবে বলল, বিয়েটা সেরে ফেলতে হবে কিন্তু ফিরে এসেই, সুতরাং কথা দিয়ে যাও যেন দেরী না হয়।

গরম একটা রক্তের স্রোত বয়ে গেল আমার শিরদাঁড়া বেয়ে। একটা চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে চলেছি আমি। ঠিক কোন জায়গাতে পৌঁছাব আমি তা বলতে পারে একমাত্র ভবিষ্যই। আমি শুধু বললাম, আগে আমাকে ফিরে আসতে দাও।

হ্যারিয়েট জিজ্ঞেস করল, কত দিন লাগবে?

হ্যারিয়েটের অনুমতি পাওয়া গিয়েছে তাই আনন্দের আর সীমা রইলো না আমার। যাওয়ার অপেক্ষা শুধু এখন। ছটফট করতে করতে বলে উঠল হ্যারিয়েট, এখন যেও না, যত ইচ্ছে বিয়ের পর যেও, তখন আর আমি কোনো বাধা দেব না।

তুমি সত্যিই খুব ভাল হ্যারিয়েট, আমি বলে উঠলাম।

আমার চোখে ভাসছে তখন দুটি মহল, এক দিল্লী এবং দুই হচ্ছে আগ্রার তাজমহল। শেষ গন্তব্যস্থল কলকাতা, যেখানে আছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। এটি একটি তাজমহল, যা আমি ছবিতে দেখেছি, কিন্তু চোখে দেখিনি। আমার ঘরে এসেছিল কিন্তু হ্যারিয়েট সেই রাতে। ওর সব কিছু ভরিয়ে দিলাম আদরে আদরে। আগে কখনও এমন নিখুঁত অভিনয় করিনি এবং পরে কখনও করব বলেও জানি না।