কেউ ভাল না বাসলে

কেউ ভাল না বাসলে আর লিখব না কবিতা। কত ভালবাসা ছিল বাল্যকালে। পুকুর ভর্তি এলোচুলের ঢেউ কলমীলতায় কত আলপনা কত লাজুক মুখের শালুক যেন সারবন্দী বাসরঘরের বৌ। এক একটা দুপুর যেন রূপসীর আদুল গা রাত্রি কারো চিকন চোখের ইশারা। সর্বনাশের ভিতরে কত ছোটাছুটি ছিল বাল্যকালে জ্যোৎস্নার...

সেই পদ্মপাতাখানি

সেই পদ্মপাতাখানি ছুঁয়ে আছি তবু। যতই ফুঁ দাও ঝড়ে নেভাতে পারবে না মোমের আগুন। এত ভূল কর কেন যোগে ও বিয়োগে? ত্রিশূলের কতটুকু ক্ষমতা ক্ষতির? নির্বাসনদণ্ড দিয়ে মুকুট কেড়েছ, তবু দেখ পৃথিবীর পাসপোর্ট আত্মীয় করেছে। আমার পতাকা উড়ছে পাখিদের স্বাধীনতা...

গায়ত্রী মন্ত্রের আলো

কবিতা লেখার রাত ভিজে গেছে অঘ্রাণের উদাসীনতায়। সব ক্ষীপ্র অত্যুৎসাহে উদ্যোগে ও কর্মকান্ডে আজ লেগে আছে শিশিরের সাদা ফোঁটা জল বসন্তের গুচ্ছ বীজ। সাদা বালি, লাল বালি বারুদ গুড়োর গুঢ় বালি চরাচর থেকে উড়ে আমাদের জানালার গায়। বিস্ফোরণে পুড়ে পুড়ে বাতাসের নীল কন্ঠনালী তবু...

আমি কি ধরিত্রীযোগ্য

আমি কি ধরিত্রীযোগ্য? এই প্রশ্নে কেঁপে ওঠে তার অসুখের ঘূণ-লাগা শরীরের অসি’-মজ্জা হাড়। তাকে ঘিরে আছে মেঘ তাকে ঘিরে ব্যাধের উল্লাস। অক্ষর অন্বিষ্ঠ তার, হাতের মুঠোয় মরা ঘাস। প্রকৃতির হাত থেকে মানুষ নিয়েছে কেড়ে নিজের থাবায় সংক্রামক কুয়াশা ও হিম মানুষের হাত থেকে কখন...

কোন্ কথা মন্ত্র হবে

কোন কথা মন্ত্র হবে কেউ তা জানে না। তবু তো ঘুমের কাছে বেচে দিতে পার না সিন্দুক। কঠিন মৃগয়া ছেড়ে বিছানার বালিশে-তোশকে লুকোতে পার না ধনুর্বাণ। যেহেতু নিয়েছ বেছে ব্যাধের ভূমিকা তোমাকে তো যেতে হবে দুর্গমের গৃঢ় অভ্যন্তরে সময়ের শতজট, ভূল-হাতছানি ভেদ করে। যে কোনো তপস্যা চায়...

করাত কেটে চলেছে

করাত কেটে চলেছে ভিতরে বাইরে তুলকালাম পিকনিক। অস্ত্রাঘাতের শব্দে শিউরে উঠল কে? বাতাস। এক শ্মশান থেকে আর শ্মশানে ছুটছে কে? যৌবন। করাত কেটে চলে ভিতরে বাইরে তুলকালাম পিকনিক। পায়ের তলায় গুমরে গুমরে উঠছে কি? প্লাবন। মাটির দেয়ালে ক্রমশ লতিয়ে উঠছে কি? মড়ক। করাত কেটে চলছে...

কে?

দরজা খোলা আর দরজা বন্ধের শব্দ। কে হাঁটো? লাল নকশো পাড়ে বিবেচনাহীন ঝাঁপিয়ে পড়ার ঢেউ। কে হাসো? দেয়াল ভরে যায় খাজুরাহোর অলৌকিকে। কে টালমাটাল করো স্মৃতির ওয়ার্ডরোব? উত্তর নেই। দরজা খোলা আর দরজা বন্ধের...

অথচ

তোমাকে দেখে অবাক হয়ে যাই বারবার। এত আক্রমণ পরস্পরবিরোধী এত শোকমিছিলের মধ্যেও কী অনায়াসে বুনে যাচ্ছ লাল পশমের শৃঙ্খলা। উদ্ভিদের চেয়ে নীরব, ছাপানো মহাভারতের চেয়ে উদাসীন। অথচ পিছনের দেয়ালেই রক্তছাপ অথচ বুকের শাড়ি সরালেই অনাবৃষ্টির...

গাছ

রাজকোষের মতো বোঝেই কুঁড়িতে, পাতায়, শতপুষ্পে, গন্ধের পেখমে। তবু শিকড়ের চোখে আত্মগোপনকারী যোদ্ধার আত্মসমালোচনা। নিজের ভিতরে গভীর কোনো জল-উৎস খুঁজতে খুঁজতে খুঁড়তে খুঁড়তে ক্লান্ত এবং বিপদাপন্ন। কখনো কখনো সোনালি মেঘের শিরা-উপশিরাও তার কাছে করাতের দাঁত। কখনো কখনো মেঘ সে...

আত্মসমালোচনা

এও এক ধরনের অসুখ এ বোধ, অতৃপ্তির আর অসর্ম্পূতার। এর জ্বরও ওঠে, নামে, কাঁপায়। গভীর বৃষ্টিতে ভিজে ঘরে ফেরার পর এও হয়ে যায় হাড়-পাঁজরের কফ-কাশি। ভীষণ টঙ্কারের মতো মুহূর্তগুলো যা বাজে তার ভিতরকার গণনাহীন কাঁপনগুলোকে চিনিয়ে দিতে, আর ধরার আগেই মিলিয়ে যায় ক্রমশ দূর...
পাতা 1/1812345...10...শেষ »