বৃন্দার প্রতি শ্রীরাধিকার উক্তি

রাই বলে, কি বল বৃন্দে, অতি মনোভ্রান্তে ।
হে গো ! বিপদ ঘটিবে গোপীর দেখ্‌তে গোপীকান্তে ॥২২
যার নামেতে বিপদ-মুক্তি, বিদিত বেদান্তে ।
আছে বিপদ-নাশক বৈদ্য হরিপদ-প্রান্তে ॥ ২৩
আমি যে নাম ভাবিলাম, সখি ! কি করে কৃতান্তে।
গরুড় কি ভয় করে সপ-বিষ-দন্তে ॥ ২৪
নিরীক্ষিতে প্রাণকান্তে যাব গো একান্তে ।
শুন্‌ব না তোদের মান, মান্‌ব না প্রাণান্তে ॥ ২৫
তাঁর নামের মাহাত্ম্য, বৃন্দে ! কে পারে গো জানতে ।
কিঞ্চিং মাহাত্ম্য জ্ঞাত আছে উমাকান্তে ॥ ১৬
অজামিল মহাপাপী কহে জ্ঞানবন্তে।
একবার নামের গুণে মুক্তি পায় অন্তে ॥ ২৭
সামান্য জ্ঞানী পারে কি, সই! চিন্তামণি চিলতে ।
গৃহ-ধর্ম্মের কৰ্ম্ম, সই ! সৰ্ব্বদা অচিন্তে ॥ ২৮
আমি চিন্তা করি, সখি ! তাঁর হয়েছি নিশ্চিন্তে । *
যে চিন্তে করে হরি, হরি করে তার চিন্তে ॥২৯
বিষয়-বাসনা-বিষে বিরত হও বৃন্দে ।
বিতরণ কর মন বিষ্ণু-পদারবিন্দে ॥৩০
বিজয়ী ব্রহ্মাণ্ড,—যে জন ভজে সে গোবিন্দে ।
ভজিলে গোলোকপতি, তার কি লোকনিন্দে ॥৩১
যাঁরে বিরিঞ্চি বাঞ্ছিত সদা বিনয় করি বন্দে ।
তাঁরে ভজি, কে কোথা হয় পতিত বিবন্দে ॥৩২

—————-
* আমি চিন্তা করি ইত্যাদি–পাঠান্তর,–
হরি যে কি, ইহা তুমি পারে কি না চিন্‌তে।
চিন্তা পরিহরি করে, হরি-পদ চিন্তে ।।