১২. হিরেময় বিগ্রহ-বালাজি

১২. হিরেময় বিগ্রহ-বালাজি

হিরের মধ্যে আছে কসমিক পাওয়ার—অলৌকিক শক্তি—এই বিশ্বাসের বনেদের ওপর গড়ে উঠেছিল এই ভারতের হিরে বিগ্রহ…হিরের দখল নিয়েই রক্তক্ষয়ী লড়াই লেগেছে রাজ্যে রাজ্যে, হিরের লোভেই ছুটে এসেছে লোলুপ বিদেশিরা।

এইসব বৃত্তান্ত আমার কিছু কিছু জানা ছিল, পুরোটা জানতাম না। শুধু বুঝেছিলাম সব অনর্থ এবং অকল্পনীয় আর অভিশপ্ত অর্থ ভাণ্ডারের মূলে রয়েছে হিরে। এবং, একদা এই ভারত ছিল হিরের মূল উৎস।

কঙ্গোর হিরের গল্প শুনতে চেয়েছিলাম রবির কাছে। জানতে চেয়েছিলাম ওষুধের সাম্রাজ্য ছেড়ে কেন এল সে হিরের মার্কেটে। তখন হিরে প্রোজ্জ্বল চোখে আবিষ্ট স্বরে হিরে-ইতিহান শুনিয়েছিল আমাকে—এই রবি রে…

হিরে নাকি সৌভাগ্যের প্রতীক? তবে কেন ঘনিয়ে এল এমন কালো মেঘ তার ভাগ্যাকাশে?

আমি…ইন্দ্রনাথ রুদ্র…শরীরের প্রতিটি রক্তকণিকা দিয়ে বিশ্বাস করি, হিরে একটা ঘণীভূত রক্তঝঞা ছাড়া কিসসু নয়…

কিন্তু সেই কথা টেনে শেষ করে দিতে চাই…স্বপ্নিল চোখে যেসব কথা দুর্মদ রবি রে সেদিন আমাকে বলে গেছিল। ওর জীবনের নিবিড় তমসার সঙ্গে হয়তো সেই কাহিনীর কোথাও না কোথাও সংযুক্তি আছে…নাও থাকতে পারে…কিন্তু ঝড়ের বেগে হিরে ইতিহাস শুনিয়ে আমাকে যেভাবে বিহুল চমকিত বিমুঢ় কবে তুলেছিল রবি রে…তার কিছুটা অন্তত না লিখে যে পারছি না…একটা অদৃশ্য শক্তি আমার কলম টেনে ধরে লিখিয়ে নিচ্ছে…আমি চাইছি না সবুজাভ নয়না কল্পনা চিটনিসের কিডন্যাপড পুত্রের কাহিনির অবতারণা ঘটিয়ে হীরক-উপাখ্যানে আসতে…কিন্তু রুখতে পারছি না…আমার সে শক্তি নেই…কিছু একটা আমার কলমকে ভর করেছে.আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিচ্ছে, লিখতে আমাকে হাবেই…লিখতে আমাকে হবেই…যা শুনেছি, বর্ণে বর্ণে তা লিখে যেতে হবে…রবি রে’র জবানিতে।

রবি বলছে—

ইন্দ্র, আমি নাকি বেঁকা চোখের এক বক্রমানব? এমন বিশেষণ জীবনে প্রথম শুনেছিলাম কল্পনার কণ্ঠে। অথচ আমাকে অতিমানব রূপে মন মঞ্জিলের অন্দরমহলে ঠাঁই দিয়েছে এই কল্পনা। কেন? আমার চেহারার বর্ণনায় হয়তো ও কিছুটা অতিরঞ্জন করেছে। এমনটাই হয়। তাই না? ভাবাবেগ যখন ভালবাসার আবেগে হোমকাষ্ঠ জুগিয়ে যায়, তখন মানুষমাত্রই সোজা চোখে না দেখে বঙ্কিম চোখে নিরীক্ষণ করে যায় নিজের নিজের মনের মানুষদের…নয়ন পাথের পথিক যখন মন পথের পথসাথী হয়ে ওঠে, ঠিক তখন…তাই না?

আমার চোখ…হ্যারে…আমার এই চোখ নাকি বিশ্বকর্মা বিশেষ পাথর কুঁদে বানিয়ে তবে আমার চক্ষুকোটরে সেট করেছেন। ইন্দ্র, তুইও দেখেছিস, আমার ভুরু দুটো সরল রেখায় নেই—দু’টো ভুরু ঢালু হয়ে নেমে গেছে দু’দিকে…ভুরু দু’টোর নিচে চোখের গড়ন দুটোও সেই রকমভাবে বানানো হয়েছে…দুটো চোখই একটু ঢালু—দু’প্রান্তে। যা দেখে কল্পনা আমাকে বলত, তোমার চোখে মেয়ে টেঁকে না…গড়িয়ে পড়ে যায়!

কী কথা! চোখের ঢালু গড়ন আমার মনকে তো ঢালু করেনি। এ মন যে কি মন, আজও তা বুঝে উঠলাম না। আমার বাইরের চেহারার সঙ্গে সমতা রেখে চলেছে এই মন। তাই তো হয়, তাই না রে, ইন্দ্র?

হ্যাঁ, আমার চেহারাটায় একটু পাঠান-পাঠান ভাব আছে। হয়তো আগের জন্মে আমি পাঠান ছিলাম। কাবুল কান্দাহার আফগানিস্তান ইরান-টিরানে রক্তঝ। তুলেছিলাম। আমার নাক চোখা, আমার বাটালি চিবুক সামান্য সামনে ঠেলে থাকে, আমার গালের হনু-হাড় একটু উঁচু-তার নিচে সদা জাগ্রত থাকে দুটো খোদল, আমার চোয়াল রীতিমতো চৌকোণা আর মারকাটারি মার্কা, আমি লম্বায় পাক্কা ছ’ফুট, আমার শরীরে পেশি বেশি-চর্বি কম।

এক কথায়, আমাকে এক নজরে অভারতীয় মনে হয়। সেটাই আমার কর্মজীবনে প্লাস পয়েন্ট হয়ে দাড়িয়েছে। আমি এই ভাবালু বাঙালিদের মতো কবি-কৰি। নই—জিদও যোলআনা। তবে হ্যাঁ, বোগাস বাঙালি আমাকে বলা যায় না। বাঙালি যে কতখানি বেপরোয়া হতে পারে, তা বিজয় সিংহই শুধু দেখাননি, মহা রহস্যের নায়ক মহামতি সুভাষচন্দ্র বসুও দেখিয়েছেন…।

কিন্তু আমার একটা মহাদোষ আছে। আমি একটু বেশি বকি। ব্রাদার, এই কোয়ালিফিকেশন্টার জোরেই তো দাপিয়ে বেড়াচ্ছি মেডিক্যাল লাইনে…কথার ফুলঝুরি ঝরিয়ে যাই হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত চিকিৎসক মহলে…তাদের ভেতর পর্যন্ত ধোলাই করে দিয়ে চালু করে দিই আমার প্রোডাক্ট…..

একটু ভুল বললাম। এখন আর দিই না। আগে দিতাম। এখন তো আমি হিরের জগতের তারকা…স্টার…তবে হ্যাঁ, গোটা ভারতবর্ষটার শহরে শহরে গ্রামে গ্রামে টহল দেওয়ার সুযোগ তো পেয়েছিলাম এই প্রফেশনে এসে…

আর দেখে গেছিলাম আমার এই ঢালু চোখ দিয়ে…জেনেছিলাম হিরে নিয়ে কত কাণ্ডই না হয়ে গেছে এই ভারতে…এখন সেই কাণ্ড আর কারখানা ছড়িয়ে পড়েছে তামাম পৃথিবী গ্রহে!

লোকে বলে বটে, আখাম্বা চেহারা থাকলেই কি সব হয়, মাথায় ঘি থাকা চাই। আমার মাথায় ঘি আছে কি গোবর আছে, সেটা বিশ্বকর্মা জানেন। তবে আমার এই পাঠান-পাঠান চেহারাটা কাজ দিয়েছে অনেক। এই চওড়া কাঁধে, আমাদের লেখক বন্ধু মৃগাঙ্ক রায় কাঁধকে বৃষস্কন্ধ বলে—অর্থাৎ ষাঁড়ের কাঁধ। এই কাধে যখন মার্কিনি কাস্টিংয়ের কোট ঝোলাই, তখন আমাকে মার্কিন মুলুকের মানুষ বলেই মনে হয়। তার ওপর ম্যারিকান ঢঙে ইংরেজি বলার কায়দা। ফলে, বিদেশি বাজারে পথ করে নিতে পেরেছি সহজে। এই ঢালু চোখ, এই উঁচু হনু, এই চওড়া কঁধ প্রশস্ত করে দিয়েছে আমার পথ।

হিরের জগতে প্রবেশ করেছিলাম স্রেফ জানবার তাগিদ নিয়ে। আমি সাউথ ইণ্ডিয়ার অনেকগুলো ভাষা গড় গড় করে বলে যেতে পারি। কোস্কানি, তামিলিয়ান, তেলেগু, কানাড়া, কেরালা বচন আমার জিভের ডগায়। তার ওপর এই ড্যাশিং পুশিং ফিগার। কেটে বেরিয়ে গেছি সর্বত্র।

হিরে আমাকে টেনেছিল অথবা বলতে পারিস, আমার টনক নড়িয়েছিল সর্বপ্রথম যেদিন বালাজির বিগ্রহ দেখেছিলাম। মঠ, মন্দির, মসজিদ, গির্জা আমাকে কস্মিনকালেও ভক্তি বিহুল করে তোলে না, তা তুই জানিস। বিধর্মী আমি সবার কাছেই। কিন্তু বচনে দর বলে পথ করে নিই সর্বত্র। এইভাবেই একদিন দর্শন করতে গেছিলাম তিরুপতির বালাজিকে—এত ভক্ত সমাগম কেন হয়, তার হেতু অন্বেষণ করতে।

ইন্দ্র, বালাজি বিগ্রহ দর্শন করে আমার এই বেঁকা চোখ ট্যারা হয়ে যায়নি, এই যথেষ্ট। ইন্দ্রনাথ রুদ, তুই নাকি বহু বিষয়ে বিজ্ঞ পুরুষ, লোকে তাই বলে, অবশ্য এহেন বচনসুধার পিছনে কলকাঠি নাড়ায় আমাদের লেখক বন্ধু মৃগাঙ্ক, ওর কলমকে যদি বাণিজ্যিক কলম বলি, তাহলে ও ক্ষেপে যায়। কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি কিঞ্চিৎ বাণিজ্য নির্ভর না হলে কোনও শিল্প এবং সাধনক্ষেত্র কালজয়ী হতে পারে না।

এটা আমার নিজস্ব জীবন দর্শন। আর এই কাঠখোট্টা একান্ত পার্থিব দর্শন নিয়ে বালাজির বিগ্রহ দর্শন করতে গেছিলাম।

হিরে পাথরটা নিছক পাথর নয়। এই পাথরের মধ্যে একটা অপার্থিব শক্তি নিহিত আছে, এমন কথা আমি অনেকদিন ধরে অনেকজনের কাছে শুনে আসছি। ব্যবসাবাজ-জহুরিরা এই প্রবাদের সঙ্গে আর একটা মাত্রা যোগ করেছে। হিরে নাকি প্রেম টেনে আনে, মনের মধ্যে হিরের খনির মতো ভালবাসার খনি বানিয়ে দেয়, বিপুল আবেগ সহজাত করে মনের মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। লাখো উপহারেও যা হয় না, এক কণা হিরে তা করতে পারে।

এটা কিন্তু জহুরিদের, হিরে ব্যবসায়ীদের একটা মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। হিরের দর তোলার ব্যবসায়িক চাল। তাই কথায় কথায় সব জহুরিই বলে, হিরে! সে তে চিরকালের! হিরে থাকলে সব থাকবে! হিরে স-ব টেনে ধরে রাখে!

ফলটা কি হয়েছে জানিস, ইন্দ্র–আমেরিকান, ইউরোপিয়ান জাপানিজ, ইনিজ মেয়েরা আরও বেশি করে হিবে বসানো আংটি কিনে পরিয়ে দিচ্ছে মনের মতো পুরুষদের আঙুলে…যুগ যুগ ধরে এই রীতিই যে চলে আসছে…মনের মানুষকে যদি পায়ের জুতো বানিয়ে রাখতে চাও,পরিয়ে দাও তার অনামিকায় হিরে গাঁথা একটা আংটি…অপার্থিব কুহেলি রচিত হবে সেই পুরুষের মনের অন্দরে কদরে…মনের আকাশ ছেয়ে যাবে একটিমাত্র রমণীর লালসা মদির মেঘপুঞ্জে।

জহুরিদের এই ব্যবসায়িক বুকনির পিছনে সত্যিই কি কোনও অপার্থিব শক্তির অস্তিত্ব আছে?

এই ব্যাপারটা আমার মনের মধ্যে খোঁচা মেরে চলেছিল অনেক…অনেকদিন ধরে! আমি একটু ইনকুইজিটিভ মাইণ্ডেড, অনুসন্ধিৎসু মনের অধিকারী, তা তুই জানিস। হিরে নামক অতি-কঠিন একটা পাথরের সঙ্গে কিংবদন্তী জড়িত রয়েছে কেন যুগ যুগ ধরে, সেই গবেষণায় মন ঝুঁকে পড়েছিল বড় বেশি।

তাই ড়ুব মেরেছিলাম এই ভারতবর্যের পৌরাণিক কাহিনি সাগরে। ইন্দ্র, আজব দেশ এই ভারতবর্ষ। এত পৌরাণিক সম্পদ তুই আর কোনও দেশে পাবি না। এ দেশের লোকগুলো আর কিছু না পারে, লিখতে পারে বটে। মাথা খাটিয়ে বিস্তর ব্যাপার লিখে একালের ধুরন্ধর বৈজ্ঞানিকদেরও মুণ্ড ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এখন বলা হচ্ছে,পুরাণের রূপকের অন্তরালে প্রচ্ছন্ন রাখা হয়েছে বহু বৈজ্ঞানিক সত্য…দর্শন আর কিছুই নয়, এক এবং অদ্বিতীয় মহাবিজ্ঞানের ঈষৎ আভাস…

কী বলছিলাম? হ্যাঁ, ইণ্ডিয়ান পুরাণ। এখানে কিন্তু বলা হয়েছে, রত্নমাত্রই কসমিক পাওয়ার বিধৃত। ভাগ্য পরিবর্তনের সহায়ক বিশেষ বিশেষ রত্ন ধারনের পরামর্শ দিয়ে আসছেন জোতিষী মহাশয়রা সেই আদ্যিকাল থেকে আজ পর্যন্ত। বিষয়টা আমার কৌতূহলী মনকে খুচিয়ে গেছিল বলেই আমি গেছিলাম হায়দ্রাবাদে। বসেছিলাম এক জহরত দক্ষ জ্যোতিষীর সঙ্গে। তেলেগু ভাষাটায় যৎকিঞ্চিৎ দখল আছে বলেই তার ঘনিষ্ঠ হতে পেরেছিলাম। শুনেছিলাম সেই একই কথা।

প্রেম এবং পরিণয়, সহবাস আর সন্তান উৎপাদন, এমনকী অমরত্ব এনে দেওয়ার ব্যাপারেও জহর মহাশয়দের অব্যাখ্যাত ভূমিকা রয়েছে।

হাসছিস? আমিও হেসেছিলাম—মনে মনে। জহর যদি অমর করে রাখতে পারে, তাহলে আওরঙ্গজেব প্রমুখ জগৎ কুখ্যাত মানুষগুলো আজও বেঁচে থাকত।

এই দ্যাখ! হিরের ঘোরে আবোল-তাবোল বকে যাচ্ছি। ইন্দ্র, হিরে এমনই একটা বস্তু। সর্বনাশ করে! সর্বনাশ করে!

কিন্তু এই বিশ্বাসটা আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস—স্রেফ আমার। কারণ আমি কুসংস্কার মানি না। কিন্তু মানত সেকালের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মহাগুরুরা। ধর্মের সঙ্গে হিরে পাথরটা যে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে, এ তত্ত্ব তারা মনে মনে বিশ্বাস করত কি না জানি না, তবে বিশ্বাস করিয়ে ছেড়েছিল সাধারণ মানুষদের। তাই, আজও পিল পিল করে মানুষ ছুটে যায় মাদ্রাজের উত্তর-পশ্চিমের তিরুপতি পাহাড়ে-খানে রয়েছে সোনার পাতে মোড়া বালাজি বিগ্রহ। আগাগোড়া হীরক-আকীর্ণ প্রস্তর দেবতা।

আমি অবশ্য মুগ্ধ হয়ে চোখের পাতা না ফেলে চেয়েছিলাম নফুট হাইটের বিশাল সেই বিগ্রহের দিকে। নফুট হাইট কম কথা নয়, তার ওপর মিশমিশে কালো পাথর কুঁদে গড়া। একটা সরু গলিপথের শেষপ্রান্তে রাখা সেই বিগ্রহের দিকে একবার তাকালে আর চোখ ফিরিয়ে নেওয়া যায় না—এমনই আকর্যণ তার। প্রতিবর্গ সেন্টিমিটারে। লক্ষ্য করেছিস, ‘তার’ বললাম? ভক্তি নিবেদন করলাম। কিছু একটা আছে ওই বিগ্রহর মধ্যে। তা নাহলে আজ আমি হীরক সাম্রাজ্যের একটা কেউকেটা হলাম কী করে!

আজকের ইণ্ডিয়ায় সবচেয়ে পপুলাব বিগ্রহ হতে চলেছে এই বালাজি। আমি চোখের পাতা ফেলতেও বোধহয় ভুলে গেছিলাম। আমার পিছনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিল…মাইল কয়েক লম্বা লাইনে…হাজার হাজার ভক্ত…প্রত্যেকের কণ্ঠের বালাজি বদনায় গলিপথ যেন ফেটে চৌচির হতে চাইছিল…থর থর করে কাঁপছিল ওপরে নিচে দু’পাশের পাথর… সেইসঙ্গে মিশেছিল ঝনঝন ঝনঝন ঝনঝন শব্দ…মেশিনের গজরানি…কেন? আরে বাবা, অত রেজকি…দর্শনার্থীদের চাঁদা…না… না…প্রণামী…মেশিন চলছে…বাছাই করে যাচ্ছে…বেগুলার বিজনেস…আওয়াজ হবে না? কান ফেটে যাওয়ার মতো কোলাইল! চাঁদা…ইয়ে, প্রণামী মিটিয়ে, তবে দেখতে হয় বালাজিকে। ধারে কারবার নেই। আশ্চর্য! গণতন্ত্রের দেশে এ কি জুলুম। পয়সা দিয়ে দেবতাকে দেখতে হবে?

যাকগে, হচ্ছিল হিরের কথা, এসে গেল পয়সার কথা। বালাজির মাথার মুকুটটার দিকে চেয়ে আমি চোখের পাতা ভুলে গেছিলাম নিশ্চয়। চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও। আগাগোড়া হিরে দিয়ে গড়া এমন মুকুট আমি জীবনে দেখিনি, দেখব বলেও মনে হয় না। ওজনে যাট পাউণ্ড…প্রায় তিরিশ কেজি…হিরের সংখ্যা কত জানিস? শুনলে মুণ্ডু ঘুরে যাবে। আঠাশ হাজার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *