০৭. চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান

হাবিব ডাক্তার একদিন চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের পাঁচ বছরের পোতা হাবিবুর রহমানকে দেখতে কাঁটাবাগান পাড়ায় গেল। দু’দিন থেকে একশ চার জ্বর। মাথায় পানি ঢেলেও জ্বর কমে নি। জ্বরের ঘোরে চোখ খুলতে পারে না। কোনো কিছু খায়ও না। রুগীকে পরীক্ষা করে হাবিব ডাক্তার বলল, ভয়ের কিছু নেই। ইনশাআল্লাহ জ্বর কমে যাবে। তারপর একগ্লাস পানি আনতে বলল।

চেয়ারম্যান নিজেই এক গ্লাস পানি নিয়ে এলেন।

হাবিব ডাক্তার কিছু পড়ে রুগীর গায়ে ফুক দিল। তারপর আরো কিছু পড়ে গ্লাসের পানিতে ফুক দিয়ে রুগীকে দু’তিন চামচে খাইয়ে ডান হাতের তালুতে অল্প একটু পানি নিয়ে রুগীর গায়ে ছিটিয়ে দিয়ে বলল, আজ আর কোনো ওষুধ দেব না। রাতের মধ্যে যদি জ্বর না কমে, তবে সকালে কাউকে আমার কাছে পাঠাবেন।

হাবিব ডাক্তার যে ঝাড়ফুঁক ও পানি পড়া দিয়ে অনেক রুগী ভালো করেছে, তা চেয়ারম্যান শুনেছেন। তাই অবাক না হয়ে বললেন, মেডিক্যাল সাইন্সেতো এসব বিশ্বাস করে না। তবু আপনি করেন কেন?

হাবিব ডাক্তার মৃদু হেসে বলল, শুধু মেডিক্যাল সাইন্স নয়, সাইন্সের কোনো থিওরিই পারমানেন্টও নয়, সঠিকও নয়।

এমন সময় চেয়ারম্যানের বড় ছেলে হামিদুর রহমান এসে বলল, আব্বা, বারান্দায় চা দেয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান বললেন, চলুন ডাক্তার, আমরা বারান্দায় গিয়ে বসে একটু চা খাই।

চা খাওয়ার সময় চেয়ারম্যান বললেন, জ্বর কমার জন্য কিছু ওষুধ দিলে হত না?

হাবিব ডাক্তার সে কথার উত্তর না দিয়ে বলল, আপনার এই পোতাকে একটু সাবধানে রাখবেন। দুপুরে ও সন্ধ্যার সময় একা একা ঘরের বাইরে যেন না যায়, সবাইকে একটু খেয়াল রাখতে বলবেন। মনে হচ্ছে ওকে বাতাস লেগেছে। তাই আল্লাহর কালাম থেকে কিছু পড়ে ফুক দিলাম। আমার অনুমান সত্য হলে কিছুক্ষণের মধ্যে ইনশাআল্লাহ জ্বর কমবে। জ্বর কমার পর খেতে চাইবে। আর

যদি তা না হয়, তা হলে তো কাল সকালে খবর দিতেই বললাম না।

চেয়ারম্যান প্রসঙ্গ পাল্টালেন। বললেন, বইরাপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ ও মুফতি। সেদিন জুম্মার নামাযের পর আপনি যেসব কথা বলেছিলেন, একদিন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। বললেন, আপনি ঠিক কথা বলেছেন। আমি বললাম, তা হলে আপনারা ঐসব করেন কেন? আপনারা এসবের প্রতিবাদই বা করেন না কেন? বললেন, অনেক আগে থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক ওলামায়ে কেরাম ও বোজর্গানেদ্বীন এই সব করে আসছেন। এর শিকড় এত গভীরে প্রবেশ করেছে যে, তা উৎপাটন করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কেউ যদি এসবের প্রতিবাদ করে, তা হলে ফিতনার সৃষ্টি হবে। বর্তমানে যারা বড় বড় আলেম, মুফতি ও বোজর্গানেদ্বীন আছেন, তাঁরা যদি এসব প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন, তা হলে ফিতনার সৃষ্টি হলেও বিস্তৃতভাবে কিছু হবে না এবং এসব কুসংস্কার সমাজ থেকে বিদূরিত হয়ে যাবে। আমাদের মতো ছোটখাটো আলেম বা মুফতিরা প্রতিবাদ করলে, সমাজে দলাদলির সৃষ্টি হবে। তাই জেনেশুনে আমাদের এইসব করতে হচ্ছে।

হাবিব ডাক্তার বললেন, হ্যাঁ উনি অবশ্য ঠিক কথাই বলেছেন। তবে অনেক বড় বড় ওলামায়ে কেরাম ও মুফতিগণ অনেক আগে থেকে এসব কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বহু কিতাব লিখেছেন। তাদের মধ্যে বিংশ শতাব্দির মুজাহেদ হযরত মাওলানা আশরাফ আলি থানবী (রঃ) ইসলাহুর রুসুম (কুসংস্কার সংশোধন) কিতাবে তিনি ইসলামে ঢুকে পড়া বহু কুসংস্কারের কথা উল্লেখ করে তার সংশোধনের পথও বাতলে দিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হল, সে সব শুধু কিতাবেই রয়ে গেছে। মুসলমানদের ঈমান ও তাকওয়ার দুর্বলতার কারণে সমাজে বাস্তবায়ন হয় নি। বর্তমানে চট্টগ্রামের মেখল হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার খাদেম মুফতি মুঃ ইবরাহীম খান কৃত “শরীয়ত ও প্রচলিত কুসংস্কার ও কুমিল্লার মুফতি মুঃ মুহিবউদ্দিন (ফয়েজী) কৃত “শরয়ী মানদণ্ডে ফরয নামাযের পর সম্মিলিত মুনাজাত” বই দুটির মধ্যে অকাট্য দলিলসহ এইসব কুসংস্কারের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। উক্ত বই দুটির বহুল প্রচার আমি কামনা করি। এই বই দুটি আমাদের দেশের প্রত্যেক মুসলমানের পড়া একান্ত কর্তব্য। আপনি জানেন কিনা জানি না, বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ চট্টগ্রাম হাটহাজারীর জামিয়ে আহলিয়া মাদ্রাসা মসজিদসহ আরো কয়েকটা মসজিদে ও খুলনায় বিখ্যাত দারুল উলুম মাদ্রাসা মসজিদসহ আরো কয়েকটা মসজিদে এবং ইদানিং ঢাকায় কাঁটাবন মসজিদে ফরয নামাযের পর জামায়েতের সঙ্গে মোনাজাত করা হয় না।

এমন সময় চেয়ারম্যানের ছেলে হামিদুর রহমান এসে বলল, ঘাম দিয়ে হাবিবুর রহমানের জ্বর কমতে শুরু করেছে।

হাবিব ডাক্তার আলহামদুলিল্লাহ বলে বলল, আর কোনো চিন্তা নেই। ওকে বাতাসই লেগেছিল। শুনলে অবাক হবেন, আমার বড় ভাইয়ের তিন ছেলে। ছোট ছেলে সেদিন দুপুরে বা সন্ধ্যেয় একা একা বাসার পিছনের গলিতে বা ছাদে কোনো কারণে যায়, যেদিনই তাকে বাতাস লেগে জ্বর হয়। আবার দুষ্টুমি করলে কেউ যদি বকাবকি করে বা দু’একটা চড়-চাপড় মারে, তা হলেও তার জ্বর হবে। আব্বা আল্লাহর কালাম পড়ে ফুক দিলে ভালো হয়ে যায়। এজন্য তাকে কেউ বকাবকি বা মারধর করে না। আপনার এই পোতাকেও দেখছি তার মতো। এবার তা হলে আসি?

চেয়ারম্যান বললেন, আরো কিছুক্ষণ বসুন। দু’একটা কথা আলাপ করব। অবশ্য আপনার যদি আপত্তি না থাকে।

হাবিব ডাক্তার বলল, আপত্তির কি আছে? কি আলাপ করতে চান বলুন।

আপনার সম্পর্কে ভালো মন্দ কথা অনেক কানে পড়ে। তাই খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছি, আপনি ঢাকার খুব ধনী ও মানিগুণী লোকের ছেলে। ডাক্তারি পাশ করে বিদেশ থেকে উচ্চ ডিগ্রী নিয়ে এসেছেন। তবু এই পাড়াগাঁয়ে এসেছেন কেন?

হাবিব ডাক্তার চিন্তা করল, আজরাফ স্যার ইনাকে কিছু বলেন নি তো? ওঁর মতো লোকও নিষেধ করা সত্ত্বেও কথাটা গোপন রাখতে পারলেন না?

তাকে চিন্তা করতে দেখে চেয়ারম্যান আবার বললেন, আপনার মৌনতাই কিন্তু বলে দিচ্ছে, এখানে আসার একটা বিশেষ উদ্দেশ্য আছে?

আপনাকে কেউ কি আমার সম্পর্কে কিছু বলেছেন?

না, আমি নিজে খোঁজ-খবর নিয়েছি।

এখানে আসার উদ্দেশ্যের কথা যে বললেন, তার খোঁজ নেন নি?

চেয়ারম্যান বুঝতে পারলেন, হাবিব ডাক্তার খুব বুদ্ধিমান। বললেন, খোঁজ যে নিই নি তা নয়, তবে সফল হতে পারি নি। তাই তো জিজ্ঞেস করলাম।

আজরাফ স্যারকে যা কিছু বলেছিল, হাবিব ডাক্তার সে সব বলে বলল। একটা অনুরোধ করছি, উদ্দেশ্য সফল না হওয়া পর্যন্ত এসব কথা গোপন রাখবেন।

চেয়ারম্যান মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, এতদিনে সফলতার পথে অগ্রসর হতে পেরেছেন?

জি, চার ভাগের তিন ভাগ পথ অতিক্রম করেছি, তারপর নাদের আলি ও আতিকার বিয়ের সম্বন্ধে মুশতাক বিশ্বাসের সঙ্গে যেসব কথাবার্তা হয়েছে বলল।

আপনি কী মনে করেন, পূর্ণ সফলতা লাভ করতে পারবেন?

আল্লাহ ভরসা। তিনি বান্দাদের মনের নেক মাকসুদ পূরণ করে থাকেন।

তা আমিও জানি। কিন্তু আপনি তো প্রতিশোধ নিতে ও দাদার সম্পত্তি উদ্ধার করতে এসেছেন? এটাকে নেক মাকসুদ বলছেন কেন?

দু’টোই শরীয়ত সম্মত। তা ছাড়া দাদাজীর কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিই, বিবাদমান দু’দল মুসলমানদের মধ্যে শান্তি স্থাপন করব। আপনিই বলুন না, এসব করা কি ন্যায় না অন্যায়?

আপনার উদ্দেশ্য শুধু ন্যায়ই নই মহৎও। প্রয়োজনে আমি আপনাকে সাহায্য করব।

হাবিব ডাক্তার মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলল, শুনে খুশি হলাম। সাহায্যের প্রয়োজন হলে জানাব। এখন শুধু দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকে সফলতা দান করেন। এবার আমি একটা বিষয়ে আপনার সঙ্গে আলাপ করতে চাই।

বেশ তো বলুন।

আমি বইরাপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার পাশে এমন একটা মাদ্রাসা করতে চাই, যেখানে হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা হাফেজ হওয়ার পর হাদিস কিতাব পড়ে পাক্কা ঈমানওয়ালা বড় বড় আলেম ও মুফতি হয়ে ইসলামে যে সমস্ত বেদায়াত (কুসংস্কার) প্রবেশ করেছে, সেসব দূর করতে পারেন। তাদের অনেকে এখানকার লেখাপড়া শেষ করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর উচ্চ ডিগ্রী নিয়ে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে আল্লাহ ও তার রাসুল (দঃ) এর বিধান মতো দেশ শাসন করতে পারেন। যারা বর্তমানে দেশের প্রশাসন বিভাগে আছেন, তারা আল্লাহর ও তাঁর রাসুল (দঃ) এর বিধান সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ এবং তারা এইসব বিধান মেনে চলে মানুষও হন নি। তাই তারা মানুষের তৈরি বিধানমতো দেশ শাসন করছেন। ধর্মে বিশ্বাস রেখে ও ধর্মের বিধানমতো যারা নিজেদেরকে পরিচালিত করেন এবং অন্যদেরকেও ধর্মের পথে পরিচালনা করার চেষ্টা করেন, তারাই মানব জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আর ধর্মকে পরিত্যাগ করে কোনো মানুষই চরিত্রবান হতে পারে না। শুধু কিছু আনুষ্ঠানিকতার নাম ইসলাম নয়। ইসলাম এমন একটা ধর্ম, যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষ যা কিছু করবে আল্লাহ তার বিধান দিয়ে দিয়েছেন। সেই বিধানমতো করলে করণীয় সবকিছুই ইবাদত বলে গণ্য হবে। তাই যারা বলে ধর্মে রাজনীতি নেই, তারা ইসলাম সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ। সারা বিশ্বের মানুষের জানা উচিত কোনো আইন প্রয়োগ করে বিশ্ব থেকে অন্যায়, অত্যাচার, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ বন্ধ সম্ভব নয়। যদি সম্ভব হত, তা হলে উন্নতশীল দেশগুলোতে সবকিছু নির্মূল হয়ে যেত। কিন্তু হয়েছে কি? হয় নি। এসব নির্মূল করার একমাত্র হাতিয়ার ধর্ম। মানুষের যদি ধর্মের প্রতি বিশ্বাস থাকে, তবে মৃত্যু, কবর, হাশর ও জাহান্নাম ও বেহেস্ত সম্পর্কে জ্ঞান পাওয়ার পর কেউ-ই অন্যায়ের পথে পা বাড়াতে সাহস করত না। তবে শয়তানের অনুসারীরা কিছু থাকবেই। তারা আদিমকালেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু বর্তমানের মতো মহামারি আকারে অন্যায়, অত্যাচার, খুন, চুরি, ডাকাতি, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, ধর্ষণ দেখা দিত না। শুধু ধর্মের জ্ঞান থাকলে হবে না। জ্ঞানের অনুশীলন ব্যক্তিগত জীবনে, পরিবারে, সমাজে, দেশে তথা সারা পৃথিবীতে থাকতে হবে। তা হলে দেশের তথা সারা পৃথিবীর মানুষ ইহকালে যেমন সুখ শান্তিতে বসবাস করতে পারত, তেমনি পরকালের অনন্তকাল জীবনেও বেহেস্তে সুখ-শান্তিতে থাকতে পারবে। আর একটা জিনিস, শিক্ষাঙ্গনই হচ্ছে ধার্মিক ও চরিত্রবান গড়ার কারখানা। তাই শিক্ষকদের ধার্মিক ও চরিত্রবান হওয়া অপরিহার্য। বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে, দুঃখে চোখে পানি আসে। তাই আমি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে চাই, তার শিক্ষকমণ্ডলীকে হতে হবে সৎ ধার্মিক ও চরিত্রবান। এটা প্রতিষ্ঠিত করতে যত টাকার প্রয়োজন হবে, ইনশাআল্লাহ আমি দেব। আর আল্লাহ যদি দাদাজীর ওয়ারিশ সম্পত্তি পাইয়ে দেন, তা হলে সবটাই ঐ মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য ওয়াকফ করে দেব।

চেয়ারম্যান হাবিব ডাক্তারের গুণের কথা আগেই শুনেছেন, এখন তার মহৎ উদ্দেশ্যের কথা শুনে ভীষণ আনন্দিত হলেন। বললেন, কারো সামনে তার প্রশংসা করতে নেই জানা সত্ত্বেও না বলে পারছি না, “আপনার মতো একজন বিলেত ফেরত ডাক্তারকে ইসলামের অবক্ষয় রোধের পথে সংগ্রাম করতে দেখে যেমন অবাক হয়েছি, তেমনি আনন্দে বুকটা ভরে গেছে। আল্লাহ আপনার সমস্ত নেক কামনা-বাসনা পূরণ করুক। আপনাকে ইহকালে ও পরকালে সফলতা দান করুক। কথা দিচ্ছি, শুধু আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপারে নয়, মাদ্রাসার ব্যাপারেও ইনশাআল্লাহ সাহায্য করব।”

সুবহান আল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বলে হাবিব ডাক্তার বলল, আল্লাহ আপনারও ইহকালে ও পরকালে সফলতা দান করুক।

আচ্ছা, যা কিছু বললেন, এসব এখানকার আর কারো সঙ্গে আলাপ করেছেন নাকি?

হাবিব ডাক্তার অল্পক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, পশ্চিমপাড়ার আজরাফ স্যারকে এখানে আসার উদ্দেশ্যের কথা বলেছি। তবে মাদ্রাসার ব্যাপারে কিছু বলি নি।

উনি শুনে কি বললেন?

আপনার মতো একই কথা বলেছেন।

আর একটা কথা, গ্রামের দু’একজন আমাকে জানিয়েছে, আপনি পশ্চিমপাড়ার হাশেম আলির বাড়িতে যান। মাঝে মাঝে রাতেও থাকেন। কথাটা কী সত্য? তারা আপনাকে খুব ভক্তি সম্মান করে। তাই আর কারো কাছে না। বলে আমার কাছে বলেছে।

জি, তাদের কথা সত্য।

শুনেছি, আপনি চিকিৎসা করে হাশেম আলিকে সুস্থ করেছেন। সেটা খুব ভালো কথা; কিন্তু তার বাড়িতে ঘনঘন যান, রাতও কাটান, এটা কী ভালো? এসব জিনিস বেশি দিন গোপন থাকে না। অন্যরা জেনে গেলে আপনার মান সম্মান থাকবে? অবশ্য তার একটা বিধবা যুবতী মেয়ে না থাকলে কেউ কোনো কথা বলতে পারত না।

যীনাতকে বিয়ে করেছে, কথাটা এখনই চেয়ারম্যানকে বলবে কিনা হাবিব ডাক্তার চিন্তা করতে লাগল।

তাই দেখে চেয়ারম্যান বললেন, আমি অবশ্য মানুষের কথায় কান দিই না। হাশেম আলির একটা বিধবা যুবতী মেয়ে আছে, তাই হয়তো মানুষজন কথাটা আমাকে জানিয়েছে। আপনার মতো মানুষের নামে কোনো অপবাদ রটুক, তা আমি চাই না। তাই জিজ্ঞেস করলাম।

আমি হাশেম আলির মেয়েকে কয়েকমাস আগে বিয়ে করেছি, কথাটা হাশেম আলি তার এক চাচাত ভাইপো, আজরাফ স্যার ও তার স্ত্রী, আর যিনি বিয়ে পড়িয়েছেন, এই পাঁচজন ছাড়া কেউ জানে না। আমার উদ্দেশ্য সফল না হওয়া পর্যন্ত ব্যাপারটা গোপন রাখতে বলেছি।

চেয়ারম্যান সাহেব সুবহান আল্লাহ, বলে হাসি মুখে বললেন, আমি এরকমই কিছু অনুমান করেছিলাম। মেয়েটার নাম যেন কী?

যীনাত বেগম।

হ্যাঁ হ্যাঁ, যীনাত। ও যখন স্কুলে পড়ত তখন থেকে চিনি। খুব গুণবতী ও ধার্মিক মেয়ে। ওর মাও খুব ধার্মিক ছিল শুনেছি। হাশেম আলিও খুব ধার্মিক ও সৎ। কিন্তু আল্লাহর কি কুদরত মেয়েটার দু’বার বিয়ে হল, দু’টো স্বামীই বিয়ের রাতে মারা গেল। তাই মেয়েটাকে কেউ দেখতে পারে না, সবাই অপয়া বলে। হাশেম আলি মেয়ের চিন্তায়ই পঙ্গু হয়ে গেল। এসব কথা কী বিয়ের আগেই জেনেছিলেন?

জি, আজরাফ স্যারের স্ত্রীর অসুখের সময় চিকিৎসা করতে গিয়ে যীনাতকে দেখে আমার পছন্দ হয়। তারপর আজরাফ স্যারের কাছেই তাদের সবকিছু শুনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রস্তাব দিই।

আচ্ছা, আপনি যে এখানে এসে যা কিছু করছেন ও বিয়ে করেছেন, এসব আপনার মা-বাবা বা ভাইয়েরা জানেন?

জি, জানেন। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সবকিছু করছি। আপনি বইপাড়ার হাফেজিয়া মাদ্রাসার পাশে অথবা কাছাকাছি নতুন মাদ্রাসার জন্য জমি দেখুন।

তা দেখব, তবে আপনি এ ব্যাপারে আজরাফ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে দেখুন উনি কি বলেন। আর একটা কথা, বইরাপাড়ার হাফেজিয়া মাদ্রাসার কাছাকাছি মুশতাক বিশ্বাসের বেশ কিছু ধানী জমি আছে। ওখানকার লোকেরা সে সব জমি ভাগ চাষ করে। মুশতাক বিশ্বাসকেও মাদ্রাসা করার কথা বলে জমি দান করতে বলুন। উনি নামের কাঙাল, মনে হয় দান করতে পারেন। আর যদি দান করতে না চান, তা হলে টাকা দিয়ে কিনে নেবেন।

পরামর্শ দেয়ার জন্য শুকরিয়া। আমার বড় মা, মানে দাদাজীর মায়ের নাম জোহরা খানুম। আমি তার নামে মাদ্রাসার নাম রাখতে চাই। আমার একান্ত অনুরোধ এই মাদ্রাসার ব্যাপারে সবকিছু আপনাকেই করতে হবে। আমি শুধু টাকার ব্যবস্থা করব। আমার কথা যেন এতটুকু প্রকাশ না হয়, সে ব্যবস্থাও আপনি করবেন। তবে আজরাফ স্যারকে জানাতে পারেন। বলুন, আমার এই অনুরোধটুকু রাখবেন?

চেয়ারম্যান কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, আপনাকে সাহায্য করব বলে কথা যখন দিয়েছি তখন ইনশাআল্লাহ নিশ্চয় রাখব। কিন্তু একদিনতো আপনার কথা। প্রকাশ হবেই।

হাবিব ডাক্তার আনন্দিত হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলল, ততদিনে ইনশাআল্লাহ আমার এখানে আশার উদ্দেশ্য সফল হয়ে যাবে। তারপর এবার আসি হলে বলে দাঁড়িয়ে পড়ল।

এমন সময় হাবিবুর রহমান আব্বার হাত ধরে এসে সালাম দিয়ে বলল, দাদু, আমার অসুখ আল্লাহ ভালো করে দিয়েছে।

চেয়ারম্যান সাহেব তাকে বুকে জড়িয়ে চুমো খেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বললেন, এই ডাক্তার সাহেবের অসিলায় আল্লাহ তোমার জ্বর ভালো করে দিয়েছেন। যাও কদমবুসি কর বলে তাকে ছেড়ে দিলেন।

হাবিবুর রহমান কয়েক সেকেন্ড হাবিব ডাক্তারের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে আস্তে আস্তে এগিয়ে এসে কদমবুসি করতে গেল।

হাবিব ডাক্তার তাকে জড়িয়ে ধরে আদর দিয়ে বলল, আল্লাহ তোমাকে হায়াতে তৈয়েবা দান করুক। তারপর বলল, তোমার নাম কি?

হাবিবুর রহমান।

নামের অর্থ জান?

জি, দয়ালুর বন্ধু। আল্লাহ দয়ালু, আমি তার বন্ধু।

সুবহান আল্লাহ, আল্লাহ তোমাকে তার বন্ধু হওয়ার তওফিক দান করুক। তারপর বলল, তোমার যে নাম, আমারও সেই নাম। তাই এখন থেকে তুমি আমার মিতা।

হাবিবুর রহমান বলল, মিতা কি আমি তো জানি না। মিতা মানেও বন্ধু।

হাবিবুর রহমান হাসি মুখে বলল, তা হলে আজ থেকে আপনিও আমার বন্ধু?

হাবিব ডাক্তার বলল, হ্যাঁ, তাই।

তা হলে দাঁড়িয়ে আছেন কেন, বসুন। আমি কথাটা আম্মাকে জানিয়ে আসি। তারপর যেতে উদ্যত হলে চেয়ারম্যান বললেন, কারো সঙ্গে নতুন সম্পর্ক হলে মিষ্টিমুখ করাতে হয়। আম্মাকে বলে মিষ্টি নিয়ে এস।

চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে হেলথ কমপ্লেক্সে ফিরে এসে হাবিব ডাক্তার দেখল, নাদের আলি বসে আছে। সালাম ও কুশল বিনিময় করে বলল, কেন এসেছ বল।

নাদের আলি বলল, আপনার সঙ্গে কিছু আলাপ করতে এলাম।

বেশ তো, কি আলাপ করতে চাও বল।

আতিকার বিয়ের ব্যবস্থা হয়েছে। ছেলে ও ছেলেপক্ষ আতিকাকে পছন্দ করে গেছে।

হাবিব ডাক্তার মৃদু হেসে বলল, এরকমই কিছু আশা করেছিলাম। বিয়ের তারিখ কবে হয়েছে জান?

মাতব্বর চাচা দশ পনের দিনের মধ্যে করতে চেয়েছিলেন; কিন্তু ছেলের বাপ রাজি হয় নি। ছেলের বড় ভাই বিদেশে চাকরি করে। মাস খানেক পরে ফিরবে। সে আসার পর দিন ঠিক হবে।

ছেলের বাড়ি কোথায়?

আনন্দবাস।

তুমি এসব জানলে কিভাবে?

আতিকা তাদের চাকর হালিমকে দিয়ে চিঠি লিখে পাঠিয়েছে।

ঠিক আছে, এখন যাও। কোনো দুশ্চিন্তা করো না।

কয়েকদিন পর চেয়ারম্যান একদিন বইরাপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে মিটিং করার ব্যবস্থা করলেন। কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সব গ্রামে মাইকিং করে মিটিং এর কথা জানিয়ে দেয়ার ব্যবস্থাও করলেন।

মিটিং এর দিন বিভিন্ন গ্রাম থেকে ধনী, গরিব, মধ্যবিত্ত ও গণ্যমান্যসহ বহু লোকের সমাগম হল। হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা প্রথমে কুরআন তেলওয়াত, হামদ ও নাত পাঠ করার পর চেয়ারম্যান বললেন, বর্তমানে আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের শহরগুলোতে এমন কি গ্রামে, গঞ্জে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে সব মাদ্রাসা থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার হাফেজ তৈরি হচ্ছেন। তারা মসজিদের ইমামতি ও কুরআনিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। তবু অগণিত হাফেজ বেকার রয়েছেন। অবশ্য যারা অবস্থাপন্ন ঘরের, তারা বড় বড় মাদ্রাসায় শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তাদের সংখ্যা বেশি নয়। যারা হাফেজ হচ্ছেন, তারা কুরআনের অর্থ যেমন বোঝেন না, তেমনি হাদিস ফিকাহর জ্ঞানও তাদের নেই। তাই তাদের জন্য এক মহৎ লোক এখানে এমন একটা মাদ্রাসা করতে চান। যেখানে অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে হাফেজরাও সব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। তারপর হাবিব ডাক্তার যেসব কথা তাকে বলেছিল, সেসব বলে বললেন, ধর্মীয় লাইনে উচ্চ শিক্ষা নেয়ার একটা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হোক, এটা কি আপনারা চান?

প্রায় সবাই একসঙ্গে বলে উঠল, হ্যাঁ চাই।

চেয়ারম্যান সবাইকে চুপ করতে বলে বললেন, এ ব্যাপারে আপনারা যদি কিছু বলতে চান, তা হলে বলতে পারেন।

কেউ কিছু বলার আগে মুশতাক বিশ্বাস বললেন, কিন্তু এরকম একটা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করাও পরিচালনা করার খরচপাতিতো আর কম না? উনি শুধু মুখে দেব বললে তো হবে না, বাস্তবে প্রমাণ দিতে হবে।

চেয়ারম্যান সাহেব বললেন, সেকথা আমিও তাকে বলেছি। বললেন, আপনারা একটা কমিটি তৈরি করুন। কমিটির সদস্যরা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করবেন। আরো বললেন, মাদ্রাসার নাম হবে “জোহরা খানুম আলিয়া মাদ্রাসা।” মাদ্রাসার গরিব ছাত্রদের জন্য এতিমখানা থাকবে আর অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলেদের জন্য থাকবে আবাসিক হোস্টেল। কমিটি গঠন করার পর সেক্রেটারি ও এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির নামে প্রথমত দশ লাখ টাকা কার্পাসডাঙ্গা সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়ে যৌথ একাউন্ট খুলে দেবেন। পরে আরো দেবেন। আমরা যদি সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই, তা হলে মাদ্রাসা চালু হওয়ার পর একটা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও করতে চান। সেখানে কারিগরি শিক্ষার সাথে সাথে উৎপাদনমূলক ব্যবস্থাও থাকবে। হাফেজ, মাওলানা, শিক্ষিত অশিক্ষিত সবাই-এর কর্মসংস্থান হবে এবং এর আয় মাদ্রাসার একাউন্টে জমা হবে। এরকম একটা মহৎ কাজে ধনী-গরিব নির্বিশেষে আমাদের সাহায্য সহযোগিতা করা উচিত। আল্লাহ আমাকে যতটুকু তওফিক দিয়েছেন, তা থেকে দশ হাজার টাকা দেয়ার ওয়াদা করছি। এবার আপনারা বলুন, কে কত দেবেন? তার আগে বলে রাখি, এই হাফেজিয়া মাদ্রাসার কাছে যাদের জমি-জায়গা আছে, তাদেরকে অনুরোধ করব, টাকা দেন বা না দেন, আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জমি দেবেন।

মিটিং এর দিন ঠিক করার আগে চেয়ারম্যান আজরাফ হোসেনের সঙ্গে সবকিছু আলাপ আলোচনা করেছিলেন।

এখন চেয়ারম্যানের কথা শেষ হতে আজরাফ হোসেন দাঁড়িয়ে বললেন, এখানে আমার দশকাঠা জমি আছে। সেই দশ কাঠা জমি ও বিশ হাজার টাকা ইনশাআল্লাহ আমি দেব। তারপর বসে পড়লেন।

লোকজন মারহাবা মারহাবা বলে উঠল।

তিনি বসার পর হাফেজিয়া মাদ্রাসার সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার দাঁড়িয়ে বললেন, এখানে আমার দু’বিঘে জমি ছিল, তার এক বিঘে আগেই ওয়াকফ করে সেই জমিতেই হাফেজিয়া মাদ্রাসা করে দিয়েছি। বাকি এক বিঘে জমি ও দশ হাজার টাকা ইনশাআল্লাহ দেব।

লোকজন তাকেও মারহাবা মারহাবা বলে অভিনন্দন জানাল।

মুশতাক বিশ্বাস আর চুপ করে থাকতে পারলেন না, তাকে টেক্কা দিয়ে অন্যরা নাম কিনবে তা সহ্য করতে পারলেন না। দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, আমি নগদ পঁচিশ হাজার টাকা ও এখানকার পাঁচ বিঘে জমি নতুন মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করে দেব।

এবার লোকজন আরো উচ্চস্বরে মারহাবা মারহাবা বলে অভিনন্দন জানাল।

চেয়ারম্যান এটাই আশা করেছিলেন, আশা পূরণ হতে দেখে মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে আজরাফ স্যারকে দানের পরিমাণ ও তাদের নাম লিস্ট করতে বললেন।

মুশতাক বিশ্বাস বসার পর কুতুবপুর ও অন্যরা গ্রাম থেকে যারা এসেছিলেন, তারা তাদের সামর্থ্য অনুসারে নানান অংকের টাকা দেয়ার কথা বলে নাম লেখাল। শেষে হিসাব করে দেখা গেল। সাড়ে ছয় বিঘে জমি ও সোয়ালাখ টাকা হয়েছে।

চেয়ারম্যান জমি ও টাকার পরিমাণ জানিয়ে বললেন, এবার কমিটি গঠন করতে হবে। তবে কমিটিতে সদস্য হওয়ার জন্য ঐ লোক শর্ত আরোপ করেছেন। যেমন ধার্মিক ও দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। যদি তেমন লোক পাওয়া না যায়, তা হলে ধনী হোক আর গরিব হোক, গ্রামের লোকেরা যাকে ভালো বলে জানে, সে রকম লোক হলেও চলবে। তবে তাকে আস্তে ধীরে দ্বীনী এলেম হাসিল করতে হবে এবং সে সব মেনে চলারও চেষ্টা করতে হবে। এখানে বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন এসেছেন। আপনারা নিজেদের গ্রামের ভালো লোকদের মধ্যে দু’তিনজনের নাম লিখে আমাদের কাছে দিন। প্রায় ঘণ্টা খানেকের মধ্যে বাহান্নজনের নাম লিস্ট করা হল।

চেয়ারম্যান সাহেব বললেন, লিস্টে বাহান্নজনের নাম আছে। তারা ছাড়া সবাই চলে যান। বাহান্নজনের মধ্যে কারা কমিটিতে থাকবেন এবং কে কি পদ গ্রহণ করবেন, সেটা আলাপ আলোচনার মধ্যে ঠিক করা হবে। অবশ্য পরে। আপনাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে।

লোকজন চলে যাওয়ার পর চেয়ারম্যান বাহানুজনকে নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু করলেন। অন্যান্য গ্রাম থেকে মাত্র পাঁচজন কমিটিতে থাকতে রাজি হলেন। আর কুতুবপুর গ্রামের এগারটাপাড়া থেকে একজন করে নিয়ে মোট ষোলজনকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হল। কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যানকে সেক্রেটারি আজরাফ স্যারকে এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও মুশতাক বিশ্বাসকে সভাপতি ও বইরাপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার সেক্রেটারি আব্দুল জব্বারকে ক্যাসিয়ার করা হল।

সভা শেষ হওয়ার পর মুশতাক বিশ্বাস চেয়ারম্যানকে বললেন, যিনি এরকম একটা মহৎ কাজের জন্য দশ লাখ টাকা দিচ্ছেন, তার পরিচয়টা বলবেন না?

চেয়ারম্যান বললেন, উনি পরিচয় প্রকাশ করতে নিষেধ করে ওয়াদা করিয়েছেন। আপনারাই বলুন, ওয়াদা খেলাপ করা কী উচিত? তবে যেদিন মাদ্রাসার ভীত দেয়া হবে, সেদিন উনি থাকবেন বলেছেন।

আব্দুল জব্বার বললেন, বাড়ি কোথায় বলেন নি?

চেয়ারম্যান বললেন, ওঁর সম্পর্কে কোনো কিছুই বলতে নিষেধ করেছেন। তবে আলাপ করে বুঝতে পেরেছি, উনি খুব জ্ঞানী, দ্বীনদার ও ধনীলোক। দয়া করে আর কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।

এরপর আর কেউ কিছু না বলে বিদায় নিয়ে যে যার পথে রওয়ানা দিল।

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *