০৫. মাত্রাবৃত্ত বা কলাবৃত্ত বা ধ্বনিপ্রধান ছন্দ

মাত্রাবৃত্ত বা কলাবৃত্ত বা ধ্বনিপ্রধান ছন্দ অক্ষরবৃত্তের পরিচয় মোটামুটি মিলেছে, এবার শুরু হবে মাত্রাবৃত্তের কথা। মাত্রাবৃত্ত নামটাও শ্ৰীপ্ৰবোধচন্দ্র সেনের দেওয়া। রবীন্দ্রনাথ একে সংস্কৃত-ভাঙা ছন্দ বলতেন। শ্ৰীঅমূল্যধন মুখোপাধ্যায়। সেক্ষেত্রে এর নাম দিয়েছেন ধ্বনিপ্রধান...

০৪. অক্ষরবৃত্ত বা মিশ্রকলাবৃত্ত বা তানপ্রধান ছন্দ

অক্ষরবৃত্ত বা মিশ্রকলাবৃত্ত বা তানপ্রধান ছন্দ আপনারা ইতিমধ্যে জেনে নিয়েছেন যে, বাংলা কবিতার ছন্দ মোটামুটি তিন রকমের। অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত আর স্বরবৃত্ত। শুধু যে তাদের নামই আপনারা জেনেছেন তা নয়, চেহারাও দেখেছেন। কিন্তু সে-দেখা নেহাতই এক লহমার। তার উপরে নির্ভর করে কি...

০৩. বাংলা কবিতার তিন ছন্দ

বাংলা কবিতার তিন ছন্দ রবিবার সকাল। আপিসের তাড়া নেই। চুপচাপ বিছানায় শুয়ে, চোখ বুজে, তাই ছন্দ-ভাবনায় মগ্ন হয়ে ছিলুম। ভাবছিলুম যে, বাংলা কবিতা মোটামুটি তিন রকমের ছন্দে লেখা হয় : ১) অক্ষরবৃত্ত ২) মাত্রাবৃত্ত ৩) স্বরবৃত্ত। বাংলা ছন্দের এই নাম নিয়ে অবশ্য আপত্তি উঠেছে।...

০২. শিল্পকলায়, চলায়, বলায় সবকিছুতেই ছন্দ

শিল্পকলায়, চলায়, বলায় সবকিছুতেই ছন্দ আমরা বলেছি যে, কবিতায় মিল থাক আর না-ই থাক, ছন্দ সর্বদা চাই। আগেও চাই, পরেও চাই। এখন কথা হচ্ছে, ছন্দবস্তুটা কী। ওটা আর কিছুই নয়, কবিতার শরীরে দোল লাগাবার কায়দা। তা নানান দোলায় কবিতার শরীরকে দোলানো যায়। ছন্দ তাই নানা রকমের।...

হেমলতা

কিছু কথা অন্ধকারে বিদেশে ঘুরছে, কিছু কথা বাতাসে উড়ছে, কিছু কথা আটকে আছে পাথরের তলে, কিছু কথা ভেসে যাচ্ছে কাঁসাইয়ের জলে, পুড়তে-পড়তে শুদ্ধ হয়ে উঠছে কিছু কথা। হেমলতা, তুমি কথা দিয়েছিলে, আমি দিতে এখনও পারিনি, তাই বলে ছাড়িনি আজও হাল। বাতাসে আগুনে জলে উদয়াস্ত আজও মায়াজাল...

কালো অ্যাম্বাসাডর

কালো অ্যাম্বাসাডরের প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর কথা অকস্মাৎ ঘুরে যায় খুন, দাঙ্গা, রাহাজানি ইত্যাদির দিকে। অতঃপর কান টানলে যেমন মাথা আসে, তেমনি করে এসে গেল রাষ্ট্রনীতি, ইমার্জেন্সি, আইন-শৃঙ্ক্ষলা। ভদ্রলোক অত্যন্ত আবেগ দিয়ে বলে যাচ্ছিলেন, “অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, আশ্রয়,...

খুকুর জন্য

যার যেখানে জায়গা, যেন সেইখানে সে থাকে। যা মনে রাখবার, যেন রাখে নিতান্ত সেইটুকু। খুকু, ঘরে একটা জানলা চাই, বাইরে একটা মাঠ। উঠোনে একটিইমাত্র কাঠ- গোলাপের চারা আস্তেসুস্থে বড় হোক, কিচ্ছু নেই তাড়া। একদিন সকালে নিশ্চয় দেখব যে, তার ডালে ফুল ধরেছে। খুকু, তার-কিছু তো চাইনি,...

তোমার জন্য ভাবি না

তুমি তোমার ছেলেকে অহোরাত্রি অসংখ্য মিথ্যার বিষ গলিয়েছ। শৈশবে সে হাসেনি, কেননা সমবয়সীদের সে শত্রু বলে জানত। যৌবনে সে নারীকে ভালবাসেনি, কেননা নারীকে সে নরক বলে জানে। ধীরে-ধীরে সেই অকালবার্ধক্যের দিকে সে এখন এগিয়ে যাচ্ছে, চুলগুলিকে যা সাদা করে দেয়, কিন্তু চিত্তের মালিন্য...

আমার ভিতরে কোনো দল নেই

আমার পিছনে কোনো দল নেই, আমার ভিতরে দলবদ্ধ হবার আকাঙ্ক্ষা নেই, আমি সাদা কালো লাল নীল গাং-গেরুউয়া জাফরান বাদামি হরের রঙের খেলা দেখে যাই। একলা-পথে হাঁটতে-হাঁটতে একলা আমি ঘরে ফিরে যাব। যেতে-যেতে ধুলোবালি জঞ্জালে ও ঘাসে খানিকটা প্রশংসা আমি রেখে যাই। দেখি শুকনো পাতা উড়ছে...

জানকী-চটি

রাত্রে নেমে আসে দুগ্ধধবল পাহাড় জানলার উপরে। ঘরে আলো নেই, কিন্তু সমস্ত আকাশে খেলা করে শুক্লা যামিনীর জ্যোৎস্না। মনে হয়, কস্মিনকালেও কোনো ইঁদুরের ঘাড় বেড়ালের দাঁতে ছিন্ন হয়নি, অথবা সময় কখনও খণ্ডিত হয়নি দণ্ড-মাস-বর্ষের করাতে। এ কি ছবি? রোয়েরিখ যেমন আঁকতেন? তা তো নয়।...
পাতা 1/2012345...1020...শেষ »