স্যার অনেক দূরে থাকেন। আমাদের পক্ষে ঘনঘন যাওয়া সম্ভব হয় না। কাজ-কর্মে ফাঁক পেলে স্যারের বাড়িতে হামলা করি। অনেকদিন থেকে রাজ্জাক স্যার হেলু চাচির বাড়িতে থাকছেন। হেলু চাচি হলেন রাজ্জাক স্যারের ছোট ভাই মরহুম খালেক সাহেবের বেগম। আবুল খায়ের লিটুর মা। কয়েক বছর ধরে তিনি তার অপর পুত্র এবং স্যারসহ আলাদা বাড়িতে থাকছেন। গুলশানের একশো নম্বর রাস্তার তিরিশ নম্বর বাড়িতে তারা সবাই থাকেন। সেবার আমার সঙ্গে তরুণ অর্থনীতিবিদ বিআইডিএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ছিলেন। তা ছাড়া ছিল একজন তরুণ লেখিকা। নাম সেলিনা শিরিন সিকদার। সে স্যারের ওপর একটি ভিডিও ফিল্ম তৈরি করছে। আমাদের যেতে যেতে অনেক বেলা হয়েছিলো। আমরা একটুখানি ইতস্তত করছিলাম। স্যার মাত্র কদিন আগে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছেন। চোখের চিকিৎসার জন্য তাকে সেখানে নেয়া হয়েছিলো। স্যার জানতেন তার নানা সময়ের কথাবার্তাগুলো আমি লিখছি। আগে যেটুকু লিখেছি তার কম্পিউটার টাইপ করা অংশ স্যারকে দেখলাম। তিনি এক ঝলক দেখে শিটগুলো সরিয়ে দিয়ে বললেন, যা খুশি লেখবার চান লেখেন।

আমি প্রশ্ন করলাম, স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তো আপনি অনেকদিন ছিলেন, বলতে গেলে গোটা জীবনটাই কাটিয়ে দিয়েছেন। আপনি নিজে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। একসময়ে তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অনেক নামকরা মানুষ ছিলেন। কোন কোন শিক্ষককে এখন আপনার সবচাইতে উজ্জ্বল মনে হয়।

স্যার বললেন, আমাগো সময়ে সত্যেন বসু ছিলেন। তিনি ফিজিকসের মানুষ অইলেও অন্যান্য বিষয়ে তার পাণ্ডিত্য আছিল অগাধ। যে-কোনো বিষয়ে তার ব্যাপক পড়াশোনা আছিল। এমন মানুষ আর একটাও দেখা যায় না। সাহিত্যের উপরও তার দখল আছিল খুব। আমরা যখন ভরতি অইছি, তখন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রিটায়ার করছেন। আমরা মোহিতলাল মজুমদাররে পাইছি। মোহিতলালবাবু বড় স্কলার আছিলেন। কিন্তু জিভটা আছিল বড় খারাপ। অকারণে মাইনষেরে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন। এস. কে. দে মানে সুশীলকুমার দে আছিলেন, অত্যন্ত উচ্চশ্রেণীর মানুষ হিসাবে এবং স্কলার হিসাবে। তারপর আমার ডাইরেক্ট টিচার আছিলেন অমিয়বাবু। অমিয়বাবু মানে অমিয় দাশগুপ্ত। বরিশালের মানুষ। এইখান থেইক্যা তিনি দিল্লি চইল্যা যান। তার ছাত্রদের মধ্যে কেউ-কেউ নোবেল প্রাইজ পাইবার যোগ্য অইছে। এই যে অমর্ত্য সেনের কথা সকলে কয়, তিনিও ত অমিয়বাবুর ছাত্র। এইরকম আরও অনেক আছেন। বাংলাদেশ হওনের পর একবার তিনি এই দেশে আইছিলেন। জিল্লুরের দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনেগো বিআইডিএস-এর একটা সেমিনার অ্যাটেন্ড করনের লাইগ্যা, তখন আমার এখানে আছিলেন। এইবারও আওনের কথা আছিল। রেহমান সোবহানের মাধ্যমে আমারে খবর দিছিলেন, রাজ্জাকরে কইবেন, এইবারও আমি তার ওইখানেই থাকুম। হে যেন ব্যবস্থা করে। যেদিন আইব তার একদিন আগে হার্টফেল কইর‍্যা … স্যার চুপ করলেন।

বুঝলাম অমিয়বাবুর এই আকস্মিক মৃত্যু তার মনে খুব লেগেছে। আগেও তাকে নানা মানুষের সঙ্গে আমি অমিয় দাশগুপ্তের ব্যাপারে কথাবার্তা বলতে শুনেছি। আজিজুল হক সাহেবের সঙ্গে আলাপ করতে আমি শুনেছি, এবার অমিয়বাবু যখন ঢাকা আসবেন, অমিয়বাবুকে সম্মানসূচক ডি লিট দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবেন।

আমি আলোচনার মোড় আমাদের সময়ের দিকে ঘুরিয়ে আনলাম। জিগ্‌গেস করলাম, স্যার, ড. আহমদ শরীফকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? স্যার বললেন, শরীফ ত্যারাবাঁকা কথা বেশ কয়। কিন্তু একসময় ত কাম করছে। হি ডিড মেনি থিংস। টেবিলের ওপর প্রফেসর আবদুল হাইয়ের একটা জীবনীগ্রন্থ দেখিয়ে আমাকে জিগ্‌গেস করলেন, আবদুল হাই সম্পর্কে আপনেরা কী ভাবেন?

আমি জবাব দিলাম, হাই সাহেব আমার শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বিষয়ে আমার অনেক মধুর স্মৃতি আছে। শিক্ষক হিসেবে তিনি অত্যন্ত মহৎ ছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে প্রথম দিনের ক্লাসের স্মৃতি হাতড়ে বললাম, তিনি বলতেন পাঁচ ‘ব’তে শিক্ষক। বিনয়, বপু, বাচন, বাৎসল্য ইত্যাদি।

স্যার বললেন, সাহিত্য পত্রিকা বাইর করতেন অন্যন্ত উচ্চমানের। ঠিক সময়ে পত্রিকা বাইর অয় না দেইখ্যা অনেক রাগারাগি করছি। হাই সাহেবরে অনেক বকছিও।

বাংলা ডিপার্টমেন্টটা ভালাই চলছিল। এই দুইজন টিচার আইস্যা বেবাক পরিবেশ বরবাদ কইর‍্যা দিল। স্যার একজন মহিলা এবং একজন পুরুষ শিক্ষকের নাম উল্লেখ করলেন। আমি বদরুদ্দীন উমর সম্পর্কে স্যার কী ভাবেন জানতে চাইলাম।

স্যার বললেন, উমর যদি পূর্ববাংলার ভাষা আন্দোলন এবং তৎকালীন রাজনীতি কেবল এই একটা বইই লিখতেন, তা অইলেই পস্টারিটি তার নাম স্মরণ করার জন্য যথেষ্ট। সে ত আরও অনেক কাম করছে। উমরের একটা ঋজু খাড়া চরিত্র আছে, বিশ্বাস অনুসারে চলবার চেষ্টা করে। আমগো সমাজে এইরকম মানুষ ক’জন আছে।

তারপর আমি ঐতিহাসিক সালাহউদ্দিন আহমদ সম্পর্কে স্যারের মত জানতে চাইলাম।

স্যার বললেন, আগাগোড়া ভালা মানুষ। তাঁর বউ খালেদা সালাহউদ্দিন বেশ লেখাপড়া জানেন। তারপর আমি ইংরেজি বিভাগের ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন সম্পর্কে জানতে চেয়ে বললাম, স্যার, একটা সময়ে তো সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন আপনার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সাজ্জাদ সাহেব সম্পর্কে আপনি কী চিন্তা করেন?

স্যার বললেন, সাজ্জাদারে আমি খুব পছন্দ করতাম। একবার যুনিভার্সিটিতে একটা প্রোভাইস চ্যান্সেলর অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিবার কথা অইল। ভাইস চ্যান্সেলর মাহমুদ হোসেন আমারে কইলেন, আপনে তিনটা নাম ঠিক করেন, আমি তিনটা নাম ঠিক করি। আমি যে লিস্ট করছিলাম, তাতে সাজ্জাদের নাম আছিল দুই নম্বরে। পরে মাহমুদ হোসেনের লিস্টের সঙ্গে মিলাইয়া দেখলাম, তিনিও সাজ্জাদরে দুই নম্বরে রাখছেন। মাহমুদ হোসেন সাহেব আমারে জিগাইলেন, সাজ্জাদের ব্যাপারে আমার লগে আপনের মতামত মিইল্যা গেল। আপনে কী কারণে সাজ্জাদরে দুই নম্বরে রাখছেন? আমি কইলাম, পয়লা আপনের মতটা শুনি, তারপরে আমারটা কমু। মাহমুদ সাহেব কইলেন, সাজ্জাদ’স আদার কোয়ালিফিকেশনস আর অলরাইট। বাট হি ল্যাকস চ্যারিটি। যার মনে দয়া নাই তারে উপরে আনা ঠিক নয়। আমি কইলাম, আমিও সাজ্জাদের ব্যাপারে এটজ্যাকলি একই কথা চিন্তা করছিলাম। তারপর থেইক্যা সাজ্জাদের লগে আমার রিলেশন খারাপ অইয়া গেল। এখানে উল্লেখ করা বোধ করি অপ্রাসঙ্গিক হবে না, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন সাহেব ইংরেজিতে যে আত্মজীবনী লিখেছেন, তাতে রাজ্জাক সাহেবের নামে অনেক নালিশ করেছেন।

সাজ্জাদ হোসেন পর্ব শেষ হওয়ার পর আমি বললাম, স্যার, সৈয়দ আলি আহসান সম্বন্ধে কিছু বলেন।

স্যার এভাবে শুরু করলেন। সাজ্জাদ অ্যান্ড আলি আহসান, আলি আশরাফ, দে আর কাজিনস। সাজ্জাদ অনার্সে ফাস্ট ক্লাস পাইছিলেন, এম.এ-তে সেকেন্ড ক্লাস। আর আলি আশরাফ অনার্সে ফাস্ট ক্লাস, এম.এ-তে সেকেন্ড ক্লাস। আলি আহসান এম.এ. এবং অনার্স দুইটাতেই সেকেন্ড ক্লাস। তার কনসেপশন খুব ক্লিয়ার আছিল। অ্যাসথেটিকস সেন্স খুব কীন। যে-কোনো বিষয়ে কলম ধরলেই লেখা অইয়া যাইত। আলি আশরাফের লেখার হাত ভোলা আছিল না। ধর্মটর্ম খুব করতেন। তবে আলি আহসানের ব্যাপারে একটা কথা আইল সত্য কথা কদাচিৎ বলতে পারতেন। আমি আলি আহসানরে আত্মজীবনী লেখার পরামর্শ দিছি। কইছি, এখন তা সব সত্য কথা আপনে কাইবার পারবেন না। লেইখ্যা রাইখ্যা যান। আপনের মরণের পর প্রকাশ অইব।

প্রফেসর রেহমান সোবহানের সঙ্গে রাজ্জাক সাহেবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এই পণ্ডিত ভদ্রলোকটিকে আমি বিশেষ পছন্দ করি না। স্যারের তাঁর প্রতি অতান্তক অনুরাগের কারণটা কী জানতে চাইলাম।

স্যার বললেন, মানুষ হিসাবে রেহমান সোবহানের কারও বিরুদ্ধে কোনো খারাপ মন্তব্য করতে শুনি নাই। তার বাপ আছিল কেনিয়ার পাকিস্তান হাই কমিশনার। মরবার আগে ভদ্রলোক আরেকটা বিয়া কইর‍্যা ফেলাইছিল। স্বামীর মরণের পর ঐ ভদ্রমহিলা খুব ভয়ে ভয়ে আছিল। পাছে সৎ ছেলেরা তারে প্রপার্টি থেকে ডিপ্রাইভ করেন। রেহমান আর ফারুক তারা দুই ভাই। ভদ্রমহিলারও একটা বাচ্চা আছিল। রেহমান বিদেশ থেইক্যা আইস্যা করাচিতে যাইয়া ভদ্রমহিলার লগে দেখা কইর‍্যা কইলেন বাবার সম্পত্তি কোথায় কী আছে ইউ নো বেটার দ্যান আই ড়ু। সব আপনের। ভদ্রমহিলারে বাড়িঘর সব দিয়া-থুইয়্যা চইল্যা অইলেন। বাড়িটাও তার অইত না। বউয়ের কারণে অইছে। বউটা রেহমানের চাইতে চালাক-চতুর। আমি অখনও রেহমানের লগে দেখা অইলে ঠাট্টা কইর‍্যা সরস্বতীর বাহন সেই হাঁসের গল্পটা কই। আপনে সেই হাঁসের মতন পানি মিশান দুধের সবটা দুধ খান। আর আপনের বন্ধুর জন্যে থাকে সবটা পানি।

আমি জানতে চাইলাম, বন্ধুটা কে?

স্যার বললেন, আছেন একজন।

কথাবার্তার এই পর্যায়ে স্যার হোসেন জিল্লুরের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, এখন আপনেগো বিআইডিএস-এর ডিরেকটর কে?

জিল্লুর জবাব দিলেন, আবু আবদুল্লাহ।

স্যার জানতে চাইলেন, এখন আবু আবদুল্লাহর বয়স কত অইব? জিল্লুর বললেন, বাহান্ন-তিপ্পান্ন।

স্যার মনেমনে কী একটা হিসেব করলেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনে মুসারে চিনেন নিহি।

আমি বললাম, আমার ক্লাসফ্রেন্ড।

স্যার বললেন, ভেতরটা এক্কেরে সাদা। কোনো ধরনের জটিলতা নাই। আমার নেক্সট কাজিনের মাইয়ারে বিয়া করছে। সে হিসাবে মুসা আমার রিলেটিভ।

আলোচনার মোড় ঘুরে দীনেশচন্দ্র সেনে এসে ঠেকলো।

স্যার বললেন, দীনেশ সেন ওয়াজ রিয়্যালি এ গ্রেট ম্যান। এদিক সেদিক কিছু ব্যাপার আছে—তার পরেও। তার যখন অসুখ অইছিল, চিকিৎসার জন্য ডাক্তার বিধান রায়রে ডাকছিলেন। বিধান রায় ফিস দাবি করছিলেন দুই হাজার টাকা। তার পরিবারের তরফ থেইক্যা বিধান রায়রে জানান অইল দুই হাজার টাকা ফিস দিয়্যা চিকিৎসা করানোর সাধ্য তাগো নাই। তারপরে স্যার নীলরতনরে ডাইক্যা আনলেন। নীলরতন দেখলেন। তার কাছে জানতে চাওয়া অইল কত ফিস দিতে অইব। স্যার নীলরতন কইলেন, বাঙালি জাতির ত দীনেশ সেনের কাছে কিছু ঋণ আছে। ফিসের কথা উঠব কেন?

স্যার বললেন, দুইজন মানুষের মধ্যে কমপেয়ার কইর‍্যা দেখেন। আমাদেরকে কোনো কথা বলতে না দিয়ে চিত্তরঞ্জন দাশের প্রসঙ্গে চলে এলেন স্যার। তিনি বললেন, বারিণ ঘোষের মানিকতলা বোমা মামলার সময় চিত্তরঞ্জন দৈনিক ফিস নিতেন দুই হাজার টাকা। কোর্টে যাইবার আগে টাকাটা আগাম দিতে অইত। মিঃ জিন্নাহ একমাস ধইর‍্যা তিলকের একটা মামলা করছেন, ফিসের কথা যখন উঠল মিঃ জিন্নাহ কইলেন, আই ক্যান নট ক্লেইম ফিস ফ্রম এ পার্সন হু ইজ নট ফাইটিং ফর হিজ ইনডিভিজুয়াল ইন্টেরেস্ট। তারপর মতিলাল নেহরুর কথায় এলেন। স্যার বললেন মতিলাল উর্দু, ফার্সি এসব খুব ভালা জানতেন। কিন্তু জওহরলাল কোনো ইন্ডিয়ান ভাষা জানতেন না। হিন্দিটা তিনি কইতে পারতে শুধু পড়তে পারতেন না। আমার সব কথা মনে নেই।

স্যার ভারতবর্ষের অতীত ইতিহাসে চলে এলেন। তিনি বললেন, হিন্দুদের মধ্যে জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস যা অখন আপনেরা দেখবার পান, এইডা প্রাচীন আর্যদের বিশ্বাস আছিল না। আর্যরা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করলে বেদে উল্লেখ থাকত। বেদে এক্কেরে জন্মান্তরবাদের ছিঁটাফোটাও নই। এইডা তারা পরে ড্রেভিডিয়ানদের কাছ থেইক্যা ইনহেরিট করছে।

আমি বললাম, বাংলার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু বলেন।

স্যার বললেন, বাংলার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমি আর কী কমু। সে ত আপনেগো উপর। আপনেরা কী করবেন। আমি কেমনে কমু! মিঃ জিন্নাহ্ ত বেঙ্গল আপনেদেরে দিয়া দিছিলেন, আপনেগো চিত্তে সুখ, অইলো না বেঙ্গল পার্টিশন করলেন। মুহম্মদ আলি জিন্নাহর যে বিশেষ উক্তিটির কথা স্যার আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন, উলপার্টের লেখা জিন্নাহ্ অব পাকিস্তান গ্ৰন্থ থেকে আমি উদ্ধৃত করছি :

“By the end of April, the Muslim league had a clear majority in the Punjab, and the Nawab of Mamdot demanded Governor jenkins call upon him to form a ministry instead of continuing autocratically to rule under section 93 of the 1935 act. Jinnah finally went to Mount Batten to reiterate that demand, but the viceroy, like his governor, refused to install one party rule in Punjab, fearing it would incite ‘Civil War as threatend by the Sikhs. During this same interview, the viceroy informed Jinnah of Suhrawardy’s recently expressed hope that he might be able to keep a united Bengal on Condition that it joined neither Pakistan, nor Hindustan, I asked Mr. Jinnah straight out what his views were about Bengal United at the price of remaining its out of Pakistan.

He said without any hesitation, I should be delighted. What is the use of Bengal without Calcutta, they had much better remain united and independent, I am sure they would be on friendly terms with us, I then mentioned that Mr. Suhrawardy had said that if Bengal remained independent and united, they would wish to remain within the Common wealth, Mr. Jinnah replied, of course, just as I indicated to you that Pakistan would wish to remain within the Common wealth,”

সেই একই বৈঠকটিতে স্যারের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম জাতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার বলার কিছু আছে কি না। কিছুদিন আগে যখন সাক্ষাৎ করেছিলাম, তিনি জানিয়েছিলেন এই জাতির ভবিষ্যৎ কী চিন্তা করতে পারছেন না। বলেছিলেন, সব থুইয়া আপনেগো দেশের কাম করা উচিত। খবর নিয়ে জানলাম, বদরুদ্দীন উমর সাহেবকেও তিনি একই রকম পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা আশা করছিলাম তিনি আমাদের নতুন কোনো পরামর্শ দেবেন। স্যার সেদিক দিয়ে গেলেন না। সম্পূর্ণ একটা নতুন বিষয়ে কথা বলতে আরম্ভ করলেন। দেশ মানে ত দেশের মানুষ। মানুষই অইল গিয়া দেশের আসল শক্তি। মানুষগোরে আপনেরা ডেড ওয়েট কইর‍্যা রাইখ্যা থুইছেন। আমাগো দেশের মানুষের একটা দিকে এমন যোগ্যতা আছে ইন্টারন্যাশনালি যে-কোনো দেশের লগে কমপিট করবার পারে। আমি শিপিং-এর কথা কইতাছি। আপনের বাড়ি ত চাটগাঁ। আপনের ত জাননের কথা, আপনের জেলার মানুষ জাহাজের সেরাং ট্যান্ডেল হিসাবে কীরকম এফিসিয়েন্ট। এন্টায়ার ওয়ার্ল্ডে তাদের ডিমান্ড আছে। সিলেট চাটগাঁর মানুষদের হাতে ত আছিল দায়িত্ব। তারা ত কিছু করবার পারে নাই। সিলেট চাটগাঁর মানুষ শিপিংয়ে অ্যাজ গুড অ্যাজ দ্যা সিটিজেন অভ এনি আদার নেশনস। কিন্তু এই লাইনে ত কেউ দৃষ্টি দেয় নাই। আমি পার্সোনাল এক্সপিরিয়ন্স থেইক্যা কেইবার পারি। একবার আমারে জাহাজে কইর‍্যা বিলাত থেইক্যা ফিরতে অইছিল। সাড়ে তিন মাস লাগছিল। আমার টাকার ক্রাইসিস আছিল। হের লাইগ্যা জাহাজে আমার টিকিট কাটছিলাম। ছোট জাহাজ। মোটে সাড়ে সাত হাজার টন ডিমের খোসার মতন, ঢেউয়ের ঝাপটা যখন লাগে মনে অইত সমুদ্রের তলায় ড়ুইবা গেলাম। আমার খাওনের একটা প্রবলেম দেখা গেল। আর সব প্যাসেঞ্জার আছিলেন সাদা। আমি অগো লগে খাইবার চাইছিলাম না। আমার লাইগ্যা একটা ভিন্ন ব্যবস্থা করা অইল। খালাসি সারেং সব দেখলাম আমাগো দেশের মানুষ। তারা দাবি করলেন, আপনে আমাগো লগে সপ্তাহে একদিন খাইবেন। আমি তাগো লগে খাইতে আরম্ভ করলাম।

এই আলোচনার পর আচমকা আমি জিগ্‌গেস করে বসলাম, স্যার আপনি তো লন্ডনে হ্যারন্ড লাস্কির ছাত্র ছিলেন।

স্যার বললেন, হা।

তিনি ত ইহুদি ছিলেন। ডিসক্রিমেনেট করতেন?

স্যার মাথা ঝুকিয়ে বললেন, এক্কেরে না এক্কেরে না, কোনোদিনও টের পাই নাই। তিনি আমারে একদিন কইলেন মিঃ রাজ্জাক, তুমি চেষ্টা করলে নেহরুর মত আইতে পারবা। দ্বিতীয়বার যখন এই একই কথা কইলেন, আমি চিন্তা করলাম। এই মনোভাব আর বাড়তে দেওন ঠিক না। আমি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ কইর‍্যা কইলাম, মিঃ লাস্কি। তিনি কইলেন, ইয়েস মাই বয়। আমি কইলাম, আই ড়ু নট উইশ টু বি ম্যানশনড উইথ মিঃ নেহরু। আই এ্যাম এ মেম্বার অব মুসলিম লীগ অ্যান্ড এ ফলোয়ার অব মিঃ জিন্নাহ। এরপরে আর কিছু কয় নাই। লাঙ্কি নেহরুর খুব ভক্ত আছিল। একদিন ক্লাসে অনেক ছাত্রের মধ্যে বললেন, নো ম্যান ইজ ইনফলিবল, আমার দিকে তাকাইয়া ছোট কইর‍্যা কইলেন নট ইভেন মিঃ জিন্নাহ। সকলে অবাক অইয়া আমার দিকে তাকাইলেন, আমি কইলাম আই হ্যাভ প্রপার্লি আন্ডারস্টুড। মিঃ লাস্কি কমিউনিস্ট পার্টির মেম্বার আছিল। কিন্ত মিঃ চাৰ্চিল ম্যান্ডেস্টার গেলে লাস্কিদের বাড়িতে থাকতেন। তিনি লাস্কি পরিবারের ফ্যামিলি ফ্রেন্ড আছিলেন। কেউ কোনোদিন জানিবারও পারে নাই।

 

তরুণ বয়সে মানুষের শরীরের কোনো অংশে চোট লাগলে যৌবনে সেটা অনুভব করা যায় না অনেক সময়। বুড়ো হলেই ব্যথাটা ফিরে আসে। মানুষের বিশ্বাস এবং সংস্কার এগুলো বেশি বয়সে নতুন করে জেগে ওঠে।

Share This