৪. আবছায়া ভাব অফিসের মধ্যে

০৪.

আবছায়া ভাব অফিসের মধ্যে। জানালার পর্দানামানো। আমি পায়চারী করি, পরনের জ্যাকেট আলগা, টাই ঢিলে। চেয়ারে বসা পাওলার চেহারা বরফের মত ঠাণ্ডা।

লীডবেটারকে মৃতাবস্থায় কিভাবে দেখেছি তার বিবরণ শুনে পাওলার যেন ভাল লাগছিল না।

আমি বলি, লীডবেটারের বাড়ির সামনে গরান কঠের বড় ঝোঁপ। ঝোঁপের আড়াল থেকেই খুনী গুলি করেছে। আমরা তাড়াতাড়ি পালিয়ে এসেছি, কেউ আমাদের দেখেনি।

পাওলা সিগারেট ধরিয়ে বলে, ব্যাপারটা ভাল ঠেকছে না। যদি আমরা কার্ফের ব্যাপারটা ব্রাক্তনকে জানতাম-লীডবেটার খুন হত না।

কি হোত জানি না। নিজের মৃত্যু লীডবেটার নিজেই ডেকে এনেছে। ও খুনীর সঙ্গে দর কষাকষিতে চলে গিয়েছিল। অর্থ লোভই ওর মৃত্যুর কারণ।

হয়ত তাই। খবরটা শুনে ব্রান্ডন উত্তেজিত হবেন। ডিক, আমাদের অবস্থা ভাল নয়। এখন আমরা কোনদিকে অগ্রসর হব?

বেনিকে স্যানফ্রানসিসকোতে পাঠিয়েছি। অনিতার খবর আনতে। খুনের জায়গায় যে অনিতা কার্ফ উপস্থিত ছিল সে বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ। এবার বার্কলের সঙ্গে কথা বলা আমার কাজ।

বার্কলের কাছে গিয়ে লাভ নেই…ওর আলমারি থেকে ডানার পোশাক আনার অর্থ ওকে সন্দেহমুক্ত করা। সে সবকিছু অস্বীকার করবে।

জানি। কিন্তু ভেবেছিলাম ডানার পোশাকনতুন কোন তথ্য জোগাবে। ক্লেগের ক্লিনিকে ডানার পোশাক পাঠিয়েছি। রিপোর্ট পাওয়ার পর পোশাক বার্কলের আলমারিতে রেখে আসবো।

কাজে খুব ঝুঁকি। ডানার প্যান্ট জুতো আর মোজার হদিশ পেলে না?

 হয়তো কোথাও লুকানো আছে। মিলস্ এসে যাওয়ায় বেশি খুঁজতে পারিনি।

তুমি কি মিলসের ডেরায় হানা দেবে নাকি?

হয়ত দেব, কিন্তু এখনই নয়। মিলসের সঙ্গে খুনের হয়তো কোন সম্পর্ক নেই। নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত…।

সময়ের প্রশ্নটা আগে ভাবতে হবে। পুলিশ কিছু করার আগেই আমাদের খুনীকে ধরা উচিত।

দেখা যাক, ক্লেগের রিপোর্ট কি বলে? একবার ওকে ফোন কর।

ক্লেগকে টেলিফোনকরতে পাওলা এগিয়ে যায়। আমি অনেক কিছুতেই বিভ্রান্ত। ডানাকে কেন উলঙ্গ করা হয়েছিল? ওকে অনিতা কেন নেকলেশ দিয়েছিল?

পাওলা বলে, ডিক, ক্লেগের সঙ্গে কথা বল।

ডানার পোশাকে রক্ত অথবা বালির কোন চিহ্ন নেই। ক্লেগকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফোন রাখি।

কিছু পাওয়া যায় নি, মানে মৃত্যুর সময় ডানার পরনে অন্য পোশাক ছিল।

খুন করার আগে হয়ত ডানাকে উলঙ্গ করা হয়েছে।

সেক্ষেত্রে ডানার পোশাকে বালির চিহ্ন পাওয়া যেত।

হয়ত গাড়ির মধ্যেই ডানাকে উলঙ্গ করা হয়েছে।

কিছু ভাবতে পারছি না।বরং বার্কলের সঙ্গে আগে দেখা করি। কারমানকে সঙ্গে নেব। বার্কলে হয়ত ঝামেলা করতে পারে।

দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় টেলিফোন বেজে ওঠে।

পাওলা ধরে বলে, ব্রান্ডন তোমার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন।

যেতে যেতে বলি, ব্রান্ডনকে তুমি সামলাও। বলবে আমি কোথায় গেছি, তুমি জান না। কাল সকালে দেখা হবে।

***

গাড়ি গাছের নিচে রাখি। রেজিস্ট্রেশন কার্ডটা পকেটে ঢোকাই। তারপর নিচে নেমে বলি, এখান থেকে আমাদের হাঁটতে হবে।

কারমান অনিচ্ছাসত্ত্বে নেমে বলে, উঃ, কী গরম! ডিক, বার্কলে কি আমাদের মদ অফার করবে?

ডানার কোট আর স্কার্ট একটা প্যাকেটে বগলের নিচে রেখে হাঁটতে হাঁটতে বলি, মদের বদলে বার্কলের তরবারির আঘাত পাবে। বার্কলে মধ্যযুগের অস্ত্রাদি সংগ্রহে অত্যন্ত উৎসাহী।

তাই নাকি? কখনও তরবারির আঘাত কি জিনিষ, জানি না।

নিঃশব্দে বার্কলের শোবার ঘরে ঢুকে আলমারির মধ্যে ডানার পোশাক রেখে দিতে হবে। বার্কলে যদি বাগানে থাকে-ওকে আলোচনায় আটকে রাখবে। ভাগ্য ভালো হলো বার্কলে বাড়িতে নেই।

বার্কলে যদি তোমাকে হাতে নাতে ধরতে পারে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ডাকবে। অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে ব্রান্ডননের মুখোমুখি হতে কেমন লাগবে?

টেলিফোন থেকে বার্কলেকে দূরে রাখতে হবে। তাই তোমাকে সঙ্গে আনা। বার্কলের সঙ্গে শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে।

বাগানে কেউ নেই। বাড়ির দিকে তাকিয়ে বলি, বুঝতে পারছি না, বার্কলে ভেগে পড়েছে কিনা।

কারমান বলে, আমি আগে যাব।

 নিশ্চয়ই। দরজায় নক্‌ কর। যদি বার্কলে থাকে–ওকে ব্যস্ত রাখ। আমি সেই ফাঁকে শোবার ঘরে যাব।

কারমান দরজার কছে গিয়ে বেল পুশ করে। কোন সাড়া নেই। আবার বেল বাজায়, তখন একটি কণ্ঠস্বর শোনা যায়, ব্যপারটা কী?

সবেগে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখি আমার পেছনেদীর্ঘকায় সুদর্শন চেহারার এক ব্যক্তি। এই ভদ্রলোক যে জর্জ বার্কলে সেটা বুঝতে বাকি রইল না।

মিঃ বার্কলে নিশ্চয়ই আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন?

হ্যা….কী ব্যাপার?

নিজের প্রতিষ্ঠানের কার্ড এগিয়ে দিলাম। বার্কলে কার্ডটি পড়ে ফেরৎ দিয়ে বলে, ধন্যবাদ। এই মুহূর্তে আপনাদের প্রতিষ্ঠানের সাহায্য আমার দরকার নেই।

কারমান এসে দাঁড়ালে বার্কলে ওকে তীক্ষ্ণ চোখে লক্ষ্য করে।

আমরা আপনার কাছে অন্য ব্যাপারে এসেছি। একজন মকেলের হয়ে আমরা কাজ করছি যার স্ত্রী হলেন আপনার বান্ধবী। এ ব্যাপারে আপনি হয়ত আমাদের সাহায্য করতে পারেন।

খুব দুঃখিত, এখন আমি ব্যস্ত। তাছাড়া অপরিচিত লোকদের আমি পছন্দ করি না।

শুনুন মিঃ বার্কলে–পুলিশদের তো হাড়ে হাড়েই চেনেন। ব্যক্তি মানুষদের প্রতি ওদের কোন শ্রদ্ধা নেই। আমাদের আছে।

বার্কলে ভ্রু কুঁচকে, কী জানতে চান তাড়াতাড়ি বলুন। দুঃখিত, আমাদের আলোচনায় একটু সময়ের দরকার। চলুন বাড়ির ভেতরে বসে কথা বলি।

উঃ, যীশুর দোহাই। আপনারা আসুন আমার সঙ্গে…।

বার্কলে বসার ঘরে ঢুকে গ্লাসে কিছুটা হুইস্কি ঢেলে সোফায় বসে বলে, এবার যা বলার তাড়াতাড়ি বলুন।

বার্কলের কোলের ওপর ডানার পোশাক রেখেলি, আপনার পোশাকের আলমারিতে এগুলি কিভাবে এলো?

ডানার পোশাক সন্দেহের চোখে দেখে, মুখে বিস্ময়ের অভিব্যক্তি। আমার দিকে স্থিরভাবে তাকিয়ে বলে, আবার বলুন তো ব্যাপারটা?

এই পোশাক আপনার আলমারিতে কিভাবে এলো জানতে চাই।

ডানার পোশাক মেঝের ওপর ফেলে বার্কলে ইস্কির গ্লাসে একটা লম্বা চুমুক দিয়ে বলে, আপনি কী মাতাল? না পাগল?

কয়েক ঘণ্টা আগে এখানে এসেছিলাম, বাড়িতে কেউ ছিল না তখন। সুতরাং আমি বাড়ির ভেতর ঢুকে চারিদিক দেখি। আপনার শোবার ঘরের আলমারিতে ডানার পোশাক দেখেছি।

– তাই নাকি? আবার ফিরিয়ে এনেছেন। খুব চালাক লোক আপনি।

রক্তের চিহ্ন পরীক্ষা করার জন্যে পোশাক নিয়েছিলাম।

রক্তের চিহ্ন…ব্যাপারটা কী?

এই পোশাক ডানা লিউইসের। বালিয়াড়িতে গত রাত্রে যে মেয়েটি খুন হয়েছে।

কী পাগলের মত আবোল-তাবোল বকছেন?

জানতে চাই যে মেয়েটি কাল রাত্রে খুন হয়েছে এবং যাকে উলঙ্গ অবস্থায় বালিয়াড়ির কাছে পুলিশ আবিষ্কার করে তার পোশাক আপনার আলমারিতে এলো কিভাবে?

জানি না, জানতে চাই না। এবার এই পোশাক নিয়ে বিদেয় হোন।

আমি ঠাণ্ডা গলায় বলি, ডানা লিউইসের হত্যার ব্যাপারে আপনি মুক্ত নন। আমার হাতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আছে। ডানা লিউইস আমার প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী। মিসেস কার্ফকে অনুসরণ করার সময় সে খুন হয়।

ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বার্কলে বলে, কী ব্যাপার…আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চান বুঝি?

উঁহু, সেসব নয়। খুন হওয়া মেয়েটি আমার বান্ধবী।ওর হত্যার তদন্ত আমি করছি। ওর পোশাক কিভাবে এলো জানতে চাই।

বার্কলে উঠে বলে, যাই বলুন আমি ব্ল্যাকমেলের গন্ধ পাচ্ছি।বরং আমি পুলিশকে ডাকি, ওদের কাছে আপনি প্রমাণ দাখিল করবেন।

বার্কলে টেলিফোনের দিকে হাত বাড়ায়। কারমান প্রস্তুত ছিল। সে তার ছিঁড়ে টেলিফোনটা ঘরের কোণে নিক্ষেপ করে।

বার্কলে এগিয়ে কারমানের মাথায় আঘাত করে।কারমান টেবিলের ওপর ছিটকে পড়ে। আমার দিকে তেড়ে আসার আগেই আমি সজোরে বার্কলের চোয়ালে ঘুষি মারি। বার্কলের দু চোখ উল্টে যায়। ফ্যাকাশে হয়ে মেঝের ওপর পড়ে যায়।

কারমান উঠে দাঁড়িয়ে বলে, চমৎকার, এবার আমরা একটু হুইস্কি পান করতে পারি…কি বল ডিক?

নিয়ে এসো।

কারমান লিকার ক্যাবিনেটের দিকে গিয়ে দুটো গ্লাসে হুইস্কি ঢেলে একটা আমাকে দেয়। এক চুমুকে অর্ধেক খালি করি। বার্কলের জন্য চিন্তা হয়। বেচারী হয়ত কিছুই জানে না।

আমি বলি, কারমান সাবধানে এগোতে হবে। নইলে পুলিশের খপ্পরে পড়বে।

কারমান বলে, অন্যায় আমরা কিছুই করিনি। বার্কলেই প্রথমে মারামারি শুরু করে। ওর মুখ থেকে কথা বের করতেই হবে।

কারমান জলের ঝাপটা দেয়। বার্কলে আস্তে আস্তে চোখ কচলে পিটপিট করে আমাদের দিকে তাকায়।

কারমান বলে, অনেক হয়েছে। মিঃ বার্কলে, এবার উঠে বসুন। আপনার সঙ্গে অনেক কথা আছে। আমার হাতের জিনিসটা দেখুন আর বাহাদুরি দেখাবেন না।

বার্কলে উঠে দাঁড়ায়। তারপর সোফায় বসল।

সিগারেট ধরিয়ে বলি, গোড়া থেকে শুরু করলে কেমন হয়? এবার বলুন, এই পোশাক আলমারিতে কি ভাবে এলো?

বার্কলে একটু চুপ থেকে খেঁকিয়ে ওঠে, উঃ কতবার বলবো, আমি বুঝতে পারছি না আপনারা কি বলছেন।

ওর কথা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।

ঠিক আছে, সব খুলে বলছি। কিছুদিন আগে মিঃ কার্ফ আমাদের নিযুক্ত করেন ওঁর স্ত্রীর উপর নজর রাখার জন্যে। কারণ জানার প্রয়োজন নেই। মিসেস কার্ফের নজর রাখার জন্যে ডানা .. লিউইসকে কাজে লাগাই। সে জানায় যে, মিসেসকা আর আপনি ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করছেন –এ খবর মিঃ কার্ফকে জানানো হয়নি। গতরাত্রে টেলিফোনে সংবাদ শুনে ডানা লিউইস তার ফ্ল্যাট ছেড়ে বেরিয়ে যায়। পরে বালিয়াড়ির কাছে তার ডেড বডি আবিষ্কার করে পুলিশ।

আমরা মিসেস কার্ফকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। মনে হল সে হয়তো এখানে লুকিয়েছে তাই এসেছিলাম। তাকে পাইনি কিন্তু ডানার পোশাক পেয়েছি। যদি আপনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যানা দিতে পারেন–মনে করবো, আপনি ডানাকে খুন করেছেন। কারণ সে আপনাকে আর মিসেস কার্ফকে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করতে দেখেছে। আমার কথা এবার বুঝতে পেরেছেন?

আমি ডানা লিউইস নামে কোন মেয়েকে চিনি না। তাছাড়া, কাল রাত্রে আমি শহরের বাইরে ছিলাম। এই কিছুক্ষণ ফিরেছি।

কোথায় ছিলেন আপনি?

লস এঞ্জেলসে গিয়েছিলাম। গতকাল বিকেল পাঁচটার গাড়িতে গিয়েছিলাম। বিশ্বাস না হয়। আমার গাড়িতে একটা ব্যাগ আছে দেখুন।

কোথায় রাত কাটিয়েছেন?

একটা মেয়ের কাছে ছিলাম।

 কারমান একটা পেন্সিল এগিয়ে বলে, মিঃ বার্কলে, মেয়েটার নাম ঠিকানা লিখে দিল।

তার প্রয়োজন আছে কি?

মেয়েটার নাম ঠিকানা দিলে আপনারই ভাল হবে।

যাচ্ছেতাই ব্যাপার। আমার বান্ধবী কিটি হিচেনস। অ্যাপার্টমেন্ট ৪৮৩৪ এসটোরিয়া কোর্ট। দারোয়ান আমাকে দেখেছে। পানশালার ওয়েটার, লিফট চালক আমার কথা বলবে। ওখানে প্রায়ই যাই। আজ বেলা তিনটে পর্যন্ত ওখানে ছিলাম।

সবই বুঝলাম। কিন্তু কিভাবে আপনার আলমারীতে ডানার পোশাক পাওয়া গেল।

আমার আলমারিতে ঐ পোশাক ছিল বিশ্বাসকরিনা। আমাকে ব্ল্যাকমেল করার জন্যে আপনারা ষড়যন্ত্র করছেন।

উপরে গিয়ে আমরা ডানার অন্তর্বাস আর জুতো খুঁজবো আপনার আপত্তি আছে?

কিভাবে জানবো যে, প্রথমবার এসে আপনি ওইগুলো কোথাও লুকিয়ে রেখে যান নি।

আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। ওপরে চলুন।

তিনজনে ওপরে গিয়ে খুঁজতেই কারমান ডানার জুতোত বাথরুমে পায়।

বার্কলে বলে, হু…খুব কায়দা। এবার বক্তব্য কী?

অনেক খুঁজেও ডানার অন্তর্বাস পাওয়া গেল না।

আমরা বসবার ঘরে এসে ডানার পোশাকের সঙ্গে জুতো রেখে দিলাম। বার্কলে গ্লাসে মদ ঢেলে আমাদের দেয়। মনে হয় ডানার মৃত্যুর সঙ্গে বার্কলের কোন সংশ্রব নেই।

অর্ধেক মদ পান করে বার্কলে বলে, এবার আর কি বলবেন?

মনে হচ্ছে কেউ এখানে ডানার পোশাক আর জুতো রেখে গেছে।

বার্কলে বলে, কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু কে এমন করলো?

আমার ধারণা খুনীর কাজ। পুলিশ এসব জিনিস এখানে পেলে এতক্ষণে আপনি গারখানায়।

হয়ত তাই।

মিসেস কার্ফ আমাদের সাহায্য করতে পারেন। কোথায় পাব বলতে পারেন?

বার্কলে বলে, তিনদিন আগে আমার ওর সঙ্গে দেখা হয়েছে, একসঙ্গে ডিনার খেয়েছি।

ওর সঙ্গে আপনার কিভাবে পরিচয় হয়?

সমুদ্রের ধারে আলাপ হয়। স্বামীর কাছে কোন মজা পায়নি মিসেস কার্ফ।

কতদিন থেকে মিসেস কার্ফকে জানেন?

প্রায় দশদিন। মেয়েরা স্বেচ্ছায় ধরা দিলে, আমি কি করতে পারি?মিসেসকার্ফ নিজেই আমার কাছে এসেছে।

মিসেস কার্ফকে নিয়ে কোনরকমে অশান্তি হয়েছিল কি? যেমন কোন দোকানে গণ্ডগোলের সৃষ্টি? কখনও কিছু আপনার হারিয়েছে কী?

আপনি কি বলতে চাইছেন…মিসেস কার্ফের কী হাতটান অর্থাৎ চুরির বাতিক..’।

আমি সম্মতি জানাই।

তাই মিঃ কার্ফ তার স্ত্রী ওপর নজর…আমি মনে করেছি ডিভোর্সের জন্যে উনি প্রমাণ খুঁজছেন। মিসেস কার্ফও ডিভোর্স চেয়েছে।

আপনি কিন্তু প্রশ্নের জবাব দেননি।

মিসেস কার্ফের ওই ধরণের আচরণ দেখিনি আর আমার কোন কিছু খোয়া যায়নি।

 মিসেস কার্ফ কী আপনাকে জানিয়েছে যে, তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে?

নিশ্চয়ই। একটা মেয়ে নাকি ওর ওপর নজর রাখছে। তাই আমি ওর সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করি।

কিন্তু আমাদের বিশ্বাস কেউ মিসেস কার্ফকে অর্থ আদায়ের জন্যে ভয় দেখাচ্ছে। ও কিছু বলেনি আপনাকে?

অবাক হয়ে বার্কলে বলে, উঁহু, এটা আমার কাছে সম্পূর্ণ নতুন ঘটনা। অবশ্য শেষবার মিসেস কার্ফ আমার কাছে ধার চেয়েছিল।

কত?

মিসেস কার্ফকে হতাশ করেছি। বিবাহিতা মহিলাদের আমি ধার দিই না।

 কখনও কী মিসেস কার্ফ কোন ব্যানিস্টারের কথা উল্লেখ করেছে?

না। এ ব্যাপারে ব্যানিস্টার কি জড়িত?

ব্যানিস্টারকে আপনি চেনেন?

ওর সঙ্গে লা এটোলি রেস্তোরাঁয় দেখা হয়েছে।

এখানে মিসেস কার্ফ কি রাত্রে থেকেছে?

 বার্কলে সতর্ক হয়ে বলে, আমি বলবো না।

কারমান রুক্ষ গলায় বলে, শাট আপ। প্রশ্নের সঠিক জবাব দেবেন।

 আমি বলি, কাইজার মিলস্ নামে কাউকে চেনেন?

গাড়ি চালায় যে ছেলেটা…দু একবার দেখেছি। ওর প্রসঙ্গ আবার কেন?

আমার ধারণা, মিঃ কার্ফের বাড়ি পাহারা দেয় মিলস্।

হয়ত হবে। মিলস্ কয়েকবার মিসেস কার্ফকে গাড়ি চালিয়ে এখানে নিয়ে এসেছে। আর কিছু জানি না।

ড্রয়ারে মিসেস কার্ফের একটা ছবি পেয়েছি। মিসেসকার্য নিশ্চয়ই আপনাকে ছবিটা দিয়েছে?

খুব সুন্দর ছবি, তাই না? হ্যাঁ, মিসেস কার্ফ দিয়েছে।

জানেন কি কখন ছবিটা তুলেছিল?

কয়েক বছর আগে। আপনি কী ছবিটা নিয়েছেন?

 হ্যাঁ, ফেরৎ পাবেন না।

হতাশ হলাম। একটা ট্রাঙ্ক বোঝাই ওরকম অনেক ছবি আছে। পোশাক ছাড়া যদি মহিলাদের আপনি…।

আপনাদের এখন উঠতে হবে।

বার্কলে বলে, এই জুতো নিয়ে কোন পরীক্ষা করবেন না?

না। নিজেকে ভাগ্যবান মনে করুন।

ডানার পোশাক আর জুতো নিয়ে আমরা বাইরে এলাম। হাঁটতে হাঁটতে গাড়ির কাছে আসি।

কারমান বলে, বার্কলেকে সুন্দর একটা ঘুষির জন্যে আমি আনন্দিত।

কারমান, সন্দেহভাজন লোকদের তালিকা থেকে বার্কলের নাম বাদ। মিলসের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে হবে। তাহলে সে আজ দুপুরে বার্কলের বাড়িতে গিয়েছিল কেন?

আমি গাড়িতে উঠে ইঞ্জিন চালু করে বলি, বার্কলে বক্তব্য আমাদের যাচাই করতে হবে। কারমান, তুমি বার্কলের বান্ধবীর খোঁজ নাও। ..

আজ রাত্রেই কিটি হিচেনস্-এর সঙ্গে দেখা করবো, যদি একটু ফষ্টিনষ্টি করতে পারি?

উঃ, মেয়েটা পুলিশ ডাকবে মেয়েদের ধান্দা মন থেকে সরিয়ে নাও।

***

আমি গেটের কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়াই। কেবিনের জানলা গলিয়ে আলোর রেশ বাইরে পড়েছে। কোনরকমে ঝুঁকি না নিয়ে পা টিপে টিপেবারান্দায় এসে ঘরের মধ্যে উঁকি মারি। হালকা সুগন্ধ টের পাই।

মিস বোলাস সোফায় শুয়ে, হাতে একটা ম্যাগাজিন। ঠোঁটের মাঝখানে সিগারেট। বাঁ হাতে হুইস্কির গ্লাস। ওর পরনে সন্ধ্যাকালীন পোশাক। নগ্ন বাহু আলোয় ঝলসায়।

দরজার কাছে যেতেই মিস্ বোলাস টের পেয়ে নিরুৎসাহের দৃষ্টিতে তাকায়। ম্যাগাজিন হাত থেকে পড়ে যায়।

মিস বোলাস বলে, অনেকক্ষণ আপনার জন্যে অপেক্ষা করছি।

 ঘরে ঢুকে বলি, জানলে তাড়াতাড়ি ফিরতাম। ব্যাপারটা কী?

মিস বোলাস বলে, তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নিন। আমাদের বেরোতে হবে।

আমাদের? কোথায়?

বলুন তো কোথায়? প্যাকার্ড গাড়িটা খুঁজে পেয়েছি।

লা এটোলিতে?

হ্যাঁ, গ্যারাজে পেয়েছি।

 একটা গ্লাসে হুইস্কি ঢেলে নিয়ে বসে বলি, কোন গণ্ডগোল হয়নি তো?

কোন ঝামেলা হয়নি। একজন মেকানিকের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। পুরুষেরা আমার সঙ্গে কথা বলতে পারলে ধন্য হয়ে যায়।

চমৎকার করেছেন। আমাকে বুঝি এখুনি লা এটোলিতে নিয়ে যাবেন?

হ্যাঁ, ওখানে অনেক কিছু দেখেছি। তাড়াতাড়ি পোশাক পাল্টে নিন। বার্কলের সঙ্গে দেখা করেছেন?

কিছু লাভ হয়নি। অনিতা কার্ফকে খুঁজে না পেলে…।

হয়ত আজ রাত্রে তার দেখা পেতে পারেন।

শোবার ঘরে গিয়ে পোশাক পাল্টিয়ে টাই বাঁধছি তখন মিস বোলাস বলে, আপনার কাছে রিভলবার আছে?

কাছে থাকার দরকার আছে কি?

থাকলে ভাল হত। ওখানে কিছু মস্তান আছে।

গণ্ডগোলের মধ্যে যেতে চাই না। লা এটোলি কী ঝামেলার জায়গা? আমি তো জানি খুব দামী নাইট ক্লাব।

ঠিকই জানেন। কিন্তু ওখানে মোটা অর্থের জুয়া খেলা চলে। প্রত্যেক সভ্য এবং তাদের অতিথিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকা দরকার। আপনি তো জানেন, যে ব্যানিস্টার কি ধরনের লোক। ওর নিজস্ব কয়েকজন মস্তান আছে, আমি শুধু সতর্ক করে দিলাম। ওখানে আপনি যা খুশি তাই করতে পারবেন না।

ঠিক আছে। এবার যাওয়া যাক। উঃ, আপনাকে আজ যা দারুণ দেখাচ্ছে…আস্ত গিলে ফেলতে ইচ্ছে করছে।

মিস বোলাস আমার পাশে গাড়িতে বসল। আমি বলি, আজ দুপুরে কাইজার মিলস্ গোপনে বার্কলের বাড়িতে হানা দিয়েছে?

কাইজার মিলস্ সম্পর্কে আমি অত উৎসাহী নই।

আমার মনে হয় ওর সম্পর্কে আপনি এমন কিছু জানেন যা বলবেন না।

মিলস্ সম্পর্কে আমার কিছু বলার বা উৎসাহ নেই।

আমি ভেবেছিলাম আমাদের দুজনেরই মিলসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার আছে। আর ওই । জন্যেই তো আপনি আমার সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তাই না?

উঁহু, আমি ইচ্ছে করলে যে কোন সময়ে ওই খচ্চরটাকে একাই পালিশ করতে পারি।

এবার নিজের কথা বলুন। আপনার দুচোখে সবসময় গরম ভাব থাকে কেন? আপনি কে? কোত্থেকে উদয় হলেন? ব্যাপারটা খুলে বলুন তো?

আমি কে? আমার গ্ল্যামারই আসল–আর কিছু নয়। আমার ছেলেবেলা অনেক কষ্টে কেটেছে। সপ্তাহে বাবার আয় ছিল দশ ডলার। বার বছর বয়সে আমি স্কুল ত্যাগ করি। আমার মা একজন সেলসম্যানের সঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে।

আমি বলি, আমাকে একটা সিগারেট ধরিয়ে দিনতো।

মিস বোলাস হেসে বলে, শুনুন, পনেরো বছর বয়সে আমার বাবা মারা যায়। তখন থেকে আমি নিজের ইচ্ছেমত জীবন যাপন করি।

মিস বোলাস আবার বলে, আমাকে কখনও অর্থের লোভ দেখাবেন না। আমি তাদের ঘৃণা করি তাহলে।

অর্থ নেন কেন?

আমার একটা কুসংস্কার আছে। যদি কখনও এক পেনীও নিতে অস্বীকার করি–এক ডলার হারাবার ভয় থাকে।

আপনি যদি আমার কাছে অন্য কোন মতলবে এসে থাকেন তাহলে মারাত্মক ভুল করেছেন।

বিষাক্ত গলায় মিস বোলান্স বলে, বোকার মত কথা বলবেন না। অর্থের যখন প্রয়োজন হয় ঠিকই পেয়ে যাই। লা এটোলিতে জুয়া খেলে এক রাত্রে আমার কম উপার্জন হয় না। আমার সঙ্গে কখনও তাস খেলবেন না। ধোঁকা দিতে আমার জুড়ি নেই। আপনাকে একটা প্রস্তাব দিচ্ছি, আপনার কেবিনে আমাকে থাকতে দেবেন?

আবার বলুন তো?

আপনার সঙ্গে থাকবো।

আমার বিছানা একজনের মত।

ওর জন্যে ভাবতে হবে না। আপনি বুঝি চান না আপনার কাছে থাকি?

অনেকটা সেরকম। আমি একা থাকাই পছন্দ করি।

তাজ্জব ব্যাপার। আসলে সবসময় আমি অর্থ বাঁচাতে চেষ্টা করি। ঠিক আছে, ব্যাপারটা ভুলে যান।

আমি ভাবছি আপনি কতটা শক্ত মেয়ে।

একবার আমাকে বাজিয়ে দেখুন।

গাড়ি থামিয়ে মিস বোলাসের কাছে যাই, এখন চমৎকার সময়। কাছে এসো।

শান্তভাবে সে বলে, আপনার সঙ্গে থাকবো তাতে রাজী নন, অথচ গাড়ি থামাতে আপনার আপত্তি নেই।

আর ওভাবে বল না। বলে ওর কোমল মুখে চুমু খাই। ঠোঁটে চুমু খাই। ও আমার বাহুর মধ্যে লুটিয়ে পড়ে–এভাবে কিছুক্ষণ থাকি।

আমাদের অন্য গাড়ির কর্কশ শব্দ সজাগ কোরে তোলে। রুমাল দিয়ে ঠোঁট মুছে গাড়ির ইঞ্জিন চালু করি।

তোমাকে আজ আস্ত খেয়ে ফেলার ইচ্ছে ছিল…অন্য একদিন হবে…কি বল সুন্দরী।

***

গাড়ি লা এটোলির দরজার কাছে থামাই। কয়েকজন গুণ্ডা হাত নেড়ে মিস বোলাসকে অভিবাদন করে আমাকে পাত্তা দেয় না।

আলোয় ঝলমল তিনতলা বাড়ি। উর্দি পরা দারোয়ান এসে গাড়ির দরজা খুলে দেয়।

 একটা স্বল্পবাস পরিহিতা মেয়ে এসে আমার টুপী ধরে এবং আমাকে একটা রসিদ দিয়ে বাঁকা চোখে তাকায়।

মিস বোলাস টয়লেটে যেতে চায়। আমি কী ওর জন্যে অপেক্ষা করবো?

দমচাপা পরিবেশের মধ্যে আমি দাঁড়িয়ে থাকি কিন্তু ভিড় ঠেলে পাতলা চেহারার একটা লোক এগিয়ে এলো। বুঝলাম ব্যানিস্টারের একজন পোষ মস্তান।

লোকটা কর্কশ গলায় বলে, কাকে খুঁজছেন?

কাউকে নয়।

তীক্ষ্ণ চোখে বলে, কারুর অপেক্ষায় আছেন?

মেয়েদের টয়লেটের দিকে দেখিয়ে বলি, এখুনি এসে পড়বে।

সামান্য নরম গলায় বলে, এখানে কেবল সভ্যদের এবং তাদের অতিথিদের প্রবেশাধিকার আছে। আপনাকে ঠিক চিনতে পারছি না।

লোকটা আবার আমাকে জরীপ করে। যার সঙ্গে এসেছেন–মহিলার নাম বলুন তো।

মিস বোলাস।

তাই নাকি। তবে তো আপনি খুব চমৎকার সঙ্গিনী পেয়েছেন।

একজন সভ্য গেটের কাছে দাঁড়িয়ে কাকে যেন খুঁজতে থাকে। মিস বোলাস ফিরে এলে বলি, ওই বেজি মুখো লোকটা কে?

ওর নাম গেইটস। ব্যানিস্টারের একজন পোষা মস্তান। ওকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

লোকটা তোমার নাম শুনে এমন মুখের ভাব করল যেন মাছি গিলছে।

আমাকে নিয়ে মিস বোলাস পানশালায় যায়। আমরা কয়েক পাত্র মদ গিলি। জানাই, মিস বোলাস যেন জুয়া খেলতে চলে যায়।

তুমি কী করবে?

চারিদিকে একটু নজর দেব। জায়গাটার একটু ধারণা দাও। মিসেস কার্ফ কোথায় আছে জানো?

সম্ভবতঃ ওপর তলায়।

ওখানেই আমি খোঁজ করবো।

খুব সাবধান। আগেই বলেছি ঝামেলায় যেও না।

মিসেস কার্ফকে যে খুঁজে বের করতেই হবে। আমাকে দেখলে বলবো পথ ভুলে এসে গেছি।

মিস বোলাস বলে, এগিয়ে যাও।কতদূর পারবে জানিনা। কিন্তু দুষ্টুবুদ্ধি যেন মাথায় না চাপে। ব্যানিস্টার ও তার পোষা গুণ্ডাদের কথা যেন মনে থাকে।

 তোমার শুভেচ্ছা আর উৎসাহ আমার বেশী পছন্দ। পানীয় শেষ করে খেলতে যাও। বিপদে পড়লে নিজেই ব্যবস্থা করবো। ভুলেও পুলিশের কাছে যাবো না।ব্রান্ডন আমাকে নাস্তানাবুদ করার অপেক্ষায় আছে।

ঠিক আছে, চলো একসঙ্গে দোতলায় যাই।

পানশালা থেকে বেরিয়ে আমরা করিডর ধরে সিঁড়ির দিকে যাই। সিঁড়ির গোড়ায় একজন দাঁড়িয়ে মুখে বিরক্তির চিহ্ন। পকেটে হাত ঢোকানো, গালে ক্ষত চিহ্ন। হাত বাড়িয়ে আমাকে আটকে বলে, এই যে ভদ্রলোক কোথায় যাচ্ছেন?

 মিস বোলাস বলে, উনি আমার সঙ্গে যাচ্ছেন। এত কাজের লোক কবে থেকে হলে। ভেনা, ব্যানিস্টার তোমাকে বেশি মাইনে দেবে।

লোকটা আমার হাত ছেড়ে দেয়। আমরা অনেকটা এগিয়ে যাই। আমি বলি, ওটা বুঝি আর একটা পোষা গুণ্ডা।

ওর নাম শ্যানন। একসময়ে বক্সার ছিল। আমার যদি কখনও শ্যানন অথবা গেইটসের সঙ্গে বিরোধ বাঁধে-আমি শ্যাননের সঙ্গে মোকাবিলা করতে রাজি। কিন্তু গেইট সবসময় কাছে রিভলবার রাখে।

আচ্ছা, এখান থেকেই বিদায় নেওয়া ভাল। চলি…বেশিক্ষণ কিন্তু ওপরে থাকবো না।

কিছুটা গিয়ে একবার পেছনে তাকাই। লম্বা একজন ভদ্রলোকের সঙ্গে একটি স্বর্ণকেশীকে দেখতে পাই। ভদ্রলোকের পা টলছে। আমি ওপরে যাই এক লাফে।

এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি সামনে একটা টানা বারান্দা, অনেকগুলি দরজা। কিভাবে অগ্রসর হওয়া যায় ভাবতে থাকি। তখন দশ হাত দূরে একটা দরজা খুলে যায়। স্বর্ণকেশী এক মহিলা বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। সাদা সিল্কের ব্লাউজ আর লাল স্ন্যাক্স তার পরনে–

অনিতা কার্ফকে চিনতে আমার ভুল হয় না।