০২. শিল্পকলায়, চলায়, বলায় সবকিছুতেই ছন্দ

শিল্পকলায়, চলায়, বলায় সবকিছুতেই ছন্দ আমরা বলেছি যে, কবিতায় মিল থাক আর না-ই থাক, ছন্দ সর্বদা চাই। আগেও চাই, পরেও চাই। এখন কথা হচ্ছে, ছন্দবস্তুটা কী। ওটা আর কিছুই নয়, কবিতার শরীরে দোল লাগাবার কায়দা। তা নানান দোলায় কবিতার শরীরকে দোলানো যায়। ছন্দ তাই নানা রকমের।...

হেমলতা

কিছু কথা অন্ধকারে বিদেশে ঘুরছে, কিছু কথা বাতাসে উড়ছে, কিছু কথা আটকে আছে পাথরের তলে, কিছু কথা ভেসে যাচ্ছে কাঁসাইয়ের জলে, পুড়তে-পড়তে শুদ্ধ হয়ে উঠছে কিছু কথা। হেমলতা, তুমি কথা দিয়েছিলে, আমি দিতে এখনও পারিনি, তাই বলে ছাড়িনি আজও হাল। বাতাসে আগুনে জলে উদয়াস্ত আজও মায়াজাল...

কালো অ্যাম্বাসাডর

কালো অ্যাম্বাসাডরের প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর কথা অকস্মাৎ ঘুরে যায় খুন, দাঙ্গা, রাহাজানি ইত্যাদির দিকে। অতঃপর কান টানলে যেমন মাথা আসে, তেমনি করে এসে গেল রাষ্ট্রনীতি, ইমার্জেন্সি, আইন-শৃঙ্ক্ষলা। ভদ্রলোক অত্যন্ত আবেগ দিয়ে বলে যাচ্ছিলেন, “অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, আশ্রয়,...

খুকুর জন্য

যার যেখানে জায়গা, যেন সেইখানে সে থাকে। যা মনে রাখবার, যেন রাখে নিতান্ত সেইটুকু। খুকু, ঘরে একটা জানলা চাই, বাইরে একটা মাঠ। উঠোনে একটিইমাত্র কাঠ- গোলাপের চারা আস্তেসুস্থে বড় হোক, কিচ্ছু নেই তাড়া। একদিন সকালে নিশ্চয় দেখব যে, তার ডালে ফুল ধরেছে। খুকু, তার-কিছু তো চাইনি,...

তোমার জন্য ভাবি না

তুমি তোমার ছেলেকে অহোরাত্রি অসংখ্য মিথ্যার বিষ গলিয়েছ। শৈশবে সে হাসেনি, কেননা সমবয়সীদের সে শত্রু বলে জানত। যৌবনে সে নারীকে ভালবাসেনি, কেননা নারীকে সে নরক বলে জানে। ধীরে-ধীরে সেই অকালবার্ধক্যের দিকে সে এখন এগিয়ে যাচ্ছে, চুলগুলিকে যা সাদা করে দেয়, কিন্তু চিত্তের মালিন্য...

আমার ভিতরে কোনো দল নেই

আমার পিছনে কোনো দল নেই, আমার ভিতরে দলবদ্ধ হবার আকাঙ্ক্ষা নেই, আমি সাদা কালো লাল নীল গাং-গেরুউয়া জাফরান বাদামি হরের রঙের খেলা দেখে যাই। একলা-পথে হাঁটতে-হাঁটতে একলা আমি ঘরে ফিরে যাব। যেতে-যেতে ধুলোবালি জঞ্জালে ও ঘাসে খানিকটা প্রশংসা আমি রেখে যাই। দেখি শুকনো পাতা উড়ছে...

জানকী-চটি

রাত্রে নেমে আসে দুগ্ধধবল পাহাড় জানলার উপরে। ঘরে আলো নেই, কিন্তু সমস্ত আকাশে খেলা করে শুক্লা যামিনীর জ্যোৎস্না। মনে হয়, কস্মিনকালেও কোনো ইঁদুরের ঘাড় বেড়ালের দাঁতে ছিন্ন হয়নি, অথবা সময় কখনও খণ্ডিত হয়নি দণ্ড-মাস-বর্ষের করাতে। এ কি ছবি? রোয়েরিখ যেমন আঁকতেন? তা তো নয়।...

তা নইলে

কিছু পেলে কিছু দিয়ে দিবি, তা নইলে পৃথিবী চলতে-চলতে একদিন চলবে না। আকাশে ঘনিয়ে আসবে ঘোর অন্ধকার, তোর ঘরে-বাইরে কেউ কথা বলবে না। দরজায় লাগানো ছিল তালা, বেলকুঁড়ির মালা পড়ে ছিল রজ্জুর সমান। লুণ্ঠন করেছ পুষ্প সব, অথচ সৌরভ এক-কণা করোনি কাউকে দান। কিছু যত পাচ্ছে, প্রতিদিন...

কিছু-বা কল্পনা

প্রত্যেকটা প্রসাদ কিছু শূন্যতা রচনা করে যায়, আলোকিত মঞ্চের পিছনে থাকে অন্ধকার, ট্রেন চলে যাবার পরে প্ল্যাটফর্মটা আবার খাঁখাঁ করতে থাকে, নিঃশব্দে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে খোলা জানালায় চক্ষু রাখে মালবাবুর বউ, এই ছোট্ট শহর ছেড়ে তার কখনও দিল্লি বা লখনউ যাওয়া হয়নি। খানিকটা...

আমি ও তিনি

আমি বললুম, “এটা কিছু নয়।” তিনি বললেন, “এটাই মন্দাকিনীর ধারা নিশ্চয়, এতেই তৃষ্ণা মেটাই।” আমি বললুম, “মন্দাকিনী কি এত কাছে? এটা ছল।” তিনি বললেন, “না, না, এটা ঠিকই স্বর্গঙ্গার জল।” আমি বললুম, “পিছনের টানে ঠিক নয় বসে...
পাতা 1/1912345...10...শেষ »