দিনরাত

দিনরাত মৃত্যু চলে সন্তান অবধি। দেখা তো হয়েছে ক্রূর যমের সহিত, তাকে বলা গেছে, আমি একাকীই যাবো। গঙ্গার তরঙ্গভঙ্গে নিভে যাবে আলো, আমি যাবো, সঙ্গে নিয়ে যাবো না কারুকে একা যাবো দিনরাত মৃত্যু চলে সন্তান...

বিবাদ

ভালোবাসা নিয়ে কত বিবাদ করেছো! এখন, টেবিল জোড়া নিবন্ত লণ্ঠনও সহনীয়। অনুভূতি। সবজির মতন বিকোয় না হাটে। হাত কাটে, না রক্ত পড়ে না। বিভীষিকা! দুচোখের পক্ষেও নড়ে না। প্রজড় পিণ্ডের মতো আছো– আজই বিবাদ করেছো। ভালোবাসা নিয়ে কিছু বিবাদ করেছো, কাতর পাথর মিছু বিবাদ...

কঠিন অনুভব

চারধারে তার উপঢৌকন, কিন্তু আছে স্থির, দুহাত মুঠিবদ্ধ কিন্তু ভিতরে অস্থির। কেউ তাকে দ্যাখেনি হতে, উচিত ভেবে সব ফিরিয়ে দিল, তার ছিলো এক কঠিন...

সুখে থাকো

চক্রাকারে বসেছি পাঁচজনে মাঠে, পিছনের পর্চে আলো অন্ধকার সন্ধ্যা নামে বিড়ালের মতো ধীর পায়ে তুমি এসে বসেছো আসনে অকস্মাৎ। হঠাৎই পথে ঘুরতে-ঘুরতে কীভাবে এসেছো একেবারে পাশে, তোমার গায়ের গন্ধ নাকে এসে লাগে বৃদ্ধের রোমাঞ্চ হয়! খুব ভালো আছো? অন্তত এখন, তুমি? তুমি ঠিক আছো? না...

ছড়ার আমি ছড়ার তুমি

ছড়া এক্কে ছড়া, ছড়া দুগুণে দুই ছড়ার বুকের মদ্দিখানে পান্‌সি পেতে শুই। ধানের ছড়া গানের ছড়া ছড়ার শতেক ভাই ছড়ার রাজা রবিন ঠাকুর, আর রাজা মিঠাই। আরেক রাজা রায় সুকুমার, আছেন তো স্মরণে? আর ছড়াকার ঘুমিয়ে আছেন সব শিশুদের মনে। ছড়ার আমি ছড়ার তুমি ছড়ার তাহার নাই ছড়া তো নয় পালকি,...

জন্মদিনে

জন্মদিনে কিছু ফুল পাওয়া গিয়েছিলো। অসম্ভব খুশি হাসি গানের ভিতরে একটি বিড়াল একা বাহান্নটি থাবা গুনে গুনে উঠে গেলো সিঁড়ির উপরে লোহার ঘোরানো সিঁড়ি, সিঁড়ির উপরে সবার অলক্ষ্যে কালো সিঁড়ির উপরে। শুধু আমিই দেখেছি তার দ্বিধান্বিত ভঙ্গি তার বিষণ্ণতা। জন্মদিনে কিছু ফুল পাওয়া...

সেই হাত

অভিনব দুটি হাতে দেয়াল দরোজা খুলে দাও। ততক্ষণে রোদ্দুর পৌচেছে গোটারাত ঘুরে ঘুরে রোদ্দুর পৌঁচেছে ঘরে। কিছুটা নড়বড়ে ছিলো ঘর। এককোণে পাথর তেমন সন্তুষ্ট নয়, ‘দখল দখল শব্দ করে। দাবি তার ঘরটি ভরাবে মানুষের মাথায় চড়াবে তার ভার। আর যদি পারে গিলে খাবে মানুষের স্বপ্ন নিয়ে...

বাগানে তার ফুল ফুটেছে

ওইখানে ওই বাগানে তার ফুল ফুটেছে কতো জানতে পারি, ওর মধ্যে কি একটি দেবার মতো? একটি কিম্বা দুটির ইচ্ছে আসতে আমার কাছে তাহার পদলেহন করতে সমস্ত ফুল আছে। সব ফুলই কি গোষ্ঠীগত, সব ফুলই কি চাঁদের একটি দুটি আমায় চিনুক, বাদবাকি সব তাঁদের গাছ তো তাঁহার বাগানভর্তি, আমার রোপণ...

পোড়ামাটি

দূরে যাও থেকো না এখানে চিরদিন উড়ন্ত শাম্পানে ছন্নছাড়া চিঠি তো পুড়েছে একতাড়া আগুনে পুড়েছে শত পাড়া দূরে যাও থেকো না এখানে দূরে যাও থেকো না এখানে কাকে...

আমি একা, বড়ো একা

চন্দনের ধূপ আমি কবে পুড়িয়েছি মনে নেই। মন আর স্মৃতিগুলি ধরে না আদরে। সংশ্লিষ্ট চন্দন এই অবহেলা সহ্য করে গেছে। কখনো বলেনি কিছু, বলেনি বলেই পরিত্রাণ পেয়েছে সহজে, নয়তো অসহ্য কুঠারে ধ্বংস হতো। আমার সংহারমূর্তি দেখেছে চন্দন একদিন কিশোর বয়সে, সেই অভিপ্রেত সুকালে, সময়ে।...
পাতা 1 / 512345