০১. ইলিয়াড – প্রথম অধ্যায়

ইলিয়াড
১ম অধ্যায়

ইক্লিসের ক্রোধ দেবি কর গো প্রচার।
যে কারণে গ্রীকগণে বিপদ অপার।।
অকালে যতেক বীর প্রধান প্রধান।
যমালয়ে গেল তারা ত্যাজিয়া পরাণ।।
সমুদ্রের তটে অঙ্গ পড়িয়া রহিল।
কুক্কুর শকুনি আসি ভক্ষণ করিল।।
এক্লিস এট্রাইডিস করিল যে দ্বন্দ্ব।
সকলি ঈশ্বর ইচ্ছা বিবির নির্ব্বন্ধ।।
কি কুক্ষণে কোন দেব কুপিত হইয়া।
বিবাদ ঘটাল দেবি কহ বিবরিয়া।।১০
মারিভয় করিলেক লোটোনা সন্তান।
শিবিরেতে শব রাশি পর্ব্বত সমান।।
পূজ্য পুরোহিতে নৃপ অবজ্ঞা করিল।
রাজার দোষেতে ধ্বংস প্রজারা হইল।।
কৃসেস লইল সঙ্গে বহুমূল্য ধন।
জয়ি রুদ্ধ নিজ সুতা উদ্ধার কারণ।।
তদর্থে দাঁড়াল আসি পিতা মান্যবর।
আপলো ভীষণ চিহ্নে সুশোভিত কর।।
প্রার্থিলেক ভেট দিয়া নত হয়ে কায়।
কিরীট কনক দণ্ড রাখিল তথায়।।২০
সাধে সবাকারে কিন্তু বিশেষ বিনয়ে।
এট্রিয়স কুলোদ্ভব ভ্রাতৃ নৃপদ্বয়ে।।
শুন নৃপ যোদ্ধাগণ বাঞ্ছা হবে পূর্ণ।
সমভূমি হবে ট্রয় দর্প হলে চূর্ণ।।
শ্রম অবসান হৈলে ঈশ্বর কৃপায়।
কুতূহলে নিজালিয়ে যাবে পুনরায়।।
কৃসেইস সুতা মোরে করিয়া অর্পণ।
অভাগ্য পিতার দুঃখ কর নিবারণ।।
কৃপাভাবে ভেট লয়ে হও হে সদয়।
জোব সুত আক্রোশী ফীবসে কর ভয়।।৩০
সম্মত হইল সবে জয়ধ্বনি করি।
ঋত্তিকের মান রাখি ছাড়িতে সুন্দরী।।
কিন্তু রাজা অহঙ্কারে উম্মত হইয়া।
কটুবাক্য কহি তাঁরে দিল তাড়াইয়া।।
রণ হৈতে প্রাণ লয়ে কর পলায়ন।
না করিও স্পর্দ্ধা এত লৈতে নৃপধন।।
মুকুট কন দণ্ড রাখহ অন্তর।
তব দেহ চিহ্নে এর না কর নির্ভর।।
তব সুতা মম বস্তু মম সঙ্গে রবে।
নিবেদন রোদন তোষণ বৃথা হবে।।৪০
যৌবন লাবণ্য তার না রবে যখন।
বিতৃষ্ণা হইবে নাহি করিব গ্রহণ।।
প্রত্যহ কাটিতে তন্তু নিযুক্ত হইবে।
যে শয্যা করিত ভোগ তাহা সাজাইবে।।
অবশেষে আরগসে প্রেরিত হইবে।
জন্মভূমি ক্ষুব্ধ পিতা দূরেতে রহিবে।।
পুরোহিত সুতাশোকে হইয়া কাতর।
চলিল সিন্ধুর তীরে কাঁপি থর থর।।
নীরবে ভ্রময়ে তথা হইয়া নিরাশ।
সাহস না পূরে তার করিতে আর্দ্দাশ।।৫০
দূরে থাকি স্বীয় দেবে করে আরাধন।
অননী ব্যাপিয়া আছে যাঁহার কিরণ।।
ওগো সিন্থিয়স্‌ তুমি লেটোনা নন্দন।
পুণ্য ভূমি সিলা তুমি করগো রক্ষণ।।
টেনেডস লোকে পূজ্য প্রভাকর তুমি।
উজ্জ্বল করেছ বিদ্যমানে কৃষাভূমি।।
যদি তবালয়ে দিয়া থাকু পুষ্পহার।
উক্ষমেদে করে থাকি আহুতি তোমার।।
রজত ধনুকধারি ক্ষেপ তপ বাণ।
নিবার দাসের খেদ বধি গ্রীকপ্রাণ।।৬০
কৃসেসের স্তবে দেব ভকতবৎসল।
ওলিস্পস শৃঙ্গ হৈতে আইল ভূতল।।
নমিত ধনুক গ্রীক করিতে নিধন।
অঙ্গ আস্ফালনে হৈল বাণের নিঃস্বন।।
প্রতিফল দিতে নিশি সহসা করিল।
ঘোর অন্ধকার মধ্যে আপনি রহিল।।
তরিগণ হেরি দিল ধনুকে টঙ্কার।
ছুটিলেক বাণ গ্রীক করিতে সংহার।।
অগ্রে অশ্বতর শ্বান হইল নিপাত।
অবশেষে মানবেরে করিল আঘাত।।
নব কালরাত্রে ভয়ঙ্কর চিতানল।
আচ্ছন্ন করিল ধূমে গগণমণ্ডল।।
দশম দিবস নাহি হৈতে অবসান।
জুনোর আদেশ পায়ে থিটিস সন্তান।।
আহ্বান করিল গ্রীক করিতে যুকতি।
যেহেতু বীরের ধ্বংসে জুনে ক্ষুব্ধ অতি।।
যখন সকল জন সভাস্থ হইল।
এক্লিস উঠিয়া নরপতিরে কহিল।।
কোন কাল্‌ ট্রয় হৈতে না করি প্রস্থান।
কি জন্য না ফিরে যাই লয়ে সিন্ধুযান।।৮০
সমরে বাঁচিল যারা ধ্বংস মারিভয়ে।
কিঞ্চিৎ যা আছে রক্ষা কর এ সময়ে।।

(অসম্পূর্ণ)

 

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *