উপন্যাস
গল্প

সাধু-সঙ্গে ঝন্টুমামা

সাধু-সঙ্গে ঝন্টুমামা

ঝন্টুমামা কি ইন্টেনশানালি আমাদের চমকে দেন?

সবার আগে এই প্রশ্নটাই মনে হয়েছিল। কারণ, আমার পায়ের শব্দ বোধহয় উনি পেয়েছিলেন। আমি যখন ঘরে পা দিই, তখন উনি একঝলকে যেন মাথাটা ফিরিয়ে দেওয়ালের ওপর মনোনিবেশ করেন। মানে, আমাকে দেখতে না-পাওয়ার ভান। অবশ্য চোখের ভুল হতেই পারে।

ঝন্টুমামা দেয়ালে পেরেক পুঁতে আয়না টাঙিয়ে নিজের মুখ দেখছিলেন। নানা ভঙ্গিতে এধার-ওধার ঘাড় বেঁকিয়ে। এটা যদি নিলয় বা আদিনাথের মুখ থেকে শুনতাম, কিছুতেই বিশ্বাস করতাম না।

গলাখাঁকারি দিতেই ঝন্টুমামা একটু চমকে পেছন ফিরলেন, কিন্তু ধরা-পড়ার মতো কোনও লজ্জার প্রকাশ নেই।

বুঝলি, এই পাকা চুলগুলো বড় বিরক্ত করছে। গোঁফ আর জুলপির মধ্যে থেকে এমনভাবে উঁকি মারছে, ভাবা যায় না। সব পেকে গেলে একরকম কিন্তু…

তার অনেক দেরি আছে ঝন্টুমামা। তুমি বরং

আমাকে কথাটা শেষ করার সুযোগ দিল না ঝন্টুমামা, প্রবল উৎসাহে বলে উঠল, তুই তাহলে সম্মতি দিচ্ছিস! ব্যাস। তাহলেই হল। কালই কচাং কচ। গোঁফ ও জুলপি অপসারিত হচ্ছে। বাঁচা গেল।

ঠোঁটের ডগা থেকে কথাটাকে গিলে নিয়েছি। বলা যায় না, এখন হয়তো ইয়ারকি করছে, কিন্তু তাতিয়ে দিলে সত্যিই হয়তো…।

ঝন্টুমামা চেয়ারে বসার পর জিজ্ঞেস করলাম, খুব খাটাখাটুনি যাচ্ছে বলো তোমার?

বহু দিন বেকার বসে থাকার পর নিলয়ের চেষ্টাতেই একটা ভালো অ্যাসাইনমেন্ট পেয়েছেন ঝন্টুমামা। ভারত সরকারের বৈদ্যুতিক শক্তি-দপ্তরের একটা কাজ। মাস দুই ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি ছবি তোলার কাজে।

কাজ তো ছেড়ে দিয়েছি। জানিস না? ওসব রদ্দি কারবার আমার সহ্য হয় না! এই তো বেশ আছি।

অনেক চেষ্টা করেও ঝন্টুমামার মুখ দিয়ে কিছুতেই বার করতে পারলাম না, রদ্দি কারবার বলতে ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন।

আদর্শবান মানুষও কীরকম সংসারের চাপে দুমড়ে যায়, সে কথাই হচ্ছিল নিলয়ের সঙ্গে।

তুই যতই ঝন্টুমামাকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা কর–আমি মানতে পারছি না। ঝন্টুমামা তো সেই অর্থে বেকার নয়। নিজের খেয়ালখুশিমতো কাজ যদি ছাড়ে, সেটা কার দোষ? আর তারপর তুই বলবি, অভাবে পড়ে চুরি করেছে…।

যাহ, এটাকে তুই চুরি বলতে পারিস না। এতটা বাড়াবাড়ি…

বাড়াবাড়ি! এটা যদি চুরি না হয়, তবে জোচ্চুরি–ব্ল্যাকমেলিং–কোনওমতেই আমি সমর্থন করতে পারব না। সত্যি কথা বলতে, সরোজমামার মুখ থেকে না শুনলে বিশ্বাসই করতে পারতুম না।

নিলয় উত্তেজিত। সরোজমামা কাল এসেছিলেন। তারপর থেকেই আমরা দু-জনে সমানে এই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

বিশাল অভিযোগ সরোজমামার। তাঁর ভাই ঝন্টুর যে এত বড় নৈতিক অধঃপতন হতে পারে, সেটা তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি। তাহলে কি আর ওসব কথা বলতেন?

ঝন্টুমামা নাকি একদিন হঠাৎ ফোন করেন সরোজবাবুকে। সামান্য কয়েকটা প্রশ্ন। কিন্তু মুখে মুখে তার উত্তর দেওয়ার মতো ঐতিহাসিক জ্ঞান খুব কম কলকাতাবাসীরই আছে। ঝন্টুমামা জিজ্ঞেস করেছিলেন, সুন্দরবন অঞ্চলে কি কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান কখনও চালানো হয়েছে। প্রাচীন দেবদেবীর কোনও মূর্তি কি আবিষ্কার হয়েছে?

সরোজমামার উত্তর পাওয়ার পর ঝন্টুমামা দ্বিতীয় প্রশ্ন করেছিলেন, এই ধরনের দেবতার মূর্তি কি ব্যক্তিগতভাবে কেউ সংগ্রহ করেছেন?

দু-জনের নাম করেছিলেন সরোজমামা। এবং দু-দিনের মধ্যে তাদের দুজনের বাড়িতেই হানা দিয়েছেন ঝন্টুমামা। এবং একজনের বাড়ি থেকে ডাকাতি-কাম-ব্ল্যাকমেলিং করে একটা মূর্তি তিনি হাতিয়েছেন।

ডাকাতি-কাম-ব্ল্যাকমেলিং বলতে কী বোঝায়, সেটা সরোজমামাই বলেছেন আমাদের। চিরঞ্জীব বসাক কাজ করতেন আশুতোষ মিউজিয়ামে। সেই সুবাদে বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করার সময় তিনি ব্যক্তিগত সংগ্রহটিকেও পরিপুষ্ট করেন। কাজটা অবশ্যই পুরোপুরি সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তাহলেও, ঝন্টুমামার অ্যাকশনও সমান নিন্দনীয়। চিরঞ্জীববাবুর বসার ঘরে সাজানো একটা মূর্তির পেছনে নাকি আশুতোষ মিউজিয়ামের ছাপ ছিল, সেটাকে নাকের সামনে ধরে ঝন্টুমামা দাবি করেন, হয় শিবের মূর্তিটা তাঁকে দিতে হবে, না হলে তিনি এখুনি এই সরকারি সম্পত্তি বগলদাবা করে থানায় হাজির হবেন। চিরঞ্জীবের আরও বড় অভিযোগ, ঝন্টুমামা তাঁর সঙ্গে একজন ছ-ফুট লম্বা গুন্ডাকে এনেছিলেন। সে কোনও কথা বলেনি, শুধু সারাক্ষণ চোখ পাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ফলে, শেষ পর্যন্ত ঝন্টুমামা শিবের মূর্তিটা সত্যিই বগলদাবা করেন।

চিরঞ্জিবাবু বারবার অনুরোধ করেছিলেন, সরোজবাবু কথাটা যেন পাঁচকান না করেন। তাতে তাঁরই ক্ষতি। কিন্তু তবু নিজেকে সামলাতে পারেননি সরোজমামা। আমাদের কাছে বলা আর পাঁচকান করা নিশ্চয় এক নয়। সরোজমামার সবচেয়ে খারাপ লেগেছে একটা কথা। শিব ঠাকুর হাতিয়ে বেরোচ্ছে যখন, চিরঞ্জীববাবু জিজ্ঞেস করেছিলেন, এটা নিয়ে কী করবেন আপনি?

ঝন্টুমামা বলেন, বেচে দেব। কেন, আপত্তি আছে!

ঝন্টুমামার বাড়ির দরজার কাছেই আদিদাসের সঙ্গে দেখা। না ডাকলে, নিশ্চয় দেখতেই পেত না আমাদের। মানুষ রেগে গেলে চোখের দৃষ্টি কেন কমে আসে, এটা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা হওয়া উচিত।

আদিদাস মুখ তুলে তাকাল, কিন্তু হাসল না। ঘোঁত করে একটা অপছন্দমূলক শব্দ বার করল। তারপর বলল, যাচ্ছেন কোথায়, কথা বলবেন না? আধ ঘণ্টা ঠায় বসে থেকে চলে যাচ্ছি।

কেন, হলটা কী?

সাধুবাবার সঙ্গে কী সব পরামর্শ হচ্ছে। সাত দিন ধরে তো এই চলেছে। দিন নেই, রাত নেই। কখনও কখনও দু-জনে মিলে কোথায় যে চলে যাচ্ছে, ক-দিন বাড়ি ফেরার নামগন্ধ নেই।

ব্যাজার মুখে চলে যাচ্ছিল আদিদাস। আমি আবার ডাকলাম। গলা নামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা, সত্যি করে বলো তো ভাই, ঝন্টুমামার সঙ্গে কি সে দিন তুমি ছিলে? ওই যে দিন শিবের মূর্তিটা…

ছিলাম বইকী। উনি তো এক ধমক দিয়ে ওটা গেঁড়া মেরে দিলেন। আমি কিছুই করিনি। শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম।

কিন্তু এর ফল…

 ফল আবার কী? ঝন্টু স্যার তো বলেই দিলেন যে, দশজনের উপকার করতে গেলে কখনও-সখনও ছোটখাটো অন্যায় করতেই হয়।

আদিদাস হঠাৎ কথা থামিয়ে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল। এই রে, আসছে!–বলেই হনহন। করে ছুট লাগিয়েছে সে।

গেরুয়া ও জটাধারী বিশালদেহ সন্ন্যাসীকে নিয়ে বেরিয়ে এলেন ঝন্টুমামা। তারপরে ভক্তির চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে একটি প্রণাম সেরে তাঁকে বিদায় জানালেন।

সত্যি বলতে সন্ন্যাসীকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করার সময় পাইনি। ঝন্টুমামাই আমাদের দৃষ্টিকে টেনে রেখেছিলেন। ছাল-ছাড়ানো মুরগির মতো দেখাচ্ছে তাঁকে। জুলপি ও গোঁফের ওপর মানুষের ব্যক্তিত্ব যে কতটা নির্ভর করে, এখন টের পাচ্ছি।

ঝন্টুমামা বললেন, চল, চল, ভেতরে যাই। ঠিক সময়ে এসে পড়েছিস তোরা। না হলে আমাকেই হয়তো খবর দিতে যেতে হত।

আমাদের আবার কী দরকার! তুমি তো সাধুসঙ্গেই মজে আছ শুনছি।

সেলামের ভঙ্গিতে তিনবার কপালে আঙুল ঠুকে সংক্ষিপ্ত প্রণাম জানিয়ে ঝন্টুমামা বলল, অনেক ভাগ্য করলে এরকম ত্রিকালদর্শীর সাক্ষাৎ মেলে রে!

নিজের চেয়ার দখল করে সিগারেট ধরিয়ে ঝন্টুমামা বলল, বুঝতে পারছি, বিশ্বাস হচ্ছে না। দোষ নেই। অনেকেরই সেরকম ধারণা। কিন্তু কালই সাধুজির অগ্নিপরীক্ষা। সব অবিশ্বাসীর সন্দেহ নিরসন হবে। তাই তো বলছি, তোদেরও যেতে হবে কাল। তোরাও অবিশ্বাস করেছিস এবং সেই সূত্রে নিজেদের অজান্তে হলেও মহাপাপ। বুঝলি কিছু?

.

 বালিগঞ্জ স্টেশন থেকে ক্যানিঙের ট্রেন ধরেছি আমরা চারজনে। নিলয় ও আমি, ঝন্টুমামা ও আদিদাস।

নিলয় বলল, সাধুজি কোথায়? উনি যাবেন না?

না, ওঁর তো যাওয়ার দরকার নেই। ওঁর কাজ তো শেষ। এখন যাব আমরা, মানে অবিশ্বাসীরা। এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ফিরে আসব সব সন্দেহ নিরসন করে। শুধু তোদের নয়, আরও বহু মানুষের। কিন্তু দুঃখ কী জানিস, তখন হাজার মাথা খুঁড়লেও সাধুজির আর দর্শন কেউ পাবে না। তিনি তাঁর কর্তব্য সমাধা করে কালই বিদায় নিয়ে গেছেন। জয় গুরু।

আবার কপালে হাত ঠেকিয়ে প্রণাম।

ট্রেনে ক্যানিং অবধি বাকি পথ এবং সেখান থেকে দু-বার ভটভটি বদলে গোসাবা পর্যন্ত ঝন্টুমামা অগুনতিবার বড় বড় দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে জয় গুরু জয় গুরু বলেছেন। সাধারণত আমাদের নানা প্রশ্নের উত্তর হিসাবেই সেগুলিকে লাভ করেছি আমরা।

ছবিটা হঠাৎই পালটে গেল গোসাবার ঘাটে। অসংখ্য মানুষের ভিড়। প্রথমে ভেবেছিলাম আজ বুঝি হাটবার। কিন্তু ভুল ভাঙতে দেরি হয়নি। সাজপোশাকেই ধরা যায়, এদের মধ্যে বেশ কিছু কলকাতাবাসী আছে। এবং ইংরেজিও কিছু কম ছুটছে না। অবাঙালি লোকজনও এসেছে।

তবে আমাদের যারা ঘিরে ধরল, সকলেই স্থানীয় ছেলেছোকরা। একরকম টেনে নিয়ে গিয়েই তুলে ফেলল ছোট্ট একটা লঞ্চে।

সারি দিয়ে প্রায় দশটা লঞ্চ চলেছে। এতক্ষণে সত্যিকার গন্তব্যস্থলের একটা হদিশ পাওয়া গেল। অভিযানের মূল উদ্দেশ্যও জানা গেল।

মরিচঝাঁপি ছাড়িয়ে সুন্দরবনের গহনে ছোট্ট একটা দ্বীপে চলেছি আমরা। উদ্দেশ্য, ত্রিকালদর্শী সাধুজির ভবিষ্যদ্বাণীর সত্য-মিথ্যা পরীক্ষা। সাধুজি নাকি কিছুকাল আগে পাখিরালয়ের ঘাটের কাছে আস্তানা গেড়েছিলেন। কিছু দিনের মধ্যেই প্রচুর শিষ্য জুটে যায়। সাপে কাটার অব্যর্থ ওষুধ ইত্যাদিও তাঁর খ্যাতি বাড়িয়ে তোলে। তখন থেকেই নাকি সাধুজি বলছেন যে, মরিচঝাঁপির কাছে একটা দ্বীপে সাড়ে সাতশো বছর ধরে এক জাগ্রত দেবতার বাস। তাঁকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে না পারলে নাকি এ অঞ্চলের মানুষের আর উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

স্থানীয় লোকজন নিয়ে তিনি নাকি কয়েকবার সেই দ্বীপে গিয়ে পুজোও দিয়ে এসেছেন। ঠিক কোন স্থানে খনন করলে শিবের মূর্তি পাওয়া যাবে, তা-ও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

শিবের মূর্তি শুনেই একটা আবছা সন্দেহ হয়েছিল। নিলয়ও তাকিয়েছিল আমার দিকে। ব্যাপারটাকে আর অত সোজা বলে তো মনে হচ্ছে না।

ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত সত্যিই মারাত্মক চেহারা নিল নির্দিষ্ট স্থান থেকে শিবমূর্তি উদ্ধারের পর। স্থানীয় লোকেদের জয় বাবা ভোলানাথ চিৎকারের মধ্যেই প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের কয়েকজন কর্তা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন মূর্তিটির বয়স বিচার নিয়ে। তাঁদের বিচারের ফল জনমতের বিরুদ্ধে গেলে কী হত বলা শক্ত। কিন্তু তা যায়নি। কারণ মূর্তিটি সত্যিই প্রাচীন। না হলে এত কষ্ট করে ঝন্টুমামা সেটা হাতাতে যাবেন কেন!

.

সবই তো বুঝলাম, কিন্তু কেন? মূর্তি হাতানো, সেটাকে এখানে পুঁতে রেখে যাওয়া, তারপর সন্ন্যাসীকে দিয়ে ভবিষ্যদ্রবার্তা রটানো এবং শেষ পর্যন্ত সেটা আবিষ্কার।

জুলপি-গোঁফ কামানোর ব্যাপারটাও এখন ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে। ঝন্টুমামাকে আজ যাতে কেউ চিনতে না পারে। হঠাৎ যেন কেউ বলতে না পারে, এই লোকটা কিছু দিন আগে নৌকো ভাড়া করে এসেছিল এই দ্বীপে।

ঝন্টুমামা আমাদের মুখের অবস্থা দেখে চোখ টিপে বলল, কোনও প্রশ্ন নয় এখন। আর-একটু ধৈর্য ধর।

মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল। রোজ পুরুত পাঠানোর ব্যবস্থাও পাকা। এবার প্রস্থানপর্ব।

লঞ্চ ছাড়ার মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই হঠাৎ ঝন্টুমামার পরিচিত আমাদের স্থানীয় সঙ্গীসাথিরা জয়ধ্বনি দিল, হিপ হিপ ঝন্টুমামা!

ঝন্টুমামা ভুরু কুঁচকে ধমকে দিলেন, তোরা কি সব ডোবাবি নাকি শেষ পর্যন্ত! কাজ কিন্তু সবে শুরু! আমাদের দিকে ফিরে ঝন্টুমামা বললেন, বুঝলি, এরা সব সুন্দরবন সায়েন্স ক্লাবের সদস্য। এদের সাহায্য না পেলে কিছুই করতে পারতুম না। তিন বছরের মধ্যে এখানে গজিয়ে উঠত পশ্চিমবঙ্গের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র। সব ঠিক করে ফেলেছিল ওরা। ভাগ্যিস ওই শক্তি-দপ্তরের কাজটা পেয়েছিলুম, না হলে কি সময়মতো জানতে পারতুম? পুরো ব্যাপারটাই ওরা গোপন রেখেছিল।

হঠাৎ গালে হাত বুলিয়ে হাহাকার করে উঠলেন ঝন্টুমামা, ইশ! কবে যে আবার লোকসমাজে মুখ দেখাতে পারব! শক্তি-দপ্তরের বেশ কয়েক মক্কেল আজ এখানে আসবে, সে আমি আন্দাজ করেছিলাম। হয়েওছে তা-ই। কেউই অবশ্য চিনতে পারেনি আমাকে। যা-ই হোক, চালটা জব্বর দিয়েছি, কী বল? কোনও উপায়ও ছিল না। অপবিজ্ঞানকে রুখতে পারে একমাত্র দেবতা। তা-ই না? পৃথিবীর সব দেশেই এখন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট বসানোর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। আমরাই বা পিছিয়ে থাকি কেন? একেবারে খাঁটি দিশি পদ্ধতিতে যদি বাগড়া দিতে পারি, ক্ষতি কী?

নিলয় বলল, সাধুজিকে হাত করলে কী করে?

ঝন্টুমামা বলল, এটা একটা প্রশ্ন হল! যেভাবে সবাই করে, আমিও তা-ই করেছি। কিন্তু ও কথা থাক, তুই বল দেখি, কত দিনে গোঁফ আর জুলপিটা আবার গজাবে? কে যেন বলছিল, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল-দাড়ির গ্রোথের রেটটাও কমে যায়! সত্যি নাকি রে?

[কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান, পূজাবার্ষিকী ১৯৯০]

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *