০২. কুঞ্জর মনের কথা

কিন্তু কুঞ্জর কি তাহলে মনের কথা বলবার কেউ নেই? সত্যিই কুঞ্জ নারীসম্পর্ক বর্জিত? তবে কুঞ্জ সুযোগ-সুবিধে পেলেই আমতা লাইনের কোন একটা গণ্ডগ্রামে যায় কেন? তা কুঞ্জ দাসকে জিগ্যেস করবে। কে? আমতা লাইনের ওই গ্রামটায় তোমার কি কাজ? এ কথা জিগ্যেস করতে গেলে তো চাকরি যাবে!

এই পালাদারদের যদি আসল বাস বলে কিছু থাকে তো কুঞ্জর আসল বাস কাটোয়ায়। সম্প্রতি এদিক ওদিক ঘুরে এসে, কিছুদিন আবার কাটোয়ায় স্থিতু হয়েছে কুঞ্জ। আর নতুন একটা নাটক লেখা চলেছে।

কোণের দিকের একখানা ঘরে কুঞ্জতে আর বিরুণেতে চলছে। নিভৃত পরামর্শ। হাতের কাছে কোনো বায়না নেই বলে ব্রজ আর বিপিন ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছে। বাসমতী গেছে তার গুরুপীঠ নবদ্বীপে। জগবন্ধুর এই কাটোয়াতেই বোনের বাড়ি, তাই এখানে যখন থাকা হয়, জগবন্ধু বোনের বাড়িতেই থাকে, খায়। কাজেই দল এখন হালকা, কাজকর্ম কম।

নিমাইয়ের হাতে কিছু টাকা ধরে দিয়েছে কুঞ্জ, বলেছে, তোতে আর সনাতনেতে পােলা করে দোকান বাজার করবি, নববালা রাঁধবে, ব্যস! কোনো যেন গণ্ডগোল শুনি না, দুবেলা যেন ঠিক সময়ে খাবার পাওয়া যায়। এই হচ্ছে আমার সাফ কথা। বেতিক্রম হলে কুরুক্ষেত্তর করব।

অতএব ঠিক মতো কাজ চলে। কারণ কুরুক্ষেত্তর করবার ক্ষমতা যে কুঞ্জর আছে, সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। যারা পড়ে আছে, তাদের তিন কুলে কেউ নেই বলেই তো পড়ে আছে।.তারা তো সন্ত্রস্ত থাকবেই।

তবে কুঞ্জ এবার মনের সুরটি বদলেছে। গলা নামিয়ে বরুণকে নির্দেশ দিচ্ছে, চাবুক-টাবুক। তো ঢের হল নাট্যকার, এবার একটা রোমান্টিক পালা লেখো দিকি।

রোমান্টিক! কুঞ্জর অভিলাষ! ভূতের মুখে রামনাম!

বরুণ অবাক হয়ে বলে, রোমান্টিক? হঠাৎ এ খেয়াল যে, মিস্টার দাস?

এই—এই আর একটি গুণের জন্যেও বরুণ কুঞ্জর প্রিয়পাত্ৰ। মিস্টার দাস ছাড়া কখনও আর কিছু বলে না বরুণ।

মিস্টার দাস। অতএব হৃষ্টচিত্তে বলেন, মাঝে মাঝে নতুনত্বের দরকার, বুঝলে? ভেবে ভেবে এটাই এখন ঠিক করেছি। আমি। ভবানী অপেরা মানেই জ্বলন্ত আগুন, এটাও ঠিক নয়, একটি ফুটন্ত গোলাপ দেবার ক্ষমতাও যে ভবানী অপেরা রাখে, সেটা দেখানো দরকার।

বরুণ স্বল্পভাষী, বরুণ স্বল্প হাসি-ও। সেই স্বল্প হাসিটুকু হেসে বরুণ বলে, কিন্তু আমার তো মনে হয় না সেটা দেখে লোকে খুশি হবে!

হবে না? বল কি নাট্যকার? তোমার লেখা নাটক, তাও যদি আবার রোমান্টিক হয়, লোকে তো লুফে নেবে।

আমার ওপর এত আস্থা রাখবেন না—বরুণ বলে,  লোকের ধর্ম যে কী তা বোঝা বড়ো শক্ত, মিস্টার দাস। লোক-চরিত্র স্বয়ং ভগবানেরও অজানা। ওযে কিসে। রুষ্ট, কিসে তুষ্ট! তবে একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি, কেউ যদি একটা কিছু বিশেষ জিনিস দিতে পারল আর লোকের ভালো লেগে গেল। তো লোকে তার কাছে কেবল সেইটাই চাইবে। যে লোক কমিক করছে, তাকে চিরদিনই ওই কমিকের ভাড়ামিই চালিয়ে যেতে হবে। একটা গভীর জিনিস কি সিরিয়াস জিনিস, কেউ নেবে। না তার কাছে। তেমনি আপনার এই ভবানী অপেরার কাছে লোকে অবিরত ওই চাবুকই চাইবে, মধুর কিছু দিতে যান, হয়তো ফোলিওর হতে হবে! লোকে বলবে, দুর—ভবানী অপেরা আর আগের মতো নেই।

কুঞ্জ সন্দেহের গলায় বলে, বাঃ, কেন তা বলবে? লোকে তো নতুনই চায়?

বরুণ হাসে, চায়! নতুনের কাছে চায়!

এ কথা তোমায় কে বলল বলত, নাট্যকার? বয়েস তো তোমরা এই বাছা, লোকচরিত্র এত দেখলে কোথায়?

দেখবার চোখ থাকলে, দেখতে বেশি সময় লাগে না, মিস্টার দাস!

হুঁ। তা বটে! নইলে এতগুলো আমন আগুন-আগুন নাটক লিখলেই বা কি করে? তবু আমার ভারী একটা সাধ হয়েছে, রোমান্টিক একটা লেখো তুমি! আজই শুরু করে দাও।

বরুণ হাসে, ভাবতে হবে না?

ভাবতো? আরে বাবা, রোমান্টিকের আবার ভাবাভাবির কী আছে? দুটো তরুণ তরুণী খাড়া করে, হয় তাদের—ওই তোমার গিয়ে কি বলে—পূর্বরাগ অনুরাগ ঘটিয়ে বিয়ে দিয়ে ছেড়ে দেবে, নয়তো অগ্ৰে মিলন, মধ্যে বিরহ, পরে আবার মিলন, এইভাবে ছক কেটে ফেলো-

বরুণ বলে, তাহলে পৌরাণিক কি ঐতিহাসিক কোনো চরিত্র নিয়ে কাজ করলেও হয়।

কুঞ্জ হাঁ হাঁ করে ওঠে—না না, ওসবে দরকার নেই। ওসব কি আর কেউ বাকি রেখেছে হে? পড়ে আছে পুরাণে ইতিহাসে, আবহমানকাল ধরে যে পারছে ধরছে আর চোরের মার মারছে। না না, তুমি বাপু কাল্পনিক চরিত্রই গড়ো।

বরুণ মৃদু হাসে। তারপর আস্তে বলে, কাল্পনিক চরিত্র মানেই সে আজকালকার জীবন? আজকের জীবনে রোমাস কোথায়, মিস্টার দাস?

কুঞ্জ অধিকারী মিস্টার দাসের মহিমা ভুলে চোখ গোল করে বলে ওঠে, নেই? রোমান্স নেই? তুমি যে তাজব করলে হে লেখক, আমি তো দেখি এটা রোমান্সেরই যুগ। এত রোমান্স যে, ঘরের দেওয়ালে আর আটক খাচ্ছে না, পথেঘাটে, হাটেবাজারে, মাঠেময়দানে রোমান্সের ছড়াছড়ি!

আপনি শহরের ফুটপাথের দোকানগুলো দেখেছেন, মিস্টার দাস?? মুক্তোর মালার ছড়াছড়ি!

কুঞ্জ দাস এক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে হঠাৎ ওহো হো-হো বলে বরুণের পিঠটা চাপড়ে দেয়। তারপর বলে, খুব উত্তরখানা দিয়েছ বটে…কিন্তু তুমি যাই বলো, আমি নিরুৎসাহ হচ্ছি না। আমার এবার বিশেষ বাসনা—

বরুণ হেসে বলে, তবে তো ভাবতে হয়।

ভাবো,-ভেবে প্লট ঠিক করে ফেল। আবার আসছি আমি, তুমি কতকটা খসড়া করো। তবে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, এই রোমান্টিকের মধ্যেও সমাজচিন্তা থাকবে। প্রেম করলাম বলেই যে বেহেড়া হয়ে প্রেম করব তা নয়।

কেন কে জানে বিরুণের হঠাৎ মেজাজ বদলে যায়। বরুণ হঠাৎ রুক্ষ গলায় বলে, হেড়ু বেহেড় জানি না, মিস্টার দাস, প্রেমের নাটক লেখা আমার দ্বারা হবে না।

কুঞ্জ দাস কি ক্রুদ্ধ হয়? না উৎফুল্ল? বোঝা যায় না। কারণ কুঞ্জ দাসের মুখটা গভীর দেখাচ্ছে, কিন্তু চোখটা যেন আলো-আলো। তা হয়তো বা রাগের আগুন। এবার হয়তো কুঞ্জ তার এতদিনের পুজ্যি লেখককে অসম্মান করে বসবে! কিন্তু চট করে তা করে না বুদ্ধিমান কুঞ্জ দাস। সে শুধু গভীরভাবে বলে, হবে না কেন, সেটা শুনতে পাই না?

হবে না। হবে না। এর আর কেনর কি আছে? বরুণ অবহেলার গলায় বলে—ওসব আমার হাতে আসবে না।

কুঞ্জ এবার একটু ঘনিষ্ঠ হয়, গলা নামিয়ে বলে, ব্যাপার কি বল তো নাট্যকার? কোথাও দোগা টাগা পাওনি তো?

বরুণ আরও অগ্রাহ্যের গলায় বলে, মাপ করবেন, স্যার! আমার কোনো অতীত ইতিহাস আবিষ্কার করতে বসবেন না। আপনাদের ওই লাভ ব্যাপারটাতেই আমার অশ্রদ্ধা! প্ৰেম বলে সত্যিই কিছু আছে নাকি? রাবিশ!

কুঞ্জ আলগা গলায় বলে, একেবারে রাবিশ?

আমার কাছে অন্ততঃ! ওসব শুনলেই আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। বিয়ে করা, ঘর সংসার কর, আপত্তির কিছু নেই। সেটা হচ্ছে লেনদেনের ব্যাপার। একটা চুক্তিপত্রের ব্যাপার। আমি তোমায় স্বামী সংসার দিলাম, সামাজিক পরিচয় দিলাম, তুমি আমায় স্ত্রী-পুত্র দিলে, রোগে-অসুখে দেখলে, চুকে গেল। তা নয় প্রেম, লাভ, মিলন, বিরহ। জগতে যা নেই, তাই নিয়ে কচকচি। এসব পালা লেখাতে হলে আমায় ছাড়ুন, মিস্টার দাস! বরুণ কলমটা কামড়াতে থাকে।

কুঞ্জ অধিকারী মানী লোক, তবু আশ্চর্য এতবড়ো অপমানেও আহত হয় না। বলে, চণ্টছ কেন নাট্যকার, চটছ কেন? ভাবলাম একটা নতুনত্ব করা যাক। যাকগে, দরকার নেই। ওই যে সেই কালোবাজারীদের নিয়ে কি একটা লিখবে বলছিলে—

বরুণ আত্মস্থ। বলে, আমি বলিনি, আপনি বলেছিলেন—

ও সে একই কথা! সেটাই করো।

কুঞ্জ দাস ওর ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। কিন্তু ব্যাজার মুখে নয়। কুঞ্জ দাসের মুখে বরং যেন একটা আশার দীপ্তি।

এই রকম মুখ দেখালেই কুঞ্জকে আমতা লাইনের সেই গ্রামের পথটায় হাঁটতে দেখা যায়। যখন যে নাটকটা নামায়, সেটায় হইচই পড়লে, নতুন মেডেল পেলে, বাবুদের দুকথা শোনাতে পারলে— কুঞ্জ ট্রেনের টিকিট কাটে। কুঞ্জ এক-আধবেলার জন্যে হাওয়া হয়ে যায়। আর কুঞ্জ হাওয়া হলেই দলসুদ্ধ সকলের পোয়া-বারো।

মায় কোমরে বেল্ট আঁটা লিলির পর্যন্ত। লিলি সেদিন খুকির খোলস ছেড়ে তরুণী হয়ে ওঠে। ফ্রকের ওপরেই যাত্রার সাজের একটা শাড়ি জড়ায়। আর নিমাইয়ের কাছে গিয়ে তার গা ঘেঁষে বলে, প্রোপ্ৰাইটার নেই বলে, খুব ভোজ লাগানো হচ্ছে, না?

নিমাই মুচকি হেসে বলে, তা হবে না কেন? তুইও তো সুযোগ পেয়ে হিরোইন সেজে বসে আছিস!..কী বলব লিলি, শাড়িতে আর ওই ঘাগীরাতে যেন আকাশ-পাতাল তফাত দেখায় তোকে।

লিলি তার সেই অবোধ শিশু চক্ষে এমন একটি কটাক্ষ করে, যা দেখতে পেলে রাগে কুঞ্জ। অধিকারীর বুক ধড়ফড় করে উঠত। আর হয়তো মেয়েটাকে ধরে চাবুক পেটাতে যেত।

কুঞ্জ তার পুষ্যি কন্যেকে খাটো ফ্রক আর আঁটো জ্যাকেট পরিয়ে খুকি করে রেখে নিশ্চিন্ত আছে। তবে কুঞ্জ মেয়েটাকে বাবা বলতে শেখায়নি, অদ্ভূত ওই ডাকটাতেই অভ্যস্ত লিলি : পোপাইটার।

ছেলেবেলার আধো উচ্চারণটাই রয়ে গেছে জিভে। তবু লিলি প্রায় বাপের চোখেই দেখে কুঞ্জকে। তাই কুঞ্জ যখন স্টেশনে যাবার জন্যে প্রস্তুত হতে থাকে, লিলি গিয়ে আদুরে গলায় বলে, আমায় নিয়ে যাওয়া হয় না একবারও। এ্যাঁ। আমি যেন মানুষ নই! লিলিকে তখন শিশুর মতো দেখতে লাগে। কুঞ্জ তাই নিশ্চিন্ত।

নিশ্চিন্ত কুঞ্জ বলে, মানুষ আবার কিরে? মানুষ কাকে বলে? বাছুরকে কি গরু বলে? ব্যাঙাচিকে ব্যাং? বলি ডাবকে কি নারকেল বলে? এচিড়কে কাঁঠাল? মানুষ হবার বয়েস হবে, তবে তো মানুষ হবি?…তা, এখন আমি বেরোচ্ছি—নিমাইদের সঙ্গে ঝগড়া বাধাবি না, বুঝলি? আর নববালার সঙ্গে সঙ্গে থাকিবি।

লিলি মাথা নেড়ে ঝঙ্কার দেয়, তোমার আদরের নিমাই যা ঝগড়াকুটে! ওই তো ঝগড়া বাধায়। আমাকে তুই বলে, আহ্রদী বলে। আমরা রাগ হয় না?

কুঞ্জ মৃদু হাসির সঙ্গে বলে, ভালো তো কোনোটাই নয়। সনা, জগা, সব কটাই তো পাজীর পাঝাড়া।

লিলি একগাল হাসির সঙ্গে বলে, যা বলেছ! ছোটোলোক এক একটা!

কুঞ্জর এ সময় মেজাজ শরীফ। স্টেশনে যাবার সময় কুঞ্জকে বাসমতী নববালার সঙ্গেও হেসে কথা কইতে দেখা যায়। লিলির সঙ্গে কইবে সে আর আশ্চর্য কি! হেসে উঠে বলে, তা একটা ভদরলোক তো আছে। ভদরের মতোন ভাদর, তার কাছে বসে থাকলেই পারিস। তোকে আর তাহলে জ্বালাতে আসবে না। ওরা।

লিলি মুখ ঘুরিয়ে বলে, সে ভদ্রলোকটা আবার কে গো, পোপাইটার?

কেন, বরুণ? যাকে বলে ভদ্দর!

লিলি ঠোঁট ওল্টায়। বরুণ? লেখকবাবু? সে যা দেমাকী! কথাই কয় না। আমার সঙ্গে!

কুঞ্জ সহসা কৌতূহলী হয়, কথাই কয় না তোর সঙ্গে?

মোটে না। লিলি ঝঙ্কার দেয়, কী লিখছে একটু দেখতে গেলে এ্যাইসা খিচোয়! বলে, পালা, পালা বলছি। কাজের সময় গোলমাল করতে আসসনি।–তোমার দলের কেউ ভালো নয়।।

কুঞ্জ বলে, তুই তো ভালো, তাহলেই হল। বলে ওর হাতে দু-একটা টাকা গুঁজে দিয়ে হাসিহাসি ভাবটাকে চাপা দিতে দিতে বেরিয়ে যায়।

 

যাক এখন দশ-বারো ঘণ্টার জন্যে নিশ্চিন্দি—এঘরে এসে পা ছড়িয়ে বসে লিলি। চোখ মুখের ভঙ্গি করে হাতের টাকা নাচাতে নাচাতে বলে, এই দেখো, নিমাইদা!

নিমাই ব্যাজার মুখে বলে, দেখে কি করব? বেল পাকলে কাকের কি? রাজা ধন বিলোচ্ছেন কোথায়? না অন্তঃপুরে। কুড়োচ্ছেন কে? রাজকন্যে। এই তো?

লিলি টাকা নিয়ে লোফালুফি করতে করতে বলে, আমি তো রেল ভাড়া জমাচ্ছি।

রেল ভাড়ার দরকার কি? নিমাই বলে, এবার তো নাটক দেখাতে কলকাতায় যাওয়াই হচ্ছে। নাটকের লড়াই হবে, কারটা ফাস্ট হয়! যেমন হয়। গেলে তো দলবল সবাই যাব।।…আর কলকাতার শহরে একবার হারিয়ে গেলে খুঁজে বার করে কার সাধ্য!

পালাটা কি?

তা জানিনে! কোনটি বাছবে কে জানে। মোট কথা যাওয়া হবে। বরুণবাবু তো আবার পালা লিখছে!

বরুণবাবু! লিলি মুখটা বাঁকায়, যা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আমায়! দেখলে গা জ্বলে যায়।

নিমাই হাসে, গা জুললে আর কি হবে, কর্তা তো ওকে জামাই করবে ঠিক করেছে।

ঠিক করেছে! লিলি পনেরো বছরের মুখে পঁচিশ বছরের ভঙ্গি করে বলে, ঠিক করলেই হল? আমার দায় পড়েছে।

কর্তা জোর করলে কী করবি?

আহা রে! কী করব যেন জানেন না! চওড়া জরির কোমরবন্ধটার ওপর হাত রেখে ঘাড় বেঁকিয়ে দাঁড়ায় লিলি, এখন আবার ন্যাক সাজছ যে?

গোল ঘর, লাঙল তুলে ধরা। কর্তা বেরিয়েছে, আর ফষ্টিনষ্টি হচ্ছে, কেমন?

খাটো স্কার্ট আর আঁটো জ্যাকেটের মধ্যে থেকে ফোঁস করে ওঠে, তোমার খেয়ে ফষ্টিনষ্টি করছি। তুমি বলবার কে?

ওমা! মেয়ে দেখ! যেন ফণা ধরা ফণিনী! নববালা গমগম করে চলে যায়।

কুঞ্জর অনুপস্থিতিতে দলের চেহারাটা অনেকটা এ রকমই। এখন তবু সবাই নেই, থাকলে দেখবার মতো। তবু মাঝে মাঝে কুঞ্জ অনুপস্থিত হবেই।

কুঞ্জ সেই একটা নামহীন পরিচয়হীন গণ্ডগ্রামে পৌঁছে, তার মাঠের মাঝখান দিয়ে পুকুর ধার দিয়ে সরু একটা পায়ে চলার পথ ধরে গিয়ে উঠবে একখানা জরাজীর্ণ একতলা বাড়ির সামনে। উঠোনের বেড়ার দরজাটার বাঁধন দড়িটা খুলে উঠোনের মাঝখানে এসে দাঁড়াবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *