দু’জনের কাছে ঋণ

দু‘জনের কাছে ঋণ একজনের কাছে কিছু ক্ষমা ভিক্ষা আছে, আরেকজনের কাছে প্ৰতিশোধ তোমরা দুজন আজ কোথায় রয়েছো? দুই ঋণ আমি দু’জনের কাছে ঋণী আমি ক্ষমা চাইবো, আমি ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ নেবো। নতজানু হয়ে বসবো বহু অশ্রুজলে, মাটির মায়ায় দুই হাত কপালের থেকে কিছু রক্তবিন্দু, ক্ষমা করো,...

দাঁতের ব্যথায় ভুগছেন একজন দার্শনিক

দাঁতের ব্যথায় ভুগছেন একজন দার্শনিক যেন তিনটে শীত ঋতু জমলো তাঁর দাঁতের গোড়ায় আহা উহু ছাড়া অন্য কথাগুলি অর্ধেক সোচ্চার পঞ্চাশোর্ধ্ব দার্শনিক লম্বমান করুণ শয্যায় শিয়রের জানলা খোলা, গৃহভৃত্যগুলি সব বেক্লিক নচ্ছার। সারাদিন লোক আসছে, সম্পাদক, অধ্যাপক, আমি, কিছু উচ্চিংড়ের...

অচেনা

অচেনা তোমার হাতে গোলাপ, তুমি ফুলের কাছে ঋণী রইলে… তোমার হাতে গোলাপ, তুমি ফুলের কাছে ঋণী রইলে… বাসের অমন ভিড়ের মধ্যে মেয়েটা আমাকে এক লাইন কবিতা দিয়ে হঠাৎ নম্র-নেত্রপাতে বেলগাছিয়ায় নেমে গোল রক্ত গোলাপ হাতে বাকিটা পথ রইলো শুধু ঘামের গন্ধ, ব্রিজের ধুলো তোমার...

নারী ও নগরী

নারী ও নগরী ওকে ডাকো, ডেকে বলে ও যেন অমন ঘুমঘোর না দেখায় খোলা বুকে, গলিপথ বা নিয়ন আলোকে এমন ঘুমের মধ্যে নিমন্ত্রণ কেন? যদিও কলকাতা ঘুম জানে না তবু সে কি স্ত্রীলোকের কাছে গিয়ে ঘুম শিখবে ঘুঙুর ও তবলার সঙ্গতে? প্ৰণয় ও রান্না ছাড়া বাকি সব স্ত্রীলোকেরা জানে সেও বড় কাঁচা...

এই হাত ছুঁয়েছিল

এই হাত ছুঁয়েছিল আহা রে সোনার মূর্তিও কি অবিরল ঝরে যাবে রাত্তিরে , রোদ্দুরে, বৃষ্টিপাতে পরপুরুষের হাতে স্তনবৃন্ত দুটি কোন খোলা সুইচ? ছুঁয়ে দিলে হাত কেঁপে ওঠে এই হাত ছুঁয়েছিল বহু কৃমি, বুকে বাঁধা পাশবালিশ, রক্ত, যেন রক্তের লালায় লোভহীন ডুবে মরা, এই হাত ছুঁয়েছিল অশ্রুহীন...

হাওয়া এসে

হাওয়া এসে নারী শুধু মুখ লুকোবার জন্য, যখন ঝর্ণায় দেখি মুখ তখন নারীর কথা মনে পড়ে, হাওয়ায় কার্পাস ফুল ভেসে যায়; হলুদ আঁচল মাখা যুবতীর পাশে বসে দেখি ঐ কার্পাসের ওড়াওড়ি। নদীর সম্মুখ ঢেকে গেছে কুয়াশায়, শোনা যায় বন্যা-রোধ কামানের তুড়ি আঁচল সরিয়ে রাখি বুকে ঠাণ্ডা মুখ–...

বহুদিন পর প্রেমের কবিতা

বহুদিন পর প্রেমের কবিতা বুকের ভিতরে যেন মুচড়ে উঠলো একুশে এপ্রিল একুশে এপ্রিল, ওকি চুলের ভিতরে কার ক্ষীণ বজ্রমুষ্টি? বিষম লোভের মধ্যে ছুটোছুটি-দুর শহর, অব্যক্ত মন্দিরে ব্রীজের অনেক নিচে চাঁদ, আঃ সহ্য হয় না। এমন জ্যোৎস্নায় জলের বিমর্ষ শব্দ, এক আনার টিকিট পেরিয়ে ওপারে...

দ্বিধা

দ্বিধা ভালোবাসা ছিল                  তাই আমি অত ঘৃণায় ডুব দিতে ভয় পাইনি মানুষ মেরেছি                       রক্ত মোছার আঁচল সামনেই ছিল, সঞ্জীবনীর আয়না কে কাকে দেখায়,                  কার মুখ কার ওষ্ঠ উষ্ণ ললাট চায় না– ঘোরে ধাতু, ঘ্রাণ                  শাসন করেন...

অসমাপ্ত

অসমাপ্ত মেঘের সঙ্গে কথা বলিনি, তাই বিস্মরণে দুঃখ নেই পাতা পোড়ানো গন্ধ মনে পড়ে, ছেলেবেলার পাতা পোড়ানো গন্ধ, কলকাতায় পাতা পোড়ে, গন্ধ পাই না– কেউ কি ময়দানে গিয়ে গান গেয়ে কুকর্ম করেনি? আমি রক্ষী ছিলাম, আমি খাকি পোশাকের মতো মুখে চুপ করে গাছের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি।...

আমার ছায়া

আমার ছায়া সতীশের মৃত্যু হলো, জিভ দিয়ে চেটেছিল শ্বেতবর্ণ বিষ। আমরা সব বেঁচে আছি ঠিকঠাক, কী আশ্চর্য দেখা হে সতীশ, ব্যস্ত হয়ে কাজ করছি উদ্ভিদের মতো এক লোবরেটরিতে রোদ্দুর মেশাচ্ছি দেহে প্রতিদিন, ঝরে যাইনি বর্ষা কিংবা শীতে। তোমার নবোঢ়া পত্নী কিস্তি হারে শেলাইয়ের কল কিনেছে...
পাতা 1/2512345...1020...শেষ »