মামার বাড়ি যে অনেকটা দূর

মামার বাড়ি যে অনেকটা দূর মামা লিখেছেন, নতুন বাড়িতে পাঁচটি পেয়ারা গাছ আঙুর ফলেছে টুসটুসে থোকা থোকা বাগানে ফুলের কত সাজগোজ পুকুর ভর্তি মাছ মা-বাবাকে নিয়ে কবে আসবি রে, খোকা? মামিমার চিঠি আরও প্ৰাণ হরা সোনালি কালিতে লেখা যেন ফিসফিস কথা বলা কানে কানে খোকন মনিরে, মন হু-হু...

সিমলা যাত্ৰা

সিমলা যাত্ৰা বাবামশাই সিমলা যাবেন বেজায় হুলুস্থুলু রাত জেগে মা বাক্স সাজান চক্ষু ঢুলু ঢুলু। শীতের জামা চাদর ছাতা লিস্টি অতি বৃহৎ মৌরি ভাজা, সুচ সুতো চাই এবং উপনিষৎ! খাজাঞ্চি ও গোমস্তারা যাবেন জনা বারো এবং রবি? মা বলেছেন তুমিও যেতে পারো। রবির এখন ন্যাড়া মাথা তাই নিয়ে...

জানলার কাছে দাঁড়িয়ে স্বীকারোক্তি

জানলার কাছে দাঁড়িয়ে স্বীকারোক্তি এখন অনেকের সঙ্গে দেখা হলে প্রথমেই জিজ্ঞেস করে, কী, শরীর ভালো আছে তো? কেন এত শরীরের কথা? যতই শুভার্থী হোক তবু তাদের ব্যগ্রতায় ফুটে ওঠে একটি সরল সত্যের আভাস আমার আয়ু ফুরিয়ে এসেছে, এবার কবে কখন টুক করে কেটে পড়তে হবে ঠিক নেই! প্রকাশ্যে...

তিনটি প্রশ্ন

তিনটি প্রশ্ন তারপর ধর্ম বক বললেন, বৎস, তোমাকে আমি আরও তিনটি প্রশ্ন করব বলো তো, মানুষের কোন কষ্ট মুখের ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না কিংবা বলতে গেলেও কেউ বুঝবে না? মুহূর্তমাত্ৰ চিন্তা না করে যুধিষ্ঠির বললেন, কোনো কবি যখন ভাব প্রকাশের জন্য প্রকৃত ভাষা খুঁজে পায় না তখন তার যে...

হাওয়ায় উড়ছে

হাওয়ায় উড়ছে যে-মুহূর্তে তোমার পায়ে একটা কাঁটা ফুটল অস্ফুট কাতর শব্দে অবনত হলে তুমি সেই মুহূর্তে, নারী, তুমি শিল্প হয়ে গেলে কত ছবিতে, ভাস্কর্যে, বিজ্ঞাপনে তুমি চিরকালীন তোমার সেই মুহূর্তের ব্যথা, ভয় ও অসহায়তার কথা কেউ মনেও আনবে না বাঃ শিল্প হতে গেলে তোমাকে মূল্য দিতে...

ভালোবাসায় নিবেদিত জীবন

ভালোবাসায় নিবেদিত জীবন হায় রে আমার পরিত্যক্ত যৌবন শুকনো ফুলের মালা এখন অন্য ঋতুর আসার পালা সন্দেহ আর জ্বালা নানা ক্যানভাসে এ ছবি সাজানো নকল রক্তধারা একটি বৃক্ষে ফুলের মতন ফুটে আছে বহু তারা নীচে কেউ নেই এক বিদূষক ছাড়া শীতল রশ্মি পারিপার্শ্বিকে খেলে ঝরে যায় তোমার চিবুকে...

ভেঙে পড়েছে সাঁকো

ভেঙে পড়েছে সাঁকো অন্ধকারে নদী পেরুবা, ভেঙে পড়েছে সাঁকো ছোট্ট নদী, ছুঁড়ি প্রতিম, বৃষ্টি খেয়ে মাতাল ছিঁড়ে খাচ্ছে গাছের ডাল, জিভে চাটছে মাটি হিজল গাছের ঘাড় মটকে হা হা করছে বাতাস। ওপারে কেউ যাবে না। আর রাত্রি চোখ বন্ধ আমি তা হলে কোথায় যাই, খিদের ধিকিপিধক, ঘুমের টান, নেশার...

অনেক বসন্ত খেলা

অনেক বসন্ত খেলা অনেক বসন্ত খেলা হল। তবু বাকি রয়ে গেল একটি চুম্বন নদীর কিনারে একা বসে আছি বিকেলের শেষে… না, না, ঠিক নয়, আমি বহুদিন সেরকম ।নদীকে দেখিনি কবিতার বেঁকে লিখে ফেলা, যেন একটি প্রিয় ছবি না ঘটলেও লেখা যায় না? ছবিটাও শিল্প-সত্যি নয়? সে কথা এখন থাক, জানি...

আমায় সে চিনেছিল? বলো, বলো

আমায় সে চিনেছিল? বলো, বলো একবার চোখে চোখ, তারপর দু দিকের পথ আমায় সে চিনেছিল? কিংবা সে দেখেছিল আড়ালে কারুকে? তাতে কিছু আসে যায়? কথা নেই, দু’জনে দুদিকে চলে যাওয়া পেছনে ফিরিনি। আর, আমার রাস্তায় কত বাঁক দু’ চারটে খানাখন্দ, জল-কাদায় কুচিকুচি আলো জুতোয় কাঁকর ফুটছে, এক...

ভাত

ভাত ভাতের থালায় এত কাঁটাঝোঁপ, দরজায় ঝনঝনি আওয়াজ গরম বাতাসে আসছে গ্ৰাম্য ধুলো ছোট ছোট শিশুরাও আজকাল দীর্ঘশ্বাস ফেলতে শিখে গেছে খবরের কাগজে টাটকা রক্তের গন্ধ চতুর্দিকে হুড়োহুড়ি পদশব্দ, দেয়ালে এত আঙুলের ছায়া আঃ, নিরিবিলিতে বসে যে দুটি ভাত খাবো, তারও উপায়...
পাতা 1/3612345...102030...শেষ »