১০. কিরীটী অতঃপর শুধাল

কিরীটী অতঃপর শুধাল, ব্যাপারটা কখন আপনি টের পেয়েছেন? আজ রাত্রে?

ড্যাডির শোবার ঘরের পাশেই আমার বেডরুম, কৃষ্ণা বলতে লাগল, রাত দশটা পর্যন্ত ড্যাডি এল না দেখে আমি তার অফিসে ফোন করেছিলাম।

ড্যাডি কি বললেন?

ড্যাডি অফিসে ছিল না—

ছিল না?

না। রাজীব ফোন ধরেছিল—সে বললে, ড্যাডি নাকি বিশেষ কি একটা মালের ডেসপ্যাচের ব্যাপারে পোর্টে গিয়েছেন-কাল সকালেই জাহাজ ছাড়বে, সেখান থেকেই বাসায় যাবেন বলে গিয়েছেন। একটু রাত হবে, আমি যেন না অপেক্ষা করি আর তার জন্য আমাকে খেয়ে শুয়ে পড়তে বলেছেন।

হুঁ। রাজীব কোথায়?

এখনো তত ফেরেনি।

ঠিক জানেন?

হ্যাঁ।

আপনার ড্যাডি কখন ফিরেছেন জানেন?

না, আমি তখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, তবে কৃষ্ণান বললে, রাত এগারটায় নাকি সে ড্যাডিকে ফিরে তার শোবার ঘরে ঢুকতে দেখেছে–

তারপর? জানলেন কখন ব্যাপারটা?

রাত তখন সোয়া এগারোটা হবে, কুট্টি এসে আমাকে ঘুম থেকে তোলেসে ড্যাডিকে ওঠাতে গিয়েছিল—ড্যাডি ডিনার করবে কিনা জানতে। কিন্তু গিয়ে দেখে ভিতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ। অথচ ঘরে আলো জ্বলছিল, সে তখন দরজায় নক্‌ করে, কিন্তু কোন সাড়া পায়। না। ডাকে সাহেবসাহেব বলে, তবু কোন সাড়া নেই। ঠিক সেই সময় ঘরের ভিতরে দড়াম করে কিছু ভারী জিনিস পড়ার শব্দ শুনতে পায়। ব্যাপারটা কি বুঝতে না পেরে কুটি তখন কৃষ্ণানকে ডাকে।

তারপর দুজনে মিলে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে সাড়া না পেয়ে এসে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। আমি গিয়েও ডাকাডাকি করি, দরজায় ধাক্কা দিই, সাড়া পাই না। তখন ভিতরের জানলার পর্দার ফাঁক দিয়ে আমি দেখতে পেলাম–

কি-কি দেখতে পেলেন?

ড্যাডি উপুড় হয়ে মেঝেতে পড়ে আছেন, সামনেই টেবিলের ওপরে সেই পার্সেলের ডালাটা খোলা—আর

আর?

দেখলাম সেই পার্সেল থেকে একটা কি ধোঁয়ার মত বেরুচ্ছে। এবং একটা পাতলা সবুজবর্ণের কুয়াশার মত কি যেন ভাসতে ভাসতে ঘরের মধ্যে ক্রমশঃ একটু একটু করে মিলিয়ে যাচ্ছে।

যা, হলুদ শয়তানের গ্যাসীয় মৃত্যুদূত-তীব্র বিষাক্ত কোন গ্যাসজাতীয় পদার্থ খুব সম্ভব ঐ পার্সেলের মধ্যেই ছিল, যেটা পার্সেল খুলতেই বের হয়ে মৃত্যুছোবল হেনেছে।

কিরীটী ততক্ষণে ব্যাপারটা অনুমান করতে পেরেছে-সে আর ওখানে দাঁড়াল না। ডিবরাজের ঘরের মধ্যে গিয়ে ঢুকল।

ছিমছাম সাজানো বেডরুমটি। আকারে বেশ বড়ই হবে। একটা সিঙ্গল খাটে শয্যা বিছানো–শয্যা দেখে বোঝা যায় সেটা কেউ তখনো স্পর্শও করেনি, এক পাশে টেবিলের উপরে একটা ভালা-খোলা পার্সেল।

মিঃ রামিয়া ঘরের চারিদিক পরীক্ষা করে দেখছেন।

কিরীটীকে ঢুকতে দেখে বললেন, funny! ভিতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল-কৃষ্ণান বলছে বাইরের বন্ধু জানলার সাসী ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে সে দরজা খুলেছে, বাথরুমের দরজাটাও ভিতর থেকে বন্ধ ছিল—তবে আততায়ী ঢুকল কি করে বলুন তো মিঃ রায়?

কোন মানুষ আততায়ী তো নয় মিঃ রামিয়া!

রামিয়া কিরীটীর মুখের দিকে তাকাল, তবে ওঁর মৃত্যু হল কি করে?

ডাঃ ওয়াংয়ের প্রেরিত বিষাক্ত কোন গ্যাসে—

গ্যাসে!

কেন, গন্ধ পাচ্ছেন না ঘরে-still thereis some smell! ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে আছে। তাই তো। দুবার নাক টেনে রামিয়া বলেন, একটা pungent smell যেন পাচ্ছি!

হ্যাঁ।

কিন্তু গ্যাস এলো কি করে ঘরে? সব তো বন্ধ ছিল।

গ্যাস এসেছিল আজই বিকেলে।

বিকেলে? কেমন করে?

আঙুল তুলে অদূরে টেবিলের উপরে রক্ষিত পার্সেলটা দেখিয়ে কিরীটী বললে, ঐ পার্সেলে এসেছে। চলুন দেখা যাক—

এগিয়ে গেল ওরা দুজনে। হোট একটা চৌকো বাক্স। তার মধ্যে কেটা ভাঙা কাঁচের কেস। তলায় কিছু জুয়েল্স্ চক করছে

এর মধ্যে ছিল গ্যাস? রামিয়া প্রশ্ন করলেন।

হ্যাঁ, কাঁচের কেসের মধ্যে কিছু জুয়েলের সঙ্গে বিষাক্ত গ্যাস সিল করে ভরে দেওয়া ছিল, কাঁচের কেসটা ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই সে গ্যাস বের হয়ে মিঃ ডিবরাজকে মৃত্যুচুম্বন দিয়েছে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে।

কি ভয়ঙ্কর! অস্পষ্ট কণ্ঠে বললেন মিঃ রামিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *