১.২৩ বুজরুকী

বুজরুকী

পাঠক! আমাদের হরিভদ্দর খুড়ো কায়স্ত মুখখী কুলীন, দেড় শ’ ছিলিম গাঁজা প্রত্যহ জলযোগ হয়ে থাকে; থাকবার নির্দ্দিষ্ট ঘরবাড়ী নাই, সহরে খান্‌কীমহলে অনেকের সঙ্গে আলাপ থাকায় শোবার ও খাবার ভাবনা নাই, বরং আদর করে কেউ “বেয়াই” কেউ জামাই” বলে ডাকতো। আমাদের খুড়া ফলার মাত্রেই পার ধূলো দেন ও লুচিটে সন্দেশটা বেঁধে আনতেও কসুর করেন না। এমন কি, তাগে পেলে চলনসই জুতা জোড়াটাও ছেড়ে আসেন না। বলতে কি, আমাদের হরিভদ্দর খুড়ো এক রকম সবলোট গোছের ভদ্দর লোক। খুড়ো উপস্থিত হয়েই এ কথা সে কথার পর বল্লেন যে, “আর শুনেছ, আমাদের সিমলে পাড়ায় এক মহাপুরুষ সন্ন্যাসী এসেছেন তিনি সিদ্ধ, তিনি সোনা তৈরী কত্তে পারেন—লোকের মনের কথা গুণে বলেন, পারাভস্ম খাইয়ে সেদিন গঙ্গাতীরে একটা পচা মড়াকে বাঁচিয়েছেন, ভারি বুজরুক!” কিন্তু আমরা ক’বার ক’টি সন্ন্যাসীর বুজরুকী ধরেচি, গুটিকত ভূতনাচার ভূত উড়িয়ে দিয়েছি, আর আমাদের হাতে একটি জোচ্চোরের জোচ্চুরী বেরিয়ে পড়ে।

যখন হিন্দুধর্ম্ম প্রবল ছিল, লোকে দ্রব্যগুণ কিম্বা ভূতত্ব জানতো না, তখনই এই সকলের মান্য ছিল! আজকাল ইংরেজি লেখা-পড়ার কল্যাণে সে গুড়ে বালি পড়েছে। কিন্তু কলকেতা সহরে না দেখা যায়, এমন জিনিষই নাই; সুতরাং কখন কখন “সোণা-করা” “ছলে-করা” “নিরাহার” “ভূতনাবানো” “চণ্ডসিদ্ধ” প্রভৃতির পেটের দায়ে এসে পড়েন, অনেক জায়গায় বুজরুক দ্যাখান, শেষ কোথাও না কোথাও ধরা পড়ে বিলক্ষণ শিক্ষা পেয়ে যান।

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *