পাইপটায় টোবাকো ভরে তাতে অগ্নিসংযোগ করে কিরীটী পাইপে গোটা-দুই টান দিয়ে আবার তার কাহিনী শুরু করল :

বিজনবাবুর মৃত্যুটা যদিও মর্মান্তিক, তথাপি তার মৃত্যু ঐভাবে সেদিন না ঘটলে হয়ত এত তাড়াতাড়ি এই জটিল রহস্য আমার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠত কিনা সন্দেহ। কিন্তু তার মৃত্যুর পরই ক্রমশঃ হত্যাকারী আমার দৃষ্টির সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠতে লাগল। আর সেই কারণেই আপনাদের এখানে আমি কৌশলে বন্দী করেছিলাম সে-সময়।

কিন্তু কেন যে কৌশলে ওদের আমার সাহায্যে এই সরকার ভিলায় আপনি বন্দী করেছিলেন সেটাই এখনও বুঝতে পারিনি মিঃ রায়! বললে বিমল সেন।

মানুষের নার্ভেরও একটা সীমা আছে মিঃ সেন! তারই পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম আমি এই আশাতে যে শেষ পর্যন্ত মানসিক পীড়নে কারো মুখ দিয়ে কোন কথা যদি বের হয়ে পড়ে। হলও তাই। হত্যাকারী তখন আন্দাজ করতে পেরেছে সে আমার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর সেই আতঙ্কেই সে যখন অনন্যোপায় হয়ে তার দক্ষিণ হস্ত গোকুলকে শেষ করে দেবে বলে মনস্থ করল। এবং তাকে হত্যা করতে গিয়েই সে দুটি মারাত্মক ভুল করল—যার ফলে সে আমার দৃষ্টির সামনে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠল।

মারাত্মক ভুল! প্রশ্ন করল বিমল সেন।

হ্যাঁ মিঃ সেন, দুটি মারাত্মক ভুল। এক হচ্ছে, হত্যা করতে গিয়ে রিভলবারের সাহায্য নিয়ে এবং দুইসেই নিকোটিনের শিশিটি আমার হাতে অসম্ভব আত্মপ্রত্যয়ে তুলে দিয়ে। রিভলবার দিয়ে হত্যা করতে গিয়েই নিজের দেহেও তাকে ক্ষতের সৃষ্টি করতে হল এবং নিকোটিনের শিশির গায়ে তার হাতের আঙুলের ছাপও পাওয়া গেল-হত্যার মারাত্মক দুটি প্রমাণ। কিন্তু এবারে আমাকে উঠতে ববে—আজকের শেষ গাড়িটা আমাকে ধরতেই হবে

বিমল সেন বললেন, কেন, আজ রাতটা থেকে যান না।

উপায় নেই—

কেন?

কাল আমার বিয়ে।

বিয়ে! সে কি? পাত্রী কে? কার মেয়ে? কি নাম? সুশান্তই জিজ্ঞাসা করল।

কার মেয়ে তা দিয়ে কি হবে? নাম তার কৃষ্ণ, সুশান্তবাবু।

কৃষ্ণা?

হ্যাঁ, একটি পার্শী মেয়ে—

পার্শী মেয়েকে আপনি বিয়ে করবেন! সুশান্ত বললে, বাংলাদেশে কি মেয়ে ছিল না?

বন্ধু, তুমি জান প্রেম অন্ধ—

হুঁ, তা অঘটনটা ঘটল কোথায়?

সিংহলে।

তাহলে সত্যিই এতদিনে কিরীটী রায় কুমারত্ব ঘুচাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

হ্যাঁ, চলি ভাই—সামনের শনিবার আমাদের ম্যারেজ-পার্টিতে আসা চাই—আপনারা তিন বন্ধুই-সকলকে আমার হয়ে নিমন্ত্রণ জানাবেন।

কিরীটী বের হয়ে গেল।

 

পরের দিন সকালে কলকাতায় একটা হোটেলে কৃষ্ণা এসে বোম্বাই থেকে উঠেছিল। কিরীটী এসে ঢুকতেই কৃষ্ণা বলে, আমি তো ভেবেছিলাম বুঝি এলেই না! গতকাল আসার কথা

কিরীটী মৃদু মৃদু হাসে।

হাসছ যে?

কিছু না, চল–

কোথায়?

বাঃ, রেজেস্ট্রি অফিসে যেতে হবে না?

কৃষ্ণার মুখটা লাল হয়ে ওঠে।

Share This