ভালবাসার অনেক নাম

ভালবাসার অনেক নাম

কডলিভার তেল মেখে মুড়ি খাওয়াটাকে আমি ভালবাসার বদনাম দিতে চাইনে, কিন্তু তাই একবার খেতে হয়েছিল মেয়েটার জন্যে আমায়।

কিছুতেই শরীর সারছিল না জবার, ডাক্তার ব্যবস্থা করলেন কডলিভারের। কিন্তু তাই কি খাবার পাত্রী সে! বলে যে, কী বিচ্ছিরি গন্ধ বাবা! ভাত খাবার পরে খাবার জিনিস নয় ও। তিন চামচ কেন, ওর এক চামচ মুখে তুললেও, তক্ষুনি তক্ষুনি ভাত-টাত সব বমি হয়ে উঠে আসবে। এমনকি, অন্নপ্রাশনের ভাত অব্দি।

শোন কথা! খাওয়ার আগে খেতে কি কোন বাধা আছে? তাহলেও তো হয়? তাহলে নাকি ওর খাওয়ার রুচিই চলে যাবে একদম।

তাহলে স শবীর সারবে কী করে!

এগুতে হলো তখন আমাকেই—নিয়ে আয় তোর কডলিভার। কেমন খেতে খারাপ দেখি তো! আমি যেন কখনো কডলিভার খাইনি আর! কডলিভার না খেয়েই যেন আমার এই শরীর হয়েছে—এমন হৃষ্ট-পুষ্ট মেদধী বপু কি অমনিই হলো নাকি আমার?

কডলিভার খেয়ে তুমি পুষ্ট হয়েছ একথা মানতে আমি রাজি আছি, কিন্তু হৃষ্ট তুমি কখনই হওনি, আমি দিব্যি-গেলে বলতে পারি দাদা? জবা বলে।

হৃষ্ট হইনি? এখুনি তোর সামনে হৃষ্ট হয়ে খাব,

আমি বললাম, কিন্তু তোকেও খেতে হবে তার পরে।

আচ্ছা, আগে খাও তো তুমি দেখি। বমি না করে খাও দেখি একটি চামচ একবার।

এল কডলিভাব।

আমি বললাম, কডলিভার কি আর শুধু শুধু খায় রে! কিছুর সঙ্গে খেতে হয়, নয় কিছু খাবার আগে বা পরে। বাড়িতে ভালমন্দ খাবার কী আছে নিয়ে আয়।

মুড়ি আছে। খাবে? সে বলে, রান্নাঘর থেকে ভাত নিয়ে আসব নাকি?

আরে ভাত হলে তো ভালই হয়। ইলিশমাছের তেল দিয়ে ভাত খেতে যেমন খাসা লাগে, কডলিভার দিয়ে মেখে খেতে তার চেয়ে কিছু কম উপাদেয় নয়। ও তো মাছের তেলই বটে রে, সামুদ্রিক মাছের। তবে এখন মুড়ি দিয়েই একটু জলযোগ করা যাক নাহয়।

কডলিভার মাখা মুড়ি তারিয়ে তারিয়ে খেতে লাগলাম আমি। বললাম-আরেক চামচ ঢেলে দে মুড়ির ওপর। আহা, খেতে কী ভালই না লাগছে রে! যেন আচারের তেল মেখে মুড়ি খাচ্ছি, ভাই!

দাও তে আমায় একগাল, চেখে দেখি। জবা হাত বাড়ায়। গালে দিয়ে বলে—না, ততটা খারাপ নয় তেমন।

ভাল লাগছে তো? বলেছিলাম না? দুদিন খা-না, তারপর দেখবি ঠিক নলেন গুড়ের মতই মনে হচ্ছে তোর। আমি মাকে লুকিয়ে চুরি করে কডলিভার খেতাম রে…দাঁড়া, কে যেন ডাকল না আমায়? তুই খেতে থাক, দেখে আসি কে ডাকছে আমাকে…

বলে এক ছুটে বাইরে গিয়ে বমি করে উদ্ধার পাই।

সৌভাগ্য কি দুর্ভাগ্য জানিনে, আমার সাত মাসির সৌজন্যে, জীবন আমার বনে। বনে অরণ্য এই অরণ্যবৃহ থেকে এ জীবনে বেরুতে পারব সে ভরসা আমার নেই। না থাক, তার জন্য কোন খেদ নেই আমার। বনের বাইরে যে ব্যক্তি কখনো উঁকি দেবার ফাঁক পায়নি, তার জীবনও নিছক ফাঁকি নয়, তার জন্য বনের মধ্যেই লাবণ্য; প্রকৃতির বদান্যতায় তার নিমিত্ত বনান্তরালেই বিচিত্র ফলফুল; বসন্তের সমারোহ। ঊষর মরুভূমির বাসিন্দার জন্যেও মরীচিকাই নয় কেবল, ওয়েসিসও রয়ে গেছে। পাহাড়ের শুষ্ক কাঠিন্য ভেদ করে ঝর্ণাধারা উৎসারিত হয়, কার জন্যে, কে জানে!

সব ভালবাসায়ই সমান যন্ত্রণা। সব টানের একই পোড়ানি, টানাপোড়েনে সব মেহই সমান। কডলিভার তেলের মতই আঁশটে।

এমন কি, একদার প্রীতি যখন এক সময়ে স্মৃতিতে এসে পর্যবসিত হয় তখনো বুঝি মনের কোণে ধূপের মতই তা পুড়তে থাকে। অনুক্ষণকে সুরভিত করে রাখে পুড়ন্তকে।, আর, সেই জন্যেই ভুলে গিয়েও বুঝি ভোলা যায় না।-ভুলে থাকলেও ভোলানাথের ঝুলির মধ্যে থেকে যায়। হারিয়ে গিয়ে ফিরে ফিরে আসে ফের আবার।

তাই এখনো আমার মনে পড়ে, পূজোর সময়টায় বেশি বেশি আরো, মনের জুতোয় সেই পুরনো কাঁটাটা বেরয় যেন, এতদিনের এত তালি পড়ার পরও তলায়নি সেটা দেখা যায়, চলতে ফিরতেই কোথায় যেন খচ খচ করে।

সেবার পূজোর মুখে ওদের বাড়ি যেতেই ইতু বলে উঠল—জান শিব্রামদা, এবার আমরা মজা করে মোটরে চড়ে ঘুরে ঘুরে কলকাতার যত পূজো দেখব, মামাদের সঙ্গে বেরুব এবার, জান?।

তাই নাকি রে? আমি বললাম। বলতে বলতে একটা উজ্জ্বল মুখকে নিতে যেতে দেখা গেল সামনের আয়নায়। আমার নিজের। জবাদি আর তোমার সঙ্গে ট্যাং ট্যাং করে ঘুরবে না এবার। পুতুল জানায়, তুমি যে ওকে ল্যাজে বেঁধে নিয়ে কলকাতায় চষে বেড়াবে সেটি হচ্ছে না।

কে বললে? মোটেই আমি ওকে ল্যাজে বেঁধে নিয়ে ঘুরিনে। কথাটা যেন জবার পক্ষে মানহানিকর মনে হয় আমার কাছে, তাই আমি প্রতিবাদে সোচ্চার—বরং বলা রায়, আমিই ওর ল্যাজে বাঁধা হয়ে ঘুরে থাকি।

আমার,লেজস্বিতার বিপক্ষেই আমার ভোট।

ওই হলো। বলল পুতুল, তোমার লেজের প্রিভিলেজ জবা আর নেবে না এবার। তোমাকেও আর ওর লেজুড় হতে হবে না। এবার সবাই আমরা মজা করে আমাদের মোটরে চড়ে সার্বজনীনে সার্বজনীনে পূজো দেখে দেখে বেড়াব কেমন!

আহা! মোটরে বেড়াতে যে কী মজা! এই উঠলাম আর এই দুম করে পৌঁছে গেলাম—দেখতে না দেখতেই। দেখবার কত কী থেকে যায় কিছুই তার দেখা হয় না।

কলকাতার রাস্তায় দেখবার কী আছে ছাই! ঠোঁট ওলটায় ইতু, খালি ভিড় আর ভিড়!

আরে, সেই ভিড়েব গতীরেই তো যত মণিব খনি! যত রমণীয় মণি। সুন্দর মেয়েরা তো কলকাতার পথেই পড়ে আছে রে! রাস্তায়ই তাদের পাওয়া যায়। দেখতে দেখতে যাও আর দেখতে না দেখতেই হারাও। বলে আমার দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলি।

মেয়েদের আবার দেখবার কী আছে? পুতুলের প্রশ্ন।

তা বটে! তোদের দেখবার কী আছে আর! কিন্তু বলেছে না, যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই…বলেছে না কথায়? পেলেও পাইতে পার লুকানো রতন। মেয়েদের আশে-পাশেই ছেলেদেব পাবি—তাঁরা তো তোদের দেখবার বটে! কত সুন্দর সুন্দর ছেলে-তারাও ঐ পথেঘাটেই ছড়ানো। তাদের দেখতে পারিস।

বলে আমি পুনশ্চ যোগ করি-–তবে ছেলেদের মধ্যে তোরা যে কী দেখিস তা তোরাই জানিস। আমি তো ভাই ওদের ভেতর দেখবাব কিছু পাইনে। তোরা আবার তাদের দেখেই ভুলে যাস না কি—কে বলে?

তোমাকে বলেছে! পুতুলচন্দর ঠোঁট ওলটায় তার : ছেলে দেখতে বয়েই গেছে আমাদের।

আমাদের দেখতে হয় বাধ্য হযে। না-দেখে উপায় কী! পৃথিবীর আদ্ধেক মেয়ে হলেও, দুনিয়ার আর সব চীজের মতই মেয়ের মধ্যেও ভ্যাজাল। ঐ ছেলের ভ্যাজাল। পৃথিবীর অদ্ধেকটাই ভ্যাজাল বলতে গেলে। কিন্তু উপায় নেই, তাই পিতৃরূপে ভ্রাতৃরূপে আগলে রয়েছে মেয়েদের-দারোয়ানকে খুশি না করলে বাড়ির ভেতরে ঢোকার যো কী? আম খেতে হলে আঁঠিসমমতই নিতে হবে, তবে খাবার সময় আঁঠি বাদ দিয়ে খাও। তখন আর আঁঠিটি না দেখালেও চলে। দেওয়ানী আমে গিয়ে পৌঁছলে পর তখন আর আঁঠির দেওয়ানী করার দরকার করে না। যেমন…

একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে গিয়ে আমি থেমে যাই। .

যেমন? পুতুল থামে না।

যেমন, প্রথমে তো তোদের দাদার সঙ্গেই ভাব জমেছিল আমার। তাই গোরার সঙ্গেই বেড়াতাম গোড়ায়। তখন তোরা সব এই টুকুন টুকুন ছিলিস্। মিশবার মতন হসনি তখন। কিন্তু তারপরে তো…জবার সঙ্গেই ঘুরি এখন।

তোমার সঙ্গে টই টই করে ঘুরে আবার গায়ে গত্তি লাগল না ভাই! আক্ষেপ করে পুতুল।

ঘুরে ঘুরে আমরা কত কী খাই। খাই না রে জবা? চীনেবাদাম চানাচুর ঘুঘনিদানা আলুকাবলি ফুচকা–কত কী। কাজুবাদামও কখনো-সখনো। এক পা যাও, একটুখানি ধাও। পকেটে পয়সা থাকলে সন্দেশ-রসগোল্লাও।

রাস্তায় আবার খায় নাকি মানুষ? ইতু কটাক্ষ করে।

রাস্তাতেই তো খাওয়ার বেশি মজা রে। এমন কি, যে জিনিস মানুষ স্থির হয়ে খায় আর খেলে স্থির হয়ে যায় তাও রাস্তায়, চলতে চলতে খেলে, আরো বেশি মিষ্টি লাগে, তা জানিস? আমি জানাইঃ যেতে যেতে খাও আর খেতে খেতে যাও।

অতো লোকের চোখের ওপর? ইতুর চোখ বড় বড় হয়।

লোক কোথায় রে! ভিড় তো! ভিড়ের মধ্যে কারো কি কোন দিকে নজর দেবার যুরসত আহে? কেউ কারো দিকে তাকায়ও না। জনারণ্যের মতন নির্জন জায়গা নেই আর। আমি জানাই, পাবার যা কিছু ঐখানেই পাবে। খাবার যা কিছু ঐখানেই খাবে। আবার হারাবার যা কিছু হারাবে ঐখানেই। ঐ জনতার মধ্যেই।

আমরাও খাব গো। খালি মোটরে করেই যাব না। মামারাও খাওয়াবে আমাদের। গ্রাণ্ডে,—চাংগোয়ায়, কফি হাউসে কলকাতার নামজাদা যতো বড় বড় রেস্তরাঁয়। তোমার মতন চার পয়সার চানাচুর নয়—চপ কাটলেট ফিশফ্রাই কত কী খাব আমরা মজা করে কেমন!

তোদের খালি খাই খাই। খাওয়া আর খাওয়া। খাওয়াটাই কি জীবনের সব নাকি? দেখাটা কিছু না? অবশ্যি, নানারকম চেখে দেখা যে মন্দ, এমন কথা আমি বলিনে, কিন্তু নানাবিধ চোখে দেখাটা? বললাম না যে পৃথিবীতে আমাদের আধাআধি বখরা-আদ্ধেক ছেলে আর আদ্ধেক মেয়ে। ছেলেগুলো সব তোদের জন্যে…বললাম না?

তোমার যেমন মেয়ে দেখবার ঝোঁক, আমাদের তত হেলে দেখার শখ নেই। সত্যি বলতে, রাস্তায় বেরুলে ছেলেদের দিকে তাকাইওনে বড় আমরা। মেয়েদেরকেই দেখি—আমরাও। তোমার চোখ নেইকো, তাই তোমার নজরে পড়ে না।

মেয়ে দেখিস! তোরা তো মেয়েদের শাড়িটাই দেখিস খালি। কে কী রকম শাড়ি পরেহে, কেমন করে পরেছে…এই সব তো দেখিস। আর আমরা দেখি শুধু মেয়েদের…তার শাড়ি-টাড়ি সব বাদ দিয়ে…আমাদের স্বভাবসিদ্ধ দিব্যদৃষ্টির সাহায্যে।

আর তোমরা বুঝি শাড়ি দ্যাখো না? চলে নীল শাড়ি নিঙাড়ি নিঙাড়ি…কে বলেছিল গো? চণ্ডীদাস, না, কোন চণ্ডীদাসী?

আরে, আমিও জে সেই কথাই বলছি রে। আমারও সেই কথা, তবে একটু অন্য বানানে…আহা, চলে nil শাড়ি নিঙাড়ি নিঙাড়ি পরাণ সহিত মোর…আহা!…

মুখের আহাকার দিয়ে মনের হাহাকার চেপে চলে এলাম, আর গেলাম না ওদের বাড়ি…পূজোর সময়টায় গেলাম না আর।

কী হবে গিয়ে? জবা কেমন তার বোনদের সঙ্গে মজা করে মামাদের মোটরে ঘুরে পূজো দেখে বেড়াচ্ছে…কত কী খাচ্ছে নামজেয়াদা যত রেস্তোরাঁয়…কী হবে তাকে সেই সুখের থেকে ছিনিয়ে কলকাতার পথে পথে আমার মতন হতভাগার সঙ্গে ট্যাং ট্যাং করে ঘুরিয়ে? গেলে হয়ত আসত…তেমন প্রতিবাদ করার স্বভাব নয় জবার, মুখ বুজে চলে আসত আমার সঙ্গে…কখনো কোন কথায় না বলে না…আহা, বেচারীর জন্যে আমার মায়া করে।

বাসা ফাঁকা, সবাই যে যার বাড়ি চলে গেছে পূজোর ছুটিতে। আমার তো আর বাড়ি-ঘর-দোর নেই, যাব কোথায়? সারা বাসায় একলাটি আমি। খোলা বারান্দায় ডেক-চেয়ারে শূন্য আকাশের দিকে চেয়ে চেয়ে কাটিয়ে দিলাম পূজোর কদিন।।

আমিও আর বেরুলাম না কোথাও। কোথায় যাব? রাস্তায় সুন্দর সুন্দর মেয়েরা আছে জানি, কিন্তু তারা তো বিলকুল কিছু না, সুন্দর সুন্দর শূন্য কেবল। যে একজন পাশে থাকলে তারা সত্যিকা সুন্দর হয়ে ওঠে, দেখবার মতন হয়, সেই একটিই তো আমার পাশে নেই। সেই একা থাকলেই তবেই না পৃথিবী সুন্দর…পৃথিবীর সবকিছু সুন্দর? সেই একটি পাশে থাকলেই তবেই না এইসব শূন্যের মূল্য বেড়ে যায়…দশগুণ…একশগুণ…হাজারগুণ?

অসহ্য ভিড় রাস্তায়। আর কী দারুণ হট্টগোল। তবে হ্যাঁ, সেই একজন পাশে থাকলে এই অসহনীয় ভিড়ও গভীর আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে। ভিড়ের ভেতর তাকে জড়িয়ে, আগলে নিয়ে যাবার সুযোগে চারধারের চাপে জর্জর হতে ভালই লাগে আরো বরং। সঙ্গীর মত সঙ্গী থাকলে সেই নিদারুণ সঙ্গীন অবস্থাও সঙ্গীতের মতই হয়ে ওঠে সত্যি।

সেই একজনের আলোতেই সব কিছু দেখা যায়…সমস্ত দর্শনীয় হয়ে ওঠে…সে-ই তো আলো। কিন্তু সে কোথায়?

পূজোর পবে বিজয়ার মিষ্টি কুড়োতে বেরুলাম। বিজয়ার পর দিগ্বিদিক-বিজয়ে।

প্রথমেই গেলাম ওদের বাড়ি।

দোরগোড়াতেইতুর সঙ্গে দেখা হতেই শুধালাম—কী রে! কী রকম কাটালি পূজোটা? ভারী মজায় কেটেছে শিব্রামদা। আজ এ মামার গাড়িতে কাল সে মামার গাড়িতে…কিন্তু এ-কদিনই তুমি এলে না কেন বল তো? দিদি পূজোর কদিন একদম বেরোয়নি, বাড়ির থেকে…কখন তুমি আসবে বলে বাড়িতে বসে ছিল সারাক্ষণ।

তাই নাকি রে জবা?

জবা কিছু বলল না, একটুখানি হাসল কেবল।

ওই চোখ আর অমন হাসি আর কোন মেয়ের আমি দেখিনি আমার জীবনে।

শেয়ার বা বুকমার্ক করে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *