বাল্মীকিপ্রতিভা

সূচনা বাল্মীকিপ্রতিভায় একটি নাট্যকথাকে গানের সূত্র দিয়ে গাঁথা হয়েছিল, মায়ার খেলায় গানগুলিকে গাঁথা হয়েছিল নাট্যসূত্রে। একটা সময় এসেছিল যখন আমার গীতিকাব্যিক মনোবৃত্তির ফাঁকের মধ্যে মধ্যে নাট্যের উঁকিঝুঁকি চলছিল। তখন...
বাকিটুকু পড়ুন

নৃত্যনাট্য চণ্ডালিকা

একদল ফুলওয়ালি চলেছে ফুল বিক্রি করতে ফুলওয়ালির দল।    নব বসন্তের দানের ডালি এনেছি তোদেরি দ্বারে,                                       আয় আয় আয়,                               পরিবি গলার হারে।                        লতার বাঁধন হারায়ে মাধবী মরিছে কেঁদে–                        বেণীর বাঁধনে রাখিবি বেঁধে,                        অলকদোলায় দুলাবি তারে,                                     আয় আয় আয়।                              বনমাধুরী করিবি চুরি                              আপন নবীন মাধুরীতে–                        সোহিনী রাগিণী জাগাবে সে তোদের                        দেহের বীণার তারে তারে,                                     আয় আয় আয়॥ —                        আমার মালার ফুলের দলে আছে লেখা                                 বসন্তের মন্ত্রলিপি।                        এর মাধুর্যে আছে যৌবনের আমন্ত্রণ।                        সাহানা রাগিণী এর                               রাঙা রঙে রঞ্জিত,                        মধুকরের ক্ষুধা অশ্রুত ছন্দে                               গন্ধে তার গুঞ্জরে।                    আন্‌ গো ডালা, গাঁথ্‌ গো মালা,                    আন্‌ মাধবী মালতী অশোকমঞ্জরী,                             আয় তোরা আয়।                    আন্‌ করবী রঙ্গন কাঞ্চন রজনীগন্ধা                               প্রফুল্ল মল্লিকা,                             আয় তোরা আয়।                    মালা পর্‌ গো মালা পর্‌ সুন্দরী,...
বাকিটুকু পড়ুন

নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা

বিজ্ঞপ্তি এই গ্রন্থের অধিকাংশই গানে রচিত এবং সে গান নাচের উপযোগী। এ কথা মনে রাখা কর্তব্য যে, এই-জাতীয় রচনায় স্বভাবতই সুর ভাষাকে বহুদূর অতিক্রম ক’রে থাকে, এই কারণে সুরের...
বাকিটুকু পড়ুন

শ্যামা

প্রথম অঙ্ক প্রথম দৃশ্য বজ্রসেন ও তাহার বন্ধু বন্ধু।               তুমি ইন্দ্রমণির হার          এনেছ সুবর্ণ দ্বীপ থেকে– রাজমহিষীর কানে যে তার খবর          দিয়েছে কে। দাও আমায়, রাজবাড়িতে দেব বেচে          ইন্দ্রমণির হার– চিরদিনের মতো তুমি যাবে বেঁচে। বজ্রসেন।                       না না না বন্ধু, আমি    অনেক করেছি বেচাকেনা,                অনেক হয়েছে লেনাদেনা–                     না না না,           এ তো হাটে বিকোবার নয় হার–                     না না না,                কণ্ঠে দিব আমি তারি           যারে বিনা মূল্যে দিতে পারি–               ওগো আছে সে কোথায়,                   আজো তারে হয় নাই চেনা।                     না না না, বন্ধু। বন্ধু।                       জান না কি     পিছনে তোমার রয়েছে রাজার চর। বজ্রসেন।...
বাকিটুকু পড়ুন

শ্রাবণগাথা

নটরাজ। মহারাজ, আদেশ করেন যদি, বর্ষার অভ্যর্থনা দিয়ে আজ উৎসবের ভুমিকা করা যাক। রাজা। ভূমিকার কী প্রয়োজন। নটরাজ। ধুয়োর যে প্রয়োজন গানে। ঐ ধুয়োটাই অঙ্কুরের মতো ছোটো হয়ে দেখা...
বাকিটুকু পড়ুন

চিত্রাঙ্গদা – ১১ (শেষ)

১১ শেষ রাত্রি অর্জুন ও চিত্রাঙ্গদা চিত্রাঙ্গদা।                    প্রভু, মিটিয়াছে সাধ? এই সুললিত সুগঠিত নবনীকোমল সৌন্দর্যের যত গন্ধ যত মধু ছিল সকলি কি করিয়াছ পান। আর-কিছু বাকি আছে? আর-কিছু চাও? আমার যা-কিছু ছিল সব হয়ে গেছে শেষ? হয় নাই প্রভু! ভালো হোক, মন্দ হোক, আরো কিছু বাকি আছে, সে আজিকে দিব। প্রিয়তম ভালো লেগেছিল ব’লে করেছিনু নিবেদন এ সৌন্দর্যপুষ্পরাশি চরণকমলে– নন্দনকানন হতে তুলে নিয়ে এসে বহু সাধনায়। যদি সাঙ্গ হল পূজা তবে আজ্ঞা করো প্রভু, নির্মাল্যের ডালি ফেলে দিই মন্দিরবাহিরে। এইবার প্রসন্ন নয়নে চাও সেবিকার পানে। যে ফুলে করেছি পূজা, নহি আমি কভু সে ফুলের মতো, প্রভু, এত সুমধুর, এত সুকোমল, এত সম্পূর্ণ সুন্দর। দোষ আছে, গুণ আছে, পাপ আছে,পুণ্য আছে; কত দৈন্য আছে; আছে আজন্মের কত অতৃপ্ত তিয়াষা। সংসারপথের পান্থ, ধুলিলিপ্তবাস বিক্ষতচরণ; কোথা পাব কুসুমলাবণ্য, দু-দণ্ডের জীবনের অকলঙ্ক শোভা। কিন্তু আছে...
বাকিটুকু পড়ুন

চিত্রাঙ্গদা – ১০

১০ মদন বসন্ত ও চিত্রাঙ্গদা মদন।  শেষ রাত্রি আজি। বসন্ত।  আজ রাত্রি-অবসানে তব অঙ্গশোভা ফিরে যাবে বসন্তের অক্ষয় ভাণ্ডারে। পার্থের চুম্বনস্মৃতি ভুলে গিয়ে তব ওষ্ঠরাগ, দুটি নব কিশলয়ে মঞ্জরি উঠিবে লতিকায়। অঙ্গের বরন তব, শত শ্বেত ফুলে ধরিয়া নূতন তনু গতজন্মকথা ত্যজিবে স্বপ্নের মতো নব জাগরণে। চিত্রাঙ্গদা।  হে অনঙ্গ, হে বসন্ত, আজ রাত্রে তবে এ মূমূর্ষরূপ মোর, শেষ রজনীতে, অন্তিম শিখার মতো শ্রান্ত প্রদীপের, আচম্বিতে উঠুক উজ্জ্বলতম হয়ে। মদন।  তবে তাই হোক। সখা, দক্ষিণ পবন দাও তবে নিশ্বসিয়া প্রাণপূর্ণ বেগে। অঙ্গে অঙ্গে উঠুক উচ্ছ্বসি পুনর্বার নবোল্লাসে যৌবনের ক্লান্ত মন্দ স্রোত। আমি মোর পঞ্চ পুষ্পশরে, নিশীথের নিদ্রাভেদ করি, ভোগবতী তটিনীর তরঙ্গ-উচ্ছ্বাসে প্লাবিত করিয়া দিব বাহুপাশে বদ্ধ দুটি প্রেমিকের তনু।
বাকিটুকু পড়ুন

চিত্রাঙ্গদা – ০৯

৯ বনচরগণ ও অর্জুন বনচর।          হায় হায়, কে রক্ষা করিবে। অর্জুন।                                         কী হয়েছে। বনচর।                    উত্তর-পর্বত হতে আসিছে ছুটিয়া দস্যুদল, বরষার পার্বত্য বন্যার মতো বেগে, বিনাশ করিতে লোকালয়। অর্জুন।         এ রাজ্যে রক্ষক কেহ নাই? বনচর।                                          রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা আছিলেন দুষ্টের দমন; তাঁর ভয়ে রাজ্যে নাহি ছিল কোনো ভয়, যমভয় ছাড়া। শুনেছি গেছেন তিনি তীর্থপর্যটনে, অজ্ঞাত ভ্রমনব্রত। অর্জুন।          এ রাজ্যের রক্ষক রমণী? বনচর।                                           এক দেহে তিনি পিতামাতা অনুরক্ত প্রজাদের। স্নেহে তিনি রাজমাতা, বীর্যে যুবরাজ।              [  প্রস্থান চিত্রাঙ্গদার প্রবেশ চিত্রাঙ্গদা।       কী ভাবিছ নাথ। অর্জুন।                           রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা...
বাকিটুকু পড়ুন

চিত্রাঙ্গদা – ০৮

৮ অর্জুন ও চিত্রাঙ্গদা অর্জুন।                    কোনো গৃহ নাই তব, প্রিয়ে, যে ভবনে কাঁদিছে বিরহে তব প্রিয়পরিজন? নিত্য স্নেহসেবা দিয়ে যে আনন্দপুরী রেখেছিলে সুধামগ্ন করে, যেথাকার প্রদীপ নিবায়ে দিয়ে এসেছ চলিয়া অরণ্যের মাঝে? আপন শৈশবস্মৃতি যেথায় কাঁদিতে যায় হেন স্থান নাই? চিত্রাঙ্গদা।                    প্রশ্ন কেন। তবে কি আনন্দ মিটে গেছে। যা দেখিছ তাই আমি, আর কিছু নাই পরিচয়। প্রভাতে এই-যে দুলিতেছে কিংশুকের একটি পল্লবপ্রান্তভাগে একটি শিশির, এর কোনো নামধাম আছে? এর কি শুধায় কেহ পরিচয়। তুমি যারে ভালোবাসিয়াছ, সে এমনি শিশিরের কণা, নামধামহীন। অর্জুন।                                             কিছু তার নাই কি বন্ধন পুথিবীতে। এক বিন্দু স্বর্গ শুধু ভূমিতলে ভুলে পড়ে গেছে? চিত্রাঙ্গদা।                 তাই বটে। শুধু নিমেষের তরে দিয়েছে আপন উজ্জ্বলতা অরণ্যের কুসুমেরে। অর্জুন।...
বাকিটুকু পড়ুন

চিত্রাঙ্গদা – ০৭

৭ মদন ও চিত্রাঙ্গদা চিত্রাঙ্গদা।  হে মন্মথ, কী জানি কী দিয়েছ মাখায়ে সর্বদেহে মোর। তীব্র মদিরার মতো রক্তসাথে মিশে, উন্মাদ করেছে মোরে। আপনার গতিগর্বে মত্ত মৃগী আমি ধাইতেছি মুক্তকেশে, উচ্ছ্বসিত বেশে পৃথিবী লঙ্ঘিয়া। ধনুর্ধর ঘনশ্যাম ব্যাধেরে আমার করিয়াছি পরিশ্রান্ত আশাহতপ্রায়, ফিরাতেছি পথে পথে বনে বনে তারে। নির্দয় বিজয়সুখে হাসিতেছি কৌতুকের হাসি। এ খেলায় ভঙ্গ দিতে হইতেছে ভয়– এক দণ্ড স্থির হলে পাছে ক্রন্দনে হৃদয় ভরে, ফেটে পড়ে যায়। মদন।  থাক্‌। ভাঙিয়ো না খেলা। এ খেলা আমার। ছুটুক ফুটুক বাণ, টুটুক হৃদয়। আমার মৃগয়া আজি অরণ্যের মাঝখানে নবীন বর্ষায়। দাও দাও শ্রান্ত করে দাও, করো তারে পদানত, বাঁধো তারে দৃঢ় পাশে; দয়া করিয়ো না, হাসিতে জর্জর করে দাও, অমৃতে-বিষেতে-মাখা খর বাক্যবাণ হানো বুকে। শিকারে দয়ার বিধি নাই।
বাকিটুকু পড়ুন